Feb 21, 2022

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

শাড়ি

যুদ্ধ আর শান্তির মাঝে থাকে যোজনভূমির ফারাক
তবুও যুদ্ধকে আটকাতে শান্তির মিছিল হয় ।
শান্তি আসবে বলেই রমণীরা কবরী বাঁধে। 

মায়াবি চোখে প্রিয়মানুষকে দেখে ।
বিশ্বাস ঘিরে থাকে পৌরুষকুটির ।

অথছ মহাযুদ্ধের আগে যুদ্ধশিবিরে পাশাখেলার ভড়ং হয়।
যারা মুরুব্বিগোছের তারা সবাই আফিমের মৌতাতে
ডুবে যেতেই নিরাপদ মনে করেন ।

এদিকে কৌশলের প‍্যাঁচে কপট খেলায়
হারে নির্বিষ সাপের দল ।বিশ্বাসভূমির ভিত ভেঙে দিয়ে নকল পুরুষেরা
অনায়াসে প্রিয়তমা নাগিনীকে 
বন্ধক রেখে আসে পাশাদরবারে ।

উল্লাসমঞ্চের আড়ালে একমাত্র কেশব তো প্রস্তুত থাকেন 
অসহায় দ্রৌপদীর জন‍্যে শাড়ি হাতে ।

একারণেই সত‍্য জিতে যায় অনন্তকাল ।

তৈমুর খান

১. শাশ্বতকথা

মৃদু স্বপ্নে আছি 
মৃদু ভোর হলে জেগে উঠব 
মানুষ চিরদিন অসভ্য থেকে গেল 
সভ্যতা দখল করল রাজনৈতিক জন্তুরা 

পর্দার আড়ালে আছি 
ব্যাভিচার ব্যাভিচারিনী নিয়ে সংসার 
সাধ্যমতন ওরা সবাই ভালো মানুষ 
অন্ধকার পেলে মাঝে মাঝে নগ্ন হয় 

বিষ ও অমৃতের দোকানে গিয়ে বসি 
দোকান চালায় মধু আর নিম 
দেখতে সুন্দর বেশ নারী ও পুরুষ 
যার যা সাধ্যমতো কেনে —কান্না ও হাসিটুকু ফ্রি 

রাতের চাঁদের কণা বুকে এসে নামে 
আমরা সবাই চাঁদ খুঁজি শরীরের গানে 
যদিও পাহাড় অরণ্য হ্রদ মরুর সঞ্চার 
দেহ মনে রিপু খেলে অসম্ভব প্রলয় প্রহর 

২. এ জন্ম মোচন হয় 

এ জন্ম মোচন করতে এসে 
শুধু অসন্তোষ বারুদে পুড়ি 
কে এত পোড়ায় আমাকে? 
জীবন যদিও দাতব্য চিকিৎসালয় 
মন সেখানে চিরদিন রোগী 

কত ভালো ভাগ্য দেখি এপাশে ওপাশে 
অভিনয় সেরে বাড়ি ফেরে 
আমি চাঁদ কুড়িয়ে স্বপ্নের ঘরে 
গোলাপি হাতের ছবি আঁকি 

এ জন্ম মোচন হয় ধুলোর পরাগ মেখে 
এ জন্ম রোজ পার হয় কান্নায় আকাঙ্ক্ষার শরবত গুলে
 
পূর্ণ কেমন রোজ ভাবি 
কতটুকু উজ্জ্বল তার পা, ঠোঁট নাক চোখ 
কেমন নূপুর বাজে, দোলে নাকছাবি!

অপাংশু দেবনাথ

বাংলা আমার ধুলো বালির কান্না

বাংলাভাষা বুকে আমার ধুলো বালির কান্না,
দুহাত ভরে জড়াই বুকে যেন হিরে পান্না।

কখনো সে মায়ের আঁচল স্বপ্ন নদীর ঢেউ,
কেমন করে কাঁদছে সে আজ দেখেছো কি কেউ?

নরম ঘাসে সূর্য আমার মাথায় জাগা ছায়া,
মহানগর ভুলছে দেখো মাতৃভাষার মায়া।

মুখে কেবল হিন্দি আসে ইংরেজিও খুব
অশুদ্ধ সব বাংলা লিখা থাকছি সবাই চুপ।

বাংলা তবু বেঙ্গলি নয় স্বপ্নে আমার আশা
বুকে শুধু গুনগুনিয়ে বাজে মাতৃভাষা।

কখনো সে ভিড়ের মাঝে ক্লান্ত কলরব, 
সকল মুখে তোমায় খুঁজি প্রাপ্তি আমার সব।

সৌমিত বসু

ভাষাজ্বর

তুমি আমার শেখানো অক্ষর
তুমি আমার অন্নপূর্ণা ভাষা
বরফঠোঁটে জানিয়েছিলাম তাকে
সম্বলহীন তুচ্ছ ভালোবাসা।

তুমি আমার জন্ম প্রতিবেশী
বুকে তোমার অনন্তরাত জাগে
স্বপ্নে যারা মরতে চেয়েছিলো
শহীদ হতে ছোটে আলোর আগে।

আমি তোমার ছাত্র হয়ে শিখি
মায়ের ভাষা আগলাতে হয় কেন।

তমা বর্মণ

স্নায়ুর ভিতর ভালোবাসার ভাষা

পলাশের আগুন দেখতে দেখতে সে
ভালোবেসেছিল সূর্যের আকাশ!

সময় গেছে সময়ে
যেভাবে অগ্রহণে মানুষ সরে

উঁচু উঁচু ছাদে আড়াল আকাশ
প্রত্নজগৎ-এর বুকে ঝুলে প্যাঁচার মতো
খড়ের চালার চাঁদ! ফুটন্ত শাপলা, গাঙচিলের ডানা...
নগরায়নের সন্তান সন্ততি
লালন করিম বাউলের পৃথিবী ভুলেছে!

নির্মোহ শূন্যতা...

বাংলা ক্লাসের দিদিমণি সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের
ব্ল্যাকবোর্ড ছেড়ে ঘন ঘন উঠে যায় স্নায়ুর ভিতর উদাসে
নৈসর্গিক জানালার পাশে
কনভেন্ট স্কুল, হুড়মুড়িয়ে নেমে আসতে থাকে পরিযায়ী ছেলেমেয়েরা।

তৌফিক জহুর

ও চাঁদ 

অন্ধকারে সুতীব্র যন্ত্রণায় রাতের পোকারা
শহরের সোডিয়াম বাতির নীচে 
ডাক দেয় সমাবেশের
বটগাছের ডালে ডালে কোকিলের বৈষ্ণব সঙ্গীত
নিশাচর মন খোঁজে শুধু এক লায়লা

অন্ধকার সরিয়ে চাঁদ ওঠে আকাশে
গণিতের তরিকায় জেনেছি নাম
গল্পে ঠাকুরমার ঝুলি, অ্যারাবিয়ান রাতের কিস্যা
প্রণয়ের শিঙা হাতে আরব্য দৈত্য 
চোখের ইশারায় পাপড়িগুলো মুদে আসে
ঘুমের ঘোরে জেগে ওঠে স্বপ্ন
দরোজার ছিটকিনি খুলে রাস্তায় 
ঘুমের একতারা বাজিয়ে  সুনসান রেলস্টেশনে দাঁড়াই 
প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে একটা ট্রেন
গন্তব্য পরের স্টেশন, নাম একুশে পা।

কমল সরকার

নাগরিক

তোমার জন্মের পর 
গোটা বরাক উপত্যকা জুড়ে
উৎসব করেছিলেন তোমার পিতামহ, 
তোমার স্নিগ্ধ কপালে এঁকে দিয়েছিলেন
মাজুলিমাটির আর্দ্রটীকা। 

তোমার কৈশোরে তুমি 
তুমুল সাঁতরেছো ব্রহ্মপুত্রের জলে, 
তোমার শরীর-ধোয়া সেই জল 
আকাশে উঠে গিয়ে পরে
বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে
আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত এক ভূ-খণ্ড ---
যাকে তুমি স্ব-দেশ বলে জানতে। 

তাকে  দিলে তুমি ৭০টা বছর, ঘাম, অশ্রু, রক্তজল। 
অথচ 'দেশ' বলতে যারা শুধু একখণ্ড মানচিত্র বোঝে,
'নাগরিক' বলতে কিছু কাগুজে তথ্য 
তাদের কাছে তুমি কেউ নও, দেশ কিছু নয়। 

দেশকে তুমি জননী বলে জেনেছিলে, 
আর এই মহাজনি লুঠতরাজের দিনে
তোমার অভাগিনী  মা তোমাকে 
এক টুকরো দড়ি ছাড়া 
আর কী-ই বা দিতে পারে!

সুমিতা বর্ধন

২১ আমার ২১ তোমার

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি
ঢাকার রাজ পথ কেঁপে উঠেছিলো।
মাতৃভাষা বাংলার জন্য
গলা চিরে রক্ত বেরিয়েছিল ওদের,
আর ঝলসে উঠছিলো পাকিস্তানি বন্দুকের নল গুলো,
চারিদিকে গগনভেদী আর্তনাদ
আর  প্রতিটি শিক্ষার্থীর মুখে স্লোগান-
বাংলা আমার মায়ের ভাষা
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা
বাংলা আমার মাতৃ ভাষা।
এই স্লোগানের খেসারত দিতে গিয়ে
লুটিয়ে পরলো সেদিন বাংলা মায়ের দামাল ছেলে আব্দুল,বরকত, সালাম, রফিক,জব্বর রা।
শুধু কয়েকটা গুলি, 
রক্তে রাঙিয়ে দিয়ে
ভারী বুটের আওয়াজ তুলে
মাড়িয়ে গিয়েছিলো সেদিন ঢাকার রাজপথ।
আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহতাকে পেছনে ফেলে 
চলে এসেছি অনেক দূর।
আজ বাংলা আমার ভাষা 
আর বাংলা তোমারও ভাষা।
কিন্তু ,এই ভাষার মাঝে আজ
কাঁটাতারের বেড়া।

 কতো শহীদের রক্তের বিনিময়ে
আজ বাংলা আমার -
বাংলা তোমার মাতৃভাষা।
আমরা আজো গাই 
বাংলার মাটি বাংলার জল
বা মোদের গরব ,মোদের আশা
আমরি বাংলা ভাষা।
তারপরও,ভবানী প্রসাদের লিখনিতে
উঠে এসেছিলো সেই গর্বিত মায়ের কথা-
"জানেন দাদা আমার ছেলের
বাংলাটা ঠিক আসে না"।
শত শত রক্তের বিনিময়ে পেয়েছিলাম
আমার অধিকার
আমার মায়ের অধিকার
আমার বাংলা ভাষার অধিকার।
হাজার মায়ের বুক খালি করা সন্তানের রক্তের বিনিময়ে
আমার মাতৃভাষা।
২১ আমার ২১ তোমার
২১ প্রতিটি বাঙালির।

নিয়তি রায় বর্মন

মধুময় আবির্ভাব

উদীয়মান সূর্যের নিচে নৃত্যরত সুপারিগাছ 
প্রতাপশালী সূর্য তখন শুধুই লাল গোলা-
শিশু বৃদ্ধ সকলে তোমার রূপ লাবণ্য দেখতে পারে-
 চোখ ঝলসে যায় না।

তোমার নব্য আবির্ভাবে বসুন্ধরাও চোখ মেলেছে
মহানগরীর ঘুম ভেঙেছে, রাজপথে হালকা
 যাতায়াত শুরু হয়েছে।
কোন কোন বাড়ির বারান্দার বিজলিবাতি
তখনও নেভানো হয়নি।
গাছাগাছালিতে পাখির কলকাকলি-
মৃদুমন্দ হাওয়া-নববসন্তের আ গমন বার্তা।
ও-আরো একটি খুশির খবর-ছাদের
ছোট আম্রপালিতে মুকুল উকি দিয়েছে-
সঙ্গে মৌমাছির ভিড়।
টবের রুগ্ন গাছগুলিতেও সবুজ কচিপাতা
হাসছে- লাবণ্যে ভরা শৈশব।

নব প্রভাতের কান্ডারি তুমি, নব বসন্তের
কান্ডারি তুমি।তাই তো জগৎ এত মধুময়।
তোমার অভাবে সব ঘুমিয়ে থাকে-
মনমরা হয়ে লুকিয়ে থাকে।
তোমার আগমনে কোকিলের কুহুতান।
পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়া রঙের মাধুরী
ছড়িয়ে নাচে দখিন হাওয়ার তালে তালে
আর জগৎ তাকিয়ে দেখে অপার বিস্ময়ে।

রঞ্জিত চক্রবর্তী

মনে রাখা সেই দিন

সৃষ্টির সময় থেকে
রাত-দিন ফুরিয়ে কাল যখন পূর্ণ হয়
তখনই ফিরে আসে 
এই এমন একটি দিন। 
আমি বা আমার মতো
অনেকেই এসেছে বা আসবে
মায়ের জঠর ছেড়া ব্যথার বিরতি দিয়ে
বাবার উদ্বেগের পাহাড় পার হয়ে
অন্ধকার থেকে আতুরঘরে। 
আদরে নাম রাখা হয়
ঘর ভরে উঠে আলোয় আলোয়
জিভ নাড়িয়ে স্বাগত জানায়
দিকে দিকে ছড়ায় নতুনের বার্তা। 
অতীত মনে রেখেই জীবনের শুরু
পায়ে পায়ে শিড়ি বেয়ে উঠা
হয়তো কেউ ভুলে যায়
কেউ মনে রাখে
ঋণী তো তাদের কাছেই
স্নেহ গন্ধ যার শরীরে। 
জীবন ফিরে আসে
জীবনের হাত ধরে। 
ধাপ শেষ হলেই থেমে যাবে রথ
জন্মদিন এ কথায় বলে
যেনো ভুলে না যাই সেই মানুষ আর ঈশ্বরে।

কুশল ভৌমিক

আমি বাংলাদেশের লোক

চেয়ে দেখো,পলাশ শিমুলের ডালে
ফুল হয়ে ঝুলে আছে-আমাদের বর্ণমালা।

মৌরঙা ফুল খোপায় গুজে গুজে বিষণ্ণ বাসন্তী
চেয়ে দেখো
গোটা জীবন তোমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
অভাবনীয় শব্দের আদরে ভরিয়ে দিচ্ছি
জীবনের সবকটি সাদা পৃষ্ঠা।

আরশিতে হেসে ওঠা আমাদের আনন্দ
বারোয়ারি জীবনের বিপন্ন বেদনা
মোহ মায়া প্রেম প্রাচুর্য
আমাদের জল্পনা কল্পনা
ভুল ভ্রান্তি প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির দোদুল দোলনা
শানিত শপথ প্রাণিত প্রতিজ্ঞা
এক থেকে বহু হবার দৃপ্ত প্রেরণা
সব -সব সুগন্ধ বুকে নিয়ে
দেখো, ফুল হয়ে ফুটে আছে
আমাদের বর্ণমালা।

আমাদের প্রতিটি অক্ষর পাখি
প্রতিটি শব্দ বিমূর্ত ওঙ্কার
চর্যার সিঁড়ি ভেঙে আমদের বর্ণমালা পোঁছে যায়
তোমাদের উত্তরাধুনিক দরোজায়
শুক সারি ব্যাঙমা ব্যাঙমি
ঠোঁটে ঠোঁটে বলে দেয় আমাদের প্রত্নপরিচয়-

আমার ভাষা তোমার ভাষা
ভালোবাসা হোক
আমি ভাষার জন্য জীবন দেয়া
বাংলাদেশের লোক।

রুদ্র মোস্তফা

বিয়ের আগে ও পরের কবিতা 

নিরন্তর কবিতা পাঠের মনভালো-রাতে 
কবিতার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, 
কী চাও আমার কাছে?
কবিতা বলেছিলো,আমাকে দাও বেলা করে ঘুম থেকে উঠার মতো কিছু অবেলা
কড়া রোদের গালে কষে চড় দেয়ার মতো একটা তপ্ত  দুপুর
আমাকে দাও মধ্যরাতে একা একা ঘরে ফেরার ফুসফুস-ভরা হাসি
আমাকে দাও শ্রমের যথাযথ মর্যাদা—
উদ্ধার করো আমাকে ফুল-পাখি-লতাপাতার শৃঙ্খল থেকে—
চাই না সাগর,নদী,পাহাড় ও ঝরনার উপমা
আমাকে দাও পুরুষের সমান ক্ষমতা ও প্রেম 
যাতে সম্ভোগের পর খোশ দিলে বলতে পারি, 
আজ আমার মন ভালো,কী চাও আমার কাছে? 
কবিতার কথা শুনে মনের ভেতর জেগেছিলো ভয় মুহূর্তেই প্রেমের আঙুরলতায় প্রবাহিত হয়েছিলো রক্ত 
নিমেষে মনে পড়ে ছিলো,
একদা কবিতা আমার প্রেমিকা ছিলো,এখন সে স্ত্রী— 
চাইলেই যখন তখন তাকে পাঠ করা যায় 
আর পঠিত পদ্যকে এতো বেশি প্রশ্রয় দিতে নেই।

দিলীপ বসু

বর্ণমালা,আমার বর্ণমালা

বর্ণমালা,আমার দু:খ জাগানিয়া পাখি
আমার সুখ-সৌরভ আর  অমরত্বের সহচরি
তোমাকে আমার  অভিবাদন।

তুমি আমার আবেগের ক্রোধের সংগ্রামের জ্বলন্ত দীপাবলি,মায়ের জরায়ুর  অন্ধকার ফুঁড়ে
তোমাতেই দেখেছি  প্রথম আলোর প্লাবন।

সেই শৈশবে আমি যখন পাখির ভাষায় কথা বলি
উপল-চর্চিত নদীরমতো হাসি
তোমাকে নিয়ে কত খিস্তি খেউর কত নোংরামি
তোমার মৃত্যুর পরোয়ানা দিয়েছিল পরকীয়া সাপ।
তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ গর্জে উঠেছিল উত্তালসাগর
লাঠি-সড়কি-বল্লম গনগনে আগুনের ফুল
কারফিউর কলঙ্ক এখনও লেগে আছে 
তোমার শরীরে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা পড়তে পড়তে
আমি যখন তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি
একদিন খবর এলো তোমার রক্তে ভেসে গিয়েছে
আদিগন্ত সবুজ জমিন।
সালাম-জব্বার-রফিক-বরকত গুচ্ছগুচ্ছ ফুল শুয়ে আছে রাজপথে
পলাশে পারুলে শোকে কান্নায় গগনবিদীর্ণ শপথ।
অবশেষে তুমি বৈরীমুক্ত নিজস্ব ভূগোলে...
স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ
তোমার সৌরভে
ত্রিশলক্ষ হৃদয়ের রক্তস্নাত এমন বর্ণমালা
ইতিহাস দেখেছে কোথায়?

