Nov 30, 2025

মিলনকান্তি দত্ত

শ্রাবণের গান 

আমি বৃষ্টি। সঙ্গে থাকুন। বলেই 
স্মিত সঞ্চালিকা হাওয়া। 
তারপর বিরতিহীন বিজ্ঞাপিত 
বিকিনি সাঁতার, নেবুগন্ধে ডানা মেলে 
প্রজাপতি ব্রা, ঝরঝর মুখর 
          আমার বসার ঘর থই থই। 
তিনি হাসলেই স্ট্রবেরিমুন । তিনি 
কথা বললে পিছলে পড়া । 
তিনি ফুটলেই দিতে এসেছি 
                   প্রথম কদমফুল । 

সঙ্গে তো আছিই । কোথায় আমার 
জলবন্টনের তিস্তা ! খুব কাছে অসময়ের 
অনাবৃষ্টি জমে জমে খরা পিরিয়ড।
ফ্রেন্ডস জোন থেকে উড়ছিল আগুনের 
অম্লপতাকা, এরই মধ্যে 
          সভ্যতাবরাদ্দ শেডিং ! 

অন্ধকারের ভিতর অন্ধকার 
একেবারে মৌনের সোলমেট তুমি ? 

গুমোটের অনুর্বর ঘড়ি সহসা 
ককিয়ে ওঠার আগে 
ঘর ভিজে যায় আলোয় আলোয়, 
চ্যানেলে চ্যানেলে তখন 
                          কৃষিপরামর্শ।

সৌমিত বসু

যে একা সে একা নয় 

দুটো লোক একসাথে হেঁটে যাওয়া মানেই কিন্তু শুয়ে পড়া নয়।
শুয়ে পড়ার জন্য পেরোতে হয় 
বেশ কয়েকটা অচেনা খাদ। 

গাছে গাছে ফুল আর চারিদিকে পাখি ডাকছে, 
মানেই কিন্তু বসন্ত এসে গেছে নয়।
বসন্ত আসতে গেলে পেরিয়ে আসতে হয় যোজন যোজন ঋতু।

তুমি আকাশ ভালোবাসো ,আমি নদী। 
তার মানে এই নয় যে আমরা কখনো হাত ধরে হাঁটতে পারবো না। 
এইসব পায়ে চলা পথ দেখে 
কতো বিদ্রুপ সাজিয়ে দেয় মানুষ 
কতো মুখোশ পাল্টে পাল্টে মানুষকে দেখানো 
তার মানে এই নয় যে মূল্যায়ন সঠিক হয়ে গেল।
 
যারা একসাথে হাঁটছে তাদের জন্য আমার লাল কার্পেট।
যারা একসাথে গাইছে ,তাদের জন্য আমার তুলে আনা বোগেনভেলিয়া। 
যারা একসাথে কবিতার কথা বলছে তাদের জন্য আমার হৃদয়। 

হাঁটো বন্ধু হাঁটো ।
মহাকালে টিকে থাকার জন্য 
হেঁটে চলো যুধিষ্ঠিরের আদলে 
সামনে চোখ রেখে হাঁটো ,সঙ্গে যতক্ষণ দ্রৌপদী হাঁটবে 
সঙ্গে যতক্ষণ থাকবে অর্জুন ততক্ষণ হাঁটতে থাকো তাদেরই সঙ্গে 

আর সঙ্গে কেউ না থাকলে 
কুকুর ধর্মরাজকে সম্বল করে 
উঠে পড়ো রথের চূড়ায়।

নিবারণ নাথ

খবর
                   
প্রতিদিন খবর একটা না একটা থাকে
এই গ্ৰামের কেউ খবর পড়ে না
বা শুনারও তেমন আগ্রহ নেই

তবুও খবর হয়
খবর যে তৈরী করে
সেই শিরোনাম 
সেই পাঠক।

সবাই চুপচাপ 
নিজস্ব প্রতিনিধির
নিজস্ব খবর।

Nov 29, 2025

উমাশংকর রায়

পাণ্ডুলিপি ও তার দ্বিতীয় অধ্যায় 
    
যতই ভাবছি সিঁড়ি ভেঙে উঠছি উপরে 

পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা খসে পড়ছে নিচে
চিলেকোঠা থেকে।

দুঃখগুলো পাপোশের পাশে গুটিয়ে রেখে 
পতিত পৃষ্ঠাগুলো কুড়িয়ে নেব ভেবে 
তাকালাম নিচে।

