Apr 29, 2024

সনজিৎ বণিক

গরম হাওয়া 

ইতিহাসের পাতা খোলা ই আছে 

বৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে বারবার 

এই রৌদ্রের তেজদীপ্ত গরম পরশ বারবার চামড়ার ভেতর জ্বলে ওঠে, ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে মেয়েটি আজও হাঁপাতে হাঁপাতে মালিক এর বাড়িতে কাজে এলো, ঘরে ছোট ছেলে মেয়ে দুটো একাই আছে, দুজনে বসে পড়ছে 

ওদের বাবাও ভোরবেলা চলে গেছে মালিকের জমিতে।
সংসারের এই ছবির ভেতর জেগে আছে মানুষের বলিষ্ঠ সাহস ও দৃঢ়তা আর জাগরণের উজ্জ্বল বার্তা যা মানুষের বেঁচে থাকা ও পৃথিবীকে জাগিয়ে রাখার অক্সিজেন, দুনিয়ার মানুষের জন্য উজ্জ্বল এক ছবি।

লিটন শব্দকর

ডালপালা

ডালপালায় দেওয়াল সুদৃশ্য করা হলো মাত্র
অরণ্য নয়,
তারা ভেবেছে সব হলো

প্রেমিকের বুকপকেট।।
লিটন শব্দকর 

নির্জন ভোরের আঙুল কেড়ে নিয়েছে কলম

কবিদের গান ও অক্ষরের আলাপাতায়
অতিসংক্ষিপ্ত ঢেউ এসে শুকিয়ে যায়। 

ফানুসের প্রেম থেকে ফেনা 
সমাজের মতো করে চেয়েছে 
প্রেমিকের বুকপকেটে ঘুম এনে দিতে

বহুদিন থামহীন মিনারের চূড়োয় বসে 
কোকিল বসন্তের ভুল গল্পই বলে যায়
              তারপর 
প্রেমিক নিঃস্ব হলেই শহরে আসে প্রেম।

নয়ন দে

খুঁজেছি তোমায়

আজো আমি খুঁজছি তোমায় 
ব্যথা সয়ে একা থাকা যে এখন দায়।

হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে মনে পড়ে অনেক কিছু 
রাত জাগা স্বপ্নগুলো নিচ্ছে আমার পিছু।

আমি না... 
আজ সত্যিই বড্ড ক্লান্ত, 
ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের দেশে, থাকি চির অশান্ত।

এই ফাগুনে তোমায় খুঁজতে গিয়ে
এখনো বাধতে থাকি সুখের নানান বাসা।
আমার সুখের বাসা ভেঙে যায়, হঠাৎ করে!    
অজানা এক কালবৈশাখীর ঝড়ে।

ভালোবেসে হৃদয়ে জমিয়ে রেখেছি গোপন কথা, 
জড়িয়ে নিয়েছো মায়ার বাঁধনে আমার সকল সরলতা।

শুনছো বুকে ভীষণ ব্যথা সাথে জ্বলছে বুকের ডান পাশ,
এভাবে কেন চলে গেলে? রয়েছে একাকী দীর্ঘশ্বাস।

তোমার চোখের ভাষা বড়ই খাসা, মনেতে যে ভাসে
তোমাকে খুঁজছি বলেই বার বার এই ফাগুন আসে।।

বিধর্না মজুমদার

ধ্বংস

গ্ৰীষ্মের দাবদাহ বরাবরই অসহ্যকর 
তবুও আমরা বেচেঁ ছিলাম, 
আজও বাঁচার লড়াইয়ে
শুধু ধ্বংস করে যাচ্ছি। 
তাদের হাহাকার আমরা শুনতে পাইনা, 
তারা মুখফুটে কিছুই বলে না
কেবল চেয়ে থাকে। 
তাদের চাওনিতে কষ্ট ভেসে ওঠে, 
মানুষেরা তখন অন্ধ রোগী হয়ে যায়। 
তাদের সাথে আমাদের শেষটাও তাড়া করছে, 
সময়ের অপেক্ষা মাত্র।। 

জয়িতা ভট্টাচার্য

ছায়াবৃত্ত 

জড়ির কিংখাব জড়ানো আলো ঘরে এসে ঈসৎ থমকালো।রাজকন্যা মৃত।তৎসহ জীর্ণ নদীটির মতো তিরতির করে বয়ে যাওয়া রক্তের নদীটি এখন শুকিয়ে এসেছে।চড়ায় বিচিত্র মাছি আর পিঁপড়ের চলাচল শুরু হয়েছে।জড়ির চিরখানি এইখানে এসে আনত দৃষ্টিতে দেখল রাজকন্যার পতন।নিচের দিকে চেয়ে আছে আলো।যেন কত গভীর অতল।রাজকন্যার মাথায় গভীর খত।বুকের ওপর থেকে সরে গেছে মাছ ধরার আরণ।গোলাপি ওড়না লাল।ছিন্ন বস্ত্র খণ্ড মানচিত্রের মতো ঢেকে আছে উদ্বাস্তু জমি।ছোট মালভূমির ওপর দুটি বালিয়াড়ি থেঁতলে গেছে।নিম্নাঙ্গের ললিত বসন উপড়ে বেরিয়ে পড়েছে ভষ্মিভূত সাভানা,ক্লিষ্ট খণ্ডিত উর্বর কৃষ্ণ গহ্বর।রাজকন্যার চোখ দুটি খোলা আকাশ ওখানে লেখা আছে সমগ্র বৃত্তান্ত।শুধু পড়ে নিতে হবে।শীতল সিমেন্ট মেঝেতে কাঁচের চুড়ি ভেঙে বিদ্ধ রক্তাক্ত দুটি হাতে কালচে দাগ।হাত দুটি দুপাশে ছড়ানো।আলোর ওই কিংখাব ছায়া ফেলল এখানে এসে।থমকে আছে ঘড়ির কাঁটা।অনেকদিন ব্যাটারি কেনা হয়নি।স্বাভাবিক মৃতের মতোই অনাবৃত বুকে গেঁথে আছে ইস্পাতের ফলা।

রাজকন্যা ধর্ষিত হইয়াছেন।খুন হইয়াছেন।প্রশ্ন উড়ছে নিঃশব্দে খুনের পরে ধর্ষণ নাকি আগে!

এই অবধি মনে মনে লিখে অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন ইন্সপেক্টর বক্সী।মনে মনে সারাদিন লিখে রাখেন কাহিনী।এখন বিধানপল্লীর সুখসায়র বস্তির তেরো নম্বর ঘরে দাঁড়িয়ে  দাঁড়ি চিহ্ন দিলেন অমলেন্দু বক্সী।এই নিয়ে চারটি খুন।যেন সুজিত মুখার্জির থ্রিলার চলচিত্র।ওসি অমল বক্সী বসে নেই।পশ্চিমবঙ্গে মাসে আশি পঁচাশিটা খুন আর একডজন ছেলেধরার গল্প রেকর্ডেড ই হয়।বাকি আরো কত অন্ধকার খাঁজে খোঁজে ঘাপ্টি মেরে থাকে কে আর সন্ধান করে!

কে যেন বলেছিল আলো জীবনের মেটাফর।আর অন্ধকার মানেই মৃত্যু।মার্টিন হাইডেগার বোধহয়।বক্সী আর সৌম্যশেখর তর্ক চলে অহোরাত্রি এভাবে।বাঁ দিকের দুটো গলি ছেড়ে ডানদিক বেঁকে চতুর্থ বাড়ি। তবে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তফাত এইখানে।অন্ধকারেই আলোর উৎস।গর্ভের অন্ধকার থেকে প্রাণের সূচনা।লেখক সৌম্যশেখরকে চুপ করতে বলে বক্সী একরোখা কিংখাবে পা রাখলেন।দরজা খোলা।বক্সীর লম্বা ছায়া পতিত রাজকন্যার উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে।

 কলকাতার অন্ধ গলি ঘুঁজির কাহিনী তাঁর জানা।লেখা।এইসব রাজকন্যার কথাও তিনি ভালো করে জানেন।মন উদাস হলে যাতায়াত করেন।রোদ্দুর এখন নরম নেই মরা মাছের মতো শক্ত। রাজকন্যা নিখোঁজ ছিলেন কিছুদিন যাবত।এইসব রাজকন্যারা সকলেই যে বাংলার মাটি ও জল তা নয়।অনেকেই রুখা সুখা পৃথক রাজ্যের অধিবাসিনী।ঠিক বিন্ধ্যবাসিনীর মতো।বিন্ধ্যবাসিনী তাঁর বউ।জড়ির ফিতে গড়িয়ে এসেছে বিডন স্ট্রীট ঠাকুরদাস লেনে।এটা একটা অন্ধগলি।তারপর বড়ো করে আলো এসে পড়ল একটা ভাঙা বাড়িতে।একেবারে ভেতর অবধি ছড়িয়ে গেল।আর জড়ির কিংখাব নেই।অসহ্য আলো।এই বাড়িতে সাহস করে একমাত্র মরণ এসে পুড়িয়ে দিতে পারে অন্তঃপুর।ওরা এসেছিলো অনেক দূরের গ্রাম থেকে।কাঁটা তারের ওপার থেকে।মোট পনেরটি রাজকন্যার দিনযাপনে আলো পড়ে।দুজন সেচ্ছায় পালিয়ে এসেছিল।দুজনের বর তাড়িয়ে দিয়েছে।তিনজন ধর্ষিত হয়ে ছিল মোহিনী সেন কায়দা করে তুলে এনেছেন এই অট্টালিকার অন্ধকারে।আরও আছে হারিয়ে যাওয়া,নিখোঁজ,

হারিয়ে যাওয়া,বর তাড়ানো কিংবা মুক্তবাজারের অবিচ্ছেদ্য দারিদ্র্য পিড়িত বস্তি থেকে আসা রাজকন্যারা।কাঞ্চনা এবং আরও সাতজন এসেছিল পদ্মানদীর দেশ থেকে।কর্কশ আলোর ছদ্মবেশে আলো।নিকষ অন্ধকার থেকে উৎসারিত আলো।সৌম্যশেখর বলবে কিছু। সকলেই নিরাবরণ হতে কি আর পারে?