তোমাকে বুকেনিয়ে বাঙালির বরপুত্র শেখ মুজিবর
ঈশ্বরের নীচের আসনে বসে লিখেছিলেন
অমিতবিজয় কাব্য
রক্তের আখরে লেখা সেইসব তমসুক
আজও বেঁচে আছে আমাদের বিশ্বাসে বৈভবে।

এখনও তোমার নামে হে অমর বর্ণমালা
ধ্বনি ওঠে নগরে-বন্দরে
একুশের প্রভাতে পিলপিল হেটেযায় লক্ষলক্ষ নগ্নপদ উত্তর -পদাতিক
ফুলে পল্লবে আল্পনায় ভরেযায় শহিদমিনার
বরকত সালামের নামে জয়ধ্বনি উড়ে যায় 
পিন্ডির ভাগারে
এখনও ধর্মের শকুন কেঁপে ওঠে তোমার সঙ্গীনে
বিশ্বজয়ী এমন সৌভিক কে কবে দেখেছে কোথায় 

হে বর্ণমালা,অমর বর্ণমালা
একবিংশের এই বৃষ্টিহীন বৃক্ষহীন অসূয়া সকালে
তুমি আমার জলের দেশ, সাঁওতালি পাহাড়
তোমাকে সালাম।

বিজয়া কর

হকার (গল্প)

ঠেলাটা একপাশে রেখে ছায়ামতো জায়গায় দাঁড়ায় অশোক। রোদ দেখে মনে হয় ঘড়ির কাঁটা দুপুরের দিকে। মোবাইল টুম্পার কাছে রেখে এসেছে। বলা যায় না, জরুরি কাজে ফোন এলে না-ও ধরতে পারে। 
রাস্তায় ব্লক বসানো।
জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে।
ভোর ভোর শীতের কামড় ছিল।
এখন গেঞ্জির ভিতরটা বেশ ঘেমে গেছে। 
জল-মানুষ সে।
গত ১১ বছর নদীর ঘাট, লঞ্চ, পাটাতন, যাত্রী পারাপার এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। কাজে যোগ দিয়েছিল লঞ্চ-ড্রাইভার হিসেবে। কিন্তু পরিস্থিতি তা মানেনি। যা যখন করতে হয়েছে, করিয়েছে তাকে দিয়ে। 
থেমে থাকা বছরটি শেষ হতে না হতেই ফকিরচাঁদ তাকে ডাকেন -- শুনো রে বা, ব্রিজোর কাজ শুরু অইছে। লঞ্চো আর বেশি মানুষোর দরকার পরতো না। সময় থাকতে অইন্য কাজ খুঁজো। পরে কইবায়, আমি ঘাট-অফিসোর বড়বাবু অইয়া তুমারে কুন্তা জানাইলাম না। 
টের পাচ্ছিলো ব্রিজ হয়ে যাবে বলে।
দুটো পিলারও বসে গেছে একপাশে।
তবু একটা অভয়বার্তা ছিলো-- এই ঘাটে না হোক, অন্য কোথাও কি এরকম কাজের মানুষ লাগবে না? ১১ বছর জড়িয়ে থাকলো যে পেশায়, হুট করে তা ছেড়েছুড়ে কোথায় গিয়ে কী করবে? সরকারেরও তো একটা দায় থাকবে না তাদের নিয়ে? 
পড়াশোনা ক্লাস নাইন অবদি।
বাবা ছোটবেলাই মারা গেলেন।
মা এর কয়েক বছর পরে।
বাড়িঘর ছিলো না। 
মাসির কাছে চলে গেল।
মেশো একদিন নিয়ে এলেন ঘাটে। 
ফটিকচাঁদের সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিলো।
সেদিন লঞ্চের বাঁধাধরা মানুষ আসেননি।
ভর বর্ষা। 
নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। 
-- ডরাইলে অইতো না। লঞ্চো উঠো গিয়া। দেখো কিতা করতে পারো। 
-- পারবো। হে তো অতদিন মধুরাঘাটো ইতা কাজ করছে। 
-- তে আর কিতা চিন্তা! 
ফটিকই নিয়ে যান লঞ্চের কাছে।
সে-ই শুরু। 
ওখানেই চোখাচোখি টুম্পার সঙ্গে। 
দুবছর হলো বিয়ে করেছে। ছেলে পেয়েছে। বয়স সাড়ে ৯ মাস।
কাজের নানা ধান্ধা নিয়ে ভাবে।
তার জানাশোনা অনেকেই সবজি, ফল এসব ঠেলায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সকাল সকাল। তিন/ চারজন টোটো কিনেছে। ইনস্টলমেন্টে লোন শোধ করে। বামপায়ে জোর কম তার। শৈশব থেকে একটু টেনে টেনে হাঁটে। বামহাতেও। তবে ততটা নয়। 
দোকান-কর্মচারি হবার জন্য গেছিলো কয়েকটা ঠিকানায়। টাকাকড়ি যা দেবেন বলে মালিকপক্ষ জানান, তাতে তার আড়াইজনের পরিবার চলবে না। বাধানিষেধও প্রচুর। বসার কোন সিস্টেম নেই ডিউটির সময়। শপিং মলগুলির মতো। দুপায়ে দাঁড়িয়ে সকাল নটা থেকে রাত নটা। 
আগরতলা গেছে বিলাস। 
ঠেলা সমঝে দিলো তাকে-- কয়েকদিন ব্যবসা করিয়া দেখ। আমার আইতে দেরি অইবো। আইলে পরে দিলাইছ্। কই তনে মালউল আনি সব তোরে বুঝাইয়া যাইমু। 
আজ নিয়ে এক সপ্তাহ হলো।
লাভের মুখ তেমন দেখেনি।
বড় দূর্বল লাগে শরীর। 
বামপায়ের ভিতরের জায়গায় জায়গায় জ্বলে। দুটো হাঁটু জুড়ে ব্যথা। জ্বর জ্বরও লাগছে। 
দুপুররোদে আরও ঘন্টাখানেক হাঁটতে হবে। 
মাল যা নিয়েছে, যদি বিক্রি হয়ে যায় এই আশায়।
বুক গলা শুকনো খটখটে। 
জলের বোতল হাতে দিয়েছিল টুম্পা। 
আড়তের সামনে রেখেছে। পরে নিতে ভুলে গেল। 
গলিটার দুপাশে বড় বড় ফ্ল্যাট। 
দোতালা বাড়িও রয়েছে।
তবে সংখ্যা কম। 
গাড়ি আছে প্রায় প্রত্যেকের। 
সুন্দর সুন্দর কুকুরও। 
সৌখিন অভিজাত পাড়া। 
তাকায় অশোক। 
এত এত বাড়ি! 
কিন্তু কাউকে এমন আপন মনে হচ্ছে না যে গিয়ে বলে, শরীরটা খারাপ লাগছে। একটু বসি আপনার এখানে! অল্প জল আর কিছু যদি খেতে দেন...
খাওয়ার কথা ভাবতেই পেটে মোচড় দেয়। কাল রাতে বাচ্চাটার কাশির চোটে রান্নাখাওয়া কিছুই হয়নি তাদের। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত উপোস। 

খোকন সাহা

অক্ষরের পতাকা উড়ে

এক একটা দিন যায়,
চোরা কুঠুরির তলদেশে হতাস বেনোজলে ।
পত্রপাঠ ভুলে যাই ----
অনুভূতির অমর্ত্য প্রদেশ জুড়ে
মর্তের অবাক জলপান ।

এক একটা দিন আসে ,
দাসত্বের বোঝা কাঁধে , ভিক্ষুকের অনন্ত রক্তপাতে   
অস্তিত্বের আমরণ যন্ত্রনায় , চৈতন্যের গলা টিপে ।

এক একটা রাত আসে ,
বিস্মরণের পাড় ছুঁয়ে
প্রজন্মের এক ঝাঁক উজ্জ্বল বন্ধুর মত
পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে , ----- কিশোরী নদীর বুকে
জ্যোস্নার অবাক মরণ দেখব ব'লে ।

এক একটা রাত যায় ,
দুঃসাহসী দুনিয়ার বুকে , অমৃতের ভান্ড লুটাবে ব'লে
আহত জন্তুর চিৎকার শোনা যায় ।

এক একটা দিন       এক একটা রাত
পরম আদরে ------ জীবনকে হত্যা করে
জীবনের ভেতর থেকে তুলে আনে এক প্রবল হত্যাকারী ,
যে-কিনা  আপন বুক লক্ষ্য করে
শব্দভেদী বাণে তুলে আনে সহজ বর্ণমালা ।
পরম প্রশান্ত পাঠে
হিমদগ্ধ শৈলশিলা ভাঙতে থাকে ,
আর পতনের আতুর ঘর থেকে
জলপ্রপাতের গম্ভীর শব্দে
চোখ মেলে ------
আত্মদানের দুয়ারে দাঁড়িয়ে
আত্মহননের পাঁজর খুলে
দিনরাত্রির বৃষ্টিতে ভেজা
মানুষের আমন্ত্রন অভ্যর্থনা করে ।

এক-একটা দিন
এক-একটা রাত ----
তোমার আমার বুকে
নিষাদের রক্তমালায়
অক্ষরের পতাকা উড়ে........

ডঃ রঞ্জিত দে

বাংলা ভাষা

অন্ধকারে ভিটেমাটি ঊর্ণা ছেড়ে 
বেরিয়ে ছিলাম কেউ জানে না, 
মা বললেন কথা নয় বাবা নীরব। 
চোরের মতো জন্মভূমি ছেড়ে দিলেম-
ভাঙা বাংলার অবোধ বাঙাল।
প্রণাম করি জন্মভূমি ও যে,
খুঁজতে খুঁজতে জন্মভূমি পেলাম কই!
ছিলাম বাঙাল হলাম রিফিউজি, 
দিনভিকারীর মত যেমন তেমন, 
সুযোগ খুঁজি,বাস্তুহারার বাস্তু চাই।
ট্রেন চলে না,নৌকা চলে,
কিংবা হেঁটে এলাম স্বাধীন দেশে,
আমার ভারত আমার গৌরব, 
বলছি জবর জোর গলায়। 
বুকে আমার অন্তহীন লাঞ্চনার ক্ষত-
মুখে বলছি- ভালো আছি,ভালো থাকুন।
ঘর ছেড়ে দেশে এলাম,
তাই অভাব কে আর অভাব বলি না।
আমরা এখন ভাঙা বাংলার ভাবনা ভুলে-
"মোদের গরব" বাংলা ভাষার পাল তুলেছি।।

শান্তনু ভট্টাচার্য

বর্ণপরিচয়

আমার উঠোনে
ঝিলমিল করে রোদ- স্বরবর্ণের প্রত্যয়ী উচ্চারণে ...
প্রজাপতির মতো ফুলে ফুলে নেচে বেড়ায় 
ব‍্যঞ্জনবর্ণের রামধনু পাখা ।

মহতি বর্ণপরিচয়ের মাঝে দেখি
মায়ের আটপৌরে হাসি।

মা-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি কখন যেন 
সমার্থক হয়ে যায়।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

আমার মাতৃভাষা

মা আমার, ভাষা আমার
তোমার সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করে চলি 
তোমার স্তন্যপানে  উদ্যমী চলা
দূরদিগন্তে শুধু বাংলায়ভরা আশা।

আবুল বরকত ওনাদের রক্তঝরা দিন
আজও মনে পড়ে, যখন হোঁচট খেয়ে
রক্ত ঝরে  দেহ থেকে - 'মা',বলেই ডাকি, 
এ যে আমার প্রাণের বাংলা ভাষা।।

সঞ্চিতা রাহা(পাল)

রক্তিম একুশ

মরমী বাঙ্গালীর রক্তে ভেজা  ভাষা
এই ভাষাতেই ব্যক্ত করে মনের সকল আশা,
মায়ের ভাষায় কথা বলার এই যে অধিকার
বুলেট ঝাঁঝরা শহীদ বুক ছিল নির্বিকার।

ভাষার জন্য স্বাধীন দেশ, ঘুরছি ফিরছি উদার
কার অবদানে পেলাম যেনো এই স্বাধিকার! 
রফিক সফিক সহ আরও লক্ষ শহীদের
সূর্য হোক একেক ফোঁটা রক্ত তোমাদের।।
 
 বাংলা আমার গর্ব ওরে,একুশ অভিমান, 
 তবু কেনো পাশ্চাত্যে ওদের এত টান।
 আমার তোমার যে সংস্কৃতি , গুড়িয়ে ছিলো তারা
সাম্প্রদায়িক বীজ ছড়িয়ে শাষন করলো যারা।।

আবেগের মূলে কুঠারাঘাত 'ডিভাইড এন্ড রুলস' পলিসি 
বঙ্গভঙ্গেই যার সূত্রপাত,করেছিল সেই বিদেশী। 
তারপর পাক হানাদারেরা কাড়তে চেয়েছে মুখের ভাষা
একুশ কিন্তু আছড়ে ফেলেছে তাদের মনের আশা।।

বাংলা ভাষার মান রাখতে  দিয়েছে যারা প্রাণ
আমরা কেনো সেই দামালদের করবো না সম্মান,
একুশ কোনো শব্দ নয়, সংখ্যা তো নয় মোটেই
একুশ বাঙালীর  মেঘরোদ্দুর চির আবেগ মাত্রেই
কান্নাহাসির দোল-দোলানো এই একুশের তরে,
সব বাঙালীর মাথা নত হয় যে বারে বারে.....

বিশাখা অধিকারী

জলপাই রঙের গোলাপ (গল্প) 

সেদিন ৭ ফেব্রুয়ারি , কলেজ পড়ুয়া গোলাপীর জন্মদিন । জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মায়ের হাতের সুস্বাদু পায়েস আর বাবার রান্না করা পাঠার মাংস খেয়ে দিনটা উদযাপন করে । মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটার সংস্কৃতিটা বাবার ঠিক পছন্দ নয় । বরং ওই দিনটাতে তিনি দুটো প্রদীপ বেশি জ্বালান তুলসীমঞ্চে । একটা গোলাপীর দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং আরেকটা তার সাফল্যকামনায় । মেয়েটি পড়াশোনায় বেশ ভালো , গায়ের যেমন‌ রং তেমনি তার চরিত্র । সুন্দর বলতে যা বোঝায় গোলাপী ঠিক তাই । প্রেমের সপ্তাহের শুরুতেই তার জন্ম বলে বাবা আদর করে নাম রেখেছে গোলাপী । অবশ্য কলেজে অনেকসময় এই নামটা তার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় । বন্ধুরা কেউ যদি তাকে‌‌ ভালোবেসে গোলাপ বলে তো কেউ আবার কেমন যেন একটু কপাল কুঁচকে বলে "গোলাপে কিন্তু কাঁটা থাকে " । অবশ্য দিন যেতে যেতে গোলাপী এগুলোর সাথে অভ্যস্ত হতে থাকে । আজকাল আর এগুলো কানে নেয় না । এখন সে ভীষনভাবে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত । সেই উড়নচণ্ডী ছেলেমানুষ মেয়েটা কেমন‌ যেন হঠাৎ করেই বদলে গেলো । ছোটোবেলা থেকে দেখছি বলেই হয়তো ওর এমন পরিবর্তন চোখে পড়ছে । তবে ওর একটা স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি — সহজ চোখে জগৎ দেখা । আমিই ওকে অনেকবার বলেছি যে জটিল পৃথিবীতে এতোটাও সহজ থাকা ভালো না । উত্তরে বলতো 'দাদা সহজ হওয়া একটা আর্ট , একটু বেশি কষ্ট হয় সহজ হইলে কিন্তু দিনশেষে আনন্দই পাওয়া যায় ।' — কী জানি! এই আনন্দের লোভেই হয়তো ও আজও এতোটা সহজ । 

         তিনবছর পর এবার জন্মদিনে আমি ওর সাথে দেখা করতে যাই । মুখটা দেখে কেমন‌ যেন শীতকালের ব্রহ্মপুত্রের মতো লাগছিলো । কেমন যেন মনে হতে লাগলো 'ও তো আমার গোলাপ নয় !' অবশ্য , আমাকে দাদা বলে জড়িয়ে ধরার পর সেই ভুলটা সংশোধন হলো । এই ডাক ও স্পর্শ দুটোই যে আমার খুব চেনা । এখানে বলে রাখি সম্পর্কে আমি ওর দিদি হলেও মেয়েটি আমায় দাদা বলতে ভালোবাসে । খুব ভুল না হলে বছর পাঁচেক আগেই আমাকে বঙ্গভবনের সামনে পেয়ে ঠিক এইভাবেই জড়িয়ে ধরে বলেছিল 'দাদা আমি প্রেমে পড়েছি' । তখন আমি বিষয়টা নিয়ে এতো ভাবিনি । আসলে প্রেমের অর্থ এতোটাই বিস্তৃত যে কে , কখন‌, কীসের প্রেমে পড়ছে বলা যায় না । আর গোলাপ যেমন‌ মেয়ে ভালো কোনো উপন্যাস পড়ে এসে বা নতুন কোনো নাটক দেখে এসেও চিৎকার করে বলতে পারে 'আমি প্রেমে পড়েছি' । অনেকবার ও নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সিনেমা দেখে প্রেমের কবিতা লিখেছে । ফেসবুকে আপলোড করার সময় আবার পেছনের কাহিনিটাও শিরোনামে লিখেছে । কমেন্টে দেখছিলাম বন্ধুরা বলছিলো 'তোর দ্বারা প্রেম হবে না' , 'তোর নাম না‌ গোলাপ' , 'কী-রে সিনেমাকে বিয়ে করবি ?' ইত্যাদি ইত্যাদি । এইসব কমেন্ট নিয়ে খুব হট্টগোল হচ্ছিলো তখন । যেহেতু গোলাপকে শৈশব থেকেই চিনি তাই বন্ধুত্ব ভাঙার গন্ধ পাচ্ছিলাম কমেন্ট বাক্সে । 