আশ্চর্য ! শুরুর সংলাপগুলো 
সুতো ছিঁড়ে উড়ছে আকাশে

ভাবছ দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনামটি হবে নিশ্চয়ই -
ভোকাট্টার উড্ডয়ন দৃশ্য কিংবা ছেঁড়া-পাতা।

আপাতত থাক সে-পর্ব

এই বিরতির সময় 
বরং 
ভেবে বলো তুমি -

সিঁড়ি ভেঙে আদৌ উপরে যাব কি না।

কুশল ভৌমিক

বাবা ও ফনিক্স সাইকেল 

শূন্যস্থান বেশিদিন শূন্য থাকে না 
অথচ একটা ফনিক্স সাইকেল 
সেই যে আটকে আছে মরচেপড়া আকাশে 
অনবরত তার টুংটাং বেলের আওয়াজ
ভেঙে দিচ্ছে সুনসান নীরবতা। 

সাইকেল; শূন্য থেকে নেমে এসো
আমাকে পেছনে নিয়ে পাড়ি দাও ধলেশ্বরী 
পিসীর দোকানে  চল গরম সিঙ্গাড়া পুরী
স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখি হুলুস্থুল মানুষের ভিড় 
খালি পায়ে ভোর বেলা প্রভাত ফেরিতে চল
রাতভর হুল্লোড় ক্রিকেট ক্রিকেট 
প্রাণভরে দেখ ক্রিজে এখনো শচীন। 

ক্রিং ক্রিং বেল বাজেয়
সিট থেকে একবার নেমে এসো বাবা
চেয়ে দেখ শূন্যস্থান এখনো শূন্য আছে 
এত এত শূন্য নিয়ে মৃত্যুকে মেরে ফেলি চল...

আব্দুল গফফার

ডাটা চাই আরও ডাটা চাই

হাতের মুঠোয় সারাক্ষণ স্মার্টফোন,
সুরেলা রিংটোনে মেতে উঠেছে,
আট থেকে আশি, শিশু থেকে বৃদ্ধ।
এরই মাঝে ব্যালেন্স শেষ,নেট চলছে ধীরে,
ডাটা চাই, ডাটা চাই,আরও ডাটা চাই।
ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে চড়ে,
ইউটিউবের আঁতুড় ঘরে পৌঁছানো চাই-
লাল নীল ইশারা, দেখো কি বার্তা এসেছে!
এক আঙুলেই বাজিমাত, টাইপের ঝড় উঠেছে-
প্রেম আলাপে উদব্যস্ত প্রেমিক যুগল,
টিক টিক টিক, জিমেইলের খাম হাজির-
ফোন ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ইউটিউব জিমেইল,
ওহ! জীবন কি দুর্বিষহ- কোনটা যে সামলাই,
শ্যাম ও কূল দুইই রাখতে হবে।
এবার হাই-হ্যালো হ্যালো হ্যালো, 
ঠিক আছে, হাই.....ঠিক আছে বাই।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

মাঝে মাঝেই প্রশ্ন জাগে
পুরুষ, তুমি কার ?
যে পায় ভরসা, প্রাণের অঙ্গীকার
পুরুষ শুধুই তার।

যুগ যুগ ধরে হলাহল পানে
পুরুষ তুমি শৈব শক্তিধারী
সব কলঙ্ক মাথায় নিয়ে 
শিখেছো দুনিয়াদারি।

অভিযোগ আর দায়ভার নিয়ে
উদোর পিণ্ডি যেখানে আছে যত
নিতে হবে সব মাথা পেতে আজ
বুধোর ঘাড়ের মতো।

নীচ অধমের অসৎ কাজে
যখন যেথায় হাহাকার, 
বিশ্ব পুরুষ, তোমার ভাগে 
জুটবে শুধুই তিরস্কার।

আজ পুরুষের দশটি হাত
দশদিক সামলায়, 
যা ছিল - তার অনেক কিছুই 
আজ শুধু কাঠগড়ায়।

ভাইফোঁটা শেষ, বোনফোঁটা শুরু
নব্য যুগের হাল ফ্যাশন, 
সামলে যত বদনাম তুমি
ঘুচাও তোমার সব প্যাশন।

পুরুষ তুমি নিছক কল্পতরু 
ভাসাও জলে পুরুষকার, 
আজকে পুরুষ তোমার জন্য 
থাকছে শুধুই তিরস্কার।

পুরুষ, তোমায় হাজার নমস্কার।

নবীনকিশোর রায়

নৈঃশব্দ্য দ্রোহকাল

আমাদের যা কিছু আরোগ্য, আরোহণ যোগ্য নিরাপদ বসবাসের চাতাল জুড়ে ছিল বিস্তারিত ফসলের আভূমি—
ছিলো মুক্ত চাষাবাদের মৃগয়া ক্ষেত্রের সামাহার!

