Jun 29, 2023

নির্মলেন্দু গুণ

১.মা

তোমাকে আমি মান্য করি 
দুধের জন্য।
তোমাকে আমি মান্য করি
তোমার দুটি নরমকোমল 
স্তনের জন্য

তোমার স্তনের দুধ 
শুকিয়ে যাবে যেই--,
দেখবে আমি 
তোমার পাশে নেই। 

২.তুমি যখন সম্মত হও

তুমি যখন সম্মত হও- 
খুব আনন্দ লাগে!
অন্ধকারের ওপার থেকে 
সূর্য যেন জাগে।

তুমি যখন সম্মত হও-,
ভয়ে আমি কাঁপি।
আমার ওজনযন্ত্র দিয়ে
তোমার ওজন মাপি।

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

১. সেলফি

ভালবাসবে বলে তুমি আমাকে দাঁড়িয়ে রেখে
দূরে কোথায় চলে গেছো বৃষ্টি মাথায়–
দাঁড়াতে দাঁড়াতে হাঁপিয়ে উঠে এদিক ওদিক দেখে,
তোমাকে আমিখুঁজতে বেরিয়েছি হেথায় হোথায় ।

হঠাৎ দেখি ঝোপের পাশে তোমার ছায়াটারে,
সেলফি তুলছে আপন মনে গাছকে জড়িয়ে ধরে ।

২. উল্টোরথ

আমাকে কাঁদতে বলোনা চোখে অশ্রু নেই,
হাজার মানুষ অসহায় দেখে গেছে শুধু,
আনন্দের হাট, রাজপথে হঠাৎ চিতা জ্বলছেই,
শিশু গেল, তরুণ গেল, গেল শহর সরল গৃহবধূ।

এমন দহন আমি আর কস্মিনকালে দেখিনি 
কোথায় রথ, কোথায় কলা, পাতার বাঁশির ধুন,
রশি শুধু একাকী গড়ায় স্তব্ধ বিকিকিনি,
অসহায়ের আর্তনাদে আকাশ বাতাস করুণ ।

অপাংশু দেবনাথ

১. ঐশ্বর্য


নিষেধের কত বাঁশ পুঁতে আটকাবে হৃদয়ের মাটি!
চারিদিকে জল আর পানি ঢেউয়ে ভাঙে অরূপ 

হৃদয় তো বিরাগ-বিহঙ্গ ডানা মেলে মেঘের ওপার,
যেখানে ভালোবাসা আর জীবনের যতো মণিহার। 

২. খনন

মোহ হারিয়ে গেলে জেনেছি মরে যায় পূর্ণমায়া,
মায়াহীন আবেশে দেখেছি হৃদয়ের শূন্যছায়া।
ছায়ার ভেতর মরে যায় মানুষের স্বপ্নমন,
অতপর বেঁচে থাকা শুধু নিজেকেই তো খনন!

তৈমুর খান

১. সুপ্রভাত

 দু-একটি সুপ্রভাত কখনো কখনো আসে
 বাগানে সেদিন সব রঙিন পাখি ডাকে
 ডালে ডালে কুসুমের কানাকানি
 সূর্যের হাসিতে আমরা বুঝে নিই তাকে।

২ . স্বীকার 

নিভৃতে বসন্ত আসে আমার উঠোনে 
মিলনের ভাষা পায় আবেগের পাখি 

সে উষ্ণতা ছুঁয়ে আজ 
আমিও নতুন বাল্মীকি !

সন্তোষ রায়

১. কৃষ্ণ

কৃষ্ণ নামের কেউ এসেছিলেন ঘরে। আমার ঘরের রাধা রান্না ফেলে চলে যায় গাছের তলে।

উনুনের ধোঁয়ায় ঘরে জমে মেঘ, প্রেসার কুকারের বাঁশি বাজে। বৃষ্টি এলে আমি ও ময়ূরী নাচি মেঘের ডাকে

২.ঘুম

একটি রাত জেগে আছে শুধু, আর সব ঘুমে
ঘুমিয়ে পড়েছে উপোসী চৌকিদার
চোরও ঘুমিয়েছে ভুলে।

চন্দন পাল

 কাঠকস্তুর (৩)

