Jul 20, 2021

আলমগীর মাসুদ

কবর জিয়ারতে কবিতা পাঠ 

(অণুগল্প)

সেদিন কবি সাদেক শামীম বলছিলেন, পাগলের বাণী কিন্তু এখন মহাশ্রমের দেয়ালে লেখা হয়। আমি বরাবরই তাকিয়ে থাকি কবির ঠোঁটে। দেখি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতোই সত্য উচ্চারণ করছেন কবি। তারপর যখন পকেটের ভেতর স্যামসাং গ্যালাক্সিটা শব্দ করলো―ওটার স্ক্রিনে তাকাতেই বউয়ের কথা মনে পড়লো। সে রাতেই বউয়ের মেসেজ, একটা তাবিজ আনিও নূর হুজুর থেকে। বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা হয়তো জায়েজ অথবা না। তবু ইদানিং স্নান করার সময় লুঙ্গিটা খুলে রাখি। কারণ বউ পোয়াতি হওয়ার পর থেকে ডাক্তারবাবু কলেমা পড়ার মতোই মুখস্থ করে দিয়েছে―বউ সামনের ক’মাস কাজ করতে পারবে না। বিষয় বউয়ের গর্ভে আমার পোলা।

কবি সাদেক শামীমের ঠোঁটের কথা আবার মনে পড়ে গেলো। তার কবিতা আওড়ানোর ভঙ্গিমা কল্পনা করতে করতে দ্রুত সঞ্জীব ঠাকুরের পায়ের সামনে পড়ি। ঠাকুরকে বললাম, একটা বাণী দিন লিখে আপনার অপ্রকাশিত। ঠাকুর জানতে চাইলেন, অপ্রকাশিত দিয়ে কী করবি? বললাম, আপনার আগের রচনাসমগ্র তো সবাই গিলে ফেলছে তাই নতুন ছাড়া অসুখ ছাড়বো না বউয়ের। পেগের গ্লাসটা ধুতির পাশে রেখে ঠাকুর পষ্টস্বরে চেঁচিয়ে শব্দ করলেন, ওই ফাজলামো করিস আমার লগে।

ঠাকুরের খানকায় কতো চেহারার নারী পুরুষ। সেদিক না তাকিয়ে দ্রুত কবির পরিচয় দিলে, মুখে এক পেগ দিয়েই জানতে চাইলেন, বলতো তোর মূল কথাটা কী? খানকায় উপস্থিত নারী পুরুষগুলো মূলত বিভিন্ন জাতের। এক পুরোহিতের দিকে তাকিয়েই বললাম ঠাকুরকে, কবি সাদেক শামীম সেদিন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া ও সূরাহর জায়গায় জীবনানন্দের একটা কবিতা পড়েছেন। মূলত সে ভরসায় আমার পোয়াতি বউটার ভয় কাটাতে―আপনার একটা বাণী নিতে আসছি ঠাকুর।