এসেছিল এখানে আলোর খোঁজে।আলো।আর এখন অন্ধকার।অন্ধকার আর মৃত্যুর কথা বলেছে দার্শনিক জ্যাক দেরিদা। বলেছিলো চৈনিক দর্শনে।রাত জেগে জেগে ভাবতো সৌম্যশেখর।"যে পথে যেতে হবে সেপথে তুমি একা...।"

 আলো যেখানে নেই সেখানে মৃত্যু।সৌম্যশেখর ওরফে অমলেন্দু বকাসী একদিন মৃত্যুর উপাসক হয়ে গেল।অন্ধকার গলি আর গলির ভেতর রাজকন্যার অন্ধকার শীৎকার থামিয়ে দেবার একটা তীব্র তাড়না।ইন্সপেক্টর বক্সী আলোর দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক বিড় বিড় করছেন, "we are all going to die" মার্টিন হাইডেগার লোকটার সঙ্গে দেখা হওয়া প্রয়োজন ছিল।

লালবাতির পাড়ার উঠোন জুরে আলোময় ছেলে মেয়ে কুমির ডাঙা খেলছে।কতদিন খেলেননি।কাটা গোল্লার খেলা।সব শেষে কাটাকুটি।অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিল আলো...যৌনপল্লীর বেশ্যার ছেলে একথাটা তার গায়ের লেবেল হয়ে এঁটে ছিল অর্ধেক জীবন।তারপর এই পুলিশের উর্দি।একদিন সৌম্যশেখর এলো।লেখা চলতেই থাকে।অন্ধকার শেষ করতেই তো এই উর্দির বেশ। এই বিশ্ব একটা বেশ্যাপল্লী ছাড়া আর কি! সমস্ত বেশ্যা ডিলিটেড করে দেবার পবিত্র এক শপথ নিয়েছিল অমল।মার খেতে খেতে আর পাল্টা মারতে মারতে যেদিন গরপারের বটুক সামন্তকে খুন করে ফেলেছিল ভুল করে তারপর...।মাতৃনিন্দা মহাপাপ। পাপের সমাধান আরও পাপ। মন ফেরাতে 

ইন্সপেক্টর বক্সী ওরফে সৌম্যশেখর চৌকাঠে পা রাখলেন মোহিনীদেবীর আলোহীন কুটুরিতে।

রাজকন্যা এখন লাশকাটা ঘরে আবার একবার ছিন্ন হইবেন।ওখানে জড়ির কিংখাব থমকে আছে,মৃত্যুর ইনবক্সে।

ছন্দা দাম

আগুনডানার ঘোড়াটি

আগুন রঙা ঘোড়াটা আসছে সেই হিমাচল থেকে...
সেই ছোট্ট যখন চোখে তার ভোকাট্টা ঘুড়ির স্বপ্ন,
পায়ে পায়ে কিছু কাশফুল,ঘাসবন,বুনো ফুলের গন্ধ মেখে নিল,যেন আতরের সৌরভ,
সামনের দুটো পা যেন তার পাখা...
আগামীর পথে তার সীমাহীন দিগন্তে লুটোপুটি খায় নীলাকাশ ,
গায়ে জড়ায় সে পশমি মেঘ, ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি,
মধ্যাহ্নের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিতে সে বদ্ধপরিকর
চোখ দুটোতে বাজপাখির খিদে।

বেলা পড়ে আসে গোধূলির কমলারঙা রাক্ষস তখন গোগ্রাসে গিলছে সময়,
ঘোড়াটির ঝড়ো শ্বাস পড়ে বুকে...থামতে চায়...
মুখ গুঁজতে চেয়ে পায়না নিবিড় বুক,
শুধু ধু ধু মরুভূমির শূন্যতা নিয়ে আগুন ডানার ঘোড়া
শেষ ঝাপ দেয়...
অনিশ্চয়তার প্রশান্ত মহাসাগরের তুফানী বুকটায়।।

লিজা বৈদ্য

সন্দেহ এক নিরব ঘাতক

রমেশ আর মায়াবতীর এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সুন্দর সংসার। প্রাচুর্য না থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। রমেশ একটা বড়ো সরকারি স্কুলের গ্রুপ-ডির চাকরি করে। পাশাপাশি একটা ছোট দোকানও আছে।

কয়েক দিন ধরেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। দয়ানন্দ বুঝতেই পারছে না ওর দোষটা কোথায়। মায়াবতীর সাথে কথা বলে সমাধান করতে চাইলেও কেমন যেন এড়িয়ে যাচ্ছে। ছেলে মেয়ে বড়ো হচ্ছে তাদের সামনেও কিছু বলা যায় না। যদি ও হঠাৎ কোনো কটূ আচরণ করে বসে।ওর এই অন্যমনস্কতা চোখ এড়ায় না বন্ধু বিমলের। জিজ্ঞেস করে ,"কি হয়েছে ? কিছুদিন থেকেই দেখছি তুই কেমন মনমরা হয়ে আছিস।"

রমেশ কিছু না বলে এড়িয়ে যায়। কি করে বলবে ঘরের কথা। রমেশ আর পারছে না এই সমস্ত প্রেসার নিতে। কত শত দুর্ঘটনা  ঘটে প্রতিনিয়ত এই সমস্ত সাংসারিক অশান্তির জন্য। এইতো বরুণ ওদের প্রতিবেশী কত ভালো ছেলে বিশ দিন হবে বউয়ের সাথে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করে।ও ভাবে  ওদের স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একজনেরও যদি কিছু হয় সংসারটা ভেসে যাবে। 

বাড়ি গিয়ে দেখে ছেলে মেয়ে বাড়ি নেই তাই ঠিক করে এই সুযোগে সমস্ত কিছু ঠিক করে নেওয়া যাবে। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে  স্ত্রীকে কাছে টানতে চেষ্টা করে কিন্তু উল্টো ওকে ধাক্কা দেয় আর পড়ে গিয়ে কপালে ব্যাথা পায় ।ওর স্ত্রী অন্য ঘরে গিয়ে দরজার খিল দিয়ে দেয়। ওর ভয় হতে লাগে যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে বসে। ও দরজায় করাঘাত করতে করতে বলে, " দরজা খোলো মায়া নয়তো আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।" মনে ভাবে যদি এই কথায় যদি পাহাড় টলে।

মায়াবতী দরজা খোলে, যাও সব জিনিস নিয়ে বেরিয়ে যাও। রমেশ বউকে এবার জপটে ধরে বলে ,"চলে যাবো, আগে বল কি হয়েছে।"

মায়াবতী কাঁদতে কাঁদতে বলে, "যাও আমায় ছোঁবে না ঐ নোংরা হাতে। স্কুলের সবাই এমনকি তোমার হেড মাস্টারও চলে যায় তাও তোমার বেরুতে এতো দেরি হয় কেন? কিছু বুঝিনা ভাবো ? কি করো রনিতার সাথে ?"

রমেশ বলে,"এতো বড়ো স্কুল ছুটির পর দরজা জানালা বন্ধ করে সমস্ত রুমের লাইট পাখা বন্ধ করে বেরুতে দেরি হয়।"

মায়া বলে ,"দরজা জানালা বন্ধ করার ফাঁকে কি চলে রনিতার সাথে।"

রমেশ কানে হাত চাপা দিয়ে বলে," ছি! ছি! আর বলো না ও আমার ছোট বোনের মতো। ওর সংসার আছে। বেচারির স্বামী নেই তাও কত কষ্ট করে সংসার চলায়।

ওর স্বামী মারা যাওয়ার পরও শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে যায়নি। শ্বশুর শাশুড়ি আর ছেলেটাকে নিয়ে বেঁচে আছে। ও কিন্তু চাইলেই শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি গিয়ে থাকতে পারতো। রনিতার বাপের বাড়ির অবস্থা খারাপ নয়। তাও শ্বশুর শাশুড়ির কথা ভেবে যায় নি।তোমাকে এইসব কথা কে বলল? "

মায়া বলে," তোমার স্কুলের অবিনদা ।"

রমেশ ছলছল চোখে বলে,"ওর কথায় আমাকে অবিশ্বাস করলে মায়া। তুমি জান না ওর চরিত্র কেমন? গত বছর ও রনিতাকে কুপ্রস্তাব দেয় ভেবেছল ওর স্বামী না থাকার সুযোগ নেবে। রনিতা আমাকে আর হেড সারকে জানিয়েছিল। এর জন্য ওকে কম অপদস্থ হতে হয়নি । তাও ওর পরিবারের কথা ভেবে ওকে ক্ষমা করা 

হয়েছিল । সেই থেকে সবসময় আমার পেছনে পরে থাকে কিভাবে ক্ষতি করতে পারবে। আর একটা কথা ঘরের চেয়ে যদি বাইরের লোকের   ওপর ভরসা বেশি হয় তবে সংসারে ফাটল ধরবেই। এত বছর সংসার করার পর তুমি   অবিনের কথায়  এতকিছু করলে।সন্দেহ এক নিরব ঘাতক কখন কাকে ঘায়েল করে ফেলবে টেরও পাবে না। তুমি যা বোঝ তা কর ?  আমি আর কিছু বলবো না।তুমি শুধু আমাকে নয় নিজেকেও ছোট করলে।"

অলকা গোস্বামী

সে

সর্বজ্ঞ পৃথবীর কাছে বশীভূত সে,
প্রতিদ্বন্দ্বী সময়ের নিষ্ঠুর আবহে।
হতাশার ধূলো ঝেড়ে শান্ত ঘর সুনিবিড় ছায়া,
গাছ সব ঊর্ধবাহু নিনাদে স্বস্তির প্রার্থনা।
আত্মজের ঘরে ফেরা মনে আজ 
শবরী উচ্ছ্বাস,
সুখেবোধ ডুবে যায় ভাষাহীন শুষ্ক মনস্তাপ।
আবর্তে নিজেকে দেখে কখনও বা জেগে উঠে 
হৃদয়ের আলো,
বদ্ধ মনে চঞ্চলতা
জানেনা সে 
কীসে হবে ভালো।

ঝিমলি আচার্য্য

তুমি ছেড়ো না মোদের সঙ্গ 

বছর শেষে স্মরণ করি যা ঘটেছে তা ছুড়ে ফেলি ।
অপূর্ণতার শিক্ষা নিয়ে পূর্ণ শিকরে জল ঢালি ।
নতুন রূপে দেখবো বলে ভাবি বসে নিরালায় ।
রামধনুর সাতটি রঙে উঠবে ফুটে এ ধরায় ।
ছয় ঋতুকে সঙ্গে নিয়ে করছো খেলা আপন মনে
ভালো মন্দের হিসেব কষা নেইকো তোমার সংবিধানে ।
তুমি মহান তোমার নেইকো কোন মান অভিমান 
মমতার আঁচল পেতে ঠাঁই দিয়েছ কোটি কোটি প্রাণ ।
কত বিনুনি বেঁধেছ কত অভিশাপ মেখেছ গায়,
আপন কলঙ্ক গেঁথে দিই তোমার শিরা উপশিরায় ।
সহিষ্ণুতার  আবরণ তোমার অলংকার তোমার অহংকার।
তারই হাত ধরে কঠিন সহজ রুপে ঘটাও কত আবিষ্কার ।
ঢেলেছো অসীম সফলতা বুক পেতে গ্রহন করেছ জন্ম মৃত্যুর সকাশ ।
তোমার নেইকো ছুটি নেইকো আরাম আয়েশের অবকাশ।
সব মিলে যেন এক বাহিত নদীর ঘূর্ণিপাক ।
চঞ্চল তরঙ্গ অনুভবে আমরা করি হাঁকডাক ।
বরণ করি তোমার সঙ্গ বছর বছর পান করে 
যাই তোমার অলৌকিক রঙ্গ , তুমি ছেড়ো না 
                                               মোদের সঙ্গ ।

রিপন সিংহ

তরঙ্গের মতো তুমি 

এই শহর ধুলোর সাথে সন্ধ্যা নামে,
আবার প্রথম দিনের মতো সকাল হয়,
তোমার নরম কেশের মতো সন্ধ্যার তরঙ্গ বহে;
এগিয়ে চলে, এগিয়ে চলে
শুধুই এগিয়ে চলে।
আমি সেই দিগন্তের প্রথম আলোর মতো ---
তবুও আমার অপেক্ষার আয়ু বেড়ে চলে, 
 তুমি প্রথম ফাল্গুনের --- , শ্রাবণের ধারার মতো সুখের খোঁজে 
বহে গেছো, 
তোমার আনন্দের ধারা।
শুধুই ছুটে জীবন,
আমার এই আজীবন অপেক্ষা
দিন চলে যায়, রাত চলে যায়

