Dec 27, 2021

জ্যোতির্ময় রায়

আকাশকুসুম  

যুবতী চাঁদটা
রাতের সাথে সোহাগে
সুন্দরকে মেখেছে গায়ে

আমি সাজ খুঁজি
তার কলঙ্কের মেহেন্দিতে
চরকার সুতোরা রাতকে গেঁথেছে
দিনের লকেটে

অনাগত চাহিদার মাদকতা
পূরবীরাগের বিস্তারে

তন্বী চাঁদের বুকে চরকাবুড়ি
স্বজন রেখেছে মাটির বিছানায়
চাঁদনিচাদর ঢাকা
আকাশকুসুম যোগে !

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

 খোঁজ 

বলিরেখা স্পষ্ট হলেই পথ ফুরিয়ে যাবার ভাবনা হয় ।
তোমাকে কত কথা বলে রেখেছিলাম,
দিয়ে রেখেছিলাম যে কত আশ্বাস
আশা নিয়ে জেগেছিলে তুমি বহুকাল,
শেষ হয়ে এলে বেশি দিনের নয় মনে হয় ।

তোমার ডাকে চাঁদ পেড়ে আনব ভেবে রেখেছিলাম,
নক্ষত্রের ওড়না নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ।
জোছনার হাওরে বারবার পথ ভুলেছি আমি
তুমি ভাবতেই পারোনি আমার দৈবপ্রবঞ্চনা।

আকাশের ছায়াপথ ধরে আলোহীন খুঁজেছ আমাকেই

সৌমিত বসু

ফাঁকি 

গুটিয়ে ফেলেছি তাবু এ তল্লাটে কখনোই নয়। অনেক দিয়েছে এই মেঘ, ছাদের ওপর থেকে স্তব্ধ প্যাগোডা , প্রতিটি এটিএম থেকে রাস্তা কিভাবে যে মিলে গেছে মিশনারি স্কুলে। খলখল দিদিমণি। দু -পায়ে নুপুর। অনেক দিয়েছে , তবু ভল্লের কথাই আজ মনে পড়ে যায়। বুক ফুঁড়ে রক্ত ঝরে পথের ওপর ।প্রবঞ্চনা ঘিরে এসে বাঁশবন কালো করে তোলে।মনে হয় এ কোন শহর নয়, মৃতের শহর।দূরে দূরে আলো জ্বলে। ঘাড় গুঁজে ঘুমায় নগরী।পদচিহ্ন মুছে নিয়ে ফিরে যাই আপন ডেরায়,যেখানে এমন কোনো মেঘ নেই যার ফাঁকে আঁকা আছে বিদেশির  করুন সমাধি। প্রবঞ্চনা, আজ তুমি আলোর অধিক। গুটিয়ে ফেলেছি তাবু পিছুডাক আর কি মানায়। হিংসার বাইরে রয়েছি। তুমি তো জেনেই গেছো আমার নিজস্ব কোন ক্রোধ নেই।

অপাংশু দেবনাথ

দারুণ ডিসেম্বর! 

ওদের কেউ কেউ আমার সহচিন্তক ছিলো কখনো,
হঠাৎ বদলে যায় স্বজনদের ব্যস্তজীবন।
পা-পথে শুয়ে কাটিয়েছিল এমন দারুণ হীম-রাত!
শিশির মশারী হলে কতটা ওম্ থাকে ভেতরে ! 
কি করে জানবে হৃদয়ে পাথর জড়িয়ে। 
 
যতটা ভাবি,নদীর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদে দিঘল রাত,
জাগিয়ে রাখে শোকে,বেদনা বিভোর ।
অসংখ্য কুপি জ্বালিয়ে,এই যে হৃদয়ে জাগা  
অথবা না জাগা,
তাতে বদলাবেনা কিছু  জানি।
তবু স্বপ্নের ছিপি খুলিয়া দেখি অনন্তে উজ্জ্বল মানুষের মুখ।

অনন্ত তো অসীম, 
ওখানে বিলিন হলে কেউ,
হাজার প্রর্থনাতেও যায় না ফেরানো তাকে।

না ফেরার দেশ থেকে প্লাবন আসে কখনো,
কেউ কি বন্যা দেখোনি? 

এ অসংলগ্ন সময়ে ব্যক্তিগত বিরহের কথাবস্তু পড়ে থাক,
সময়ের নির্মম পায়ের কাছে।

মানুষ শুয়ে আছে ফুটপাথে
একটু ভাবুন---
ক্ষুধার সকল অন্ন ফুরিয়ে গেলে নদীতে জোয়ার আসে আবার।

কতদিন মানুষকে বোকা ভাবা যায়!
উপেক্ষিত মানুষের কাছেই ফিরতে হয় পুনরায়, 
পৃথিবীর সব সুচিন্তা মানুষের জন্য,
শিশু ও শান্তির জন্য।
মানুষ ছাড়া কার জন্য আগলে রাখো এ সুসময়!

কেন আজকাল ঘুমোতে গেলেই  পোড়ায় শুধু বুক!
ক্রমাগত দীর্ঘ,দীর্ঘ হয়ে ওঠে ফুটপাথের দারুণ ডিসেম্বর!

তৈমুর খান

এ জীবনে কখনও নিশা, কখনও বা নিশি

নিশাকে ভুলিনি আজও
আমার জ্যোৎস্নার প্রান্তর জুড়ে সে থাকে
চাঁদ না এলে নিজস্ব প্রদীপ জ্বেলে তাকে দেখি

আমার চৈতন্য ঘিরে আছে অনুজ্জ্বল কয়েকটি জোনাকি
বিষাদ পাড়ায় যদি ডেকে ওঠে পাখি
কাঙ্ক্ষিত ভোরের স্বপ্নে তবে জেগে উঠি

এ জীবনে কখনও নিশা, কখনও বা নিশি
অমা যোগ করে দিলে অন্ধকার গাঢ় হয়ে ওঠে
দূরে কাছে যতদূর হাত যায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি
যে ভাষার অনুবাদ হয় না কখনও
যে ভাষা চিরদিন অনুচ্চারিত থেকে যায়

অথচ এক সম্মোহন থাকে
আত্মরতির আয়নায় তারই মুখ ভাসে
সমস্ত গোধূলি জুড়ে আয়োজন চলে
অদৃশ্য পর্দাগুলি সরে সরে গেলে
মুখোমুখি বসি

আমাদের ধন নেই, ধান নেই
তবুও নিষ্ফল মাঠজুড়ে অদ্ভুত আরাধ্য নিধি
অলৌকিক শস্য চাষ করে 
আমরা শুধু শব্দ সাজাই রহস্যময়ী নিশার চারিপাশে
শব্দে শব্দে নিশা জ্বলে....

হারাধন বৈরাগী

মুখায়ব   

আমার মুখায়ব দেখতে 
এখন আর আরশি লাগে না
কিরাতের মুখেই ফুটে ওঠে
আমার মুখায়ব ও ভাষা

Dec 26, 2021

তমা বর্মণ

নবজন্ম   

শেষ আর শুরু... 
অশ্বত্থ পাতার পোশাক পরে, ওড়াও
ধুলোর শরীরে
নতুন স্তোত্র আসন্ন সন্ন্যাসে জন্মাক
শেষ অন্ধকার...

এখানেই শুরু    
এখানেই শুরু ও শেষ আগুনের কুণ্ডলী ভেদ 
ব্রহ্ম সত্যে উপনীত হৃদয় চক্রের ঘূর্ণাবর্ত
ওড়াও... ওড়াও...
মহাকালের অগ্নিছাইয়ে লেখা সব স্তোত্রগান
যদি না জাগে আকণ্ঠমগ্নতা তোমার আমার ধারায়
সবই যে পাথরে লেখা শ্লোক 
পালকে পালকে এখানেই শেষ হোক
শেষ হোক অগ্নিমন্ত্র অন্ধ।

কুশল ভৌমিক

মানুষ পড়ে কী লাভ

মানুষ পড়ে কী লাভ? 
মানুষের অন্তরে নিয়ত দূষণ।    
তারচেয়ে গাছ পড়, 
শিখে নাও সবুজ আখ্যান 
পার যদি নদী পড় 
সে তোমাকে শেখাবে ভ্রমণ 
সমুদ্র পড়তে পার 
ধারণের মন্ত্র নেবে শিখে 
পাহাড়ের কাছে যাও 
হয়ে ওঠো অরুপসাধক
মানুষ পড়ে কী লাভ
মানুষ কী পাঠযোগ্য, বল? 

যদি পার পাখিদের পড়
পাখিদের চেয়ে থাকা
তারও কিছু ভাষা আছে 
কিছু ভাষা অনুদিত গানে

মানুষ পড়ে কী লাভ
মানুষ পতনপ্রিয় নিম্নগামী স্রোতে।

কমল সরকার

প্ররোচনা

আমার বুকের জমি কেউ গোপনে আবাদ করে 
লাঙল চালায় প্রবলভাবে 
কী বর্ষা, শীত-গ্রীষ্ম, হেমন্ত বা শরৎ কী;

জানি না কী ফসল ফলায়!
সারা বছর বুকের জমিন কেটেকুটে একশা করে। 

আমার ভেতর ঘরে কেউ আমাকে ভাঙে গড়ে
হত্যা করে তুমুলভাবে 
সেই হত্যার সাক্ষী নেই,  মোকদ্দমাও হয় না কোনো

তবু কে যে সাজা শোনায়!
যাবজ্জীবন রায়ে আমার কলম থেকে রক্ত ঝরে। 

কে সেই কৃষক 
কোন্ বিচারক।    

একজনই না আলাদা লোক 
তা জানি না৷ 
আমি কারুর মুখ দেখি না
তবু কিসের প্ররোচনায় 
ভরা ফসল রক্তে ভরে
আমার, কলম থেকে শস্য ঝরে।

খোকন সাহা

কার কুয়াশা জড়ানো ভোর

কার কুয়াশা জড়ানো ভোর,
কার নিথরোষ্ণ হাতের ছোঁয়া
চেয়ে আছে শূণ্য করোতল।
মুখ তার গোধূলির ঝাপ্ সা সুদূরে
মৃদু ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার মত
কত প্রণয়ের গন্ধমাখা এ মাটি,  এ-পবন....
যেন লন্ঠনের চিমনী জুড়ে বিষন্ন ধোঁয়া।

বলো বলো, হে সূর্যনাবিক!
বধিরের আঁধার সাগরে
রোরো নদীর জল ঢেলে
চলেছ মহাশূণ্যের কোন্ দিকে?
বলো কোন্ দিকে যাবো,
কোন্  প্রহরের ছিন্ন বলয়ে
আলোহীন অন্ধহীন অদৃশ্য উন্মাদের শব্দশিশু...
জলচাবি,  হাওয়ামহল এ-ফোঁড় ও-ফোঁড়।
স্তব্ধ গুঞ্জনের বাঁকে বাঁকে
আভূমি অর্বুদ কোটি নক্ষত্রের নিষিক্ত গ্রন্হিরসে
ভিজে ওঠে
কার কুয়াশা জড়ানো ভোর।

রুদ্র মোস্তফা

সব প্রেম হেরে গেলে ঈর্ষা কথা কয়  

বিরহ-সমুদ্রের একান্তে অনুতাপের পাহাড় ঘেঁষে
শূন্যতা জ্বলে জোনাকি হয়ে  স্মৃতির গলিঘুঁজিতে
যে দিন গেছে সেদিন আসে পুনরায় ফিরে ফিরে 
স্তব্ধতার রঙিন রাস্তায়—কথা বলে সে মৌনভাষায় 
যাপিত জীবনের দুয়ার খুলে খুলে। 
ভিজছে হৃদয় একা একা ফেলে আসা ভুল-সঙ্গে 
পুরোনো জোৎস্না কুয়াশার মত কথা কয়
অনেক স্বপন ঢেকে দিয়ে স্বপ্নের মতো সুদূর কণ্ঠে ।
আহা, অভিমান! 
কীভাবে পুড়ো তুমি প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজেও!
বলো,কীভাবে উড়াও তুমি উত্তুঙ্গ প্রেমের পদাবলি
মেঘ থেকে মেঘের শিখরে! 
আমি হাত দিয়ে মেঘ ছুঁই,
মেঘ হাতড়ে খুঁজি তোমার মন 
অথচ তোমাকে পাই  কতটুকু? 
বুঝি তুমি কেঁপে ওঠো তবু প্রবল পরিতাপের ঘোরে...
ফাটলে-ফাটলে বিষণ্নতা— 
তারপর অনুভব
প্রেমের গভীর কোলাহল ডিঙিয়ে গোপনে
রাতের স্রোতের মতো নীল খিপপ্রোতায় একলা 
বুকের অতল দিগন্তের মাঝখানটায় 
মোহ-মায়া নিয়ে টুপ করে মিশে—
ফের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
প্রেমে-অপ্রেমের
স্মৃতি-বিস্মৃতির
তারপর... পর...বহুপর...
সব প্রেম হেরে গেলে ঈর্ষা কথা কয়।

নাহার আহমেদ

পাতাবাহারের ঝুলনায়
নিঃসঙ্গতার  উত্তর -

নিঃসঙ্গতার কার্নিসে ঝুলে থাকা
অজস্র কৌতুহলি প্রশ্নের 
সঠিক  উত্তর খুঁজতে
হতাশ বর্তমান।-
অজস্র জোনাকী মেয়েদের 
নিভু নিভু সুরভী দীপের
মৌন আভায় পুষে রাখা ল্জ্জারা
কপাট মেলে দেয় ।
যন্ত্রণার শেকল ছিঁড়ে ,
বেরিয়ে আসে অপ্রিয় সত্যিরা। 
ফেরারি সুখ দীর্ঘশ্বাস ফেলে
প্রশান্তির ছোঁয়া পায় ।
ভালবাসার স্পর্শে সময় আকাশে
নক্ষত্রের হাতছানি ,দ্বন্দ্বের প্রশ্ন
ভাবিয়ে তোলে ।
বহুদিন পর যেন নিরাপদ নীড়ের
সন্ধান খুঁজে পায় 
ভাসমান আশ্রিতা ।-
কাব্যের করিডোরে দক্ষিণার 
উজ্জীবিত শিহরনের শিরশিরে পরশ ।গোধুলীর ধূপকাঠিতে।
আবির মাখা একরাশ মুগ্ধতা।
উড়ুউড়ু চঞ্চলতা বয়ে আনে
ময়ূরীছন্দ ।উন্মুক্ততার স্বাদ ।
অধরা লাজুক অনুভূতিতে 
নতুন এক পথের সন্ধান,
বদলে দিল গদবাঁধা স্বরলিপি।

নতুন অলংকারে সাজানো প্রহর,
নতুন পথের  ঠিকানা এনে দেয় নিঃসঙ্গতার কার্নিসে
রঙ্গিন নতুন পাতাবাহারের ঝুলনা
প্রশ্নের যবনিকাপাত ।

নিলুফা ইসলাম

ব্যক্তিগত ইশতেহার

আমার কবিতা আর কাঁদে না, প্রিয় বোনের ধর্ষণের 
আমার কবিতা নিশ্চুপ রয়, মিছিলে গুলি বর্ষনে, 
আমার কবিতা হাহাকার দেখে মানবতা গেছে ভুলে, 
আমার কবিতা নতজানু আজ সত্য খেয়েছে গুলে।

আমার কবিতা আজ খুব ভীরু, প্রশ্রয়ে মাথা নতুন, 
আমার কবিতা সাম্যতে নেই, আজ শুধু দলগত।
আমার কবিতা দিকভ্রান্ত,আজও জাত খুজে চলে, 
আমার কবিতা ধার্মিক নয় তবু ধর্মের কথা বলে। 

আমার কবিতা অন্ধকারের নিষিদ্ধ পদাবলী, 
বিপ্লবে নয় বিক্ষবে নয় আপোষের নামাবলী,
আমার কবিতা গর্জে উঠেনা সমাজ সংস্কারে 
অতি চুপিসারে গণিকার পায়ে, ফুল দেয় অন্ধকারে। 

আমার কবিতা সম্প্রীতি ভুলে, মানুষে বিভাজন 
আদিম সুখে মত্ত থাকে পশুর মতোন 
আমার কবিতা নগ্নতায় আঁকা অসভ্য বর্বর
বুকের পাঁজরে শূলাঘাত করে, ভাঙে শুধু মর্মর

রোকেয়া ইসলাম

বাঁশি 

দিনের জন্য রাত তাড়ানোর গল্প শুনতে শুনতে 
বড় হয়েছি
রাতের সাথে সাথে নক্ষত্ররাও যে ঝরে পড়ে; 
জানা ছিলো না
তোমার ঝরে পড়া আমাকে আবার ফেরাতে চাইলো রাত্রির দিকে
কিন্তু আমি যে দাঁড়িয়ে আছি কাঠফাটা রৌদ্রের দুপুরে 
একখানা চিনামাটির বৈয়াম হয়ে। 

জোছনার গান বাতাসে মিলাবে, কিন্তু আমার সুরে কোনো বাঁশি বাজবে কি আর?

