Sep 20, 2021
নিয়তি রায় বর্মন
বিজয়া দেব
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
শরত
ঘুমন্ত নদীর উপর দিয়ে উড়ে যায় ঈশ্বরের ডানা।
জল শুধু চাঁদ দেখতে দেখতে বয়ে যায়।
সারাদিন রোদে পোড়া নদীর কান্না ।
জলসাঘরের ঘুঙুরের ব্যস্ততা
শরতে পা দেওয়ার সাথে
সাথে মেঘ তাড়িয়ে দেয় বর্ষাকে, নিজেও হারায় ।
অনাবিল নীলকুর্তা গায়ে আকাশ উঠে যায় ।
অনেক ওপরে । বড় উদার হয় ।
নদী কি রেখে দিতে পারে জলস্রোত তার বুকে ?
মেঘও হারায় একদিন জলমণ্ডল ।
তৈমুর খান
সন্ধিক্ষণ
যে স্টেশনে ট্রেন আমাকে নামিয়ে দিয়ে গেল
আমি তার কিছুই চিনি না
একটি মেয়ে শুধু কাপড় খুলছে
আর কাপড় পরছে
প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে সভ্যতা
এটা কি শহর নাকি ?
কালো পাথরের মতো হৃৎপিণ্ড পড়ে আছে
অস্ত সূর্যের আলোয় রোদের উচ্ছ্বাস নেই
গাছপালা দীর্ঘ ক্রান্তিকালের ইতিহাস
পাঠ করে চলেছে নীরবে
ট্রেন আমাকে নামিয়ে দিয়ে গেল
আমি কার কাছে এখন নিজেকে রাখব
এই সন্ধিক্ষণে ?
অপাংশু দেবনাথ
উজ্জ্বল দিনের কাছে
সৌমিত বসু
ঋতুস্নান
কতদূর যেতে পারো তুমি? কতদূর?যেদিন জ্যোৎস্না ও সমুদ্রে শঙ্খ লাগবে, তুমি জড়িয়ে ধরবে আমায় লেজ দিয়ে পাকে পাকে, মেঘ ভেবে পাবেনা ঠিক কোথায় জল ঝরাতে হয়, ঠিক কোথায় থামাতে হয় আবর্তনের সেতুবন্ধন। তুমি রোদ হয়ে ওঠার আগেই আমি কপাল থেকে সরিয়ে নেব সমস্ত নৌকো। সমস্ত জলপ্রপাত ঈর্ষা হয়ে তাকিয়ে থাকবে আমাদের বরফ শীতল দেহদুটোর দিকে। তখন শৃঙ্গারের রঙ বাদামি, যৌনতার রঙ আদিম তামাটে। আমরা হাত ঘষে ঘষে বের করে আনবো পালঙ্কের নিচে লুকিয়ে রাখা বাক্সতোরঙ্গ যার ভাঁজে ভাঁজে গোপনতার কারুলিপি।তোমার ঠোঁট তখন আর কোনো ঠোঁট নয় যেন উঠোন জুড়ে ধান খুঁটে বেড়াচ্ছে একটা চড়াই,আমার দেহ থেকে সমস্ত শুষে নেওয়া ঘাম তুমি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছ রোদের বিপরীতে আর তার ভেতর থেকে উঠে আসছে বিচিত্র রঙের ওলট পালট। দুটো দেহ যেন পিষে যাচ্ছে পোরসেলিনের বাটিতে। সবাইকে অবাক করে জন্ম নিচ্ছে আমাদের মেয়ে, তরল আগুনে ভর দিয়ে উঠে বসছেন ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি। একটি মুহূর্ত জন্ম নিচ্ছে শেষ হবার আগেই
কামরুন নাহার সিদ্দীকা
তমা বর্মণ
হারাধন বৈরাগী
অমলকান্তি চন্দ
কুশল ভৌমিক
রুদ্র মোস্তফা
ব্যস্ত শহরের জন্মান্তর
ছেঁড়া ছেঁড়া বাতাসের সাঁকু পার হতেই
আমাকে গিলে খায় তোমার ব্যস্ত শহর
সামনের পথ ফুরিয়ে যায়—
গোলকধাঁধায় একলা ঘোরে
আমার প্রণয় হয়ে উঠে দিশেহারা গলি
যদি মন চায়,
আমাকে মিশিয়ে নিও,
তোমার মূল জনপদের সঙ্গে
কেননা, একটাই লক্ষ্য আমার জন্মান্তরের
মৃত্যু সাঁতরে বারবার তোমার হৃদয় ছোঁয়া।
চন্দন পাল
কী! সুন্দর কবিতার প্রতিমা, প্রতিমা নীতির দেশ জুরে।
বাহ-দারুন-অসাধারণ-অনবদ্য নৈপুণ্য সবার মন কাড়ে।
সুখ ঝরে, প্রেম ঝরে ঝরে বিদ্রোহ, রাশি প্রতিবাদ।
কখনো দশ ভূজে, কখনো দশ চরণে, বিলায় স্বাদ।
প্রতিমার ভাষা কজন জানে, কজনইবা বেগে ডুবে মরে।
কজনে দেখে দেখার মত , কজনের প্রানে চেতন ভরে।
দেখবে যেজন উচিৎ সেজন, এড়িয়ে চলে উল্টো পানে।
সৃজক যে সে, সেওকি আনে! শিল্পশোভার গুরুতর মানে।
আট আট
মৌসুমী কর
ঈশ্বরের বসবাস
শুনেছি একটা গ্রাম আছে যেখানে ঈশ্বরের বসবাস ...
সেখানে নেই কোন ক্ষত বিক্ষত
মনের উঠোন।
পাখির কলতানে জাগে সেই গ্রাম
প্রতি ভোরে রবির কিরণ ধারা
ঝরে পড়ে সেই গ্রামে ....
সেখানে চড়াই পাখি
শষ্য খুঁটে খুঁটে খায়।
সন্ধ্যাবেলায় মাধবীলতা
তার মিস্টি গন্ধ ছড়ায় চারদিকে।
সেখানে স্বপ্নেরা বাউলের
একতারা সুখ হয়ে অন্তরঙ্গ হতে চায় ....
জোছনা রাত আলিঙ্গন করে গাছগাছালিকে.....
সেখানে ফেরারি সুখগুলোকে
খুঁজে পাওয়া যায়।
মেঘেদের মিছিলে
আকাশ এক জলজ্যান্ত ক্যানভাস ....
শুনেছি একটা গ্রাম আছে যেখানে ঈশ্বরের বসবাস।
অর্ধেন্দু ভৌমিক
মায়ের চরণে
সোনাগর্ভ শ্যামলী ধানপাতা
আদুরে হাতনাড়া ঝিরঝির বাতাস
ভাতের থালায়
রোজ মা আসে...
পরকীয়া রঙসাজা প্রভাতের শিশির
ভোরের শিউলি কুড়ায়--
মুহুরির চড় উদাস মন কাশফুলে
ভালোবাসা ফেলে মায়ের চরণে...
সুমনা রায়
আমার ভারতবর্ষ
স্বাধীনতার কথা বললেই আমি পাখি হয়ে যাই
ডানায় বাঁধি উড়ন্ত আকাশ, খুঁজি স্বাধীনতার মানে
পালকে জড়াই স্বপ্ন - সুন্দর দেশে বাঁচার
কোটি কোটি জনতার আত্মত্যাগে
এসেছে যে স্বাধীনতা
তাকেই আজ ফিকে হয়ে যেতে দেখি
লোভ, সন্ত্রাস আর ঘোটালার কালো দাগগুলো
ভেসে ওঠে তেরঙ্গায়, মলিন হয় বিজয়োল্লাস
মনে হয় যেন ছেঁড়া পতাকা বইছি ভাঙা কাঁধে
স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু স্বাধীন হতে পারিনি আজও!
তবুও একবুক গর্ব আর দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আমার দেশ, আমার ভারতবর্ষ।
সুশান্ত নন্দী
■ জন্ম
সব আদর ভ্রূণের শরীরে লেখে না জন্মকথা
■ বর্ণমালা
তুমি আলোটুকু জ্বেলে দিলে বর্ণমালায় রঙিন হবে আমার ঈশ্বর
■ প্রেমপূজারি
ভালোবাসা ভিক্ষে করি প্রতিটি মুহূর্তে
অথচ আমি শুধু তোমারই পূজারি
■ পথ
প্রতিটি পথেইতো চোরাস্রোত
আমি গন্তব্যে পৌঁছাই কি করে
■ ফুল
ঝরে গেলেও একবার ফুলজন্ম দিও
প্রকৃতির সাজঘরে তুমিই প্রিয়ংবদা
■ সময়
সময়ের স্রোত থেমে গেলে
বসন্ত অন্তঃসত্ত্বা হবে কিভাবে
রসরাজ নাথ
সময়
জহর দেবনাথ
মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ
বৃষ্টিপথ
অথচ আজ অন্য কোথাও
তার বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তার শহরের সব মন্থর জলবিকেলগুলো শুকিয়ে গেছে।
পৃথিবীর সব গিরিশিরা হারিয়ে ফেলেছে সুরভি কালো মেঘ।
গনগনে আকাশে উড়ছে নামগোত্রহীন লাস্যময়ী সাদা মেঘের দল।
এক মধ্যমবর্ষীয়া গ্রীষ্মমেয়ে মেঘমুলুকে হারিয়ে ফেলেছে জিরাফ দেখার ডায়েরিখানা।
কিন্তু সেই অরণ্যের বহু বহু বিস্তৃত মাইল জুড়েও ছিল না একটুকরো কালবৈশাখীর স্থিরচিত্র
অথবা আকাশের অন্ধকার আদিখ্যেতা...
কারা যেন এইমাত্র আলফা, বিটা,গামা রশ্মি
ভেদ করে গন্ধসলিলের পোশাকে
মহাকাশ অভিযান সেরে ফিরলো।
তাদের দিকে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো
বাংলার গফুর চাষার নিঃস্ব মেয়ে আমিনা,
বৃষ্টির হদিশ পেয়েছো কি তোমরা গ্রহান্তরের উপত্যকায় ?