--- তারপর আবার সন্ধ্যা নামে

পরিমল কর্মকার

ফাগুন ভালোবাসা

কোকিলের কুহু ডাকে মনে জেগে উঠেছে --
বসন্ত তুমি এসে গেছো আমার হ্নদয় দুয়ারে।
ফাগুন ভালোবাসা বুকে নিয়ে বসন্ত তোমাকে ভালোবেসেছি। 
তুমি অবজ্ঞা করনি --
সঞ্চিত  ভালোবাসার পরিপূর্ণ হ্নদয় থেকে একটু একটু করে আমার ভালোবাসাকে পূর্নাঙ্গ মর্যাদা দিয়েছ তুমি।
বসন্তের আনন্দের আবহে 
তোমার ভালোবাসায় শোভিত প্রতিটি ঋতুর সৌন্দর্য আস্বাদন করেছি।
বসন্তের স্নিগ্ধতায় যখন ভালোবাসার গভীরতা খুঁজে বেড়াচ্ছি---
অজানা এক মুহূর্তে গভীর সম্পর্কের আঘ্রাণ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
তুমি আমাকে কিছু না জানিয়ে  না ফেরার পথে বহু দূরে চলে গেলে।
আহত বিহঙ্গের মত দুমড়ে মুচড়ে নিথর হয়ে পড়ে রইল আমার স্বপ্ন, আমার ভালোবাসা।
সেই ভালোবাসার তৃষ্ণার্ততা বুকে জমাট বেঁধে আছে -- 
মিলিয়ে যাচ্ছে আশার  বুননে বাঁধা সাফল্যের স্বপ্নগুলো।

পিয়াল দেবনাথ

 কালেকশন

ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ অর্কর চোখ পড়ল একটি নামের উপর। সেই একটি নাম। মেয়েটির একাউন্টের নিচে উল্লেখ করা 'friends' । সে কিছক্ষণ ভেবে দেখল আসলে কি এখন সে আর মৃন্ময়ী ফ্রেন্ডস? আজ আট বছর হল মৃন্ময়ীর সাথে তার কথা হয়না। একসময় ফ্রেন্ডস ছিল বটে। এর থেকে বেশী কিছুও ছিল হয়ত। এই অল্প সময়ের মধ্যে তার চোখের সামনে সমস্ত দৃশ্য সিনেমার মত ভেসে উঠল। অনেক দৃশ্য। তাকে শেষবার যখন অর্ক দেখেছিল তখন সে একটি ছেলের বাইকের পেছনে বসে কোথাও যাচ্ছিল। কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখাচোখি হয়েছিল কিন্তু সেই চাহনির মধ্যে যে শূন্যতা অর্ক দেখল তা সে আর কখনো দেখেনি। মৃন্ময়ী কি তাকে চিনতে পেরেছিল? যদি পেরেও থাকে বলা যায় সে অর্কর প্রতি inert হয়ে গিয়েছে। সুতরাং অর্ককে দেখে তার মধ্যে কোনো reaction হবে না। তাও কি সম্ভব?সেই মৃন্ময়ীকেই ত সে কতবার বিয়ের পিঁড়িতে নিজের সঙ্গে কল্পনা করেছিল তার বন্ধুদের বিয়ে চলাকালীন। ছোটবেলার জমানো কোনো কালেকশন, কোনো এককালের বিরাট পাওনা, ড্রয়ার বন্দী জিনিস গুলোর মত ঐ স্মৃতিগুলো সে কোথাও বন্দী করে রেখে দিল। কখনো কাজে লাগেনা তা ঠিক কিন্তু মাঝে মধ্যে একটু নেড়েচেড়ে দেখে মুচকি হাসে ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে। পুরানো দিন গুলো আজ রূপকথার মত মনে হয়। 

                  তখনই হঠাৎ একটি আওয়াজ অর্কর কানে গিয়ে তার অন্যমনস্ক ভাব কাটিয়ে দিল। "এই যে....এই যে শুনছো, খোকার ঘুম ভেঙেছে। ওকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসো।"


সুমা গোস্বামী

১. রুটিন

আমার আমিটার সাথে 
তোর আমিটার বড্ডো মিল।
আমার হাসিতে আজও
তোর ঠোঁটের হাসি চলকে ওঠে,
তোর মনের কান্নাভেজা বৃষ্টিতে
আমি কাঁদি হাজারো বার।
এটাই এখন রুটিন
হয় না কখনোই নড়চড়।

২. ভালোবাসি বলেই 

ভালোবাসি বলেই আজও
 বুকে দ্রিমিদ্রিমি স্বরে মাদল বাজে,
ভালোবাসি বলেই আজও
গ্রীলের ফাঁকে উঁকি দিতে ইচ্ছে করে।

ভালোবাসি বলেই আজও
পুরুষালী গন্ধটা ঠোঁট-গাল-কপাল চুঁইয়ে পড়ে, 
ভালোবাসি বলেই আজও
তোমার চোখে চোখ রাখা হয়নি আমার।

রমা চন্দ্র

সিন্ধু সারস

স্বাধিকারের প্রশ্নে আমি 
ভীষণ রকম ক্লান্ত...
স্মৃতিতে রেখেছি সুপ্ত বাসনা 
অন্তরে না পাওয়ার বেদনা
হৃদয়ে আবদ্ধ চুপকথার সংলাপ...
অবিরত রক্তক্ষরণে ছয়লাপ!
তবুও সম্পর্কের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে
আজ আমি 'গান্ধারী'!
ভীষণ জেদি এই আমিটা 
প্রতিনিয়ত নিজের সাথে লড়ি,
লড়াইয়ে হার মানলেও
লড়াইটা রাখি জারি...
কখনও সিন্ধু সারস হ'য়ে
সিন্ধু বুকে উড়ি...
আবার ঈশান কোণের মেঘ হ'য়ে
তুমুল বেগে ঝরি...!

শশাঙ্কশেখর পাল

হাইকু


ফুল ফুটছে
ছাদে বাহারি টব
ডাকে কোকিল 


লেপ শুকোচ্ছে
মুছে যাচ্ছে শিশির
সবুজ গন্ধ


ফাগের রঙ
পাখির কলতান 
আজ বসন্ত


একটি ছাতা
মেঘেরা কলো পাখি
জলের শব্দ


কী বৃষ্টি আহা
নদী‌র ভাঁজে ঢেউ
ষোড়শী কন্যা


শীতের হিম
গর্ভে দোল বসন্ত
বর্ষার নদী

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

নির্মোহ সমর্পণ

পেলেই তো ফুরিয়ে যাবে 
তার চাইতে এই ভালো 
অপ্রাপ্তির আমেজটুকু থাকুক ভরে  
চাওয়া পাওয়ার অলীক প্রেমে।
এখনো গোলাপি আশারা ডানা মেলে
দিগন্তের রূপোলি রেখার টানে
সেই চলাতেই মখমলি রূপকথারা
পাপড়ি ছড়ায় আনন্দে।
পথিক হেঁটে যায় প্রলম্বিত এক পথ
শেষবিন্দুর অমোঘ আকর্ষণে
কুড়িয়ে নিয়ে যত পরিচয় পার্বণ
ফুরিয়ে যাবার আগে নির্মোহ সমর্পণ ।।

নৃপেশ আনন্দ দাস

মৃত্যুহীন

এই নদীর তীরে তীরে অনেক মানুষ ছিল,

অনেক রাজা ছিল ; সেখানে এখনো খেলা করে অনেক স্বরলিপি, কত না গানের সুর । এখনো সমস্ত অনাহুত কোলাহলকে ঢেকে দেয় বসন্তের কোকিল । একই আকাশের একই মেঘেরা আজো শুদ্ধতার জল ছিটায় ।

 যে নক্ষত্র মরে গেছে তার ছড়ানো কবেকার আলো জোনাকির মতো ফিরে আসে ; এসে গৌরব গাথা লেখে আঁধার পৃথিবীর ।

রুচির দুর্ভিক্ষে বেঁচে যাওয়া সুন্দরগুলোর একদিন ঠিক এভাবেই বিজ্ঞাপন হয় ।



সুধীর দাস

রাস্তা

রোজ  রাস্তা দিয়ে হেটে যায় কতশত মানুষ ,
কেউ যায় দুপায়ে কেউবা চার পায়ে ।
কেউ কুলো মাথায় বাজনার তালে তাল মেলায়,
আর কেউ হরি বোলা বোল হরি বলে সুর মেলায়।
এই পথেই রোজ হাটি আমি ,
পাশ কেটে যায় চেনা অচেনা মুখ,
এই পথেই হেটে যেতো আমার পূর্বসূরীরা,
এই পথ বয়ে নিয়ে চলে তোমার আমার 
ফেলে আসা স্মৃতি, নাম দিয়ে রাখে ইতিহাস।
এই পথে জমে থাকা কান্না ভাসিয়েছে
জমে থাকা ধুলো ভরা স্বপ্ন।
এই পথেই রোজ চলে শ্বাসরুদ্ধকর কালো ধোঁয়া
ঢেকে যায় বাতাস।
তোমার মুখ ঢাকে অন্ধকারে ।
শেষে তোমার আমার চার পায়ে একদিন বিদায়।


সুপ্রতিম ভৌমিক

 হাইকু 
 
২. চরণে রেখে 

তোমার সনে,
হে পরম দেবতা,
হয় নি দেখা ।

তথাপি কেন
মনে হয় গো তুমি,
কত যে চেনা !

হে দয়াময়,
সতত পাশে থেকো,
চরণে রেখো ।

২. ঊষষী লগনে

ঊষার হাসি,
রাঙা ঊষষী লগ্নে,
পূর্ব গগনে ।

সোনালী হাসি,
রক্তিম আভা ঝরে,
প্রভাত নভেঃ ।

মধুর গীতে,
বিহগ কাকলিতে,
হল সুঊষা ।

চন্দ্রা বিশ্বাস

অন্তর্দর্শন 
            
সকাল তো মুছে গেছে 
স্মৃতির দুয়ারে এঁটে দুরাশা-আগল,
দুপুরের রোদ্দুরে অসহায় মন বলে 
ভোল ওরে মন, তুই অতীতকে ভোল। 
কাটাছেঁড়া অবিরাম তবু অফুরান 
বিজলী চমকে মনে নব উত্তরণ। 
জীবন তো চলমান, তাই পথচলা 
ছন্দের তুলি আঁকে পালা কথামালা। 
মেধার অনল মনে ধিকিধিকি জ্বলে 
হতাশার ছাই মুছে হাসি সব ভুলে। 
পেটে যে আগুন, ঘরে মা-বাবা-ভাই 
সব ভুলে জঠরেতে অন্ন ছড়াই। 
অচেনা অজানা সেই দুপুর সকালে
ঘৃতাহুতি দিয়ে যাব মনন-অনলে। 
নতজানু জীবনের মনে শুভ মতি 
জীবনের হোক আজ পূর্ণ আত্মাহুতি। 
    

সপ্তমিতা নাথ

না নর না নারী মা নুষ আমি 

ছুঁয়ে দেখো
শুধুই দেহটাকেই নয় 
এই দেহে যে প্রাণ আছে 
তাতে আছে  ছোট্ট  একটা মন 
যদি পারো তাকে একবার ছুঁয়ে দেখো
ছুঁয়ে দেখো ,একবার মন দিয়ে
দেখো, এ নয় শুধু মাত্র মাটির পুতুল
ষোলো শৃঙ্গারে ইচ্ছা মত রূপে সাজাবে 
কখনো প্রতিমা গড়বে, দেবীর আসনে বসাবে
বর কামনায়,  আর পুজো শেষে দেবে ভাসান 
সৃষ্টির ধারায় -বংশ-পরম্পরায়
জন্মাতে চাই আবার , নারী দেহ 
বলতে পারো ? ভেবে দেখেছো
একি শুধুমাত্র যন্ত্র ? যা চলে ছাড়াই কোন যত্ন ?
পতির পূণ্যে সতীর পূণ্য, বলে পতির বিয়োগে পরিচিত করাও শ্বেত বস্ত্র,
পতিবিহনে ,আহার্য তার সাদামাটা অন্ন।
একবার ছুঁয়ে দেখো ! 
পতি ছাড়াও সতী যে হয়
সেই দেহতেও  প্রাণ থাকে ....
থাকে তাতেও মন।
নিজগৃহ ত্যাগে ...পরগৃহ গ্রহণে 
ভয়ভীত এক পা দু পা করে যে দেহে এগোয়,
সেই দেহের মূল্য ও পণ্যের ওজন থেকে হালকা।
তাই কখনো দেহের ঠিকানা হয় পঞ্চভূতে 
ছুয়ে দেখো একবার, ছুঁয়ে দেখো,
সেই দেহতেও প্রাণ থাকে ,
থাকে লুকিয়ে কোন আতঙ্কিত মন।
বেশ, দেহ নিয়েই যদি সব ছলনা,
মন যখন চাইনা!
তবে কেন কন্যাদেহ দেখামাত্র
উদ্যত হও ভ্রুণ হত্যায়?
একবার কান পেতে শুনে দেখো,
একবার হৃদয়টা ছুঁয়ে দেখো 
সেই দেহতেও হৃদয় আছে 
তাতে আছে প্রাণ ,
সেই প্রাণে লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা মন
এই প্রাণেও ব্যথা হয়
এই মনেও ইচ্ছে হয়
বাঁচতে হয়ে মানুষ শুধু
না হয়ে নর না হয়ে নারী ।।
                                          