শিরদাঁড়া সোজা রেখে হালে, দাঁড়াতে গেলে 
মাথার উপর চেপে বসে ভারি পাথরের মতো কর্মনাশা শূন্যতা, বিধিনিষেধ আর বিভেধের  বেড়াজাল ! 

শাষণদণ্ড ব্যাপী থাকে 
অর্ধসত্য অপলাপ ! ধর্মভেদি প্রাচীর ঘিরে নৈঃশব্দ্যে পাতাকা উড়ায় একচ্ছত্র দ্রোহকাল ! 

রুদ্র মোস্তফা

মনেরও মন্বন্তর থাকে

কে যেন  কাগজে আঁকে পর্দা টানানো জানালা
কাগজে ভাসায় নদী 
কে যেন জল ঘেঁটে কাগজ ভেজায় একলা নিরবধি!
কাগজ ছিঁড়তে গিয়ে কে যেন মন ছিঁড়ে রোজ 
রক্তভেজা সে মনের কতজন রাখে খোঁজ! 
কিছু কিছু প্রেম শস্যহীন সৌন্দর্য ছড়ায় পুষ্পনীড়ে 
কারো কারো ডাক নাম পচে যায় 
ঢেকে দেওয়া মৌলিক নামের ভিড়ে। 
কারো কারো চোখে পড়ে ঈর্ষার আবছায়া আলো 
অভ্যাসের চোট নিয়ে  কেউ কেউ সম্পর্কে ছড়ায় কালো।
কে ফিরে পেতে চায় নির্জন রাত 
আবেগে ঠাসা কৈশোর? 
কে ফিরে পেতে চায় দুপুর 
সিঁধকাটা ভোর 
কার গেছে স্বপ্ন ভেসে 
জেগে আছে কার ব্যথানীল ভীষণ ভাংচুর চোখ
কে সে ফিরে পেতে চায়
বিষাদের ভাঁজে ঝুলে থাকা প্রিয় প্রিয় মুখ?
কার যেনো কণ্ঠ খসে পিছলে যায় কৌশলী সতর্ক শব্দ 
গল্পের হট্টগোলে কে যেনো ঠিকানা হারিয়ে হয় জব্দ!
কেউ বোঝে না মনেরও মন্বন্তর থাকে 
বহু মন মরে যায় দেহের গোপন বাঁকে।

সুমনা রায়

 ব্যথা

যে সঙ্কটের কোন উপশম জানা নেই
তাকেই জড়িয়ে নিয়ে হাঁটি পথ 
পতন দৃশ্য আঁকতে আঁকতে
নিভে যাচ্ছে নাট্যমঞ্চের আলো   
সীমাবদ্ধ জীবন থেকে ফিরে যেতে যেতে 
একটিবার চলে আসি নিজের কাছে
বাকি সব সরে যায় অনেক দূরে
সমপর্ণের ধারা বিবরণী বাজে বাতাসে 
ঝরে যায় আলগা সোহাগ
শান্ত হয় ধস্তাধস্তি আর দাপাদাপি 
মধুময় হয় অর্জিত সব ব্যথা

অনুরাগ ভৌমিক

অন্তহীন 

বেদুইন বাক্য যখন কলম থেকে ছুটে যায় —
বন্যা চোখে তাদের অপলক দেখি।
অনেক পরে তোমার নামে একটা চারা পুঁতি টবে,
তার সাথে কথালাপ করি;
জাপটে ধরতে ইচ্ছে হয় তার অনন্ত ভবিষ্যত।
রোদ ছুঁই ছুঁই একটা সকাল
আসে,
পাকা লেবুর মতো একটা সকাল আসে—
যাই রবীন্দ্র সঙ্গমে,যেখানে ত্রিকাল এসে মিশে আছে।
অকূল প্রেম, আশ্রয় আর নবান্ন ঘ্রাণ নিই,
সকল আবরণ ক্রমে খসে পড়ে...

