Aug 14, 2021

জগন্নাথ বনিক

শরৎকালে ঢাকের শব্দ 

শিশির ঝরেছে ফুল ফুটেছে,
শরতের আগমনে।
ধরনীর বুকে আজ ঢাকের শব্দ,
কী আনন্দ সবার মনে।।

প্রভাতী ভোরে শিশির ভেজা,
শিউলি ফুলের গন্ধে।
নদীর ধারে কাশ ফুলের সারি,
দেখি যে মনের আনন্দে।।

ঢাকের শব্দে ধরনীর বুকে,
হবে যে দেবীর বোধন।
শরৎকালে খুশির হাওয়া,
নেচে ওঠে সবার মন।

ষষ্ঠী থেকে মহানবমী,
পুজোর চারটি দিনে।
ঢাকের তালে নৃত্য করি প্রণাম জানাই,
দুর্গা মায়ের শ্রীচরণে।

দশমীতে গঙ্গার ঘাটে,
বিদায় জানাই অশ্রু জলে।
সবার ঘরে হাসি আনন্দ,
সুন্দর শরৎকালে।।

অন্তরা ভট্ট

দিশেহারা পাখি 


দিশেহারা পাখির মতো
খুঁজে বেড়াই বাসা
আমিও হয়তো দিতে পারি
তোমায় ভালো রাখার আসা।

প্রয়োজন নয় শুধু
প্রিয়জনও বটে
আহ্লাদের নীড় খানা 
রাখি ভালোবেসে।

শস্যাদি যত আনি
সঞ্চয় রাখি 
ক্ষেত খালি হতে যেন 
পেট ভরে রাখি।

সবুজের বন্যা 
আসে মাঠে-ঘাটে
তোমাতে-আমাতে মিলে 
ছুটি দেশ দেশান্তরে।।

Aug 13, 2021

অদৃশ্য নাথ

শিকার

আমাদের দেশে আইন কি আছে 

কেন জনতার বুকে আঘাত ?

বুদ্ধিজীবী প্রতিবাদীরা ভিজে বেড়াল

নেই নেতার কোন জাত ?


মানুষ বিশ্বাস করে ভোট দিল যাকে

তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার,

আজ অর্থের লোভে বেচে দেয় নেতা

জনসাধারণ তার শিকার ?


বলো কোটি জনতার দোষ কি তাদের

তারা গিনিপিগ কেন রবে ?

এ দেশের আইন নেতা আমলার

মানুষের কবে হবে ?


কেন এ নির্বাচন, কেন এ প্রহসন

কেন খরচ লক্ষ কোটি টাকার !

জনসাধারণ রয়ে গেল আজও

নেতাদের হাতে শিকার ?

সৈকত ভৌমিক

অনুভূতি

আমার সাথে পড়তো একটি মিষ্টি মেয়ে!
তাকে ভালোবাসতাম আমি প্রাণের থেকে চেয়ে!
কাজল কালো ছিল তার ঐ দুইটি আঁখি!
সে ছিল আমার মনের পোষা পাখি!
তারে পুষতাম আমি আমার মনের খাঁচায়!
তাকে দেখার জন্য যে আমি থাকতাম অপেক্ষায়!
তারে না দেখলে অশ্রু ঝড়তো আমার দুই নয়নে!
তারে যত্ন করে রাখি আমার অবুঝ মনে!!
তাকে দেখতে লাগতো যেন কোনো স্বর্গের অপশরা!
তার জন্য আমি এনে দিতে পারি গ্রহ, নক্ষত্র, তারা!
আদর করে মনে মনে ডাকতাম তাকে মিষ্টি!
আমি হবো ঘন মেঘ আর তুমি হবে বৃষ্টি!

অপাংশু দেবনাথ

জ্যোৎস্না 


ভেবে বলো,

কিছু দেবার ছিলো না বুঝি!


কি দেবে আর? 

আদিগন্ত অন্ধকার দিলে।


অহোরাত বুকে ঝর্ণা জাগিয়ে রাখি

সারা গায়ে গোপণ-জ্যোৎস্না মেখে

স্নান করবে বলে।

ড. সন্দীপক মল্লিক

স্বদেশী প্রকৃতির শোভায়

স্বদেশী প্রকৃতির শোভায় বাঁচে সবুজের চন্দন !

তবু

মানবিক শরীরেই দেখো  ব্যথাতুর ক্রন্দন !

ভুলে-ভরা আচরণেই শারীরিক ফাগুন

                                     বিধ্বস্ত-প্রায় !


অলক্ষুণে মতিভ্রম আয়ুহারা !

ব্যক্তিক অশন-বসন-কৃষ্টিতে বিনষ্টিরই জয় !


মানবিক মৌলিক জ্যোতি, সদ্ভাবনার সজ্জা

                                    নিঃশেষিত-প্রায় !

পাপবিদ্ধ আচরণে অবারণ অবক্ষয় !


স্বদেশী নিসর্গ-শ্যামলে প্রসন্ন গুল্ম-লতা-পাখিদের

                                    শ্রীমণ্ডিত ঐকতান !

সুষম-সুস্মিত-সম্প্রীত প্রাণিদের সংসারে

                                     অমৃত-পরমের গান !

কেবল

মানবের মননেই পাপান্ধ সম্ভোগ !

কেবল

মরণের ঘোরেই  স্বদেশী  প্রগতি-পুষ্পের  মঞ্জরি অস্থির !


এ  কেমন পরাজয় মানবিক মাধুরী-বৃত্তির ?


আজ

পবিত্র জীবনের অর্জনে অদৃশ্যের  

                                         তমসাচ্ছন্ন ধৃতি !

আজ

কৃতি-প্রভুত্বের নিঃশেষণে  বিপর্যস্ত 

                                        স্বদেশী মানবিক সংহতি !

চন্দন পাল

অধিনায়ক (২)

জানি, তুমি ঈশ্বরকে (প্রকৃতিকে) সব বলোনি! 

আমরা যে কৃতঘ্ন-ভীরু-স্বার্থপর, অমানবিক-উদ্ভট-দিকভ্রষ্ট আর অসাম্য, তুমি বলোনি।

আর একটু সময় দাও, আমরা ঠি-ক  হয়ে যাবো।


তোমার উপেক্ষিত পরিবার আজ সে দিনগুলি ফিরেচায়---! 

অপত্য আর প্রিয়তমার, অনেক কথা ছিল তোমাকে  বলার।

অনেক আদর ছিল, চেয়ে নেওয়ার।


কিন্তু সময় ছিলনা তোমার,  বৃহদভুক্তি হয়ে।

নিজ পরিবারের আদরকে দিলে হেলায় বলিদান।


না জানি কতদিন,জলেনেমে চান করোনি।

না জানি কতদিন, হাত ধুয়ে খাওয়ার,চকিৎ পাওনি।

তবুও প্রত্যয়ে অটল, নির্বিকার।


শীততাপ বিছানা ছেড়ে,  বন-বাদাড়কে করেছিলে বালিশ-

কাবুলি, কাগজঅলার কষ্টরূপ নিয়ে খুঁজেছো মুক্তির পথ-

সয়েছো বুটের ঘা, গারদের কামড়,সহযোগির কষ্টকরুণ চোখের ভাষা।

জানি,

পঁচাত্তর বছর মানে, সাড়ে সাতষট্টি হাজার দিন আমাদের বোধোদয়ে নেহাৎ  কম নয়!


আমরা এখন, প্রতিদিন সকালে,

গল্প, কবিতা, শুভেচ্ছা আর উপদেশ বিনিময়ে,

পরস্পরের বোধ জাগিয়ে তুলি।

তুমি আরেকটু সময় দাও, আমরা ঠি-ক  হয়ে যাবো। 

নেতাজি,

তুমি এক সন্ধানের নাম, অন্তরের জিজ্ঞাসা! 

কোথায় লোকালে...?  এসো!

তুমি রাজর্ষি, রাজার-নীতি, অন্তরের পাঠশালা।

উৎকর্ষ জীবনের সূত্রগুলি, প্রতি শিশু কন্দরে ছড়িয়ে দাও।

ধরো হাত,স্পর্ধা হোক বিশ্বমানে।


তুমি,  শুনতে পাও কি!

নানা বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে, দেশাংশ।

ভিত্তি লুকিয়ে, প্রচার সারে, সস্তা  প্রচারীরা। 

আমরা গিলি, গভীরে যাই না, বুদ্ধিও তেমন নেই।

আগে চাই যাপন,পরে যাচাই।


থেকে থেকে সম্ভ্রম ছেড়ে, নিরুপায় যাচ্ঞা উঠে । 

চার এর সাধ মিঠলেও, চার লাখের অন্তরাত্মা কাঁপে।

সাথে আছে মারি, ঠেলাঠেলি আর উন্নাসিকতা! 

দেখো,

 রং ঢং ময়ূরপুচ্ছ মাখা, বাছাই কর্তার গা।

আদুরে ডাকে পিছলে পড়ে ক্ষমতার মেধা। 

ওদিকে, 

অসহায় বিজ্ঞান বাটি চালে, , 

হজম করে, স্বৈর হুকুম, মাতব্বরি শাসন।

ভাবনারা বাঁচায় পিঠ, পরে পুরস্কার।

আদরের চেয়ে, অনাদরে ঘোচায় হাহাকার। 


অথচ,

এ দেশাংশ আজ আমার, কালও আমার, 

পাঁচ বছর পরও আমাদেরই ,,,,,।

পালক যেই হও,

কঠোরই হবে যদি,  সংকীর্ণমনা লুটেরাতে হও,

বেগবান হোক দেশ,দেশের সম্ভাব্য মানুষ সম্পদ !! 

অধিনায়ক ধর হাত

দিলীপ বসু

স্বাধীনতা

ধানের খেতে ফসল ফলায় আলিমদ্দির পোলা

ইঁদুর বাদুড় সব খেয়ে যায়। 


হাসে শূন্য গোলা।

আম জনতা পদ্য লেখে 

ভোটাভুটির পদ্য

মন্ত্রী মশাই পয়ার ছেড়ে

ভাম ধরেছেন সদ্য।

 পাড়াশুদ্ধ যুবক যুবা

অন্ধকারে চাকরি খোঁজে

ভূতপাঁচালি লেখে মর্দ

আড়াইটাকা রোজে।

এরই নাম স্বাধীনতা

একে নাকি স্বরাজ কয়

বাণভাষি মানু্যহগুলো 

কলার ভেলায় সওয়ার হয়।


সবাই জানে হরিদাসী 

স্বাধীনতার সংগ্রামী

দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে

জলজ্যান্ত স্বামী

হরিদাসীর ছেলেটাও

দাঁড়িয়েছিল  ভোটের লাইনে

দেশ ছাড়ল ঠিক যেন সে

হাইনরিখ হাইনে।

কত মানুষ প্রাণ দিয়েছে

আরো কত দিচ্ছে প্রাণ

এই স্বরাজ কেমনতরো

উঠুক কলতান।

ডঃ রঞ্জিত দে

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা আমার স্বপ্ন,

স্বাধীনতা আমার মঙ্গল পাঁড়ে, 

স্বাধীনতা আমার সূর্যসেন।

স্বাধীনতা আমার বুড়ি বালামের তীর,

স্বাধীনতা আমার মাতঙ্গিনী হাজরা।

স্বাধীনতা আমার জালিওয়ানাবাগ,

স্বাধীনতা আমার জালালাবাদ।

স্বাধীনতা আমার নেতাজি সুভাষ,

স্বাধীনতা আমার বিশ্বাস,

স্বাধীনতা আমার মুক্তির শপথ।

স্বাধীনতা আমার রবীন্দ্রনাথ

স্বাধীনতা ১৯৪৬ এর দাঙ্গা,

স্বাধীনতা ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭,

স্বাধীনতা মুক্তিকামী মানুষের উল্লাস।

স্বাধীনতা দেশ বিভাগের কান্না,

উদ্ভাসদের স্বজন হারানো ইতিহাস,

স্বাধীনতা আমার দেশ,

স্বাধীনতা আমার মুক্তির শপথ।

সৌমিত বসু

তুমি আসবে বলে

এই যে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে আমার দীর্ঘ যাত্রা

চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা সুবাতাস

একবুক বসন্তের মধ্যে কালো ডানায় ভর করে 

আমায় এইযে দিকচিহ্নহীন প্রান্তরে উড়ে চলা 

এও কি থামানো যাবেনা এই তুচ্ছ মানবজীবনে?

চারিদিকে সমুদ্র আর সমুদ্র

জল থৈ থৈ থৈ পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কোনো মাস্তুল নেই 

যেখানে বসে দু'দণ্ড বিশ্রাম নেবো 

যেখানে বসে পার করে দেবো বয়সের গাছপাথর 

আর আমার এই রাতভোর উড়ে চলা রঙ

গলে গলে পড়বে সমুদ্রের জলে, তোমার সমুদ্রের জলে।

এসমস্ত দেখা সম্ভব হলো শুধু তোমার জন্য 

শুধু তোমার জন্য আকুল হয়ে থাকা যাত্রাপথ 

দূষে চলেছে দু'পাশের নুড়িপাথরকে 

গাছে গাছে বেঁধে চলা বর্ণনার গান 

অবশ করে দিচ্ছে দু-পায়ের পাতা, শরীরের যাবতীয় ফাঁকফোকর।

শুধু তোমার জন্য রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে 

বসে থাকা সমস্ত দিন

দপদপ হ্যারিকেন হাতের মুঠোয় নিয়ে 

বাঁধের ওপরকার তীক্ষ্ণ সরলরেখা বারবার ছুটে চলেছে যারা উম্মাদের মতো

শুধু তোমায় নিয়ে পালিয়ে যাব ভাবতেই

পিঠে রূকস্যাক, সম্পর্কের থলির ভেতর গোপন পাথর

আর তোমার হারিয়ে যাওয়া, গ্রামের ঠিকানা।


তুমি আসবে বলে সেই সন্ধ্যে থেকে বসে আছি এই বর্ণহীন মাঠে 

এখন পূর্বদিকে ভোরের লিপস্টিক

সারারাত চাঁদকে যে কতবার উঠতে দেখলাম 

কতবার ডুবে যেতে। দীর্ঘঝযাত্রাপথে সে তোমায় হাত নাড়িয়ে আশ্বাস দেয়

কালো গাছপাতার ভেতর দিয়ে গলা বাড়িয়ে দেওয়া শ্বাপদের

ঘন জলের ঘরের ভেতর থেকে বাতাসে মুখ তোলা নানান জলজ প্রাণীরা 

অদ্ভুত শব্দ করে আকাশে চিরে ভেসে যাওয়া বিচিত্র পাখিশব্দ

আমাকে সাহস জুগিয়ে যায় সারাটারাত।

তুমি আসবে বলে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছি মৌন মিছিল।

আষাঢ়ের সব রঙ যেদিন জীবন থেকে মুছে যাবে

মুছে যাবে রাত্রে থেকে ঝরে-পড়া ক্ষোভ

কুয়াশা মাখানো সন্ধ্যার কানে সেদিন কেউ না কেউ ঠিক দিলে দিয়ে যাবে 

অচেনা আহিরভৈরব।


তুমি আসবে বলে স্বাধীনতা

সকাল দাঁড়িয়ে রয়েছে অচেনা রাস্তার মোড়ে

যে মেয়েটির হাতে হাতে বদল হয়েছে এতোকাল

যে ছেলেটি রুগ্ন মাকে রাস্তায় বের করে

জমি বাড়ি সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছে 

যে প্রৌঢ় শুধুমাত্র পয়সার ক্ষমতায়

কন্যাসম মেয়ের স্তন চুষে চুষে ক্লান্ত

তারাও তড়িঘড়ি এসেছে আজ তোমায় দেখবে বলে

তারাও সমস্ত উপকথা গাছ থেকে নামিয়ে জড়ো করে

তার শুকনো পাতায় লাগিয়ে দিয়েছে আগুন 

সেই ধোঁয়া কিভাবে যেন গ্রাস করে ফেলেছে

গ্রামের পর গ্রাম। ঐতিহ্যের বাসকোশন।

তুমি আসবে বলে এই প্রথম লাগিয়ে নিচ্ছি

কালারের বোতাম, গা থেকে খসিয়ে দিচ্ছি সমস্ত উপমা

শান্তনু ভট্টাচার্য

স্বাধীনতা 


স্বাধীনতা হল

বাধাহীন বয়ে যাওয়া ইচ্ছেনদী।


স্বাধীনতা হল 

মিথ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের সাহসী উচ্চারণ।


স্বাধীনতা হল

সবার উঠোনে পেটভরা ভাতের উৎসব

সব ইস্কুলে শিশুর ঝকঝকে হাসিমাখা রোদ্দুর।


স্বাধীনতা হল 

ভিন্নধর্মী দুটি ফুলের নির্বিঘ্ন প্রেমের সংসার।

সেনা বাংকে বসে নিশ্চিন্তে মোহাম্মদ রফি কিংবা কিশোর কুমারের গান শোনা।


আর অবশ্যই 

উড়তে থাকা পতাকাকে টেক্কা দিয়ে 


দুরন্ত পাখিদের কাঁটাতার পেরিয়ে 

বারবার যাওয়া আর আসা 

আসা আর যাওয়া...