আমিনুল ইসলাম

বড্ড বেশি মনে পড়ে তোমায় 

আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছে তোমাকে
বলেছিলে হারিয়ে যাবেনা কোনদিন আমাকে ছেড়ে।
কিন্তু আজকে দিনে দাঁড়িয়ে অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেল। 
পেরিয়ে গেল হাজারটা নিঃসঙ্গ  রাত একা হয়ে।
তুমি বলেছিলে ঝড় তুফান আসলে আমার হাত ধরে রাখবে
তবে আজ তুমি অনেক দূরে দাঁড়িয়ে।
তুমি বলেছিলে আমার বুক টা তোমার কাছে স্বর্গ।
তবে আজ তুমি কোথায়।
বড় ক্লান্ত আজ আমি, ভীষণ অসহায়।
আচ্ছা তোমার কি মনে পড়ে সেই বিকালের কথা
বলেছিলে থাকবে আমার দেখিয়েছিল হাজারো স্বপ্ন।
জানো আজ আবার ও বড্ড বেশি মনে সেই দিন
সেই তোমার ছলনাময়ী হাসির কথা।
তবে জানো তোমার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই।
শুধু বলি ভালো থেকো তোমার সেই নতুন ঠিকানায়।
জানি ফিরে আসবে না তুমি, হয়ে গেছ আকাশের কোন তারা। 
বিদায় জানাতে ও কষ্ট হয় তোমায় , তাই আজ অন্তরে আছো গাঁথা।
শুধু আজ ও বড্ড বেশি মনে পড়ে তোমায়।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

রিক্সাওয়ালা

রিক্সাওয়ালার রোজ রোজ 
মাথার ঘাম পায়ে ফেলা
দুমুঠো অন্নের জন্য করে
পরিশ্রম সারা বেলা। 
রোদে পুড়ে বৃষ্টি ভিজে
হাড় ভাঙ্গা শ্রমে
শত দুঃখের মাঝে ও তাদের
আনন্দ ফূর্তি জমে। 
সওয়ারীর অপেক্ষায় ওরা যখন
চৌমুহনী তে থাকে বসে
খবরের কাগজে বুলায় চোখ
সেই সময়ের ফাঁকে। 
রোদে জলে সবেতেই ওরা
যে পরিত্রাতা তাই
রিক্সাওয়ালাদের তোমরা 
কখনো করো ঘৃণা ভাই। 

রাজীব আচার্য্য

আমার কাশফুল

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
চোরা বৃষ্টি মাঝে মধ্যেই করছে খেলা,
দিনগুলো বষর্ণমুখর নয়
তাইত ভয় হয়।
ওই দূরে চঞ্চল কাশবন
দুরন্ত বাতাসে তার সাথে দোল খায় মন।
শরৎ সেজেছে কাশফুলে থরে বিথরে বালুচরে!
সাদা মেঘের শতদল উড়ছে অপরূপা নীলাম্বরে!
ভাটির দেশে শুভ্র কাশবন কেড়ে নিয়েছে মন,
নদীর তীর কত যে নিবিড়; মন হয় উচাটন!
হাওয়ায় দোলে ফুল দল উড়ে যেতে চায় সুদূরে;
মায়া-মমতায় আটকে আছে পাশাপাশি অঙ্গাঙ্গীভাবে!
ধূসর সাদা কাশফুলে ছেয়ে গেছে বালুচর।নীলাকাশে উড়ছে সাদা মেঘ স্তরে স্তর।
ধরাধামে নেমে এলো এলোকেশী উর্বশী!কপালেতে নীল টিপ যেন পূর্ণিমা শশী।

দীপান্বিতা পাণ্ডে

১. রোদ

বারান্দা দিয়ে তাকিয়ে দেখি
বাইরে অনেক রোদ
রোদটাকে জমিয়ে রেখে
খুঁজি হারানো মুল্যবোধ।

২. সৃজনে

সবাই সবটা করে
মুখে নানা রকমের কথা বলে
রং চড়ানো সৃজনে মোড়ানো
লোভ লালসার বেদীমূলে।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

অথচ

সেদিনও তো চোখে ছিল তৃষ্ণা অফুরান
হেঁটেছি বৃষ্টিপথে সৃষ্টিসুখের সন্ধানে
অথচ, জানা ছিল না সেদিন তোমার
দু’চোখ জুড়ে দেখব যত জমাট বাঁধা
দুঃখবেলার সাজানো সাতকাহন।

সেদিন সেই কালবেলায়, 
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেখেছি
যত অনাসৃষ্টির দুরন্ত দামালপনা
অথচ, এমনটা হওয়ার কথা তো ছিল না।

কথা ছিল না আরোও বহু কিছুরই
অথচ, সইতে হয়েছে সব…। 
কেন যে বার বার দাঁড়াতে হয় 
অনাদি অনন্ত অনিচ্ছেগুলোর মুখোমুখি। 

আসলে এ পৃথিবী শুধুই এক
একতরফা দেনাপাওনার মিথ্যে আঁতুড়ঘর ।
আমার এই ছাইপাঁশ তাই 
কারো ইচ্ছেসুখের রোজনামচায়, 
নিত্য খেলাঘর.........।

অম্লান চাকমা

দিশাহীন

দিশাহীন যুব সমাজ,
অপেক্ষায় একটুখানি আলো ।
যে বয়সে বই হাতে থাকার কথা,
সে বয়সে হাতে মাদকদ্রব্য ।
মাদক সেবন ও পান করা এখন জলের মতো,
যুব সমাজ এখন মাতাল সমাজে পরিণত ।
শহরে ও গ্রামে একই অবস্থা,
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণভাবে দিশাহারা ।
অধিকারের নামে লক্ষণ রেখা অতিক্রম করা,
মা-বাবা, শিক্ষক-শিক্ষিকা কিছু বললেই আইনি মামলা ।
মাদকদ্রব্যের দোকান এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো,
পুলিশ বাবুও দিন-রাত, মাস, বছর অন্য কাজে ব্যস্ত ।
দোষী কেউই হতে চাইবে না,
সত্যি বলতে গেলে দোষী সকলেই, দোষী পুরো সমাজই ।

কাজল মৈত্র

নক্ষত্র রেখা

নক্ষত্র কি সরলরেখায় আলো দেয়
অনু পরমাণুতে হারিয়ে যায় দিনের ঠিকানায়
আকাশে একসাথে অথচ শূন্যতায়
মিলেমিশে এক হয় গভীর চেতনায়
ওদেরও দেহকোষ মৃত্যুর অধীন
আলোকবর্ষ দূরে ওরা নিজস্ব স্বাধীন
হয়তোবা ফিরে আসে আত্মার কাছে
অশ্লেষা শতভিষা এক হয় ভালোবেসে
নক্ষত্র দৃষ্টি শুধু মিটিমিটই করে 
সরল রেখায় আলো স্নিগ্ধভাবে ঝরে ।

রুপন সূএধর

একটা তুমি

জীবনের স্বপ্ন সিড়ি  
কুড়াতে কুড়াতে
জীবন পাতার ডায়েরি
খুঁজে পেয়েছি
সে তুমি ভোরের স্বপ্ন তুমি। 
রাত শেষে, প্রতিদিন প্রভাতে
জীবনের সুখ খুঁজেছি
পথের পরে, ঘূর্ণাবর্তে
নয়ন সরসী তোমাতে
আজ আমিও সুখী।
পৃথিবীর হাজার ভিড়ে
মানবতার প্রেম
মায়াবি সে মুখ, 
দিবা নিশি,মনের আয়নায়
শুধু আমার, একটা তুমি।
অশান্ত ভবঘুরে জীবন 
হৃদয় তোমার স্পর্শে
নতুন প্রভাতে ফুলবাহার
ভ্রান্তমনে,সুখের ছোঁয়া 
আমার  একটা ভুমি।
অবহেলার সাগর পেরিয়ে
তোমার ভুবনে
সীমাহীন ভালোবাসায়
আজ শান্ত মন
বেজায় খুশি।
জগৎ সংসারে
প্রেমের বাজারে
তোমার নামে
আজ আমি যাচি
স্বর্গসুখে আমি বাঁচি।
স্বপ্নের অপ্সরা পেয়ে, 
হয়েছি ধনাঢ্য,সৌন্দর্য পুজারী, 
শুধু তোমারি জন্য 
সাতরঙের রংমহলে
স্বপ্নপুরীর আমিও প্রেমী।
তুমি আছো বলে আজ
ফাগুন বসন্ত ঘুরেফিরে 
লুকোচুরি খেলে
আমার দুয়ারে
দিবানিশি প্রেম খুঁজে।

নুরুল শিপার খান

একটি খেজুরের জন্য

আমিনা বায়না ধরেছে সে রোজা রাখবে ইফতার করবে, পাশের বাড়ির রইস বয়স ৭ সে রোজা রাখে প্রতিদিন মসজিদে যায় বাবার সাথে আর অনেক ইফতারি খায়, সে এসে আবার আমেনার সাথে গল্প করে।

গতকাল সন্ধ্যে বেলা ছোট্ট আমিনা  মায়ের কাছে এসে বসলো- মা মা রোজা কি ?

-রোজা হল এবাদত, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়, তারপর সন্ধায় খেজুর শরবত ,ফলসহ অনেক রকম খাবার দিয়ে ইফতার করতে হয়।

- অনেক রকম ফল!মা আমি রোজা রাখুম,

-বলিস কিরে মা তোর তো রোজা রাখার বয়সই হয়নাই।

মা তুমি না কইছো রোজা রাখলে ভালো ভালো ইফতারী খাওন যায়, তাহলে তো আমিও ভালো ভালো ইফতারি খেতে পারমু, রইস কইছে রোজা রাখলে মসজিদে নিয়া যাইবো,

-সে ঠিক আছে মা কিন্তু রোজা  তো তোমার জন্য ফরজ হয় নাই,

 রোজা রাখতে হলে কম করে হলেও আট বছর বয়স হতে হয় তোর তো এখন ছয় চলে মা ,এককাজ কর আগামী বছর থেকে রোজা রাখিস।

না মা আমি রোজা রাখুম,কত রঙ বেরঙের ইফতারি খামু, খেজুর খামু ,শরবত খামু আরো কত কি!