সোমেন চক্রবর্তী

দলছুট এক হৃদয় 

এই বাচালতায় অনর্গল হেরে যাচ্ছি নিজের কাছে 
সম্মোহনবিদ্যার বিফল এক ছাত্র আমি। তবুও
কাকে যেন বোঝাই অর্ধেক গ্লাস জলের বাকিটুকু শূন্য। 

যেটুকু সত্য জানা থাকলে পার করা যায় সকল বন্ধন
তার খুব অল্পই জেনেছি এযাবৎ। তবে কেন 
পড়ে আছি নিজের ভেতর।
উত্তরাধিকারে কাকে দিতে চাই জীবনের স্বরূপ 

আরো কিছুক্ষণ থাকতে দাও এভাবে, জানালার পর্দা; যেন
লুকিয়ে থাকা সহজ হয়। বেঁচে থাকাও।
দেখো এক কস্তুরি মৃগ বিভোর হয়ে ধরে রেখেছে হাত

দলছুট পাখিটি জেনে গেছে পালানোর পথ শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে থাকায়

পিয়ালী সেনগুপ্ত

লোকে বলে  

লোকে বলে, আকাশটা ভারী একগুঁয়ে, 
সেই থেকে যে গুম খেয়েছে, বৃষ্টি কোথায় গেলে?
এইতো বলে লোকে, 
আজকাল নাকি বৃষ্টি হবে, কোথায় কে তা জানে! 
লোকের কথা শুনে, বৃষ্টি এবার নামে,
ঝমঝমিয়ে প্রবল স্রোতে, বুক ফাটিয়ে কাঁদে। 
তখন আবার বলে লোকে, 
ঢের হয়েছে রাখতো বাপু,
যা ফিরে যা চলে, সূর্যের আলোই তো ছিল ভালো, 
সূর্য কোথায় গেলে?
লোকের এ কথা শুনে, 
সূর্য তার তেজ দেখিয়ে যখন আসল রূপে আসে, 
সেই লোকেই এখন ওঠে বলে, 
বৃষ্টি কোথায় গেলে?

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

নাকের ডগায়

পথের কাঁটা ঝেঁটিয়ে দিয়েছ
চশমা হয়ে বসলে কেন নাকের ডগায়!
না দেখার ভান বেশ করেছি, 
অন্ধকার দেখেনি কেউ
তুষের আগুন ও তার ধোঁয়া।
তুমি তো জানতে হৃদপিণ্ডে তোলপাড় হয়ে যাবে
তবুও মানতে হবে, দু জনার'ই বুকের পাটা আছে
বা পাথর হয়ে আছে।
কতটুকু পাষাণ হলে মৃত্যু নিয়ে খেলা যায়!

জগন্নাথ বনিক

ভাবনা  

মনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা,
শব্দ গুলো আজ বাঁচতে চায়।
কখনো পদ‍্য কবিতায়,
কখনো বা গদ্য গল্পে।
ছন্দের তালে কবিতা যখন নৃত্য করে,
জীবনের বাস্তবতা,
ফুটে উঠে, গল্পের শব্দে।।
যে শব্দ মানুষকে কখনো হাসায়, 
আবার কখনো কাঁদায়।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবিরা যখন,
গল্প কিংবা কবিতা পড়ে,।
পাঠকের আসনে বসে,
আমি মনে মনে ভাবি,
কবিরা কীভাবে গল্প কিংবা কবিতা লিখে ।।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

অগ্রদূত

হেমন্তিকার আঁচলে বিকেলের প্রলেপ
ম্লান সূর্য অস্তাচলে। 
মেঠো সুর তোলা রাখাল ছেলে বাঁশি সামলে গোধূলি বেলা হাঁটে আলপথে। 
গৃহস্থ উঠোনে ধানী রঙের আভা 
ভাতের গন্ধে ঘরে ফেরে চই চই হাঁস  
তখন ঘর কন্নার পাঠে নিমগ্ন কিশোরী 
সন্ধ্যা নামে দিন-রাতের মিলনবাসরে
তুলসী তলার প্রদীপ আলোয় 
গৃহবধূটির উজ্জ্বল মায়াবী মুখ 
সূচনা করে নিভৃত গৃহকোণ, নন্দনকানন সুখ। 
রাসের মেলায় আলোর আভাস  
নাচবে মেলা রাইকিশোরী
বাঁশবাগানে লঘুচালে কলঙ্কিনী চাঁদ হাঁটে।
  
বিরহকাতর ধূসর হেমন্ত  
ঘাসের সংসার কুয়াশাসিক্ত
তবু হেমন্ত আসুক, বসন্তের অগ্রদূত হয়ে    
আসুক তীব্র ভাবে।।