দু আঁজলা জল কোথায় পাবো?
কিন্তু বর্ষার তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য মাপতে জানে শুধু
এই চাষীর বিরহী মেয়ে।
বর্ষার কাছে জান কবুল করে সে চালতার পাতায় পাতায় খোঁপা খুলে অন্ধকার চুল বিছিয়ে রাখে।
বিষণ্ন চোখে তাকিয়ে দেখে খাঁ খাঁ রোদ্দুরে পুড়ছে কবিতা...
সে আজানু মস্তকে স্থির হয়ে থাকে
সেইসব ধুলোবালির পাঠের কাছে।
প্রলাপ বকে প্রখর জ্বরের তাপে,
এইসব কঠোর ধূলোপথ জুড়ে একসময় বৃষ্টি চলেই আসে।
বৃষ্টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে একটি ভোরের তীর থেকে আরেকটি ভোরের আলোয় জাগতে থাকে এক আনন্দবৃক্ষ...
শান্তনু ভট্টাচার্য
দিলীপ বসু
প্রত্নশহর--২
এখানে সব কলকাতার কোকিল
কাকের বাসায় ডিমপাড়ে অহরহ
সূর্যকে বলে আকাশপ্রদীপ
হলুদ আকাশ দেখে বলে ওঠে,
সর্ষেখেতে লেগেছে আগুন।
ওরা কেউ দেখেনি প্রত্নশহর,
সময়ের চোরাবালি
এখানে এককম এককোটি দেবতার বলিরেখা
থমকে গিয়েছে সূর্যের আরতি
শিবতীর্থ নন্দী-ভৃঙ্গি মধুপুঞ্জ ঝর্ণার
আদিগন্ত হাসি
রৌয়া অভয়ারণ্যে দোপায়া মানুষের সাথে
শ্বাপদের কোলাকুলি
অমাকে নিবেদিত চোদ্দদেবতার থান
সবকিছু আচ্ছন্নকরে দাঁড়িয়ে আছে
অলৌকিক অতিমানব
কল্যাণসাগরের ঢেউ টলোমল জল থেকে
ভেসে আসে কাল্লুকুমার কাল্লুকুমার।
থাম্পুই উড়ছে জলে জঙ্গলে
ককবরকে মশা
আকাশে রঙবেরঙের চুমুই
মেঘমালা ভেসে যায় বাংলায়
রাধামোহন ঠাকুর লেখে ব্যাকরণ
বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর ধ্বনিওঠে
কৈলাসহরে।
দুর্লভেন্দ্র ছোন্তাইয়ের হাতে রাজরত্নাকর
কোলমা হরফে কলমের নিব থেকে
ঝরে পড়ে আগুনের ফুল
আহা কোথায় ধর্মমানিক্য কোথায় শুক্রেশ্বর
আজ এই প্রত্নশহরে বসেছে
নৃ-বিদ্যার আসর
পান্নারাজ্যের সুন্দরী পানের বাটা নিয়ে
বসে আছে অলিন্দের খোঁপে
রাজপুতনি কাঞ্চনপ্রভাকে আজ বড়দরকার
প্রত্নশহরের সমস্ত তমসুক
তার এই চন্দন দেরাজে।।
কমল সরকার
তাল বেতাল
মোঃ রুবেল
না....।
না....
সদ্য প্রসব হওয়া গোলাপটা,
তোমাকে প্রেম নিবেদনের জন্য নয়।
ভালোবাসা কতটা সুন্দর ও স্নিগ্ধ তার প্রতীক।
গাছটা তোমাকে ভালোবেসে লাগিয়েছিলাম।
পরিচর্যা করেছিলাম প্রেমিকার মতো।
আমার কাছে লাল গোলাপটা তুমি।
একান্তই তুমি....
তুমি যখন অভিমানকে আপন করে দূরে থাকো।
তখন আমি একটু একটু করে গোলাপটার কাছে যাই।
ছুঁয়ে দেখি। তোমায় অনুভব করি কাছে। খুব কাছে।
এই গোলাপটা আমার।
একান্তই আমার.....
Sep 19, 2021
বিপ্লব উরাং
তকে আসতেই হবেক
গতবার তকে আসতে নাই বলেছিলাম বিটি দুর্গা।
তবু তুই আসেছিলি।
করোনা ছিল।এবারও আছে।
করোনা থাকলেও এইবার তকে আসতে হবেক।
দেবরাজ ইন্দ্র গোঁসা হইলে হোক।
গাঁজাখোর মহাদেব গালিয়ালে গালিয়াক।
তবু তুই আয় মা।
করোনালেও ভয়ংকর অসুর।
অসুরের সংখ্যা বাড়েছে-বাড়বেক।
চখ খোললেই অসুরের নাচানাচি।
মানুষ ডরে ভয়ে থরথর।
শান্তি লিয়ে বাঁচবেক এমন আশা নাইখে।
মানুষ খুব কষ্টে আছে।
তুই যদি ত্রিশুল লিয়ে নাই আসিস বিটি দুর্গা।
হামরা নাই বাঁচব।
তকে আসতেই হবেক।
আব্দুল গফফার
রেলগাড়ি
আমি একটা রেলগাড়ি,
কামরা গুলোর ভিন্নতায় বিভাজন হয়ে যায়,
যাত্রীরূপী মানুষ গুলো।
তবুও আমার বুকে চড়া যাত্রীগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
যখন দাঁড়াই আমি প্ল্যাটফর্মে,
গন্তব্যে যাওয়ার তাড়ায় বুক হয় খালি আর ভার।
ভার বইতে বইতে ন্যুব্জ হওয়ার উপায় নেই।
আমারও গন্তব্য বদলে যায়, বদলায় যাত্রী সকল।
শুধু নিরন্তর বয়ে চলার বিশ্রাম নেই লোহা- বিদ্যুতের এই দশাসই দেহখানির।
যখন আমার চির বিশ্রাম,
তখনও বন্দী আমি- নিয়মেরর বেড়াজালে।
দেহ রাখার সময় আমি একরাশ লোহা লক্কর-
কি করুণ আমার পরিণতি।
ড. রঞ্জিত দে
আনন্দময়ী /আনন্দধারা
শরৎ আকাশ জুড়ে বহে আনন্দধারা,
সাহিত্য ভুবন ভরে আলোকিত ত্রিধারা।।
মাঠের ধারে কাশের বনে শিল্পীর আঁকা ছবির মতো,
ঝরা শেফালির হাওয়ায় পথ বেয়ে
আগমনী ধ্বনিত।
অনুপ্রেরণা পাই কবির দলের চোখের পাতায়,
যেন কুয়াশার শব্দ ভেসে আসে নতুন সমবায়।
বহুদিনের আকাঙ্খা যেনো খুঁজে পাই তাদের চোখে,
যে হাসির লাগে বিগত দিনের ছবি এঁকেছি বুকে।
প্রীতিমুখর আকাশ তলে হবে মিলন মেলা,
শিশুর হাসি মায়ের কোলে হবে আর খেলা।
কাশের বন হাওয়ায় দোলে,
পুজোর বাজনা বাজবে বলে।
এই শরতে বর্ষা ঋতুর মতোই সবাই মিলি,
"ত্রিধারায়" মিলিত হবোই আনন্দে পথ চলি।।
অঞ্জনা বসু
দুলাল চক্রবর্তী
তবুও এসো
গৌতম দাস
ছলনা
সুর তুলবো একদিন নিঃস্বার্থ পরতার সমুজ্জ্বল বাঁশিতে।
মিঠু মল্লিক বৈদ্য
Sep 18, 2021
যোগমায়া গোস্বামী
আগমনী
ঢ্যাং কুড়কুড় তালে কাঠি পড়লো ঢাকে যেই
ভুবন জুড়ে ছড়িয়ে গেছে আলোর রোশনাই।
আগমনীর বাজনা বাজে কান পেতে শুনি
বছর ঘুরে বাপের ঘরে আসছে ভবানী।
কাশফুলের চামর গুলি উঠলো দুলে নদীচরে।
নারী- পুরুষ সবার মন আনন্দে যায় ভরে।
মা আসার আনন্দে সাজাই বরণ-ডালা
ধান্য-দুর্বা ফল-ফুলে রচি পূজার থালা।
দিপেশ দাস
নিন্দুকের ফাঁদে
নিন্দুকের ফাঁদে আজ ফেঁসে আছো ভাই,
এক বিন্দু শিশিরে'ই নদী সুখ পাই।
যত আবরণ দাও গতি হোক ধীর,
নিন্দুকের নজরটি জেনো শূন্যে তীর।
তোমার সহিত ভাব খোলে হাসে মন,
পেছন ফিরেই ঝাঁপ নিন্দা তার পণ।
নুড়ি পাথর সমান সেই লোক ভাই,
হাজার সাজাও তারে কোনো কূল নাই।
তাদের পাপ ঢাকতে ফেলে দেবে ফাঁদে,
ভর্ৎসনা জুটে ঠিক সেতো তোমা কাঁধে ।
গিরগিটি সেজে রবে রূপ তার কত,
মিথ্যুক এরাই বেশ হোক ভুল শত।
বিবেক হীন নগ্নতা নীচু স্থানে মন,
খোলস ছাড়বে নিত্য অকৃতজ্ঞ জন।
গৃহে ওরাই উলঙ্গ পরো ঘরে কান,
সাহেব সাজবে পথে বিক্রি করে জ্ঞান।
চমৎকারী মনুষ্য তোমা পথ বাঁধে,
তিরস্কারে বিশ্বাসী নিজ সুখ ছাদে।
সুখী জীবন তোমারি হবে তবে কবে ,
নিন্দুকেরে ধিক দাও ধিক দাও সবে।
রাজীব পাল
একুশ বছর পর
হৃদয়েরা শুকিয়েছে দিনে দিনে,
শরীর হয়েছে ভারী জলজল তুলতুলে;
চোখ মুখের ভাষা সবই পাল্টেছে সময় স্রোতে-
পাল্টেছে দৃষ্টিভঙ্গি, পাল্টেছে পথের সঙ্গী।
চেয়ে দেখ,
একুশ বছর আগের সেই আমি এখনো একই আছি আগের মত।
বসে আছি অন্ধকারে ফিরে পেতে সেই সোনালী দিন।
এখনো চোখের নোনা জল ফিরে পেতে চায় হারানো দিন,
এখনো আমার প্রকম্পিত হৃদয় কেঁদে ওঠে বিচ্ছেদে প্রতিদিন,
এখনো আমার পথ বেঁকে যায় সেই ঈশান কোণের ক্লাসরুমে,
যেখানে বেঞ্চগুলো আজও মুখিয়ে আছে বন্ধ ঘরে;
যেখানে চার দেওয়াল ব্ল্যাকবোর্ড আজও নিরবে অপেক্ষা করে-
যেখানে ঘাসেরা ডগায় বিন্দু বিন্দু অশ্রু ঝরায় আমাদের তরে,
যেখানে স্মৃতি হয়ে আছে কত কথা কত হাসিরা গোপনে;
সারাবেলা ক্লাসের ফাঁকে এত্ত হাসি কোথায় মিশে গেছে এখন আর খুঁজে পাইনাকো!