-ছি মা এসব বলতে নেই, রোজার মাস সংযমের মাস, ভালো ভালো ইফতারি  খাওনের আশায় রোজা রাখলে সেই রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হইবোনা।

-বড্ড ভাবনায় পড়ে গেলেন রহিমা বেগম, এবার কি জবাব দিবে মেয়েকে

 নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে সংসারে, সেই োসংসারে ফল খেজুর শরবত দিয়ে ইফতারি করা তো দূর দু-মুঠো ভাত ই জোটে না ঠিকমতো, সেখানে বাহারি রঙের ইফতারি খাওয়া আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।

কিন্তু মেয়েকে কিভাবে সান্তনা দিবে ভেবে পাচ্ছে না।

 মা  ও মা কি ভাবছো, রহিমা বেগমের ভাবনা দরজা টোকা দিয়ে মেয়ে আমিনা বলল।

নারে মা কিছুই ভাবছি না, ভাবছি তুই রোজা রাখবি।

হ মা আমি রোজা রাখুম।

শোন শোন তোর রোজা রাখনের কাম নাই কালকে বিকেলে সাহেব গো বাসার থেইকা তোরে আমি ইফতারি এনে খাওয়ামু মা।

না মা রোজা রাখলে ভালো ভালো খাওয়ান পাওয়া যায়, আমি রোজা রাখুম।

ঠিক আছে মা যা তুই এবার একটা ডুব দিয়ে আয় আমি তোরে ভাত দিতেছি।

মিনিট সেকেন্ড ঘন্টা পেরিয়ে অবশেষে সেহরির সময় হয়ে গেল,। মসজিদে মসজিদে মুয়াজ্জিন সবাইকে জাগিয়ে তুলছে 

প্রিয় মুসল্লী ভাই ও বোনেরা সেহরি খাওয়ার সময় হয়ে গেছে সবাই ঘুম থেকে উঠুন সেহরি খেয়ে নিন ইত্যাদি।

বাবা মায়ের সাথে আমিনা মুখ হাত ধুয়ে খেতে বসেছে, আমিনা দুই টুকরো মাংস পেয়েছে,

মাংস দু টুকরা পেয়ে আমিনা খুশিতে উদ্ভেল হয়ে গেল।

সাহেব গো বাসা থেকে মা রহিমা বেগমকে খাবার দিয়েছিল, সেই খাবার না খেয়ে আমিনার জন্য নিয়ে এসেছে।

মেয়ের হাসি মুখ দেখে বাবা বললেন এইতো আমার মেয়ে বড় হয়ে যাচ্ছে, কাল তোমার জন্য ইফতারি আনবো, তুমি খুশি মনে খাবে মা।

কি মজা, কি মজা কাল ইফতারি খামু।

সেহরি খেয়ে আমিনা ঘুমিয়ে পড়ল,

 কিছুক্ষণ পর ফজরের আযান দিলো মা রহিমা বেগম এই ফাঁকে ফজরের নামাজটা পড়ে নিল, চারদিকে সকাল হয়ে গেল পাখি কিচির মিচির ডাকতে লাগলো, এরি মধ্যে বাবা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এলেন।

কি ও আমেনার মা এখনো ঘুমিয়ে আছো।

নাগো ঘুম আসছে না, আপনি যে কইলেন মেয়েকে ইফতারি খাওয়াবেন টাকা পাবেন কই, আপনার হাতের অবস্থা তো আমি জানি তয় কেমনে কি করবেন?


ও নিয়ে তোমারে ভাবতে হবে না আমিনার মা, আমি দেখি কাজকাম করে ঠিকই মেয়ের ইফতারের ব্যবস্থা করে নিতে পারব।

আমেনার বাবা কাওরান বাজারের কুলি, এই শহরের বড় বড় সাহেবরা যখন কাওরান বাজার উনাদের মাসিক বাজার করতে আসেন তখন আমিনার বাবাদের মত অজস্র মানুষ ওনাদের পিছনে পিছনে হাটেন কপাল গুনে মোট বওয়ার কাজ পেয়ে যান, কোনদিন ১০০ ২০০ কোনদিন আমার খালি হাতে ফিরতে হয় ঘরে। এই করুনা আসার পরে মানুষের পকেটে আগের মত টাকা নাই তাই কুলি মজুরদের রোজগারও কমে গেছে।

রোজার ভেতরে সকাল সকাল এই সাহেবরাও বাজার করতে চলে আসেন,

আমেনার মা আমার ঐ পাঞ্জাবীটা দাও আর একটা ব্যাগ দাও।

এত সকাল সকাল কই যাইবেন।

-যেখানে যাই প্রতিদিন সেখানে যাব, এ রোজার মাসে সকাল সকাল সাহেব বেগম সাহেবারা বাজার করতে আসে, দেখি মোট বয়ে যদি কিছু পয়সা উপার্জন করতে পারি, মেয়েটার জন্য একটু ইফতারি তো আনতে পারবো।

আমেনার বাবা বেরিয়ে গেল

রহিমা বেগম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, হায়রে আল্লাহ আমাদের কেন গরিব বানাইলা আর গরিবে যদি বানাইবা তাহলে পেট কেন দিছিলা খিদা কেন দিছিলা , ছোট্ট মাইয়াডারে ভালো-মন্দ খাওয়াতে পারি না ইত্যাদি ইত্যাদি।

সকাল দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেল ধীরে ধীরে আমেনাকে রোজায় ধরছে মানে একটু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে বলছে মা গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, ইফতারের আর এক ঘন্টা বাকি, ঘরে সবাই অপেক্ষা করছে বাবা ঘরে ফিরবে, এভাবে বেশ কিছু সময় পার হয়ে যায় ,বাবার আসেনা, মায়ের চিন্তার শেষ হচ্ছে না, যে মানুষ বিকেল চারটার ভিতর ঘরে চলে আসে এখন ছয়টা ছুঁই ছুঁই তবুও বাসায় ফিরছে না, মনটা কেমন কু ডাক ডাকছে, এদিকে ইফতারের সময়ও হয়ে আসছে, মেয়ে অধীর আগ্রহে বসে আছে বাবা ইফতারি নিয়ে ফিরবে, মেয়েকেই বা কি বলে সান্ত্বনা দিবে রহিমা বেগম।

হঠাৎ পাশের বাড়ির জলিল মিয়া এলো

-আমিনার মা ঘরে আছো?

-জি ভাইজান!

শুনলাম আমিনার বাবারে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে, তা সত্যি নাকি।

-বলেন কি? কথাটা শুনে রহিমা বেগম থ হয়ে গেল, ভাইজান আমি তো এর কিছুই জানিনা।

-আরে হ, গঞ্জে থেকে ফেরার পথে শুনলাম কয়েকজন বলাবলি করতে ছিল খেজুর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ছে!

কথা শুনে আমেনার হাত ধরে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল রহিমা বেগম, পাড়ার মানুষেরা বলাবলি করছিল যে আমিনার বাপ এমন একটা কাজ করলো শেষে কিনা খেজুর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লো।

মা মেয়ে হেটে হেঁটে ক্লান্ত শরীরের থানায় পৌঁছে গেলেন, তখন অলরেডি আজান দিয়ে দিয়েছে সবাই ইফতারি করতেছে ছোট্ট আমেনার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তবুও -মেয়ে এখন ব্যস্ত হয়ে আছে বাবাকে এক নজর দেখার জন্য।

হাতের রশি বেঁধে বাঁধা অবস্থায় বাবাকে সামনে আনা হলো, ছোট শিশু বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল তোমার কি হয়েছে বাবা, কেন তোমাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখছে।

-তোর বাবা বাজার  থেকে এক কাটুন খেজুর চুরি করেছে সেই অপরাধে তোর বাবাকে আমরা ধরে নিয়ে এসেছি একজন পুলিশ বলল।

-ও পুলিশ কাকু সব দোষ আমার,আমি বাবার কাছে খেজুর খাইতে চাইছিলাম তাই তো বাবা বাধ্য হয়ে চুরি করছে আমার বাবারে ছাইড়া দেন,

-না তোর বাবার শাস্তি হবে।

সেদিনে আমিনার বাবাকে কোর্টে চালান করে দেয়া হলো, টাকা পয়সার অভাবে উকিল ধরতে পারে নাই কি জানি কি হবে শেষ পরিণতি,হয়তো যাবজ্জীবন জেল, আমাদের সমাজে বড় বড় রাঘব বোয়ালেরা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, তাদের কিচ্ছু হয় না অথচ পেটের দায়ে মেয়ের চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে  সাত্তার মিয়া খেজুর চুরি করেছে ,তার হবে যাবজ্জীবন হায়রে সমাজ ব্যবস্থা।

হঠাৎ রাতে ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে উঠলো আমেনা 

বাবা আমার দামি দামি ইফতারি শরবত খেজুর কিচ্ছু চায় না বাবা শুধু তুমি ফিরে আসো, বাবা আমি তোমাকে চাই,

ফিরে এসো বাবা।

মেয়ের কান্নার সাথে সুর মিলিয়ে মা রহিমা বেগম কেঁদে উঠলো।

মধ্যরাতে পুরো এলাকায় প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসছে শুধু একটি কথা "বাবা ফিরে" এসো।

শর্মি দে

ত্রিশঙ্কু 

তুমি অপরাধী--
জং ধরা পৃথিবীতে নিয়েছো জন্ম
কালা বধির কবিকে দিয়েছো প্রশ্রয়
মেহগনির রঙ ডুব দিয়েছে 
তাও কি ধরা পড়ে নি কবির উষ্ণ পেলবতায়!
---সূর্যরাগে সিক্ত হয় অভিমান 
যখন মনকেমনের রাতগুলো নীচে নেমে আসে 
আবার সব পাল্টে যায়, সন্ধ্যার কোলাহলে 
তবুও কবির জাগানিয়া রাত হয়না তীব্র।
মনবারান্দায় কেবল ঠিকানাহীন শব্দেরা...
আঁকড়ে ধরে পূর্বী রাগে গভীর হতে থাকে 
শেষ বসন্তের উপন্যাসে!---
কবি থাক্ তার বিবশতার পথে
পাশ দিয়ে বয়ে যাক বুকের নদী 
স্রোতহীন
অমৃতসময়ে
কবির নীরবতার সাক্ষী হয়ে...!!
তুমি যে আজও অপরাধী।

Apr 2, 2024

অপাংশু দেবনাথ

একটি পঙক্তির জন্য

আমার মুখ চিরকাল তাক করা থাকে তরুণের দিকে,
এ কথা বুঝতে পারেনা দীর্ঘদিনের স্বজনেরা।

এই যে বাজার, এ বাজার কারও একার নয়,
এখানে যেতে হয় রিক্সা শ্রমিক থেকে বাস-মালিক,
খুনের আসামী,প্রতাপশালী কোনো জজ সাহেব কিংবা 
কবিতার একজন মরমী পাঠক থেকে আত্মভোলা কবি।

সবাই হয়তো চিনেছেন নিজেকে বলয়ের ভেতর থেকে,
কবি তার স্বজনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, 
যাবতীয় বিষ পান করে হয়ে ওঠে নীলকণ্ঠ। 

তরুণেরা কবিতার হিরন্ময় জ্যোতি প্রকাশে মগ্ন হলে,
আমার চোখ চির বিনিদ্র থাকে দারুণ একটি পঙক্তির জন্য।

সনজিৎ বণিক

ঘুমিয়ে আছে দেবশিশু 

এই যে আকাশের নীল বারবার ঘুরেফিরে আসে

এই যে স্বপ্নময় পৃথিবীর জল মাটি   আলো বাতাস আমাদের জাগিয়ে রাখে আর এঁকে চলে এই মায়ার বাঁধন , বন্ধনের হাজার ঘড়ি বারবার বেজে চলে, আকাশ বাতাস সব স্বপ্নের মায়াজালে মন ভালো রাখে, এ সময় আজ বড়ো বেশী আনন্দময় , পৃথিবীর সব দেব শিশুরা  জেগে উঠেছে , তাদের জাগিয়ে রাখাটাই আজ বড়ো জরুরী।