 রোগ

আদিত্য প্রতিহিংসারহিত ঈশ্বর, পুড়ে পুড়ে শেখায় প্রেম।  আত্মখনন হয়নি যার, তারে প্রেম? প্রশ্রয়!। অধুনা  মোমজীবন কথা, বিবর্তীয় নাট্যাংশের স্তাবক রোগ। জন্মাবধি বিবর্তনহীন সবিতা, ছড়ায়নি বিজ্ঞাপণ রোগ। 

রক্তে অনাস্থা কণিকা

অনুপ্রবেশ আর দুর্ভিক্ষ জীবন যাঁরা বেয়ে আসে, তুমি সে জীবন দেখনি। মন্বন্তরের ঘা শুকোতে না শুকোতে আবার  গ্রামছাড়া ঘা!। শতবর্ষ ধরে ঘাএ ঘাএ, রক্তে মিশেছে অবিশ্বাস। কালান্তর শাসক তুমিই সাপ,তুমিই ওঝা বিরাট ।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

১.বন্ধ্যা দিন 

চোখ থেকে কিছুটা দৃষ্টি খুলে মাটিতে পড়লো,
কথা ছিল কিছু কিছু দৃষ্টি গজাবে
তা হলো না, 
কারণ মাটিরা তখন রক্তাক্ত আর দৃষ্টিরা বীর্যহীন!

২. ব্যবধান খর্ব হয়ে আসে 

বিদ্বেষের পায়ের থেকে মুজো খুলে গেলে
পাহাড়ের উচ্চতারা খর্ব হয়ে আসে।
তখনই মানুষেরা পেরিয়ে যা‌য় স্ত্রোত্রপাঠ নদী, 
আজানের আকাশ থেকে নেমে আসে ইন্দ্রের বাতাস!

রুদ্র মোস্তাফা

প্রতিবেশী  

১.

নীলতরঙ্গে কত কথা ওড়ে যায় আঙুলের ক্লান্তি ভুলে
রংবেরঙের রাতগুলো ঝরে পড়ে প্রতি ভোরে 
একাকী দুজন বেলকনির রোদ ধরছি ছায়ার আঁচলে
তবু আটকে থাকে বর্ণমালা চোখের কার্নিশ ধরে। 

২.

দুই বারান্দার মাঝে শুয়ে আছে দীঘল শূন্যতা
কথা বলা মানা তাই বারান্দায় বুনেছি গোলাপ
আমরা বোবা প্রতিবেশী পেয়েছি সৌরভের পূর্ণতা
সুবাসে সুবাসে ঠিক জমেছে আমাদের আলাপ।

উমাশংকর রায়

১. ধূসর কৌলিন‍্য

বৃষ্টি চাই বৃষ্টি চাই বলে - চলে গেল সবে।
অপেক্ষার বৃষ্টি এল, সব ধুইয়ে চলেও গেল।
শুধু ধূসর কৌলিন‍্যের নিয়ম ভিজেনি, তালে তালে
উড়ছে ধুলো ভিতর-ঘরে, সংসার তার অটুট।

২. কাঁটা

গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে অন্ধকার
উগরাতে গেলে চাই - অন্তত এক ছটাক আভাস।
আশ্চর্য! রাতজাগা পাখিও বুঝতে পারেনি -
অন্ধকার একমুখো নয়, তার দশানন, দশ মুখ!

সুমন পাটারী

১.

সলতে পুড়ছে
কেরোসিন পুড়ছে

আলো,
আরো আলো

তারপর অন্ধকার
এবং অস্তিত্বের সংকট।

২.

কোনো পুরানো আধমরা গাছ দেখলে
আমার বাবার কথা মনে পরে
মা তাঁর এক একটি ডাল ভেঙে চুলা জ্বালায়
ভাত ফোটায়

নবীনকিশোর রায়

সিঁড়ির নিচে 

১.
এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসে 
গান্ধীজির বুকের ভেতর থেকে 
একটি শব্দ বেরিয়ে এলো
-------"হায় রাম!" 

তার পর থেকে পাথরের 
মূর্তির ভিতর স্থাপত্যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান...
 
২.

সার্ধশত বর্ষে তোমার মূর্তির
পাদদেশে সিঁড়ির নিচে 
বসে  দেখি--
ছেঁড়া মানচিত্রের পাশে পড়ে আছে ইতিহাসের কয়েকটি অধ্যায়। 

অদূরে বানর দলের উলঙ্গ নৃত্য,অলখ্যে  বীর হনুমানের চাপা আর্তনাদ... 