দিনের শেষে ক্লাসের শেষে,
উদরের কঠিন বেগ উপেক্ষা করেও শূন্য ভাতের হাঁড়িতে খুঁজে নিতাম জীবন;
যেখানে নিশ্বাসে নিশ্বাসে ছায়া হয়ে গেছে হাজার দিনের আলো;
আমি আজও সেই আলোর জীবাশ্ম ফিরে পেতে বসে আছি একা।
Sep 17, 2021
মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)
সম্পর্কের হিসাব
সম্পর্ক গুলো ভীড় করে থাকে
মনের জানালায়
অন্তরঙ্গতায় বাঁধা কতক
বিনিসূতোর শক্ত গিঁট কোথাও।
চরাচর পরিভ্রমণ পথে
কিছু নাম দিয়ে
সেগুলোকে নিষিক্ত করে রাখা।
কতগুলো সম্পর্কের গলায় সোনার শেকল,
যত্ন করে আলগোছে ধরা,
পাছে সরে যায় যদি!
মনে ভয় হয়।
আবার কতগুলো ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়
পরম নিশ্চিন্তে নিবিড়তায় অ-বাঁধা;
ওরা ঠিক সময় মতো
ঘুরে আসে ডেরায়
বাঁধা থাকে মায়ায়।
জড়িয়ে থাকা সম্পর্করা নিজগুণে
জায়গা করে নেয়
বিভিন্ন পাতায়।
প্রচ্ছদে জ্বলজ্বল না করেও
বিশেষ পাতায় কোণ ভেঙে
মোড়া থাকে।
মাঝে মাঝে খুলে দেখা,
স্মৃতিরা কক্ষপথে দোল খায় তখন।
ফুরোয় না কিছুই,
শুধু স্পর্শের অভাবে শুকিয়ে যায়।।
পঙ্কজ কান্তি মালাকার
আমি নিরপেক্ষ নই
গৌতম ভৌমিক
বিষাদের সুর
কাশফুলের পাপড়ি গুলো আজ
কেমন আনমনা হয়ে রয়েছে
বিষন্নতা ভরা;
একটা আলগা আলগা ভাব
এক সহস্র দুঃক্ষ সে হৃদয়ে পোষণ করছে!
শিউলি ফুল গুলো
আজ আর নীচে নামতে চাইছে না
খুব ক্লান্ত,
মনের ভিতর অজস্র প্রশ্ন নিয়ে বসে আছে!
ধূপের গন্ধে রয়েছে বিষাদের সুর
এক ব্যকুলতা
যেন সে বলতে চাইছে,
আরো একটা দিন চাই
আরো একটু সময়!
আজ মায়াদেবীর মুখখানি ম্লান
কিছু একটা আকাঙ্খা নিয়ে বসে আছে
তার মধ্যে শুরু সিঁদুর খেলার আয়োজন।
অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
ঋতু রাণী শরৎ
শরৎ মানে মনের কোণে আনন্দের উচ্ছাস।
শরৎ মানে মেঘমুক্ত সুদূর নীলাকাশ।।
শরৎ মানে ঋতুরঙ্গ নতুন দিনের ভোর।
শরৎ মানে দীপ্ত প্রাণে বাজে নতুন সুর।।
শরৎ মানে শান্ত সবুজ দক্ষিণা বাতাবরণ।
শরৎ মানে শারদীয়া মায়ের আগমন।।
শরৎ মানে খুশির ছোঁয়া মন মাতানো হাসি।
শরৎ মানে জোৎস্না রাতের অপরূপ এক নিশি।।
শরৎ মানে টই টম্বুর জলরাশির খেলা।
শরৎ মানে সরোবরে হংসরাজির মেলা।।
শরৎ মানে স্নিগ্ধ শীতল পড়ন্ত বিকেল।
শরৎ মানে পাখীর গানে হই মোরা ঘায়েল।।
টিটু বনিক
নিরাকার
পিতা তোমার সৃষ্টিতে আমি মোহ হই,
তোমার সৃজন আমায় ভ্রমিত করে,
আমার অনুভূতিকে হৃৎ এর ভালোবাসাকে
যেন কেউ পুনঃপুনঃ নিয়ন্ত্রণ করে।
পিতা তোমার বৃক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ,
প্রতিটি পত্রে প্রতিটি পুষ্পে,
আমায় যে প্রান দেয় আবার যে প্রান নেয়
তাহার দ্বারা আমি মোহিত হই,
তাহার দ্বারা আমি বিস্মিত হই।
এই যে পবন আমায় ছুয়ে যায় ক্ষনেক্ষনে
তাহার মাঝে কি বিশাল মোহন,
আমি যাহা দেখি তাহা-ই তুমি,
জ্যোতিতে ও গাঢ় নিশিতে ও।
সমগ্রেই তুমি, একাকীত্বে ও তুমি।
তুমিই মৃত্যুর পরে,তুমিই চিরস্থায়ী।
রমা চন্দ্র
বাগদত্তা
অপেক্ষার অবসান ঘটে-
হয়তো পূর্ণতায় নতুবা শূণ্যতায়।
অনেক কথা মনে আসে...
কেউবা থাকে আপন হয়ে কেউবা অবকাশে,
বাড়ির পাশে পুকুর জলে
অটুট স্মৃতির ছবি...
জানালা পথে আমি
ফিরে ফিরে যেন দেখি!
পুরাতন সেই সাবেকি বাড়ির
ডুবন্ত দালান কোঠা
উঁকি মারা প্রাচীর গায়ে
আজ অশ্বত্থ বটের থোকা।
হারিয়ে গেছে উঠোনের-
সেই শিশুবেলার কোলাহল...
তবু ও কেন মনের মাঝে এত কৌতুহল!
তারা নাকি অতি ব্যস্ত নাগরিক জীবনে
লোকমুখে খবর নি অতি গোপনে,
ওই বাড়ির সেই ছেলেটা ছিল 'হবু বর'
কারণে অকারণে দেখাত ভারি ডর।
খেলার ছলে তার আবদার ছিল
'তুই আমায় গড় কর'।
Sep 16, 2021
কৌশিক আচার্য
হারানো সুর
হৃদয় মাঝে, বাজে সেথা নিত্য অমোঘ সুর
সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে যায় যে বহুদূর;
যে সুর মোর প্রতিনিয়ত কর্ণে বাজিয়া ওঠে...
মহাশূন্য হতে আসে সেথা সুর মনের চৌকাঠে।
মনে হয় যেন সেই হারানো সুর মোর ডাকে ক্ষণে-ক্ষণে―
সেই বিভোরে ভাবিত হয়ে চেয়ে থাকি ঐ আকাশপাণে,
এই পার্থিব জগতের সাথে মহাশূন্যের আছে...