অমলকান্তি চন্দ

মায়ের হাতে শেকল ছিল

মায়ের হাতে শেকল ছিল,কারার সেলে বন্দী ছেলে,আকাশ কাঁদে অঝোর ধারায়, শূন্যে দু'হাত মুষ্ঠি তুলে,কদম কদম এগিয়ে চলা,একলা পথে কাকের মেলা,আধপুড়া সব শ্মশান কাঠে, টগবগিয়ে উড়ছে ধোঁয়া ।

দেশের মাটি তিলক কেটে, বোষ্টমীরা তুলসি তলে, পথের মোড়ে জটলা মানুষ, শুকনো মুখে তাকিয়ে কেবল,সবার মনে গুপ্ত আবেশ,গর্ভে মায়ের হারিয়ে যাঁরা, বৈশাখী ঝড় উথালপাথাল, গাছের মতো দাঁড়িয়ে সারি, প্রতিরোধের মশাল হাতে।

ঊর্মি ডানায় খানের পাড়া,রাত্রি জাগে ঘোরের ভেতর, দফায় দফায় মুখর সভা, এগিয়ে আসে মিছিল পথে, আন্দোলনে আকাশ কাঁপে, বিপ্লবীরা তুখোড় তেজে,শেকল ছেঁড়ার গান গেয়ে যায়, নতুন ভোরে পাখির মতো।

দুলাল চক্রবর্তী

এ দেশ আমার    

এদেশ তোমার আমার

এ দেশ আমরা সবার,

এ দেশ নিয়ে গর্ব করি 

সারা বিশ্ব মাঝার।

লাখো শহীদের রক্তে রাঙানো

আমাদের এই স্বাধীনতা,

তবে, ঘরে ঘরে আজ শুনি

শুধু ধনী- গরীবের কথা।

গরীব ক্রমশঃ হচ্ছে গরীব

জোটেনা দু'বেলা অন্ন,

ধনীরা আরো ধনীই হচ্ছে

দৌঁড়ছে টাকার জন্য।

সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়

ভড়ে গেছে সারা দেশ,

বারুদে বারুদে ছেয়ে গেছে

শুধু সমস্ত পরিবেশ।

হানাহানি আর মৃত্যু যাতনা

নারীর শ্লীলতাহানি,

কোন্ দিন আর উদিবে সেদিন

মুছে দেবে সব গ্লাণি?

দেখে যেতে চাই সোনার ভারত

করে যাবো প্রতিবাদ,

সব কিছু ঝেড়ে ফিরে পেতে চাই

স্বাধীনতার স্বাদ।

বিজয়া দেব

 সুপ্রভাত

তোমাকে দেখলেই কেমন যেন এ দেশের মানচিত্রের আকৃতি চোখের সামনে দেখতে পাই।

তুমি এক খেটে খাওয়া মানুষ। 

ভোরবেলাতে প্রাতঃভ্রমণে "সুপ্রভাত" বলতে বলতে যখন এগিয়ে যাই

তখন তোমার ধুলোটে থলের ভেতর থেকে উঁকি মারে লাল গামছা আর

একখানি দা।

তুমি হনহন করে হেঁটে যাও, কারো দিকে তাকিয়েও দেখো না।

তোমাকেও খুব বলতে ইচ্ছে করে…

"সুপ্রভাত"

কিন্তু কেন জানি না কথাটা বড়ই

দেখনদারি মনে হবে

 ভেবে 

চুপ করে থাকি।

একদিন কথাটা সহচর

প্রাণতোষকে বলেছিলাম।

তখন ভোরের আকাশে

রক্তছাপ সূর্যোদয় আর

অচেনা পাখিদের কোলাহল।

আমরা রোজকার মত

এগিয়ে যাচ্ছি, সর্পিল পথে

তুমি হনহন করে এগিয়ে

চলেছ।

জহর দেবনাথ

স্বাধীনতা ব্যাপারটা

স্বাধীনতা ব্যাপারটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হচ্ছে

ওটা কি খায় না মাথায় দেয়-

সেটাই দেশবাসী বুঝে উঠতে পারছে না

স্বাধীন দেশের নারীরা লাঞ্ছিতা হচ্ছে ধর্ষিতা হচ্ছে

যখন তখন যত্র তত্র

উচ্চ শিক্ষিত নিম্ন শিক্ষিত যুবক যুবতীরা কাজের দাবিতে

লাঠিপেটা খাচ্ছে রক্তাক্ত হচ্ছে

স্বাধীন মানুষেরা প্রাণবায়ুর অভাবে হাসপাতালের অভাবে অষুধের অভাবে শশ্মানের লাইনকে দীর্ঘায়িত করছে

হায়রে স্বাধীনতা তোমার পবিত্র গঙ্গার বুকে ও আজ ভেসে যায় তোমার স্বাধীন সন্তানের লাশ

ভাবো স্বাধীনতা ভাবো

ভেবে দেখো

তুমি তোমার স্ব-অধীনতার জন্য দেশবাসীর কাছ থেকে কি কি নিয়েছো আর ওদের তুমি কি দিয়েছো---

কুশল ভৌমিক

মৃত্যুই শেষ নয়


মৃত্যুই শেষ নয় 

তবুও বারবার মৃত্যুতেই দেখেছিলো শেষ ওরা 

সেই বিষণ্ন ভরে-৩২ নম্বরের সিঁড়ি দিয়ে 

গড়াতে গড়াতে রক্ত নয় একমুঠো দীর্ঘশ্বাস 

কি নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়লো বাংলার বাতাসে।


কোনো কোনো পতন হয় শব্দহীন 

হেমন্তের বাতাসে ঝরা পাতার মতোন 

কেবল নিঃসঙ্গ বৃক্ষটাই জানে

পত্রপুষ্পহীন বেদনার নিগূঢ় কাহন।


মৃত্যুই শেষ নয় 

ফিনিক্স পাখির মতো মৃত্যুঞ্জয়ী 

জন্ম নেয় শত শত বার।


বুক যার হিমালয়,

নিঃশ্বাসের স্বপ্ন আঁকে বিস্তীর্ণ বাংলার

মৃত্যুর কি সাধ্য আছে এঁকে দেবে শেষ চিহ্ন তার‌?


বিপ্লব উরাং

স্বাধীন নতা দিবস

দেখতে দেখতে তিনকুড়ি পন্দর বছর হয়ে গেল-

স্বাধীন নতা দিবস।

হামার ওমর চার কুড়ি।


স্বাধীন নতার সময় হামার ওমর ছিল পান্চ।

বুঝতম নাই কিছু।

বড় হয়ে মার খিনে শুনতম-

হামি নকি তিন রঙা পতেকা লিয়ে দৌড়তম 

আর বলতম-- স্বাধীন- নতা দিবস জিন্দাবাদ।


তখনলেই শুরু,বাগানে পতাকা 

ওঠায় বাবুরা---

হামি বলি স্বাধীন নতা দিবস জিন্দাবাদ।


মিন্তুক কি পাইয়েছি

সব ঠুস আর ঠাস।


বাবুরা গাড়ি  চলায়,মৌজ করে

হামি মারভাত আর লবন চা-পানি

জোগাড় করতে ঘাম ঝড়ায়।


হামার ঘামে মৌজ মস্তী করে বাবুরা---

হামার ছানাপোনারা থাকে

ভূখা-ন‍্যাংঙ্গা।

হামি বলি স্বাধীন নতা দিবস জিন্দাবাদ!

Aug 12, 2021

হারাধন বৈরাগী

স্বাধীনতা

জন্মের পর থেকে  বিনিময়কে‌ই 

একমাত্র দোসর বলে জেনে এসেছি

এই থেকে স্বাধীনতাকে বিনিময় জেনে

যা যা করণীয় সকল‌ই করে চলেছি।


এত এত বিনিময় 

রক্ত প্রাণ সহোদর পিতামাতা-

সম্প্রদায় কামনা বাসনা স্বাধীনতা


ধর্ণা মিছিল বুট বুলেট গোলা বারুদ 

যুদ্ধ জল্লাদ ফাঁসিকাঠ বিনিময়


পর্দা চুম্বন নারী লিঙ্গ

নোলকব‌উ লক্ষীবউ বিনিময়


বন্ধু বন্দুক জেলে মালি 

ডুলি ডোম মাঝি নৌকা

শ্মশান গোরস্থান বিনিময়


বিনিময় বিনিময়

ফকির বাউল সাধু চোর 

সধবা অধবা বিধবা ---


মেকুর কুকুর শকুন--

লাস ডুম অন্ধ বোবা আতুর বিনিময়


সাংবাদিক কবি বুদ্ধিজীবী 

খুনি প্রেমিক লম্পট ডাকাত বিনিময়


ভূমি নদী পুকুর জমি 

জলা জংলা ফল ফসল 

বাস্তুভিটা গোয়ালঘর দধিভাণ্ড বিনিময়


শ্বাস প্রশ্বাস আকাশ বাতাস

মন্দির মসজিদ গুরুদ্বার বিনিময়


ডানা বায়া তবলা তবলচি

সুরকার স্বরলিপি বিনিময়


হাত কোদাল হাতুড়িকাঁচি

ঘাসফুল পদ্ম নোটবন্ধী করতালি

জীবাণু গৃহবন্ধী ষড়যন্ত্র বিনিময় 


এত এত বিনিময়

ফের সম্প্রদায় বিনিময়ে

চমকে উঠছি


স্বাধীনতা-

আর কত বিনিময় হলে

নাকে এসে লাগবে 

তোমার আঁচলের গন্ধ 

আমার মায়ের মতো--।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

স্বাধীনতা  তুমি 

স্বাধীনতা

তোমাকে খুঁজেছি আমি

শিশুটির শীর্ণ হাতে , তেরঙ্গা ঝান্ডায় ,

ভাঙা চোরা লেভেল ক্রসিংএ – যেখানে দাঁড়িয়ে শিশু ঝাণ্ডা ফিরি করে ।

স্বাধীনতা

তোমাকে খুঁজেছি আমি

উদভ্রান্ত কিশোরের চোখে , রাস্তা যার প্রসারিত  থাকে 

নামহীন অন্ধকারে , দিশাহীন দিকে । 


তোমাকে দেখেছি আমি যুবকের বুকে ,

গায়ে গেঞ্জী ব্রান্ডেড কোম্পানীর , তাতে লেখা -“ ধ্বংস হও” ,

স্বাধীনতা , তোমার বুকে কেন আজো বোধহীন যুবকের অসহায় রাগ ?


স্বাধীনতা

তোমাকে দেখেছি আমি

কলোনির ভাঙা চালে , ঢ্যাঙ্গা গাছের ফাটা বাকলের ডালে ,

যেখানে যন্ত্রণারা আজো হাহাকারে কাঁদে ।


স্বাধীনতা

তোমাকে জেনেছি আমি

ধর্মান্ধ প্রৌঢ়ের   দূর্বিনীত চিৎকারে , 

অনর্গল লাঠি টুপি মার্চ করে , অসহিষ্ণুতা জ্বালায় আগুন জনতার ঘরে  ।


স্বাধীনতা তোমাকে দেখেছি 

হাহাকারে  , শূন্য থাকা পেনশন খাতায় , বৃদ্ধাশ্রমে , 

ছেলে কারো স্বাধীনতা নিয়ে আমেরিকা থাকে , মাঝে মাঝে পদ্য লেখে ।


স্বাধীনতা

তোমাকে দেখেছি আমি

বিদেশীয় যুদ্ধযানে , বন্দরের খালাসীর হাতে – হ্যান্ড বিলে , 

এফ ডি আই এর অশান্ত ঢেউ এ , বিদেশী বনিকের বিতর্ক সভায় ।


স্বাধীনতা

তোমাকে দেখেছি আমি

কুচ কাওয়াজে , জঙ্গলে জঙ্গলে ,

আড়ালে আড়ালে একা একা ফুটে থাকা প্রতিবাদী ফুলের হাসিতে

চোরাগোপ্তা খুনে , পুলিশের বেয়নেটে

গ্রাম থেকে ধেয়ে আসা লোকের মিছিলে ।


স্বাধীনতা তুমি 

কবিতায় শামসুর রহমান ,

বহমান গঙ্গা গোদাবরী ,

স্বাধীনতা তুমি 

ভন্ড নেতাদের চোখ , গন্ধে রি রি নোংরা রাজনীতি

বন্ধ কারখানা , ছাঁটাই নোটিশ 

অফিস-বাবুদের ড্রেস , কানুনের ঘেরাটোপ

ভ্রষ্ট রসিদের টাকা ।


স্বাধীনতা তুমি 

দেনাদায়ে ডুবে থাকা কৃষকের আত্মহত্যা ,

উপত্যকা জুড়ে বেনামি সন্ত্রাস ,

শর্মিলা চানুর যুগ যুগ অনশন ।


স্বাধীনতা , তুমি শীতঘুম , পরিকল্পনার মৃত চলাচল ,

ব্যালটে বাটন দাবা , আঙ্গুলের নীল কালি ।

স্বাধীনতা , তুমি রাতভর জেগে থাকা 

ভেঙ্গে ফেলা  অন্ধ কারাগার !

 

স্বাধীনতা , তুমি  আকাশেতে ঝান্ডা ওড়া ,

বেজে যাওয়া মাইকের গান , লাড্ডু খাওয়া ...

স্বাধীনতা , তুমি ছুটির দিনে নিদারুন ঘুমে শুয়ে থাকা ;

স্বাধীনতা , তুমি  অকস্মাৎ জেগে ওঠা ...

বুকের কপাটে অবিরাম ধাক্কা খাওয়া কারো কন্ঠস্বর

মৃত স্বপনের ঘোলা দুটো চোখ -

যেন সাইক্লোন , ঘূর্ণি ঝড়।

স্বাধীনতা, বিপন্ন পৃথিবীতে তুমি আজও মুক্তিকামী তীব্র অধীনতা ! 

কমল সরকার

অন্তহীন পুনর্জন্ম 

তারই মাঝখানে নির্বাণ-দীপ জ্বেলে

আমি শুয়ে আছি মৃতবৎ

রাত্রির চিতায়,

ধূসর আকাশের অন্ধকার কাচপাত্র থেকে 

ফণা-তোলা চাঁদ

আমার সমস্ত গায় ঢেলে দিচ্ছে 

প্রগাঢ়নীল জ্যোৎস্নাকূট

অনন্ত বহমানতায়। 


আমার চিতার নীচে শায়িত 

দিঘল পৃথিবীর উৎসতাপ,

পায়ের কাছে প্রজ্জ্বলিত দেশ ---

এই পাহাড়-সমতল-অরণ্য-মরু সংবলিত ভূ-খন্ড,

রাম-রহিমের অভিন্ন জননীমৃত্তিকা,

এইসব শাশ্বত সঞ্চয় বুকে ভরে

নামহীন কোন ঈশ্বরের মুখোমুখি আমি

আবহমান বিশ্বাসে বারংবার প্রার্থনা করে নিই

অন্তহীন পুনর্জন্ম।

রুদ্র মোস্তফা

পায়ের মাপে কারাগার

চোখ খুললেই দৃষ্টি হোঁচট খায় আঁধারে

অথচ চোখ বুঝলে ভিড় করে আলোর কাফেলা 

তারা নানা গল্প করে পোষ মানা আজব ব্যাথার

কতোখানি রোদের হাঁপরে গলাতে হয় নিশ্চুপ কথা 

কতোটা টোকায় ঝরে পড়ে বুক ভরা ভয়ের পাপড়ি

কতো জোছনায় খানখান হয় আপসের কাচ।

বলো কী করবে তুমি,কতো শুনবে সেসব গল্প ?

দাঁড়াবে না কি অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে? 

দূষণের ঠোঁট জপছে নিঃশ্বাসের প্রাচীন রোজনামচা

সেন্সরবোর্ড রোজ কাটছে  মূল্যবোধের খরচা

এখানে ওখানে প্রদর্শিত হচ্ছে বিদ্বেষের চলচ্চিত্র

প্রেমের বাজার পড়ে গেছে, এখানে ঘৃণাই কিংবদন্তি

পাপের পাতালে প্রিয়জন পেতেছে পুণ্যের হাটঘর

ঋণ করা চোখে এক প্রস্থ কাজলের বাঁধ দিয়ে 

প্রচেষ্টা চলছে থামানোর পাড়-ভাঙা চোখের নোনতাজল 

শিল্পীর কণ্ঠে শুয়ে সঙ্গীত ধুঁকছে অথর্ব রোগে

গীতিকার-সুরকার গান নিয়ে প্রানান্ত ছুটছে 

মরণোন্মুখ গানের শুশ্রূষার জন্য পুঁজির প্রাসাদে।

মুঠো মুঠো স্বপ্ন কুড়ানোর দু'হাত কি বাকি আছে কারো? 