নিয়তি রায়বর্মন

জল বাঁচাব

নীল গ্ৰহতে এতো জল 
শুখা মরসুমে ফাটে স্থল। 
কৃষি খেতে ফুটি ফাটা
গরু মহিষের জাবর কাটা। 
জল নাই জলের অভাব
নদী নালার শুকনো স্বভাব। 
মাটির নীচের যত জল
নেমে গেছে অধিক তল। 
জল সেচে ফসল ফলে
চাষের জল নাই কলে।
জলের ব্যবহার অতি অধিক
কোল্ড ড্রিংক্সের মুনাফা সঠিক। 
রাজ্যে রাজ্যে জলের অকাল
বহু দূর সকাল বিকেল। 
জল সংগ্ৰহে বহু প্রহর
কাজ বন্ধের নানা খবর। 
দূরদূরান্তে যায় মানুষ
ট্রেনে চড়া মজার ফানুষ। 
জল এখন ট্রেনে চড়ে
তেষ্টা মেটাতে গ্ৰামে শহরে। 
গাছ নিধন মহা অন্যায়
বৃষ্টি হলে ভাসে বন্যায়। 
মেঘ ফাটা জলের ধারা
বসতি ধ্বংসে নজর কাড়া। 
গাছ লাগাব জল বাঁচাব
সভ্যতা রক্ষায় এগিয়ে যাব। 

বিজন বোস

বাবা

ভাতের হাঁড়ির ভেতর বাবা 
প্রতি গ্রাসেই হেসে উঠেন ।
ভাবি বাবাতো নেই অনেকদিন 
মা বলেন আছে--
তোর নিশ্বাস প্রশ্বাস আর অস্থিমজ্জায় ।

সকালে যখন মনু নদীর তীরে হাঁটতে যাই
রেলব্রিজে উঠতেই 
বাবার ছায়া হাঁটে আমার পিছু পিছু ...
সমঝে খোকা ।
হাঁটি আর হাঁটি 
জলে ছায়া পড়তেই 
সে কী কাড়াকাড়ি ।
সাত সকালে জলে কে ?
জেলে হবে নিশ্চয়ই ....
কয়েকজন দাঁড়িওয়ালা 
সঙ্গীদের নিয়ে জলকেলিতে মত্ত
আমাকে দেখতেই ডুব ।
খানিকবাদে  ডেকে বলছে 
"খোকা পান্তা খাবি আয় ।"

চন্দন পাল

নিষ্প্রভ

বলছো, ভুলে যেতে ! 
কী করে ভুলি বল ! 
ঘর ভাগ, বিশ্বাস ভাগ, ইজ্জৎ ভাগ, কত রকম ভুল!
টাইটানিক কি ভুলবে চোরা হিমশৈলর কথা !

তবু নীরব থাকি, সম্প্রীতি আর দূরদৃষ্টির টানে।
আবার পুনরাবৃত্তিরও ভয়, 
এখনও স্মৃতি বেদনা টনটন করে। 
অনুতাপীকে মাফ করা যায়, কিন্তু বেঈমানধারা কে নয় !

যুগে যুগে শিশুরা সব সুরভিত হয়ে উঠুক,,,  
তবে, 
তোমার ভালো-মন্দে, আমার আগ্রহ আজ প্রভাহীন। 

সুমনা রায়

বড়দিন 

ওদের জিঙ্গেল বেল নেই
জীবনটাই মৃত্যুর ঘন্টা
বেজে চলেছে ঢং ঢং 
সান্টা! যদি পারো
দুমুঠো গরম ভাতের 
ঠিকানাটা দিও
আইনের পর আইন 
বিলের পর বিল 
রঙের পরে রঙ 
ওরা জানে দুঃখগুলো 
থাকবে অবিকল 
জলভরা মাঠে ক্ষুধা 
জ্বলে ওঠে  
ওদের স্লেজে ভরে আছে 
নিভে যাওয়া খুশির অন্ধকার  
সান্টা ওদের জন্য তুমিই 
নাহয় একটুখানি আলো পাঠিও
বিপর্যয়কে 
বুড়ো আঙুল দেখাবার 
স্পর্ধা দিও

গোপালচন্দ্র দাস

আশা

চলার পথে একটি ক্যামেরা চালাতে গিয়ে
আমিই আমার পা দেখেছিলাম
আমার দাস পা।

মানুষের ভীড়ে প্রকাশ্য রাস্তায়
মুখ লুকানো কলা।

লজ্জিত নয় কেউ।

বিশাল ক্যানভাস হলে
লৌহ-জাল বুনা ছোট্ট জানালায়
মিরাক্যাল নেশায় আশা করছে কেউ
একটি কলার খোসা যেনো‌
পড়ে,আমার পায়ের তলায়।

তুষারকান্তি রায়

এবং ভূমিকা

প্রসঙ্গ তো ছিলই ! আসলে তোমাকে 
শঙ্খলাগা নতুন শতকে নিয়ে যাব  রাধারানি! চৈত্র ও যে মূর্তমান কবিতা সমগ্র সেকথা বোঝাব । 
গৃহস্ত ময়ূরের পালকেও বয়স্ক সময় লেখা থাকে। তুমি কি 
দেওয়াল ঘড়ির গায়ে আঙুল ফুটিয়ে দেখেছো ? নবপাণিনি ?
অপ্রত‍্যাশিত ভূমিকার বাইরে 
দ‍্যাখো কেমন মেঘ করেছে ! 
তোমার ভিতরে " নিদ নাহি..." শোনার 
অপেক্ষায় চতুর্দশীর চাঁদ প্রকাশিত হোক! 
প্রাসঙ্গিক শব্দের মধ‍্যে 
দরিদ্র ব্রাহ্মণের বেশে ট্রামের ঘন্টা
আলো বাজিয়ে চলে গেছে কতকাল... 
তোমার মুখোমুখি বসে আছে 
বাক‍্যপ্রাণহীন অপূর্ব নিঃসঙ্গতা  
মাত্রাহীন হতাশ অক্ষর , আর 
কীটদগ্ধ অলৌকিক পদাবলি খুলে রাখা 
নির্মম মহাকাল 

সুশান্ত নন্দী

রোদ্দুরের সুখ

প্রেমের ভিতর হিংস্রতা দ্রবীভূত হলে
ক্ষত চিহ্নে রঙিন হবে প্রিয় মুখ
তুমিতো এসব চাওনি কখনও
চেয়েছিলে বৃষ্টি আর রোদ্দুরের সুখ

শান্তনু ভট্টাচার্য

শব্দ 

ফুল ফোটার শব্দে 
শরীরে  মিশে গেল হাহাকার 
মেঘে মেঘে ছড়িয়ে যাচ্ছে কেমন
বৃষ্টিহীন রাতের  কারুকাজ.

এখন ভোরের আলো ফোটার সাথেই
উচ্চারিত হয় স্বজন  হারানোর দীর্ঘশ্বাস 
চোখের জলে অবাধে জমছে শ‍্যাওলার সবুজ 

একমাত্র  ভাত উথলানোর শব্দেই 
কোনো বিষাদ নেই।

দিলীপ বসু

জম্পুই পাহাড়ে 

জম্পুই পাহড়ে এলে পৃথিবীটা ছোট হয়ে যায়
সুন্দরী ত্রিপুরার চিবুকের তিল চমকায় আবেশে আবেগে ভোরের আকাশ সারাদিন ছুঁয়ে থাকে
হৃদয়ের চিলে কোঠা
জগত নন্দিত কমলাবাগান সুগন্ধ ছড়ায় সুষুম্নায়
মনেহয় পার্থিব স্বর্গ এই বিশ্বে একমাত্র জম্পুইপাহাড়।মেঘ-বৃষ্টি-আলোর নান্দনিক খেলাই
ইন্দ্রধনুর চিত্রকল্প ঈশ্বরের হাসি হয়ে 
জীবনের সব আয়োজন ভরেদেয় অলৌকিক ছন্দে

জম্পুই পাহাড়ের অধিবাসীরা কেউ মানুষ নয়
মানুষের জন্য অশরীরী উপহার
নৃত্য-বাদ্য-সুরে ছন্দে ইন্দ্রের সভা 
যেখানে ঘুঙুর পায়ে নেচেছিল বেহুলাসুন্দরী 
ত্রিজগত মোহিনী তালে লয়ে আলোক বিহারে।

এখানে আকাশ ছুঁয়েছে পাহাড়, মেঘমালারা
মাথালগ্ন হয়ে উড়ে যায় কুসুমের দেশে
হাতবাড়ালেই মেঘ এসে কথাবলে, গোপনকথা
জম্পুইয়ের সুন্দরীরা অতনুসুন্দরী
প্রেম-অপ্রেম তাদের কাছে আলুকাবলির মত 
দোপাট্টায় ঢাকা দেহে যুগল পর্বত
স্বর্গভ্রষ্ট দিওতিমারা মর্তে এসে করেছে বিহার।

নারী-নিসর্গ-ফুলফলের এমন মনোহারি বিলাস
যারা দেখেনি তাদের কী দরকার ছিল 
মানব হয়ে জন্মাবার
আমি বলি জম্পুই পাহাড়ে এসে 
একবার দেখে যাও ওফেলিয়াদের কমলা উৎসব
অফুরন্ত সবুজ আর নারী-নিসর্গের মাখামাখি।

দিপ্সী দে

ক্ষত  

একটি বিষন্ন সন্ধ‍‍্যায়পাখির ঝাঁক রাতের আকাশ।

উঠানের গাছের সবুজ পাতায় কালোফড়িং আলপনা এঁকে দিয়ে চলে গেছে প্রেমিকার কাছে।

আলপথে নেমে গেছে ঝর্ণা। অন্ধকার শেষে একটি মেঠোপথ প্রেমিক ফড়িং টির চোখে তৃষ্ণা।

এ শহর  ভীষণ  তৃষ্ণার্ত।

নদী বেয়ে নেমে যায় লাবণ‍্য। প্রেম শৃঙ্খলা হারায়।

চাকচিক‍্য শেষে একটি অন্ধকার। স্টেশনচত্বরে লেগে থাকা ধুলো।

কবিতা আর প্রেম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিশ্ব।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

শূণ্যস্থান

শূণ্যস্থান থাকে না,
অবহেলা রেখে গেছ যে ভূমিতে
তা মহীরূহ বন হয়ে -অবহেলা এঁকে দেবে
তোমার কপালে।

শূণ্যস্থানে নিষেধাজ্ঞা থাকে না
বাঞ্চিত অবাঞ্ছিত যে কেউ বসতভিটে গড়ে তুলে
কনভেন্ট স্কুল হাসপাতালে সেজে ওঠে গ্রাম,
গ্রাম থেকে শহর জেলা।

শূন্যস্থানে কোন লক্ষ্য থাকে না
যে কোন ছবি আঁকা যেতে পারে
পানীয় জলের কুঁয়ো কিংবা কুশিয়ার ক্ষেতের মধ্যে জলধারা
অথবা শেকড়ে বিষাক্ত রাসায়নিক সার-

যেদিন গ্লাসে বিষাক্তজল পাতে বিষাক্ত ফল পেলে
সে ফলের বীজে বসতের আঙিনা আকাশ হয়ে ঝাপবে
ভয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত চিৎকার করে ওঠো,
এই ঐতিহাসিক ঘুম শূণ্যস্থানের জন্মদাতা।

সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী

দহন     

১.
ভেজা জমির অন্তরালে
লাঙল ফলার চিৎকার 
তাকিয়ে আছে বৃষ্টি মায়াবী চোখে।

২.
নদীর ভাঙন আঁকতে জানলে
নারীর হৃৎপিণ্ডের যন্ত্রণা ধরা পড়ে।

৩.
স্বপ্নগুলো ফণা তোলে বসলে
আমি মৃত্যুর বুকে মাথা পেতে রাখি,
দহন থেকে মানবদেহের ভস্ম শ্বেতবর্ণের শান্তির প্রতীক।

৪.
মেঘ আর রোদের ভেতরে তৃষ্ণা
ট্রেন হয়ে ঢুকে পড়ে
অচেনা স্টেশনের সিগন্যালে বেগতিক ট্রেকে ঘোলাটে রাত দেখে ।।

শ্রীমান দাস

আগুন

যতটুকু আঁচ পেলে ছাঁই হয়ে যায় হৃদয়
ধীরে ধীরে গোটা শরীর
একটি জীবন ,
তার চেয়েও আগ্রাসী এ আগুন।

কতোবার আধপোড়া হয়েছি 
অন্তরদহনে হয়েছি ছাড়খার
কেউ কখনও পায়নি সে উত্তাপ।

অভিযোগ আছে,
কিন্তু,জানাবার সে দরবার কই?
তবুও আমার কোনো বিদ্রোহ নেই।

জানি,
এক পশলা বিবেকের বৃষ্টি যদি আসে
নিভে যাবে সব অবিবেচনার আগুন।

সপ্তশ্রী কর্মকার

নিকোটিনের মোহ

ভেসে গেছে সহস্র শতক অকৃত্রিম বেড়াজালে,
সম্প্রসারিত আধুনিকতা প্রজন্মের অন্তরালে।
     
সন্ধ্যা নামুক শীতে জড়ানো নিকোটিনের গোলাকার আবেশে,
নক্ষত্র ও তারার সন্ধিক্ষণে যখন আমার একাকীত্ব মেশে।

দোষের কারণ নিকোটিনের ধোঁয়া না যে,
সে প্রাপ্য জীবনের রোজনামচা অজ্ঞাতসারে।

কি হবে নাকি অবুঝের দায়সাড়া আনন্দ নেব কাল,
জনাকীর্ণ  সমুদ্রে হাজারো মানুষ মিলাচ্ছে তাল।

কত বিজ্ঞাপন মানছে হার আরোগ্যহীন ক্যান্সারের,
গন্ধে তীব্র ব্যাকুল যেখানে সাধারণ মানুষ তামাকের।

ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আর কোনো ট্রেন নাই 

জানালা দিয়ে দেখি উন্মুক্ত মাঠ
শিশির মাখা সবুজ সবুজ ঘাসেদের 
ছুঁয়ে দেখেনি কেউ তখনো
মাঠ ঘেরা বৃক্ষাদি, পাতায় পাতায় লেখা কবিতা 
মনে হলো সেসবও পড়ে নাই কেউ কখনো 
এখানেই নেমে গেলাম বাম পা আগে দিয়ে হঠাৎ
কেমন অচেনা বাতাস আগে বুঝিনি 
নেমে দেখি চেনা কিছু নাই 
নেমে দেখি ভালোবাসি যা যা 
সেসবেরও নাই কিছুই। 

এখানে নেমে গেছি না বলে না ভেবে 
এখন ফিরতে চাই উঠে ফের আবার
ফেরা মানে কোথাও যাওয়া নয়
ফেরা মানে আবার ছুটতে থাকা
এখানে নেমে দেখি আর কোনো ট্রেন নাই 
প্লাটফর্মে বসে আছে আমারই মতো বহুজনে 
কিন্তু রেল লাইন নাই, নাই কোনো ট্রেন
একবার নেমে গেলে কোনো ভুল গায়ে 
তবুও কেনো জানি যায় না ফেরা
এখানে নেমে দেখি ট্রেন নেই কোনো
দাঁড়িয়ে আছি একা একা এই ভুল গায়।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

ভুল ডেথ-সার্টিফিকেট

আমার শবদেহের মধ্যেই আমি জেগে আছি।

আমার রক্তে যে গান বেজেছিলো, তাকে মাচানে চাপিয়ে শ্মশানে চলেছে যারা তারা সবাই আমার প্রতিবেশী, আত্মীয় পরিজনআমার প্রিয় গান আজ স্পন্দনহীন!