এক নিবিড় আত্মিক সংযোগ যা―
প্রতিনিয়ত চুম্বকের ন্যায় মোর টানে কাছে।
আলমগীর কবীর
ভালোবাসা মানে
সুস্মিতা পাল
ঐ দুয়ার পানে চেয়ে
শিউলির সুভাষ দিচ্ছে যে জানান,
প্রতীক্ষার হবে যে অবসান।
আসছে যে মা মর্ত্যধামে,
ঘোটক বাহন নিয়ে।
তাইতো আজ বেজে উঠলো মঙ্গল শঙ্খ,
আগমনী বার্তা নিয়ে।
এসো হে দুর্গা মা
তোমারই অপেক্ষায় আছি যে বসে,
ঐ দুয়ার পানে চেয়ে।
ঢাক,কাশি,উলুধ্বনি দিয়ে,
মহাষষ্ঠীতে তোমায় করব যে বরণ।
সায়ংকালে তোমার হবে যে বোধন।
রুনা নন্দী
নস্টালজিয়া
ভুল সুরে বাজে বেওয়ারিশ বাঁশি
গড়মিল সুরে তালে।
ধুলোর পরত প্রেমের শরীরে
মনের ঠিকানা ভুলে।
ট্রাফিক জ্যামে আটকে রাধা
সেলোফোনে রাখে চোখ।
কানাই ব্যস্ত মিছিলে মিটিংয়ে
ওদের ভালো হোক।
ইমারতের আড়ালে আকাশ লুকিয়ে
ডিজিটালে ফুল পাতা।
মুখোশে মুখ লুকানো সুখ
দূষিত প্রণয় গাঁথা।
পরকীয়া এখন বৈধতার খোঁজ
প্রেম কাব্যে গানে।
বাঁশির সুর অলস দুপুর
নস্টালজিয়া টানে।
স্বপন দেবনাথ
শরৎ মানে
শরৎ মানে---
মায়ের আগমন,
চারিদিকে ঢাকের বাজন,
দেশবাসীর সাথে প্রকৃতি সাজন।
শরৎ মানে ---
পদ্ম ভাসে নদীর জলে,
পথের ধারে কাশ ফুল দোলে,
নীল আকাশে পাখিরা চলে দলে দলে।
শরৎ মানে---
শিউলি গাছ তলায় শিউলি ফুল,
সাদা হয়ে আছে নদীর দুকূল,
চতুর্দিকে ফুটে আছে রঙ বেরঙের ফুল।
শরৎ মানে ---
ঘাসে পরে থাকে শিশির কণা,
শস্যক্ষেত্র হয়ে আছে ফসলে পরিপূর্ণা,
স্বচ্ছ নীল আকাশে মেঘের আনাগোনা।
শরৎ মানে ----
মায়ের আরাধনায় বিভোর হয়ে আছে ত্রিভুবন,
মায়ের মধুর রূপে মজে যায় ত্রিভুবন,
চিন্ময়ী মাগো কৃপা কর এই বলি সারাক্ষণ।
মনচলি চক্রবর্তী
একূল ওকূল
এ কূল জুড়ে ধু ধু মরুভূমি, খরা
চারিদিকে শুধু বালি আর বালি
ও কূল জুড়ে প্রবল বর্ষন,
রাশি রাশি জলধারা।
এ কূলে কাঁটা গাছ আর রুক্ষতা
নেইকো প্রাণের স্পন্দন
ও কূলে সবুজ শস্য শ্যামলা
পাখীদের কলতানে মুখরতা।
একূলে নেই সবুজ সুন্দর বনানী
নেই কো জীবনের মিষ্টি ঘ্রাণ
ওকূলে সাজানো সবুজের পরশ
মাঝে প্রাণ ঢেলে রেখেছে ধরনী।
মন শুধু চায় দুকূল ভাসুক
আজ বর্ষায় একসাথেতে
এক নদীরই একূল ওকূল
প্রান আসুক প্রবল জল স্রোতেতে।
Sep 15, 2021
ইউসুফ মোল্লা
মৃত্যু–ট্রেন
শিবাশীষ মিত্র
রাক্ষসী রাত
সেদিন পূর্ণমাসির রাক্ষসী রাতটা আমার আকাশ কেড়ে নিয়েছিলো,
সাক্ষী ছিল চাঁদ;
সেই সন্তপ্ত সন্ধ্যার প্রবঞ্চনায় জীবনে নেমে এলো কালসিটে আঁধার।
আমি সুদূর প্রান্তে, সেবাব্রতে আনজান আনমনা।
হঠাৎ পিশাচি রাতের অট্টহাসিতে
বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠতেই...
বেড়িয়ে পড়ি হন্যে হয়ে,দূর্ভাবনা আকাশ পাতাল।
চাঁদের বুকে লক্ষ্য করি এক আপন তারার পতন।
দু'হাতে মুখচেপে হাঁটুগেড়ে ভেঙে পড়ি মাটিতে।
যে মাটির অপর প্রান্তে সম্পাদিত হচ্ছিল,
আমার সলতনাতের শেষকৃত্য।
আমি ঠায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়!
নরাধম আমি,
আমার বিশ্ব-সারাৎসার দেবদিবাকরে
শেষ প্রণাম টুকুও করতে পারিনি ;
সেই রাক্ষসী রাতের প্ররোচনায়।
সন্ধ্যার পাখিরাও তখন সুখ নীড়ে, সন্তানেরে ওম দানে।
লোহার পাখিও তাই...
নয়তো কাউকে ডেকে দুটো পাখা ধার নিতাম।
শুধু একটা রাতের জন্য,
শেষ যাত্রায় সামিল হতে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
সুচিত্রা দাস
সেদিন সত্যি বলেছিলি
কি জানি কখন তুই এসেছিলি কোন অজানার
আকাশে তখন সূর্য পাটে যাবার পালা
কি সুন্দর সৃজন সন্ধ্যার আকাশ, হয়তো কোথাও কোন সুদূরের পারে সুরের মাধুরী বিলায়ে তুই মেহগিনীর বন ছাড়িয়ে সমুদ্রতরঙ্গ খুঁজছিস।
নীলাঞ্জন।
ঠিক এমনি দিনেই তোর আমার ভালোবাসার তীব্রতা পায়।
আমি রইনু চেয়ে আজো বাতায়ন পরে তোরই পথ চেয়ে।
মনে পড়ে হায়।
যেদিন গেছে হারায়ে কিসের তরে অন্বেষণে।
দ্বীপ নেভে, তবু আঁখি জল মোছে না।
কদিনই বা ছিলো; আমাদের সুখনীড়।
রেখে গেছিস চির জন্মের ঋণী আমাকে।
যে পথ দিয়ে গেছিস ঝুলিতে ভরে আমার , তোর পায়ের ছায়াতে আমার কাব্যাঞ্জলীর ধারা কস্তুরী ফুলের সৌরভ ছড়ায়।
হয়তো কোন নক্ষত্রমণ্ডলে তুই ধ্রুবতারা চেয়ে দেখিস আজও আমারে।
আমার মৃত্যু শিয়রে ও তোর স্পর্শতার শিহরণ জাগাবে আলোকবর্তিকা।
দুরত্ব সেদিন দুরত্ব ছিলোনা; আমরা মিলেছি হাস্নুহানার কুঞ্জলতার সীমারেখায়।
তোর দেখানো পথ বেয়ে আমার স্বপ্ন তরী চলে কস্তুরী ফুলের সৌরভে।
জানি !
প্রতিক্ষণ প্রতিদিন তুই আমার ছায়াসঙ্গী।
আগলে রাখিস মমতার ভালোবাসার বাহুডোরে।
নীলাঞ্জন।
গোপাল বনিক
ফাঁদ
দায়িত্ব নেওয়ার সময় হয়নি আমার।
আমার প্রতিবাদী স্বত্তায় বহুকাল আগেই
ঘুঁনে ধরেছে।
অথচ বোধগম্য হলো মাত্র কয়দিন আগে।
যখন জানতে পারলাম
বিটলে লোকগুলো ফাঁদ পেতে
ঠায় বসে ছিল -
স্বপ্নগুলোকে দুঃস্বপ্নের চাদরে ঢাকবে বলে।
জানিনা ফাঁদ কেটে বেরিয়ে আসতে পারবো কিনা!
দুঃস্বপ্নের বলয়ের মাঝখানে থিতু হয়ে আছি।
প্রতীক্ষা শুধুই শেকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার।
বিমান প্রামানিক
তুমি আসবে বলে
সব হারানোর মাঝে তোমাকেই খুঁজে পাই,
হারিয়ে যেতে যেতে চারিদিকে খুঁজি তাই।
শরতের আকাশে খুঁজি তোমায় রাত্রি দিবস,
তোমাকেই খুঁজি আমি পেতে তোমার পরশ।
ভোরের আলোয় নেমে খুঁজি তোমায় শিউলির ফাঁকে,
পথে যেতে যেতে তাকায় কাশ বনের দিকে।
তুমি যেন হারিয়ে যাও, ঐ পেঁজা তুলোর মেঘে,
কখন আবার উঠেছো রাঙিয়ে, সোনা রোদ মেখে।
দেখি ভোরে শিউলির ডালে কত না মুক্ত ঝরে,
তোমার আশায় দীপ জ্বলে বাংলার ঘরে ঘরে।
কমলের কোমলতায় তোমাকেই খুঁজি আমি,
যা আমি চাই জানো তুমি; তুমি অন্তর্যামী।
কর্মে নিষ্ঠা হয়ে তাই চলেছি যে এগিয়ে,
নেই বরাভয়, পথ প্রান্তর দিয়েছো যে চিনিয়ে।
যেদিকে তাকাই শুধু তোমাকেই খুঁজি তাই,
মনের মাঝে খুঁজে দেখি তুমি আছো; তবু ভাবি তুমি নাই।
তুমি তুমি করি যতই, চারিদিকে হাহাকার,
সাদা মেঘে কালো মেঘে দেখি সারি বলাকার।
ঘরে ঘরে রেঙে ওঠে রাঙা মাটির রূপ,
বাতাসের সাথে ওড়ে দেখি সুগন্ধি ঐ ধূপ।
চারিদিকে তখন বেজে ওঠে আগমনীর সুর,
তোমার আসার আশায় কাটে দিবা; অন্ধকার হয় দূর।
প্রতীক হালদার
ভাবনার গতিপথ
ভাবনারা আসে ভাবনারা যায়
রয়ে যায় ডায়েরির পাতায়,
ভাবনারা সব ভিড় করে আসে
ক্লান্ত চোখের পাতায় ।
ভাবনারা সব বেড়ায় হেঁটে
গতির তালে তালে,
আটকা পড়ে কখনবা
কবিত্বের বেড়াজালে ।
বিশ্রামেতে যায় কেটে ক্ষন
নেই তো কোনো তাড়া,
আবারও যে যাত্রা শুরু
সকল বাঁধন ছাড়া ।
নেই ঠিকানা কোথাও যাওয়ার
চলাই শুধু চলা,
চলতে চলতে হঠাৎ থেমে
জীবনের কথা বলা ।
গল্প বলে সকল ধারার
নতুন দিশা দেখায়,
নিজের ছন্দ অগোছালো
তবুও ডায়েরির পাতায় ।
নীতা সরকার
দুর্গতি নাশিনী
হে দুর্গতি নাশিনী দুর্গে
তুমি অপরূপ রূপের অধিকারী।
অসুর দলনী তুমি, কালজয়ী দুর্গা
অপার শক্তি তোমার।
অতি সৌম্য মাতৃরূপা স্নেহে
জগত পালন করো তুমি।
ত্রিভূবন তোমার পদতলে
আদ্যাশক্তি মহামায়া জগজ্জননী তুমি।
বছরের একটিবার তুমি
এই ধরনীতে পদার্পন করো।
তোমার আগমনে বাতাসে
শিউলি ফুলের গন্ধ ভাসে।
কুয়াশায় দূর্বা ঘাসে
বিন্দু বিন্দু শিশির কণা।
কাশের বন হাওয়ায় দো- দুল্যমান।
নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মেলা।
সবুজ ধানের ক্ষেতে
রৌদ্রের ঝিকিমিকি খেলা।
আলোর বেণু বাজিয়ে তুমি এসেছো
তোমার আগমনে বেজে ওঠে শঙ্ক, ঘন্টা,ঢাক
তখন আমরা সবাই
খুশির আনন্দে নেচে উঠি।
ইন্দিরা গাঙ্গুলি
বানভাসি নদী
নদী তুমি নিশ্চুপ হয়ে বয়ে চলেছো অবিরত
তোমার নেই কুল, নেই তল
সকাল, বিকেল,রাএি সর্বক্ষণ তোমার বয়ে চলার নেই কোনো বিরাম
কখনো জোয়ার আবার কখনো ভাটা
পূর্ণিমার ভরা কোটালেও তুমি বয়ে চলেছো অবিরত
বান, বন্যা কতো কিছু সইতে হয় তোমাকে
কখনও কোনো অভিযোগ করোনি কারোর কাছে
বানভাসি নদী তুমি বয়ে চলেছো অবিরত।
টিংকু নন্দী
ভ্ৰান্ত প্ৰহৰ (অসমীয় কবিতা)
যৌৱনত ভৰি দিলোঁ বুলিয়ে মই অসহনীয় নহওঁ,
আপোনালোকৰ অমায়িক,নিঝঁঝাট, সৌষ্ঠৱ কাপোৰ পিন্ধা ছোৱালী বুলিও নিজকে নকওঁ।
পৰাধীনতৰ সাজযোৰ নিপিন্ধো মই য'ত আছে প্ৰলেপ সনা বিচ্ছেদ,
সত্বীত্বহৰণ আচোঁৰখোৱা নাৰীৰ সন্মানৰ তাড়নাৰ হ'ব জানো উচ্ছেদ?