         ২০১৯ সালে পুলওয়ামা কাণ্ডের পর জানতে পারলাম গোলাপ‌ সত্যিই কোনো মানুষের প্রেমে পড়েছিলো । ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে গোলাপ ফেসবুকে লিখেছিলো ' এজন্মের না পাওয়াগুলো তুলে রাখলাম পরের জন্মের জন্য My Dear Valentine … ভালো থেকো ভালোবাসা ... ' বেশ বুঝতে পেরেছিলাম মেয়েটার কপাল‌ ভেঙেছে । কিন্তু তারপর ও কি করে সেটাও দেখার জন্য যেমন দারুণ আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম । তেমনি গোলাপের জীবনে ভ্রমর কীভাবে এলো তা-ও জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলাম । কাউকে জিজ্ঞেস করারও সাহস হচ্ছিলো না ঠিক । বছরখানেক বাদে স্থানীয় সংবাদে গোলাপের একটা গল্প ছাপালো । যদিও গল্প আর বাস্তব মেলানো যায় না তবুও একটু চেষ্টা করে দেখলে তো আপত্তি নেই । গল্পকারকে যেহেতু চেনা কাজেই বিষয়টা এতো জটিলও নয় । যাইহোক সেখান থেকেই জানতে পারলাম যে সেবার ফেব্রুয়ারি মাসে গোলাপ বাংলাদেশে যায় । উদ্দেশ্য একুশের বইমেলা । আর তার এই ভালোবাসার মেলাই লিখে দিলো জীবনের গল্পের অনন্য উপন্যাস ! ওদেশে যাওয়ার সময়েই বর্ডারের এক দেশবন্ধুর সাথে তার আলাপ হয় । আসলে গোলাপ যেখানে যায় সেখানেই আড্ডা জমিয়ে দেয় । বাড়ি ফিরে ফেসবুকে তাঁকে খোঁজে বের করে এবং দু'জনের বন্ধুত্ব হয় । ক্রমান্বয়ে বন্ধুত্ব পরিণত হয় প্রেমে । দু'বার তার সাথে কফি হাউসে যাওয়া ছাড়া আর কোনো স্মৃতিও নেই গোলাপের । প্রেমটা ফোনবন্দীই ছিলো গোলাপ-ভ্রমরের । কিছুটা একতরফাও বটে । কিশোরী মেয়েটি কোনোদিনই তো বয়সের আবদার মিটিয়ে সখাকে কাছে পায়নি । বন্ধুদের মতো সে প্রেমিকের হাত ধরে শহরের রাস্তায় ঘুরতে না পারলেও মনের বারান্দায় রোজ অভিসার হয়েছে দু'জনের । একেবারেই মনের কাছাকাছি বসে প্রচুর কবিতা লিখেছে দু'জন মিলে । এই তরতাজা স্মৃতি আর জলপাই রঙের হৃদয়ে নিজের নাম লেখার গর্ব — এই নিয়েই মূলত গোলাপের প্রেমকাহিনী । বর্ডারে যেহেতু সবসময় ফোন যায় না তাই প্রেমিকের কয়েকজন বন্ধুর ফোন নম্বর নিয়ে রাখে গোলাপ । এই বন্ধুদের থেকেই পনেরো ফেব্রুয়ারী প্রেমিকের তারার দেশে পাড়ি দেওয়ার খবরটি পায় গোলাপ । চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী যার উপর অভিমান করেছিলো, সারাদিন ধরে যার পাঠানো পার্সেলের অপেক্ষা করছিলো , সেই মানুষটা একবার ফোন করে 'আসি' না বলেই চলে গেলো ! অভিমানটা ক্ষোভে পরিণত হলেও কার উপর গোলাপ সেটা জানেনা । এরপর থেকে প্রেমদিবসটা গোলাপ সাদা শাড়ি , হাতে বানানো সাদা ফুলের গয়না পরে ফেসবুকের পাতায় নানারঙের প্রেমের কবিতা লিখেই কাটায় । কারণ একটাই , গোলাপকে সাদা রঙে উর্বশীর মতো লাগে । এই সাজ তার প্রেমিকের খুব পছন্দ ছিলো ।    

          আলিঙ্গন করেই গোলাপ দৌড়ে গিয়ে নিজের ঘর থেকে আমার জন্য রবীন্দ্র নাট্য-সংগ্রহ , একটা পারফিউম ও একগাদা চকোলেট নিয়ে আসে , পারফিউমের বোতলটা ছিলো লাল রঙের । উপহারগুলো আমার হাতে দিয়ে বললো 'ভ্যালেন্টাইনস' ডে-তে দেখা হবে কিনা‌ জানিনা তাই এই উপহারগুলো আজকেই দিয়ে দিলাম , এবারের একুশের অনুষ্ঠানে এই গন্ধটা মেখে যেও‌ '। আমি তখন অবাক হয়ে দেখছিলাম আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিকাকে । প্রেম সত্যিই মানুষকে বদলে দেয় ! প্রেম নবজীবন দেয় ! আসার সময় আমি তাকে বলে এলাম ' যদি পারিস জীবনে কখনও ওর জন্য দুটো তারা কিনে দিস , ছেলেটা দু'দণ্ড শান্তিতে ঘুমোতে পারবে ' ।

বিপ্লব উরাং

ক‍্যামন জানি হয়ে যাছে

ক‍্যামন জানি হয়ে যাছে-সব কিছু
ভাব ভালবাসা রহন সহন
দিনকে দিন সব কিছু দুরে হাটে যাছে।

মানুষ মানুষে ভেদ বিভেদ বাড়ছে খালি বাড়ছে।
খোলা আকাশ খোলা বাতাস
দেখে দেখে হাসছে।
ক‍্যামন জানি হয়ে যাছে সব কিছু।

পেরেম পিতী কমে যাছে
হিংস বাড়ছে দিনকে দিন।
কালা আনধার পিরথিবীটাকে
দখল করে লিছে-
বুঝেও হামরা নাই বুঝছি।

ছট্টু বয়সের অমলিন হাসিগিলান
কথায় জানি ওধাও হয়ে গেছে
পেরান খোলে হাসতেও নাই জানি।
ক‍্যামন জানি হয়ে যাছে সব কিছু।

চন্দন পাল

রসদ

কথাছিল  মিথ্যে বলবনা,,,
এখন দেখি বললে পর, আমার প্রিয়জন একটা দিন খুশি থাকে।
এভাবেই তোমার আমার মিষ্টি মিথ্যায়
বন্ধুর জীবনে অনেকগুলি দিন আনন্দে বর্তে যায়।
পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে উঠতে চেয়ে, বাঁচার রসদ যোগায়।

যে মিথ্যায় সমাজ সংস্কৃতি আর প্রজন্মে কুভাব নেই, 
সে মিথ্যায় ক্ষতি কি! দূর থেকে কি আর দিতে পারি ।

,,,,,, বন্ধুরও খুব দীপ্তি, সে বাছাই করে গ্রহন করে। 

আব্দুল গফফার

যৌথ পরিবার হারিয়ে গেল

হঠাৎ একদিন সাধ জাগলো -
আকাশটা ধরতে যাব,
বাধ সাধল বিশাল পাহাড়।

পাহাড়ে চড়ার খুব শখ ছিল -
বাধা পেলাম নদীর জন্য,
মানবজমিন তো ঢালাইয়ে মোড়া।

গগনচুম্বী বহুতলের আগ্রাসনে -
চাপা পড়ছে প্রকৃতি ক্রমশ,
পুকুর ডোবা, গাছগাছালি উধাও।

সমান্তরাল যৌথ পরিবারগুলি -
বহুতলের রুদ্ধদ্বারে আজ বন্দী,
ভগ্নাবশেষ দাম্পত্য জীবন।

কাল হল মুঠোফোনের ইশারা -
সকল পণ্য হাজির দোরগোড়ায়,
..... কার্ট .....জন .....ডিল কত কি।

ক্রয় বিক্রয় বেলাইনে  -
বাজার ভ্রমণ বিলুপ্তপ্রায়,
লাইনচ্যুত দাম্পত্য জীবন।

পিতা মাতা কেমন আছে -
বিলীন খোঁজ খবরের পালা,
বহুতল আর বৃদ্ধাশ্রম বহুদূর।

ফিরে কি আসবে সেদিন -
ভয়ঙ্কর সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়,
যেদিন মিলেমিশে যাবে ব্যবধান।

সুতপা রায়

রান্নাঘর

রান্নাঘরে বাসনকোসন 
খাদ্যবস্তু বহন সুরক্ষা  সংরক্ষণে 
সাগ্রহে সদা অপেক্ষমান
কার কখন আসে আহ্বান
পরিপাকের জন্য আছে বিক্ষিপ্ত উপকরণ 
প্রাত্যহিক আয়োজন সবই বৃথা
যদি না জ্বলে আগুন

উনুন উত্তপ্ত হয় 
ধ্বনি প্রতিধ্বনি ওঠে শব্দের 
কখনো রক্তিম ফাগুন
কখনো বর্ষণসিক্ত পদ্য
টক ঝাল ঘরোয়া রান্না
মাঝেমধ্যে অরন্ধন হয় না এমন নয়

উত্তাপ চাই, চাই উষ্ণতা
একটু উস্কে দেওয়া
ধ্বনিরা ভাষা পায়
যে ভাষা নিঃশর্ত
যে ভাষায় আমার আমি স্বচ্ছন্দ
হৃদয় উৎসারিত 
কলকল স্রোত বয়ে যায়
তার ছিন্ন কাঁথায়ও আমার অনন্ত সুখ
কোনোরাতে রান্নাঘরেই শয্যা পাতি

সুমনা রায়

একুশে ফেব্রুয়ারি

জরুরি একটা সভায় বসেছি 
গুরুগম্ভীর আলোচনা, তারপর 
অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে
একটার পর একটা
সবশেষ সিদ্ধান্ত হলো 
বাংলা বর্ণমালা নিষিদ্ধকরণ  
কথায় গানে লেখায়  
ভালোবাসায় বিষণ্নতায় 
কোলাহলে একাকিত্বে 
আর উচ্চারণ করা যাবে না 
হৃদয়ের স্বরবর্ণ আর ব্যঞ্জন 
আমি উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ
করতে গিয়ে দেখি 
পা দুটো খুঁজে পাচ্ছি না 
চিৎকার করতে গিয়ে দেখি 
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ 
টেবিল চাপড়াতে গিয়ে দেখি 
আমার কোনো হাত নেই !
শ্বাসপ্রশ্বাস আটকে গেলে
ভেঙে যায় ঘুম ভোরের আলোয় 
ফুটে ওঠে নির্ভীক সকাল–
বেজে যায় বিজয়ের গান  
রফিক শফিক বরকত জব্বার ۔۔۔
তারিখটা আজ একুশে ফেব্রুয়ারি!

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

বর্ণমালা - স্কুল বালকের 

রাস্তা দিয়ে  কতকাল হেঁটে যাচ্ছে
মানুষের কথা , ক্লান্ত বর্ণমালা –
ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে 
আমি এক স্কুল বালক 
শব্দমালার সাথে হ্যান্ডশেক করবো ,
রাস্তায় সেই তো কবে থেকে দাঁড়িয়ে 
পিঠে স্কুলের ভারী ব্যাগ ।
সময় বেশী নেই
অন্ধ স্কুলে বেজে চলেছে সতর্ক ঘন্টা !
  

ভাবনার মতো  থমথমে আকাশটা নীল ;
বর্ণমালাদের সারাদিন ঘোরাফেরা
আকাশের নীলে, ময়দানে, বাজারে, রেল স্টেশনে ।
পৃথিবী থেকে তুলে নেয়া কিছু গদ্যপদ্য
ভাষার সাথে মিশিয়ে
সকলের সাথে ভাগ করে নেবো ,
বর্ণমালাদের সাবেকি পোষাক ছিঁড়েখুঁড়ে 
ভেবেছি আমাদের কাহিনী বানাবো ।

তীব্র সব বর্ণমালা ছুটেছে আকাশে
যেন কেশর ফোলানো সাদা সাদা ঘোড়া,
ওদের মিলেছে ডানা, অশ্বক্ষুরে অর্বুদ স্ফুলিঙ্গ !
এইসব উড়ন্ত আগুনকে সবার অজান্তে
স্কুল ব্যাগে ভরে রাখি আমি ।

একুশে ফেব্রুয়ারী ঘটে গেছে কবে ,
নীল আকাশের নীচে তবু তীব্র আগ্রাসন !
স্কুলে স্কুলে আমাদের প্রিয় ভাষা 
নীল-ডাউন হয়ে আছে ।
ভাষা তুমি কি জানো না -
আমরা আজও ততো ভাল নেই ?

আমাদের বর্ণমালা হেঁটে যাক 
তীব্রতর সুন্দরের দিকে ।
শব্দদের শ্লোগানে
রেখে যাবো আজানু কুর্নিশ ,
ভাষাদের মার্চপাস্টে ভালোবাসা ,
রেখে যাবো ক্লান্ত এক বালকের বিনম্র স্যালুট !

ড. সন্দীপক মল্লিক

প্রেরণাদ্যুতি আজ

প্রেরণাদ্যুতি আজ ভাষার আভরণে ! 
চৈতন্যের সবুজে জাগে প্রেমতৃষ্ণার জ্যোতি ।
দ্বৈত-তৃষ্ণার মুগ্ধতা খোঁজে অপাপবিদ্ধ স্বাদ। 
নয়নের পটে বাঁচে ক্রন্দনের পূর্ণতা ;
অপরূপ সসীমে খোঁজে ধানফুল-আদর !
সুন্দরের চন্দন ঐ সসীমেই অসীম ! 
অদ্বৈত তৃষ্ণাও  ঐ  বিন্যস্ত আজ । 
সুরভিত দেখো আজ বস্তুহীন পুষ্পের দ্বিধা।
অশন-বসন-মনন-পরাগ 
আজ নিঃসঙ্গতাকে ভুলে যাবেই  !
নূপুরও  তন্বী আজ ! 
ব্যথাহারী আধুনিক খোঁজে  সোহাগী সজ্জা।
অমলিন সুধায়  বিভূষিত অদ্বৈত প্রেম !
ফাগুন আর কাঁকনে  বাঁচে মানবিক মধুময় !

মৌসুমী দেবনাথ

একুশের যাপন

যারা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্যে 
তীব্র বুলেটগুলোকে বিদ্রুপ করে মৃত্যুকে আপন করে নিলো, 
এবং যারা এই খন্ডযুদ্ধের বাইরেও যুদ্ধ করে গেলো শুধু মাতৃভাষার জন্যে...
আহা! তোমরা কি জানো
ভাষাও কি করে পণ্য হয়?
পণ্য হয় আকাশ রাঙানো পলাশের কুঁড়ি, 
পণ্য হয় ধনেখালি শাড়ির মেয়েটি,
ভিটেমাটির ঘ্রাণ, 
কাঁঠচাঁপার গাছ, 
পদ্মদীঘির ধীরে বহো ঢেউটি...
পণ্য হই আমি। 
আমার মাছরাঙার রঙ মাখা কবিতা, 
হায়! বসন্ত প্রান্তরও!
পণ্য হয় সেই কষ্টে দুমড়ে যাওয়া
শিশুটির যৌন নিগ্রহ,
ডি.জে-র সাউন্ডবক্সে হু লা লা লা স্বরলিপির তলায় চাপা পড়া
ধর্ষিতা মেয়ের বেগুনি মুখ।

যারা মেঘ ছোঁবে বলে ভালোবেসেছিল...
কিংবা সূর্যকে পুড়িয়ে লিখেছে
বৃষ্টির পদাবলি,
বানিয়েছে মস্ক, মন্দির ও চার্চের কঠিন পাথুরে নক্সা,
অথবা এবং অথবা,
ও অথবা ... 
অজস্র সামুদ্রিক ঢেউ, মাছেদের নিজস্ব সাঁতার, অন্তরীক্ষ,  লুইসপাসের দর্শন, 
মেডুসার তীব্র কান্না... 
আমরা এই সমস্ত কিছুকেই করেছি পণ্য।

আচ্ছা... 
ঠিক এইরকম স্বদেশই কী চেয়েছিলাম আমরা অথবা ওরা,
ওরা মানে সেই বিপ্লবী মানুষের দল,
ব্যথায় ব্যথায় গাঢ় নীল হয়ে যাওয়া  নীলচাষীদের ঝুঁকে যাওয়া শরীর??
এই দেশেই বিক্রি হয়ে যায়
গানওয়ালা লালনও ...

হায়! 
আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। 
ইচ্ছে হয় একটা দীর্ঘ ধূসর কালো মেঘে
ঢেকে দিই শহীদ মিনার...
শুধু একটা দিনের যাপনই কি
মিটিয়ে দেয় অসংখ্য অনাকাঙ্খিত অংক?? 
তোমরা কত সহজেই গেয়ে ফেলো আমাকে,
অথচ ভেঙে দিচ্ছ আমার অনুচ্চারিত গীতবিতান ...
আমার গলার কাছে জমছে বিপ্লবের শেকড়, 
আজ আবার আমারও শহীদ হওয়ার ইচ্ছা জাগে নতুন করে...

বিজয়া দেব

শেয়ালের গল্প 

গল্প বলি এক -
আদিম আঁধার আর শেয়ালের কথা।
জাগ্রত ঝিমধরা রাতে ছিল
শেয়ালের কান্না।
ছিল
কুপিলম্ফের আলো
ছিল
আঁধার-ভেদী অসীম সৃজন....
সেই কাল গেছে চলে
বহু. বহদূরে...
শেয়ালেরা আজও বুঝি
 কাঁদে?

অরণ্যচারী রহস্যময়ী পৃথিবীর
ছায়া কাঁদে সাথে? 