মাচানে কাঁধ দিয়ে যে লোকটা সামনে সামনে চলেছে, সে আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা – নির্বোধ স্বপ্নের মতো একটা নীল স্যুট আর সাদা টাই তার পরণে।

কুঁকড়ে গেছে আমার গানের প্রিয় শরীর! এই শবযাত্রায় কাঁধ লাগিয়েছে যে দ্বিতীয় লোকটা, সেও আমার প্রতিবেশী, দারুণ ছটফটে – তার নাম প্রতিযোগিতা, ছুটন্ত অস্থিরতার মধ্যে ধ্যানহীন তার চোখের থেকে বেরিয়ে আসছে ব্রেক ফেল করা ট্রেনের শব্দ!

আমার প্রিয় সংগীত এখন মাচানে, শক্ত হয়ে আছে ওর নরম শরীর - অন্তিম যাত্রায় যাবে বলে যে প্রতিবেশীটা এতোদিন তক্কে তক্কে ছিলো, তাকে তো আমি চিনি – তার নাম বিদ্রূপ। জীবনভর আমার পেছনে লাগতো এই যে পড়শিটা, কেন তাকে ঘেঁষতে দিলাম আমার শবযাত্রায়? তাকে আটকানোর জন্যে মনটাকে কেন আমি ঢাকি নি ইস্পাতের বর্মে?

যে গান জীবন থেকে চলে যাচ্ছে, সে কি এম্নিই যাবে? তাকে মাচানে বয়ে নিয়ে চলেছে যে চতুর্থ লোকটা, সেও তো আমার ঘরেই বসত করে। ফ্যাকাসে রঙ্গের সেই মানুষটা, তার নাম বিশ্বাসহীনতা

মাচানে এখন লয়-তালহীন শরীরের শবদেহ। সামনে ধূপের ধোয়ায় জ্বলছে আমার সময়। আমার গান, যাকে আমি গাইতে চেয়েছিলাম, পারিপার্শিকতার হাসপাতাল থেকে শ্রশ্রূষাবিহীন সে নিয়ে এসেছে ভুল ডেথ-সার্টিফিকেট!

আমার গান এখনো মরে নি! আমি খোলা চাকু নিয়ে ছুটে যাই সেই সব শববাহীদের দিকে, যারা জবরদস্তি খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার জীবনকে! এই আমার হাতের ছুরি, দেখো, গড়িয়ে পড়ছে টাটকা রক্ত! আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

দুলাল চক্রবর্তী

১. তুমি আছো, আমি আছি

বন্ধু আমার চলার পথে
বিশ্বস্ত এক সাথী,
বন্ধু আমার আঁধার রাতে
জ্বালায় জীবন জ্যোতি।

বন্ধু আছে, আমিও আছি
পথ তো হবেনা শেষ,
ধরণীর পরে রেখে যাব মোরা
মায়া - মমতার রেশ।

২. তুমিই পরম পিতা

জ্ঞানে ও কর্মে, আছো তুমি
হে ঠাকুর, পরম পিতা,
তোমার চরণে ঠাঁই দিও মোরে
প্রভু, তুমিই জ্ঞানের গীতা।

তোমার জ্ঞানের দীপ জ্বলছে
হৃদয় -মন-প্রাণে সদাই,
তোমার দেখানো পথেই হাঁটছি
যেন, কভু ভুলে না যাই।

সুজন দেবনাথ

নিরাশা      

আমি দুঃখের ঘরে সুখের প্রদীপ
জ্বালতে চেয়েছি নিয়ত।
বুঝিনি তো সেই প্রদীপের শিখা
এই হৃদয় পুরেছে কত।।

আমি উজারিত প্রেম সবারে দিয়েছি
কখনো করিনি পরিমাপ।
সেই প্রেমের মালা আজ ভীষণ জ্বালা
জানিনা কার অভিশাপ।।

আমি অসহায় ভেবে বাড়িয়েছি হাত
নিয়েছি এই বুকে যারে।
সে আঘাতের পর আঘাত হেনেছে
জর্জরিত করেছে আমারে।।

আমি ভালোবাসার কাঙাল হয়েছি
শুধু চেয়েছি ভালোবাসা।
বুঝিনি তো সেই ভালোবাসা আমায়
এ জীবনে করবে নিরাশা।‌।

নমিতা সরকার

বহ্নিশিখা    

তোমার তৃষ্ণার্ত চোখে অামাকে অাবিষ্কার করো না।
অামি বহ্নিশিখা!
তোমার নেশার পাত্রের সুমিষ্ট পানীয় নই যে চুমুকেই তোমার ঠোঁটে অাবিষ্কার করবে নগ্ন পেয়ালা..
অামি বহ্নিশিখা!
তোমার তৃষ্ণার্ত বুকের শিহরিত ঢেউ নই যে তোমার তীরে ভীড় জমাবো...
বৃথাই তৃষ্ণার পাত্র ভেবে ভুল অাবিষ্কার করছো নেশার ঘোরে 
অামি বহ্নিশিখা! 

ভুল করে তৃষ্ণার সুরা ভেবে চুমুক দিও না জ্বলে পুড়ে ছাই হবে।

লিপি ভৌমিক

বিজয়ের উচ্ছ্বাস

তুমি আছ বলেই আজ স্বস্তির নিশ্বাস, 
স্বাধীন  পথচলা, 
তোমাকে অর্জন  করেছি বলেই
মনের ভাষা মধুর কন্ঠে বলা।
তোমাকে পেয়েছি তাই 
আজ রঙিন সূর্যোদয়,
তুমি আছ তাই স্বপ্ন হাজারো
পথচলা নির্ভয়,
তোমাকে পেয়েছি তাই পরিচয়  আমার
এ দেশ আমার গর্ব,
তাইতো আজ বিজয় মেলা
গড়েছি সুখের স্বর্গ।
স্বাধীনতা তুমি দিয়েছ স্বাদ
স্বাধীন ভাবে বাঁচার, 
তাইত তুমি বহু কাঙ্খিত 
আমার অহংকার। 
যুগে যুগে তোমারই জন্য 
কত আত্নত্যাগ আর লড়াই,
তোমাকে পেয়ে কোটি প্রানে
প্রাপ্তির সকল বড়াই।
তোমাকে পেতে লক্ষ প্রাণের
হয়েছিলো বলিদান।
তোমাকে পেয়ে গর্বিত আজ
লক্ষ  কোটি প্রান।
বিজয় আমার স্বাধীনতা  আমার
শত বাঙালির  অধিকার, 
এ বিজয় তুমি চিরকালের 
বাঙালির  অহংকার।।

বিপ্লব উরাং

কদিন বাদে-

ক‍্যালেন্ডারের পাতা থেকে মুছে যাবে-২০২১
আসছে-২০২২

আগামীর প্রত‍্যাশায় দু চোখ।

একুশের করোনার দগ দগে ঘা-
এখনো মুছে যায়নি।
গঙ্গার বুকে ভেসে যাওয়া 
শত শত পরিবারের 
বুক ফাটা কান্না
এখনও কানে বাজে।

বুকের গভীরে পরিযায়ী শ্রমিকের
কান্না গাঁথা হয়ে আছে।

আগামীর প্রত‍্যাশায় আছি।
হাজার হাজার কর্মহীন মানুষের
কাজের সুরাহার প্রত‍্যাশায়।
বেকার যুবকের চাকরির প্রত‍্যাশা নিয়ে
বাইশকে স্বাগত জানায়।
জানিনা সে আশা কতটুকু পূরণ হবে।

রাহুল শীল

জন্মদিন 

১.
আমার নিজস্ব কোনো জন্মদিন নাই
আপনাদের দেওয়া দিনগুলো সাজিয়ে তৈরি করি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল।
এখানের আঞ্চলিক বায়ুর দিক নিয়ন্ত্রিত করে মা-বাবা।
এখানেই রোজ খেলাধুলা চালায় গ্রীষ্মকালীন আয়ন বায়ু।
মাঝে মাঝে এসে শাসন করে শীতকালীন পশ্চিমা বায়ু।

 ২.    
এতদিন অবধি ধারাবাহিক সূর্যোদয়ের সঙ্গে  সমানুপাতিক হারে আরো প্রসারিত হচ্ছে মৃত্যুপথ।

নিঃশ্বাস সংখ্যা মনে রাখার জন্য
উদযাপন করি জন্মদিন।

৩.
আমার ধারাবাহিক সূর্যোদয়ের সংখ্যার সমষ্টি 
আমার একটা করে নিজস্ব জন্মদিন।‌।

লিটন শব্দকর

ভুঁইচাঁপা

কয়েকটা গুনতে চাওয়া হলুদ ফড়িংএর পাখা
ভিজে বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েছে বৃষ্টিতে ভিজে।
গতরাতে নতুন মাটিতে নেমেছিলো ভুঁইচাঁপারা,
উঠোনে ভেসে গেছে অনেক না পাঠানো টেক্সট
ভুঁইচাঁপাগুলি জল কাদায় মাখামাখি হয়ে এলো
ফাটলের মতো নিঃস্ব মেঘ বাড়ি অবধি এসেছে
পায়ের চামড়ায় ;কাদা জলের অভিপ্রায় ছিলো 
শুকিয়ে যাবার আগে ওই আয়নাটা পর্যন্ত যদি 
নাগাল পাওয়া যায়! বৃষ্টির কবিতা যেতো লেখা
ভুঁইচাপারা জলের তোড়ে যেন কিছু বলে যাচ্ছে,
আঁকড়ে ধরার মতো কোনো কাঠ দরকার নেই।
কিন্তু আমি প্রতিদিনই বলি ওই পাগলটার ছবি,
উপচে পড়া ডাস্টবিন, গাড়ির হর্ণ, ধোয়া, ধুলো, 
ক্রমশ গলির মতো হয়ে গলা টিপে ধরা ফুটপাত 
আমার বাড়ি থেকে দূরে থাকো,কিন্তু কে শোনে!
ভুঁইচাপা রোজ আমাদের পছন্দ অপছন্দ দেখে
আসলে কাদায় কাপড় ধবধবে থাকে না মোটেই
এখানে আরও জল জমে,ভাসে আমার মুখটিও
নিরূপায় নৌকো লুকিয়ে ফেলি ভুঁইচাঁপার স্তুপে।

ঝিমলি আচার্য

চড়ুইভাতি

দুই হাজার একুশ সাল
বিশ এ জানুয়ারির ভোর।
এক অদ্ভুত দৃশ্যের অনুভূতি
আমি বিব্রত শঙ্কিত।
সময়টা ছিল সকাল ছয়টা, 
কিন্তু প্রকৃতির অন্যরূপ।
এ মোবাইলওমোবাইল দেওয়াল ঘড়ি,
সবকটা সমানতালে চলছে।
প্রকৃতি বলছে শীতের ভোর
চার পাঁচটার আশপাশ।
নীল আকাশের উপর ঘোলাটেে মেঘের ভারি প্রলেপ এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য।
ধরা পড়ছিল মেঘের চড়ুইভাতি
রণাঙ্গন সৈনিকে পরিপূর্ণ।
মেঘে সূর্যে লড়াই,
সূর্যের বেরিয়ে আসা অসম্ভব।
ঊষার আগেই মেঘের,
তীব্র আক্রমণ ঐকপত্য ।
স্বার্থ কঠিন-কঠোর অধ্যবসায় যেখানে প্রশ্রয় এর স্থান শূন্যের কোঠায়।
মেঘের বে-পরোয়াপণায় জীবজগৎ স্তম্ভিত।
হার-জিতের তুমুল লড়াই এ সূর্যের তীব্র প্রখরতা এদিন হারিয়ে গেল।
আনন্দ উৎসবে মাতোয়ারা মেঘমালা আলোক বিহীন পৃথিবীকে উপভোগ করছিল।
সূর্যের বক্তব্য,মেঘের ও  অধিকার আছে ,তবে ছিনিয়ে নেওয়া অন্যায়।
শেষে পরাজয়ের মূর্ছনায়
ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত সূর্য নিদ্রাগত।

রঞ্জিত চক্রবর্তী

ও মানুষ তুমি কী চাও

ও মানুষ তুমি কী চাও
তোমার অস্তিত্ব হোক বিসর্জিত
তোমার স্নেহের টান থাক তোমাতেই সীমিত।
তোমার আগমন কী শুধু-
স্বপ্নমাখা বিলাসের দাঁড় টানতে
তোমার জন্ম কী শুধু-
ধন, জীবন, যৌবনের খেলা খেলতে।
তোমার গৃহস্থ জীবন শুধু কী-
আমার আমিকে ধরে থাকা
তুমি না মানুষ‌!
মন থাকেনা মানুষের ভিড়ে।
তোমার কী পড়ে না চোখে 
কত দুঃখের জাগরণ
তুমি সে রুপ দেখেও চেয়ে থাকো।
ও মানুষ তোমার বুকের কপাট খোলো
মরার আগে একটিবার ভাব
দেওয়া নেওয়া ছাড়া
কিছুই নেই তোমার
তুমি যে মরণশীল।

সুস্মিতা এস. দেবনাথ

খুনি

কোন এক হৈমন্তী  পূর্ণিমা রাতে 
গোলাপটি তখনও ভালো করে ফোটেনি
সদ্য প্রস্ফুটিত একটি গোলাপের গলা টিপে 
খুন করেছিল নিধিরাম,
অথচ তার হাত কাঁপেনি 
হৃদস্পন্দনের কোন হেরফের হয়নি ! 

সেই থেকে- 
সে খুন করেই চলছে 
কখনো রাতদুপুরে 
কখনো গোধুলীতে 
লাশকাটা ঘরে কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে 

খুনের নেশা তার রুধির ধারায়
অবিরাম বয়ে চলছিল কি সহজে 
সে ছুরি চালায়
পাকা কসাইয়ের মতোই রোজ 
প্রতিটি মায়ের হৃদপিণ্ডকে টুকরো টুকরো করে 
ছুরিতে শান দেয় ঠান্ডা মস্তিষ্কে... 

এসব বিপ্রতীপ  ঘটনার সাক্ষী 
রাতের জোনাকীরা,
আকাশভরা তারা আর সূর্যের ফোটন কণারা
বাকরুদ্ধ 

এসব দেখে দেখেই 
তারারা ক্ষিপ্ত
সূর্য ফুঁসছে 
আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জোনাকিরা 

হয় তো একদিন মানুষের বিবেকের আদালতে
সমন পাঠাবে ওরা, 

সে দিন আর খুব বেশি দূর নয়
কবির কলম গর্জে উঠে
কবিতার শব্দগুলো ফ্যাটম্যান এর মত 
আছড়ে পড়বে আগামীর বুকে এবং
বিচার চাইবে...

মোঃ রুবেল

কবিতা জ্বলুক       

কবিতার বুকে কিছু আজন্ম দুঃখ পুঁতে দিতে চাই।
যেসব দুঃখ কবিতা বহন করে চলছে অনাদিকাল।
এই দুঃখে--
কবিতা জ্বলুক। জ্বলতে থাকুক।
এই দহনের উদ্ভট গন্ধ মানুষের হৃদয় ছড়াক।
মানুষ বুঝুক কতটা দুঃখ পেলে এভাবে বুকে দহন হয়, উদ্ভট গন্ধ বের হয়।
তারপর......
মানুষ দুঃখ সারানোর ঔষধ খুঁজুক।
মানুষ মানুষকে বুঝুক।
ভালোবাসা  বুঝুক।
হৃদয় বুঝুক।
অতঃপর কবিতা আতর হবে।।

প্রজ্ঞা ভট্টাচার্য

স্বত্তা

লোকে বলে লক্ষীবন্ত মেয়ে হও

বাপের বাড়িতে আমি লক্ষ্মী;

স্বামীর ঘরে অন্নপূর্ণা

অফিস বাড়ির সামলে আমি দশোভূজা দুর্গা।

কথায় বলে রুপী লক্ষী গুণে সরস্বতী

আমার মত দু সংসারে সেতু কি কেউ বাঁধতে পারে??