কিহৰ আকৌ নাৰী দিৱসৰ উদযাপন,
য'ত প্ৰাত্যহিত খোজে খোজে নাৰী নিৰ্যাতন।
আপুনি নুবুজিব সন্মোহনী অনুৰক্ত নাৰীৰ পবিত্ৰতা,
বৃত্তান্ত গল্পৰ নিমিত্তে অৱৰুদ্ধ ক'ত নাৰীৰ শৈক্ষিক যাত্ৰা।
বিপ্লবী হুংকাৰে আগুৱাই যাওঁতে বিচাৰোঁ স্বতন্ত্ৰ প্ৰহৰী,
আমি নাৰী বুলিয়েই সপোনবোৰ কলিতে নিদিব মোহৰি।
অলোকা বণিক
ঘণ্টা বাজে
রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
বন্ধু তুমি বেজায় খুশী
ঘরে আছে অষ্টাদশী
ফিরে এল এলো কেশী বেহিসেবি ,
পুব সাগরের পথিক তুমি
কোন বিদেশী ?
কবি তুমি আপন ভোলা
আমার ডাকে দাও হে সারা,
একটু দাঁড়াও পথিক!তোমরা কারা?
আজ ঝুলন পূর্ণিমা তে
মন মন্দিরে রবি চলে অস্তাচলে গোধূলি বেলাতে ।
সময়ের ঘণ্টা বেজে ওঠে
শিড়দাঁড়া জেগে ওঠে
অন্তরের ধমণীতে।
ঘণ্টা বেজে ওঠে রাতে ।।
চন্দন ঘোষ
অন্তরালের কথা
বেড়ার ফাঁকে আঁধার রাতি হাতছানি দিয়ে ডাকে,
ভয়ে তোমায় আঁকড়ে ধরি,অশ্রু ঝরে শোকে।
গড়তে গিয়ে চিড় ধরেছে চিরসুখের উচ্ছ্বাসে,
তাই একলা পথিক আজো সে অলীক স্বপ্নে ভাসে।
তুমি আর আমি মাঝে মাঝে কত দূরে থাকি,
আবার তোমারি সেই ভালো থাকার সমুদ্রে ডুব দিয়ে বাঁচি।
তোমার সব সুগন্ধি, উষ্ণতা ও নিশীথ যন্ত্রনা
সবাই শুধু আমায় ব্যর্থ বলে ডাকে।
বৈঠাহীন মাঝি তুমি কত পথ চল প্রতিক্ষণ,
একদিন আমিও হাঁটবো বহুদূর বহুদূর...।
সুমিতা স্মৃতি
আগমনী
আকাশে সাদা মেঘ, নদীতীরে কাশ।
একত্রে বয়ে আনে পূজোর আভাস।
চারিদিক উৎফুল্ল আজ, আনন্দে ভাসছে ধরা।
মা আসছে এই আনন্দে সকলের মন ভরা।
আশ্বিন মাসের দেবীপক্ষে আসেন মা ঘরে।
অন্ধকার দূর করে মা আলো আনেন ঘরে।
এবারের দেবীপক্ষে মুছে যাক সব বিভেদ।
একত্রে মা'কে বরণ করি চল, ভুলে বর্ণের ভেদ।
ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সবার ঘরে নিয়ে এসো আলো।
জগৎ কল্যাণে মানুষের মনে শুভবুদ্ধির আলো জ্বালো।
কল্যাণ দাস
বন্দিদশা
বন্দিগৃহে ভাবছি আমি চারপায়াতে শুয়ে,
ছাদটা আমায় রেখেছে ঢেকে চার দেয়ালকে নিয়ে।
আমি আপনমনে গান ধরলাম একাকীত্বের তরে,
সুর-তাল- লয় লাগছে না আজ না জানি কিসের তরে।
যে দিকেতেই নয়ন ফিরাই কেন যে অকারণে,
সবকিছু আজ তাকিয়ে আছে শুধুই আমার পানে।
সবাই তারা আপন কাজে নিজস্বতায় সুখী,
আমিই বুঝি তাদের মাঝে আজকে বড়ো দুঃখী।
পেয়েছে তারা আজ একাকী আমায় বন্দিগৃহে,
সব অভিমান দিচ্ছে ঝেড়ে তারা এক এক করে।
ছাদ বলছে , শোনো মশাই আমিই তোমার মাথা,
যত বড়াই ছিল তোমার সব যে আজকে বৃথা।
চারপাশের ঐ দেয়ালগুলো বললো গলা হাঁকে,
আমরা ছাড়া আজকে পাশে বন্ধু ক'জন আছে?
জানালা-দরজা ভেন্টিলেটর বিদ্যুৎ বাতি মেঝে,
মান- অভিমান দিচ্ছে ঝেড়ে আপন আপন তেজে।
পাখা বলছে হাত নাড়িয়ে ওহে সাহেব বাবু,
সাহেবি আনায় বলছি তোমায় হাউ ডু ইউ ডু?
বলতে নারি কিছুই তাদেরে বন্দি গৃহের মাঝে,
মাথা নত করি আজকে আমি তাদের কাছে লাজে
প্রাণখুলে আজ হাসছে তারা সবাই আমার তরে,
বাবু এবার হলেন কাবু চার দেয়ালের ঘরে।
সম্রাট শীল
মুঠো প্রহার
ত্রিশুল নয়,
এখন মুঠো প্রহারেই শক্তি কথা বলুক।
ত্রিশুলের ত্রি-শক্তি;
মানবিকতা, সম্মান চরিত্রের সু-যুক্তি।।
এক এক শিখার এক এক আঘাত,
বধিবে সহস্র তফাৎ।
মণিকোঠায় বসে প্রত্যাশা তেই প্রহর গুনছি,
কবে প্রয়োগ হবে প্রহার?
এখন আর ত্রিশুল প্রতীক নয়,
ত্রিশুল তো শুধু মহিষাসুর বধে।
বাস্তবে হোক মুঠো প্রহার,
বাস্তবাসুর রোধে।।
দেব রাজত্বেই অসুর হানায়,
ত্রিশুলে দেখেছি প্রতিবাদ।
ত্রিশুল নামকরণে শুধু প্রতাপ নয়,
নয় আর পরনির্ভরশীলতা।
একাই চালাও মুঠো প্রহার,
সহস্রাধিক অপবাদীদের।।
চিন্ময় চক্রবর্তী
হৃদয় - মাঝে
দূরের পানে চেয়ে আখিঁ,
কে বলে যেন চেয়ে থাকি ।
পরাণ আমার কেদেঁ বেড়ায়
দূরন্ত বাতাসে,
তোমার জন্য বসে থাকি আমি একান্তে ।
তুমি রবে নীরবে আপন খেয়ালে,
লেগেছিল একটু ব্যথা আমার হৃদয়ে ।
নতুন এসেছি এখানে কিছু না জেনে ,
তুমি এসে বসলে আমার হৃদয় - মাঝে ।
Sep 14, 2021
সায়ন পাল
বেইমান পাখি
পাখি তুই কোথায় যাবি,
বল কার সঙ্গ দিবি!
তুই পাখি বড়ই বেইমান,
আমার চালাঘরে এখনো তো তোর নাম।
আহা কত আল্লাহ কতই সুখ-
ভালোবাসার প্রতি কনায় দেখি তোর মুখ'
সেই বেইমান রুপি হলুদ দেহ,
তোর প্রেমেতে আছে কেহ!!
প্রেমের দিন আজ গত হল,
বর্তমান আজ অতীত হলো,
তোর পাশে তে সেদিন ছিলাম আমি!
আজ কার মনটা তোর কাছেতে দামি?
আমাতে আজও তোকে দেখতে পাবি,
তোর মন শহরে কি পাব আমার ছবি?
পাখি তুই কোথায় যাবি,
বল কার সঙ্গ দিবি!