কমল সরকার

১.  ভালোবেসে

এই বিষাদঘন জীবনে 
দুঃখের পরিবর্ত চেয়ে আমি
তোমাকে ভালোবেসে ফেললাম। 

জীবন এখন বিষণ্ণতর 

২. প্রাক্তন

প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে পড়লে 
তাকে বাতিল কবিতার মতো ভাবি —

প্রত্যাখ্যানের পরও 
কেমন একটা মায়া লেগে থাকে!

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

১.একযোগে


নির্মীয়মাণ ধাতববস্তু শুধু প্রস্তুতির আগুনে পুড়ে না
জীবনের সবচেয়ে বেশি ঘা খায়,
যার থেকে ঘা খেয়েছে,ঘা খেতে খেতে তার মতো
কিংবা তার চেয়েও শক্ত হয়ে যায়।
তখন আর ঘা কি লাগে গা'য়?

২.অন্যদৃষ্টি

লোকে বলে বন্যা -ভীষণ প্রলয়ঙ্করী,
আমি তো দেখি পাহাড় হতে নামছে গিরিকন্যা শুভঙ্করী,
তুমি দেবী কামাখ্যা ধন্যা অন্নপূর্ণা মাতা
অশুভ দলনে দেবী চণ্ডী অশুভে ভয় পা।

দেবাশ্রিতা চৌধুরী

১. অন্তরাল

দ্রোহের আকাশে ভোকাট্টা ঘুড়িরা
সন্ধিস্থল, বিপনন,যৌবন বন্ধক রেখে
জারুল গাছের কচি পাতার 
গন্ধে শামুকের মতো অন্তরাল খোঁজে।
       
২. বিসর্জন
        
নিভন্ত চিতার ছাই বিসর্জনের পর
পাতকী নক্ষত্রের টিপটিপ আলো
সমস্ত পাপ আর অনাচারের
গোপনীয়তা লুকিয়ে মুচকি হাসে।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

১.দায়ভার

আধুনিকতার জোয়ার ; 
প্রকৃতিকে পরোয়া না করার দম্ভ, 
সৃষ্টির রথে বেপরোয়া স্ফূরণ
স্রষ্টার মনে অসন্তোষ; বিধ্বস্ত সৃষ্টি
হাহাকারের আগুন; বীভৎসতার কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার আকাশ,শত ভিড়ে  মানুষের অসহায়ত্ব
বড্ড চাক্ষুষ,ঝলসে যাওয়া দেহগুলির ছটফটানি, নির্বাক পৃথিবী। দায়ভার তবে কার?

২.মনোস্বাদ

পাহাড়,নদী কেউ  স্থির,কেউ চঞ্চল
কারো বুকে সবুজের বাণ,পাখ-পাখালির স্নিগ্ধ কলরব,
কারো বুকে উদ্দামতা,সাগরে মিশে যাওয়ার অদমিত
স্পৃহা,গর্ভের নিন্দা। তবুও পাহাড়ই জন্মদেয় নদীর
গর্ভক্ষরণের যন্ত্রণা বাপাশে চেপে রেখে
মুক্ত পৃথিবীতে ঠেলে দেয়  কাম‍নার তৃপ্ততায়।

আব্দুল গফফার

১. ধংসের ইঙ্গিত 

নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো, 
কাঁদছে কলুষিত আকাশ।
চাঁদ তারার মৃদু আলো,
জানান‌ দিচ্ছে ধ্বংসের ইঙ্গিত!

২.স্বপ্নের ঠাসবুনন

হঠাৎ স্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়,
আমার অবচেতন মন -
আঁখি বুজলে গভীর হয়,
স্বপ্নের ঠাসবুনুন।

সন্দীপ সাহু

১. দেও-মনু কথা

দেও আর মনুর বিয়ে ও মিলন-কথা
কে না জানে। বেচারা লেঙ্গাই!
দেও মানুষকে ধারণ করে ঢেউয়ে ঢেউয়ে
চুম্বনে সূর্য জ্বালিয়ে, দেয় মনুকে। মনু লাল হয়!