আমি পরকে করে আপন সারা জীবন বাঁচি,

শত সম্পর্কের ভিড়ে হারাই নিজের নাম

গোত্র থেকে গোত্রান্তর

যদিও আমি হই,

তবুও সারদা রূপে ঘুড়ি দ্বারে দ্বারে;

আমি জগদেশ্বরি।

এত রূপ হয়েও আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে হারাই নিজের পরিচয়,

জেনো পুরুষ আমার গর্ভে তোমার জন্ম আমিই তোমার মহাকাল।।

Dec 25, 2021

রূপালী মান্না

ওরাও দাবী করে একটি কবিতা

প্রকৃতিপ্রেম লেগে থাকুক আমার প্রতিটি অঙ্গে
কর্তামশাই পাশে থাকুক প্রেমিক হয়ে সঙ্গে।
গ্রামের মাঠ, ফুটবল খেলা, জমিতে খাটে চাষী,
আকাশ যেখানে মাটিতে মেশে, হাঁটবো পাশাপাশি।

মেঠো আলের রাস্তা পেরিয়ে, গ্রাম মেশে শহরে
নিয়নবাতির মিষ্টি আলোও কবিতা চায় কবিরে।
কথা দিয়েছি ভালোবেসে লিখে দেবো কবিতা,
গ্রাম হও বা শহর হও দিও একরাশ মুগ্ধতা।

পথের ধারে যে মেয়েটা ভিক্ষা করে খুচরো গোনে
বুঝতে সে পারলোনা যে দেখেছি তাকে একমনে।
সান্তার কাছে যে বাচ্চাটা সেলফি নিতে গেল ছুটে,
বুঝতে কী পেরেছিল সে, সেও থাকবে কবিতাতে ? 

চারদেওয়ালের কাজের মাঝে হাঁপিয়ে উঠলে মন,
তখন আমায় জ্বালিয়ে খায় প্রকৃতিপ্রেম সারাক্ষন। 
সূর্য যখন আকাশের বুকে গা এলিয়ে আদর খায় 
আমাকে তখন খুশি করা যেন প্রকৃতিরই যত দায়।

খোলা আকাশের নিচে একঝাঁক উড়ন্ত বলাকা, 
গ্রাম শেষে শহুরে নিয়ন বাতির আলো,
হাইরোড ধরে ছুটে চলা মারুতি, টাটাসুমো,লরি 
হয়তো ওরাও দাবী করে একটা অভিমানী কবিতা।

রমা চন্দ্র

ফিরে আসা

পূর্ণিমা জোছনালোকে...

নিশীথ রাতের তারা-

যে গান শোনায় গ্রহ শশীরে,

সেই গানের টানে দূর গগনে

নিহারিকা পথ ধরে-

মেঘ বালিকা হয়ে

আকাশ ভ্রমি আমি,

আসি ফিরে বাঁশির সুরে-

উষাকালে এই ধরণী কোলে,

জীবন কোলাহলে...

কাটে আমার সারা বেলা-

ফুলবনে করে খেলা...,

বেলা শেষে অস্তাচলের পথে-

সাঁঝের প্রদীপ নিয়ে হাতে

অন্তহীন অপেক্ষাতে...

আপন বাটির দুয়ারেতে।

সম্পা বৈদ্য

জন্ম মৃত্যু

আমাদের জন্ম হয় নীরবে, অন্ধকারে, অবহেলায়।

আমাদের জন্ম হয় অপেক্ষায়!


আজন্মকাল অপেক্ষায় থাকি

একটু ভালবাসার।

কিন্তু আমাদের জন্মে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রিয়জনদের।

ভালোবাসাময় এক নুতন পৃথিবী আমাদের আজন্ম স্বপ্ন দেখায়!

আমাদের নীরবে জন্ম হয় !

মৃত্যু ও হয় নীরবে!


মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুচার দিন   সখের  আর সাধের ভালোবাসা খুঁজে বেড়াই।

অঙ্কুর সাহা

বন্ধুত্ব 

ঈশ্বর যাকে দিয়েছে বানিয়ে

আসল হীরের দর্পণ ছানিয়ে,

যার কাছে সকল ব্যথা হার মানায়

হৃদের পাখি যেথায় উড়তে চায়,

যার শব্দে টেনশন দূরে ভাগে

যে আপদে থাকে সবার আগে

মন ভোলনো কথা যার

সে আর কেউ নই বন্ধু আমার

সোনার খুশি ভরেছে ঝুলিতে

বন্ধুত্বের সে স্মৃতির বুলিতে

আদর আবদার সে দুষ্টু হাসি

শেষে সে খেলা রাশি রাশি

স্কুলের গল্প মুখের কথা সেই

যেখানের সম্পর্কে বাঁধ কোনো নেই

যা কৃষ্ণ সুদামার মতো কাহিনী

যা বন্ধুত্বের ভালোবাসার বাহিনী

সবার প্রিয় সে মানুষখানি

বন্ধু নয় ভাই বলে তাকে আমি চিনি।

স্বরূপা দত্ত

১. 
মিলন

আঁধার এক অফুরন্ত কালরাত্রি যাপন
যন্ত্রণাকাতর সূচ‍্যগ্র ইচ্ছে মাথাচাড়া দিলে
নিকষ কালো মেঘ শুষে নেয় সব উত্তাপ, 
বিছানায় লেগে থাকে রতিহীন ঘাম।
নিস্তেজ জলো চোখের তারা বুজে এলে
হ‍্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা সুর তুলে,
বদ্ধ ঘরে ওঠে বালিয়াড়ি ঝড়।
নিষ্ঠুর আঁধার চিরে পা দুটো ছুটে চলে 
গভীর খাদে, শাশ্বত মিলনের অভিমুখে।

২.
নিরুদ্দেশ

পুরোনো অসুখ ফিরে এলে
মেঘেরা অবিরাম গর্জন করে 
উত্তরীয় বায়ু বয়ে আনে বিষাদ সুর
প্রতিকার হবে না ভেবে
ছায়া ছায়া পথ ধরে পালিয়ে 
মেয়েটি নিরুদ্দিষ্ট হয়।
একটি ছেলে তখনো বসে, অপেক্ষায়
রাঙা পদপদ্ম বুকে দেবে ঠাঁই।

হায়! এই কথাটা যদি জানত মেয়েটা.....

আব্দুল হান্নান

আমার জন্ম ভূমি 

খড়ের চালে প্লাস্টিক দেওয়া ঐযে দেখো ভাই

ওটাই আমার বসত বাড়ী জন্ম ভূমি ওটাই 

উত্তরে তার বিশাল পুকুর দখিনে কাকা জ্যাঠা

পশ্চিমে সব জ্ঞাতির ঘর,পূবে মসজিদ ওঠা।


এটাই আমার দাদুর পিতার পৈতৃক ভিটা ভূমি 

মাটির দেয়াল খড়ের চাল শীত-গ্রীস্মে -দামী

আম্ফান আসার আগে ভাঙে সে তো নেই আর 

স্মৃতি স্বরূপ ধরা ওপর দিকে তার....।


এখন আমি সেখানেতে নতুন ভাবে করি বাস

দারীদ্রের হাত পেতে কোথাও ফেলেনি যে দীর্ঘ শ্বাস 

যা আছি এই ভালো ই আছি আনলে রোজ খাই

চাওয়ার জায়গায় চাইতে গেলে সমস্যার শেষ নাই।।

সেখ আব্দুল মান্নান

প্রেয়সী কল্লোলিনী

যৌবনের সিঁড়ি চড়ে আমি অন্ধ তোমার প্রেমে
বিনিদ্র রজনী কত স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে নিয়ে,
কাছে যাব  দুচোখ ভরে দেখব তোমার লাবণ্য,  
তোমাকে ছুঁয়ে রাঙিয়ে নেব আমার পিয়াসী মন
বছরের পর বছর গুণে চলেছে প্রতি ক্ষণ অনুক্ষণ।

আহাম্মক মন জানেনা তোমার স্পর্শ পেতে
যে দক্ষতা প্রয়োজন তা আমার নেই,
তবুও সে করেছে পণ যে কোন মূল্যে 
পৌঁছেবেই তোমার কাছে, তুমি মরিচিকা জেনেও
বেবশ মন অকারণ হন্যে তোমার জন্যে।

হবে নাই বা কেন, বিশ্বজাহান তো মুখিয়ে রয়েছে 
তোমার প্রেদরিয়ায় একটিবার ডুব দেবে বলে,
সেই ডুবে তোমার গহিন দরিয়া থেকে হয়ত 
কাঙ্খিত উজ্জ্বল মুকুতার পরিবর্তে 
তুলে নেবে একমুঠো অমসৃণ কাঁকড়।

সমগ্র অবয়বজুড়ে তুমি বিছিয়ে রেখেছ
তোমার মোহময়ী ইন্দ্রজাল প্রতিক্ষণে, 
সেই মায়াজালে দুনিয়ার কোটি প্রেমিক
ধরা দিলেও লাজরাঙা দ্রৌপদীর মত 
তুমি মেলে ধর মদির আঁচল অফুরান।

তুমি রাজসুয়ো যজ্ঞ করে চলেছ প্রতিদিন
আমার মত বেয়াক্কেলে প্রেমিকদের নিয়ে
পরীক্ষা নিরীক্ষায়  নিখুঁত বুদ্ধিমত্তায়,
যাতে তোমার মহিমা চুম্বনে বুঁদ হয়ে
মাতাল হয় মন্ত্রমুগ্ধ মৌপিয়াসির মতো ।

আজ তোমার লাবণ্য লতার জৌলুসে 
নিয়েছে ঠাঁই অত্যাধুনিক মটর যানের ঢল,
প্রসস্থ মেট্রো-বাইপাশ গগনচুম্বী অট্টালিকা,
যাদুঘর চিড়িয়াখানা কৃত্রিম সৌরমন্ডল,
প্রমোদতরী যৌনালয় অগনন প্রেমালয়।

তোমার সর্বাঙ্গ জুরে আজ আলোর ফিনকি
একফলা দ্বিফলা ত্রিফলায় ছয়লাপ চারদিক
আলোয় আলোকার নানান মায়াবী রশ্মিতে,
রূপের ভিসুভিয়াস গ্রাস করে আজ তুমি
লন্ডন নগরীর মাহাত্ম্যও ছুঁই ছুঁই।

সৃষ্টির আদিকাল থেকে তিলে তিলে 
তিলোত্তমা হয়ে আজ তুমি কল্লোলিনী
রঙ্গিনী সঙ্গিনী শঙ্কিনী কিনিকিনি সুরে, 
তোমার অনুরাগের বেহাগ শুনে আমার
বামাক্ষ্যাপা মন বলে  চিনি ওগো নন্দিনী।

কল্যানী ভট্টাচার্য্য

অ-কবি

আমি তো নই কবি

আমি যে গো অ-কবি। 

আমার কলমে যদি না থাকে বল

কি করে পালাবে হায়নার দল। 


কবির কলম যে হবে ক্ষুরধার

সততা থাকবে মনে। 

কবির কলমে থাকবে প্রতিবাদের সুর

থাকবে কবির পবিত্র বাণী। 


আমি যে গো কি করি

মনেতে প্রবল ইচ্ছা ধরি। 

কবি হবার স্বপ্ন দেখি

অন্যের লেখা দেখে শিখি। 


পারি না করতে সঠিক বর্ননা

ঘটে যেতে পারে কোন দূর্ঘটনা। 

মনের ইচ্ছা মনেই রাখি

অ-কবির তকমা বাকি। 


কবির কলম যে হবে

ন্যায় নীতি সততায় ভরা। 

কবির কলম বিদ্রোহ হতে হবে

চলমে কলম সুখ শান্তিতে ভরা। 


কবির গর্জনে কাঁপবে দেশ

ছিন্ন হবে দেশদ্রোহীর বেশ। 

নতুন প্রজন্মের সুশিক্ষায় করবে কবিকে ঈঙ্গিত

সমাজের কাছে ফুটিয়ে তুলবে সুখ দুঃখের ঈঙ্গিত।

Dec 24, 2021

কুশল রায়

ভূল

এতোদিন টাকার উপরে ভালোবাসা

করে চলে গেল,

কিন্তু যতক্ষণে বুঝতে পারল ভূল টা 

ততক্ষণে আর কি কিছু রইল ৷ 

কেন এমন করে মানুষ 

নিজের জন্য অন্যের ক্ষতি করে

উড়ায় কথার ফানূষ ,

এবার সবাই বলবে এতো স্বাভাবিক ধর্ম 

এই বলেই কত জনে করে যে কত কূ-কম্ম ৷

আরে কিছু বুঝবে না 

কেউ বলবে না,

একদিন একলা হয়ে চলে যাবি 

এই জগত ছেড়ে তখন কেউ কিছু কি পাবি ?

ছাড় মায়া ,কর দয়া 

জীবে প্রেম করলে তুই হবি না কখনো 

ঈশ্বরের নির্দয়া ,

তাই মানুষই ঈশ্বর,

ঈশ্বরই মানুষ  ৷

এটাই হোক সকলের উরানো 

কথার ফানূষ ৷

প্রসেনজীৎ সাহা

মা 

মায়ের আদর, মায়ের স্নেহ।
কোথায় গেলে পাবো বলো। 
মায়ের মতন আদর যতন।
কেইবা করে বলো।
মায়ের হাসি চাঁদের আলো।
শত কষ্টে ও সন্তানকে বাসে ভালো।
মাগো তোমার ঋণ কে শোধিতে পারে।
কন‍্যা বিদায়ে দু'মুঠো চালে।
তোমার ছোঁয়ায় শান্তি মেলে।
তোমার মতন কেইবা ভালোবাসে।
দশমাস গর্ভে ধরে দেখালে আলো।
তোমার তুলনা যে হয় না কারোর সঙ্গে মাগো।
তুমি আমার পথের দিশারী।
তোমায় ছাড়া আমি যে অসহায় নারী।
তুমি তৈরী করলে আমায় এক  প্রকৃত নারীমূর্তি।
সর্বকাজে শিখিয়ে পাঠালে পরের বাড়ি।
সেইখানে যে নেই মা তোমার ছোঁয়া।
তোমায় ছাড়া আমি যে দিশেহারা।
আমি তোমায় বড্ড ভালোবাসি মা।
তোমার স্থানে আর কাউকে যে বসাতে পারবো না।

অশ্বিনী কুমার মন্ডল

শহর 

গ্রামের থেকে শহরগুলো 

গড়ছে অনেক দূরে, 

অট্টালিকার লাইন দেখে

মাথা যায় ঘুরে। 


হাজার হাজার মানুষ সেথা

হাজার রকম পেশা, 

কাজের মাঝেই সূর্য ডুবে

কাজেই তাদের নেশা। 


গ্রামে গঞ্জে আছে এখনও

প্রীতি ভালোবাসা, 

শহরেতে বড়ই অভাব

মনে শুধুই হতাশা। 


গ্রাম গুলোকে শহর যখন

করছে শুধু গ্রাস, 

নগর জীবনে মানবতার

হচ্ছে শুধু হ্রাস। 


সবুজ ঘেরা গ্রামটি আমার

বাউল বাতাস রাখী, 

শহুরে জীবন যেন

খাঁচায় বন্দী পাখি।

গোপী নাথ ঘোষ

মেঘ পাহাড়ের প্রেম

মেঘ পাহাড়ে প্রেম হয়েছে 

আকাশ করেছে আড়ি,

তোমার সাথে মিলে আমি 

অসীম রেখায় চলি।


স্বপ্নবুনি নিপুন হাতে

জীবন করি পান,

এটাই ব্রত এক জীবনে 

বুঝতে তব তান।

প্রেমজিত সিংহ

প্রকৃতির সাথে একদিন

নিবিড় , নিরব , আকুল পরিবেশ ।
কোলাহল সকলের যেন অশেষ ।।
আকাশেতে  শুভ্র খন্ড খন্ড মেঘ ।
কবির ভাবনায় নিতান্ত আবেক ।।
কলরব কাকলির বড়ই মধুর ।
বজায় আপন তালে আপন সুর ।।
নিত্যকাল ধরার পবিত্র বেশ ।
আকুল অশেষ, অসীম বিশেষ ।।
তাহার মাঝে কাটিল একদিন ।
আহা , সে কি আনন্দময় ! মনের দিন।।

সুধীর রায়

এই ত্রিপুরায়

মাঝে মাঝে সমতল, মাঝে মাঝে টিলা,

পার্বতী এই ত্রিপুরায়-আছে আটটি জেলা।

বন বনানী পাহাড় নদী, সুজলা সুফলা,

সবুজ শ্যামল ধানের শীষে-উজ্জ্বলা! উজ্জ্বলা!