তুই পাখি বড়ই বেইমান,
আমার চালাঘরে এখনো তো তোর নাম।
আহা কত আল্লাহ কতই সুখ-
ভালোবাসার প্রতি কনায় দেখি তোর মুখ'
সেই বেইমান রুপি হলুদ দেহ,
তোর প্রেমেতে আছে কেহ!!
প্রেমের দিন আজ গত হল,
বর্তমান আজ অতীত হলো,
তোর পাশে তে সেদিন ছিলাম আমি!
আজ কার মনটা তোর কাছেতে দামি?
আমাতে আজও তোকে দেখতে পাবি,
তোর মন শহরে কি পাব আমার ছবি?
রুপালী রায়
শরৎ
শরৎ আমার মায়ের মুখ
পরিচিত অতি ।
শরৎ আমার ভীষণ প্রিয়
পুজোর মাতামাতি ।
মূর্তি গড়ায় ব্যস্ত পোটো
খাটছে দিবা-রাতি ।
শরৎ মানে ভীষণ আপন
পরিচিত অতি ।
শরৎ মানে শুভ্র আকাশ,
কাশবন, শিউলি ফুলে
হারিয়ে যাওয়া সেই সব ছোট্ট বেলার স্মৃতি ।
শরৎ মানে নতুন কাপড় ,জুতো
আনন্দ অতি ।
শরৎ মানে মূর্তি দেখা
শরৎ মানে আগমনী ।
শরৎ আমার মায়ের মুখ
পরিচিত অতি।
প্রদীপ্ত সরকার
আমি কি তোর?
রঞ্জন ভাওয়াল
বন্ধু আনে সুখ
সুমন্ত রবিদাস
আগমন
দীর্ঘ দিনের শেষে এসেছে অবশেষে
উমার শুভাগমনের দিন,
শরতের সাদা মেঘ দিচ্ছে জানান
আসছে দিন উমার আগমনের।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে,
কাশফুল উঠেছে জেগে,
বরণ করে নিতে উমারে
প্রকৃতি সেজে উঠছে নববধূর মতো।
নতুন করে আবার উমাকে
বরণ করে নিতে।
নতুন রঙে, নতুন গন্ধে, নতুন সাজে
যেন আসছে বাঙালি কন্যা গৃহে,
বছর শেষে আসছে
দিন চারের জন্য মাতৃগৃহে
কৈলাস হতে মর্ত্যে।
চলছে নানা আয়োজন মর্ত্যে
বরণ করে নিতে উমারে
আবার দীর্ঘ এক বছর শেষে
মর্ত্য মানবের মন রয়ে যাবে উমার আগমনে।
অভিজিৎ দত্ত
মানুষ
কী হবে ধনদৌলত নিয়ে
যদি তা মানুষের কাজেই না লাগে?
কী হবে রোজগার করে
যদি পিতামাতাসহ পরিবারকে
পরিষেবাই দিতে না পারলে?
কী হবে ভোগবিলাসে ডুবে থেকে
যদি তোমার জীবনকে
মানুষের কাজেই সঠিকভাবে
না লাগাতে পারলে?
কী হবে অট্টালিকা আর ধনদৌলতের
চূড়ায় বসে থেকে
যদি মানুষের চোখের জল
একটুও না মুছাতে পারলে?
সবচেয়ে বড় ধন মানবিকতা
যেটা না থাকলে কোনদিন
বড় মানুষ হওয়া যায় না।
তাই মানুষ হওয়ায় চেষ্টা করো
কিছুটা হলেও মানুষের পাশে থেকে
মানুষের দুঃখ দূর করো।
দীপান্বিতা পান্ডে
প্রয়োজন
একটা প্রয়োজন যখন খুঁজে বেড়াই মন ৷
সবুজপ্রান্তর ঘেরা সুন্দর ডাক ,
সে যে নামই হোক বড় মধুময়৷
বারবার শোনার প্রতীক্ষায় থাকে উর্বর বনভূমি ৷
একটু ঠান্ডা বাতাস একটু বৃষ্টিকণা
প্রয়োজন শুধু এই টুকুর ৷
তবুও তাকে পাওয়া কত কঠিন,
কারণ দুটো প্রাণবায়ু নয় তত্বে লীন।
অথচ একটি তীব্র আকর্ষনে পৃথিবীর কাছাকাছি,
আর একটি শরীর গন্ধে প্রতিটি অনুপরমাণু মন করে নিরিক্ষণ ৷
প্রতিটি মুহুর্ত করে অতৃপ্ত কামনার উল্লাস উদযাপন |
সেখ আব্দুল মান্নান
তুমি আসবে
বছরভর অপেক্ষায় থেকে থেকে
আমরা বড় ক্লান্ত শ্রান্ত
তুমি এসো ক্লান্তি আর শ্রান্তি মোচনের দূত হয়ে
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শোক কাটিয়ে
তোমার আসার খবরে পেয়ে
দেখ বাতাসের বুকে কি উচ্ছাস
গাছেরা কইছে কথা নিবিড় সঙ্গোপনে
চেতনায় অনুরণন বোবা পাখির গানে
সান্ধ্যো আলাপে মুখর থেমে যাওয়া
ঝিঁঝিঁর বিদীর্ণ তান
ঢাক কাঁসরের মহড়ায় জেগেছে স্পৃহা
গ্রামের মুচিপাড়ায়
মণ্ডপে মন্ডপে শিল্পীর কসরত
তোমার রুপাঙ্কনে
জোনাকিরা দলবদ্ধ বিন্দু বিন্দু আলোয়
কান পেতে শোনো শিশির ভেজা
ভোরের ভৈরবী গান
শিউলি তলায় ঝরে পড়া শিউলির
নিক্কন
তুমি এলেই ঘুচে যাবে অমানিশা তমশা
চূর্ণ হবে অসুরের লোলুপ জিঘাংসা
ফিরবে জীবনের ছন্দ
মাতোয়ারা হবে পৃথিবী তোমার আগমনে।
সপ্তশ্রী কর্মকার
রক্তপাত
ভাঙ্গা দরজার সামনে কাঁচ রেখে ওর মধ্যে আগুন ঢেলে দাও,
দেখবে আগুনের আঁচে ঘাম এলেও চোখের জল আসে না,
তখন বুঝে নিও, তুমি মাটির লোক।
ভয়ানক নিঃসঙ্গতায় গভীর রাতে ব্যর্থ কান্না,
সিগারেটের নীল ধোঁয়ায় নতুন জীবনচক্র
রিক্ত অপরাধী মন ভরছে সুখে।
দুই আঙুলে ধরে সিগারেটের সুখটান ,
কিছু গ্যালারিতে থাকা জলীয় ছবির বিষাদ
মুছে দেয়।
তখন সব ভুলে হৃদয় ফিরে প্রেমিকার কোলে,
যেনো, স্মৃতির শহরে সাবেকী আলো উঠলো জ্বলে।
ব্যস্ততার শহরে, গতির সাথে মায়াবী রাত,
দাবা খেলার অবুঝ চালেতে অঝরে রক্তপাত।
স্তব্ধবাক শহরে, রুদ্ধ কলম,
নেহাতই সমপাতন..
মাটির শোক যেনো কবিকে দূরে নিয়ে ধরণীর কলিজাকে শুদ্ধ করছে।
শ্রীলিম
লড়াইয়ের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থেকো বন্ধু!
অনেক পথ চলার এখনও রয়েছে বাকি,
লক্ষ্যে না পৌঁছানো অব্দি থেমো না বন্ধু!
ঝড়ঝাপ্টা তো জীবনে প্রকৃতিরই দান,
সব বাধা অতিক্রম করে গেয়ো জয় গান।
জীবন ফেলনা নয় যা যথেচ্ছাচারে হারাবে,
এক আকাশ জুড়ে স্বপ্নেরা খেলা করে,
মোক্ষম সুযোগ পেলেই দাও মারতে হবে,
সপাটে চড় কষিয়ো বিধাতার গালে।
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হেরে যাওয়া নয় বারংবার,
পরীক্ষা তো সবারই নেওয়া হয়,
আমরা তো সপ্তরথী ঘেরা অভিমন্যু,
লড়াইয়ের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থেকো বন্ধু!
রাজীব ঘোষ
ওথেলো বেলায়
লিপি ভৌমিক
তোমারই জন্যে
আমার এ রিদয় গড়েছি আমি
ভালোবাসার অরন্যে,
আমার দুচোখ মেলেছি কেবলই
তোমাকে দেখার জন্যে।
আনার এ পথচলা চলছি সদাই
তোমাকে জয়ের নেশায়,
আমার এ জীবন উজার করেছি
তোমারি ভালোবাসায়।
আমার চাওয়া পূর্ণতা পাবে
তোমাকে পাওয়া ঘিরে,
আমারি তৃষ্ণা পরিতৃপ্ত হবে মাগো
তোমারি স্বাধীনতার পরে।
আমার এ হাত তোমারি জন্যে
লিখছে মুক্তি র ছড়া,
আমার এ সংগ্রাম তোমাকে ঘিরে,
হয়েছে আত্নহারা।
কুশল রায়
উন্মেষ
উন্মাদনা ভুলে গিয়ে মনে আনতে হবে সংযম,
তবেই হবে নব চেতনার জন্ম ঘটবে নতুন অন্বেষণ ৷
জাগাও হে বীর যুবক গন মনে আগুন
সব কিছু ভুলে এগিয়ে যাও এটাই যে ফাগুন ৷
মনের মধ্যে সৃষ্টি হবে চরম উত্তেজনা
এগুলো কে হেয় করে দূর করো ওইসব আবর্জনা ৷
তবেই গড়ে উঠবে নতুন জগত,
ঘটবে এই ধরিত্রীর বুকে
ঘোর কলিকালে নতুন উন্মেষণ ৷
কেই বা জাগাবে হবে নতুন দিগন্তের পথিক
সে কোথায় ? আসতে তাঁর আর বাকি কতক্ষণ !