প্রোজ্জ্বল এই পৃথিবীর বুকে
শেয়ালেরা
খুঁজে তার ঠাঁই।
ঠাঁই আছে,ঠাঁই দেয়
মানুষেরা...
বহুতল হর্ম্যে...
কান্নার আদিম রব শুধু নাই।

সো ওম

রামা হৈ

এখন মাঝ রাত, ঘন্টিটা বাজে ওই-
সান্ত্রিরা হেঁটে যায়, শোনো ওই রামা হৈ-
এখন মাঝ রাত………
সময় যায় না মাপা, আকাশের সীমানায়-
নির্ঘুম আমি ভাসি জীবনের অজানায়-
দিনক্ষণ গতিহীন গরাদের এপারে
এত বড় পৃথিবীটা বন্দী এঘরে,
স্মৃতিকথা বুমেরাং…..
ফিরে এসে ব্যথা বাড়ে…
এখন মাঝ রাত, ঘন্টিটা বাজে ওই-
সান্ত্রিরা হেঁটে যায়, শোনো ওই রামা হৈ-

এক ফালি চাঁদ হাসে গরাদের ওইপাশে,
সারি সারি শবাধার জেগে আমি কারাবাসে,
চোখ বুজে হেঁটে যাই, উড়িয়ে মনের ছাই-
খুঁজে খুঁজে পথ হারাই কি দোষে নাগপাশে,
ভিজে ওঠে দুটো চোখ, ভেসে আসে কত মুখ,
রাতপাখি ডেকে বলে, এ সাজা কারো আশে,
এখন মাঝ রাত, ঘন্টিটা বাজে ওই-
সান্ত্রিরা হেঁটে যায়, শোনো ওই রামা হৈ-
এখন মাঝ রাত………
পুব আকাশে আলো ফোটে সান্ত্রীরা দূরে গেটে
গরাদের বুক চীরে সূর্যটা দ্রুত চলে ,
আমি ঠায় বসে থাকি অতীতের ছবি আঁকি
রঙ টা যে মুছে যায় ক্লান্ত চোখের জলে,
ঢেউহীন দিন শেষে,ঘন্টিটা বাজে ওই-
সান্ত্রিরা হেঁটে যায়, শোনো ওই রামা হৈ।।

সপ্তশ্রী কর্মকার

বর্ণমালা

ভাষাদানিতে ছড়িয়ে আছে সহস্র অক্ষর ও বর্ণ,
গুছিয়ে নিলে হবে একটা অক্ষরমালা ও বর্ণমালায় পূর্ণ।
ভাষা শহীদদের রক্তে স্বতন্ত্র প্রকাশ আজ একুশে,
আজকের পুণ্যমুলে আজও আমার আত্মা নিঃশ্চুপে কাঁদে।
একুশের চেতনা বয় বর্ণমালার দুর্ধর্ষ স্রোত বন্যা ,
শহীদের আবক্ষ রক্তে আমার মাতৃভাষা ধন্যা।

কলহন

সাদা চিঠি

তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে
ভালোবাসা হারাতে চাই না। 
নীল আকাশে ডানা মেলা
পাখির মতো স্বাধীনতা চাই। 
এক মুঠো আবিরে রাঙিয়ে 
দিতে চাই দিগন্ত রেখা।
লিখতে চাই নীল আকাশ
জুড়ে শুধু প্রেমের কবিতা। 
ডুব সাঁতারে বুঝে নিতে
চাই ঐ সগরের গভীরতা।
যত কিছু দুঃখ ব্যাথা 
সবই তো একান্তই আমার। 
আমি ভালোবাসা হারাতে চাই না।।

ড. বাসুদেব রায়

একুশে ফেব্রুয়ারি বনাম আটই ফাল্গুন

পালাই পালাই হালকা শীতের মাঝে,
আসন্ন ঝরাপাতার করুণ ধ্বনি  বাজে।
সেই ধ্বনিতে স্মৃতির সরণি বেয়ে বেয়ে,
রফিক সালাম জব্বররা আসে ধেয়ে ধেয়ে।
একুশে ফেব্রুয়ারি উনিশ'শ বায়ান্ন খ্রিস্টাব্দ,
কিংবা আটই ফাল্গুন তেরোশ আটান্ন বঙ্গাব্দ। 
একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনের সারিতে রেখে, 
আটই ফাল্গুনকে দিলেম সযত্নে ঢেকে।
শহীদদের কাতর স্বর কি শুনতে পাও,
ফেব্রুয়ারি নয় ফাল্গুনকে বরে নাও।
ভাষা শহীদদের তাজা রক্তের আগুনে,
পলাশ কৃষ্ণচূড়া দোল খায় ফাগুনে।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে হয়েছি বিশ্বজনীন, 
কিন্তু আটই ফাল্গুনের মাঝেই বাঙালি রঙিন।

ঝিমলি আচার্য

তফাত 

বাংলা আর ইংরেজি 
দিচ্ছি কি মোরা সমান মর্যাদা?
আমরা না বাঙালি!
কোথায় ইংরেজি,কোথায় বাংলা ,
কোথায় সমগ্র মাতৃভাষা !
ভারত তাড়িত ব্রিটিশের ভাষা 
মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠা ।
জন্ম, শিক্ষা, কর্ম, জাতি
সমগ্র প্রমাণে তারই খ্যাতি!
ব্রিটিশের ভাষা জ্ঞানে যে অজ্ঞ 
নির্যাতিত সে সর্বত্র ,কিন্তু কেন?
আমরা না বাঙালি!
মাতৃভাষা সমগ্র জাতির গর্ব 
অলংকার অহংকার ভালবাসা ।
ভাষাগুচ্ছের সম মর্যাদা 
প্রতিপন্নে স্বচেষ্ট হব না?
আমরা বাংলা ভাষী শিখাচ্ছি ইংরেজি 
ইংরেজি শিক্ষা বাধ্য হয়েই শেখা কিন্তু কেন ?
আমরা না বাঙালি!
ইংরেজির প্রাধান্য ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ, 
স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ভাষা অধিকারে বঞ্চিত ।
মাতৃভাষা সর্বত্র করব সুসজ্জিত ।
কাগজের এ পিঠ মাতৃভাষা  ও পিঠ ইংরেজি 
প্রতিষ্ঠায় আমরা হব কি আগ্রহী?
আমরা না বাঙালি!

গৌতম মুখার্জী

অমর একুশ  

একুশ তুমি কেমন আছো।
একুশ তুমি ভালো।
একুশ তুমি দিয়েছো মোদের 
মাতৃভাষার ৹আলো।
তোমায় নিয়ে গর্ব করি ,
নিবেদিত যার প্রান।
অমর একুশ প্রানের টানে।
বাড়িয়েছো সন্মান। 
একুশ তোমায় সেলাম করি।
বাংলায় কথা শুনি।
মাতৃভাষার গর্বে আছি।
বাংলার যত গুনী।
বিশ্বের কাছে সপ্তম তুমি।
বাংলা আমার  ভাষা।
ভুমিষ্ঠ হতে শিখে এসেছি।
বাংলার ভালবাসা।
অমর একুশ অমর রবে।
একুশ আমার দিশা।
মাতৃভাষায় শিক্ষা পেয়েছি।
বাংলা আমার ভাষা। 
বাংলায় আমি বসবাস করি।
বাংলা আমার ধাম।
ভাষা শহীদের চরনে আমার -
শতকোটী প্রনাম।

মন্দিরা বিশ্বাস

সমাজ

সমাজ বলে মেয়ে নয় বোঝা হয়েছে,
সমাজ বলে ছেলে নয় হীরে এসেছে।
সমাজ বলে মেয়ে ই তো ডিগ্ৰী পেয়ে কী হবে?
সমাজ বলে ছেলেটা একদিন ঠিক চাকরি পাবে।
সমাজ বলে মেয়ে তুমি ঘরে বসে থাকো,
সমাজ বলে ছেলে তুমি দায়িত্ব নিতে শেখো।
সমাজ বলে মেয়ে তুমি এতো জোড়ে হাসছো কেন?
সমাজ বলে ছেলে তুমি মেয়ের মতো কাঁদছ কেন?
সমাজ বলে মেয়ের বয়স হয়েছে বিয়ে দাও,
সমাজ বলে ইনকাম নেই , ছেলেকে বিদেশ পাঠাও।
সমাজ বলে মেয়ের গায়ের রং ফর্সা তো?
সমাজ বলে ছেলে সরকারি চাকরি করে তো?
সমাজ বলে মেয়ে তুমি নিজের ইচ্ছের বলি দাও,
সমাজ বলে ছেলে তুমি পরিবারের দায়িত্ব নাও।।

Feb 20, 2022

সুব্রত ভৌমিক

স্কুল

বাস্পায়নের চাপে পড়ে
ঘনীভবন, স্তব্ধ দ্বার।
ঘন্টা এখন বধির রূপে
স্কুলটা কেন বন্ধ আজ!

ভাঙড় চোখে ঘুমে দেখে
মোবাইল বলে নোটটা লিখ,
সম্বোধনে প্রলাপ প্রলেপ
বলতে কথা লজ্জা ভাব।

লাইনে বলা যুগের বাণী
শূন্য হাতে ক্লাসে যায়,
ধূলে সাজা টেবিল গুলো,
অঙ্কুরনের সত্যনাশ।

পুঁটলি বাঁধা পুতুল খেলা
ঘুরার কোন রাস্তা নাই,
স্কুলটা পুরো পুঁটলি হয়ে
নেট দুনিয়ায় করছে কাজ।

মেঘের ভারে লুটছে সমাজ,
বৃষ্টি ভেজা কল্প কাল।
লাগবে কখন তকমা জানি,
অনলাইনে করা পাস।

কাকের বাসায় কোকিল ছানা,
কথার কথা নয়তো সে,
অফ্ লাইনের-অন লাইনের
খেলা হবে সব শেষে।

নিজের দেশে রাজার পূজা,
শিক্ষিতদের সব দেশে।
আজকে যারা পড়ছে ঘরে,
কোন দলেতে থাকবে সে ?

অনন্যা ভট্টাচার্য

বসন্ত

কোকিলের কুউ উ কুউ উ
উদাসী বাতাস, মন কেমনের
সুর -   বসন্ত। 
বিকেল শেষে তোমায় দেখা
তোমার সঙ্গে একাত্ম হ ওয়া
সে ও - বসন্ত। 
রাধা কৃষ্ণের দোল
গাছে গাছে পলাশ শিমুল
এ ও -বসন্ত। 
গ্রামবাংলার শীতলাষ্ট মী
রাতে ঝিঁঝিঁ র ডাক
আমাদের বসন্ত। 
গাছে পেঁচার নিমম্
সকালে ঝরাপাতার মেলা
ঋতুরাজ বসন্ত। 

প্রীতম চক্রবর্তী

মাটির টানে

বহু বিদেশ - বিভোর ঘুরে আমি , 
বারবার ফিরে আসি সোনার বাংলায় । 
বাংলার মেঠো পথ , নদী - নালা , ফুলবন , 
হাতছানি দিয়ে ডাকে আমায় । 
ইংরেজী , হিন্দি কত ভাষা বুলি করি , 
তবু বাংলাই প্রিয় ভাষা আমার । 
বাংলা কবিতা - গানে আবেগ জাগে , 
আনন্দে নেচে উঠি বারবার । 
কত রকমারি পোশাক দেখেও আমি ,
শাড়ি - পাঞ্জাবী চির প্রিয় আমার । 
বহু সুস্বাদু খাবার খেয়েও আমি , 
বাংলার মাছ - ভাত খুঁজি আবার । 
শত সুরের ঝংকার শুনি আমি ,
তবু একতারার সুর ভোলা না যায় ।
বহু গানের সুরে মতোয়ারা বিশ্ব ,
তবু বাউলের গান মোর মন ভোলায় ।
বারবার ঘুরে - ফিরে, জন্ম - জন্মান্তরে , 
আমি জন্মাতে চাই সোনার বাংলায় ।

মনচলি চক্রবর্তী

 বাংলা ভাষা

বাংলা মা, চিরকাল থাকবে আমার  হৃদয় জুড়ে। 
আমার বাংলা ভাষা শ্রেষ্ঠ, 
এই ভূবন মাঝারে। 
অনেক দেশ,অনেক রকম ভাষা
শুনি সবার মুখে মুখে,
আমার বাংলা ভাষার মধুরতায় 
কোকিলও ডাকে সুখে। 
বাংলা আমার মাতৃভাষা,
বুকের মাঝে জাগায় আশা।
বাংলায় আমি  করি গান
বাংলা আমার বীণার তান।
ফেব্রুয়ারী মাস এলে,বাংলার 
নয়নে অশ্রু ঝরে,
বাংলা ভাষার জন্য 
গেছে শত প্রাণ লড়ে ।
বাংলা ভাষা আমাদের মান। 
বাংলার ভাষার জন্য 
বলিদান হলো কত মায়ের সন্তান।

পান্থ দাস

বাংলা ভাষা

কতইনা রয়েছে
অজানা ভাষা
এই পৃথিবীতে,
কতইনা রয়েছে
না জানা শিল্প
এই পৃথিবীতে,
তবে বাংলার মত
এই অলংকার
আর নেই যে
দ্বিতীয়
এই গ্রহেতে ৷
শুধু ছোট্ট যে একটি
শব্দ খোঁজা,
তবে, প্রয়োজন যে ভাবতে
সবার সু-গভীর
মানসিকতা ৷

হামিদুল ইসলাম

প্রেম 

বেনামী বন্দরে ফেলে আসি রাত 
হৃদয়ে বাসি গোলাপ 
স্বরবর্ণের দেশে কথারা রেখে যায় শ্বাস 
তুমি আমি নস্টালজিক প্রেম 
হৃদয়ের ওমে লিখে রাখি চেনা চেনা সংলাপ।

কোথায় হারিয়ে গেলো 
সেই সব সোনালী দিন 
দুজনে বসি 
ছায়া হয়ে ওঠে আমাদের জীবন। হতাশায় ভাঙে মন।

অগোছালো জীবন 
পায়ে পায়ে ফেলে রাখি অক্ষম শ্বাস 
সহচরী রোদ 
ক্লান্ত দুপুর 
ঘুঘু ডাকা অলস সময়। ছায়াডোবা জলে উথলানো জীবন।

ভুলে যাই আরশিনগর 
গভীর সমুদ্র 
পেরিয়ে যাই তিন ভূবন। ইচ্চেরা প্রতিদিন শান্ত নদীজল।

নদীজলে গা খুলে বসি। জলে তোমার ছবি 
প্রতিটি শ্বাসের গভীরে বেঁচে থাকে আমাদের প্রেম।

হর্ষময় মণ্ডল

সেলাম মাতৃভাষা

ফেলে এলাম অনেক কিছু
সারা করলাম বাক্ দেবীর পূজা,
সামনে আনতে একুশে ফেব্রুয়ারী
বাংলা ভাষা মোটেও নয় সোজা।

বলেছিলেন মধু কবি কোন খানে
স্বপ্ন দেখবো তাও ইংরেজী বানানে,
ফিরতে হলো মাতৃ ভাষায়
কাব্য লিখে, বিখ্যাত হলেন সসম্মানে।

এখনও সবার হলো না শিক্ষা 
বাংলা স্কুল হয়ে যাচ্ছে ফাঁকা, 
সত্যেন বসু মেঘনাথ সাহার বাণী 
মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ পড়ে যাচ্ছে ঢাকা।

স্বরবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত অক্ষরবৃত্ত যত
যত ছন্দ অলংকার আছে সাহিত্যে, 
কি করে ফিরবে তারা
ইংরেজি দুয়ারে দিয়েছে যে হত্যে।

মাতৃভাষা বজায় রাখতে 
দিয়েছিল বিসর্জন অমূল্য প্রাণ, 
আসুন সবাই করি অঙ্গীকার 
আমৃত্যু বাংলা ভাষার করবো সম্মান।।

নমিতা সরকার

তৃষ্ণার্ত সাহারায়

ঘুমহীন চোখে তুমি নগ্ন আকাশের বুকে হাত দাও প্রেমিক হয়ে ওঠো নক্ষত্রের  আলোয়, 
চাঁদের আলোর গভীরে দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ডুবে যাও সমুদ্রজলে তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমো দেয় ঝিনুকের বুকে লুকানো হাজারো মুক্তার হৃদয়।
আকাঙ্খার তৃষ্ণায় শুধুই জেগে থাকে একটি চাতকী তৃষ্ণার্ত সাহারার বুকে তোমার চোখে চোখ রেখে খুঁজে মায়া ঠোঁটের হাসি।
ঘুমহীন চোখে তুমি কবি হও কবিতার বুকে, কবিতার বুকের ওড়না জুড়ে স্বপ্নীল শব্দের ছন্দে  কারুকাজের অলঙ্কারে সাজাও প্রেমের অাকাশ তোমার আঙ্গুলের স্পর্শে।
আমি অবাক হয়ে দেখি চাতকীর হৃদয় তৃষ্ণার্ত সাহারায়!!! 
আরোও দেখি তোমার ঘুমহীন চোখের গহীনে নগ্ন আকাশ।

মোঃরুবেল

বর্ণমালা

প্রতিটি নীরব রাতে,
বর্ণমালার সাথে  কথোপকথনে--
ভেসে আসে এক বুকভরা বেদনা।
একটি নিস্তব্ধ আকাশের করুণ বর্নণা।
বারুদের বিষাক্ত বায়ু।
কার্তুজ বনাম দীপ্ত কন্ঠের সংঘর্ষ।
তাজা প্রাণের নিথর দেহের একটি শহীদ মিনার ।
উষ্ণ রক্তমাখা রাজপথ।
রফিক,সালাম,জব্বার বরকত'র দীপ্ত কন্ঠে উদ্ভাসিত মাতৃভাষা 'বাংলা চাই।'
তবুও,
বর্ণমালার রাজমুকুটের ভেতরে  পাহাড় প্রমাণ বেদনা পুষেও যখন বর্ণমালা এখনো প্রেমের গান লিখে, কখনও বা প্রতিবাদে সুর মেলায় পাতায় পাতায়।

তখনই আন্দোলিত হৃদয়ের কাছে নতজানু হয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলি...