মাঝে মাঝে শহরতলী, মাঝে মাঝে গ্রাম,

রূপের রাজা এ দেশ আমার,-ত্রিপুরা তার নাম।

পাখপাখালির কলতানে,গান জাগে বাউল মনে,

পার্বতী ত্রিপুরার সাজ স্বপ্ন আঁকে কবির দু'নয়নে।


এই ত্রিপুরায় ভরপুর-

 ছন, বাঁশ, গাছগাছালি,হরেক রকম ফলে,

ঝাঁকে ঝাঁকে পশু পাখি,বানর থাকে দলে!

ঝর্ণা-নদী যৌবনা হয়, বৃষ্টি ঝরা জলে।


লাউ, কোমড়, ঝিঙে, পটল, মাঠ ভরা ধান,

দোয়েল, কোয়েল, ফিঙে নাচে,কোকিলে গায় গান।

শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া,কদম ফুলের গন্ধে ভরা,

শরৎ এলে মৌ মৌ করে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ।


হরিণ চড়ে বনে বনে,শিয়াল ডাকে আপন মনে!

বনের মোরগ পেখম তুলে নাচিয়া বেড়ায়!

মনমাতানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা ছবি,

তুমি দেখতে পাবে এসো যদি, এই ত্রিপুরায়।


উঁচু নীচু টিলা ভূমি, যেন অনন্য এক ভূস্বামী!

এমন তাঁহার রূপের ছোঁয়া, হীরার চেয়ে ও দামী।

নানান জাতির বসবাস, নানান সংস্কৃতি,

বিবিধের মাঝে আছে বৈচিত্রের গীতি।

রুনা নন্দী

মেঘমায়া

এইতো ছিল ঝাপসা বিকেল 
মেঘের ভিতর বাস
গন্ধ ছিল ভ্যাপসা পোড়া
বজ্র পোড়া ঘাস।
রাতের পর রাত কাটতো
স্বপ্ন মলাট ছেঁড়া
তৃষ্ণা ছিল বৃষ্টি আসুক
নীল সবুজে ভরা।
রাত ফুরিয়ে সকাল এল 
চোখ খুঁজেছে চোখ
কেউ মাপেনি জ্বর কতোটা 
রোদ যেমন ই হোক।
কেউ দেয়নি জানালা খুলে 
আকাশ হওয়া দূরে
গাছ হয়নি তেমন আপন  
পাখির গানের সুরে।
ভালোবাসার সঙ্গে ছিলো
 আপোষ অভিনয়
 আলোর মধ্যে কালোর  যাপন
 হারিয়ে যাওয়ার  ভয়

নন্দিতা দাস চৌধুরী

আলোড়ন সৃষ্টি করে

নির্দ্বিধায়  বলে দিতে  পারি প্রেমের মৃত্যু  নেই,

মরে শুধু প্রেমের  সাক্ষী  প্রেমিক প্রেমিকারা,

মেঘের আড়ালে  ঘাসের অন্তরালে,

প্রেম  থেকে যায় অনন্তকাল  হৃদপিন্ডের তরঙ্গে , 

ভালোবাসার  বর্ণমালায়  লিখে যায় তার জাজ্জল্য কাহিনী,

তবে হ্যাঁ  শরীরের  সবচাইতে সুন্দর অংশ  হলো হৃদয় যেখানে  প্রেমর নিরলস বাস সেই  হৃদয়  যদি নড়বড়ে  দুর্বল  হয় তাহলেই  প্রেম সরে যায় অমাবস্যার  নিঃসীম আঁধারে,

যা নিশ্চিত অবধারিত  তা কখনো বদলায় না, 

প্রেমের দ্বার অবারিত শুধু  বয়ে নিয়ে  যাওয়া আমাদের কাজ,

জীবনভর বহন করে সন্ধ্যায়  পানকৌড়ি  সাদা বক হয়ে ফিরে  যাব আপন আস্তানায়, 

যে শ্রাবণের  আকাঙ্ক্ষায় আমি  কবিতা  লিখি সেই  শ্রবণের প্লাবন  হয়ে তুমি  শুধু  আমার  হৃদয়  ছুঁয়ে যেও,

বৃষ্টির ভিতরেও কিন্তু  একটা  অভিমান  আছে সেও জ্বলে  পুড়ে   চেতনার  অগ্নিময় স্পর্ধার স্পর্ধিত আলোড়ন সৃষ্টি করে। 

নীতা কবি মুখার্জী

ছোটবেলাকার শীত

ছোট্টবেলার শীতের কথা মনে পড়ে বার বার

কতো মজা আর কতো খুনসুটি করে এসেছি পার।

পৌষ আর মাঘ আসে শীত নিয়ে, মিষ্টি আমেজ নিয়ে

সকাল বেলার রোদ পোহানো চাদরটি গায়ে দিয়ে।

বাড়ীর চাষীরা ধান নিয়ে আসে গোরুর গাড়ী বোঝাই

খামার নিকোনো গোবর দিয়ে চলতো সাফ-সাফাই।

নবান্ন হতো আলপনা দিয়ে,কতো যেন পরিপাটী

নতুন চাল আর নতুন গুড়ের পায়েস ভর্তি বাটি।

ছোটাছুটি খেলা, লুকোচুরি খেলা ধানের গাদার পিছনে

কতো মজা ছিলো, আনন্দ ছিলো, বার বার পড়ে মনে।

পৌষালার রান্না করা চাল-ডাল দিয়ে খিঁচুড়ী

তুতো-ভাইবোন একসাথে মিলে বানাতাম ডিমের কারী।

মকর-সিনান, পিঠে পুলি খাওয়া, রোদে বসে ভাত খাওয়া

কচিকাঁচাদের হৈচৈ হতো, ভরতো বাড়ীর দাওয়া।

বাবা-কাকাদের হাত ধরে ধরে মেলা দেখবার ধূম

কেন্দুলী-মেলার ভেঁপু কিনে এনে উড়তো চোখের ঘুম।

দিনরাত্রির বাজাতাম বাঁশী, খেতাম বকুনী যতো

আদরে-শাসনে মিষ্টি-মধুর ভালোবাসা ছিলো কতো!

আজও শীত আসে, পিকনিক হয়, সব ঠিকঠাক হয়

সব কিছু যেন হয়ে গেছে মেকি, শৈশবের মতো নয়।

শ্রীলিম

নির্ভীক কর্মবীর 



মাটির মানুষ আমরা চাষি, 
ক্ষুদ্র আমরা তবু তুচ্ছ ন‌ই, 
আসুক না যত‌ই ঝড়বৃষ্টি, 
কাউকে আমরা করি না ভয়।
পেটে পড়লে টান, পাঞ্জা 
কষে, দাঁতে দাঁত চেপে,
সমানে লড়ে যাই এগিয়ে
আবহাওয়া যাই হোক না।
অন্নদাতা বলো আমাদের, 
বলো কৃষক ভাই, বলো বন্ধু,
ওসব ফাঁকা বুলি আমরাও বুঝি, 
তবুও করি না কর্মে অবহেলা।
খালি পেটে আমরা তবু ফসল ফলাই,
তোমাদের ভরা পেটে তাই আসে গান আর 
ভাই বলে মঞ্চ থেকে করো চিৎকার,
মিথ্যা আশ্বাসে পেষো রাজচক্রের যাতায়।
উপর চালাকি আমরা সব বুঝি,
তবুও আমাদের কর্মের দায় বয়ে চলি।
প্রস্তুতি নিই ঋণের বোঝা ব‌ইবার,
বহুবার ঠকার পর‌ও ঠকতে আর‌‌ও একবার!
x

সহিদুল ইসলাম

তাজা অন্তর 

বাঁধার ঝঞ্ঝা সামনে আসছে তাই,
রুখে দাঁড়ানোর সাহস হৃদয়ে পাই।

লড়ছি বলেই এই শহরে, 
শির উঁচু করে বাঁচার স্পর্ধা পাই।
যতই বালিতে ভরে যাক নদী
দরিয়া-টানে সামনে বয়েই যাই।

গোবর ছড়ানো চলার পথে 
থোকায় থোকায় এখান সেখান। 
সন্তর্পণে এড়িয়ে চলি
মনে স্পন্দিত অগ্র-শ্লোগান।

নিজ ইন্ধনে নিজে বেগবান 
আবার আমাতে আমি মন্হর।
খোদার গড়া পথ আছে শত
এই বিশ্বাসে তাজা অন্তর।

টিটু বনিক

এক মুঠো ধুলো 

সেইদিন অভ‍্যন্তরীন কিছু একটা হলো 

হঠাৎ করে থমকে গেলো 

চারিপ্রান্তে যেন সব ভেঙ্গে গেলো 

বন‍্যা হলো, ঝড়বৃষ্টি আর তুফান।


সেইদিন সেতুর বাঁধন ছিড়ে গেলো,

সমতলে পাহাড়ের আগমন হলো 

সুপ্ত অাগ্নেয়গিরিরা জেগে গেলো 

মহাদেশগুলি আবার বিভক্ত হলো।


সেইদিন জলে আবার পাথর দেখা দিলো,

সরলতা ছেড়ে আঁকাবাঁকা নিলো,

নদীর বুক আগুনে দহন হলো,

আর মোহনার বুকে চিরতরে মিশে গেলো,

সেদিন কিছু একটা হলো।

শৈলেন দাস

খারাপ সময়

দিন রাত শুধু অস্থিরতা করছি।কখন এই দুঃসময় থেকে মুক্তি পাব,এখন আর কিছুই ভালো লাগে না।সমস্ত পৃথিবীটা যেন অন্ধকারছন্ন হয়ে পড়েছে।

এখন সরিলেও আর আনন্দের বাতাস লাগে না।গ্রাম, শহর দুটোই এখন নির্জীব,নিরানন্দ লাগে।

করোনার ভয়ে এখন চার দিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।যে দিকেই যাচ্ছি শুধু নিবিড় অন্ধকার অনুভব করছি।

শৈলেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

দা মশাই ও দা মশাই

দা ' মশাই ও দা ' মশাই , জেগে আছো ? 

সত্যি করে বলো জেগে আছো তো ?

এই অনাথ অনাথাদের দিকে 

তাকিয়ে দেখেছো কি? একটিবার শুধু 

একটিবার তাকাও না,  দ্যাখো না 

ওরা বেঁচে আছে কিনা, বেঁচে থাকার মুরোদ

এখনও ওদের আছে কিনা। 

আমাদের কি মা- বাবা আছে ? 

না ছিল কোনো দিন ?

যদি থেকেই থাকে আমরা মানুষ নই কেন? 

মানুষ হয়েও মানুষ না হলাম কেন? 

অন্যায় করে আর তারও বেশি সয়ে 

পাপের পাহাড় গড়ি। 

আবার তারই আবডালে সুখের বসত করি।

ভুল, বেঁচে বর্তে থাকি।

দা' মশাই তুমি তো আমাদের গুরু ছিলে ।

হাতে ধরে শিখিয়েছো মানুষের মতো 

মানুষ হতে। সৎ , স্বচ্ছ হবার শিক্ষা। 

যে শিক্ষায় আধ-পেটা খেয়ে , কিছু না খেয়ে 

অপরের পাশে দাঁড়ানো যায়। 

মরতে মরতেও প্রতিবাদ ?

আলবৎ তাও করা যায়। 

শুনছো দা' মশাই নিপীড়ন থেকে নিষ্কৃতি নয় ,

পলায়নপরতা নয় ,

তোমার শিক্ষায় শপথ নিয়ে বলতে চাই 

যুদ্ধ দিয়ে যুদ্ধের ঘটাবো পরাজয় ।

একদিন জয় হবে নিশ্চয়। 

বললেই হয় তাই বলতেই হয়। 

সীমা সোম বিশ্বাস

একফালি উষ্ণতা

আজ বৃষ্টি ভেজা শীতের রাতে 
এসো উষ্ণতা দাও  ঢেলে।
একলা আমি  ভাল্লাগেনা
মন খারাপের ডালি।
আজ আলতো আদর ছোঁয়াও
মুখের পরে গায়ের  পরে ।
অধরে অধর স্পর্শ করবে বলে
একফালি উষ্ণতা দাও ঢেলে ।

একলা আকাশ অপেক্ষামান 
বুকের ভেতর লুকোচুরি খেলে।
এক ফালি উষ্ণতা দাও ঢেলে  ।
শীতের রাতে বৃষ্টি ভেজা নগ্ন পায়ে 
লেপের তলে একলা হেঁটে চলা। 
ওলটপালট ভগ্ন  হৃদয় ফুঁড়ে 
যেন সমুদ্র আছড়ে পড়ে!

দেখেছো কি ?
গ্রামবাংলার শীতের ভোরে 
কুয়াশার ধুম্রজাল চিরে 
পূব আকাশে সূর্য রশ্মি
কেমন উঁকিঝুঁকি মারে?
ঘাসের ডগার শিশিরবিন্দু 
কেমন মুক্ত হয়ে ঝরে!
তেমনি  করেই জীবন অপরাহ্ণে
একফালি উষ্ণতা দাও ঢেলে ।
দেখবে তখন যুবতী হয়ে 
মাতাল করতে পারি!
আজ বৃষ্টি পড়ুক বিষন্ন চোখে
বৃষ্টি পড়ুক মনে।
যাক মুছে যাক গ্লানি যত
আসুক  নববসন্ত ফিরে
একফালি উষ্ণতা  দাও ঢেলে।

বিধর্না মজুমদার

পৌষ সংক্রান্তি

এভাবেই হয়তো কেঁটে যাবে কয়েক আলোকবর্ষ। 
কত রাত-দুপুর শীতল চাদরে মুড়ে  থেকে যাবে, 
প্রকৃতি ধোঁয়ার অগোচরে স্বপ্নের পাতা উলটাবে, 
কত পাতিলেবু পচে যাবে 
পরবর্তীতে পূজোর বাসন ধোয়ার কাজে 
অম্লত্ব ছড়াবে পচা পাতি লেবু! 
বাংলার প্রত্যেকটা নারী আলতা পায়ে, 
রঙ রেখে যাবে উঠোনে! 
নুপুরের ছন্দে পাখিরাও উতলা হবে। 
আলপনার আলিঙ্গনে গ্ৰামবাংলা হেসে উঠবে। 
তুমিও ব্রতী, আমিও ব্রতী! 
পৌষ সংক্রান্তির আনন্দঘন ছায়ায়
যোগদেব পিঠে পুলির  মেলায় ! 

সম্রাট শীল

দেহের পরশ নিও না

দেহের পরশ তুমি নিওনা,
মনের পরশটাই নাও।
হাজারো ভালোবাসা রাত জেগেছে,
চুপিসারে ঐ মনের ঘরে।
তবুও দেহের পরশ না পেলে,
তোমার মনটা না ভরে!