২. জ্ঞান-বৃক্ষের ফল ও পুরুষ নারী 

পুরুষের দেহ নারীর দেহ, 
আজও আদম ইভের আপেল-দৌড়েই!
জ্ঞান-বৃক্ষের ফল ছড়ানো সর্বত্র।
পুরুষ দেহ নারী দেহ তা শুধু কুড়িয়ে চলে!

শঙ্খ অধিকারী

 ১. প্রেম 

সবকিছু ডুবে যায় জলে 
এমনকি ভালোবাসাও 
শুধু তুমি ডুবলে না এখনও ।

২. নীতিভ্রষ্ট 

চাঁদ হারা রাত 
আর ধুলো ছাড়া পথ 
দুটোই তোমার মতো 
নীতিভ্রষ্ট মনেহয় ।

নন্দিতা দাশ চৌধূরী

১.আলো-আঁধারে


যাবার যে সে যাবেই চলে ফিরবে সে যে ফেরার,
আলো ঝলমল  দিন হোক কিম্বা গভীর আঁধার। 

২.নদী হয়ে যাচ্ছে

যে বইখানি সে লুকিয়ে দিয়েছিল আজ তার কবিতাগুলো জলপ্রপাতের মতো লাফিয়ে পড়ছে আমার জোছনা মাখা রজনীগন্ধা বুকে,আর একটা একটা করে নদী যাচ্ছে।।

পদ্মশ্রী মজুমদার

১. দুটি হাতের মাঝে


ভুবন জুড়ে আসন পেতেছি তোমার। 
নিজেকে কোথায় লুকাই বলো! 

২. বেখেয়ালী বিকেল

তোমার খেয়ালী মন 
কার চোখ আঁকে জানি না,
অন্ধকারে অপলক হয়ে থাকি,
আলোর খবর রাখি না।

সঞ্জয় দত্ত

১. শূন্য ঘর

মানুষ বড়ই কঠিন!
কতোটা পাষান হয়ে মায়ার ঘর বুনছে।
ভালোবাসার নদীতে সেতু বেঁধেছে শূন্য ধোঁয়া দিয়ে!

২. সাক্ষী

প্রত্যেকটা দিন
জীবনের সাথে বেইমানি করে নাম লুকিয়ে ভাগছে।
ইতিহাস সাক্ষী হয়ে 
লিখে গেলাম স্মৃতি!

নমিতা সরকার

১.আজ অথবা কাল

অনেক আগের হামাগুড়ি দুধভাত খাওয়া ভুলে গেলেও, অনুভূতির জোয়ারে সেই প্রেমের মুহূর্ত মিলেমিশে একাকার...

তেমনই অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ তুমিই আমার।

২. সবুজ আদর

মেঘলা আকাশের শরীর ধুয়ে যে জল নামে বর্ষার কদম পাতায়,সেই পাতার কোমল ক্লোরোফিল মাখানো ভেজা আবেশে প্রিয় মুখ। 

জল স্রোতে ভেসে বেড়ায় আবেগি আদরে...

Jun 28, 2023

শর্মি দে

১.জীবনের চোরাস্রোত

কুড়িয়ে পাবো বলে আদ্ধেককাল চুপ করেই থাকলাম।
আগুনে পুড়তে আর পুড়াতে ভালো লাগে
তবুও চোদ্দআনা পাওয়া হলোনা !
একের পর এক পংক্তি মুঠো আবির সাজালো
বুকের মধ্যে 
ভয়ানক স্রোতে শেষ ট্রেনটাও মিলিয়ে যায়...

২.নীলব্যূহ

কবিতার আগুনে নীল অভিমান পুড়ছে, এই তো জীবন!
মৃতদেহের মতো চুপ করে দাঁড়িয়ে নির্বাক চোখদুটো দেখছে, কতটা জীবন!
আকাশহীন রাতের নীচে দাঁড়িয়ে খুঁজে পাই আমার অনস্তিত্ব।
চক্রব্যূহের দিকে এগিয়ে চলে অভিমন্যু!