এই ভাষা আমার মায়ের।
এই ভাষা রক্তে রাঙানো।
এই ভাষা আমার।

আব্দুল হান্নান

তোমার কাছে

তোমার কাছে রেখেছিলাম মন
যতন করে  রাখবে তুমি জানি
বিশ্বাসে বুক অঢেল ছিল ডোবা 
অনেক না হোক অল্প একটুখানি।

দিনে দিনে ঝাপসা হয়েছো বেশ
আড়াল থেকে সেসব কথা ভাসে
শুকনো হাসিই ভরিয়ে ছিলে মন
চুইঁয়ে চুঁইয়ে গোপন পথে আসে।

এখন শুধুই ঠেকা কথা বলে
অতীতটা যে গেছে কবে ভুলে 
হাসির ফাঁকে উঠছে খুশীর ঢেউ 
বাসা যেন বেঁধেছে নতুন কুলে।।

সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী

 অভিমানী শেকল

কুয়াশাপুরে যে আবছা ঘর তোমার রেটিনায় ভাসছে
তোমার-ই অভিনয়ের ঋণ দিয়ে আমার তৈরী করা
বাড়িটির নামকরণে তুমি বাঁধা দেবে জেনেও রেখেছি -"প্রত‍্যাশা কুঠির"
নিথর গোলাপের দেহে সযতনে আমি রোজ তোমার স্মৃতির নিকোটিন সাজাই ;
তোমার প্রতিশ্রুতিরা হেমন্তের হলুদ পাতা 
তোমার ছুঁড়ে দেওয়া একাকীত্ব দিয়ে পৌষ এঁকেছি গোধূলির চোখে
খোলা চুলে ব‍্যালকনিতে দাঁড়ালেই পড়ন্ত বিকেল এসে বিষন্নতা কাটাতে আলিঙ্গন করে
তাকে তোমার দোহাই-এ বারণ করেছি
আর!
অভিমানের পায়ে শেকল বেঁধে  দিয়েছি কফির ধোঁয়ায় সাথে
এখন কষ্টদের মিছিল হয়না,
তবে ঠিক!কখনো নিরুত্তর ফিরিয়ে দাওনি
তাই আমি প্রেমান্ধ ভিখারি হয়ে 
শত শত আলোকবর্ষ দূরে
হেঁটে যেতে পারছি। 
স্মৃতিদের মেলা বসাবো শূন‍্যতার বুকে।।

অলকা গোস্বামী

একুশে ফেব্রুয়ারি

রোদ ঝলমল নীল আকাশ,
কোথাও ইতি উতি সবুজের আলপনা,
পাশাপাশি ঘর, একই উঠান - বাড়ী,
মশগুল থাকি, হাসি খুশি আমরা।

মায়ের আঁচল সবুজ মাঠের বুকে,
ছড়িয়ে দেয় বাসন্তী কথার নকশি,
বুকের ভাষা ছিনিয়ে নিতে যায়, 
ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্নের রাজনীতি।

 খাতা কলমে পাঁচিল উঠে উঠনে,
আকাশ জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া,
সবুজের আলপনা করে ছিন্ন ভিন্ন,
অচেনা আকাশে মেঘের ঘনঘটা;

প্রান বিনিময়ে একুশ ফেব্রুয়ারি,
মাতৃভাষা, বাংলা আমার প্রান,
রক্ত পলাশ এখনও উঠানে ছড়ানো,
ভুলিনি আমরা ভাষাশহীদের 
মহান বলিদান  ।

অংকিতা বর্মণ ঘোষ

বসন্ত 

বসন্তের মৃদুমন্দ হাওয়া     
সু-শান্তের পবিত্রতায় বাঁধা।       
কোকিলের কু-হু-কু-হু             
হৃদে জন্মায় আনন্দ বহু।              
মাঠে ঘাটে দেবী অন্নপূর্ণা অনন্যা                                    বসন্তে এলো সুখের বন্যা।           
বধূ আজ বাঁধে সুখের সুর.           
ফুলে- ফলে প্রকৃতি মধুর।           
ও আমার বসন্ত সুখের সুর।                     
মেঘাচ্ছন্ন গগন অঁধারের মূল সুর.                                  মেখ শূণ্য প্রকৃতি আলোতে পূর্ণ।                                    হৃদের মেঘ চোখের জলে যখন হয় শেষ.                    আর তখন সম্পর্ক হয় বড্ড বেশ।                                  এই মোদের বসন্তের মেসেজ।   

মিঠুন রায়

আমার একুশ

একুশ আমার প্রাণের সুর 
একুশ আমার গান
একুশ আমার গঙ্গা-পদ্মা
নীল সলিলের ঢেউ
একুশ আমার বন মর্মর
রক্ত পলাশ রাঙা
একুশ আমার প্রাণের আবেগ 
ভাষার কলতান।
একুশ আবার ঝড় তুলুক 
মাতৃভাষা দিয়ে
আমার স্মৃতি হাতছানি দেয়
শহীদ মিনারে।

Feb 19, 2022

দীপু দেবনাথ

পথ যাত্রী

বিষয় ছেড়ে আমি আজ হয়েছি পথ যাত্রী।
সত্যের আলোতে পথগামি এই মুণি,
গোলাকার দুনিয়াই পথগামির নেই বিরতি!
সময়ের চাকাও যে গোলাকৃতি।
আশা বাঁধি এই মনে দেখা হবে কোন সনে,
সত্য তুমি কোথায়,কোথায় তোমার আলো ছায়া
মায়ের চোখে জল দিয়ে বেরিয়েছি তোমার খোঁজে।
সত্য তুমি আছ কি ভবে?
বিষয় ছেড়ে আমি আজ হয়েছি তোমার যাত্রী।
দিশার দিশারি তুমি আমার অনুগামী,
যত্র তত্র ঘুরেবেরাই খোঁজি তোমায়।
ইচ্ছা শক্তির জোরে আমি দিয়েছি পারি,
লোকমুখে পাগল এই মুনি!
দিয়েছিলাম সত্যের বানি, 
তাই আজ সংসার ছেড়ে রয়েছি বনে পরে।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

তুচ্ছ 

তুচ্ছ ক্ষুদ্র সুক্ষ্য অনু পরমাণু শব্দ গুলো খুব ছোটো,
কিন্তু এর বিস্তৃতি অনেক ৷
ক্ষুদ্র কাঁটা ব্যাথা দিতে ছাড়েনা, 
 তুচ্ছ কথা প্রাণ নিতে ছাড়েনা৷
সুক্ষ্য সুতো মেশিন কে স্তব্ধ করে ৷ 
অনু পরমাণু গ্রহ নক্ষত্র কে আলাদা রূপে নামে বিচার করে ৷
এই শব্দগুলোই বিশাল আকার ধারণ করে পরিস্থিতি পরিবেশে ৷
এই শব্দ দুটো বাদ দিলে অনেক কিছু বদলে যায় পরিশেষে ৷
এগুলোই তাড়িয়ে বেড়ায় ঘরে বাইরে,
ছেড়ে দিলেও রেহায় নেই বাম পক্ষ কি ডান পক্ষের ৷
যেমন করে ই হোক জড়িয়ে যাবে  আলোক লতার মতো আস্টেপিস্টে ৷
খুলতে খুলতে পৌঁছে যাবে অবশেষে সেই নক্ষত্রলোকে ৷

পঞ্চদীপ দেবনাথ

বাংলা ভাষা

বাংলা ভাষায় আছে জাদু
বাংলায় বলি মা, 
বাংলা ভাষায় বর্ন জুড়ে
ভারত গড়ে যা। 
গর্ব মোদের এই ভাষাতে
বাংলার বোল বলছি মুখে, 
ওগো আমার বাংলার প্রেমি
বাংলার আলো দাও না খুলে।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

হাকম (গল্প) 

দেখলাম নেমপ্লেটে ডঃ ভট্টাচার্য লেখা, বাঙালি ভেবেই ঝরঝরে বলে দিলাম,"রাতের বেলা হোঁচট খেয়ে পায়ের গোড়ালিতে খুব ব্যাথা।"

প্রশ্ন করলেন,"কত?"

অবাক হয়ে বললাম,"গোড়ালিতে"

অবুঝের মতো আবার প্রশ্ন করলেন,"বুঝি পোয়া নাই,  কি হল?"

বুঝলাম ভুল বুঝেছি, তিনি অসমিয়া।বরাকের বাঙালি অসমিয়া অল্প বুঝি কিন্তু বলতে পারি না, অগত্যা পায়ের গোড়ালি দেখিয়ে আধাভাঙ্গা অসমিয়াতে বললাম,"এই যে ইয়াত চোট পাইছি"

-ওওও এড়ি'ত চোট পালে।

হাত দিয়ে টিপে ধরে "পেইন বেশি করে নেকি?"

দাঁতে দাঁত টিপে বললাম,"হ্যাঁ"

-মই বিকর* কারণে কিছু ঔকধ* লিখি দিলু,কালি এক্স-রে রিপোর্ট লৈ আহিবা।

-কি কলে বিষ? অল্পের জন্য আঁতকে উঠলাম।পরে মনে হলো অসমিয়াতে ব্যাথাকে বিষ বলে।

-অয় খুরা আপোনার বিক বেদনার কারণে আজির দরে এই ঔকধকিনি লিখি দিলাম, মুরব্বী মানুহ কেনেকা যে চোট পালে,হুশিয়ারে চলিবা।

কি মিষ্টি ব্যাবহার আমাকে খুরা বললো। প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে উচকিয়ে উচকিয়ে বেড়িয়ে আসছিলাম, আমাকে এসে অসুখী কোলের ছেলেকে নিয়ে উদভ্রান্তের মতো একটি মা  জিজ্ঞাসা করলো,"ডাক্তার বাবুর চেম্বার কোনবায় দি?"

-বললাম,"সোজা গিয়া হাতের ডানদিকে রুম থ্রী।"

-ডাইনবায় কিতা কৈলা বুঝলাম না ?

-তিননম্বর রুমো ডাক্তারের চেম্বার।

সেই শিশুর মা সিলেটি উপভাষায় ডাক্তারকে  কিছু বুঝাতে চাইছেন কিন্তু অসমিয়া কম বয়সী ডাক্তারকে বুঝাতে পারছেন না।ছাতি ভুলে গিয়েছিলাম,আনতে গিয়ে এই অব্যবস্থা কর্ণগোচর হলো, ডাক্তার কোন এক "হন্ধ্যা সিস্টার" বলে হাঁক পাড়ছিলো।

তখনই সেই মা'টি আমাকে দেখে যেন একটা ভরসা পেলো,"ও কাকা দেখৈন না ই ভিন জাতি ডাক্তারে আমার মাত বুঝৈন না, আমি অসমিয়া কৈতে পারি না, কুনোদিন বরাক থাকি বাইরে আসামো টাসামো গেছি না,ইতা আসামি মাততাম পারিনা,হকলতা বুঝিওনা, বেটারে কৈরাম তিনদিন থাকি আমার বাইচ্চাটায় আগে না কিছু খাইতে চায় না পেট ডুল বান্ধি রৈছে।বেটায় খালি জিগায় আগে কি হল?" তখনই ডাক্তার কথা ধরে বললেন,"খুরা আগে কি হল বুঝি পুয়া নাই, হন্ধ্যা নার্স'ও হুধিলো আহা নাই, প্লিজ মোক বুঝি কওকচুন কি অকুবিধা?" তখন বুঝিয়ে বললাম ,"আগে না মানে লেট্রিন হুয়া নাই লরাটোর, তিনিদিন ধরি।"

-ওহহ, এতিয়া বুঝি পালোঁ।

তখনই একটা প্রেসক্রিপশন হাতে ডাক্তারের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এলেন একজন নার্স। বললাম," দিদি ডাক্তারের লগে থাকৈন না কেনে? সবে তো অসমিয়া জানে না।রুগীর মাত ডাক্তারে না বুঝলে চিকিৎসা করবা কিলা।" কথা পুরো হতে না হতে একজন রোগীর পরিবারের কেউ দৌড়ে এসে বললেন ,"সন্ধ্যা'দি দৌড়িয়া  আও সেলাইন শেষ হৈয়া রক্ত উঠি গেছে।" 

-স্টাফ কম।তিনি শুধু এই দুটো শব্দ বলে সাথে সাথেই ছুটে গেলেন ওয়ার্ড রুমের দিকে।

সানী ভট্টাচার্য

উনিশ একুশ

বলতো উনিশ তুমি কার
তুমি বাঙালির জীবনের আধার।

বলতো একুশ তুমি কার
তোমাকে শ্রদ্ধা জানাই
সলিম -রফিক বলে বার-বার।

বলতো উনিশ থাকো কোথায় তুমি
বাঙালির হৃদয়ে থাক গর্বিত হয়ে চিরসবুজ ভূমি।

বলতো একুশ কোথায় থাকো তুমি
ততদিন থাকব, বাংলাভাষা হয়ে বাঙালির জননী।

বলতো একুশ কতদিন থাকবে তুমি
যতদিন বরাক-কুশিয়ারার জল হয়ে বয়ে যাবে জানি।

বলতো উনিশ - একুশ কজন তোমায় মানে
সবার কাছে থাক বর্ণমালা হয়ে হৃদয়ের টানে।

অভিজিৎ পাল

ডিজিট্যাল ইন্ডিয়া

বলছে সবাই এবার হয়েছে নাকি
ইন্ডিয়া ডিজিট্যাল ।
সময় সেজেছে বৃহন্নলা ,
স্বপ্নটা হবে না তো কাল !
শুনে খুড়ো অবাক হয়ে
সুধায় ডেকে পল্টুকে
"ডিজিট্যালটা কেমন জিনিস
খায় না কি গায়ে মাখে ?"
পল্টু বলে "জানি না ছাই ,
বুঝি না অত-শত
ডিজিট্যালটা কেমন করে হয় ,
অজান্তেই প্রচার করে বেড়াই
           বোকার মতো ।"
একশো চল্লিশ কোটির কয়জন আর জানে
ডিজিট্যাল শব্দটার আসল মানে ।
সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে
হবে যে সবাইকে পা মেলাতে ।
আমরা এখন যাবো কোন দিকে ?
হাঁটবো এবার কোন পথে ?
যুগের সঙ্গে মেলাতে হবে তাল
যে জিনিষটা বুঝা যায় না,
সেটাই কি তবে ডিজিট্যাল ?
শৈশবের সেই 'এ'-তে এক্কাগাড়ি,
আর 'ঋ'-কারে ঋষির মতো
পাহাড়ের নীল হাতছানি ।
চল্লিশোত্তীর্ণ যৌবনে
'এ'-তে একুশ মানেই ফেব্রুয়ারী ,
এখন কি আর
ডিজিট্যাল না হয়ে থাকতে পারি ?

মিঠুন দেবনাথ

একুশ 

একুশ আমাদের আত্মত্যাগ
একুশ আমাদের শক্তি,
একুশ আমাদের বীর-বাঙালির
লক্ষ শ্রদ্ধা-ভক্তি।
একুশ মোদের শান্তি আবার 
একুশ মোদের ভাব চেতনা,
একুশ মোদের লক্ষ কোটি 
বীর বাঙালির প্রেরণা।
একুশ মানে হাজারো শহীদ 
একুশ মানে ধৈর্য্য,
একুশ মানে নতুনের সৃষ্টি আর
বীর বাঙালির শৌর্য।
একুশ আমাদের সুখ-দুঃখ
চোখের জল আর হাসি,
তুমি আমার মাতা-পিতা
তোমায় আমি ভালোবাসি।

সেখ আব্দুল মান্নান

খেলা শেষের বাঁশি

হে সৃষ্টিকর্তা, স্থল জল অগ্নি বায়ু
শূন্য মহাশূন্যের পরমপিতা,
কি নিপুণ কৌশলে প্রকৃতির মজ্জায়
তুমি রোপন কর প্রতিযোগিতার বীজ,
মানুষ পশু কীট পতঙ্গের জন্মক্ষণেই
স্ফূরণ ঘটে অস্তিত্ব রক্ষার।

প্রবল প্রতিযোগিতায় ওঠে মেতে
যমজ সন্তান মায়ের অমৃতসুধা পানে,
এক ঝাঁক শাবকের কেউ কেউ মত্ত হয়
ছিনিয়ে নিতে মাতৃসুধা সহদরাকে ফেলে,
হননেও কুন্ঠিত নয় তারা।
ঝরে পরে আকুতি আর সহানুভূতি
অপলক চাহনিতে পশু মায়ের চোখে।

প্রতিযোগিতার পাঠশালায় লালিত হয়ে
শৈশব থেকে বার্ধক্য অমৃতস্যরা পুত্রারা
শিক্ষা সংস্কৃতি খেলাধুলো চাকরি
রাজনীতি প্রতিপত্তির পিছনে 
নিমগ্ন নিরন্তর প্রতিযোগিতায়,
প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতা
অন্তহীন প্রতিযোগিতায়!

হে স্রষ্টা,প্রতিযোগিতা পটু বিশ্ব মানবের 
মৃত্যুতেও তুমি কি তাই দিলে ঢেলে 
অপ্রতিরোধ্য প্রতিযোগিতা,
অদৃশ্য কোরোনার  মৃত্যু পরোয়ানা!
দিকে দিকে উড্ডীন মৃত্যু মিছিলের 
নির্মম হাহাকার!

মৃত্যুর তুমুল প্রতিযোগিতায় 
দেখ কি রোমহর্ষক দৃশ্য,
তোমার রচিত মৃত্যু সমানুপাতে
শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে 
লাখে লাখে কফিন বন্দি লাশ
শিখ ইসাহি খৃষ্টান হিন্দু মুসলমান!