মোঃ নুরুল হক
আশা
অন্যের ঘরের সুখের দোলনায় দুলিত তুমি।
তুমি ফিরবে আমার দোলনায়, সেই আশায় মুগ্ধ আমি
হয়তো সব বাঁদন ছিন্ন করে নয়,
কিন্তু আমার ঘুমের স্বপ্নে আসবে তুমি।
তুমি ফিরব সেই আশায় প্রতিনিয়ত চেয়ে থাকি পন্থপানে
জানি সেই আশার নাইকো কোনো নাইকো মানে।
তোমাকে পাবোনা জানতাম যদিও আমি
তুবও আশায় বুক বানতাম রাইত রজনী।
তোমার স্মৃতি গুলো যখন নাড়া দেয় বুকে
তখন তোমাকে বাস্তব এ পাওয়ার চরম আশা জাগে।
পথিক পথকে হারিয়ে যেমন তার গন্তব্যকে খোঁজে,
আমি তোমাকে হারিয়ে আমার জীবনস্রোত কে খোঁজি।
জীবনস্রোতকে খোঁজে পাবো এই আশাটাই আমার পুঁজি।
স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য
Sep 12, 2021
সুজিত দে
সৈকতের পাড়ে
Sep 9, 2021
সুষমা দেবনাথ
আগমনীর সুর
আসছে পুজো, আসছে যে মা এবার খুশির পালা।
একমুঠো ভাতের আশায় পড়ে আছে কারো শূণ্য থালা।
রকমারি জামাকাপড়, বেড়েছে শপিং মলের কদর।
ম্লান মুখে ফুটপাথে পড়ে আছে খদ্দের হীন দোকানঘর।
আলোয় ভরা প্যান্ডেল, চারিদিকে শুধু আলোকধাধা।
কারো বা পুজোর আনন্দটাই দারিদ্র্যতার শেকলে বাঁধা।
অভাবে আধপেটা কিংবা উপোসেই তাদের দিন কাটে।
মাগো, এই বারেতে আসার সময় খাবার নিয়ে এসো বাটে।
অতনু রায় চৌধুরী
ভালো থাকা যায়
খোলা আকাশের বুক জুড়ে
হাজারো স্বপ্নেরা ভেসে যায়।
খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া শ্রমিক
আজও করছে বেঁচে থাকার লড়াই ।
নীরবে, নিশ্চুপে সময় হারিয়ে যায়
প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে আজ ভীষণ অসহায়।
তবুও স্বপ্নেরা ভেসে ওঠে
কিছু সুখের আশায়।
একটা ভাঙ্গা বাইসাইকেল নিয়েও ভালো থাকা যায়।
ভালো থাকা যায় জলে ভাতে মিশিয়ে একটি সকাল কাটিয়ে দিলে।
ভালো থাকা যায় কাছের মানুষ আপন করে নিলে।
গঙ্গা সাহা
মা
মাগো মা! তুমি যে মমতাময়ী।
সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি তুমি।
মাগো!
তুমি যে আমার দেখা সবচেয়ে_
অপরূপ সুন্দরী নারী।
মাগো! তুমি যে অন্যন্যা ।
তোমার গর্ভে জন্মে সাথ'ক জন্ম।
মাগো!
তোমার পরশে আমি যে ধন্য _
তোমার স্নেহে জীবন পরিপূর্ণ ।
মাগো!
তুমি আমার প্রথম দেখা,
তুমি যে প্রথম ডাক।
তুমি আমার প্রথম পাওয়া,
তুমি যে প্রথম চাওয়া।
কাঁদলে মাগো বুঝতে পারো,
কি আমার চাওয়া।
মাগো!
দু্ঃখে আমি জড়িয়ে তোমায়,
ভুলি যে সব ব্যাথা।
কষ্টে আমার জল আসে যে,
তোমার চোখ ভরা।
মাগো!
তোমার কোলেই স্বর্গ আমার।
তোমার কোল ওই মোর ধরা।।
মাগো!
এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার,
তোমার ওই তো দেওয়া।।
জানতে চাইবে না মা ?
কি সেই তোমার উপহার?
মাগো!
সে যে তোমার দেওয়া,
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ।।
পান্থ দাস
আগমনী
চারিদিকে শুধু
তোমার সুর,
মন মাতলো
তোমার আগমনে,
আগমনী তুমি
তুমিই মোর
প্রথম ভোর ৷
আজ শহরও যেন
কিছু বলছে,
চারিদিকে শুধু
আলো আর আলো মাখছে,
নতুন আনন্দলোকে
অন্ধকারও যেন আজ
আলোকে মজেছে ৷
Sep 7, 2021
কার্ত্তিক মণ্ডল
সবুজের আগুন
চলো ! হারিয়ে যাই ঐ সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে
সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক
(ক)
সুশিক্ষা
পরপর সোপান। নেমেছে সোপান সপ্তপাতালে।
সজ্জিত সেখানে হাজার চুম্বক।
চুম্বকের চুম্বনে দুটি শ্রীচরণ
কম্পনে অগ্রসরমান দোজখের প্রবেশদ্বারে।
ভগবান সেখানে যেন জাগ্রত হাত বাড়িয়ে,
সহাস্য অর্ভ্যথনায় শিখি যমরাজের কাছে
আধুনিকতার সিলেবাস-
শূলে যদিও তিনি চড়ালেন না
থুতুর মহাসাগরে শুধু দিলেন ভাসিয়ে।
তা থৈ থৈ থৈ থুতুর অভ্যন্তরে
অঙ্কখানি অতি সহজ ও সরল-
হৃত মানের কথা জানুক মানুষ
হৃত হুঁশের খবর জানুক মানুষ
আর চিনবে সঠিক আবাসের ঠিকানা অতঃপর।
(খ)
সংস্কার
সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক
কামান্ধের দুটি নয়নে যে হাত্তয়া থরথর
যে নিশান ওড়ে পতপত,
সেখানে সেখানেই তুমুল সর্বগ্রাসের আলোড়ন।
বিগত মলয় বাতাসে পাতালচারণ
আচম্বিতে এক পরম অরি যেন—
নড়ে না চরণ, নড়ে না গড়ন!
শত্রুর সেই বিষাক্ত লালচক্ষু সাবধানী
ফতোয়া ছড়াতে তৎপর।
মননে-গহনে অশান্ত কামুকের দিশেহারা পল,
পলে পলে সেখানেই কেন প্রবহমান
অকূল গরল-সাগর?
রঞ্জিৎ কুমার পড়িয়া
বিচিত্র রীতি
রাশি রাশি টাকা কড়ি
জমি জমা ঘরবাড়ি
সোনাদানা সিন্দুক ভর্তি,
ছোট ছেলে অফিসার
বড় ছেলে প্রফেসার
পরিবার শ্রেণী উচ্চবর্তী।
বি পি এল তালিকায়
চাল গম আটা পায়
রেশনেই কিনে বেচে রেশনে,
বউমা ও নাতনি নাতি
বি পি এল অনুমতি
নাম জুড়েছে এই - শেষনে।
দিন আনে দিন খায়
ভাগ চাষি যদু রায়
সংসার চলে কষ্টেসৃষ্টে,
জল বাদে সব কেনা
চাষ করে বাড়ে দেনা
নাম তার এ পি এল লিস্টে।।
ভগবতী ভৌমিক
আপন হল পর
যখন কোনও ব্যক্তির
থাকে না ধনসম্পত্তি,
তখন সকলের কাছে
সে একজন ভিখারি।
মাথার উপর নির্মল আকাশ
পায়ের নীচে মাটি,
তবুও তার ব্যথাভরা জীবনে
মেলেনি একটু শান্তি।
একদিন যখন সব ছিল তাঁর
মানুষও ছিল পাশে তাঁর।
যখন সে সব হারালো
ভিখারি বলে তাড়িয়ে দিল।
বিপদে পরে আত্মীয়স্বজন
বলতো তাকে আপনজন,
একটু সুখে পরে গেলেই,
ভুলে যায় কে আপন কে পর।
অংকিতা বর্মণ
অকুন্ঠ
মহালয়া হতে বিজয়া দশমী শূন্য।
বিজয়া দশমী হতে মহালয়া পূর্ণ॥
সুখ হতে দুঃখ শূন্য।
দুঃখ হতে সুখ পূর্ণ॥
দিন হতে রাত শূন্য।
রাত হতে দিন পূর্ণ॥
পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা শূন্য।
অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পূর্ণ॥
জন্ম হতে মৃত্যু শূন্য।
মৃত্যু হতে জন্ম পূর্ণ॥
মেঘ হতে রৌদ্র শূন্য।
রৌদ্র হতে মেঘ পূর্ণ॥
চোখ হতে অন্ধত্ব শূন্য।
অন্ধত্ব হতে চোখ পূর্ণ॥
সুশ্রী হতে বিশ্রী শূন্য।
বিশ্রী হতে সুশ্রী পূর্ণ॥
সৎ হতে অসৎ শূন্য।
অসৎ হতে সৎ পূর্ণ॥
জ্ঞানী হতে অজ্ঞানী শূন্য।
অজ্ঞানী হতে জ্ঞানী পূর্ণ॥
ষষ্ঠী পুজা হতে দশমী পুজা শূন্য।
দশমী পুজা হতে ষষ্ঠী পুজা পূর্ণ॥
আগমন হতে গমন শূন্য।
গমন হতে আগমন পূর্ণ॥
Sep 6, 2021
প্রীতম চক্রবর্তী
কুঁড়েঘরে উমা
আকাশে সাদা মেঘের শোভা বাতাস পেল প্রাণ;
ধরায় এসেছে উমা নিয়ে নব গান।
পরনে জামদানি শাড়ি আর উজ্বল গয়না;
সুন্দর মুকুট উমার চোখ ফেরানো যায় না।
সঙ্গে আছে দুটি মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী;
দেখতে অদ্ভুত দুই পুত্র চোখ ফেরাতে নারি।
মাটির উমা ধরায় এল নব সাঁজ ধরে;
ধরার উমা কান্না করে মাটির কুঁড়েঘরে।
নতুন পোশাক দেয়নি বলে করছে উমা কান্না;
ছেঁড়া জামা পরনে তার করছে শুধু বায়না।
মাটির উমার হচ্ছে পূজা মন্ডপে মন্ডপে;
ধরার উমা খাবার পায়নি কাঁদছে ফুঁপে ফুঁপে।
বড়লোকের ঘরের উমা পূজোয় সেজে ঘুরে;
গরীব ঘরের উমা পূজোর পথে ভিক্ষা করে।
দশমীতে মায়ের কাছে সবাই কতো বর চায়;
কুঁড়েঘরের উমা শুধু দুবেলা খাবার চায়।
রাজা দেবরায়
তবুও
দুঃখের উৎস খুঁজতে গিয়ে
জড়িয়েছি আরো কষ্টকে।
স্পর্ধাহীনভাবে নিজেকে
নিয়ে উল্লাসে মেতেছি!