অলকা গোস্বামী

১.ছুঁতে চাই তোমায়

গাছেরা কেমন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে 
নীল আকাশ ছুঁতে পারে সহজে...
আমি পারিনা তোমাকে ছুঁতে
আজো
অজানার ভীড়ে হারিয়ে যেতে যেতে....।

২. নিরব ভালোবাসা

ভালোবেসেও কেউ নিঃস্ব হয়,
জীবনভর কত ফরমাশ তারই আবডালে,
স্বপ্নের ঢেউ ছুঁয়ে যায় সময়ের পরত,
ভালোবাসি বলেও তুমি কেন এত নিরব ।

স্বদেশ বর্মণ

১.সাঁঝের বেলা

পশ্চিম দিগন্তে ধূসর আকাশ
ডুবিয়া গিয়েছে বেলা,
জৈষ্ঠ্য মাসের তাপ দাহ শেষে 
দিবশের খেলি খেলা।
পাখিরা ফিরেছে আপনার নীড়ে 
মধুমাখা কলতানে,
লোকালয় জাগে নতুন আবেগে 
দোলা দিয়ে গানে গানে। 

২.মুক্তির সোপান

মানুষেই গড়ে গির্জা প্যাগোডা 
মসজিদ মন্দির,
ভক্ত সেখানে স্রষ্টায় ডাকে 
নত করে তার শির।
সুপথে আমায় নিয়ে যাও প্রভু 
সবার জগত স্বামী,
তোমারে ভজিয়া চরণে সঁপিয়া 
পার পেতে চাই আমি।

গৌতম চন্দ্র

১.দূর্গা

মৃত্যুক্ষণে মহিষাসুর অট্টহাস্য হাসে...
অহংকারে অন্তরীক্ষে ভাসে...
অন্তর্যামী অন্তরে হাসে!
জগৎকল্যানে মহিষমর্দিনী মহিষাসুর নাশে...।

২.লজ্জা

প্রতিপত্তি আর পয়সা
মানুষের লালসা...
মানুষের রক্তে মানুষের স্নান
দূরহ পরিত্রাণ!

সুমা দাস

১.মেঘলা শোক

অপেক্ষারা হারিয়েছে অপেক্ষার তরে
আবেগ ঝরে বিষন্নতায়,
অনুভূতিতে মেঘের দল
শোক লেখে কবিতায়।

২.বৃষ্টি দিলাম

তোমায় আজ বৃষ্টি দিলাম
ঝরণাধারা ডেকে,
হৃদয়খানি শীতল হোক
শ্রাবণ সুখ মেখে।

বিদিতা সেন।

 ১.ব্যাস্ততা

ওয়াটস আপ আর ইনস্টাগ্রাম
ব্যাস্ত জীবন অবিরাম। 
গুগল সর্বদা সঙ্গে ভাই, 
ফেইসবুক থেকে কি রেহাই পাই? 

২.বর্ষার আবাহন

ঐ দেখি যে পাহাড়চূড়ায় আজ মেঘের আলিঙ্গন! 
নীল আকাশ হয়েছে দেখ মেঘের ক্রীড়াঙ্গন। 
মন আমার করিতে ব্যাকুল বর্ষার আবাহন, 
বৃষ্টি নেমে মিটিয়ে দেবে গ্ৰীষ্মের দহন।

সুজন দেবনাথ

১.স্বপ্ন সন্ধানে

রাত পাখিরা ঘুমের ঘোরে
শান্ত নিবিড় দেশে,
আমি কেবল প্রহর গুনি
নিশাচরের বেশে 

চাইনা আহার নিত্য বাহার
একক সুখের নীড়,
দারুণ খেলা জমবে মেলা
বাড়বে যখন ভীড়।

২.নির্বাক ঈশ্বর

আমি যে দেখেছি পৃথিবী জুড়ে 
সব বক ধার্মিকের ধর্মান্ধতার অভিনয়;
জেনেছি এই ধর্ম কে ঢাল বানিয়ে
অজস্র মানুষ লুটার পরিচয়! 

কিন্তু কি আশ্চর্য, তাই না?
এখানে কিছু মানুষ অন্ধের প্রায়--
ধর্মাধর্মের যাতাকলে ফেঁসে আছে!
অথচ নির্বাক ঈশ্বর,আমিও নশ্বর……।

প্রীতম চক্রবর্তী

১.ব্যর্থতা

আমিও তাদের শিবিরে মিশে গিয়েছিলাম
যারা জীবনে সবকিছু পেয়েও,
দিনশেষে ব্যর্থতার গল্প শোনায়।
তারপর একদিন শ্মশানে গিয়ে বুঝলাম,
ব্যর্থ তো তারা,
যারা আজীবন সংসারের বোঝা টেনেও
শেষকালে জ্বলন্ত আগুনে বাঁশের খোঁচা খায়।