মৃত্যু প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই কেউ।
তাই ডাক্তার বদ্যি সমাজকর্মী 
হাজার বার খেলা শেষের বাঁশি বাজালেও
মৃত্যু প্রতিযোগিতার ময়দান ছাড়বার
যেন লেশমাত্র ‌ইচ্ছা নেই কারোর।

মেখলা রাণী (রীণা পাল দত্ত)

অমর একুশের শিক্ষা

আজ "একু়শে ফেব্রুয়ারী" মহান দিনটি 
আন্তর্জাতিক "মাতৃভাষা দিবস"
সংস্কৃতিবাদ ও বহুভাষিকতাবাদ-এর বৈচিত্র্যে মুখ্য ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২-এর বাংলা ভাষাকৃতি নয় পরবশ।।

ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত মূল্যবোধ, জ্ঞান পরিচায়ক ভাষা,
জ্ঞানের অপরিহার্য অংশ, জীবন সমৃদ্ধ আশা।
ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান, অভিব্যাক্তির ধরণ সংরক্ষণ,
ভাষাবিস্তারে বিশ্বব্যাপী প্রসারণ, সুরক্ষার সাতকাহন।।

আজ এ সুন্দর পৃথিবীতে শাসন-শোষণ নিদারুন,
মার খাচ্ছে 'বাংলা ভাষা' সবথেকে বেশী, হারিয়ে যাচ্ছে প্রসারণ।
মেকি ইংরেজি রাজত্বের নেশা ধরেছে মনে আপন "মাতৃভাষা" ভুলে,
ঐতিহ্যগত জীবন ধারায় ঘাটতি, ইতিবাচক মনোভাব শিকেয় তুলে।।

হে মহামানবগণ এখনও সময় আছে ঘুরে দাঁড়াও,
অন্যায়ের পক্ষের কালো হাত তুমিই গুঁড়িয়ে দাও।
না হলে রক্তাক্ত-লাল হবে আবার জাতি, দেশ,
তবুওতো পাবে "মাতৃভাষা" প্রতিশ্রুতি পূরণের শেষ-বেশ।।

গজিয়ে উঠেছে 'ইংলিশ মিডিয়াম', 'প্রাথমিক বিদ্যালয়' শেষ,
ঘর হতেই শুরু হোক পুণরায় মাতৃ-জঠোরের প্রতিজ্ঞার রেশ।
ভাষার মূল্য শিখিয়ে, "মাতৃভাষা" শক্তিতে জোর দিয়ে, পরিচর্যা হোক সন্তানের;
পিতা-মাতাই প্রথম শিক্ষাগুরু, সন্তানের উৎসাহিত্যের।।

একাডেমিক শিক্ষার ধারনায় 'বোধগম্যে'র সহায়তা_
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথায় "মাতৃভাষা" নেই, শুধুই নীরবতা,
তাই আমাদের "বাংলা ভাষা" ও অন্যদের ঐতিহ্য রক্ষা,
এটাই হোক "মাতৃভাষা দিবস ২১-এর" প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা।।

দিয়া দাস

তোমার কর্ম

তোমার কর্মই তোমার ফল,
যখন তুমি এসেছিলে এ পৃথিবীতে শূ্ন্য হতে
ছেড়ে যখন যাবে এ ধরাতল
তখন যাবে  শূন্য হাতে ।
মাঝখানেতে পড়ে থাকবে তোমার সেই করে যাওয়া কর্মটুকু ।
যা হবে মানুষের কাছে 
তোমার শ্রেষ্ঠ্যত্ব।
তার ওপর নির্ভর করে
বেচেঁ থাকবে প্রতিটা মানুষের চিত্তে।
মানুষ মৃত্যু পথযাত্রী 
পৃথিবী ছেড়ে তাকে যেতে হবে একদিন।
কিন্তু তার সৎ কর্ম অমরত্ব লাভ করবে এই ধরাতলে।
কর্মই যে মানুষের আসল পরিচয়,
বলেছেন স্বয়ং বিধাতা ।
কর্মই ধর্ম, ধর্মই কর্ম ।
কর্ম ছাড়া এই দুনিয়াই আর কিছুই নাই।

কাজী নিনারা বেগম

ভাষার সম্মোহন

একবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ইংলিশ স্পেনিশের রঙ মেখে ক্রীতদাস আমরা,,
ভুলে গেছি সেই মায়ের মাতৃভাষাকে।
কালের ডান পিঠে সময়ের পরিপাকে মাতৃভাষা দাড়িয়ে আছে লাবণ্যের প্রভা সম্মোহনের জাদুতে,,
খোকা দের মা বলে ডাকার সেই মিষ্টি সুরে অন্তরের নেশা। 
মাইল ষ্টোনের ব্যঞ্জনধ্বনির সামিয়ানা অদ্ভুত এক দৃঢ়তা,,
পলাশ ফুলের মালায় ভাই হারানো হৃদয়ের গভীরে একুশে চেতনার উন্মেষ। 
আজও বাংলায় অমর সহিদ মিনার কালের নির্মম সাক্ষী,, 
বাহান্ন ভাষা আন্দোলনের শহিদ দের করি অভিবাদন।

মহাজিস মণ্ডল

মিছিল

আজও দেখি
চারপাশে মানুষের মিছিল

অন্ধকার থেকে আলোর দিকে
অথবা রক্তের নদী পেরিয়ে জীবনের দিকে

আর সময়ের পতাকা উড়ছে
আকাশের নক্ষত্র ছুঁয়ে আকাশে...

রমা চন্দ্র

শাশ্বত

যুগ হতে যুগান্তরে...
আমরা আসি যুগল প্রেমিক হয়ে,
এই পৃথিবীর নাট্যশালায়-
শুধু রূপ বদলায়,
বদল হয় না শাশ্বত প্রেমের
আর প্রেমিক যুগলের।
কালের নিয়মে ছয়টি ঋতুর আবর্তন...
প্রকৃতি রাজ্যে‌ও নাই কোন পরিবর্তন!
গ্রীষ্মের দাবদাহে ভস্মীভূত জল...
বর্ষায় ঝড়ে পড়া শ্রাবণ চঞ্চল
শরতের তুলো মেঘের আঁচল
হেমন্তের দুর্বাদলে হিমের হিল্লোল
হিমাদ্রীর উত্তুরে হাওয়ায় আভূমি শীতল
নববসন্তে নব কিশলয়দল,
শিমূল পলাশের আগুনে
প্রেমের ফাগুনে 
দেয় ধরা
নব নব প্রেমিক যুগল।

উর্মি সাহা

 রক্তস্নান

ফেব্রুয়ারি মানে প্রেমের ডাক,
গোধূলি বেলায় প্রেমিক পুরুষ-
সীমান্তে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের পোশাক।

ফেব্রুয়ারি মানে কলিকালের মৃত্যুস্নান,
গুলি-বারুদে বুক সাজিয়ে-
মৃত্যুর যাত্রায় তৃষ্ণার টান।

ফেব্রুয়ারি মানে রক্ত মাতাল,
'অমর একুশ' তিরঙ্গা উড়িয়ে-
ভাষার নামে শহীদের উত্তাল।

Feb 18, 2022

অশ্বিনী কুমার মন্ডল

বীর জারা

রাতের সাথে চাঁদের পীরিতি
শুরু হয় ঘনালে সন্ধ্যা বেলা, 
নদী ছুটে চলে সাগরের কাছে
মোহনায় জমে সঙ্গমের খেলা।  

মাঝ রাতে  চাঁদের স্নিগ্ধ মায়াবী 
জ্যোৎস্না মেখে প্রেমে মাতাল মন, 
রাত পেরিয়ে ভোর হয়েছে পূর্বে
সূর্য উদিবে কি জানি কখন ? 
 
আমি আদর করে তোমার গালে 
এঁকেছি সেদিন কত যে আল্পনা , 
তাই আজ এই বেরঙিন জীবনে
ভেসে ওঠে শুধু রঙিন কল্পনা ।

তোমার আমার প্রেমের দ্যূতি যেন 
পূর্ণিমা রাতের উজ্জ্বল চাঁদ-তারা, 
আজও শুধু মনে পড়ে সেই কথা 
 আমি হব বীর তুমি  হবে জারা।

শুভ্রা সাহা

কাঁচের শিশু (গল্প)

প্রাণ এখন ঘুমোচ্ছে । গতকাল ওর এক বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়ে গেল। সারা বাড়ি লোকে লোকময় ছিল ।রাতে সবাই চলে গেছে। শুধু দিল্লি থেকে আসা  গাইনোকোলজিস্ট মাসি শাশুড়ি পৃথাদেবী রয়ে গেছেন।দু তিনদিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন,প্রানকে দেখার জন্য ।  কালই   হয়তো চলে যাবেন। এই মাসি শাশুরির হাতে প্রাণের জন্ম হয়েছিল। তাই ওর প্রতি একটু আলাদা টান তিনি অনুভব করেন। এক বছরের জন্মদিন বলাতে উনি তড়িঘড়ি টিকেট কেটে চলে আসেন। কালকের জন্মদিনে পাওয়া প্রানের খেলনা গুলো সব ছড়িয়ে  ছিটিয়ে আছে।সবাই ওর জন্য নতুন নতুন সুন্দর সুন্দর গিফট নিয়ে এসেছে ।কেউ খেলনা কেউ জামা কাপড়। তৃপ্তি সেগুলির কিছু কিছু গুছিয়েছে,  কিছু এখন এক সাইডে টাল হয়ে পড়ে আছে । তৃপ্তি কোনোদিন ভাবে নি  এ সংসারে এসে কারোর মন জোগাতে পারবে, কেউ ওকে ভালবাসবে, আপন করে নেবে । 

প্রথম থেকেই ওর এই সংসারে নাজেহাল অবস্থা ছিল । কথায় কথায় শাশুড়ির কটূক্তি শুনতে হতো। মাসি শাশুড়ি থেকে অন্যান্য শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় স্বজন কেউ আড়ালে কেউ সামনে ছোটঘরের মেয়ে , বাজা বলেই গালিগালাজ করত। শাশুড়ি তো কথায় কথায় বলতো --

আমার ছেলেটার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল । কোথাথেকে এক অপদেবতা এসে ওর  ঘাড়ে জুটলো। পই পই করে তখন না করেছি এই মেয়েকে তুই বিয়ে করিস না । আমরা দেখে শুনে একটা ভালো বাড়ির মেয়ের সঙ্গে তোর বিয়ে দেব। না ! আমার কথা শুনল না ছেলে। ও বিয়ে করলে  নাকিএই মেয়েকেই করবে । ওর চেয়ে যেন সুন্দরী জগতে আর নেই ।  এমন অপয়া ! আজ পর্যন্ত বাড়িতে একটা শিশুর কান্না শোনা যায় নি।  ওর মুখ দেখলেও অকল্যাণ হয় । 

    এখন সবাই সব ভুলে গিয়ে ওকে আপন করে নিয়েছে । যেন কি যাদু মন্ত্র আছে   এই. প্রাণের মধ্যে। তৃপ্তি  আবার এক নজর দেখে নেয় প্রানকে।   ওর গায়ের চাদরটা একটু তুলে দিয়ে বালিশ দিয়ে চারিদিকে চাপা দিয়ে,নিজের কাজে লেগে পড়ে । 

 এরমধ্যেই মাসি শাশুড়ি এসে ঘরে ঢুকে বলে --- তৃপ্তি, কাল তো আমি চলে যাব আজ প্রাণ আর তোমার স্বাস্থ্যের পরীক্ষাটা একবার আমি করে নেব । এতে তৃপ্তি খুশি হয় যদিও কোন সমস্যা নেই তবুও মাসি শাশুরির কথায় একটু আস্বস্ত হয়।কারণ   উনি প্রথম থেকে ওকে দেখছেন। মাসি শাশুরি নিজের শ্বাশুরি থেকে বয়সে অনেক ছোট । দেখতে সুন্দরী । একটি ফুটফুটে তিন বছরের  মেয়ে আছে,ওর নাম সানা ।সেও এসে প্রাণের সঙ্গে খেলা করে যায় । প্রাণ ঘুমাচ্ছে বলে এখন হয়তো ও বাইরে খেলছে । মাসি শাশুড়ি ডাক্তার পৃথা জিজ্ঞেস করে--- তুমি এখন কেমন বোধ করছ ?   কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো তোমার ? ডেলিভারির তিন মাস পরেই তৃপ্তি চলে আসে বাড়িতে । তারপর ফোনে ফোনেই সব খবরা খবর নিয়েছে এতদিন । 

 ডক্টর পৃথা প্রায় নয় মাস পর আবার ওদের সঙ্গে মিলিত হল । এর মধ্যে কোন অসুবিধা হলে পৃথার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ওরা । অবশ্য তেমন জটিল কোন অসুবিধা হয়নি । আজ তাই পৃথা ভালো করে ওদেরকে পর্যবেক্ষণ করেও নিল । 

    তৃপ্তি বল--- না মাসি  আমার কোন  অসুবিধা নেই।আমি ঠিক আছি। সুস্থ আছি ।  প্রানকে   একটু দেখে যাও । তবে প্রানও ভালোই আছে। এখনো বুকের দুধ  কিছু কিছু পাচ্ছে। 

এরমধ্যে ওর শাশুড়ি   দীপিকাদেবী এসে তৃপ্তির জন্য রুটি সবজি ডিম সিদ্ধ দিয়ে গেল , 

বলল  ---এগুলো তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও বৌমা।ঠান্ডা হয়ে যাবে। সঙ্গে পৃথাকেও দিল । 

তৃপ্তি নিজের ঘর গোছানো সেরে,মাসিশাশুড়ির সঙ্গে টিফিন করতে বসে গেল ।

অনেক দিন মাসি শাশুরির কাছে  দিল্লিতে ছিল। সেখানেই ওর ডেলিভারি হয়েছে । 

বিয়ের পর সাত-আট বছর হয়ে গেলেও, তৃপ্তির গর্ভে কোন সন্তান আসেনি। নিজের শহরে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।দোষটা তৃপ্তিরই বলেছে। এর জন্য অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। শাশুড়ির ইচ্ছে ছিল ওদের ডিভোর্স হয়ে যাক । ছেলেকে আবার সুলক্ষণা মেয়ে দেখে বিয়ে করাবে। 

কিন্তু তৃপ্তির স্বামী সুমন্ত পেশায় শিক্ষক, ভালোবেসে তৃপ্তিকে বিয়ে করেছে , ওকে ছাড়ার কথা ভাবতেও পারেনা। শ্বশুরবাড়িতে যেন একঘরে হয়ে গেছে ও। উঠতে-বসতে শাশুড়ির শাপ-শাপান্ত ওকে নাজেহাল করে ছেড়ে দিচ্ছিল। একসময় সুমন্ত মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায় এক বাড়িতেই থাকে । আলাদা রান্নাবান্না হয়ে ওদের । তবু যখন সুমন্ত বাড়ি থাকেনা, তখনই শুরু হয়ে যায় শাশুড়ির কটুক্তি ।   এই গ্রামের মধ্যে ওদের এত বড় বাড়ি জায়গা জমি রয়েছে সেগুলি দেখা শোনার জন্য একজন বংশধর তো চাই । 

   এসব কথা শুনতে  শুনতে তৃপ্তিও  একসময় অধৈর্য হয়ে পরে।।ভাবে কেন আমি সুমন্তের জীবনটা নষ্ট করছি। ওদের আত্মীয়-স্বজনরা কেউই তো আমাকে চায়না। ওর জীবনে থেকে আর কি হবে। আমি ওর থেকে সরে গেলেই বোধহয় ভালো হবে।

সেই সময় তৃপ্তির  এক বন্ধু তৃপ্তিকে বলে, আই ভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান ধারণের কথা।   ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন এর সাহায্যে বাইরে টেস্টটিউবে পাম সংগ্রহ করে তারপরে তা গর্ভে স্থাপন করা হয় । তখনো তৃপ্তি জানতো না যে ওর মাসি শাশুড়ি ডক্টর পৃথা এই আইভিএফ পদ্ধতিতে স্পেশালিস্ট । দিল্লিতে ওনার আর ওনার স্বামীর নিজস্ব. যে হসপিটাল আছে সেখানে তিনি এই পদ্ধতিতে অনেক শিশুদের জন্ম দিয়েছেেন। সুমন্ত সেটা জানে কিন্তু তৃপ্তি সেখানে যাওয়াটা একদম পছন্দ করলো না কারণ শাশুড়ির পক্ষ নিয়ে ডক্টর পৃথা ওকে কম নাজেহাল করে নি।      তাই তৃপ্তি বলে --তোমাদের আত্মীয় স্বজনরা কেউ আমাকে পছন্দ করে না ,হয়তো সেখানে আমি মরেই যাবো । তুমি অন্য ডাক্তারের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য চাও । তখন  সুমন্ত. নিজের যথাসাধ্য টাকা-পয়সা নিয়ে কলকাতা শহরে চলে যায় সেখানে বিষেশজ্ঞ    ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করে এবং এই আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ওর অনেক টাকা পয়সা  খরচ হয়ে যায়  ।   একসময় এমন অবস্থা হয়,   চিকিৎসা করার. ক্ষমতা আর থাকে না। এমনকি খাওয়া-দাওয়া   ঠিক মত চলে না। ঔষধের খরচ চালানো  তো দুরন্ত।।ঘরে কান্নাকাটি পড়ে যায় ।   সন্তান বাঁচানো দায় হয়ে পড়ে।   তৃপ্তির শ্বশুরমশাই এতদিন কোনো কথা বলেননি ।এবার তিনি ও মুখ খুললেন।।শাশুড়িকে বললেন ওদেরকে সহায়তা করার জন্য । দীপিকাদবীও আর চুপ করে থাকতে পারলেন না ।।ছেলের এই দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ালেন ।।নিজের বোনের সঙ্গে কথা বলে নিলেন । ওদের দিল্লিতে  যাবার  সব ব্যবস্থা করে দিলেন । সুমন্ত  যেতে রাজি হয়ে গেল । তৃপ্তিও অগত্যা রাজি হলো । তারা দিল্লিতে চলে গেল। ডক্টর  পৃথা ভুলে গেল একসময় তৃপ্তি  যে বলেছিল ---উনি কিসের ডাক্তার!  যে আমার সংসার ভাঙতে চায়,সে আর যা হোক,কখনো ডাক্তার হতে পারেনা । 

সে কথা ভুলে  ড: পৃথা তৃপ্তি কে  আপন করে নিলেন। ওর  সমস্ত  চিকিৎসা নিজের হাতে তুলে নিলেন।

যখন সন্তান কোলে নিয়ে ও ঘরে প্রবেশ করল তখন সারা গ্রামের লোক ভেঙ্গে পড়লো কাঁচের শিশুকে দেখার জন্য। সবাই এই কাঁচের শিশুকে ভগবানের দূতই মনে করছে।

অনুপ কুমার জানা

মাতৃভাষা       

সবার প্রিয় মাতৃদুগ্ধ , মাতৃভাষাও তাই  
সমপুষ্টি মাতৃদুগ্ধের ভিন্ন খাদ্যতে নাই ;  
মায়ের মুখের ভাষা সে তো সন্তানের মনের ভাষা  
কথা বললে এ'ভাষায় মিটায় মনের পিপাসা ।

যতই বলি বিদেশি ভাষা , তৃপ্তি পাই মাতৃভাষায়  
সবার প্রিয় মাতা মোদের , সন্দেহ কিবা তায় ?  
ভালোবাসি নিজের মাতৃভূমিকে , সবারই সেটা গর্ব ,  
অনিহা আসলে মাতৃভাষায় মোদের হৃদয় হবে খর্ব ।  

বাংলা মোদের মাতৃভাষা , সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্বদরবারে  
বিদ্যাসাগর ,‌ রবীন্দ্রনাথ দান করেছে হিয়া অকাতরে ;  
একুশে ফেব্রুয়ারি ( অমর একুশে ) বিশ্বভাষা দিবস , 
পূর্ণতা পেল মাতৃভাষা , মিললো বিশ্বদরবারে যশ । 

ভাষা আছে শত শত শুধু ভারতবর্ষে তাহা ,  
লক্ষ ভাষা বিশ্ব মাঝে , লক্ষাধিক তৃপ্তি হিয়া ; 
ভালোবাসি বঙ্গকে মোরা , ভালোবাসি বঙ্গ-হৃদয়  
খাঁটি সোনা এ'হৃদয়েই , হবে না এ'ধারণার বিপর্যয় ।

শুক্লা চক্রবর্তী

আমি একুশের বাংলা বর্ণমালা... 