মুঠো খুললেই গড়িয়ে পড়ে কৃতদাসের অজস্র কান্না

সাদা-কালো তাড়িত দূরত্ব — ঘাম ও অপরিণত ক্রোধ।

বলো কোথায় যাবে এখন? পা বাড়ালে কারাগার 

চলছে সর্বত্র শরীরের মাপে শোষণের সমবণ্টন 

নিজের মতো একটা জীবন কোথায় পাবে তুমি!

রাজীব মজুমদার

ভারতরত্ন

এই ভরদুপুরে দেশ আপনার শ্মশানমুখী 

যারা দেশাত্মবোধক গান গাইছেন

গেয়ে যান।

যারা দেশাত্মবোধক কবিতা লিখছেন

লিখে যান। 

আপনাদের উপস্থাপনা প্রশংসাযোগ্য।

একদিন সর্বোচ্চ ভারতরত্ন দেওয়া হবে!

তারপরেও দেখবেন, দেশ আপনার শ্মশানমুখী!


এত এত দেশাত্মবোধ প্রকাশের পরেও

যেদিন নিশ্চিত দেশ চিতায় উঠবে -

আপনাদের সাজানো প্রতিভা দেখতে ক্যামন হয় - 

সেই অপেক্ষায় 

আমি বেঁচে থাকবো আরো কয়েকটা দিন।

জয়িতা দে

শহীদ স্মরণে

দেশের জন্য দিলো প্রাণ কতশত শহীদ।

ফাঁসির মঞ্চে হাসতে হাসতে প্রাণ দিলো

কত তরুণ বিপ্লবী, গেয়ে গেল জয়গান।

বিনয় বাদল দীনেশ - কত বলবো নাম,

পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করে তারা

 তেরঙ্গায় মোড়ায় মায়ের শরীর খানা।

 স্বাধীনতা পাবার সেদিন আনন্দে মেতে ছিল সকলে

 আজ সকলের মনে ঘুরে শুধু কিছু না পাওয়ার প্রশ্ন।

 কেন আজ দুধের শিশু হয় ধর্ষণের শিকার,

 তরুণ যুবকরা করে আত্মহত্যা বেকারত্বের যন্ত্রণায়।

 কেন আজো মেয়েরা পথেঘাটে নয় সুরক্ষিত,

 আজো তারা নির্যাতিত পণের জন্য স্বামীগৃহে।

 কত দিকে চলে আজো ঘুষের কারবার,

 যোগ্যরা পায় না তাদের যোগ্যতার সন্মান।

 বাবা-মা বৃদ্ধ হলে সংসারে মেলে না আর ঠাঁই,

 তাই তো আজ গড়ে উঠেছে কতশত বৃদ্ধাবাস।

 নির্দ্বিধায় চলে আজো অনেক প্রহসন,

 খেতে পায় না অনেক গরীব, দেয় না কোন সুবিধা।

 নিজেদের স্বার্থে লোভের বশে চলছে ষড়যন্ত্র,

 দেশকে নাকি করবে বিক্রি সেই বিদেশিদের কাছে।

 তবুও আজো ভারতমাতার অনেক বীর সন্তান

 দেশের নামে দেয় প্রাণ, হচ্ছে আজ‌ও শহীদ।

সো ওম্

তুমি এসো

নিযুত বিন্দু রুধির বন্ধকে, তুমি এসেছিলে মধ্যরাতে-

সন্তর্পনে গুটিগুটি পায়ে,

বাসা বেঁধেছিলে মননে, সবকটা হৃদয়ে-

আকাশ থেকে নিয়ে এসে রঙ মেখেছিল সব হিল্লোলে,

রাজপথে দাঁড়িয়ে দুহাত ছড়িয়ে মেতেছিল সব কল্লোলে,

তুমি এসেছিলে, ভালোবেসেছিলে-

বেসেছিলাম আমরাও ভালো দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে-

সকল স্বপ্ন রাঙিয়েছিলাম রামধনুর রং দিয়ে।


নিযুত বিন্দু রুধির বন্ধকে, তুমি এসেছিলে মধ্যরাতে,

শৃংখল এর অবরোধ পেরিয়ে,

এক অভিন্ন হৃদয় নিয়ে বাঁচার দর্শন শেখাতে,

আমরা শিখিনি, শিখতে পারিনি, ঢাকিনি নিজের লজ্জা-

নিয়েছি কেড়ে আব্রু তোমার, দিয়েছি শরশয্যা,

তবুও তুমি ভালোবেসেছিলে, ফেরাতে চেয়েছিলে বোধ,

ঊনমানুষ আমরা আজও করে যাই হরতাল-অবরোধ,

আমরা মাতি ধর্ষণের উল্লাসে,

নিজেকে সঁপেছি ঘৃণার চাষে,

নিজেকে আরো নগ্ন করি ভেঙ্গে সব প্রতিরোধ।


নিযুত বিন্দু রুধির বন্ধকে, তুমি এসেছিলে মধ্যরাতে

স্বাধীনতা তুমি এসেছিলে ত্রিবর্ণ নিশান হাতে,

স্বাধীনতা তুমি এসেছিলে, জীবন শেখাতে,

আবার তুমি একবার এসো প্রতিটি ঘরে ঘরে-

শেকল কেটে প্রতিটি মনের দ্বারে-

স্বাধীনতার মানে বোঝাতে-

এসোগো তুমি আবার একবার মানুষের জয়গান শোনাতে।।


নীতা সরকার

স্বাধীনতা এলো

পরাধীনতার লৌহ কপাট মুক্ত করে

এলো স্বাধীনতা পনেরোই আগষ্টে।


স্বাধীনতা এলো দীর্ঘ লড়াইয়ের পর

লক্ষ লক্ষ বীর সন্তানের বলিদানে।


স্বাধীনতা এলো ঝাঁঝালো স্লোগান মুখর মিছিল,

ক্ষুদিরামের ফাঁসি দিয়ে।


স্বাধীনতা এলো নেতাজী

সুভাষের গৃহত্যাগে।


স্বাধীনতা এলো বীর সৈনিকদের

রক্তে মাখানো মাটি লাল করে।


স্বাধীনতা এলো পিতৃহীন সন্তান,

বিধবা মায়ের চোখের জলে।


আজ এই পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে,

জানাই সেই বীর শহীদদের সালাম।

জয় হিন্দ।

রাজীব পাল

অমিয় মাতৃ দুগ্ধ

এক মুঠো ধান হাতে আমি হেঁটেছি বহু পথ

লাল মেঠো পথ, বন মটমটিয়ার পথ হেঁটে

ফুটকি, ঝুনঝুনির বনে আমি খুঁজেছি পথ;

পাথুরে ছড়ার পারে বাঁশ ঝারের বন হেঁটে-

পৌঁছেছি যেথায় লুটাইয়া আছে পুষ্প ধান্য ধন

যেথায় রংধনু নেমে এসে ছুঁয়েছে মৃত্তিকা চরণ।

সেথায় মাঠ সিক্ত করি অহর্নিশ জল চাদরে

মাটি করেছি কাদা লাঙ্গলের আঁচড়ে আঁচড়ে

ছিটিয়েছি এক মুঠো আষাঢ়ের আতপ ধান

খাল কেটে এনেছি মাটির নাড়ি, এনেছি প্রাণ।

অবশেষে, শ্রাবণের মাঠে শ্রান্ত আমি খুব

মাটির বুকে জল, আলোয় ভাসে জলের বুক-

আর বাতাসের খেলা দেখে চোখ মেলে ধান, 

সোনালী রোদের সুড়সুড়িতে হেসে উঠে এক গাল।

আমি ধ্যান গুহা মাঝে ক্ষুধার্ত কঙ্কাল

আশ্বিনের প্রতীক্ষার শেষে সোনা ঝরা সকাল

বেড়িয়ে আসি পাখিদের সাথে, ধান শিরে শীষ দেখে 

বুনো পাখি জানে এ ধান তার, আমি জানি আমার, 

এক মুঠো ধান হতে শত মুঠো ধানে খুঁজি আমি- 

অমিয় মাতৃ দুগ্ধ, পাখি খোঁজে জীবন বেনামী।

আর গেয়ে উঠি পাখিদের সাথে মনের কথা

'ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা'।

আঁখি রায়

মুক্তির শপথ

মশালের শিখায় আঁকছি আজ মুক্ত নগরের মানচিত্র ৷

নরম হাতে গোলাবারুদ জ্বালিয়ে,শক্ত করেছি আপন চিও।

ছিঁড়ে দেবো লৌহশেকল,উপড়ে দেবো সিংহাসন ৷

অগ্নিসাক্ষী রেখে, ত্যাগ করবো পরাধীনতার বসন ৷

রক্তাভ মাটির বুকে পুঁতবো স্বাধীন বৃক্ষ ৷

শান্তির ফুল দিয়ে সাজাবো মাতৃভূমির অক্ষ ৷

ভুলিনি হাজারো বেত,চাবুকের মারের কালশিটে দাগ ৷

বিষাক্ত চোখেদের হিংস্রতা কেড়ে নিয়েছে সহস্র ঘুমের রাত ৷

রক্তরস নিংড়ে দেবো,তুলবো বিদ্রোহের ধ্বজা ৷

আজীবন কবির কলম, শহীদের জখম রাখবে দেশের প্রাণ তাজা ৷

দিপীকা চক্রবর্তী

আমার স্বাধীনতা

আমার স্বাধীনতা মানে

হাতে বইয়ের বদলে লাঙ্গল,

খুন্তি, ভাঙাচোরার বস্তা নয়।

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে

পরনে স্কুল ড্রেস, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে

হৈ হৈ করে স্কুলে যাওয়া।

বাল্যবিবাহ শিশুশ্রম --

এখনো চলছে বহু গ্রামে,

ভোর না হতেই যেই ছেলেটি

চায়ের স্টলে বাসন মাজে,

পেটের দায়ে সেই মেয়েটি ঘরে ঘরে

কাপড় কাঁচে, উঠোন ঝারে

তবুও বলবে আমরা আজ স্বাধীন?

না, আমার কাছে স্বাধীনতা মানে তা নয়....

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে

সবাই পড়বে, সবাই লড়বে

সবাই পাবে সম মর্যাদা।

মুছবে শিশুশ্রম,ঘুচবে দারিদ্রতা

সকলের মধ্যে থাকবে একতা।

রতীশ চন্দ্র সরকার

 ১৫ ই আগস্ট - স্বাধীনতা দিবস

ভারত আমার জন্মভূমি, অন্নদাত্রী মা।

তোমায় মুক্ত করতে শহীদ যারা ভুলবো না, ভুলবো না।।বেনে সেজে ব্রিটিশ এসে শাসন কায়েম করে।

বন্দী করে তোমায় তারা ধন-রত্ন নেয় কেড়ে।।

শাসক হয়ে অত্যাচারে করলে এ কি হাল!
মুক্ত করতে এগিয়ে এলো লাল-বাল-পাল।।
এগিয়ে এলো মাতঙ্গিনী, লক্ষীবাই, বীনা, প্রীতিলতা।
জীবন দিয়েও করতে মুক্ত আনতে স্বাধীনতা।।

বিনয়- বাদল-দিনেশ, আশতা কুল্লা খাঁন।
অরবিন্দ ঘোষ, ক্ষুদিরাম বোস, বীর ভগৎ, সূর্যসেন।।
লাখো লাখো সন্তানেরা মিললো এসে সেথা।
এলো শেষে ১৫-ই আগষ্ট নিয়ে স্বাধীনতা।।

স্বাধীনতা আনতে মাতা শহীদ হলেন যারা।
মরনশীল মানুষ হয়েও অমর হলেন তাঁরা।।
ভুলবো না, ভুলবো না তাঁদের সন্ধ্যা-সকাল।
হৃদয় মাঝে আছে মোদের থাকবে চিরকাল।।

সুরজিৎ নমঃ

স্বাধীনতার দেশ

বীর শহীদদের রক্ত দানে স্বাধীন হলো দেশ।

 রক্তে রক্তে রঞ্জিত হলো স্বাধীন হলো দেশ।

 পরাধীনতার গ্লানি ঘুচে গিয়ে স্বাধীন হলো দেশ।

 তাইতো সবাই আপন সাঁজে ঘুরছে দেশ-বিদেশ।

 যাদের রক্তে স্বাধীন হলো ,এই মহান দেশ।

 তাদের কতটাবা মনে রাখে, এই মহাদেশ।

 স্বাধীন হলো মানুষ আজ, স্বাধীন হলো দেশ।

 তাইতো আমরা পালন করছি ,স্বাধীন এই দেশ।

কল্যাণ দাস

শহিদের বীর পুত্র

বাবা, তুমি বুঝি বীর শহিদ ?

মা বলে, আমাকেও এমন বীর হতে হবে।

কিন্তু, মায়ের মুখের হাসিটা  আজ নেই।

ঐদিন স্কুলে মাষ্টারমশাই,

স্বাধীনতার পাঠ পড়াতে গিয়ে বললেন,

দেখো, সামনেই স্বাধীনতা দিবস।

আসছে সেই শুভ ক্ষণ,

আবার হবে পতাকা উত্তোলন।

মাষ্টারমশাই প্রসঙ্গ সেরে,

দিলেন একটি প্রশ্ন করে,

শুনেই হৃদয় ছিন্নভিন্ন,

মনটা কেমন হল বিষন্ন।

একে একে সবার পরে,

আমার পানে দৃষ্টি করে,

মাষ্টারমশাই বললেন জোরে

ভাবছিস এত কিসের তরে?

ভয়ার্ত স্বরে দিই উত্তর

 পতাকাতে রং আছে চার।

হাসল তারা জবাব শুনে

সবাই আমার তরে,

 মাষ্টারমশাই থামিয়ে তাদের

দিলেন যে চুপ করে।

বললেন তিনি, বল তো খোকা,

বুঝিয়ে একবার,

তিন বর্ণের জাতীয় পতাকা

কোথায় পেলি চার?

বললাম আমি নুইয়ে মাথা

দিনটি বিষাদে ভরা,

যেদিন বাবাকে সাজিয়ে ছিল

দেশের বীর সেনারা।

দেখেছিলাম রাশি রাশি ভিন্ন ফুলের তোড়া,

চারটি রঙের পতাকায় ছিল,

বাবার নিথর দেহটা মোড়া।

গেরুয়া সাদা সবুজের সাথে

ছিল লাল লাল ছোপ,

সবাই মিলে মাকে আমার 

দিলেন আরেক রূপ।

মা যে আমার আর পরেনা

শঙ্খ সিঁদুর পলা,

প্রিয় লাল পেড়ে জরির শাড়িটা

বাক্সে পড়েছে তালা।

ফিরিয়ে আমি দেবো একদিন

মায়ের মুখের হাসি,

বীর শহিদের পুত্র আমি

আমি যে ভারতবাসী।

সৈনিক হয়ে লড়বো আমি 

দেশরক্ষার তরে,

নাশব আমি শত্রুদেরে 

বাবার মত করে।

মাষ্টারমশাই রুদ্ধ কণ্ঠে

অশ্রুসিক্ত নয়ন,

বললেন পিঠে হাত বুলিয়ে

ধন্য মায়ের জীবন।

বীর শহিদের পুত্র তুমি

বীরাঙ্গনার প্রাণ,

জ্বালিয়ে রেখো অগ্নিশিখা

একদিন স্বপ্ন হবে পূরণ।

সুরমা আকতার

ফিরতে চাই দেশে

দেশপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে,

আজীবন থাকতে চাই দেশে।

ভালোবাসতে চাই এই দেশকে।

মৃত্যুর পরেও যেন ফিরতে চাই নানা রূপে।

কখনও পাখির ভেসে,

কখনও বা বৃক্ষরূপে,

তবুও ফিরতে চাই আমি আমার দেশে।

এই রূপ রঙ সৌন্দর্য এই মনোরম ছোঁয়া,

মাতোয়ারা করে আমায়।

কখনও সেই পাখির কুঞ্জনে,

কখনও বা সুনির্মল বায়ুর স্পর্শে,

হৃদয় ছোঁয়ানো সব কিছুই মনোরম।

আজীবন থাকতে চাই,

এ মধুর সমারোহে,

সকল কিছুর মাঝেই নিজেকে অনুভব করতে চাই।

যদি হয় মৃত্যুবরণ,

তবুও ফিরব দেশে,

এই মধুর সমারোহে।

নাম না জানা ভিন দেশেতে,

হয়তো কোন ভিন্ন রূপে।

আজীবন থাকতে চাই,

দেশপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে।

ফিরতে চাই আমি আমার দেশে।

Aug 11, 2021

সম্পা বৈদ্য

এ আমার কেমন দেশ?

নীতি আছে প্র‍য়োগ নাই!

 নিয়ম আছে অনুশাসন নাই!

সার্টিফিকেট আছে চাকরি নাই!