পাপিয়া দাস

গর্ভবতী 

আমি মাছ কেটে সবেমাত্র সারলাম , ধুয়ার জন্য চৌবাচ্চার কাছে গেলাম,মিমি আজ‌ও এসে বসে রইল আতা গাছের গোড়ায়।আমাকে ডাকছে প্রতিদিনের মতো ।আমি ওর দিকে তাকিয়ে তাড়ানোর জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু ও কোনো বাঁধা না মেনে মিঞ মিঞ  করেই যাচ্ছে মাছের কাঁটা গুলি খাওয়ার জন্য। অন্য সময় তাড়ানোর চেষ্টা করলে না গেলেও পিছনে সরে যেতো ,পরে আসতো। কিন্তু আজ কিছুতেই একদম তাড়ানোই যাচ্ছে না,বুঝলাম গর্ভবতী তাই সন্তানের খাবারের জন্য সে কোনো বাঁধাই মানবে না। একজন  মা সন্তানের খুশির জন্য সকল বাঁধা অতিক্রম করতে পারে তা আজ মিমি দেখেই সেই অনুভূতিটা হলো।

রাজীব আচার্য্য

মানব জীবন

অহংকার পতনের মুল কারন
কেন করো অহংকার, 
মানুষ যদি নাই বাসে ভালো 
এইসবের কোন মূল্য নাই। 

মানব জীবন পেতে ভাই 
হয়েছে অনেক কষ্ট, 
বৃথায় তার অহংকার 
হয় যেন তার নষ্ট। 

ভালোবাসা হওক আমার 
মানুষের জীবন তরে, 
অন্ধকারের কালো দিন 
মুছবো আলোর পানে। 

টাকা পয়সা ধনসম্পদ 
থাকবে তাহা পরে, 
উপর থেকে ডাক আসলে 
সবই থাকবে পড়ে। 

সুন্দর আর মাধুর্য তো 
অল্প ক্ষনিকের জন্য, 
বয়স হলে সবই যাবে 
দেবে না কেউ সঙ্গ। 

অহংকারে উর্ধে উঠে 
মানবতার দেও মন, 
সময় আসলে যাবো চলে 
একা যাবো ঐ ভুবন। 

অহংকারী দম্ভের কারন 
কেউ বাসবে না ভালো, 
সমাজ তোমায় পিছিয়ে দেবে 
পাবে না কোন আনন্দ।

তাই ভেবে অহংকারটাকে 
চূর্ণ করো সবে, 
ভালোবাসার বীজ লাগাও 
যত্ন করো মিলে।

টিটুরাম চক্রবর্তী

ভাষাহীন 

জানিনা আমার কথা সব যাচ্ছে কী তোমার কানে।
জানিনা এই লেখা গুলোর আছে কী কোন মানে।
তবুও আমি খোঁজে খোঁজে সব শব্দ বের করি। 
সেই শব্দ দিয়ে না জানি কত বাক্য তৈরী করি।
এত অবহেলা জেনেও আর একটু ধৈর্য ধরি।
পুরোনো পাতা ছিড়ে নুতন খাতা তৈরি করি।
বলবো না সব গোপন কথা এই আমার অঙ্গীকার।
একাই একাই কাটিয়ে দেবো জীবন যৌবন পার।
জানি আমার লেখাগুলো সব যাবে ডাস্টবিনে।
জেনেও ছাড়ছিনা লেখা বিধুক তোমার মনে।
বালুচরে জমিয়ে বালু বোকারা পাহাড় বানায়।
এক নিমিষেই প্রবল স্রোতে ভেসে যায় মোহনায়।

শিপ্রা সূত্রধর রায়

ক্ষমা 

ক্ষমা,
       ক্ষীণ এক দুর্বলতা নয় ,
         বিনয়ের উৎস হতে উৎসারিত ...
সম্ভ্রমে, সম্মানে। 

ক্ষমা, 
      এক নদী। 
বালি চরা বুকে নিয়েও 
সয়ে সয়ে বয়ে যেতে জানে। 

ক্ষমা,
      এক ক্ষমতার ক্ষরণ 
  দৃঢ়তার দীপ্ত তেজে 
পুড়ে পুড়ে মনে রাখা অশ্র সংবরণ। 

ক্ষমা,
       শান্তির স্নিগ্ধ ব্যাকরণ। 
     ফিসফিস, ফুসফাস যত আচরণ 
নিমেষহারা স্রোতে ভাসায়ে সহাস্য বরণ।