দেহের তাপে অনুভব খুঁজো না,
মনের তাপে গলে যাও।
তুমি ভিক্ষুক হও মনের ঝুলি নিয়ে,
প্রেম পরবে ঝাঁপিয়ে।
তোমার মন প্রেমের স্পর্শে,
এক নতুন স্বপ্ন খুঁজবে।

দেহের পরশ তুমি বিক্রি করো,
ঐ ধূলো মাখা কারখানায়।
চুপিসারে হৃদয়ের স্পর্শ পেয়ে,
সেই অনুভূতি ঘুচিয়ে রাখো,
হৃদয়ের কোণায়।
তবুও দেহের পরশ নিও না।।

নীলকণ্ঠ সাহা

প্রিয়তম

দিন ফুরলো প্রহর শেষে -

প্রিয়তম! 

অথচ- বলা হলনা কিছু আজও... 

ভালোবাসি ভালোবাসি ভীষণ রকম 

বলতে চেয়েছি তোমায় সেদিন। 

অথচ- দেখ প্রিয়, সময় গুলো কেমন করে চলে গেল -

কেমন করে যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল! 

কত ফাগুন বসন্তে পথ হেঁটেছি পাশাপাশি...

ডুয়ার্সের স্নিগ্ধ সবুজে তোমাকে দেখেছি -

বেলাশেষের ওই আলোয়। 

তোমার অপলক চোখে হাজার স্বপ্নরেখা -

আর, নিষ্পাপ ঠোঁটের কোনে লাজুক হাসি ..

আমার মন গহীনে আজও ঝড় তোলে। 

অথচ- সেদিন এত কাছে থেকেও বলতে পারিনি তোমায়! 

সময় চক্রের ব্যবধানে, তুমি-আমি হাজার দূরে আজ ... 

তবু- আজও তোমাকেই মনে পড়ে বারেবারে প্রিয়তম ..।

সুমন্ত রবিদাস

নিঃসঙ্গ পাখি

সবকিছু হারিয়ে নিসঃঙ্গ পাখি

মেলেছে ডানা পুনরায় আকাশে,

নতুন করে আবার নতুন উদ্যম নিয়ে

নতুন করে বাঁচার আশায় মেলেছে ডানা।

নতুন ভোরে নতুন দিনের আলোয়।

বুকে তার অসংখ্য বেদনা,

তবু থেমে নেই তার

ডানার রঙিন সঞ্চালনা।

নতুন করে বাঁচার আশায়

দিয়েছে পাড়ি নতুন দিগন্তে।

ধূসর দিনের ছায়া অতিক্রম করে

মেলেছে ডানা নতুন আকাশে।

 

নিঃসঙ্গ পাখি হারিয়েছে সঙ্গী।

তবু নেই থেমে বেদনা নিয়ে বুকে।

আবার নতুন করে বাঁচার আশায়,

উড়েছে আকাশে বুক ভরা আশায়।

কবে আসবে সেই দিন?

যেদিন ভরে উঠবে তার বুক ভরা আশা,

খুঁজে পাবে বুকভরা হৃদয়ের ভাষা,

রয়েছে চেয়ে নিঃসঙ্গ পাখি তার আশায়।

সানী ভট্টাচার্য

প্রেমের প্রকৃতি 

টুপুর- টুপুর  বৃষ্টি পড়ছে

হৃদয়ে প্রেমের বাতি জ্বলছে

কেউ একবার দেখে

যায়না আয়।


আজ সন্ধে - সকাল 

প্রেমে আছে মিষ্টি মায়াজাল

কেউ একবার এসে

হারিয়ে যায়না আয়।


ভালবাসার ছায়ায় না জানি

তকে কেনো খুঁজি 

কেউ একবার 

ধরা দেয়না আয়।


আজ এই নীল আকাশ 

হৃদয়ে আছে প্রেমেরই আভাস

কেউ একবার

হাত - ধর ঘুরে বেড়াই।

দিপেশ দাস

নিরাশায় আজ বাঁচি

একফালি তৃপ্তির টানে শতাধিক মাইল মরুর পথ

অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়েছি আমি ঠিক, 

নোনা জলের ঢেউয়ে ভেসে পাড়ি দিয়েছিলাম 

এক বক্ষ আশার সহিত বহুকাল পূর্বেই ,

বাসনা পূরণ করতে পারেনি আমার নেওয়া সেই

অবাঞ্ছিত পদক্ষেপগুলো, তাই আমি শীর্ণ কুটিরে ব্যাথাময় সুরে নিরাশায় আজ বাঁচি।

নিদ্রাহীন রাত কাঁদে , কাঁদে আঁধার মাখা ঐ অচিন প্রান্তর, আমার পাওয়া এক একটি কষ্টের সাক্ষী হয়ে কেঁদে চলে গহীন অরণ্য , সমবেদনা জানায় নিশাচর বহু প্রানী।

আজ আমি ব্যর্থ এক ক্ষীণতর জীব......

যার নেই কোনো আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, নেই কোনো সাধ-আহ্লাদ , নেই কোনো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ, আশা-ভরসা আজ লালিত্যহীন, তাই বক্ষ পাঁজরে শুধু ব্যাথার সঞ্চার ঘটে, জীর্ণ মনে নিরাশায় আজ বাঁচি।

সুতপা দে

ভালবাসা

তুমি আমার ভোরের ফুল 

তুমি জীবন সাথি।

আমার চোখে  হাজার তারা

তোমায় নিয়ে আমি জীবন -স্বপ্ন আঁকি।

তোমার হাসি সরলতার প্রতীক,

তুমি আলোকিত  করে থেকো আমার জীবনের চারদিক। 

তোমার ভাবনায় ফুলের  সুগন্ধি ছড়ায় মনে,

তোমার ছবি আঁকা আছে হৃদয়ের এক কোনে।

 তুমি যেখানেই থাকবে সাথি,

তোমায় পাই যেনো এই জীবন পথে।

ছন্দা দাম

চাবি

একদিন যখন সব যুদ্ধ শেষ হবে...

এসো, বুঝিয়ে দেবো কতো কি হারিয়েছ...

যখন ছিলে লিপ্ত...দ্বেষ,হিংসায়...

             ফুটেছে ফুল, হেসেছে চাঁদ, ঝরেছে শ্রাবণ , তাকাওনি তুমি শুধু কাঠখড় পুড়ে জ্বেলছো আগুন।

একদিন যখন সব দ্বন্দ্ব শেষ হবে....

এসো, বুঝিয়ে দেবো,কত কি কমে গেল....

ছিলে যুক্তি তর্কের জাল বিস্তারে....

কতদিন,কতপল,কত অনুপল ব্যর্থ গেল,

অনুভবের গভীরের আদিগন্ত সবুজ গ্রাম,

                  শুধুমাত্র তোমারই অন্তর্দহনে পুড়ালো।।


একদিন যখন সব ঘৃণা ফুরাবে....

এসো, বুঝিয়ে দেব,ভালোবেসে কত কি পেতে...

ঘৃণার কাদায় ডুবে শুধুই করেছ কাদা ছোড়াছুড়ি,

ভালোবাসায় কি অপার শান্তি....

          ঘৃণার মহলে হীরা জহরতে শুধু কষ্টের ছড়াছড়ি।।


একদিন যখন সব দরজা হবে বন্ধ...

আপনেদের মিছিল চলে যাবে দূর বহুদূর...

চাওয়া পাওয়ার ইস্তেহারে ভরে যাবে হৃদয় দেয়াল,

ফিরে দেখো.. এখনো কিছু সুতো আছে.... 

                 যারা বাঁধে স্বার্থহীন বন্ধন চিরটা কাল।।


একদিন যখন সব ধর্মে হারাবে বিশ্বাস....

এসো,দেখাবো ধর্ম লুকিয়ে থাকেনা কোন পুঁথিতেই,

মন মন্দিরে  থাকে না কোন পাথুরে ঈশ্বর....

ঈশ্বর লুকিয়ে থাকেন শুধুমাত্র

                               নির্ভেজাল ভালোবাসাতেই।।

সুস্মিতা পাল

চন্দ্র সূর্যের মতো মা বাবা

তারা নক্ষত্রের মেল বন্ধনের এই সৌরজগতে,
চন্দ্রের দ্বারা যেমন রাতের গগন আলোরিত হয়
তেমনি রামধনুর রঙে রাঙানো এই পৃথিবীর,
ভোরের গগনও যেন আলোরিত হয়,
সূর্যের উঁকি দ্বারা।
তবেই যে ঠিক রয় পৃথিবীর গতি সঞ্চালন,
পরস্পরের এই মধুর মেলবন্ধনের দ্বারা।

তেমনি রামধনুর রঙে রাঙানো এই পৃথিবীতে,
মা বাবার একসাথে হাসি মুখখানি
আমার কাছে দেখতে যেনো লাগে,
চন্দ্র-সূর্যের মতো দুজন দুজনার প্রতিছায়া।

পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ কষ্টও যেনো বিলীন হয়ে যায়,
মা বাবার এক সাথের হাসি মুখ ও স্নেহের ছায়া তলায়।
স্বচক্ষে আমি ভগবানকে দেখিনি,
তবে হে, হৃদয়ে অনুভব করেছি অবশ্যই।
তৎসঙ্গে,ভগবান সরূপে রক্ত মাংসে গড়া বাবা মাকেও,
ভগবান রূপে পেয়েছি তাও কিন্তু বটে।

হয়তো কেউ থাকতে বুঝে ,কেউ বা হারিয়ে
এই পৃথিবীতে চন্দ্র সূর্যের আলোর মতো,
মা বাবার এক সাথের স্নেহ ছায়া তলায়,
থাকাটাও যে কতটা সৌভাগ্যের।

গৌতম ভৌমিক

না পাওয়া ভালোবাসা 

কোন এক দূর দূরান্ত অগোছালো পথের ধারে আমি আজ তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। দেখছি, সময় কি এখনো দাঁড়িয়ে আছে নাকি তার নিজস্ব গতিপথ ধরে কলম্বাস হতে গ্যালিলিওর যুগে বিচরণ করছে। আমি এখনও দেখছি কত লোক সেই পথের ধারে এসে দেখছে,
হয়তো আমার দু একটি চুল পাকা ধরেছে 
হয়তো আমার গায়ের রং তামাটে হয়েছে 
হয়তো আমার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়েছে 
একজন অবাক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে 
হয়তো সে ভাবছে আমি পথের ধারে এখনও আছি!
হয়তো সে ভাবছে 
কী! দুঃখ আমি জীবনে পেয়েছি
কী! ব্যথা আমি জীবনে পেয়েছি 
কিন্তু একজন ও আমার কাছে এসে 
দু একবার কথা বলেনি 
এতটি বসন্ত কেন আমি এখানে বসে আছি 
আমার চিৎকার তখনও কেউ শুনতে চায়নি।

সুদেবী চক্রবর্তী

যা মনে আসে

আমার বর আমায় বিরক্ত করে 

ঘুম কেড়ে নেয় , শান্তিটাও। 

কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর 

" লেখো কবিতা লেখো "।

আমি কবিতার 'ক ' ও জানি না। 

সেই ছেলেবেলায় স্কুলে বলেছি। 

শুধু বলার জন্য বলা। ব্যস এইটুকুই। 

জম্মেও লিখিনি , লিখতে পারি না যে। 

ও বলে , মনে যা আসে লেখো

যেমন খুশি লেখো।

সারাদিনের কাজ সামলে টিভি দেখা ।

কবিতা লেখার সময় কোথা? আরে বাবা, 

কবিতা লেখা কি অতো সোজা? 

চাপ বেড়ে যায়। ভালো লাগে না। 

লিখলে ও খুশি হয়। আমিও। 

তাহের আহমেদ লস্কর

ঝরে যাওয়া পাতা 

শুকিয়ে গেলে  

ঝরে পড়ে পাতা,

স্বপ্নের মৃত্যু হলে 

জন্মে কবিতা ।


যত আশা 

       তত কষ্ট, 

দুরাশায় 

      সময় নষ্ট । 


কষ্টের সমুদ্রে ভাসে

জীবনের স্বাদ ,

দূর থেকে সুখ হাসে 

গড়ে নিজ ফাঁদ ।


এ জীবন ভাঙাগড়া 

হতাশাই সার , 

বাজার ভেঙ্গে গেলে 

কে আছে কার ??

গঙ্গা সাহা

ইচ্ছে করে

অনেক সময় খুব ইচ্ছে জাগে মনে,
যদি আমিও হতে পারতাম,
কারোর ভালোবাসার মানুষ।
তাহলে সেও হয়তো আমাকে নিয়ে,
রোজ হাজারো স্বপ্ন বুনতো।
রোজ আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতো।
আর কোনো নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
আমার হাতে হাত রাখতো।
আর কানে কানে বলতো,
এই হাতটা আর ছাড়ছিনা কখনও।
আর রাস্তায় ফুচকার দৌকান গুলোতে-
ভীড় করা যুগলদের মতো,
সেও হয়তো আমাকে নিয়ে ফুচকা খেতো।
আর একটু ঝাল লাগলেই,
আমায় আইসক্রিম কিনে দিতো।

অভিজিৎ দত্ত

মুখোশ 

অসৎ, নীতিবর্জিত মানুষজন 

আজও আছে সমাজে

আমাদের চারপাশে মুখোশ পরে

যখনই মুখোশ যায় সরে

আসল মুখগুলো বেরিয়ে পড়ে।


চারিদিকে শোষণ,বঞ্চনা,দূর্নীতি

প্রকৃত মানুষের খুবই অভাব 

প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি।

গোড়াতেই গলদ আমাদের দেশে

শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি লেগেই আছে।


আমরা যদি হতাম আন্তরিক 

শিশুদের প্রকৃত মানুষ করতে

পাঠ্যপুস্তকগুলি সব তৈরী করতাম

নীত আর আদর্শ দিয়ে।


মহাপুরুষ,স্বাধীনতাসংগ্রামী

কে না জন্মেছে আমাদের দেশে

এদের জীবনকথা কেন

জানবেনা আমাদের শিক্ষাথী'রা

দেশ যাদের সংগ্রামে উজ্জ্বল হয়েছে।


আমরা যদি স্বাধীন হয়ে

নিজের দেশকে ভালো না করি

তবে মিথ্যে এই স্বাধীনতা

এ নিয়ে ভাবতে 

সকলকে অনুরোধ করি।

প্রিতম দাশ

অর্ধ নারীর  আর্তনাদ

হে ঈশ্বর,,
এ কেমন জীবন দিলে,
না মেয়ে না ছেলে।
সবাই মোরে ঘৃন্না করে,
অর্ধনারী হয়েছি বলে।
হে ঈশ্বর,,
তোমার সেই অর্ধনারী রূপকে,
জগত সংসারের সবাই পূজে।
তাহলে আমায় কেন অবহেলা?
আজও কি তোমার চলছে নীরবতা?
হে ঈশ্বর,,
আজ যে মোর নয়নে,
রক্তের অশ্রু ঝরে।
কখনো কখনো নরপিশাচের হাতে পড়ে,
অসহ্য যাতনা সহ্য করতে হয় মোরে।
হে ঈশ্বর,,
আজ আর কিছুই নাই চাওয়ার,
আমি বঞ্চিত, অবহেলিত হয়েছে সব হওয়ার।
দিন রাত আমার একটাই প্রার্থনা,
আমার মতো অর্ধনারীদের সমাজে যেন হয় স্বাধীনতা।

শঙ্খ অধিকারী

প্রিয় ফুলটি

ফুলেরও বয়স বাড়ছে অনিন্দিতা

সময় এসেছে গর্ভ ধারণের

তবু কদমের বনে বনে

বাজে তরুণ কৃষ্ণের বাঁশি

যমুনার জল করে ছল্ ছল্

রাধার নূপুরের দোলায় ।

ফুলের স্তনে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে গেলে

লজ্জাবতী পাতার মতন

যেন বুজে দিওনা নয়ন ! 