আমি একুশের বাংলা বর্ণমালা, 
আমার সিঁথি যে সেজেছে রক্তে সেইদিন! 
আমার বদনটি যে ভিজেছিল, 
কত মায়ের অশ্রু দিয়ে সেইদিন! 
আমায় করতে গিয়ে স্বাধীন... 
কত ভাইয়ের বোন যে হয়েছিল, 
ভরা দুপুরে বাজার হাটে নিলাম! 
আমি দেখেছি সদ্য বিবাহিত... 
সেই মেয়েটিকে বিধবার বেসে সাজতে! 
আমি একুশের বাংলা বর্ণমালা, 
আমি পড়েছি ওই শিশুটির চোখ... 
যার চোখে ছিল শুধু প্রতীক্ষা, 
সুস্থভাবে বাবার ফিরে আসার। 
আমি দেখেছি একুশের সেই প্রেমিকটিকে... 
তার হাতে নেওয়া লাল গোলাপটি, 
সে যে  আর তা পৌঁছে দিতে পারেনি তার প্রিয়তমার হাতে! 
যা পৌঁছেছিল শ্বসানের অগ্নিকুণ্ডে কিংবা কবরে শায়িত লাশটির উপরে! 
আমি তো সব-ই দেখেছি সেইদিন। 
আমি একুশের বাংলা বর্ণমালা, 
আমায় করতে স্বাধীন কত যে... 
বৃদ্ধ বাবার সন্তান দিয়েছে বলিদান! 
আমি তো তা ভুলে যায় নি... 
আমি যে জরিয়ে রেখেছি তাদের, 
এই স্মৃতি গুলি আমার এই বুকেতে। 
আমি যে তাদের রক্তেই হয়েছিলাম মলিন!

সুধীর দাস

প্রভাতের ফেরী

প্রভাতের ফেরি গায়ে মেখে চললো দূরের মাঠে,
হোক শীত কিংবা ঘর্মাক্ত রোধলা তাপ
বাঙালীর বয়ে চলা প্রাণ, বাঙ্গালীর সুরে সুরে মেশা সেই গান, শিরাতে শিরাতে বইবে শুধুই তার জয়ধ্বনি।
ভোরের কুয়াশাভরা মাঠের শেষে শিশিরের জমানো প্রত্যেকটা ফুটাতে ধুচ্ছে জননীর পদধূলি।
শঙ্খধ্বনির আওয়াজ আর উলুধ্বনিতে বাজছে বাংলার জয়ধ্বনি।
লাখ লাখ মানুষ আর শহিদের রক্ত যায়নি বিফল, 
জীবন কুরুচ্ছে নতুন আলো নতুন পথ।
আবার নতুন করে জন্মাবে  নেতাজি, জন্মাবে মাইকেল, জন্মাবে জীবনানন্দ।
আবার শুরু হবে নতুন করে সাহিত্যের পথচলা, 
আবার নতুন রূপে আসবে বাংলার রূপ।
আবার বছরের পর বছর ফিরে আসবে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি।

জগন্নাথ বনিক

শান্তির নীড়  

চেয়ে চেয়ে দেখি,
মুখের ভাষা বলতে না পারি।
ব‍্যস্ত শহরে করি ছুটোছুটি,
রাস্তার গলিতে আজও ঘুরি আর ফিরি।
খুঁজে বেড়াই মোরা শান্তির নীড়।

সবাই ভাবে ভালো আছি,
আমি আর তুমি।
জানে না কেউ জীবনের কষ্ট খানি।
চিৎকার করে বলতে পারি,
ভালো নেই কেউ।
আছে শুধু সবার জীবন খানি।

কষ্টে যাদের জীবন গড়া,
কতো যে ব‍্যথা, পায় তারা।
সাহস করে পারে না বলতে,
এই হলো কষ্টের জীবন ধারা।

ভাবছি এবার মনে মনে,
শান্তি নেই আর এই ভুবনে।
সবাই একদিন চলে যাবে শান্তির নীড়ে,
দেহ খানা জ্বলবে যেদিন চিতার আগুনে।।

নীরেশ দেবনাথ

বাংলা আমার

বাংলায় আমি মাকে ডাকি
বাংলায় কথা বলি
বাংলায় আমি হাসি-কাঁদি
বাংলার মাটি দলি।
বাংলায় আমি কবিতা লিখি
বাংলায় চিন্তা করি
যতই থাকি বিদেশ বিভূঁইয়ে
বাংলাই স্মরণ করি।

বাংলায় লিখি আনন্দ গান
লিখি দুঃখ গাথা
বাংলাই আমার সুখের আলয়
বাংলাই মাথার ছাতা।
বাংলার জল করি পান
বাংলার জলেই স্নান
বাংলার বায়ু বুক ভরে নিতে
প্রাণ করে আনচান।

বাংলায় আমি ভালোবাসি
বাংলায় ঝগড়া করি
বাংলাকে আমার বাঁচাতে 
জান দিয়ে আমি লড়ি।
বাংলার মাটি বাংলার ভাষা
বাংলাই আমার মান
ঢাকা শিলচরের মাটিতে তাই
দিয়েছি আমার জান।

বাংলাকে ভালোবাসি কিনা
দেখতে তুমি চাও!
এসো, তবে বুক চিরে দেখো,
তুমি কি দেখতে পাও!
বাংলায় আঁকা বাংলায় লেখা  
বাংলার বীরত্ব গাথা
বাংলার শহীদের রক্তে লেখা
তাঁদেরই জীবন গাথা।

গঙ্গাধর বাগ্দী

স্বপন সচ্ঞারিনী

রাত গভীর চারিদিকে নিস্তব্ধ নিঝুম,
সে যেন আমার কেড়েছে রাতের ঘুম।
আধো ঘুমে থাকি চেয়ে একা জেগে জেগে,
ঘুম ভাঙ্গিয়ে সে লুকিয়ে থাকে মেঘে মেঘে।

স্বপ্নে দেখি স্বপ্নপরীর পিঠে আছে ডানা
স্বপ্নে শুধু দেয় দেখা তার কাছে আসা মানা।
তুমি যদি থাকো জলে হয়ে জলপরী
ইচ্ছে করে ভীষণ জাল ফেলে তোমায় ধরি,

তাতেও যদি তুমি না দাও আমায় ধরা,
জানবো আমি আমার বরাত ব্যর্থ দিয়ে গড়া।
তবু ছাড়বো না আমি হাল ছাড়বো না আশা,
দিনের আলোয় মিলিয়ে যাওয়া তুমি রাতের ভালোবাসা।

চিন্ময় রায়

বিশ্বাসযোগ্যতা

মানব চলছে মানবের মতো-
সঙ্গে নানা কথা।
মনে রেখো মানবের মাঝে,
শ্রেষ্ঠ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা।
বিশ্বাসেই তো মানুষ চলে,
নানা রকম কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করে-
বিশ্বাসঘাতক অবিশ্বাসের ফলে,
 ডিপ্রেশনে ভোগে মরে।
যোগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি মোরা সকলেই,
সমবয়সী ছোটরাও আজ,
 প্রান হারাচ্ছে অকালে।
বিশ্বাস আছে বলেই তো মানুষ সম্পর্কগুলো গড়ে,
অবিশ্বাসের ফলেও আবার সম্পর্কে ফাটল ধরে।
বিশ্বাসেই তো জীবন চলে-
সে কথা জ্ঞানীরা ও বলে,
 তাইতো বলি মানবজাতি,
 বিশ্বাস রেখো অপরের প্রতি,
 বিশ্বাসের ফলে ক্ষতি হবে না সমাজ ও মানুষের-
 অপর ক্ষেত্রে দেখলাম আমি অন্ধ বিশ্বাসের ফলে,
 সকল মানুষ নিজের নিজের স্বার্থ বুঝে চলে।
স্বার্থের জন্য মানব আবার খুনোখুনি করে,
 সেই কারণে ও মানব জাতি,
 সত্যিই ভোগে মরে।

সৌরভ দেবনাথ

আমিও 

এই মহৎ দেশে আমিও একজন অতিথি,
আমিও একজন মাথা নত করা প্রাণী,
আমিও সেই জন যে অন্যায় দেখেও শুধু মাএ এক বাক হীন প্রাণী। 
হে আমিও তাদের মধ্যে আছি যারা অত্যাচার দেখেও বলে আগে কেউ একজন বলুক,তার পর নয় আমি। 
হে স্বার্থান্বেষী,আজ আমিও তুমার মতো পাশের বাড়ীর বোন টার কিছু হলে বলি এ-তো আমার মেয়ে নয়,এ-তো আমার বোন নয়।
আজ স্বার্থ নিয়ে সবাই ব্যস্ত,আর নিস্তব্ধ হচ্ছে ইতিহাস আর সত্য।
 
আজ প্রতিবাদীরা খাচ্ছে মার, রক্তচোষীরা হচ্ছে নদী পার।
চারিদিকে চিৎকার আর হাহাকার মানবতা আজ ক্ষুব্ধ,আর অনাহারীরা কাঁদে।
না তবুও কিছু বলবো না,শুধু বলব আগে কেউ বলুক তারপর নয় আমি।
প্রকৃতি জুড়ে হচ্ছে দূষণ হচ্ছে অত্যাচার আজ নিরহারা স্তব্ধ।
এইসব দেখেও আমার চক্ষু হয়েছে অন্ধ।
চারিদিকে শুধু খুন আর খুন হচ্ছে নারী নির্যাতন,আর কত হৃদয়ের বলী।
এবারও কি তোমরা খেলবে নারী রক্তের হোলি ? 
 
মন বলছে গর্জে ওঠো আর এগিয়ে চলুক নেতাজির মতো। 
অন্যদিকে সমাজ বলছে দৃঢ় হোও,শান্ত হোও নয়তোবা তুমিও একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
কারণ সমাজও বলে আগে কেউ একজন বলুক তারপর নয় আমি।।

মৌসুমি গোয়ালা

সহজাত ভাষা

বাংলা আমার সহজাত ভাষা,
মায়ের বুলিতে শেখা।
অ-আ-ক-খ এর সহজ পাঠে,
পাঠশালায় পড়া লেখা।
বুৎপত্তি তার শতক আগে,
লিপিবদ্ধ আছে চর্যাপদে।
ইন্দো- ইয়োরোপীয় ভাষা বংশের,
প্রান্তিক ভাষা সভাষদে।
ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপসিলে,
আঠারোটি ভাষার অন্যতম।
বিশ্ব জুড়ে খ্যাতির নিরিখে,
শ্রেষ্ঠ ভাষীর সর্বসম।
সাহিত্য জগত হয়েছে সমৃদ্ধ,
পদ্য-ছড়া, গল্প উপন্যাসে।
আত্ম মননে সহর্ষ, সন্তোষ্টি
বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে।

সুচিত্রা দাস

অন্তরের যন্ত্রনা

শহীদের তাজা রক্তে ভেজা
রাজপদ যেন ''লোহিতের নদী''।
সেদিনের ঘটনা চোদ্দৌই ফেব্রুয়ারি,ছিল
ভালবাসার  দিন।
তোমরা ছিলে অতন্দ্র  প্রহরী 
রেখে গে'লে রক্ত ঋণ।
পূজার ফুলে ঠাকুর বেদীতে 
হোক তোমাদের  ঠাঁই।
চোখের জলেতে নৈবেদ্য 
আমার  বুকের পাঁজর ভাঙ্গা
কান্নায় খুঁজি আত্মার শান্তি।
আবার  এসো গো ফিরে 
এই ধরণীর পরে 
আমারি সন্তান হ 'য়ে।।।

রাজা দেবরায়

মাতৃভাষা 

আমি মাতৃভাষায় চিন্তা করি,
আমি মাতৃভাষায় কথা কই।
মাতৃভাষায় সাহিত্য লেখিনা,
আমার মাতৃভাষায় নাই বই।

সবার মাতৃভাষা বাইচ্যা থাকুক,
সব মাতৃভাষায় বই বাইর হোক।
সবাইর মাতৃভাষাঐ মাতৃদুগ্ধ সম,
মাতৃভাষার প্রতি বাড়ুক ঝোঁক।।

মায়া রানী মজুমদার

স্থগিত মাতৃভাষা

রক্তক্ষয়ী বিপ্লবে হলো এখন দেশ  স্বাধীন, 
পরাধীনতার গ্লানিতে ভুগে, ছিল পরাধীন।
মাতৃভূমির মান রক্ষার্থে কত বিপ্লবী বীর,  
মাতৃভাষা বাংলাভাষা স্থগিতে হন অস্থির। 
বাংলা ভাষার তরে শত শহীদের বলিদান, 
ভুলবো না কোন দিন মোরা এই প্রতিদান।
বিপক্ষের পথরোধে আন্দোলনরত অবস্থায়, 
পিপাসার্থ হয়ে এক সৈনিক জল চায়।
মা জল আনার আগেই হলেন গুলিবিদ্ধ, 
কন্যার শেষ ইচ্ছার হলো না কার্যসিদ্ধ।
কমলা নামে যোদ্ধা বীরাঙ্গনা  সৈনিক, 
শহীদ হলেন সর্ব প্রথম মহিলা সৈনিক। 
কত শহীদ বাঙ্গালী বীর ভাষা আন্দোলনে, 
তবুও অটুট বাংলাভাষা শহীদদের আত্মদানে।
বাংলা ভাষাই হবে রাষ্ট্রভাষা এই দাবিতে, 
১৪৪ধারা অমান্য করে ছাত্ররা নামে রাজপথে।
ছাত্ররা বেরোয় মিছিলে,হয়ে আন্দোলন রত, 
পাকিস্তানের পুলিশের গুলিতে ছাত্ররা হতাহত।
১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি কত ছাত্র হন শহীদ, 
রক্তে রঞ্জিত শহীদ-স্মরণ মোদের শ্রদ্ধার তাগিদ ।
১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধে জন্ম স্বাধীন বাংলা দেশ, 
বহু শহীদের রক্তে রাঙ্গানো এই সোনার বাংলাদেশ। 
২০০০এর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে মর্যাদায় যথাযথ, 
আন্তর্জাতিক ভাষাদিবস হিসাবে স্বীকৃত,পালিত।
গৌরবোজ্জল শহীদদের নম্র হয়ে করি স্তুতি, 
সব শহীদ ভাইদের জানাই করজোরে প্রণতি।

যুথিকা দাস

মুই রাণীখেতর হালুয়া

আরো প্রচণ্ড অস্বাভাবিকতা,
হাল গেলো, লাঙল, জোয়াল সবই গেলো,
সন্দেহ আর উত্তাপে গা বেয়ে সেদিন ভরা শ্রাবণ।
আর কোনটা বাকি ছিলো জানে না! 
জীবন কি এমনই স্রোতের মতো?
কেউ আসে কেউ যায় নিস্তব্ধ সৈকত পার হয়ে,
এই নোনাজল, কি দাম আছে তার? 
কত দিন, কত রাত চলবে অবিচার!
কত জংশন এখন রাণীখেতের মাঠে!
কানে কানে জলকথা গড়ায়
কখনও উর্ধগামী কখনও নিরুদ্দেশ!
চারদিকে রৈরৈ করা পড়া মৃত্যুযান অনুচর,
পদ খালি করে দাও,, 
শববাহী শকট, শব্দ পাহাড় ভাঙে বুকের ভেতর।
বুক চাপড়ে বলেছিলো জীবন হালুয়া
আমার আর কি আছে পরিচয়,,,
এটাই মনে আছে,, মুই,,
মুই রাণীখেতর হালুয়া!