খালি পদ আছে নিয়োগ নাই!

ক্ষুধা আছে হাড়িতে ভাত নাই!


এই ক্ষুধার জ্বালা কে মিটাবে ভাই?


পাশের সার্টিফিকেট আছে

অংক সহ পাঁচটিতে লেটার মার্কস,

শহরে শহরে দুপুরে বিকালে রোদে রোদে ঘুরেছি পাগল হয়ে,

শহরে কিংবা গ্রামে ভাই চাকরি তো কোথাও নাই!

শুনেছি লোকের অভাবে সরকারি অফিসে ফাইল জমে থাকে,

বেকার কি খাচ্ছে  ভাত সার্টিফিকেট ধুয়ে?


পাশের হার গড়ে যত শতাংশ 

বেকারের হার মোটামুটি তত!

এমন দেশ আদৌ কি আমাদের চাই বলো?

রাহুল শীল

 জীবননদী

স্বর্গের দেশ ঘুমিয়ে আছে বুকের উপর

 নিশ্চিন্তে শ্বাস নিচ্ছি শান্তিপুরে,

ভেতরের আমিকে অহংকারী ভাবি

ভারতের রক্ত গোটা শরীরজুড়ে।


ছিনিয়ে নিয়েছিল অনেকে

এ আকাশ এ মাটি এ মানচিত্রের রেখা,

এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছে সূর্য

পরাধীন মাটিতে সুপ্ত স্বাধীনতা দেখা।


মাটি কামড়ে উঠেছিল দিগ্বিজয়ী সংগ্রামীর দল

পেরিকার্ডিয়াম ঘেঁষে উত্তাপের শিখা,

কত শহীদের রক্তের বিনিময়ে এঁকেছি 

বসুন্ধরার ভৌগোলিক স্বপ্নের পতাকা।


কত মায়ের আর্তনাদ এদেশে এখনো শুনি

চুয়াত্তর বছরের প্রবাহিত স্বাধীন জীবননদীতে,

এদেশের মানুষের কানে প্রতিধ্বনি বাজে

মৃত্যুর পরও জন্ম নিব আবার পুন্যভূমিতে।।

হামিদুল ইসলাম

 এই তো স্বাধীনতা 

এমন স্বাধীনতাই আমরা চেয়েছিলাম বুঝি?

এ তো মেকি স্বাধীনতা 
স্বাধীনতার নামে আমাদের কাঁধে ঝুলছে 
পরাধীনতার তকমা 

আমরা কেবল কলুর বলদ 
দুচোখে ঠুলি পরে ঘুরছি 
আমাদের চারদিকে নিকষ অন্ধকার। অথৈ শূন‍্যতা 

স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছরে কী পেয়েছি আমরা 
পাইনি কিছুই 
কেবল দেখেছি, বড়োলোক আরো হয়েছে বড়োলোক 
গরিব চিরকালই গরিব 

আমাদের দেশের লক্ষ কোটি টাকা এখনো 
বিদেশী ব‍্যাঙ্কে গচ্ছিত 
অথচ এ দেশের লোক দুবেলা দুমুঠো খেতে পায় না 

আগুন ছোঁয়া বাজার 
তপ্ত আগুনে প্রতিদিন পুড়ে যাচ্ছে ছাপোষা মানুষ 
প্রতিবাদে রাজপথ রক্তাক্ত হচ্ছে 
শাণিত ছুরির ফলায় 

হিংসা বিভেদ এখন আমাদের চিরসঙ্গী 
বিভেদের দাবানলে পুড়ছে দেশ 
পুড়ছে মানুষ 
হাসছে ছাইচাপা তুষ 

বেকারদের কর্মসংস্থান নেই। পেটের জন‍্যে পাড়ি দিচ্ছে 
ভিন রাজ‍্যে। ভিন দেশে 
এই তো আমাদের স্বাধীনতা। ধিক স্বাধীনতা!
হাজারো প্রাণের বলিদানে আমরা পেয়েছি মৃত স্বাধীনতা 

এ স্বাধীনতা মানে কেবল ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা 

তপনকান্তি মুখার্জি

স্বাধীনতা

সময় ছুটছে দ্রুত । স্বাধীনতা ধুঁকে ধুঁকে পঁচাত্তর।প্রতিটি স্বাধীনতার গা থেকে ভেসে আসে এক একধরনের গন্ধ - কখনও লাশপোড়ার , কখনও ধর্ষণের , কখনও দ্বিজাতিতত্বের । নিজেকে হারিয়ে ফেলি । অথচ প্রতিটি স্বাধীনতায় শঙ্খধ্বনি শোনার জন্য উদগ্রীব থাকি আমি । ক্ষতবিক্ষত হয় মন । ক্ষতস্থানগুলো ধুতে যাই কল্পনায় জ্যোৎস্না মাখিয়ে মায়াতরুর স্বপ্ন যে আমার স্বাধীনতা দিবসে । 

কৃষান নম:

দেশ প্রেম 

আমাদের একক পৃথিবী
ভেসে গেছে আজ স্বাধীনতার জোয়ারে,
দেশের প্রতিটা আনাচে কানাচে।
প্রতিটি রাস্তায় প্রতিটি মানুষের প্রাণে।
নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে,
দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছে। 
কত সহীদ কত বীরের বলিদানে,
আজ হয়েছে  স্বাধীন ভারতবর্ষ।
আমরা করবো আজ তাঁদের জয়ধবনি,
শত শত বীর শহীদের জানাই প্রণাম।

আমিনুল ইসলাম

আত্নবলিদান

দেশের জন্য করেছ তোমরা অনেক আত্মবলিদান,

ভারত মাতার বীর সন্তান।

মৃত্যুর কাফন গায়ে জড়িয়ে চলো সর্বক্ষণ,

তোমাদের জন্য আমরা নিশ্চিতে কাটাই জীবন।

ভারতীয় সেনা শুধু দেশ রক্ষা করে এমনটা নয়,

তাঁরা অলিম্পিকে সোনা জিতে, ভারতকে বিশ্বের দুয়ারে পৌঁছাতে পারে।

শত শত বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে,

আজ আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করি।

ত্রিবর্ন পতাকা আকাশে উড়িয়ে , জয়হিন্দ বলে ফেলি।

কিন্তু এই স্বাধীনতার পেছনে আছে হাজারো মায়ের বুক ভাঙা চিৎকার,

আছে হাজারো শিশুর পিতৃহীন বাল্যজীবন।

কত নারীর সদ্য বিয়ে হয়ে বিধবার চিত্র।

দেশের জন্য এই বলিদান ভুলার নয়,

তাইতো তাদের  আত্মবলিদান মনে পরে প্রতিক্ষণ,

ভালো যেন থাকে তারা দোয়া রাখি সর্বক্ষণ।

স্বপন দেবনাথ

স্বাধীন ভারতবর্ষ 

ভারত আজিকে স্বাধীন হয়েছে 

নেইকো পরাধীনে,

দুইশত বছর ছিলাম আমরা 

ইংরেজদের অধীনে। 

বিনয়, বাদল, দিনেশ 

আর ক্ষুদিরাম, 

ফাঁসির মঞ্চে  উঠে তারা 

করেছিল সংগ্রাম। 

জাতির জনক মহাত্মাগান্ধি 

আর নেতাজি, 

জীবন দিয়ে করল তারা 

ভারতকে স্বাধীন। 

কত সংগ্রাম, কত যুদ্ধ 

করল ইংরেজদের সাথে, 

ভারত আমার স্বাধীন হয়েছিল

সাতচল্লিশের অবশেষে। 

কত রক্ত, কত অশ্রু 

ঝরেছে এই মাটিতে, 

সংগ্রামীদের মৃত দেহ 

মিশেছে এই নদীতে। 

সবশেষে গাই আমরা 

ভারতের জয়গান, 

ভুলব না কখনো আমরা 

সংগ্রামীদের অবদান।

প্রীতম চক্রবর্তী

মেকি স্বাধীনতা

অস্পৃশ্য-অচ্চুত বলে করো মাতামাতি,

তোমরা বাহিরে স্বাধীন হয়েছো বটে,

তবে কাটেনি মনের কলুষতা।

জাত-পাত কেন ভুলেছিলে তবে,

মিলিত মুক্তির সংগ্ৰামকালে?

বিজয় শেষে ভাগাভাগি করে

জাতটুকু বাঁচালে?

নচেৎ নরক যাবে বলে।

কুসংস্কারের দাস তোমরা 

আছো যুগযুগ ধরে।

বহিরাগত তাই তোমাদের,

কায়দায় ফেলে মারে।

পরমেশ্বরকে ভুলে তোমরা,

করছো ধর্মের মাতামাতি।

শাস্ত্রে ঢেকে জ্ঞানের আলো,

ঘুরছো নিয়ে বাতি।

স্বাধীন তোমরা ছিলেনা কভু,

খাটছো কুসংস্কারের দাসত্ব।

নিজেকে মহান পন্ডিত ভেবে,

হারিয়েছো মনুষ্যত্ব।

অতনু রায় চৌধুরী

শিশুর চোখ

মায়ের কোলে বসে থাকা শিশুটির চোখ

মাথার উপরের পতাকাটির দিকে।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক বিকেল পাঁচটা

শহরে সন্ধ্যে নেমে আসছে।

নেমে যাচ্ছে মাথার উপরের সেই পতাকাটি

নেমে আসা পতাকাটিকে দেখে 

ছোট শিশুটি তার মা প্রশ্ন করে

এটা কি মা?

গর্ভধারিনী মা উওরের বলে তখন

এটা তোমার আরেকটি মায়ের সন্মানের চিহ্ন বাবা।

এটাকে কখনো মাটিতে অবহেলায় ফেলে রাখতে দিওনা।

অষ্ট দেয়াশী

 তারা কি চেয়েছিল এই স্বাধীনতা

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তারা যুদ্ধ করেছিল বলে। 

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি দেশপ্রেমিকরা জীবন দিয়েছিল বলে। 

আমরা সুখ পেয়েছি তারা লড়াই করেছিল বলে। 

আমরা সুখ শান্তি ভোগ করছি তারা যন্ত্রনা সহ্য করেছিল বলে। 

আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম সুন্দর জীবন যাপনের জন্য। 

কোথায় গেল সেই স্বাধীনতা সেই দেশভক্ত। 

যারা স্বাধীনতার জন্য ঝরিয়ে ছিল বুকের রক্ত। 

আজ দেশের অনেক নেতা নেত্রী বলে মুখে স্বাধীনতা কথা। 

এখনো স্বাধীন দেশে শিশু কাঁদে খিদের জ্বালায়। 

এখনো স্বাধীন দেশে নারী ধষিতা হয়। 

এখনো মানুষ ভোটে নিজের মতামত প্রকাশ করলে মরতে হয় কেন তাকে। 

এখনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতা অধিকার দেখায় কেন জন গণকে। 

এখনো কেন শিক্ষিত বেকার চাকরি জন্য ধনায় বসে রাস্তা ঘাটে। 

এর নাম কি তবে স্বাধীনতা অন্য কিছু তবে। 

এখনও একশ্রেণীর মানুষ গরীব রয়ে গেল কেন স্বাধীন দেশে। 

ক্ষমতা বলে মুখোশধারী বুদ্ধি জীবি সত্য কথা না বলে মিথ্যা প্রশংসা করেই চলে। 

দেশ প্রেমিকরা এরকম চেয়ে ছিল কি স্বাধীনতা। 

স্বাধীন দেশে স্বাধীন মানুষ যদি সত্য কথা বলতে নাহি পারে

কি লাভ বলো স্বাধীনতা পেয়ে । 

চাইনি তারা বন্ধু এরকম স্বাধীন তারা চেয়ে ছিল সকলের সুখের স্বাধীন। 

নেতা নেত্রী আসে যায় কিন্তু দেশপ্রেমিকদের স্বপ্নের স্বাধীন মানুষ কিন্তু আজও নাহি পায়।

রণজিৎ রায়

দেশপ্রেম

জয় বাবা জয়! বাবা কৈলাসপতির সমবেত ধ্বনিতে

তিব্বত সীমান্তে সামান্য ঝুঁকতেই

এক অদ্ভুত শিহরণ শিরদাঁড়ায় বহে যায়;

দেশের মাটি যেন পরম স্নেহে দুহাত বাড়িয়ে

ফিরে আসার আহ্বান জানায়,

মহাদেবের দুর্গম আখড়া কৈলাস পরিক্রমায়

চৈতন্য মানব সরোবরে শুদ্ধ হয়ে

বৃত্তাকারে প্রদক্ষিণ করার পরিকল্পনা করে।


দেশ বলতে কেবল মানচিত্র নয়

শুধুই দেশের মাটি নয়

ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটিয়ে যাদের রোজগার

বরফের চাদরে যারা সীমান্ত রক্ষা করে

বর্শা নিক্ষেপে করে শত কোটি মানুষের

লজ্জাকে সম্মানে বদলে দেয় 

এরাই তো গর্বের দেশ, দেশের প্রকৃত কাণ্ডারি।


অবশিষ্টরা কষ্টার্জিত মধুর ওপর পিঁপড়ের মতো

হুল ফুটিয়ে পতাকা উড়ায়

অহর্নিশি দেশপ্রেমের বড়াই করে!

তাহের আহমেদ লস্কর

স্বাধীন দেশ 

আমরা স্বাধীন দেশের 

স্বাধীন নাগরিক,

মুক্ত আকাশ মুক্ত বাতাস 

সুস্থ মানসিক।


বৃটিশরা শোষন করতো 

মোদের রাখতো অধীনে,

দেশের সম্পদ লুঠিতো 

যত চাইতো তাদের মনে।


মোদের মাটি বাতাস জল

করিতো ভোগ, 

নারী নির্যাতন করিতো

পাইলে সুযোগ।


ভারতমাতার বীরপুত্ররা 

দেশের জান্ডা ধরে,

প্রাণের বিনিময়ে তারা 

দেশকে স্বাধীন করে।

সুশান্ত রায়

মহানায়ক

জীবন মানে খেলাঘর।

সুখ-দুঃখের এক নগর।।


কারোর জীবন কাটে সুখ, আর 'শোকে'

আবার বহু জীবন যায় দেশের পক্ষে।

মহানায়ক কাকে বলে তা আমি জানি।

যারা দেশের জন্য দেয় জীবন, তাদের সর্বদা মানি।।

এই ভারত তো আমার দেশ।

মহামাটির শত্রুকে কবর, আমি ই শেষ!

জীবনে তো মৃত্যু একবার ই হয়।

মৃত্যুর ভয়ে বসে থেকে, করবে কিভাবে জয়?

মৃত্যুর পরও দাগ রেখেছে যারা।

জগৎ জি, সুভাষ জি, গান্ধীজী মহানায়ক তাঁরা।

হাসিতে খুশিতে কাটলে হয়না জীবন।

তাইতো নাম আমাদের থেকে যায় সর্বদা গোপন।।

চাই যদি আমরা আসবে দেশে সুফল।

তবে ঐ মহানায়কদের জীবনদান যাবেনা কখনো বিফল।।

এই আশা নিয়ে দেশকে ভাসতে হবে ভালো।

সর্ব প্রধান লুপ্ত করতে হবে ভাবনা মনের কালো।।

এই শপথ নিয়ে কবিতার করলাম সমাপ্তি।

খুব দ্রুত দেখতে পাবো দেশের অনেক উন্নতি।।

সুস্মিতা পাল

কখনো কি ভুলতে পারে

সকল ভারতবাসী এবং ভারত মায়ের হৃদয় জুড়ে চিরকাল বয়ে যাবে বীরদের অমর গাথা। কারণ

সকল ভারতবাসী এবং ভারতমাতা,

কখনো কি ভুলতে পারে ?

যাদের আত্ম বলিদানের দরুন,

পরাধীনতার বেড়া জাল হয়েছে ছিন্ন ।আর

সকল ভারতবাসী এবং ভারতমাতা হয়েছেন স্বাধীন।

কখনো কি ভুলতে পারে ?

যাদের রক্তের প্লাবনে ভেসে এসেছে,

স্বাধীনতার নতুন রবি কিরণ।

কখনো কি ভুলতে পারে?

দীর্ঘ পরাধীনতার গ্লানি মুছার জন্য 

কত শত কোটি বীর করেছে আত্ম বলিদান।

কত শত মা হারিয়েছেন সন্তান দের। 

কত শত প্রিয়জন হারিয়েছে প্রিয়জন দের।

কখনো কি ভুলতে পারে ?