২.ব্যর্থ প্রেমিক

নিঝুম রাতে সবাই ঘুমিয়ে নিদ্রাদেবীর বুকে।
ব্যর্থ প্রেমিক তখনো জাগে,
নিকোটিন উড়ে হাতে।
সাদা ধোঁয়ায় আকাশ ঢাকে,
নোনা জলে ঘোলা নেত্র।
ঝিঝিঁপোকা তাকে জাগিয়ে রাখে,
সাক্ষী থাকে চন্দ্র।

অতনু রায় চৌধুরী

১.সঠিক মানুষ

নিজেকে যত্নে রাখছি,
নিজের কাছে রোজ।
মানুষ খুঁজার বিজ্ঞপ্তিতে
লেখা আছে " একটা সঠিক মানুষ হোক"।

২.শহর জুড়ে

শহর জুড়ে যে ভালোবাসা ভালো রাখে তোমায়
সেই ভালো থাকাতেই জড়িয়ে থাকে 
কতশত মানুষের রোজকার, 
কত মানুষের সন্তানের আবদার।

রীতা চক্রবর্তী (লিপি)

১. অনুভূতি

গভীর নিশীথে হাজার নক্ষত্রের ভীড়ে
ক্লান্ত শহর ঝিমিয়ে পড়ে
নেই আর কোন জন কোলাহল
শুধু দু-একটি কুকুর পথের বাঁকে।
এলোমেলো হাওয়ার পরশ 
ছুঁয়ে যায় অনায়াসে,
আনকোরা মন শুধু জেগে রয়
স্মৃতির টানে।

২.মনপাখি

জীবন এগিয়ে চলে জাগতিক নিয়মে
পেছনে নিঃশব্দে কত কিছু ঝরে যায়
শুধু বেদনার ভার স্মৃতি হয়ে রয়
মনপাখিটা ওড়ার আকাশ খুঁজে বেড়ায়।।

রমা চন্দ্র

১. তুমুল ফাল্গুন

চোখের সামনে মাত্র একটি বার 
শুধু তুমি হ‌ও যদি
তুমুল ফাল্গুন...!
আমি তবে হ‌ই
পলাশ-শিমূল-কৃষ্ণচূড়ার
বসন্ত দিনের রঙের আগুন!

২.আষাঢ়-শ্রাবণ

কঠোর দারুণ দহনে...
অকরুণ রোদের চাদরে-
শশব্যস্ত পৃথিবী
ভীষণ তাপে তাপিত!
চাতকের তৃষায় শ্রান্ত ক্লান্ত জীবন
খোঁজে ঝুম বরষণ...।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

১.নবজন্ম

প্রতিদিনই জন্ম হয় নূতনের
নূতন আশা নূতন ভালবাসার৷
প্রতিদিনই মৃত্যু হয় সাজিয়ে রাখা ইচ্ছেগুলোর ,
একএকটা ছুড়ে ফেলি জঞ্জালে ৷
প্রতিদিনই আবিস্কার হয় নূতন নূতন দ্বীপের ,
এক একটার নামগুলো সব
অদ্ভুত আকারের ৷
আজ এখানে কাল ওখানে শুধুই বয়ে যাওয়া,
এরই নাম নূতন করে নবজন্ম পাওয়া ৷

২.ঘুম

স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিয়েছি নীদ্রাহীন নদীর কাছে,
মরিচীকার ভালবাসা পথ খুঁজে ফেরে একটু সুখের সন্ধানে ৷
চোখের পাতায় হাজার তারার স্বপ্ন,
অন্ধকার ক্রমশ গভীর হয় সময়ের হিসাবে ৷
ভোরের আলোকের কোলে ঢলে পড়ি কখন কে জানে ৷

প্রতীচী ভৌমিক

১.

শেষ বিদায় জানতে দাওনি সত্যি
অতীব মধুর পেলবে মিথ্যে দিব্যি,
নতুবা হতে পারতে ঘৃণার আগুনে খুন
আমার সঞ্চয় দু ফোঁটা মৃত্যু ঘুম।

২.