নবীনকিশোর রায়

বিলাপ 

ঝরা পাতার বিলাপ নিয়ে 
বসন্ত এসে দ্বারে ফিরে যায়

জীর্ণ শাখায় হলুদ পাখি
খুঁজে ফিরে প্রাণের সখী

মৃদুশীতল দক্ষিণা বাতাস  খোলা বুক ছুঁয়ে যায় 

বিরহের নীরব চিৎকার 
ছড়িয়ে পড়ে  নির্জন অরণ্যে। 

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ও বাসন্তী,তুমি না এলে জানতাম না

ও বাসন্তী,তুমি না এলে জানতাম না যে-
মৃত্তিকার এই পৃথিবী রসবতী হয়
ডালে ডালে ফুল মুকুলিত হয়,
হেমন্তে ভোগা পৃথিবী এক মুঠো আবির উড়িয়ে
রঙালির স্বপ্ন দেখে।

ও বাসন্তী,তুমি না এলে জানতাম না যে-
সোনালী রোদের পাশে বৃষ্টি ছুঁয়ে যায়
মরাগাঙের বুক ভরে,ছুটে চলার গতি পায়,
তোমার সঙ্গতে ঝড়ের মুখে মুকুল
টিকে থাকার শক্তি পায়,আম ফুটাতে চায়,
কোকিল সুমিষ্ট আম-কাঠালের দিনের গান গায়।

লিটন শব্দকর

আয়নাবাড়ি 

ছায়াময় ভাড়া বাড়িতে বসে সকাল দুপুর রাত একটি 
অ্যামিবা কে তার পঞ্চান্ন বছর ধরে লেখা সব কবিতা 
পড়ে শোনাচ্ছে। যখন বিরতি নেয়, তখন বাইরে এসে 
ঝরা পাতার ধৈর্য্য দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। 

কয়েকশো বসন্ত তার নিয়ম করে ঝরে যাওয়া দেখে
শিরায় শিরায় আত্মস্থ করে নিয়েছে যাপনের কৌশল

এখন সমস্ত ভাড়া বাড়ি জুড়ে রয়েছে একটিই আয়না।

ছন্দা দাম

বসন্ত তুই

ও বসন্ত তুই যে আমার উদাস করা দুপুর রোদ
তোর ছোঁয়াতে মনকেমনের নেশায় আমি বুঁদ।

বসন্ত তোর আবীর ঠোঁটে মাতাল বুকের ঢেউ
তোর স্পর্শে উতল হাওয়ায় ডাক দিয়ে যায় কেউ।

নিঝুম দুপুর ঝিঁঝিঁর নূপুর বলছে কানে কানে.…
শুকনো পাতায় কি বলে যায় জানা নেই তার মানে।

হাজার কথা না বলা সব দোলা যে দেয় মনকোণে
তোর আমার কথা না হয় রইলো রাখা হৃদগহীনে।

বসন্ত তোর আলুথালু বুকের ভেতর একটা নদী
ডাকনামেতে ডাকছে বুঝি সকাল সাঁঝে নিরবধি।

পলাশ অশোক শিমুল সাজায় আবীর রঙা উঠোন
লাল লাল তোর বুকের বাঁদিক হাসায় কাঁদায় সারাক্ষণ।

ঝিমলি আচার্য

রাজনন্দিনী 

আমরা বাঙালী মায়ের সন্তান 
বাংলা মাস বাংলা তারিখ 
                বাংলা বছরই ভুলে থাকি ।
আমরা তো নই ভিন্ন ভাষী ---
কান পাতলে শোনা যায় বাংলা 
মায়ের আর্তনাদ যন্ত্রণার কথা ।

পাশের বাড়ির মুরগের ডাক
ঘুম জাগানো পাখির কলতানে 
'ঊষা ' মুখখানা ভারি মিষ্টি ।

এমনি একদিন ঊষার শেষে 
উঠান ঝাড় দিতে দিতে-----
দক্ষিণা হাওয়ার স্পর্শ  মুখে 
মুচকি হাসি আর মনে মনে 
প্রশ্ন--  ফাল্গুন মাস শুরু ?
মানে ঋতুরাজ বসন্ত !

আনন্দের ফোয়ারা বইতে লাগল 
মনে দোল পূর্ণিমা আসছে ভেবে ।
শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্ম তিথি 
ভগবান শ্রী কৃষ্ণ শ্রী রাধা গোপীগনের 
আবিরে রাঙার উৎসব ।

কোকিলের কুহু কুহু গুঞ্জনে কচি 
পাতার আগমনে বসন্ত সেজে ওঠে ।

মন মেতে ওঠে ভালবাসায় কত ছবি 
ভেসে বেড়ায় চোখের পাতায় ।
প্রিয়কে আবিরে রাঙাবো বলে 
দিন কাটে হোলির অপেক্ষায় ।

প্রকৃতির সাথে মেল বন্ধনে কবি গুরুর 
বসন্ত উৎসবের সূচনা শান্তি নিকেতনে ।

সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা 
সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার বন্ধনা করেন 
বসন্ত কালে, তাই বাসন্তী রুপে পূজিত 
হন দেবী বসন্তে । 
আমরা রাজনন্দিনীকে 
এভাবে মিষ্টি মধুর ভালবাসায় উপভোগ করি ।

নন্দিতা ভট্টাচার্য্য

কবিতা কাহিনী

কবিতার বসত বুকের ভিতর 
কখনো বাইরে এলোমেলো পদচারণা,
ইতিহাস লুকিয়ে থাকে কবিতার বুকে - 
সৌরকাহিনী, ছায়াপথ, তারামন্ডল
ঝিকমিক করে কবিতার অক্ষরমালায়,
ধরা পড়ে যায় 
কত প্রেম বিরহের কাহিনী
কাব্যসুন্দরীর চোখে।
যে নাবিকটি জাহাজে চেপে
ভেসেছিল অজানা সমুদ্রে
তার ফিরে আসা না আসার দোলাচল 
সেই তো ভাটিয়ালি,
কাঠফাটা রোদ্দুরে মাঠে কৃষকের অপেক্ষা 
তার সঙ্গিনীর, অপেক্ষা ফসল কাটার -
সেও এক কবিতা- যাপনের
সকল অনুভব সেজে ওঠে কথামালায় ,
জীবনের সারিগান হয়ে
বেঁচে থাকে কবিতায়।

রিপন সিংহ

সবে তো সন্ধ্যা

সবে তো সন্ধ্যা, এখনো যে রাত ঢের
        হলুদ সন্ধা ---

     যামিনী এসে ধরলো আমার হাত
     কিন্তু নিঃশব্দ, তবুও হঠাৎ
সময় হয়নি এখনও আমার
                  তবুও নিয়ে যায়

     তারপর দু'জনে আবার।

চন্দ্রা বিশ্বাস

 উপলব্ধি

স্বপ্ন ফুলে অঞ্জলি দিই শুধতে জীবন ঋণ 
নিত্যি যাপন পথের কাঁটায়, কবি নিদ্রাহীন। 
ক্ষয়ে যাচ্ছে দিন-ক্ষণ-কাল,ফুরিয়ে যাবে রাত 
যতই জীবন চন্দন কাঠ, সৌরভের বরাত। 
মৌমাছিও পরাগে মাতে,মেলে কুয়াশায় ডানা 
ফুলের  রঙিন দুনিয়াটাতেও প্রখর বিবেচনা। 
গোপন লড়াই অহর্নিশি, হারিয়ে যাচ্ছে মন 
মনকে বোঝাই, ওরে অবুঝ এরকমই জীবন। 
রংমশালের পাঠশালাতে প্রতারণা-পাঠ 
অঙ্গীকারের রোশনাইতে প্রেক্ষাপট লোপাট। 
তবু নিঃশ্বাস-দীর্ঘশ্বাসের মেহফিল-সংগীতে 
বুকের ওমে সেঁকা জীবনও কাঁপছে প্রবল শীতে।

অভিষেক অধিকারী

পুরাকীর্তি

সভ্যতার অতীত লেখা থাকে প্রস্তর গাত্রে।
প্রস্তর গাত্রের সব লেখা পড়া যায় না।

এক নায়কের অতৃপ্ত ইচ্ছার বলি হয়
শ্রমজীবির উদয়অস্ত পরিশ্রম।

তবুও রাজা, জমিদাররা ফিরে ফিরে আসে,
নীলরক্তের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করতে।

পুরাকীর্তি ঘাঁটলে পাওয়া যায় কিছু
দাম্ভিক মানুষের উপাখ্যান।

ঘরে সংগ্রহশালা বানিয়ে মৃতদের স্তুপ তৈরি করে
রাখে কিছু মৃতপ্রায় মানুষ। 
যার হৃদয় হয়তো বহুকাল আগেই ফসিলে পরিণত হয়েছে ।
পুরাকীর্তি ঘাঁটলে তাই মানুষ পাওয়া যায় না ।
পাওয়া যায় মানুষের গৌরবান্বিত সত্ত্বার ফসিলে পরিণত হওয়া আস্তরণ। ।

সুজন দেবনাথ

নিরুদ্দেশের যাত্রী

একটি নদী সরল বেগে
কলকল দিনরাত।
একটি তরী যাচ্ছে ভেসে
তেপান্তরের মাঠ।।

বাঁকা নদীর ধারার মাঝে 
টলমল তরী খানা।
নিরুদ্দেশের যাত্রী আমি
ঠিকানাটা অজানা।।

শ্বেতা ব্যানার্জী

ভাসছে মানবতা

নিভে যাওয়ার আগে দপ্ করে জ্বলে ওঠে নিরবতা....   
ভেবোনা ঘুমিয়ে পড়েছি,আসলে বালিশে  রেখেছি মাথা -
তবুও কমেনি  বিপর্যয় মাখা মানসিক চঞ্চলতা ---

 যুদ্ধেতে  নামিনি, তোমারা নামিয়েছ...
এনেছ প্রলয় ডেকে----
হার্মাদের মতন ঢুকছে জলোচ্ছ্বাস আবরণ যাচ্ছে ভেসে...
তবু, ঘুমোচ্ছে  প্রহরী কড়া ডোজ নিয়ে দরজায় খিল এঁটে।

ধমকিয়ে বলো আস্ত উজবুক হাত দু'খানা রাখো তো ঠিক। 
জোড়হাত করতে দুটো হাতই লাগে, বোঝ না ঠিক- বেঠিক! 
আমি ভাবি মনে ডোবা পারাপারে একটি হাত-ই সঠিক---

আবরণহীন এ-ই ভেসে থাকাতে ঘুমতে চাইছে  মন,
তিল তিল করে বুকের জমিতে জমছে শ্যাওলার 
আস্তরণ--
জানতে পারিনি,জানতে পারিনা, কেন ভাসছি অকারণ.. 

পাথুরে এই অবরোধ ঠেলে ফোটাবো সমুদ্র ঢেউ.... 
সমুদ্র নাভীমূলে ফুটছে বুদবুদ  তোমরা দেখতে পাচ্ছো কেউ!
আর দেরি নয় সন্ন্যাস ছাড়ো, পিছনে পড়ো যেমনটা থাকে ফেউ।

পিছিয়ে যেওনা, এগিয়ে চলো.. মাঝরাত ছুঁয়ে দিনকে  নামাও নিমিষেই..
স্বপ্নগুলোকে  কাঁদতে না দিয়ে  ওদেরকেও রাখো জাগিয়েই-
যেমন , ডুবে যেতে যেতে বিদ্যুৎলতা বিচ্ছুরণ ঘটায় আকাশেই..