যাদের বলিদানের দরুন,

ভারত মায়ের হৃদয়ে গেথেছে বিজয়ের পতাকা,এবং

চারিদিকে বেজে উঠেছে বিজয়ের জয় গান,

জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম কন্ঠ ধ্বনি নিয়ে।

হে ভারত মায়ের বীর সন্তান 

শত কোটি শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং লহ প্রণাম মোর।

Aug 10, 2021

দ্বীপ দে

বিজয়ধ্বজ

হে বীর জওয়ান হও আগুয়ান 

হবেই যে হবে বিজয় ধ্বজের উড়ান। 

মনে রেখো চায়না আর পাকিস্তান 

আমরা সবাই ভারত মায়ের সন্তান। 

কাশ্মীর লাদাখ পাঠানকোট বা বঙ্গ

রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে রক্ষা করবো ভারতের অঙ্গ। 

ভারতের সেনাদল আর জনগণ নয় যে দুর্বল 

প্রয়োজনে দেখিয়ে দেবো সবাই সবল। 

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ জৈন আর খ্রীষ্টান 

ভারতীয় সেনাদলে আছে সবার সম সম্মান। 

জাতপাত উঁচনীচ দিয়ে ভাঙ্গতে পারবে না মোদের 

আমরা ভারত মায়ের সন্তান দেখিয়ে দেবো তোদের। 

রবীন্দ্রনাথ গান্ধী কালাম আর বিবেকানন্দের দেশ 

পাকিস্তান আর চায়না স্বপ্ন দেখিস তোরা করবি মোদের শেষ। 

অর্বাচীন বালকের মতো করিস না হাঁকডাক 

নয়তো ভেঙে যাবে তোদের দাঁত মুখ নাক। 

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ জৈন আছি ভাই ভাই 

ভারতবাসী ছাড়া মোদের অন্য পরিচয় নাই।

                      ‌

কাজি নিনারা বেগম

বিরামচিহ্ন

স্বাধীনতা, তুমি অবুঝ হৃদয়াকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র!

অসীম দীপনের তেপান্তরের মাঠের ধু ধু করা উষ্ণ হাওয়া।

আসমুদ্র হিমাচলের শ্যামলী নদীর তীরে বর্ষিত অবিরাম ধারায় প্রবাহিত বৃষ্টি,,

নবীনী সুরুযের তীর্যক আলোকিত রক্তবরণ পলাশ।। 

স্বাধীনতা, তুমি আমার স্বাধীন সেই ময়না পাখি উড়তে যেসক্ষম,

সেই জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি নতুন প্রজন্মের কাছে পরাজিত শত্রু হয়ে।। 

স্বাধীনতা  একবিংশ শতাব্দীর সেই প্রথম দিগ্বলয়ের বিরাম চিহ্নের ব্যবহার!

চন্দন ঘোষ

স্বদেশ

কত বীর শহীদের আত্মবলিদানে

স্বাধীন হয়েছি মোরা।

কত বিপ্লবী বীরের রক্তধারা বয়,

স্বাধীন দেশের তরে।

ক্ষুদিরাম, রাজগুরু, শুকদেব হাসে

ফাঁসির মঞ্চে থেকেও।

মিছিলে পথ কাঁপায় কনকলতাও

বক্ষে গুলি বিদ্ধ হয়।

অস্পৃশ্যতা,ভেদাভেদ দূরে ঠেলে লড়ে,

স্বাধীন করেছে তাঁরা।

সংগ্রামী বীর আঘাত হানে শত্রু দ্বারে

কাটলো আধার রাতি।

তুমি মহামানবের ওই পূণ্যভূমি,

স্বর্ণধূলি শিরে তুলি।

সম্রাট শীল

স্বাধীনতা কাগজের বুকে

বিপ্লবীদের স্বপ্ন সত্যি হোক,

আমাদের হাত ধরে।

স্বাধীন গান গাইবো তখন,

স্বাধীনতার তরে।।

ত্রি-রং যদিও ছড়ায় চারিদিকে,

ছড়ায় কি স্বাধীনতা?

স্বাধীনতা লেখা আছে কাগজের বুকে,

উড়ছে শুধু পরাধীনতা।

অভাব, অনাহার, অত্যাচারে ভরেছে, স্বাধীনতার নীর।

পরাধীনতার বুকে বিঁধে যাক,

অনাবিল স্বাধীনতার তীর।।

রাজীব বসাক

 ভারতভূমি

জন্মদাত্রী মায়ের সমান ও আমার ভারতভূমি ,

তোমার বুকে মাথারেখে বৃক্ষতলে ঘুমিয়ে পড়ি।

তোমার শীতল জলের মধুর তৃপ্তি,

তৃষ্ণা মেঠায় সকল প্রানীর,

তোমার জয়গান ছড়িয়ে বেড়ায় বিশ্বব‍্যাপি ।

ও আমার ভারতভূমি তোমার বুকে সকল প্রাণীর আহার জানি আছে কত ,

শষ‍্য শ‍্যামল সোনার ফসল কৃষকচাষী শত ফলায় তোমার বুকে,

ও আমার ভারতভূমি, সবার সেরা মাগো তুমি ।

তোমার বুকে কত সৈনিক ঘুমিয়ে আছে পরম যত্নে,

ও আমার ভারতভূমি সকল প্রাণীর আছে কত স্নেহ।

তোমার বুকে বেড়ে ওঠা, তোমার বুকে ক্ষয়,

ও আমার ভারতভূমি তোমার বুকে জনম যেন হয় ।

প্রসেনজীৎ সাহা

ভারত আমার দেশ

আমার দেশ, শ্রেষ্ঠ দেশ।

ভারতমাতার দেশ।।

ভারতমায়ের সন্তান সকল ভারতবাসী।

জন্মভূমি রক্ষা করে আজ সীমান্ত প্রহরী।।

ইতিহাস আজ ও বলে,

ভারত ললনার শত শত বীর পুত্রের কথা।

স্বাধীনতা সংগ্রামে করেছে লড়াই,

নেতাজী,ক্ষুদিরাম,ভগৎ সিং এর মতো বীররা।

আজ ও দেশ রক্ষার্থে করছে লড়াই, 

ভারতের বীর সৈনিকরা।।

বিক্রমজিৎ সাহা

স্ব অধীন

দুশো বছরের শোষন শাসন

নিঃস্ব করেছে

পরাক্রমী ভারতমাতার সন্তান

করেছে স্বাধীন রক্তের বিনিময়ে।


আজ একবিংশে দাঁড়িয়ে

আমি কবি-বিশ্বমানব

বড়ো অসহায়-অনিশ্চিত 

জীবন যাপন-কালের স্রোতে।


স্বাধীনতা শব্দটি আজ সংকীর্ণ

সর্বজনীন নয়।


হে স্বর্গগত বিপ্লবী

শোনো এ মানব আর্তি

তব স্বপ্নের সে দেশ

গঠন হয়নি....

ভক্ষকের হাতে মনিটরি

শিক্ষক পরাধীন...

তাপস দও

স্বপ্নের স্বাধীনতা 

স্বপ্নের স্বাধীনতা আজ দুর্বিসহ রূপে ভেসে উঠে,

খোলা জানালার পাশে কেটে যায় কত রাত।

নিশাচর চোখ খুঁজে চলেছে একটু খানি স্বাধীনতা।।


পরিভাষাই বদলে গেছে চাওয়া পাওয়ার মাঝে,

মুক্তির মাঝে লুকিয়ে আছে স্বাধীনতার স্বাদ।

দেখেছো কি ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বেকারের চোখে?

সে স্বাধীন হয়ে ও মুক্তি চায় বেকারত্বের হাত থেকে।


কর্ম ব্যস্ত জীবন, রাস্তায় হাহাকার,

একা ফিরছে নারী,হায়নার লোলুপ দৃষ্টি…

মুক্তি চাই সে,নিরাপওা হীনতার।

যদি দিতে পারি তবেই সার্থক এই স্বাধীনতা।


ভগবান রূপী পথ শিশুরা আজ অসহায়,

কোথায় তাদের স্বাধীনতা?

মুক্তি চাই শিশু শ্রমের হাত থেকে…

ফিরিয়ে দিতে চাই তাদের প্রকৃত স্বাধীনতা।


মুক্তি চাই ক্ষদার্থ ভিখারীর হাতের ঝলসানু পোড়া রুটি থেকে।

বাঁচার অধিকার তো তাদের ও আছে।


ঘরের দেওয়াল সাজিয়েছো ডিগ্রির সমাহারে,

কেন তাহলে মা বাবা বৃদ্ধাশ্রমের দ্বারে?

আর কতটা নিলজ্জ হবে?

“এবার তো মুক্তি দাও”

মা বাবা বলছে সমোস্বরে।


কখন জানি শেষ হবে অর্থনৈতিক সংকটের সে অন্ধকার রাত

রক্তাক্ত রাজনৈতিক হানাহানি দেশকে করেছে বরবাদ।

এক লহমায় মুক্তি চাই,স্বাধীনতা চাই।

ধর্ষন মুক্ত সমাজ চাই।


হবে তো সে স্বপ্ন পূরণ?

এই মুক্তির স্বাদ হবে অমৃত সমান,

আবার ও শিশুর বাস যোগ্য পরিবেশ হবে,

হাতে ধরা দেবে পূর্ণ স্বাধীনতা।

সাহেব দেবনাথ

সৈনিক

দেশের সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী যারা।

করিয়াছে দেশ, স্বাধীন তারা ।

শত্রুর ট্যাংকে চির খায় সীমানা।

রক্ষা করে ভারতমাতাকে ,

তেজস্বী বীরসেনারা।

হাজারো সৈন্য হয়েছে শহীদ,

বোমা আর গুলিতে ।

কফিনবন্দি দেহ এসেছে,

তিরঙ্গা বুকে নিয়ে।

কত মা করিয়াছে কুল উজাড়।

বুকে নিয়ে পাষাণ।

কত স্ত্রী করিয়াছে ত্যাগ ।

দিয়েছে শেষ বিদায়।

দিতে গিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ।

অকালে ঝড়েছে বহু প্রাণ।

পায়নাকো তারা পরিবার সুখ।

পূজা আর পার্বণে।

ঝড় , বৃষ্টি কাঁধে নিয়ে।

থাকে যারা বাইরে ,

তাদের আত্ম বলিদান

আমরা থাকি ঘরে ।

নেইকো তাদের অস্পৃশ্যতা,

আর জাতপাতের ভয় ।

ভারতমাতার সন্তান তারা ,

নাইকো তাদের ভয় ।

সুচিত্রা দেবনাথ

আজ স্বাধীনতা দিবস 

সকাল হতে জানালা খুলে

আকাশ পানে তাকাতেই, চোখে এলো ,

কতগুলো পাখি মনের আনন্দে

স্বাধীনভাবে বাঁধনছাড়া হয়

আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে।

চোখে এলো,

গাছের ফুলগুলো ফুটার

আজ যেন এক অন্য ধরন,

শত কোলাহলের মাঝেও

কোথা থেকে যেন ভেসে

আসছে  বন্দেমাতরম গান।

পিঁপড়ের দলেরা,

সারিবদ্ধ ভাবে চলে যাচ্ছে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য,

একগাল হাসি নিয়ে শিশুরা লজেন্স হাতে বাড়ি ফিরছে পতাকা উত্তোলন করে।

সূর্যের হাসি মুখটা তার  তেজ এ প্রকাশ পাচ্ছে,

স্বাধীনতা দিবসে চারিপাশ যেন আজ নতুনভাবে স্বাধীন হয়ে বেঁচে উঠেছে।

 নিজের প্রাণ সংশয় করে

 ভারতমাতাকে স্বাধীন করার

 বীর শহীদদের জানাই শ্রদ্ধা।।

আলমগীর কবীর

এ কেমন স্বাধীনতা 

ওরা আজও পরাধীনতার শেকলে বাঁধা
দেশ নাকি স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট। 
কিন্তুু ওরা আজও ইচ্ছে করলেই চলতে পারেনা
ইচ্ছে করলেই যেতে পারেনা কোথাও তাদের মত করে
তারা আবার এ দেশেরই নাগরিক বটে।

কি অদ্ভুত জীবনযাপন তাদের 
কখনো চাক্ষুষ না দেখলে হয়তো জানতেই পারবেনা
তাদের এ পরাধীনতার কথা!

তারা স্বাধীন দেশে চলতে গেলেও তাদের জবাবদিহি করতে হয় বারংবার 
রেজিস্টার খাতায় সই করতে হয় 
কি আনে কি নেয় কোথায় যায় তাও এন্ট্রি করতে হয় 
তারা আর কেউ নয় আমাদের স্বাধীন ভারতেরই 
সীমান্তের পরাধীন নাগরিক,  
যারা এখনো পরাধীনতার শেকলে আবদ্ধ!

কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

ডাক

উচ্চ শির,বজ্র কঠিন কণ্ঠে
ডাক দিয়েছিল সবে
ওঠো ! জাগো, চোখ মুদে-
এখন‌ও ঘুমিয়ে রবে।

মাতৃভূমি শৃঙ্খলে বাঁধা,কত
ক্লেশ সয় প্রতিদিন
তার বুকে প্রাণ,হয় খানখান
শোধ করবি না ঋণ।

নেই কিরে দেহে রক্ত,মাংস,হাড়
নেই কিরে তেজ ফুর্তি
বিভীষিকা রূপে জ্বলবি না তুই
ধরবি না রণরঙ্গিনী মূর্তি।

জননী যে তোর পথে ঘাটে কাঁদে
সারা গায়ে বেড়ি দাগ
তবু কেন তোর নেইকো রে রোষ
নেই কোনো ঘৃণা রাগ।

তুচ্ছ করে ভয় ঝাঁপিয়েছে তাঁরা,
দিয়েছে কত প্রাণ বলি
তাঁদের নামে তুলো জয়ধ্বনি
করপুটে দাও অঞ্জলী।

কত শহীদের রক্তে রাঙা, মুক্ত
মোদের মাতৃভূমি
কখনো তাদের দু‍ঃখ ব্যথার,খোঁজ 
নিয়েছি আমি তুমি।

মায়ের মুক্তির সুর তুলে যাঁরা
এনেছিল এই স্বাধীনতা
জয়গান গাই এসো সবে ভাই
উর্দ্ধে তুলি বিজয় পতাকা।

পৃথ্বীশ দত্ত

আমার দেশ আমার

রাষ্ট্র বললে যেন জেগে ওঠে
হিংস্রতা,
তার চেয়ে দেশ ভালো, দেশ মানে 
নম্রতা,
রাষ্ট্র যেন রক্তচক্ষু আর
দখলদারি,
তার চেয়ে দেশ ভালো, দেশ যেন
সংসারী,
রাষ্ট্রের চোখ রক্ত-সল্প, অহেতু
সংশয়,
আমার দেশটি মায়াচুম্বক, হৃদয়েতে-
ভরাভয় !
রাষ্ট্রের যত উচ্চাসন, সে মাটির গন্ধ 
রাখে না,
আমার দেশই প্রাণ-প্রণয়ের নিভৃত
ঠিকানা,
আমি রাষ্ট্রের কেউ নই, রাষ্ট্রতে -
বড়ো ভয়,
আমার একটি দেশ আছে, ভালোবেসে
দুঃখ সয় !

রঞ্জন ভাওয়াল

যাদের জন্য স্বাধীনতা

স্বাধীন দেশে স্বাধীন চাই
নাই  কোনো ভয় মনে,
গাই একসাথে বন্দেমাতরম
আজ এই শুভ দিনে।

মায়ের লাঞ্ছনা আর অত্যাচারে
শিকল করতে মুক্ত,
মায়ের শত শত ছেলে
হাতে হাতে বেঁধে শক্ত।

ক্ষুদিরাম-বিনয়,বাদল , দীনেশ
এনে দিয়েছে ভারতকে স্বাধীনতা,
সহ্য করেছে ইংরেজদের
কত নির্মম বর্বরতা।

"দিল্লি চলো" নেতাজীর ডাকে
জাগিল যুবক যুবতী,
"জয় হিন্দ" বলে কন্ঠে তাদের
সম্বোধনের আহুতি।

তেত্রিশ কোটি সন্তানের
হর্ষিত কোলাহলে,
আসমুদ্ভ্র-হিমাচল আজি
পুলকিত হিল্লোলে।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)

স্বাধীনতার পুরষ্কার

স্বাধীনতার রসাস্বাদন করব বলে

যেই ধরেছি গান,

অমনি দেশী পুলিশ বলে 

"এ্যাই বিদেশী, থাম"।

আমি বলি বিপ্লবী ছিলাম,

জেল খেটেছি দ্বীপান্তরে,

দেখ চেয়ে তুই দাঁত আর নখ

সব নিয়ে গেছে উপড়ে।

মানতে নারাজ পুলিশ বলে

আদেশ জারী হয়েছে।

হিন্দুস্তান আর পাকিস্তান নামে

দুই দেশ সদ্য জন্মেছে।

সীমানায় পড়বে কাঁটাতার,

আসাযাওয়ায় চাই পাসপোর্ট !