তোর আঙ্গুলের ছোঁয়ায়
একটি চারা গাছ দুটি পাতায়।
এখন সে গাছে পাখি বাসা বাঁধে-একা নই 
পরের ঘরণী তবু ছায়াতলে শুধুই তুই।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

১. মাঝি ভাই

ও ভাই মাঝি কোথায় তুমি
ঘনিয়ে এল রবির কিরণ। 
ওপারে তে যাব বলে আছি অপেক্ষায়
তোমার দেখা না পেয়ে মনেতে ভর ভয়। 
কি করে যে হবো পার
ও পাড়ে তে মোর ঘর। 

২. অভিসার

চলেছে অভিসারে সূর্যিমামা
মেঘ বালিকার সাথে। 
তাইতো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে
ভালো লাগে না তুমি হীনে। 
আসতে যদি মেঘের বেশে
ভিজিয়ে দিতাম মোদের গা।

ছন্দা দাম

১.শূন্যতা 

আঙুলের মুঠোতে ধরতে চাওয়ার জেদে...
একটা নদী হারিয়ে যায়,
বাঁচতে চাওয়ার জেদে কখন হারিয়ে যায় জীবন।
মুহুর্তগুলো ধরে রাখার জেদে...
কখন নিঃশ্বাস হারিয়ে যায়,
স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জেদে একটা মানুষ হারিয়ে যায় কখন!

২.ভাবনা বিন্দু

আদ্যোপান্ত পড়ে নিয়েও কিছুই জানি না....
জীবনটা যেন রহস্য উপন্যাস,
আবেগ, অনুভব, ভালোবাসা ঘৃণার এক জীবন্ত লাশ।

বৈঠা,নাও,মাঝি সব হারিয়েছে...
তবু হতে হবে পার,
জীবনের শেষটুকু না দেখা পর্যন্ত নেই নিস্তার।।

স্বপন দেবনাথ

১.যৌবন 

যৌবন! সে তো ক্ষণস্থায়ী ।
তার ভিড়ে যে মেতেছে --
সেই অতল সমুদ্রেই হয়ে যাচ্ছে 
তার পটল তোলা।
তবে আমি সেই যৌব-মধুতে নিমগ্ন ন‌ই,
আমি তোমাতেই ন্যস্ত , 
তোমাতেই আসক্ত ।

২.পকেট

আমার একটি পকেট আছে 
যাতে স‌ঞ্চিত হচ্ছে একটু একটু করে
আমার নিত্যদিনের রঙিন কবিতারা।
ওদের কোনো অবয়ব নেই, 
নেই কোনো স্থান ,
যেখানে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে , 
স্থির হয়ে দাঁড়াবে ।
আদৌ কি হবে সেই স্থান? 
সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আমি মড়ি।

মাধুরী লোধ

১. অক্সিজেন 

তুমি হাসলে ফুল বাগানে হাসে রামধনু
প্রজাপতির ঝাঁক খেলে ফুটবল
মধু ভানডের  চারপাশে মধুকরের গল্পকথা
ইষ্টিকুটুম এর কান ফাটানো গলা
আমি অক্সিজেন খুঁজি তোমার গায়ের বাতাসে।

২. দুই

একসাজি ফুল তোমার জন্য

একসাজি ফুল তোমার জন্য
ফুলের জাতবিচার করিনি
তুমি রেখো না ছুত মার্গের টান
তোড়া বা মালা সে ভাবেই সাজাও
পবিত্র থাকুক চারপাশ।
আমার প্রার্থনা এ শূন্য জীবনে তুমি থেকো অঞ্জলীর ভূমিকায়।

মানস চক্রবর্তী

১.নিজের সাথে একলা থাকা

হয়না এখন ভাই,
যদি কিছু ঘটে পাছে,
সেই ভয়েই মরে যাই।
সবার সাথে হেসে খেলে
আনন্দেতে বাঁচি, 
এই বয়সে, এই ধরাতে,
 ক-দিন ই বা আর আছি!