যেহেতু বয়স বেড়ে গেছে

তোমার মতন প্রিয় ফুলটির ।

সুপ্রতিম ভৌমিক

নারী, তুমি জাগো

নারী,

তুমি অনাদিকাল হতে

দেবী প্রতিমার প্রতীক,

মাতৃস্বরূপা, সৃষ্টি স্বরূপীনি,

জগত কল্যাণকারিনী ।


তবে দিকে দিকে আজ

কেন নারী,

লাঞ্ছিতা, অপমানিতা,

খর্ব হচ্ছে নারীর শালীনতা ?

অশালীন অরাজকতা,

অমর্যাদা আর

অত্যাচারের শিকার,

সমাজে উপেক্ষিতা,

ধর্ষিতা, কলঙ্কিতা ।


তা' কি কখনো 

ভেবে দেখেছো, নারী ?

কেনই বা হবে তুমি

জগতে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের,

অবমাননার পাত্রী ?

আপন স্বত্তা, সততা

আর অনিন্দ্য সুন্দর চারিত্রিক

গুণসম্পন্না তুমি,

ত্রিভুবনে যুগে যুগে

দেবী স্বরূপা,

সুর-নর বন্দিতা,

মানব কর্তৃক পূজিতা ।


আপন স্বত্তায় নিজেকে

অব্যাহত রেখে,

নারী, এবার তুমি জাগো,

অন্তরাত্মাকে জাগিয়ে তোলো,

বিশ্ববীণায় অশুভনাশিনী আগমনী সুরে ;

রুখে দাঁড়াও অসত্য নাশিতে,

শত্রুদমনের তরে,

সর্বমঙ্গলরূপীনি সজ্জায়,

মঙ্গল প্রহরণ হস্তে ।

ইন্দিরা গাঙ্গুলি

শীত সকাল 

শীত সকালের সূর্য দেব 

আরামদায়ক হয়ে ওঠে 

সকাল বেলা চান টি করে 

বারান্দায় গিয়ে রোদ পোয়াতে বসি 

খুব ভালো লাগে সূর্য দেবের পরশ 

গরম কালে এই পরশ ই 

অসহ্য হয়ে ওঠে 

শীতকালে সকালে 

রোদের পরশ গায়ে 

মাখতে ভালো লাগে 

শীত সকালে লেপ, কম্বল 

ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না মোটেই 

সোয়েটার, চাদর, টুপি, মোজা 

পরে মনিং ওয়াক করতে ভালো লাগে 

সূর্যের রোদ গায়ে মেখে 

হাটি মাইল এর পর মাইল 

কোনো কষ্ট হয় না পথে 

শীতের সকাল মানেই 

একটা শীতল হিমেল 

হাওয়ায় পরশ 

শীত সকাল মানেই 

এক কাপ কফি হাতে 

ঝুল বারান্দায় বসা 

কোথা দিয়ে যে সময় 

চলে যায় বুঝতে পারি না 

শীত সকাল বেলা।

Dec 23, 2021

রূপশ্রী চক্রবর্তী

স্থির লক্ষ্য 

থমকে দাঁড়ায় জীবন যখন

স্তব্ধ হয় গতি ,

আশার আলো জাগাও প্রাণে 

কাজে দাও মতি l

জেতা হারা, ভাঙা গড়া 

এ দুনিয়ার রীতিনীতি ,

অসীম সাহসে যাও এগিয়ে 

গুড়িয়ে দিয়ে রাজনীতি l 

চলার পথে শতেক বাঁধা 

দিতে হবে পাড়ি ,

মনের বলে সুকৌশলে 

ছুটে চল তাড়াতাড়ি l

ভয়কে আমরা করবো জয় 

সত্যের পথে চলে ,

একসাথে পথ চলবো মোরা 

লড়বো সদল বলে l

আসে আসুক ঝড় তুফান 

সুনামি কিংবা মহাপ্রলয় ,

বিনা যুদ্ধে কভু মোরা 

মানবো নাকো পরাজয় l

দুষ্ট মতি লঙ্কাধিপতি 

করে সীতা হরণ ,

সুবর্ণ লঙ্কা পুড়ে ছাই 

নিমিত্ত রাবণ l

শকুনী মামা কংস রাজ 

লোভ লালসা প্রতিহিংসা  ,

কুরু বংশ ধ্বংস করলো 

সর্বনাশা ঐ পাশা l

ন্যায় নিষ্ঠ পঞ্চপাণ্ডব 

সত্যবাদী যুধিষ্ঠির ,

স্বয়ং কৃষ্ণ সহায় যার 

ন্যায় পথে লক্ষ্য স্থির l

কাজী নিনারা বেগম

মৃত্তিকা জঠরে গোজুম্পার তাগিদে

অপেক্ষারা  আজ রাতের  ট্রেন সেই অচেনা মুখে র মূখোশে। 
কেউ আসবে জীবন পরিধি বিস্তৃত গাছের শিকড় উপড়ে ফেলে যেতে। 
কেউ ইচ্ছে ঘুড়ি কে ছৈলা বানিয়ে ছিড়ে ফেলবে, আবার কেউ দাড়ি য়ে আছে বটবৃক্ষের ন্যায়  কংক্রিটের শহরে, 
উচুঁ দালান কোঠায় দাড়িয়ে শেকড়ধারী গাছের গোড়ার দিক মৃত্তিকা জঠরে গোজুম্পার তাগিদে। 
ভিষন অন্ধকার মিট মিটে অসহায় আলোয় দাড়িয়ে এক ক্লান্ত পথিক।
ঘাত প্রতি ঘাতের দগ্ধ হৃদয় অশরীরী দেহে,
মনের  মণিকোঠায় নীরব স্মৃতি সীম্মফনি যেন সমুদ্রেরজ নোনা জলে পুষ্ট। 
পথিক  আবারও একবার ফিরে তাকাও না
নীরস পদধ্বনি দাপটে।
পৃথিবীর উলঙ্গ ধরার কোলে কত যন্ত্র না কত চিৎকার  কতিপয় হ্ঁংকার।
অনবরত হানাদার বাহিনীর খোচাখুচি রক্তাক্ত ধরণীর কোঠার আঘাতে ভুরভুর করা লাশের গন্ধে চারিদিক উন্মাদ আত্মগোপন করেছে বিমুর্ত পথিক।

অশোক মণ্ডল

অর্থ 

শব্দেরা একজোট হয়ে ভালোবাসা করে তৈরি

ভালো বাসা না পেলে ভালোবাসা শুরু করে বৈরি।

অর্থের আলো ভালোবাসাকে করে আরো ভালো 

অভাবের আলিঙ্গনে হাসিমুখ হয় যেন কালো।

বড় মানুষের তকমা পাওয়া যায় এর জোরে 

হাজারো মানুষের সমাগম ভালো বাসার ঘরে।

ভালোবাসা ধরা দেবে আদরে আপ্যায়নে 

থাকলে অর্থ নেবে খোঁজ খবর প্রতি জনে জনে।

কল্যাণ দাস

অবুঝ মন

যে হাওয়ার আঁচল ধরে,
পথের ধূলা যায় যে উড়ে ঐ সুদূরে;
তারা কি মিলবে আবার ফিরে এসে,
পথের ধূলায় বৃষ্টি শেষে?
তরুর ঐ লাল গোলাপি ফুলেরা সব,
শুষ্ক হয়ে যখনই হয় বৃন্ত হারা;
কাঁদে কি ফুলের মায়ায় বৃন্ত খানা,
তরুর সাথে কেউ জানে না।
যে পাখি বাঁধন হারা!
উড়তে ও তার নেই যে মানা;
বোঝেও কেউ বোঝেনা,
পাখনা ছাড়া কেমন করে মেলবে ডানা?
যে হাসি ক্লান্তি ঘুচায়,
আড়াল থেকে কান্নাকে যে দেয় পাহারা;
সে হাসি হীরার চেয়েও অধিক দামী,
বুঝতে না পায় মন বেচারা।
যে চোখে দিনে রাতে,
স্বপ্নেরা যায় ভির জমিয়ে আড্ডা দিতে;
তারা কি বুঝেছিল চোখের নেশা,
কোন স্বপনের কল্পনাতে?
যে হৃদয় ক্ষণে ক্ষণে প্রহর গুনে,
মিথ্যে প্রেমের বোনে স্বপন;
সে কি হায়! মন বিনিময় পর্বে
তখন বুঝেছিল এমন প্রেমে পড়া বারণ।
যে জীবন একবার পেয়ে হারায় মানুষ,
মিথ্যে মায়ার বিরাট ভ্রমে;
রয়ে যায় স্মৃতি ও তার নিষ্প্রাণ ঐ ছবিখানা,
একটি মালায় বন্দি ফ্রেমে।
আজও হায় যখনই চাই রং সাজাতে,
নতুন করে ছিন্ন মনের ক্যানভাসেতে;
বিবাগি মনটা আমার আজও শুধু তাকেই খোঁজে,
আঁধার রাতের ব্যালকনিতে।

সায়ন পাল

অসমাপ্ত ভালোবাসা

আমার স্বপ্নগুলোকে তুমি যে প্রাণ দিয়েছিলেন,

এখনো তো মরেও মরে নি,

ডায়েরীর প্রথম পাতাটা সাজলেও

শেষের পাতা টা তো সেজেও সাজেনি।


শেষের দিন টা এখনো তো হাতছানি দেয়,

সেই হালকা কুয়াশা সিক্ত ছাতা হাতে আমি।

তোমার থেকে তো শুধু এসেছিল গুডবাই!

ভালোবাসা অমর!  তাতো জানি।


এখনো তো সন্ধ্যায় টিউশন সেরে বাড়ি আসি,

সব্বাই তো আছে! আছ কি তুমি পাশে?


স্বপ্ন দিয়ে সাজালে মন, স্বপ্ন দিয়েই ভাঙলো

বাঁশি গোলাপটা এখনো কলমের ঝুড়ি তে রয়েছে আশায়!

ভালো সেজে বাসায় বাসায় ভিক্ষা করে ভালোবাসা,

এত সুখ কেন এই ভালবাসায় !!!!

আব্দুল রহিম

বন্ধন

মৃত্যু কে ভয় পায়না, 
নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দেখছি, রক্তে-মাংসে গড়া শরীর পুড়ে ছাই হতে ,
দুঃখ নেই,
যা দুঃখ ছিল গুলে খেয়েছি  জলের সাথে,
একটা ফাঁকা বারন্দা আছে আমার  বুকের পাঁজরে 
সেখানে আশ্রয় নিয়েছে পৃথিবীর  সমস্ত মানুষ 
একটা ভালোবাসার ঘর বেঁধেছে তারা
আমি মৃত্যু কে ভয় পায়না
শুধু ভাবি তাদের কি হবে।।

অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

 পুরুষ

পুরুষ তুমি বড়োই কঠোর পাথুরে তোমার মন। 

পুরুষ তোমার কর্ম জীবনে সহিষ্ণুতার আলাপন।। 

পুরুষ তুমি রাখতে গিয়ে ভালোবাসার মান। 

বেয়ে চলেছ কষ্টের নদী স্রোতে প্রবাহমান।। 

পুরুষ তোমায় বলছে যারা তুমি হৃদয়হীন। 

তাদের বলো বিশ্ব জুড়ে রয়েছে তোমার ঋণ।। 

অসাধ্যকে সাধন করা তোমার জীবন ব্রত। 

কত ললনা পাগল তোমার প্রেমে অবিরত।। 

গগন জুড়া স্নপ্ন তোমার সৃষ্টি রাশি রাশি । 

কত শত বীর হয়েছে মহান যুদ্ধের ভেলায় ভাসি।। 

পুরুষ তোমার জীবন পথে কন্টক রাশি রাশি। 

রুদ্র  তান্ডব মুখে তোমার মধুমাধা হাসি । 

রঙ্গবতী ললনা সব রয়েছে তোমায় ঘিরে। 

পৌরুষত্ব হারাওনি তুমি মোহ মায়ার ভীড়ে।। 

জগৎজুড়ে শুনি তোমার জয় জয় গীত। 

কঠোর সত্যের সম্মুখীন হয়ে হাসিল করেছ জিত।। 

বিশ্বজীৎ রায়

কালবৈশাখী ঝড়

চৈত্র মাসের শেষ দিকে পশ্চিমের আকাশে, 

দেখা গেলো একটি মেঘ লম্বা হয়ে আছে। 

কিছুক্ষণ পরেই যখন আবহাওয়া দপ্তর, 

বলে দিলো আজ হবে কালবৈশাখী ঝড়। 

সন্ধ্যাবেলায় কালবৈশাখী এমনভাবে এলো, 

মুহূর্তেই কিছু গাছ গাছালি, মড়মড় করে ভেঙে গেলো।


চৈত্র মাসের শেষে আসে কালবৈশাখী ঝড়, 

তার সাথে সাথে শুরু হলো মেঘের গড় গড়। 

কি ঝড় বাতাস শুরু হলো, এই সন্ধ্যা বেলাতে, 

ভেবেছিলাম যাবো আজ,  চড়ক মেলাতে। 


এ কেমন ঝড় এলো, এই  চৈত্র মাসের শেষে, 

সারা দুনিয়াটা গেলো যেনো, নদীর জলে ভেসে ।

দীপু রায়

শীত কাব্য

ঋতু চক্রের আবর্তনে আগমন ঘটে

শীত রানির, 

সহচরী তার কুয়াশা আর হিমানী।

প্রকৃতি দেবীর মনটাও যেন হয় উদার,

নানা আনাজে ভরে ওঠে ক্ষেত খামার।

আনন্দে মাতোয়ারা নাগরিক জীবন,

করে আনন্দ উৎসবের আয়োজন।

পৌষ পার্বনের পিঠা হয় আরো মিঠা,

সাথে নলেন গুড়ের সন্দেশ, আহাঃ।

সবুজ প্রকৃতির কোলে চড়ুই ভাতি।


কিন্তু হায়! শীতের পরশ কারো কাছে আদর,

কিন্তু কারো কাছে যে তা শীতের ছোবল।

খোঁজ নিয়ে দেখ, একখন্ড শীত বস্ত্রের করুন আর্তি অভাবির ঘরে, ভবঘুরে পথচারির।

পারলে তুমিও তোমার আনন্দের ভাগ দিও তাকে।

জানোই তো, "দুঃখ ভাগ করলে কমে, আর সুখ ভাগ করলে বাড়ে।"

রুপালী রয়

সাজ বেলা

খোলা আকাশের নীচে 

একরাশ চন্দ্রিমার আলোয় ,

মিশে গেছে আমার নিস্তব্ধ দুঃখগুলো ।

ক্লান্ত দুপুরে 

মুখে দাগ কেটে যায়,

বহু যুগের অপেক্ষার 

খর ধারা ।

ছন্নছাড়া কবিতার ছন্দ 

দু-পশলা মেঘ, অনবরত 

লুকোচুরি খেলা যায় 

চোখের পাতায় ।

খানিক বিরতির পর 

শেষ পাতা জুড়ে শুধুই শূন্যতা ।

রাত জেগে আগে 

বালিশের গায়ে মুখ ঘেঁষে ,

আজ রজনীর পরে 

জেগে উঠুক নতুন প্রভাত রবি ।

এক ঝাঁক দুরন্ত মেঘ ,

পক্ষীর মতো সুর করে 

ছুঁটে ছুঁটে যায় আমার অন্তর 

নিখিলের পাশ কেটে ।

আর নয় ,,,

জনশূন্য হিমবাহ পর্বত শিখর ।

বন্যার জলে ধোয়ে  যাক 

একরাশ মৃত্যুর আওয়াজ ।

বেঁচে থাকুক পৃথিবী ।

টানটান রোদ্দুরে , গা ভাসিয়ে দিয়ে 

শুয়ে থাকুক শান্ত শিশু 

মায়ের কোলে ।

স্বপন দেবনাথ

ভিন্ন জীব 

দিন রাত ভর চলে ওরা 

করে না কাউকে মাপ।

চোখের সামনে দেখলে বলি 

কত বড় সাপ!