ওপারেতে মায়ের আঁচল দেখে

জলের ধারায় ভাসে বুক।

সংগ্রামে, বিপ্লবে, শ্লোগানে, জয়গানে,

দেশমাতৃকার মুক্তি চেয়েছি।

রেডক্লিফের খেয়ালী আঁচড়ে

ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছি।

শেকড় ছেড়ে বাঁচার আশায়

বাস্তুহারা শিবিরে ঢুকেছি,

একমুঠো ভাত, ফেন আর জল

হাত পেতে আমি নিয়েছি।

আত্মত্যাগের উজ্জ্বল গাঁথায়

যারা ছিল উদ্ভাষিত

তাঁদের সন্ততি নাম লিখিয়েছে

উদ্বাস্তু আর বিদেশীতে।

এপার ওপার দুই পারেতে

ক্রন্দনরত প্রাণপ্রিয়জন।

দুই দেশেরই সীমানায় প্রহরী

মনের ভেতরে জ্বলে আগুন।।

বিধর্না মজুমদার

ভারতমাতার অক্ষম সন্তান

রক্তিম আলোর দূর্বল মনোবলে। 
বলিদান জনগণের নেতার, 
মনে পরে কি? 
স্বাধীনতার কতো বছর পেরিয়ে গেলো, 
বিনয়-বাদল-দিনেশ, তাদের অমরত্ব আজ বইয়ে ছাপা। 
ভারত তোমার মনে পরে কি? 
ক্লান্ত ছেলের বিলাপ! 
তারা রক্তে রাঙিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। 
আমরা কি স্বাধীন? 
জাত পাতের নামে হিংস্র আচরণ চলে আসছে, গোড়া থেকে। 
স্বাধীন ভারতের গলিতে ধর্ষিত মেয়ে, 
শিক্ষার আড়ালে বেচাকেনা, 
স্বাস্থ্য বিধিতে ব্যবসা বাণিজ্য। 
আমরা কি স্বাধীন? 
নারী শিক্ষা বাদে এখন, বাল্যবিবাহের ঝোঁক বেশি। 
মহাপুরুষের কথা বইয়ের মলাটে চাপা পরা। 
নারী জাতির উন্নয়ন এখন শুধুই মুখের কথা, 
মর্যাদার আড়ালে আধিকারিকদের বোরখাতে মুখঢাকা। 
পূর্ণাঙ্গভাবে পূর্ণতা দাও, স্বাধীন ভারতকে। 
তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী
তোমার এই অক্ষম সন্তান, 
ভারতমাতার ভূমিতে সশ্রদ্ধ প্রণাম।

কৌশিক আচার্য

প্রদীপের নীচে আজ ও অন্ধকার

স্বাধীনতার ৭৫বছর আসন্ন তবুও

প্রদীপের নীচে অন্ধকার থাকল আজ ও,

যে রাধা পড়াশোনা শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে  চেয়েছিলো...

সেই মেয়েটার হঠাৎ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে হয়ে গেলো।


যে রাম গানকে ভালোবেসে

জীবন গড়তে চেয়েছে

তাঁর বাবা তাকে জোর করে অঙ্ক নিয়ে ভর্তি করেছে...

যে কালো মেয়েটি ক্লাসে ভালো ফল করত

তাঁর বাবা তাকে জোর করে বিয়ের পিড়িতে বসালো;

এরা কেউ কি তাদের স্বইচ্ছার মূল্য পেলো?

আজ ও এভাবেই সমাজে প্রদীপের নীচে গাঢ় অন্ধকার রয়ে গেছে।

নীলমাধব প্রামাণিক

স্বাধীনতার ঘ্রাণ 

মা যদি হয় এই মাটি জল 

মা যদি হয় দেশ 

জানাই তাকে হাজার প্রণাম 

দান যে তার অশেষ ।


যে মাটি দেয় কোল বিছিয়ে 

অন্ন জোগায় মুখে 

সে মা 'টি তো সার্বজনীন                            

সবার সুখে -দুখে ।


মা কে পেলাম দেশ হিসেবে 

দেশ হিসেবে মাকে 

অনন্য এক প্রশান্তি পাই 

এদেশ কে মা ডাকে ।


দেশের মাটি জল চিনেছি 

অনেক রক্ত ঋণে 

বীর সন্তান সৈনিক দের 

লড়াই অনেক দিনের ।


কুচকাওয়াজের শব্দে ওড়ে 

স্বাধীনতা র ঘ্রাণ 

ভুলবোনা গো বীর শহীদের 

অমর  অবদান ।

বর্ষা দে

স্বাধীনতার নামে পরাধীনতা

স্বাধীনতার আজ ৭৪ বছর,

তবু আজও নয়কো স্বাধীন দেশ

নেই নারীর নিরাপত্তা

 নেই ধর্ম বিচারের শেষ

চলছে যে জন, যে যার ভাবে,

মনুষ্যত্বের নেই কোনো খোঁজ।

টাকার খেলায় পিশিয়ে মারে,

সম্পর্ক আজ রোজ।


ভালোবাসা ও আজ

হার মেনেছে 

স্ব-অধীনতার কাছে

প্রিয় মানুষটার কথাই আজ উঠছে বসেছে।


এই স্বাধীনতার নামেই

সত্যি যদিও স্বাধীন দেশ

ইংরেজ শাসন থেকে।

তবুও বলতো সত্যি কি স্বাধীন মোরা,

আমি স্বাধীন

বলতে পারবে কি বুকে হাত রেখে?

সুচিত্রা দাস

এক বিন্দু ঘাম

স্বাধীনতা  চেয়েছিলে ---

মুক্তির অঙ্গীকারে,

স্বপ্নগুলো বাসি জবার মতো মুখ থুবরে আছে ডাস্টবিনে।

খেটে খাওয়া  মেহনতির ঘাম

ওদের পকেটে ছটফট  করে 

বন্দুকের নলে,

ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরাম।


যে স্বাধীনতা  চেয়েছিলে ---

হারিয়ে  গেছ কুচক্রীর চালে,

হয়তো কারো ড্রয়িংরুমে সাজানো  ছবি, দৃপ্ত তেজস্বিত  

দুর্লভ পরিব্যপ্তির সম্ভ্রান্ত  তুমি।


এ লাজ বাঙালির, আপামর ভারতবাসীর।

দেশটাকে বেচে দিয়ে জাতীর জনক তিনি।

সত্যকে যায়না ঢাকা; নাথুরাম দিল যোগ্য জবাব।

কাঙ্ক্ষিত  সিংহাসনের লোভে যারা করেছে রাহাজানি  

তারাই আজ পথের ভিখারী।

মানুষ গুলো বোকা খামে বন্দিখানার জয়ধ্বনি করে।

এভাবেই  জীবনের শেষ নিঃশ্বাসে স্বপ্নের ফানুস উড়ায়,

মৃতদেহে জড়ায় ভুলভুলাইয়ার  নিশান।

প্রতীক হালদার

স্বাধীনতা গুমরে কাঁদে 

ইতিহাস গড়ে নতুন রূপে 

আধুনিকতার ধাঁচে,

পরাধীনতার গণ্ডি  কাটে 

তবুও মানুষ বাঁচে ।


নেই তো সুভাষ বীর বিপ্লবী 

বিনয়-বাদল-দিনেশ,

আনবে কে স্বাধীনতা নতুন করে?

প্রাণ পাবে আবার স্বদেশ ।


তবুও ওড়ে তেরাঙা পতাকা 

স্বাধীন দেশের বুকে,

স্বাধীনতা ও গুমরে কাঁদে 

নেই তো কেউ সুখে ।


স্বাধীনতার নামে ভণ্ডামি চলে 

দু-চোখে অশ্রু ঝরে,

প্রতিবাদী বীর দিন দুপুরে 

অকালে যাচ্ছে ঝরে ।


 বেআইনি শাসনে সর্বদা উত্তপ্ত 

এদেশের ওলি-গলি ,

অনাচার দেখে তবুও আমরা 

দু-চোখ বুঝে চলি ।

পূজা মজুমদার

অবশেষে জেনেছি

তোমার দেওয়া ব্যথার

সাগর সঙ্গোপনে শুষে,


সুখের কথাই খুব লিখেছি-

কষ্ট কালির শীষে!


তোমার দেওয়া দুঃখগুলো লুকিয়ে রেখে দূরে-


অনন্ত এক আড়াল দিলাম-

হৃদয় অন্তঃপুরে।

পূর্ণিমা রাত তোমার মতো- 'বিজয়' ছড়ায় চাঁদে,


অমাবস্যা আমার মতো-

'কালো'র কষ্টে কাঁদে।


কোন দোষেতে শাস্তি দিয়ে 

ভুলের দোলায় দুললে ?


বুকের ভেতর 'এই যে আমি', কেমন করে ভুললে ?

অবশেষে জেনেছি মানুষ একা !


জেনেছি মানুষ তার 

চিবুকের কাছেও ভীষণ 

অচেনা ও একা !

পান্থ দাস

আমাদের পতেকা

বীর সেনানীর

রক্তে মাখা

গর্ব মোদের

জাতীয় পতাকা ৷


সূদুর আকাশে

নীলাভ মেঘের ভাষা,

লিখেছে যেন এক নতুন

সোনালি আভা ৷


ফাঁসির মঞ্চে

কিসের ভয়,

মৃত্যুকে তাঁরা নিজেই

করেছে জয় ৷


বিশ্ব শ্রেষ্ঠ আমাদের

জাতীয় পতাকা

তিন রঙেতে যেন

এক অনন্য গাঁথা ৷

দিপ্সি দে

স্বাধীনতা 

স্বাধীনতা  বাগানের প্রিয় ফুল সম্পূর্ন উপভোগ‍্য হত যদি  কথা বলার অধিকার হারিয়ে না যেত!

শেকর মিঞা

স্বাধীনতার সুখ

কে বাঁচিতে চায় স্বাধীনতা হীন?

থাকবো না আর মোরা অন্যের অধীন। 

এই ত্যাজে উঠল বেজে ভারত মাতার জয় ,

তাইতো ভাই  ১৯৪৭ সালে ভারত পূর্ণ স্বাধীন হয়।

বিবেকানন্দ বীর সুভাষের এই মহান দেশ ,

সেইজন্যই তো মোরা করিনা অনুভব দুঃখ কিংবা ক্লেশ।

বীরপুরুষের আত্মত্যাগ ছিল স্বাধীনতার পাছে,

তাইতো তারা আজো অমর ভারতবাসীর কাছে।

তাদের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে করব মোরা শপথ ,

ভারতকে রক্ষার্থে দেবো পারি, আসুক যতই দুর্গম পথ।

স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে শপথ মোরা করি,

দেশের প্রয়োজনে তুলবো অস্ত্র জিতি কিংবা হারি।

বি, এইচ মন্ডল

অসাম্যের ছোঁয়া 

আদর্শ আর নীতির মালা, 

নতুন আশার চেতনায়

খুঁজছে পথ আঁধার মাঝে,

একবুক মরুর বিষন্নতায়।


সভ্যতা দূরে অট্টহাসে, ভুল মেলানো অঙ্ক হাতে

হারায় চোখ আলোক রশ্মি, 

কাল যুগের অন্ধরাতে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সম, দুঃখ কথার ডালি

ন্যায়ের পথে নিরবে খায়, মিথ্যা মেকির গালি।


প্রকৃতি আজ ক্লোরোফিলহীন, স্মৃতির ঝুলে ডাল

বেওয়ারিশ রক্ত লাশে, রোমাঞ্চিত মাটির গাল।

চারিদিকে আঁধার প্রলয়, বিষাদের কালো হাত

মিথ্যা হাসির কলঙ্ক দাগে, 

উঠছে পুবে দ্বাদশীর  চাঁদ।


শব্দহীন কন্ঠধ্বনি, রঙ মিছিলের ভীড়ে

খুঁজছে পথ নৈতিকতার, শক্ত মাটি চিরে।

মিথ্যা মুখ অট্টহাসে, রঙ মিছিলের বিজয় রথে 

ন্যায়ের চাকা হোঁচট খায়, রক্তে বিদ্ধ পিছল পথে।


পাথর বুকের প্রতিবাদ গুমড়ে যেনো কাঁদে

রক্তে রাঙা পলাশীর মুখ, নগ্ন বিষাদ খাদে।

নির্বিচারে ফুটপাত ধরে, চলে জয়ের মিছিল

অভুক্ত উদর মুখ, খোঁজে বাঁচার অন্তর্মিল।

সভ্য মানব মুখ ফিরায়ে, রঙের মুখোশ পড়ে

যুগে যুগে নিজ স্বার্থের, যুদ্ধ নিশান লড়ে।


প্রেমহীন পৃথিবী ধৃষ্টতার আস্তরণে কাটে দাগ

ছায়াহীন শরীর ছা'য়ে, ছড়ায়ে ছায়ানট রাগ।

নিভৃতে নারীত্বের বলি হয়, বিষন্ন প্রেমালাপে

ললাটের রুদ্ধ ললাটিকা, প্রজ্জ্বলিত কুসন্তাপে।

অন্ধগলি নেশাতুর প্রেমের রক্ত খরস্রোত

নিয়ত বুকে ধায়, অসংখ্য মুক্ত রাজপথ।


স্পন্দহীন তরু তমাল সারি, কালো আঁধার মাঝে

সহসা চিৎকারে গান গেয়ে ওঠে, পথভোলা সাঁঝে।

হয় বস্ত্রহীন অমীমাংসিত প্রেমালাপে

কামনার মোহে, উষ্ণ ঠোঁটের উদগ্র উত্তাপে।


মৃত্যু হাসি রাগ অনুরাগে কলাপ পাশে

চিৎকারে রঙ মাখে, অসাম্যের মূল্যহীন সহবাসে।

রক্তাক্ত দেহ খোঁজে গঙ্গার স্বচ্ছ বারিধী

জীবন বাঁকের অন্ত দিগন্ত সীমার, প্রস্হ পরিধি।

পরিত্যক্ত দাবি ধুলো হয়, উগ্র বৈশাখী বায়ে

অনিশ্চিত সুখ ভর করে যখন, শত বঞ্চিত কায়ে।


যৌবনের মূল্য তৃপ্তি পায়, বেওয়ারিশ খুনে

বিয়োগাঙ্ক আসক্তি ভগাংশু হয়, ধারাপাত গুণে।

রক্তাক্ত বুটের তলায় ঘৃণার হাসি

অসাম্যের মূল্যবোধে, জাগে সৃষ্টি পথে উল্লাসী।

মনের দীপ্ত দীপ নিভে সহসা ভয়ের বায়ে

যৌবনা পরাজিত পরিনীতা বুক ছা'য়ে।


কলুষিত ছাই জলন্ত চিতাদাহে, লজ্জায় ঢাকে মুখ

ধর্ষিতার আকুন্ঠিত গানে, শিক্ত বর্বরতা মাটির বুক।

তবুও ওঠে না দাবি, প্রতিবাদ

সাম্যের ধ্বজা উড়ুক্কু একাকি, খোঁজে অমানিশার চাঁদ।

সঞ্চিত ব্যথা মাটিতে ফলে, রক্ত জল ঘামে

আসে প্রগতি তিমির সরণি ধরে, নীল মৃত্যু খামে।


অসাম্যের ছোঁয়া পরিত্যক্ত কলুষিত দর্পণ কাঁচে

প্রতিচ্ছবির প্রতিবিম্বে আবদ্ধ, মত্ত  নগ্ন নাচে।

মিঠুন রায়

বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা

স্বাধীনতা শব্দে লুকিয়ে আছে অজস্র দেশবাসীর স্বপ্ন,

বিবস্ত্র ছেলেটি চায় একটু নুন ভাত

ক্ষুধার জ্বালায় ছুটে বেড়ায় ভরদুপুরে রাস্তায়।

স্বাধীনতা আজ মুছে গেছে গরীবের জীবনপঞ্জী থেকে,

নানা ভাষা-নানা মত লিপিবদ্ধ শুধু সংবিধানে 

প্রকৃত স্বাধীনতা এখন কেঁদে বেড়ায় কৃষ্ণকলির মতো।

স্বাধীনতা শুধু জাতীয় পতাকা পতপত করে বাতাসে উড়া নয়,

মুক্ত বিহঙ্গের মতো  মাথা উচু করে বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা।

সুজন দেবনাথ

আমিও চাই

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে সবার পরিচয় হবে একটাই
'আমরা মানুষ।'

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে থাকবেনা কোনো জাতের বালাই
থাকবে শুধু মান আর হুঁশ।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে থাকবেনা উঁচু নিচুর লড়াই
থাকবে সকলের সম অধিকার।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে তুমিও স্বাধীন আমিও স্বাধীন
থাকবেনা কেউ পরাধীন।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ, 
যে দেশে সকলের মুখে অন্ন,পরনে বস্র,
আর মাথা গোঁজাতে রবে শান্তির নীড়।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে সকলেই হবে একে অপরের
অসময় সুসময়ের ভাগীদার।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে রবেনা হিংসা,রবেনা নিন্দা
বেঁচে রবে শুধু ভালোবাসা।

আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ,
যে দেশে আবারও শুনবো সবার মুখেমুখে--
শুধুই অহিংসার বাণী।

ওগো স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর শহীদরা
তোমাদের মতো করে আমি দেশকে ভালোবাসতে পারিনি।

পারিনি উজার করে নিজেকে
সমাজের কাছে বিলিয়ে দিতে।
কিন্তু আমিও চাই……
হ্যাঁ আমিও চাই সেই স্বাধীন দেশ।

যে দেশ ছিলো তোমাদের স্বপ্নে, জাগরণে, 
তোমাদের নিঃশ্বাষে, বিশ্বাসে, 
আর নিঃস্বার্থে ঝরা প্রতিটা রক্ত বিন্দুতে।

যোগমায়া গোস্বামী

জেগে ওঠো

সুখ নিদ্রায় আছো মগ্ন হয়ে উঠবে কখন জেগে?