চিরকাল ধরে খেলা খেলে গেলাম শুধু এ-ই ছায়াশরীর নিয়ে...
ভেবেছিলাম উপড়ে ফেলবো খুঁটি গরম বালিতে পা দিয়ে
আজ, বিধাতারে জানাই ক্ষোভ, আক্রোশ,  মুক্তির স্বাদ চেয়ে...

না, না, আর না, আর না, এই যন্ত্রণা ফোস্কা পরছে  শরীরে
ডুবতে ডুবতে তলিয়ে যাচ্ছি... মানবতা বলে কী করি রে?

অশ্বিনী কুমার মন্ডল

বসন্ত বাহারে

বসন্ত এলো শিমুল পলাশে
ফুলেতে ভরেছে ডাল,
গুন গুন সুরে অলিরা সকল 
নিজ কাজে দেয় তাল ।

শাখায় শাখায় ফুলে ফুলে তারা
মধু আহরণ করে,
পরাগ রেণুর মিলন ঘটায়
সকল জীবের তরে।

পাতাঝরা যত গাছ গুলো সব
আনন্দে নেচে ওঠে,
বসন্ত আসে নব কিশলয়ে
ধরা মাঝে হাসি ফোটে।

ফাগুন বাহারে ঋতুরাজ আজ
দুয়ার দিয়েছে খুলে,
মিলন পিয়াসী সকল প্রেমিক
যায় যে বিরহ ভুলে ।

ফাগুনের এই রূপের বাহারে
আলোকিত ধরা ভূমি,
তোমার তুলনা হয়না কখনো
চরণ তোমার চুমি।

দীপান্বিতা পান্ডে

মরিচীকা

ছায়া আর মরিচীকা দুজনেই চলে সাথে সাথে। 
একদিন ছায়া এসে বলেছিল জীবন্ত লাশে  ভালবাসি ভালবাসি তোমাকে।
শবখানা উঠেছিল নড়ে চড়ে ভেবেছিল ঘুমঘোরে মৃত
বার বার স্বপ্নের মাঝখানে হানা দিত অবিরত।
শবখানা প্রাণ পেল অমৃতের পরশে
আশা নিয়ে জেগে উঠা প্রতিনিয়ত আনন্দ হরষে।

শ্যামা ভট্টাচার্য

অব্যাক্ত ইচ্ছে

‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍ইচ্ছে টুকু রয়ে গেলো মনের কোনে সংগোপনে
কবে কোথাও দেখা হলে বলবো কিন্তু কানে কানে
ইচ্ছে টুকু রয়ে গেলো চোখের জলে আনমনে 
আবার যদি দেখা হয় বলবো কিন্তু সাবধানে 
ইচ্ছে টুকু রয়েই গেলো বুকের ভেতর অকারণে 
দেখা যখন হবে আবার বলবো তোমায় গানে গানে
আমার  পরান যাহা চায়.... 
ইচ্ছেটুকু রয়ে গেলো মনের কোনে সংগোপনে
সেদিনের সেই স্বপ্নে দেখা জাল বুনবো মনেমনে
ইচ্ছেটুকু রয়েই গেলো হৃদয়েরই গোপন কোনে
দেখা যদি হয় কখনো দীঘির পাড়ে ঈশান কোনে 
ইচ্ছেটুকু রয়েই গেলো হলোনা বলা এ জীবনে 
তবু ও যদি   দেখা হয় কোথাও কখনো অবচেতনে
তবু  যদি দেখা হয় ঘুম ভাঙ্গা ভোর শয়ন স্বপনে
ইচ্ছে টুকু রয়েই গেলো হলনা দেখা তোমার সনে।

পান্থ দাস

কাঁদাবো না

যতই সময় যাক না চলে নিস্তব্ধতায়
আর কষ্ট পেলে একা থাকবো না,
সময় পেলে সময়ে বাঁধবো হাজারো ব্যস্ততায়
গোপনে চোখের জল মুছে কাঁদাবো না।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

গল্প

সত্যিকারে বাণী বন্দনা

তিনটি রুটি আর জল খেয়ে মোহন আর তার বৌ অনিমা এবং ছেলে জগাই শুয়ে পড়ল। ওরা খুব গরীব। মোহন প্রতিদিন ভোরবেলা কাজে বেড়িয়ে যায় সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। যা রোজগার হয় তাতে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। কিন্তু তাদের ছেলে জগাই সারাদিন বাঁশি বাজিয়ে মাঠে মাঠে ঘুরে। বাঁশিকেই সারাজীবনের সঙ্গী করে নিয়েছে ধ্যান জ্ঞান সব। মোহন পান্তাভাত খেয়ে রাগে গজগজ করতে করতে কাজে বেড়িয়ে গেল। সেদিন ছিল সরস্বতী পূজা। জগাই ভোরবেলা উঠে স্নান সেরে বাঁশি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। মায়ের পিছু ডাক কে শুনে।

উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডী পেরুনোর পর জগাই এর আর কলেজে পড়া হয় নি। কিন্তু সে বাঁশি ছাড়ে নি। বহু কষ্টে সে গিরিধারী বাঁসুরিয়ার কাছে তালিম নেয়। জগাই আস্তে আস্তে সেরা বাঁসুরী হিসাবে পরিচিত হলো। মনে হতো তার গলায় স্বয়ং দেবী সরস্বতী নেমে এসেছেন। জগাই বেশি হৈচৈ পছন্দ করত না। তার পকেটে সবসময় সরস্বতী মায়ের ছবি থাকত। সেদিন তাদের পাড়া তে সরস্বতী পূজা হচ্ছিল। কিন্তু জগাই সেই পূজায় না গিয়ে তাদের গ্রামের মাঠের বাইরে একটি বটগাছ ছিল। সেখানে গিয়ে জগাই তার পকেট থেকে সরস্বতী মায়ের ছবিটা বের করে সেই বটগাছের নীচে বসিয়ে ধূপদীপ জ্বালিয়ে একাগ্রচিত্তে বাঁশি বাজিয়ে চলছে। বাঁশির অপরূপ সুরের টানে পাড়ার পূজার প্যান্ডেল ছেড়ে সব লোক এসে জগাইর সামনে দাঁড়ালো। জগাই কে ঘিরে ধরল। সে কি অপরূপ দৃশ্য। জগাই এর কোনদিকেই কোন খেয়াল নেই। তার চোখ দিয়ে জলের ধারা বইছে আর সে এক মনে বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আকাশ বাতাস যেন মাতাল হয়ে উঠেছে তার সুরঝঙ্কারে।

তনুশ্রী বৈদ্য

 একটা মন

একটা মন কলির মতো, ওলির মতো, 
একটি নদের পলির মতো
পাখ-পাখালীর উধাও উধাও পরিশ্রান্ত প্রহর, 
উথাল পাথাল ধানসিঁড়ি তরঙ্গ নিটোল নহর, 
শ্যামল খামার বায়ুর ছলে সুরের বহর;
একটা মন লতিকার মতো, লজ্জাবতীর পাতার মতো
বহু কথকতার মতো। 
ঝুমুর ঝুমুর ঝাউয়ের মালা দুপুর বেলা
বহুদূর অঁচল আলোর পাড় সাগর বেলা
ঝোপঝাড় ও ঝিল জোনাক জোনাক তারার মেলা;
একটা মন ফুলের মতো,একটি নদের তীরের মতো
বট-পাকুড়ের মূলের মতো। 
রাঙামাটির স্বপন সতেজ সুখদ পাহাড়, 
মন মাতানো একটি নদের এপার ওপার, 
একটা মন ময়দানের মতো, পল্লীগায়েঁর হাতলের মতো, 
নৌকা বাঁধা ঘাটের মতো
একটা মন কলির মতো, ওলির মতো, 
একটি নদের পলির মতো।

সুচরিতা পাটারী

১. নীরবতা

কোলাহলে নীরবতা যেমন করে আসে,
তোমার কঠিন অসুখ হলে,
আমার সুখ যায় রসাতলে, 
তেমন করেই নীরবতা তখন আমায় গ্রাসে।।

২. প্রেম-ভ্রম

যে জখম কিনেছিলাম সামান্য কিছু দামে,
কখনো গুজব হতে,
নয়তো তীব্র অপেক্ষাতে,
সেসব আজ মিলিয়ে গেলো তোমার প্রেম-ভ্রমে।।

রীতা চক্রবর্তী (লিপি)

ভ্রমণ ডাইরি  

আলেপ্পি

সত্যি জীবনতো নয় যেন এক যুদ্ধ। হুঁচোট খেতে খেতে এগিয়ে চলা বই আর কিছু নয়!জীবন পথে চলতে চলতে যুঝতে যুঝতে হঠাৎ নানা ধরনের ঝড়ের আবির্ভাব হয় আর সেই ঝড় যখন শান্ত হয় তখন দেখি নিজেই কবে নিজের সব স্বকীয়তা নিজস্বতা ভালোলাগা সব হারিয়ে ফেলেছি। আজ কলম হাতে বসে এমন অনুভূতি আবার নূতন করে উপলদ্ধি করলাম। কিন্তু লিখা যে আমার নেশা!!আর আমি আমার কিছু বন্ধুদেরকে কথা দিয়েছিলাম কেরালা নিয়ে  "ভ্রমণ ডাইরি" লিখব তাই আজ বন্ধুদের জন্য অগোছাল এলোমেলো কিছু কথা লিখে দিলাম ধূলো জমে পলি পড়ে থাকা স্মৃতির ভান্ডার  হাতড়ে হাতড়ে।

       বহু বছর আগে পুজোসংখ্যা নবকল্লোলে একটি উপন্যাস পড়েছিলাম,নাম ছিল "কায়েলের জলে"।কার লেখা আজ আর মনে নেই (প্রফুল্ল রায় নয়ত সর্বাণী মুখোপাধ্যায়)।উপন্যাসটির পটভূমিকা ছিল সুন্দরী আলেপ্পির কালোজল ব্যাকওয়াটার ঘিরে। হাউজবোটে একদিন একরাতের গল্প। পড়ে মুগ্ধ ও আপ্লুত হয়েছিলাম। জীবনে একবার কায়েলের কালো জলে ঘুরে বেড়ানোর ছোট্ট একটি ইচ্ছা মনে মনে পোষন করতাম সবসময়। আমার এ ইচ্ছাটি বাড়ির সবাই জানতেন। তিনি বলেছিলেন নিয়ে যাবেন আমায়। আমরা যখন ২০১০ সালে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছিলাম তখন কোভালম বিচে একরাত বেশী থাকার দরুন আলেপ্পি যাবার আর সময় হয়ে উঠেনি,তাই এবারে যখন ছেলে টিকিট কেটে এসে বলল মা তোমাকে তোমার প্রিয় উপন্যাসের শহরে নিয়ে যাব এবার,তখন কিন্তু আমি মুখে কিছু না বললেও মনে মনে খুশিতে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠেছিলাম একান্তে।

                   অগত্যা সেইদিন এলো। আমরা বেঙ্গালুরুকে ট্রেনজিট কেম্প বানিয়ে সেখান থেকে সব রকম সুযোগ সুবিধা থাকা অত্যাধুনিক রাতের বাসে চড়লাম রূপসী আলেপ্পির উদ্দেশ্যে। রাস্তা খুব ভালো।  বাস ছুটে চলল হু হু করে। কিন্তু তবু সারারাত একটুও ঘুম হলো না উত্তেজনা ও আনন্দে।  সেদিন আবার দেখলাম আঁধারের বুক চিড়ে এক নূতন সূর্যোদয়,এক নূতন দিনের শুভারম্ভ। এক নতুন সকালের আত্মপ্রকাশ। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে সবেমাত্র একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছি অমনি চোখ মেলে দেখি আলেপ্পি পৌঁছে গেছি আমরা।