ঘাস, লতা - পাতা খায় ওরা 

গায়ে ডোরা ডোরা। 

দেখতে বেশ ভালোই লাগে 

জেব্রা নামে জানি মোরা।।


কা - কা করে ডাকে ওরা 

দেখতে লাগে বেশ। 

বর্তমানে যায় না দেখা 

হয়ে যাচ্ছে নিঃশেষ।।


মরুভূমির জাহাজ আমার 

বলি থাকি যাকে।

কুঁজ বিশিষ্ট হলেও আমরা 

উট বলি তাকে।।

Dec 22, 2021

ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল

মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে

মহান মৃত্যু এসে ধূসর রঙের শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বাসভঙ্গের অপমান লাঞ্ছনা। শরীরটা শূন্যে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে 

স্বপ্নের জাল বুনে ছিল -----

একটা ছোট্ট সংসার সুখ-সমৃদ্ধির।

জাল বুনে ছিল নয় বুনতে শিখিয়েওছিল 

বলেছিল -  "উই আর মেড ফর ইচ আদার"।

আবেগে ,আবেশে নিঃশেষ করে 

উজাড় করে দিয়েছিল  -

ভেবেছিলো এই রাস্তার সবটাই মসৃণ 

পথটুকু হেঁটে গেলেই 

সেই স্বপ্নের নীড় 

যেখানে কেবল পূর্ণিমার নরম আলো।


ক্রমশঃ মিথ্যে হয়ে যাওয়া 

ভালোবাসার গ্যাস বেলুনটা 

এত উপরে নিয়ে গেল 

যেখান থেকে নামতেই পারলোনা" রেখা"

মৌমিতা ঘোষ (সেনগুপ্ত)

দণ্ডিত

ওরা আজ এসে বলে গেল অবশেষে

মৃত্যুদণ্ড পাবে তুমি আজকেই

যে অশ্রুভারে ফুলে উঠেছিল বুক

সহসা শুকালো-- কান্নাও  বুঝি নেই!


নির্জন কারা---রাতের আকাশ চুপ

পূর্ণিমা চাঁদ চেয়ে আছে ম্রিয়মাণ

আর শয়তান যেন অলক্ষ্যে গায়--

আজই অনাথ হবে ওর সন্তান!

প্রীতম চক্রবর্তী

মর্যাদা

পথিক জানে সেই পথের মর্ম,

যে পথে সে হেঁটেছে রোজ।

নিবিড় ছায়ায় ক্লান্তি গেছে যার,

সেই রাখে বৃক্ষতলার খোঁজ।


শীতল বরফে বেঁচে আছে যে,

সূর্য তার কাছে দেবতা সমান।

উষ্ণ মরুতে জীবন কাটে যার,

সেই তো জানে বৃষ্টির সম্মান।


অনাথ শিশুটিই বুঝতে পারে,

মাতা-পিতা কী পরম ধন।

বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েও ছেলে,

বোঝেনা সে যে হয়েছে নির্ধন।


শিক্ষার মর্ম তখন বোঝা যায়,

যখন অপমান হয় অশিক্ষার দরুন।

চোর জেলে গিয়েই বুঝতে পারে,

মানুষ হলে অবস্থা হতোনা করুন।


গগনচুম্বী পাহাড় জানে না,

গভীর সমুদ্রে আছে বড়ো খাত।

অন্ধকারে ডুবে আছে যে,

সে বোঝেনা আলোর স্বাদ।


বৃক্ষহীন শহর জানে,

বৃক্ষের আছে কতোটা গুণ।

উত্তাল সমুদ্রে নাস্তিকেও,

ঈশ্বরের নাম করে গুনগুন।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)

অভিমান

একবুক ভরা অভিমান নিয়ে 
দূরে থাকার অবিচল প্রয়াস,
দিগন্ত জুড়ে দুখের সামিয়ানা 
বিছিয়ে রেখেছে আকাশ।।
অন্তহীন ব‍্যথায় দূরত্ব শুধু বাড়ে
স্থবির সম্পর্কে শ‍্যাওলা জমে,
মন্দ্র বিস্মৃতির পলেস্তারায়
অনুভূতিগুলো ঢেকে যায় ।।
আগামীর দিন অদেখা, অজানা
মৃত্যু চিরন্তন করে আনাগোনা,
যেতে হবে সব বৈভব ছেড়ে 
ভালো-মন্দের খেলা খেলে।।
কি হবে আর অভিমান পুষে
একাকী দুখের সায়রে ভেসে?
তার চেয়ে ভালো ভুলে থাকা
ভালো থাকার জন‍্য বাঁচা।।
দোষ ঢাকা থাক গুণের আঁচলে
ছাপিয়ে আসুক নতুন আনন্দে
বুনন কাঠিতে ভালোবাসা অবিরাম 
ভেসে যাক মিছিমিছি অভিমান।।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

শপথচ্যুতি

আঁটোসাঁটো রোদ্দূর ছুঁয়ে শপথের বাণ

কতবার ছুঁড়েছি নিজস্ব প্রতিভাবলে,

বিষ্মিত নাভিমূলে হাত রেখে কতকাল

কতভাবে গেয়েছি ক্যারোল,

সবকিছু ছেড়ে নাতিদীর্ঘ ছায়াপথে

কাঁদো কাঁদো সুরে খুঁজি, খুঁজে চলি

আমার মহার্ঘ ঠিকানা।


ওলট-পালট মন্দ বাথানে পাই ঠাঁইটুকু

শেষকালে অনেক কষ্টেসৃষ্টে,

এখনো জানি না কিসে ছিল ভেজাল-রমরমা

অথবা কেন পারি নি পাখীর চোখ বিঁধতে?

শাহাদত হোসেন

অনুভূতির মৃত্যু নেই

পৃথিবীর বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি 
মৃত্যুর অনুভূতিতে
কাঁচা সূর্যের ত্রিমুখী স্বপ্নের কোণে 
নেই হাসি-কান্না , বিরহ-বেদনা ,সুখ-দুঃখ
গরম -শীত অনুভবে শুধু 
না যায় ছোঁয়া, না যায় স্পর্শ করা।
কেবলি অদৃশ্যের যন্ত্রণার নীলনদ 
অবহেলার এক নষ্ট বাগানে,
কষ্টে ফোঁটা মধ্যবিত্তের ফুল।

জলাঞ্জলির কংক্রিটের প্রলেপে ঢেকে গেছে পুরো আকাশ 
কখনো নীল, লাল,সাদা, বেগুনি, জাম কালো 
এ যে, একেকটা দৃশ্যকাব্য 
শিল্পীর সুর 
কবিতার বর্ণ। 
শুনে যাও, দেখে যাও
শঙ্খের তরী, রঙিন ঘুড়ি 
জলশূন্য নিরুপায়, বাতাস শূন্যে কমে যায় বড়াই
মাটির পুতুল 
হয়েছে ভুল। 
এলোপাতাড়ি কথার গুলি, 
কেড়ে নেয় শান্তি শৃঙ্খলা 
রহস্যের বেলা অবেলা।

Dec 21, 2021

অভিষেক অধিকারী

স্মৃতি পথের খেলা বনাম একটা নোটবুক

প্রেমের কিনারা ধরে হেঁটে যাওয়া স্মৃতিগুলো বড়ই অভিমান করেছে,

ওদের টুকড়ো টুকড়ো ভাষাটা আজও পড়তে পারে না 

আমার ছেলেবেলার প্রথম প্রেম।

স্কুলের ক্লাশরুমের একপাশে ওর কাফকা পড়া চাউনি 

দেখে আমার মনে হত প্রেমের ভাষাটা ও হয়তো জানে।

ও জানে সভ‍্যতার নিষ্পেশনে কিভাবে ঢাকা পড়ে গেছে

নরনারীর আদিম প্রেম। আজ সে যেন পরাজিত জগৎ,পরাজিত জগতের কোন ভাষা হয়না, ইতিহাস হয় না।

কিন্তু ও যেন সেই অপ্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস পড়তে পারে।

ওর চেষ্টা ছিল মহৎ কিন্তু গোড়ায় ছিল বস্তুবাদী মনযোগ, 

আসলে প্রেমকে ও ভাষা দিয়ে ধরতে গেল,

স্মৃতিগুলো তাই নোটবুকে তালাবন্দী হয়েই পড়ে থাকল।

আজ বহু বছর পর,

আমি ওদের মুক্তি দিয়েছি, ওরা আবার হেঁটে চলেছে, নতুন কোন প্রেমের নীরব ইতিহাসের সন্ধানে।

শিবাশীষ মিত্র

ডিজিটাল 

মোরা হায়! হাতে পায় 
স্বসহায় ডিজিটাল। 
মুঠো ফোনে মুখগুঁজি 
চেয়ে থাকি ফ্যালফ্যাল।।
নির্ঘাত দিনরাত 
দুই হাত ব্যস্ত। 
অলসতা ঘুচে মুছে 
 কর্মেতে ন্যস্ত।।
মাতি না বাতির সাথে,
নিভুক আর জ্বলুক। 
হাওয়াতেও নেই মোরা,
যে যাই বলে বলুক।।
সব দেখি রঙ মাখি 
ঢং রচি না দেখার। 
কবিরাজি কবি সাজি 
সপথ নিই না লেখার।।
গোলেমালে ভুলেভালে 
লিখি যদি সত্য।
চারি ধারে ঘিরে ধরে 
করে রাখে ব্রাত্য !
সমুখে কুরুক্ষেত্র 
সবাই আজ পার্থ। 
কে হবে ব্রজের কানাই 
খোঁজে সবে স্বার্থ।।
চেয়ে-পেয়ে খেয়ে-দেয়ে 
বধির হয়ে চোখ মুদি।
মুখ খুলে কিছু বলে 
যাত ভাত যায় যদি!

আব্দুল গফফার

বোকা বাক্স তুমি বিরাম নাও

ডেস্কের উপর ঠায় বসে আছ,
পিকচার টিউবের বাক্স তুমি -
বিজলির সংস্পর্শে উন্মোচিত হও,
সংবাদ থেকে নানান ধারাবাহিক।

বোকা বাক্সের কলঙ্ক ঘুচিয়ে,
আদরের টেলিভিশন তুমি -
লহমায় সচল করে দিতে পার,
অসাধারণ তোমার ভিশন টনিক ।

সত্যিই কি তুমি বোকা বাক্স?
তোমার আঁধারে সঞ্চিত আছে -
জীবন বৈচিত্র্যের কত কাহিনী,
প্রতিনিয়ত প্রচার কর নব্য সূচি।

পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়,
তোমার দৌলতে তুমিই শ্রেষ্ঠ -
একটা সুইচে বাজিমাত, 
রিমোটের ইশারায় কত চ্যানেল।

তোমায় যতই বলি বোকা বাক্স,
বিবর্তনও ছবির মতো পরিষ্কার।
বুস্টার অ্যান্টেনা দিয়ে শুরু -
কেবল্ তার, ক্রমে ছাতারূপী ডিশ।

বোকা বাক্স ঠাঁই নিয়েছ এখন তুমি,
ঘরদেওয়ালে,হারিয়ে গেছে ডেস্ক -
এল সি ডি, এইচ ডি কত নামে,
হয়েছো সাদাকালো থেকে স্মার্ট।

আজ আর তুমি বোকা বাক্স নও,
কলঙ্ক ঘুচিয়ে হয়েছ আপডেট-
তোমার মতই বোকা থেকে, 
হয়েছি মোরা স্মার্ট ও ভারী চতুর।

সংবাদ,সিরিয়াল,কাহিনীগুলো ,
এখন মুঠোফোন আর ল্যাপটপে -
লঘু করেছ তোমার বুখখানি,
বোকা বাক্স এবার বিরাম নাও।

সৌরভ দেবনাথ

নব সৃষ্টি

যখন আমার শব্দ সাথী 
নতুন শিক্ষা দিয়ে যায় 
তখন আমার কলম সাথি 
সে গুলোকে লিখতে চায়,
সৃষ্টি নব সৃষ্টি আমি এভাবেই করতে চাই।

যখন আমার সময় সাথী 
দেয় আমাকে শুধুই ফাঁকি 
উদ্বিগ্ন হয়ে যাই তোমায় যদি ধরি।

যখন সময় পেরিয়ে যায় 
বসে না থাকো তুমি 
নির্জন কোন পরিবেশে লিখতে থাকো তুমি শুধু লিখতে থাকো তুমি,
সৃষ্টি নব সৃষ্টি তুমি এভাবেই করবে ভাই।

যখন এ মনে প্রশ্ন জাগে 
এলোমেলো সব চারিদিকে 
নানান বইয়ে খুঁজতে থাকি 
তার উত্তর কি মেলে!

যখন আমি রাত জেগে 
লিখি শুধু তোমার নামে 
কত কবিতা আজও আছে তোমার উপহারে,
সৃষ্টি নব সৃষ্টি আমি এভাবেই করতে চাই।

যখন আমার ভালবাসা 
শব্দ গুলোকে নিয়েই আশা 
শব্দে শব্দে লিখব আমি মানুষের ভালবাসা,
সৃষ্টি নব সৃষ্টি আমি এভাবেই করতে চাই।।

শুক্লা চক্রবর্তী

আমি তোদের প্রভু যীশু খ্রিস্ট..... 

আমি যিশু খ্রিস্ট, আমি-ই যে তোদের ইষ্ট। 

তবে কেনো করিস রে এতো হানাহানি, 

হিন্দু মুসলিম খ্রিস্ট বৌদ্ধ তোরা যে সব আমার হাতেই সৃষ্ট। 

জল ওয়াটার পানি সব-ই তো এক,

তবে কেনো করিস রে এতো ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি। 

আজ আছিস কাল যে হবি অতীত,

তার কী তোদের আছে কিছু খবর

খালি ধর্ম ধর্ম করে করিস শুধু শুধু গর্ব। 

সর্ব ধর্ম-ই যে আমি, 

দেখার মতো দেখরে তোরা পাবি মোরে সবকিছু তে। 

আমি মাতা আমি পিতা আমি-ই ভ্রাতা, 

ডাকার মতো ডাকরে আমায়

কেটে যাবে তোদের সমস্ত বাধা।

পাপিয়া দাস

জীবন রথ

পাপিয়া দাস,মেলাঘর।ত্রিপুরা।

অগভীর  নীল সাগর,

অশেষ নীলাকাশ,

মলিন নির্মল  অদৃশ‍্য বাতাস,

আর গগনচুম্বী পাহাড়।


এর মাঝেই  জগৎ বিরাট 

চলছে চলমান গতিতে।

বিশ্ববাসী সবাই মিলে

চালিয়ে   নিচ্ছে  বিশ্বরথের চাকাকে।


সবাই  মিলে টানছে রথ

আপন শক্তি  দিয়ে।

কেউ রথ টানতে টানতে চলে যাচ্ছে  ছেড়ে,

কেউবা আবার  শূন‍্য জায়গার হাল এসে ধরে।


রথের  বোঝা বইতে সবাই  পারেনা'রে চিরকাল।

ছেড়ে  যেতে হয় সবাইকে  একদিন 

এই মহামূল‍্য জীবনের হাল।


কেউবা টাকার জোরে,কেউবা বলে,

টানছে রে ভাই রথ।

জীবনের সব শ্রম দিয়ে

পরিষ্কার  রাখছে রথপথ।

অঙ্কুর সাহা

বন্ধুত্ব 

ঈশ্বর যাকে দিয়েছে বানিয়ে

আসল হীরের দর্পণ ছানিয়ে,

যার কাছে সকল ব্যথা হার মানায়

হৃদের পাখি যেথায় উড়তে চায়,

যার শব্দে টেনশন দূরে ভাগে

যে আপদে থাকে সবার আগে

মন ভোলনো কথা যার

সে আর কেউ নই বন্ধু আমার

সোনার খুশি ভরেছে ঝুলিতে

বন্ধুত্বের সে স্মৃতির বুলিতে

আদর আবদার সে দুষ্টু হাসি

শেষে সে খেলা রাশি রাশি

স্কুলের গল্প মুখের কথা সেই

যেখানের সম্পর্কে বাঁধ কোনো নেই

যা কৃষ্ণ সুদামার মতো কাহিনী

যা বন্ধুত্বের ভালোবাসার বাহিনী

সবার প্রিয় সে মানুষখানি

বন্ধু নয় ভাই বলে তাকে আমি চিনি।