আকাশ জুড়ে কালো মেঘ আসছে ঝড়ো বেগে।

দেশমাতা ডাকছে তোমায় দুধের ঋণ চোকাতে,

ভেকধারী বেইমানকে খুঁজে হবে তাকে তাড়াতে।

অবুঝ সরল সন্তানের দল চোখটি মেলে দেখো,

কারা শত্রু আর মিত্ররা কারা এটা মনে রেখো।

দেশমাতৃকার বুক ছিড়ে আজ বইছে রক্তধারা,

কোথায় নির্বোধ অবোধ সব দাওনা কেন সাড়া।

জননীর বুকফাটা চিৎকার কি হয়না কর্ণগোচর!

দেশের ভীতু ব্যক্তিত্বদের তবুও যে নেই নড়চড়।

মায়ের ইজ্জত লুঠ করে বিদেশী পিশাচের দল,

প্রতিরোধ করে রুখে দাঁড়াও যতই করুক ছল।

মন্দিরা ভারতী

স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও 

স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে

বাপ মরা ওই মেয়ের ঘরে,

যে ভোরের ঊষার সাথে সাথে

বাসন মাজে উঠে পরে।

তার ছোটো ছোটো ভাই -বোন আছে

সে বেলা অব্দি ঘুমোবে কী করে?

তার অভাগিনী মা যে খাবার সন্ধানে 

ভোর রাতে উঠে গেছে কাজের ঘরে।

যাদের শিশুকাল কাটছে রাস্তার মোড়ে

নানারঙা বেলুন বিক্রি করে,

স্বাধীনতার পতাকার রঙের মর্ম 

সেই শিশুগুলি বুঝবে কী করে?


স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে

ফুটপাতের ওই অলি-গলিতে,

যেথা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার

 সংঘর্ষ চলে দিনে রাতে।

যারা বোঝেনা A,B,C,D

যারা বোঝেনা অ, আ,

তারা কী বুঝবে স্বাধীনতার সংজ্ঞা!


স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে

রামপ্রসাদের চায়ের দোকানে,

যেথা ছোট্ট পল্টু রোজ সকালে

মাটির ভাঁড়ে চা আনে।

যে ছেলেটি দিনে রাতে পেট ভরাতে

খেটে ফেরে দোকান দোকান,

সেই ছেলেটি কী আর বুঝবে কভু

সুভাষ বোসের 'দিল্লী চলো' শ্লোগান!


স্বাধীনতা তুমি ঘুরে এসো একবার

ভুল করে কিছু রাস্তা ভুলে,

যেথা ছোটো ছোটো চম্পারা ফুল বেচে

রোজ সকালে মন্দিরের চাতালে।


যাদের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে 

শিশু বয়সে বড়ো হতে হয়,

না , না তারা বোঝেনা

তারা বোঝেনা স্বাধীনতা কাকে কয়!


স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে

শুধু একটি বার দাও পাড়ি,

শত শত অসহায় শিশুদের বাড়ি বাড়ি

তাদেরও চড়াও গিয়ে স্বাধীনতার গাড়ি।

Aug 9, 2021

গোপাল চক্রবর্তী

আগস্ট

ঋতু এঁকে যায় মুখে অঞ্জন ছায়া

রোদে পুড়ে ঊনিশের দিন,

এভাবে ও বাঁচা যায়, এভাবেও বাড়ে

পরিযায়ী পাখিরা চিরকাল স্বাধীন!

 

অনন্ত উড়ান ডুবেছে নেপথ্যে

ডানা কাটা পাখি উড়িবারে চায়

ডুবে ডুবে জল খাও স্বাধীন প্রজাতি

ঈশান কোনে বিরহিনী গান গায়।

 

নিরুপায় পথ ভাদ্রের তাপে

ছুঁতে চায় লুইতের পানি।

আগস্টের নীড় হারা পাখি

তোমার বরাক এখনও জাগেনি!

 

প্রতি আগস্টে মনে পড়ে প্রিয়।

মূলে মূলে কেঁদে ওঠে শিহরণ

উপেক্ষা আসে তুমি আসো না

তুমি অন্য কারো নিকট প্রিয়জন!

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

তেরঙ্গার বেদীমূলে

হাজার বছর ধরে হিন্দুকুশে ভাসা লাশের দুর্গন্ধের মতো দুর্গন্ধ

তেরঙ্গার বেদীমূলে জমাট-

আজ'ও কলকাতা নোয়াখালির অলিগলি

পথের ধূলো ভোরের আলো রাতের কালো

ধুয়ে উঠতে পারেনি সেই দুর্গন্ধ,


মায়ের বুকের আঁচল সরাতে

মায়ের দুটো ডানা কেটে নিতে

আরব থেকে কোন দস্যু আসেনি

ঘরে পোষা মীরজাফরের বংশধররাই ছিল,

কাঁটাতারের বাঁধনে বাঁধা স্বাধীনতা

তার ভিতরে ক্ষয়রোগের বীজাণু, উইপোকা,

এই দুর্গন্ধে জমাট অস্বস্তি

আগামী মড়কের ভয় দেখায়-


এই দুর্গন্ধের গভীরে যারা কুম্ভনিদ্রা দেয়

শান্তির নামে ভ্রান্তির লোভ দেখায়

মড়ক তাদের বুকেই নাচবে অচিরে,

মড়ক একজনের ঘাড়ে চাপে না

তখন'ই গোপাল পাঠা'রা বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়।


তেরঙ্গার মাথায় আগুন বরণ বাঁধা

সে আগুন বুকে নিয়ে জাগো

যজ্ঞের ভারতের উজ্জ্বলতা পুনর্জাগরণে।

যতই হোক জমাট বাঁধা দুর্গন্ধ বেদীমূলে

উত্তরে তেরঙ্গার উজ্জ্বলতায়

সাহস ও স্বপ্ন পাই।

পিঙ্কু চন্দ

দেশ  মানে

দেশ মানে রাজা রামমোহন

সতীদাহ নিবারণ

দেশ মানে বিদ্যাসাগর

বিধবা বিবাহ প্রচলন।


দেশ মানে এক অফুরন্ত

রবীন্দ্র রচনাবলী

দেশ মানে বিভূতিভূষণের

পথের পাঁচালী।


দেশ মানে সিরাজউদ্দৌলা

পলাশীর কানন

দেশ মানে দীনবন্ধু মিত্রের

নাটক নীলদর্পণ।


দেশ মানে শহীদের রক্ত রাঙ্গা

স্বাধীনতার সূর্য

দেশ মানে একতার মন্ত্র গাঁথা

আমার ভারত বর্ষ।

Aug 7, 2021

রুপালী রায়

স্বাধীনতার টানে 

স্বাধীন হয়েও হলাম না ভাই

হলাম শুধুই নামে।

বুঝলে মশাই-

স্বাধীনতাটা ভীষণ দামী,

বিক্রি  হয় চড়া দামে।

ছয় বছরের আসরফ আলী,

বই ছেড়েছে  সেই কবে 

বাবার সাথে কয়লা কুড়োয়,

তার বইয়েতে স্বাধীনতার,,,

দাঁড়ায় কিরূপ মানে?

স্বাধীনতা দিবস ঠিক কোন তারিখে 

আদৌ কি তারা  জানে?


সেই মেয়েটার  বয়স কত 

দশ কিংবা বারো হবে,

জন্ম যাদের-

ফুটপাথ কিংবা নর্দমার পাশে,

সে তো আজও জানেও না

স্বাধীনতা দিবস ঠিক কবে?

তাদের বইয়ে স্বাধীনতার,

সংজ্ঞাটা ঠিক কিরূপ হবে?


যে ছেলেটার বস্তা কাঁধে,

খালি পায়ে-মাঠে-ঘাটে,

স্কুলে যাওয়ার বয়স যখন 

খিদের জ্বালায় বেজায় ছুঁটে।

তারা তো জানেও না 

স্বাধীনতার ফুল কি আদৌ কখনো ফোটে।

অঞ্জনা বসু

স্বদেশ 

সুপ্রভাত জন্মভূমি , কেমন আছো তুমি ?

সুজলা-সুফলা শস্যশ্যামল,ষড়্ ঋতুর বৈচিত্র্যে ভরা রূপসী বাংলাদেশ, আমার জন্মভূমি ৷

সূর্যোদয়ের ঝলমলে আলো মনে এনে দিত প্রশান্তি, গ্রীষ্মের দাবদাহে শীতলপাটি, নিঝুম রাতে ঘুমপাড়ানীয়া গান, শীতের নক্সী কাঁথার সুখ, কতকাল দেখিনি তোমার মুখ ৷

কেমন আছো সদরঘাট,বুড়িগঙ্গা,

ঢাকার রাজপথ ?

যেখানে ছুঁয়ে আছে আমার শৈশব৷

শুনেছি তুমি পাল্টে গেছো,তোমার 

স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, তোমার চলনে-বলনে পাশ্চাত্যের ঢঙ, সংস্কৃতিতে ও পৌঁছে গেছো বিশ্বের 

দরবারে, তোমায় অভিবাদন ৷


নিশ্চয় ভুলেছো আমায় ? ভুলিনি তোমাকে, তোমার কোলে জন্মেছিলাম,পেড়িয়েছি জীবনের প্রথম ধাপ, খেলার সাথীরা আজো মননে, তোমাকে ভুলি কেমনে !

একাত্তরের নিদারুণ দিন এখনো বুকে কাঁপন ধরায়, নিঃস্ব-রিক্ত হয়ে একদিন তোমার কাছে নিলাম বিদায় ৷

মাতৃভূমি , তুমি যে মাতৃসম ,অন্তর কাঁদে তোমার দুঃখে, আনন্দে থাকি তুমি থাকলে সুখে , বড়ো সাধ জাগে তোমার কাছে আবার ফিরি, তোমার ছায়ায়, তোমার মায়ায় নতুন ক'রে জীবন গড়ি ৷৷

Aug 6, 2021

নীতা কবি মুখার্জী

মানুষের জন‍্যই ধর্ম

ধর্মের নামে কাটাছেঁড়া করিস, করিস রে হানাহানি

সবার উপরে মানুষ সত‍্য এই কথাটাই মানি

মান, হুঁশ নিয়ে জন্ম নিলাম মাটির ধরনী মাঝে

ভাইয়ের রক্তে বিজয়ী হওয়ার উন্মাদনা কি সাজে?


জগৎ জুড়ে একটাই জাতি, শ্রেষ্ঠ মানুষ জাতি

মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে হিংসার খেলায় মাতি

হিন্দু ,মুসলিম, শিখ, ইশাহী, ব্রাম্ভণ, বৌদ্ধ

ভারতমায়ের সন্তান তারা, কেউ নয় বধ‍্য।


"ঈশ্বর একম্ এব অদ্বিতীয়ম" এই কথাটাই সার

তবে কেন সব ধর্মকে নিয়ে করে শুধু মার মার?

রামকৃষ্ণ মন্ত্র দিলেন সব এক জাত মানি

যত মত তত পথ আছে, তাই কোরোনাকো হানাহানি।


ভারতের এই সনাতন ধর্ম প্রাচীন, মহান, মহৎ

বিবেকানন্দ দেখালেন,তাই দেখলো বিশ্বজগৎ

হজরৎ বলো, গুরু বলো, বুদ্ধ-তথাগত

অহিংসার পথ দেখালেন তাঁরা, একই ধর্মমত।


একই রূপের দুই নাম হলো আল্লাহ্ ও ঈশ্বর

মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, মানুষই সর্বেশ্বর

মহান সম্রাট আকবর দিলেন নতুন ধর্মমত

দীন-ইলাহীকে কুর্ণিশ করি, পাই জীবনের পথ।

সব ধর্মের এক সার শোনো,শোনো রে মানুষ ভাই

ধর্মকে ধরে রাখতে হলে আগে তো মানুষ চায়।

পলাশ পাল

ঘর দখল

সময়ের স্রোতে ভেসে চলেছে মুহূর্ত...
আমার গভীরে আজগুবি প্রেম
আজ বিভেদের দেওয়াল ভেঙেছে।
তবুও সমাজ বলে আমায়
আমি নাকি এক বন্য পাগল
চেতনা দিয়ে দেওয়াল গড়েছি বলে।
একটু এগোলেই আমার স্বপ্নের ক্ষুদিরাম
বিদায়ের কথা বলে।
আকাশের জীবনে সন্ধ্যা নামলেই
সহসা ঝরে পড়ে নির্দোষ চোখগুলো দিয়ে।
উন্মাদের মত খুঁজে বেড়াই শত শত সুভাষ...
বয়স্ক কাঁটাতারে তর্জনী ছোঁয়ালেই
কোথা থেকে যেন ভেসে আসে বিপ্লবের গর্জন,
আমার বন্য সুখের নির্জনতায়
কফিন ভর্তি স্বদেশীদের যুদ্ধের সূত্র লুকিয়ে...
আর আমার মানচিত্রে ইতিহাস গড়তে
ঘর দখল করেছে আগামীর সুভাষ।

প্রিয়াঙ্কা সেন

আকাঙ্ক্ষা  

একবিংশের লুকিয়ে বেড়াজালে আবদ্ধ আজ স্বাধীনতা । একবিংশের পায়ে গুপ্ত লোহার শিকর।

ভবঘরে  ঘনঅন্ধকারে মুক্তি নেশায় কেটে গেছিল হাজারো গ্রীষ্মকাল

হাতে গনার পাথরের টুকরোটা ও আঁকতে আঁকতে ক্ষয়ের আকৃতি। 

চোখের পাতায়  এক চিলতে সাদা চুল 

মনে ছিল দৃঢ় বিশ্বাস হবে একদিন নেশার মুক্তি। 

পেতে ছিল না অন্ন শুধু ছিল বষার এক চিলতে জল। 

 লড়াই ছিল নিজের অস্তিত্ব সাথে  লোহার শিকর খুলে আন্তর্জাতিক স্তরে নাম   নথিভুক্তের মুক্তি নেশা।              ভোরের পাখির সারি সারি গান জীন শরীর  ছিল সতেজ।

হঠাৎ এক ছিদ্রের চকচকে আলো  তার মুখমণ্ডলের ফুটে উঠেছিল মুক্তি আহবান। হাজারো উৎঠান পতন মনে নেশায় মাঝে বথ্যাতা।

দিলীপ দাশ

স্বাধীনতার অন্য ভারত

এক ভারতের আকাশ জুড়ে সোনালি রোদ্দুর

অন্য ভারত অন্ধকারে স্বপ্ন বহু দূর।

এক ভারতে চেয়ে দেখি প্রাচুর্য সম্ভার

দরিদ্রতায় অন্য ভারত  বিচিত্র সংসার।


এক ভারতে গগনচুম্বি অট্টালিকার সারি

লনের মাঝে সাজিয়ে রাখা রকমারী গাড়ি।

অন্য ভারত ঠিকানা যার আস্তানা ফুটপাত

আকাশ গায়ে দিয়ে যারা কাটায় শীতের রাত।


এক ভারতে চিত্ত সুখে মন মাতানো হাসি

অন্য ভারত দেখে চাষির গলে দড়ির ফাঁসি।

এক ভারতে লাঞ্চ ডিনারে মটনকারি ভাত

বাতানুকুল  ঘরে  যাদের  সুখের  নিদ্রাপাত।


অন্য ভারত দিনের শেষে পান্থা ভাতেই খুশি

অভিশপ্ত জীবন যাপন  কপাল টা যে দোষী।

দেখতে  চাক চিক্য  ভারত  তর্ক  বহু দূর

অন্য ভারত দেখেনি  তো সোনালি রোদ্দুর।

Aug 5, 2021

পূনম দাস

হে বীর সেনা

 হে তুমি বীর,তুমি দেশরক্ষাকর্তা

দিয়েছো প্রান, ঝড়িয়েছো রক্ত,

 যুগ যুগ তুমি বেঁচে থাকো হয়ে জীবন্ত।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ দাঙ্গায় তোমাদের ভূমিকা অফুরন্ত।

নিজ মাকে ছেড়ে করছো দেশ মাকে রক্ষা 

সকল বীর  ভারতমাতার নিয়েছে এ দীক্ষা। 

দেশমাতাকে কেউ করলে কোনো অপবাদ

অস্ত্র নিয়ে জাগো সবে করো প্রতিবাদ।

শান্তিতে নিদ্রায় মোরা  এদের কৃতিত্ব সর্ব

বীরসেনাদের পেয়ে ভারতবাসী আজ গর্ব।

বাংলা মায়ের কোলের বীর প্রান করেনা ভয়

 অমর থাকবে সর্বক্ষণ করবে জয় জয়।

তোমরা দেশের প্রান, তোমরা দেশের মান

 তোমাদের জানাই শতকোটি প্রণাম।

পায়েল দে

জননী তোমারে প্রণাম 

হে ভারতমাতা তুমি সত্যিই ভাগ্যবতী.....