যোগমায়া গোস্বামী

রক্তে ভেজা বর্ণমালা

একুশ আমার রাঙানো বর্ণে শহীদের গান
বীররক্তে বাঁচলো সেদিন মাতৃভাষার মান।
রক্তে ভেজা বর্ণমালার স্মৃতি ঘরে ঘরে
মায়ের ভাষায় কথা বলি তাই প্রাণ ভরে।
সালাম রফিক বরকতের প্রাণের বিনিময়
বিশ্বের কাছে বাংলাভাষা পেয়েছে বিজয়।
একুশের বীরশহীদদের প্রণাম জানাই শত
তাদের কথা স্মরণ করে লিখবো অবিরত।

কুশল রায়

বাঙালি মোরা

বাংলা আমার ভালোবাসা
বাংলা আমার প্রান, 
জন্মেছি বাঙালি হয়ে গাহিবো
আমার বাংলা মায়ের 
প্রান প্রিয় বাংলা ভাষার জয়গান ৷

বাঙালি মানে ভুড়িভোজ 
বাঙালি মানে মিষ্টি,টক,ঝাল 
বিদেশি সাঁজে সাজলেও 
আমাদের এক অপরের প্রতি
আজও রয়েছে ভিটে মাটির টান।।

গৌতম ভৌমিক

বিপন্ন এক অধ্যায় 

ভাষা আজ বিপন্ন এক অধ্যায় 
ভাষার নামে হয় পরিহাস 
তাই,
মাতৃভাষা বলতে লজ্জা হয় অনেকের।
আমার ভাষা তোমার ভাষা সকলের মাতৃভাষা 
গুরুত্ব কমে যাচ্ছে দিনদিন; 
হচ্ছে নতুন প্রজন্মে এক নতুন চেতনা। 

বিদেশী ভাষার এখন হচ্ছে আগমন 
নিজ মাতৃভাষা হারিয়ে 
মরছে ছেলে ওয়াটার বলে জল। 
কি এক দারুন রহস্য...
নিজেকে বলি দিয়ে করছে অন্যের সমাদর
হচ্ছে আধুনিকতার নব উন্মেষ। 

স্কুলে বা কলেজে বলো; বলো মাঠে ঘাটে 
নেই যে তোমার মাতৃভাষার দাম। 
বিদেশী ভাষা যদি বলো তুমি 
শিক্ষিত বলে তোমায় দেবে সম্মান। 

এ এক করুন দৃশ্য, মাটি হয় নিজ মাতৃভাষা 
সমাজের মাঝে মানুষের ব্যবহারে
মরছে ভাষা প্রতিনিয়ত প্রতিদিন। 
হায়রে আমার দেশ আপামর জনসাধারণ 
জন্ম দিলে জন্মভূমে,
প্রথমের ডাক 'আমার সোনার বাংলা'
হারিয়েছে আজ অতল সমুদ্রে। 

অভিজিৎ দাস

আমাকে খুঁজে পাবে

আমাকে খুঁজে পাবে,
        বাংলা ভাষা,বাংলার মাটি ;
        বাংলার গানে গানে।
        বাংলার নদী,বাংলার মাট;
        বাংলা আমার প্রাণে।
আমাকে খুঁজে পাবে,
        কাশের বনে,নদীর জলে;
        ঢেউয়ের পলে পলে।
        আম্র মুকুলেও দেখতে পাবে,
        শিশির ভেজা জলে।
আমাকে খুঁজে পাবে,
        দোয়েলের ডাকে,শালিকের ঝাকে;
        পথের বাঁকে বাঁকে।
        সন্ধ‍্যে হলেও দেখতে পাবে,
        ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে।
আমাকে খুঁজে পাবে,
        সাঝের বাতি,ধূপের গন্ধে ;
        নুপুরের ছন্দে ছন্দে।
        আজানের ডাকেও দেখতে পাবে,
        কাঁঠাল চাপার গন্ধে।
আমাকে খুঁজে পাবে,
        কোকিলের ডাকে,বকের ঝাকে;
        শাল - পিয়ালের বনে।
        কিশোরীর হাতেও বেজে উঠি,
        তার  কাচের কাঁকনে।

অষ্ট দেয়াশী

এই সময় যদি যাওয়া যেতো স্বগে

এই সময় যদি যাওয়া যেতো স্বগে
সমস্ত শিল্পীরা ইন্দ্রের সভায় করছে জলসা এখন। 
দেখে চোখ জুড়াতো  মনে স্বাদ মিটতো। 
গানের দেশে দেবদেবীরা বসিয়েছে আসর। 
একে একে সবাইকে  যমরাজ নিয়ে যাচ্ছে। 
স্বর্ণযুগের শিল্পীদের নিয়ে ইন্দ্র দেব সভা করছে। 
নাচে গানের আসর দেবদেবীরা বেশ মেতেছে। 
এর পর আর এক শিল্পীর পালা ইন্দ্র দেব বলছে। 
যমরাজ নিয়ে যাবে ও তাকে ইন্দ্র দেব দিয়েছে আদেশ। 
যদি যেতে পারতাম এখন স্বগে দেশে সবাইকে পেতাম, একসাথে। 
মনের বাসনা মিটতো ওরে দেখে তাইরে।

আমিনুল ইসলাম

জীবন নামক ঘোড়া

জীবন একটা স্বচ্ছ আয়নার মত,
যাতে দেখলে তোমাকেই ফিরে পাবে প্রতিনিয়ত।
চলার মাঝে থাকে নানান মানুষের পরিচয়।
জীবন একটা ঘোড়া,
মাঝে মাঝে থমকে যায়, আবার চলতে শুরু করে,
প্রতিটা ধাপে থাকে ব্যর্থতার অশ্রুজল,
সফলতার আনন্দ।
জীবন কে ঘিরে আমাদের সবকিছু।
সভ্যতা থেকে সংস্কৃতি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
স্বপ্ন কে তাড়া করে, পূরণ করে।
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে যায়, পড়াশুনা বা কর্তব্য পূরণের মাঝে,
সাধ , আল্লাদ, দুঃখ বেদনা,ভালোবাসার অনুভূতি সবকিছু পাওয়া যায়, জীবনের সংক্ষিপ্ত সময়ে।
জীবন নামক ঘোড়াটা আসলে বিচিত্র রকম প্রাণী,
যারা শুরু আর শেষ কোথায় বলা মুশকিল।
জীবনের এই চরম চাওয়া পাওয়ার সন্ধিক্ষণের মাঝেই
মৃত্যু নামক পরম বন্ধু তার বুকে জড়িয়ে নেবে,
আর এখানেই জীবনের সমাপ্তি।

অভ্রজিৎ দেবনাথ

পরিত্রাণ

চেয়ে দেখো
পাখিদের গান
পাশাপাশি বসে আছে
চির সবুজ হৃদয়, 
দিন শেষে চলে যায়
আমার ব্যর্থতা, অহংকার;
ফিরে আসবে?

আমি হেমলক চিনি,
পান করেছি ভালোবেসে কতবার,
তুমি আবার এলে
নিয়ে যেও সব,
আজকে ছুটি দিলাম।

সম্রাট শীল

বাংলার কোলে

প্রভাতের রবি দিয়েছে উঁকি,
একুশের সাক্ষী হয়ে।
কিরন ছড়িয়েছে ভাষার আলো,
একুশের পানে চেয়ে।।

কোকিল ডাকছে একুশ ঘরে,
মিষ্টি ভাষার সুরে।
বাংলা থাকবে মনের মাঝে,
ছড়াবে প্রেম জুড়ে।।

তোমার ভাষা তোমার কাছে,
আমার ভাষা অহংকার।
আমার ভাষা বাংলা ভাষা,
আমি বলবো বারবার।।

আমার ভাষা বাংলার কোলে,
নিমিষেই প্রেমে পড়ে।
বাংলার জন্য ওপার বাংলায়,
শহিদ মিনার গড়ে।।

রাজীব বসাক

হে কন্যা

তুমি তেজস্বী হও হও ঝাসীর রাণী,
তুমি সত‍্যের পথপ্রদর্শক হও হও মাদার টেরেসা।
তুমি বীরযোদ্ধা হও হও ক‍্যাপ্টেন লক্ষী,
তুমি বীরঙ্গনা হও হও ন‍্যায়ের দন্ড।
তুমি সুর সম্রাজ্ঞী হও হও শুভ্র মনের অধিকারী,
তুমি নির্মল হও হও সব প্রানের ভালোবাসা।

তুমি আলোর উৎস হও হও নিশীথের চাঁদ,
তুমি বাগানের ফুল হও হও পৃথিবীর সৌরভ।
তুমি সাতসমুদ্র হও হও কৈলাশের পাহাড়,
তুমি প্রানের অক্সিজেন হও হও চোখের আলো।
তুমি বিশ্বের আশ্চর্য হও হও সুখের আনন্দ,
তুমি দুখীর হাসি মুখ হও হও সকাল সন্ধ্যার মধুরতা।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

খুঁজে ফেরা
প্রিয়তম কবির জন্মদিনে দুচার পংক্তি শ্রদ্ধা ফুল

কোনো লাশকাটা ঘরে রাতের আঁধার মেখে 
ঢুকে যেতে পারিনি এখনো। যদিও পাশে 
সন্তান শুয়ে থাকে, স্বপ্নরা শুয়ে থাকে নক্ষত্রের মত।
সফেদ জোছনা দুধের মত ঝরে পড়ে ধূসর পাণ্ডুলিপির
আনাচে কানাচে, জলঙ্গিতে পা ভিজিয়ে গুনে গুনে 
ঘুঙুর বাজাই তালে, বেতালে।

বাংলাতে ঠিক নয়, তবু পাশাপাশি বাংলার জন্মেছি
কোনো এক শ্রাবণী ভোরে। 
এ শহরে ট্রাম নেই, নেই কোনো ট্রাম দুর্ঘটনা।
তবু , মন মৃত্যু খোঁজে ফেরে হিজলে, অশ্বথে।
আরো কত কিছু খুঁজে ফিরি তোমার লিখার আখরে,

পাখির নীড়ের মত চোখ জুড়ে জমে থাকে হেমন্তের কুয়াশা, গ্রামে গ্রামে নবান্নের আয়োজনে বাকি থেকে যায় কিছু পাখিদের, হাঁসের নিমন্ত্রণ।

আবার বুড়ি চাঁদ উঠে, আবার মগজে খেলে মৃত্যুর নকশা, ক্রমে ক্রমে ঘোলা হয় জীবন, বেনোজলে 
ভেসে যায় জীবনের সমস্ত জমানো ভাঁড়ার।

নীতা সরকার

নতুন বছর

নতুন বছর নতুন বছর ও নতুন বছর
তোমাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন।
তুমি ফিরে এসো নব রূপে, নব ধারায়
পুরানো সব স্মৃতি গুলোকে মুছে ফেলে
আবার নতুন করে জেগে ওঠো।

ও নতুন বছর আবার নতুন করে ভাবতে শেখাও
হিংসা- লালসাকে দূরে সরিয়ে ভালোবাসতে শেখাও
মান- অভিমান, দুঃখ- কষ্টকে ভুলে
সকলের মুখে হাসি ফোটাও তুমি।

নতুন বছর তুমি নিয়ে এসো
অনেক অনেক স্বপ্ন ও আশা
অভিশপ্ত দিনগুলো আর হতাশাকে পাশে সরিয়ে
তুমি আমাদের পাশে থেকো।

নতুন বছর,ধরার মানুষ গুলোকে খুশি করো
তাদের সকলের মধ্যে বন্ধুত্ব জাগিয়ে তোলো
সকলের আয়ু দীর্ঘায়ু করো।
কথা দাও তুমি, ষোলো আনা পূরণ করবে নতুন বছর।

অভিজিৎ দত্ত

মাতৃভাষা

বাংলা মোদের  মাতৃভাষা 
বাংলা মোদের গর্ব 
বাংলায় তাই কথা বলতে
সবসময়ই আমরা স্বচ্ছন্দ। 

বাংলায় কথা বলার অধিকার 
একদিন ছিল না পূর্ব বাংলার
তারজন্য  তারা জীবন বাজি রেখে
করেছিল মরণপণ লড়াই 
শেষ পর্যন্ত শাসকের কাছ থেকে
বাংলা ভাষায় কথা বলার 
অধিকার করেছিল আদায়।

একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা জন্যে
প্রাণ দিয়েছিলেন অনেকে
রফিক, সালাম, বরকত, জাব্বারের 
লড়াই হয়নি বিফল 
সারা বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে আজ
মাতৃভাষা দিবস হচ্ছে পালন।

স্বপন দেবনাথ

আজ সেই দিন 

আজ হলো সেই দিন... 
যেদিন ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছিল 
একদল তরুন ছাত্র যোদ্ধারা।
আজ হলো সেই দিন... 
যেদিন শহরের অলি গলি থেকে শুরু হয়েছিল
এক প্রতিবাদী আন্দোলন।
আজ হলো সেই দিন...
যেদিন শহরের চারদিক মুখর হয়ে গিয়েছিল 
জোরালো প্রতিধ্বনিতে।
আজ হলো সেই দিন... 
যেদিন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষাকে বাংলা ভাষায় পরিনত করতে 
প্রাণ দিয়েছিল হাজারো যুবক।
আজ হলো সেই দিন... 
যেদিন শহরের বুক রঙিন হয়েছে 
আমার শহীদ ভাইদের রক্তে।
আজ হলো সেই দিন... 
যেদিন শ্রদ্ধা জানাই সেই ভাইদের 
যাদের তরে পেয়েছি মাতৃভাষা বাংলা ভাষাকে।

মিরাজুল সেখ

ফাঁসির দড়ি

পড়ায়াছি নিজে থেকে  নিজের গলায় 
নির্বোধের মতো হে যত্নের দড়ি ,
যে অপরাধ গেঁথেছি একাকি সুখের 
ফাঁসির মঞ্চ হতে কিভাবে সরি।

যে ফুল সজ্জিত হতে না হতেই 
সাজায়ে তোলে নিজেকে কন্টক সারে ,
সে কি কভু চেয়ে দেখে মালিকের ন্যায় 
কত যাতনার ফুল ফুটিয়াছে হাড়ে। 

গোধূলির রাঙা রোদে তটিনীর তীরে 
চকচক করে বালি ছুটে যায় আশে ,
ডুবে যায় রে পামর তটিনীর গায় 
ঢেউয়ে ঢেউয়ে কত স্বপ্নেরা ভাসে।

শত শত সমারোহে সাজায়াজি আজ 
নূতন করিয়া,দেখে নাহি কেহ চাহে 
সমাধি যে হইয়াছে  জীবিত প্রাণের 
কণ্ঠ ও দড়ি মিলনের গান গাহে। ।।

লিনা ফেরদৌস

অসুখী

তুমি যদি আকাশ হতে,
আমি আকাশের চাঁদ হতাম।
তুমি যদি সমুদ্র হতে,
আমি সমুদ্রের নীচের শ্যাওলা হতাম।
তুমি যদি মেঘ হতে,
তাহলে আমি বৃষ্টি হতাম।
তুমি যদি কোকিল হতে,
তাহলে আমি তোমার কন্ঠস্বর হতাম।
তুমি যদি একবার আমায় বলতে,
তাহলে আমি তোমায় মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলতাম।
তুমি যদি একবার অসুবিধা বলতে,
আমি তোমার অসুবিধার সমাধান করতাম।
তুমি যদি আমার প্রেমিক হতে,
আমি তোমার প্রেমিকা হতাম।
আমায় একলা রেখে চলে গেলে দূর দূরান্তে,
কী করে বোঝায় তোমাকে
আবার অসুখী একজন থেকে গেল পৃথিবীতে।

প্রাঞ্জল পাল

সৃষ্টি - সুখ

ডাইরির ছেড়া পাতায় লেখা
আমার গল্পের আস্তানা 
তোমার আমার ভালো থাকায়
স্বপ্নই শুধু আনমনা !

আকাশ সাজুক , বৃষ্টি পড়ুক
কান্নাটাতো বাহানা
আদর , সোহাগ , গল্প ছলে
মান - অভিমান একমনা !

গল্প লেখি প্রেমের সুরে 
কাব্য গড়ি একটানা
বন্ধ ঘরে আপনমনে 
সৃষ্টি সুখের কল্পনা !!

বিমান প্রামানিক

সঙ্গীতের নারী

জন্ম তোমার হয়নি যদিও এই বঙ্গে,
তুমি ছিলে আছো থাকবেও মোদের সঙ্গে।
পরাধীন দেশের ইন্দোরেতে দীননাথের ঘরে,
গলায় গলায় রেখেছো চরণ জগৎ দুয়ারে।
গানে গানে ভরিয়েছো যে সারা ভূবন,
কন্ঠে তোমার দেবী সরস্বতী ই বিরাজমান।
গানেই নাকি তোমার পরিচয়, বলি তুমি বাঙালি।
তোমার কন্ঠ বিনা সত্যিই আমরা গান কাঙালি।
হিন্দি ছেড়ে বাংলা, বাংলা ছেড়ে মারাঠি,
আরও কত যে নাই বা বলি; তুমিই কোকিল কোন্ঠী।
"চঞ্চল মন আনমনা হয়" তোমার কন্ঠে তেই,
"সাত ভাই চম্পা" বেজে ওঠে যেখানে যেভাবেই।
যদি বলি-- "চলে যেতে যেতে দিন বলে যায়",
"আকাশ প্রদীপ জ্বলে", কখনও "নিঝুম সন্ধ্যায়"।
যতই বলি তোমার কথা, সবই রবে পরে; হবে না শেষ,
আট দশকের কর্ম ইতিহাস ছড়িয়েছে দেশ বিদেশ।
ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ কিবা আরও বাকি,
দাদা সাহেব ফালকে, ফিল্মফেয়ার  কোনটা বলি, কোনটা রাখি!
আশা, ঊষা, মীনা দেবী তোমার সহোদরা,
তুমিই জ্যেষ্ঠ সন্তান, গর্বেতে বুক ভরা।
বার্ধক্যের সাথে দীর্ঘ লড়াই করে ছাড়লে এই ধরাধাম,
রেখে গেলে তুমি কন্ঠ তোমার, বিশ্ব জোড়া নাম।
দুই সহস্র দ্বাবিংশ সালের দ্বিতীয় মাসে দিন সংখ্যা ছয়,
সকালের এক দুঃসংবাদে গানপ্রেমীদের জীবনে পরাজয়।

দীপু রায়

ভাষা আর ভাষান্তর

পৃথিবীটা আন্তর্জালে আবদ্ধ হতে হতে এখন গ্লোবাল ভিলেজ, মানুষ ছাপোশা থেকে বদলে গেছে হাইপ্রোফাইল সোসাইটির বাসিন্দাতে।
তবুও যারা কিছুটা অনগ্রসর ছিল, তারাও প্রাণপণ চেষ্টায় শহরমুখী..
বিশ্বায়নের স্রোতে মানুষ ভেসে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে, হারিয়ে যায় ভাষা থেকে ভাষান্তরে.. 
প্রয়োজনের তাগিদে আমরা আজ বহুভাষিক প্রায়..
কিন্তু নাড়ির টান উপেক্ষা করার সাধ্য কার..???
দিন শেষে ঘরের প্রতি টান
আর সব শেষে ভাষার প্রতি টান শিরায়-উপশিরায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে ...
নিকানো উঠোন, সন্ধ্যাপ্রদীপ, পৌষপার্বনের পিঠে, দোলের ফাগ, শারদীয়ার ঢাকের বোল, আর মায়ের আদরমাখানো মাতৃভাষা বেঁচে থাক হামেশাই....