তবুও
ডাঃ শ্যামোৎপল বিশ্বাস
সুধাশব্দ
মন যেন ব্যাকুলতার আকাশ রাশি,
কাব্যিক মৃগয়াক্ষেত্রেও থেকে অনন্ত পর্যন্ত তার সীমান্তপুরে,
শব্দশিকারী হৃদয় জমা করে চলছে আমার পংক্তিরসনা,
তৃপ্ততায় হাতছানি ভারী হয়ে ওঠে ব্রহ্মান্ড জুড়ে।
দেবাদৃতা ভৌমিক
পথের শেষে দেখা
হঠাৎ করেই মেঘ ঘনিয়ে আঁধার
নিপাট ভালো রোদমাখা এক দিনে,
মনের ভেতর হুহু করে ঝড় বয়
বিচ্ছেদ কেন বৃষ্টি ডেকে আনে?
প্রকৃতিও বুঝি মনের গোপন বোঝে,
ঝড় তুলে দেয় যেন মনের সমতুল্যাঙ্কে!
তবু দু'চোখ বেয়ে অকাল তুমুল বারিধারা,
বৃষ্টি কি সামঞ্জস্য রাখতে পারে সেই সঙ্গে?
তুমি চলে গেলে যেন মৃত সব বাগানবিলাস,
তুমি না থাকলে সাধের কাঠগোলাপ ম্লান,
তোমায় ছাড়া মুখের হাসি সাজবে না কখনো,
তোমায় না পেলে বিরহ জ্বরে ভোগে মন-প্রাণ।
দীর্ঘশ্বাসে আশ্বাস বাঁধি বুক ভরে,
শিয়রে এসে ঠিক দাঁড়াবে তুমি আমার...।
বালিঘড়ির প্রহর শেষ পথে পৌঁছয়,
তবু ফিরে আসা বোধহয় মানা তোমার!
আলোর চেয়েও তীব্র যে গতি আছে,
মন তোমার পানে সদা ছোটে সেই নির্নিমেষে;
তোমার খোঁজে পথহারা হবো এবার,
তোমার-আমার আবার দেখা যদি হয় পথের শেষে!
মনীষা দেবনাথ
মা আবার এসো
কাঁশফুলের ছোঁয়ায়,শিউলির গন্ধ,
মেতে উঠেছে ভুবন।
আকাশ তুলোর মতন ভেসে থাকা মেঘ,
হালকা শীতল বাতাস,
জানান দেয় শরৎ আসছে।
আগমনী গান আর চারিদিকের আলোকসজ্জায়,
বাঙালির মন প্রস্ফুটিত হয়েছে ।
মেতে উঠেছে আনন্দে।
মহালয়ার প্রভাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের,
"আশ্বিনের শারদ প্রাতে
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জির",
শুনে মনে হয় দেবী দূর্গা পদার্পণ করল।
সপ্তমীতে মার অকালবোধন,
অষ্টমীর অঞ্জলি,
নবমীর ভোগ প্রসাদ,
বাঙালির আনন্দ জমজমাট ।
দেখতে দেখতে দশমী
মা আর থাকবে না ।
ভারাক্রান্ত মনে চোখে জল নিয়ে,
মাকে বলতে হয়, মা আবার এসো।
Sep 5, 2021
হর্ষময় মণ্ডল
না বলা কথা
বিকেলে লোকাল ট্রেনে
হাই স্কুলের দিদিমণি ফিরত
দু-তিনটি ব্যাগ কোলে, পাশে
কখনো গোল করা খাতার বান্ডিল
তবুও উল বুনে যেত একমনে।
বুঝতে পারতাম অভ্যাসে বুনছে উল।
চাকরির সুবাদে গম্ভীর থাকলেও
দৃষ্টিতে বুঝতে পারতাম
তার হৃদয়ের মেঘটা
কোথায় যেন বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে।
বদলে গেছে অভ্যাস
এখন উল বোনেন না
মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন,
মানে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন।
আরো মনোযোগে গম্ভীর হন।
কিন্তু মেঘটা আরও জমাট দেখি।
অবসরের দোরগোড়ায়
তবুও ফাঁকা সিঁথিতে আজোও।
জানা হলো না কিছুই
মেঘ সরাতে আজকে কি কিছু বলবো!
রণজিৎ রায়
সন্ত্রস্ত আগমনি পথ
অমর প্রেমের অকাল মৃত্যুর স্মৃতিসৌধ এ নয়
শিল্প কলায় সমৃদ্ধ এক ইমারত
স্থপতির মনের খেয়ালে অদ্ভুত ঝলকানি
হয়তো আগুনে পোড়াতে সামান্য বাকি
রাজা-বাদশার প্রেম কাঁচকঙ্কনের মতো ভঙ্গুর।
খাঁটি দুধ-কলা দিয়ে মসৃণ লিঙ্গকে কত সাধনা
ভাং খেয়ে পেত্নিকে জড়িয়ে থাকা বর
তিন প্রহর টিকে থাকা আধুনিকার দুঃসাধ্য
তথাপি তেমন বরেরই আরাধনা
সংস্কারের পথে হাঁটলেও মনের কামনা অন্য।
প্রথম প্রেমের বিরহ বেদনায় হৃদয় ভেঙে দুরমুস হলে
দুচোখে দৃষ্টি নিয়ে অন্ধের মতো হাতড়ায়
এমন মানসিক অসাম্যের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা--
সমকামী, বৃহন্নলা না রূপান্তরকামী ?
পৃথিবীর যুক্তিবাদী চোখ ধ্রুবতারার মতো
অতন্দ্র প্রহরী
অলৌকিকতার ঝুলি নিয়ে
মহাপুরুষের আগমনি পথ আজ সন্ত্রস্ত !
সুমন ব্যানার্জী
ঢেউ মেলানোর ছবি
ঝুপ তাল আর চুপ তাল
তাতেও নড়ছে না গো শহর,
আসছে বছর আবার হবে
মন খরচের বহর।
জানলা খোলা পরী,বার
আরের বেলায় রবি,
পাহাড় তুলে রাখে
এক ঢেউ মেলানোর ছবি।
কবির কথায় জল
শোনা ছোট্ট নদী ফুল,
হঠাত রবার দিয়ে
সবাই মুছতে যাব ভুল।
শুরুর কথা হয়
জীবন, আবার শুরু যেন,
বার বার ভালোবাসি
তাই উড়ছি যে এখনো... ।
নীলমাধব প্রামাণিক
অভিমুখ
আমাদের কি সেভাবে কোথাও
যাবার আছে !
যেখানে খুশি যে যার মতো চলে যাচ্ছে ।
এখন মুশকিল হলো যেটা
মোটেও ঠিক ঠাক বোঝা যাচ্ছে না
কে কোন দিকে যেতে চাইছে ।
চলার পথে কেউ কেউ ভুল করে
একাধিক দিক বেছে নেয় ।
খানিক এদিক খানিক ওদিক ঘুরে
ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে দিকহারা হয় ।
কারো চলা মনমতো নয় আদৌ
এক দিকে মুখ করে দাঁড়ালে
বাবা মা ঘুরিয়ে দিচ্ছে অন্য দিকে ।
মায়া রানী মজুমদার
বট বৃক্ষ
সুবিশাল এক বটবৃক্ষের,শস্য হেন বিচি।
পক্ষীরা সব বৃক্ষ ডালে করে কিচমিচি।।
আত্মরক্ষায় বৃক্ষডালে পক্ষী করে বাসা।
ছোট বড় বাসা বাঁধে,করে অতীব খাসা।।
ঝড় বাদলের ঝাপটায় কভু বাসা'ই নষ্ট।
তাই'না দেখে পক্ষীদের হয় খুবই কষ্ট।।
ছোট্ট পক্ষীছানা ওরা,উড়তে নাহি পারে।
আচমকা ঝড়'ঝাপটায় নিচে যায় পড়ে।।
কারো যায় পা ভেঙ্গে, ও কেউ যায় মরে।
অসহায় মা'পাখী তখন কি'ই আর করে।।
বোবা পক্ষীরা তখন শুধু অদৃ্ষ্টেরে দোষে।
দিন রাত নীরবে শুধু, চক্ষু নীরে ভাসে।।
পথিকেরা নেয় বিশ্রাম বট-বৃক্ষ ছায়ায়।
শীতল পবনে জুরায় দেহ স্নিগ্ধ'মায়ায়।।
রাখালেরা বাজায় বাঁশি, তরুতলে বসে।
স্নিগ্ধ ছায়ায় মুগ্ধ মায়ায় বৃক্ষপত্র খসে।।
দারুণ আবেগে বাজায় রাখালিয়া সুর।
করুণ বাঁশির সুর, ভেসে যায় বহুদূর।।
সহ্য করে রৌদ্রতাপ,বটবৃক্ষ দানে ছায়া।
ছায়া দানে মাতৃহেন স্নেহ, মমতা, মায়া।।





