কেনো জানো   তুমি যে তোমার  সন্তানদের বীর বানিয়েছো 

হে তোমার সন্তান 

আজ যদি তুমি তাদের কে বীরযোদ্ধা না বানাতে তাহলে ভারতবর্ষ আজও....পরাধীনতা থেকে মুক্তি  পেত না


তোমার  সন্তান রা কেও করেছে আন্দোলন আবার কেও করেছে যুদ্ধ 

কেউ আবার নিজের লেখার মাধ্যমে বিদ্রোহ করেছে

সেই কুটিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে


আবার কেউ ভারতের মহিমা কে প্রচার করেছে ভিনদেশে

স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ক্ষুদিরাম, মঙ্গল পান্ডে, কনক লতা বড়ুয়া 

এই তো তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাদের জন্য আজ আমরা মুক্ত আমরা স্বাধীন 

কিন্ত আমাদের স্বাধীনতা দিতে গিয়ে  ওরা পেলো না মুক্তির আনন্দ তবুও ওরা প্রাণপণে লড়াই করেছে এই ভারত এই ভারতবাসীর জন্য

তুমি মহিষী মা  তুমি ওদের কে যেমন জন্ম দিয়েছো তেমন আমৃত্যু তুমি নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিয়েছো

তোমায় প্রণাম

হে জননী তোমায় প্রণাম।

Aug 4, 2021

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

স্বাধীনতা তুমি

নীল দিগন্তে মুক্ত দুখানি

ডানা ছড়িয়ে সুখে,

স্বাধীনতা তুমি ভেসে উঠেছিলে

ভারতবর্ষের বুকে।


গেরুয়া, সাদা ফুলের বাহারে

সাজানো বিজয়রথে,

মহা কলরবে রেখেছিলে পা

শস্য শ্যামলা পথে।


দিনগুলো আমি চোখে দেখিনি

শুনেছি কেবলই কথা।

লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীর

সোনালী বিজয় গাথা।।


স্বাধীনতা তুমি থেকো চিরকাল

অক্ষয়, অম্লান।

ভারতবাসী গেয়ে যাবে সদা

এই মুক্তির জয়গান।।

গোপী নাথ ঘোষ

কাশ্মীর, পাহাড় চুমে পেখম মেলে

আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম প্রজাপতির কাছে,

তাই উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে 

ফিরি বারবার তোমার কাছে। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম সূর্যোদয়ের বহু পুর্বে

অগণিত তারকাদের কাছে।

তাই সুর্য উঠে আড়াল হয়েও

হারিয়ে যাই না চিরতরে। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম আপন মনে

সিন্ধু নদের তুমুল বেগে,

জমে জমে হিম হয়েও 

ধেয়ে চলি তোমার কাছে।


অবাধ্য নদের পাথর খাঁজে

ভাঁজে ভাঁজে স্রোতের তালে 

ব্যাথা পেয়েও অসীম তালে

ভালবাসার নিবিড় তাণে।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম ডাললেকের জলে,

যেথায় উদাস করা ভোর 

পেখম মেলে পাহাড় চুমে।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম গুলমার্গের

গোলাপ বনে,

যেথায় যত্ন ছাড়াই গোলাপ ফোটে

মুগ্ধ ভোরে শীতল কোণে,

অযত্নই যার যত্ন রত্ন আঁধার। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম পেহেলগামের

রত্নে খচিত বাইসরনের দূর্বাঘাসে,

যেথায় অসীম নীলিমা পাহাড় চুমে

ঘুম ভাংগায় কোকিলের শিস।

বাতাসের তীব্র বহনে ঘোড়ার চি হি চি হি ডাক 

হাক দিয়ে যায়

অদ্ভুত ছন্দে 

নতুন বাঁচার গন্ধে

বন্দে তোমার সুর।


আমি সেথা হতেই এসেছিলাম

সেচেছিলাম সুর

বেঁচে আছি সেই সুরেতেই

বেচে সব দুখ।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম ঘুমরির হুমড়িতে

হোয়াইট ডেভিলসের পথে,

যেথায় ধুলি উড়ে তোমার নামে

আধার করে সব।


ছুটে চলে তীব্রভাবে অসীম রেখার আলোক স্রোতে

জজিলা মজিলার আঁধার ভেদে

উদ্ভাসিত রথ।


বলো এবার ছোট্ট করে

মিষ্টি হেসে দুষ্টু করে,

"বাসি কী ভালো

আপন আলোয়

তোমার দেখানো পথ?"

এভাবেই যেন শেষ হয় 

আমার বিজয় রথ।

Aug 3, 2021

শান্তনু গুড়িয়া

শুনুন ধর্মাবতার

দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার একথা বলেছিলেন শেষমেষ --
"সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!"
বিশ্বমাঝে ভারতবর্ষ  বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ
বহু ভাষাভাষী ভারতবাসীর গর্বের নাই শেষ ।
রবিকবি থেকে রবিশংকর এবং বিবেকানন্দ স্বামী,
এমনই অনেক ভারতীয় জগৎসভায় হয়েছেন নামী|
সার্বভৌম স্বাধীন ভারতে তবু অসহিষ্ণুতা বাড়ছে
মন্দির-মসজিদ হানাহানিতে কত শত প্রাণ কাড়ছে 
গীতাঞ্জলির দেশে, এই কথামৃতের দেশে
ভণ্ডরা সব ঘুরে বেড়ায় সাধুপুরুষের বেশে|
'মেরা ভারত মহান!' ধর্ষক খুনী মাফিয়ারা বলে,
ক্ষীরভোজী যত অলিতে-গলিতে ক্ষীর-সর্দারের কথায় চলে !
স্বাধীনতার স্বাদহীনতায় বীতশ্রদ্ধ আসমুদ্র হিমাচল
গডউইন অস্টিন সাক্ষী, কাকে কাঠগড়ায় তুলি বল ?

অদিতি তুলি

একুশ

▪️

গত হয়েছে এক রক্তিম শতাব্দী

দুর্ভাগ্য সেই রক্তিম দিনের সাক্ষী ছিলাম না

অনুসন্ধিৎসু মন,  ইতিহাসের পাতা উল্টে গেছি অবিরাম

৫২'র তাগড়া যুবক অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা

শরীরে উষ্ণ রক্ত অমিত শক্তি

এই শতকে এসে অবলম্বন যার একটা লাঠি

মস্তিষ্কের বিশাল একটা অংশ জুড়ে বিচ্ছিন্ন স্মৃতি

▪️

নিষ্প্রান চোখের গভীরতা আর দূরত্ব মেপে

কপালের সংকুচিত বলিরেখার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে

শুনেছি এক উষ্ণ তাজা রক্তের গল্প

যে গল্পে আনন্দোৎসব নেই,  আছে শোকের মাতম

মর্মান্তিক এক রক্তাক্ত দিনের স্মারক

দীর্ঘকাল আন্দোলনের রক্তপাতের নিরস্ত্র সংগ্রামের

বঞ্চনার নির্যাতনের অধিকার হননের ইতিহাস।

▪️

মাতা,  মাতৃভূমি,  মাতৃভাষা এই তিন

বড় পবিত্র,  পরম শ্রদ্ধার বস্তু

মাইকেলও হয়ত অনুধাবন করতে পেরেছিলেন

দ্যা ক্যাপটিভ লেডির ব্যর্থতার দিনে

আটই ফাল্গুনের প্রতিটি সকাল

ভারাক্রান্ত হৃদয়ের ব্যাকুল আবেগ

কি জলন্ত কি বিষন্ন নাম!

বরকত সালাম রফিক জব্বার

আহা! কতমায়ের ছেলে হারানো মর্মান্তিক বেদনায় দীর্ণ বুক।

▪️

'একুশ' এ একটি জাগ্রত চেতনা প্রদীপ্ত ইতিহাস

অতৃপ্তির হা-হুতাশ নিয়ে ভাষার দাবীতে অবহেলে হারা প্রান।

ফাল্গুনের প্রতিটি সকাল ঝরে পড়ে শিশির শহীদের অশ্রু হয়ে স্মৃতির মিনারে_

একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া হাতে প্রতীক্ষায় থাকি আরেকটি ফাল্গুনের।

Aug 2, 2021

গোপাল বনিক

বীর শহীদ

আকাশ বাতাস জুড়ে এখন শুধুই উৎসবের আবির।

চরিদিকে সুসজ্জিত তিনটি রঙের সামিয়ানা,

সূর্যের রক্তিম আলোয় সূর্যমুখী আজ ভালোবাসার রঙে দীপ্ত।

সভ্য নাগরিক ফিরে পায় আপন অধিকার ।

সময়ের নদীতে বয়ে যায় কত শহীদের রক্ত স্রোত ।

শতাব্দীর জনরোলে নন্দিত হয় বীর শহীদের আত্মা,

বেজে উঠে নম্র শপথ, তোমাদের রক্তঋণ ভুলার নয় ।

আমাদের প্রতিটি রোমকূপে ভালোবাসার পরশ

সূর্যস্নাত ভোরের পুন্য আলোয় বেঁচে থাকুক শহীদরা!!..

হর্ষময় মণ্ডল

ফিরে এসো

কাল থেকে কালান্তরে মানুষ চলেছে

ক্রমান্বয়ে বংশ পরম্পরায়

কেউ ধরেছে হাল, কেউ বুনেছে বীজ

ছন্দ পতন সেখানেই

সেই ফসল গ্রাস করে অন্য কেউ

 নিরন্ন মানুষ নিরন্নই থাকে।

নতশিরে যে অন্ন তুলে দেয়

অর্থবানদের হাতে,অনর্থ বাধায় তারা 

সেই অন্ন ভিক্ষা দেয় তাদের 

ভিক্ষার দানে বেঁচে থাকে তারা।

এটাই স্বাধীনতা!

এর জন্য রক্ত দিতে হয়েছিল!

 অনশন,ডান্ডি অভিযান,সত্যাগ্রহ,

 এই সততা রক্ষা করার জন্য!

 হায় ভারত ! হায় অসহায় মানুষ!

 #

কেড়ে নাও তাদের 

যাদের গরীবের রক্তে গড়া উঠেছে সম্পদের ভাণ্ডার 

ফিরিয়ে দাও মেহনতী মানুষের মর্যাদা

আমরা আবার রক্ত দেব 

ফিরে এসো নেতাজী,গান্ধিজী।

সুজান মিঠি

স্বাধীনতার ইচ্ছে!

স্বাধীনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো মাইক্রোফোন

বলা হলো, 

...বড় হয়েছো যথেষ্ট, এবার বলো তো

জন্মের পর থেকে তুমি কেমন কাটালে এ দেশে?

বলা হলো, 

...ঠিকঠাক বলতে পারলে বিরাট পতাকায়

মুড়ে ফেলা হবে তোমায়।

কুচকাওয়াজ করতে করতে তোমায় এগিয়ে নিয়ে

যাওয়া হবে মানচিত্রের ছায়ায়।


স্বাধীনতা মাইক্রোফোন হাতে খানিক চুপ রইল।

তারপর বললো, 

আমার মৃত্যুর পরে আবার যদি ফিরে আসে 

শৃঙ্খলিত মনুষ্যত্ব,

তবে আমার মৃত্যু ভালো।


মুহূর্তে স্তব্ধ চারিদিক। এ কী বললো স্বাধীনতা!

তাকে এমন সম্মান জানিয়ে মঞ্চে তোলা হলো

অথচ সে খুলে বলে দিলো তার দগদগে ঘা!

সমবেত অনুষ্ঠানের আয়োজকগণ স্থির করলেন

ওর শাস্তি চাই। 


অন্ধকার গুহায় স্বাধীনতার বুকের উপর চেপে বসলো

একজন। 

অন্যজন পা টিপে হাত টিপে থাকলো।

ছুরি দিয়ে ফালাফালা করতে লাগলো আর একজন।


ছুটতে ছুটতে কতকগুলো আলো এগিয়ে আসতে লাগলো।

কান্না আর উৎকণ্ঠার আওয়াজ এগিয়ে আসতে লাগলো।

তাড়াতাড়ি চলো। স্বাধীনতা নইলে মরে যাবে!


পালিয়ে গেল অত্যাচারীরা। 

আলোগুলো এসে জড়িয়ে ধরলো স্বাধীনতা।

ফালাফালা শরীরটাকে তুলে ধরলো আকাশের দিকে

বললো, বন্দেমাতরম!

বললো, এখনো প্রাণ আছে!

স্বাধীনতার প্রাণ আছে!


স্বাধীনতার রক্তাক্ত শরীরটা পতাকায় উড়তে লাগলো

পতপত করে।

মাইকে বাজলো গান। দেশপ্রেমের গান।

কেউ তার ক্ষত দেখতে পেলো না।


কেবল মানচিত্র আঁকা বইয়ের গণতন্ত্রের অধ্যায়ে

কালশিটে বেড়ে চললো সবার অগোচরে!


বাতাসের কানে কানে স্বাধীনতা তার পতাকার

পোশাক থেকে মুখ বাড়িয়ে বললো,

আমার মৃত্যুর পর যদি মানুষের এই কর্কট সারে...

তবে আমার মৃত্যু ভালো!

তবে আমার মৃত্যু ভালো!

মায়া রানী মজুমদার

 বীর শহীদ  

ভারত মাতাকে জানাই শত সহস্র প্রণতি, 

স্বাধীন মোরা অদ্য, পূর্ণ করেছো মিনতি।

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দিলাম পুষ্পার্ঘ্য

বীর শহীদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য।

ব্রিটিশদের লেলিহান আক্রোশ,অসম্মান। 

পরাধীনতার গ্লানিতে যবে বিধ্বস্ত সম্মান।।

বহু মা হারিয়েছেন আদরের বুকের সন্তান। 

অত্যাচারে হারিয়েছে নারীরা আত্মসম্মান।। 

বোনেরা হারিয়েছেন আদরের প্রিয় ভাই, 

দেখলো যখন হাতে কোন স্বাধীনতা নাই। 

ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মোদেরই বীর সন্তান, 

ঝাঁপিয়ে পড়ে কেড়ে আনে স্বাধীনতার মান।

বহু ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গালো মোদের মাতৃভূমি, 

দেশমাতৃকার বীর সন্তানদের কাছে মোরা ঋণী।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হারালো সহস্র প্রাণ, 

মাতৃভূমির সম্মান রক্ষার্থে করছিলো প্রাণ দান।

বুক পেতে নিয়েছিলো তাজা বুলেটের গুলি, 

তবুও "স্বাধীনতা চাই", বলেছিল ভাইয়েরা মুখ খুলি।

আনলো যাঁরা স্বাধীনতা, নিজ প্রাণ ভয় তুচ্ছ করে। 

বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই ভক্তি ভরে।।

অশোক মণ্ডল

 স্বাধীনতা 

ছোট্ট ছেলেটা ছুটছে ছেঁড়া প্যান্টটা হাতে ধরে 

পাছে ডাবি মারা প্যান্টটা যায় নিচে খুলে পড়ে

আনন্দ আজ মনে ডান হাতে তেরঙ্গা পতাকা

খালি গায়ে পাঁজর যেন কঙ্কাল ছবি আঁকা।

আজ নাকি স্বাধীনতায় ভরপুর স্বাধীন দিন

দারিদ্র্যতার শিকলে নিষ্পাপ শিশু আনন্দ অনাবিল।

অভাব যেন উঁকি মারে হাজারোর চোখে মুখে

হাতে পতাকা হয়তো এরা একদিন দেবে রুখে।

এ পতাকার পতপত শব্দে দূর হোক সব অভাব 

বিবর্ণ মুখে ফুটুক হাসি আনুক স্বাধীনতার স্বাদ।

মনচলি চক্রবর্তী

মাতৃভূমি

হে মোর মাতৃভূমি

হৃদয়ের ছন্দ তুমি

প্রনমি তোমায় জননী

শস্যশ্যামলা এই ধরনী

মোর গর্ব, মোর প্রানের ঝংকার

মাতৃভূমি তুমি মোর অহংকার

জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও প্রিয়

তব সুখ সমৃদ্ধি মোদের শ্রেয়।

দেশমাতৃকা তোমার চরনে সঁপিনু দেহমন

মোর মাতৃভূমি তোমায় করি সতত পূজন।