            জানতাম স্বর্গের মত সুন্দর কেরালাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্র্যাভেলার বিশ্বের দশটি স্বর্গ রাজ্যের একটি হিসাবে ঘোষনা করেছে।সত্যিই প্রকৃতিদেবী ওখানে তাঁর রূপের মাধুরী দুই হাত উজার করে অকাতরে ঢেলে দিয়েছেন। পাহাড় সমুদ্রের সমাহারে মনে প্রকৃতি প্রেমের নেশার ঘোর লেগে যায়। ভ্রমণ পিপাসু মনে পরম তৃপ্তি অনুভব হয়।

             সমুদ্র নদী লেক আর অজস্র খাল আলেপ্পি শহরটিকে ঘিরে রেখেছে। রূপসী আলেপ্পিকে প্রাচ্যের ভেনিস বলা হয়। শহরটির একপাশে আরব সাগর অপরপাশে ভেম্বানাদ লেক ও মাঝে ৬৫টি খাল ১২টি গ্রামের বুক চিড়ে মোহনায় গিয়ে মিশেছে। ঈশ্বরের নিজের দেশ বুঝি কেরালা, যারজন্য প্রকৃতিদেবী তার রূপের পসরা থরে বিথরে সাজিয়ে রেখেছেন।

              বাসের টিকিটের অসুবিধার জন্য ছেলের বন্ধু রাজা একঘন্টা আগেই আলেপ্পি পৌঁছে একটি হাউজবোট সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিয়েছিল। বাস থেকে নেমে একটি অটো নিয়ে আমরাও সেথায় পৌঁছে গেলাম আর অমনি আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। কারণ হাউজবোট যেথায় নোঙর করা আছে সে জায়গাটা আমাদের এখানকার ভরলুর নালার থেকে বেশী কিছু নয়। কচুরিপানায় ভরা নোংরা শ্যাওলা পড়া কালো জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবু এসেছি যখন দেখেতো যাবই। মন খারাপ নিয়েই হাউজবোটে উঠে বসলাম। বোট একটু চলার পরই নোংরা খাল থেকে বেড়িয়ে অগাধ জলরাশিতে পাড়ি দিল আর আমার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো আহা কী অপূর্ব!! সেথায় জলের রং গাঢ় সবুজ,দুইপাশে অসংখ্য নারকেলবিথি মালার মত জলের উপড় নুয়ে পড়ে আদরে সুহাগে লেকের জলকে জড়িয়ে আছে। গাছের ছায়ায় দূর থেকে লেকের জল একেবারে কুচকুচে কালো লাগছিল। কি অপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য সেথায় তার বর্ণনা দেবার শক্তি আমার কলমের নেই! কিন্তু আমিতো জাতিস্মর নই! তবে কেন আমার মনে হচ্ছে এমন অপরূপ প্রকৃতির রূপ আমি আগেও কোথাও দেখেছি! অমনি ছেলে বলল, মা আমাদের বাড়িতে যে ১২ পাতার একটি ক্যালেন্ডার আছে সেগুলো তারমানে সবই আলেপ্পির ছবি আর আমিও মনে মনে আশ্বস্ত হলাম। যাক তবে আমি জাতিস্মর নই।😁

      বোট ভেসে চলল দিগন্ত বিস্তৃত অপার জলরাশিতে।  যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। উজ্জ্বল সূর্য রশ্মিতে জলে নীল রঙের বিচ্ছুরন হচ্ছে। জলের নীল দিগন্তে পাড়ি দিয়ে আকাশের নীলে গিয়ে মিশে গেছে। লেকের দুপাশে সহজ সরল শান্ত গ্রাম্য জীবন বয়ে চলেছে। বেশীর ভাগ লোকেরই জীবন ও জীবিকা এই লেককে ঘিরে। আমরা দুপুরের খাবার ও বিকেলের  চায়ের পর্ব সেরে পাঁচটার পর আবার ডাঙায় উঠে এলাম।

            আলেপ্পি বিচের উপর আগে থেকে বুক করে রাখা হোটেল বিচ রিসর্টে আমরা যখন পৌঁছলাম তখন আরেক চমক হল,লাজুক সূর্য তখন লজ্জায় রাঙা হয়ে আকাশের গায়ে লাল রঙ ছড়াতে ছড়াতে সমুদ্রের জলে টুপ করে মুখ লুকিয়ে নিল। তারপরই ঝুপ করে আঁধার নামল। দেখে মুগ্ধ হলাম। এক লহমায় সারাদিনের সব ক্লান্তি যেন দূর হয়েগেল।  অপূর্ব এক ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে সন্ধ্যেবেলাটা হোটেলেের ব্যালকনিতে বসে সমুদ্রের ঢেউ গুনে গুনে  কাটিয়ে দিলাম। পরদিন শিকারাতে ভ্রমণ করলাম।  শিকারা যখন লেকের জলে অসংখ্য ফোটে থাকা পদ্ম বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, আমার মনে হচ্ছিল বুঝি স্বর্গের পারিজাত সৌন্দর্য বিছিয়ে রেখেছে লেকের জলে। শিকারাটির নাম ছিল ময়ূরপঙ্খী আর ময়ূরপঙ্খী পাল তোলাই ছিল শিকারাটিতে। ময়ূরপঙ্খী সেদিন আমাদের নানা গ্রামের ভেতর দিয়ে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর একটি খাবার হোটেলে নামিয়ে দিল দুপুরের খাবারের জন্য। ওখানের মূল আকর্ষন ছিল একটি মস্ত বড় ঈগল, যাকে নিয়ে পর্যটকরা মনের আনন্দে ছবি তুলছিল। আমরাও কিছু ছবি তোলে নিলাম ঈগলকে সাথে নিয়ে। এরপর সেখান থেকে আলেপ্পি বিচে চলে এলাম সূর্যাস্ত দেখব বলে। সমুদ্র সৈকতে সোনালি বালুতটে তখন সামাণ্য ভীড় লেগে গেছে। আমরও  সেই ভীড়ে সামিল হলাম। বাতাসের দাপটে টলটলে নীল জলে সাদা ঢেউয়ের হুটোপাটি চলছে। উচ্ছল সমুদ্র তখন উত্তাল তরঙ্গে মেতে উঠেছে। আকাশের মত নীল সমুদ্রে দেখতে পেলাম পেঁজা তুলোর মত সাদা ঢেউ। সমুদ্রের শরীরে রামধনুর সাত রং ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য সোনালি বালুতটে আলেপ্পি বিচে প্রথম উপভোগ করলাম। সাতরঙে রঙিন ,'বেনীআসহকলা' রঙে রঙে হাত ধরাধরি করে যেন সমুদ্রের জলে নেমে এলো আলোর বিচ্ছুরণ ছড়িয়ে দেবে বলে। ধীরে ধীরে অস্তগামী সূর্য সমুদ্রের জলে নাইতে নেমে ডুব দিয়ে দিল। পরদিন সকালে আবার সদ্যস্নাত নতুন সূর্যের আবির্ভাব হবে। সূর্যাস্তের প্রতি মুহুর্তের ছবি রাজা কেমেরায় বন্দী করল। সমুদ্রকে বিদায় সম্ভাষন জানাতে কাছে যেতেই তড়িঘড়ি সমুদ্র এসে আলতো ছোঁয়ায় পায়ের পাতা ভিজিয়ে বিদায় জানিয়ে দিল। আমরাও পরম সুখস্মৃতি নিয়ে হোটেলে ফিরলাম ভোরের বাস ধরব বলে।

          সেদিন দক্ষিনের ভ্রমণ শেষে বিষন্ন মনে যখন বাড়ি ফিরছিলাম তখন আবার অন্তরের অন্তঃস্থলে রবি ঠাকুরকে অনুভব করলাম  আর আমি মনে মনে আউড়ে চললাম.....

             " যাবার দিনে একথাটি বলে যেন যাই
             যা দেখেছি যা পেয়েছি তুলনা তার নাই।"

অলকা গোস্বামী

শালবনের বাঁশি

গভীর অভ্যাস বিস্তৃত জীবন,
নিজেকে শীতল পাটির মত গুটিয়ে নেয়
যাবার বেলা। কখনো বা 
শেষ কথাটুকুও বলা হয় না।
অগোছালো পংক্তিমালা ডায়েরি থেকে ছড়িয়ে পড়ে
সারা ঘরময়।
শুকনো পাতা ঝরিয়ে 
দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল যে গাছটি....
দেখলাম তার সমস্ত শরীর জুড়ে সবুজ পাতার ছয়লাপ।
 চৈত্রের উষ্ণ বাতাসে  
আকাশের কোনে মেঘ জমে
ঝরে বৃষ্টি ....
জীবন ক'টি আর! দূরে শালবনে বাঁশি বেজে যায় আজো....।

দীপক রঞ্জন কর

বাঁশের সাঁকো

দুই গাঁয়ের যোগ সাধনে
নিয়ত তুমি থাকো
দুই টিলার মাঝে ছড়ায়
বাঁশের তৈরি সাঁকো ।

গ্রীষ্ম বর্ষায় শরৎ শীতে 
সদা দাঁড়িয়ে থাকো
দুই গাঁয়ের লোকের মাঝে
মিলন বজায় রাখো।

বর্ষাকালের জলে ভরাট 
ছড়ার দুটি পাড়
গাঁয়ের লোকের চলাচলে 
বাহারি দৃশ্য তার ।

বাঁশের খুঁটি বাঁশেই চটি
বাঁশ বিছানো খাসা
বৃদ্ধ শিশু গবাদি পশুর 
নিত্য যাওয়া আসা ।

আজ আর যায়না দেখা
বাঁশের তৈরি সাঁকো 
লোক পারাপারে নিত্য তুমি 
স্মৃতিতে বেঁচে থাকো‌ ।

অপর্ণা পোদ্দার সাহা

সাম্য

চেয়েছি একটু যত্ন
তুমি দিলে সুগন্ধি আতর
চাই নি প্রাসাদসম নিলয়
চেয়েছি শুধু অনন্ত সাম্য।

তবুও
দিকে দিকে আবিরের ছয়লাপ 
জানান দেয় বসন্ত যে এসে গেছে
কপোত কপোতী বাঁধে ঘর
উষ্ণতায় রাখে আদিম সুখ।

মাতোয়ারা আম্রমুকুলের ঘ্রাণ
অশোক পলাশ শিমুল রং 
তখনও তলদেশে হেঁটে যায় কঙ্কালসার পথশিশু---
বসন্ত নয় চৈত্রের দাবদাহ
অসাম্যের গান গায়।

বিদিতা সেন

অতীত

হে অতীত ! তোমা মাঝে রয়েছে 
আমার অনেক স্বপ্ন চাঁপা।

হে অতীত !তোমা মাঝে রয়েছে 
আমার অনেক গল্প গাঁথা।

হে অতীত ! তোমা মাঝে মিশেছে
আমার অনেক মনোকথা।

হে অতীত!তোমা মাঝে রয়েছে নীরব
আমার অনেক হারানো গান।

হে অতীত! তোমা মাঝে জীবাশ্ম
আমার বাল্যের সাজানো বাগান।

হে অতীত! তোমা মাঝে আছে নীরব
আমার শৈশবের কলরব।

হে অতীত! ‌তোমা মাঝে রয়েছে
আমার ফেলে আসা জীবন।
 
         
হে অতীত!পাব কি ফিরে আবার?
আমার সেই হারানো ‌ সব ক্ষন।।

শৈলেন দাস

মিলি

মায়াময় তোমার নেত্র
যুগল প্রেমে ভরা মন
রশ্মির মতো ছড়িয়ে 
দিও আমায় সারাক্ষন 

উজ্জ্বল কোমল গাল
তোমার মৃদু মুখের হাসি
অনবরত উপহারস্বরূপ
দিও আমায় ভালোবাসি