২.তুমি যদি কাউকে কিছু

প্রাণটি ভরে দাও,
খুব ভালো হয় যদি তুমি
সেসব ভুলে যাও।
কেউ যদি তোমায় কভু সামান্য
কিছু দেয়,
ভুলেও যেন যেওনা ভুলে,
কোরোনা এই অন্যায়।।

বিধর্না মজুমদার

১.অচল

চৌদ্দগুষ্টির ভরাডুবিতে আমি কমন মানুষ,
আমার বেলায় এক আনার দাম নাই।
একবিংশের মাটিতে দাঁড়িয়ে,
স্বার্থপরতা ছাড়া যেন
জীবন অচল।।

২.শেষ ঘুম

অনেক ভোর গেলো
একটাও দেখিনি! 
আজ এমন একটা ভোর আবার এসেছিল, 
যার, যাবার পরে আর ঘুম আসেনি।। 

সুমা গোস্বামী

১.ভেজা শহর 

ঝরঝর শ্রাবণ ধারায়
ছপছপ শব্দ ওঠে রাতের নির্জনতায়। 
আমার শহর তখন ভিজে যায়
মেঘেদের কান্নার অগোছালো গানে।
ভিজতে ভিজতে জলমগ্ন হয়ে যায় 
আমার সেই ছোট্ট এক টুকরো শহর । 

২. ইচ্ছে ভোর

এই মেয়ে , একা যদি যেতে চাও
পিছুটান রেখো না আর ।
আমি দেখবো তোমার বিস্তীর্ণ জোড়া স্বাধীনতা ।
এরপর ,পৃথিবীর আকাশটাকে কাঁপিয়ে দিয়ে ,
শঙ্খিনী নদীর চরায় মেয়েটি বাঁধলো নিজের ইচ্ছে-ভোর।

দীলিপ দেবনাথ

১.ভোরের ট্রেন

ভরা যৌবনে, স্বামীর নয়নে-
দিয়ে মারাত্মক ফাঁকি।

ভোরের ট্রেনে,প্রেমী দুজনে-
চলে প্রেমের লুটোপুটি।।


২.ভগ্ন হৃদয়

মনে যত ছিলো দু:খ,
ছিলো যত রাগ-
ভগ্ন বাঞ্ছা বুকের মাঝে,
হৃদয়ে জমা রক্তপাত।
বক্ষপাঞ্জরে সুরক্ষিত,
প্রিয়জনের দেওয়া দাগ-
বিদায়লগ্নে সাথে নেবো,
পেছনে বন্ধুর ছুরিকাঘাত!

শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্যি

১.মানুষ হব বলে

যুগ যুগ ধরে মিছিলে হেঁটে চলেছি,
অথচ প্রতিশ্রুতিরা অধরাই রয়ে গেছে --
বেঁকে গেছে মেরুদন্ড,ঘূণ ধরেছে হাড়ে,
লালসা আর ভয়ের জালে জড়িয়ে জীবন,
পারিনি উলঙ্গ করতে শ্রেণী শত্রুর মুখোশ---
তবু ও বিবেক পুরো মরেনি এখনও,
আরও একবার জ্বলে উঠতে চাই মানুষ হব বলে।।

২.ভালোবাসাবাসি

চাইনি তো মণি মাণিক্য,
চাইনি তো আকাশ ছুঁতে,
চাইনি তো বিরাট অট্টালিকা ---
পাতায় ছাওয়া কুটীর নীড়ে-
এসো আজ ডালভাতে একটু ভালোবাসি।।

কৃষ্ণকুসুম পাল

১.সমুদ্র ঘর

কোথাও কি পেয়েছো আপন?
কভু কি দেখেছো প্রেম বেচাকেনা?
কবে কি দৃশ্য দেখেছো সৈকতে?
শুধু উঠে আসে সমুদ্র ফেনা।
                 
পথে পথে শেষ হয় সময়,
একা একা বাঁচতে পারে না ঈশ্বর,
খেলে নিজেকে হারাবার খেলা,
দেখো সমুদ্রে ভাসে সবার নাচঘর।

২.ভুল

প্রচলিত ভুল বানানের মতো-
তোমার ভুল ভালোবাসাও প্রচলিত।
আমি আহত।
ভুলে ভুলে বাঁচে জীবন।

চন্দ্রা বিশ্বাস

১.
জ্ঞানের ধ্বজা তুলে নেতার পুচ্ছ নাচানাচি 
গুপ্তধনের চাবিটা যে মুঠোয় ,
রাজটিকা এঁকে ললাটে 
সিংহাসন? বরাতের দোহাই। 

২.
গীতার "কৃষ্ণনীতি"শুনে যীশু হলেন প্রভাবিত,
তাঁরই উচ্চারণ দোষে শেষে "ক্রিশ্চিয়ানিটি" তে হল স্থিত