Nov 30, 2025

মিলনকান্তি দত্ত

শ্রাবণের গান 

আমি বৃষ্টি। সঙ্গে থাকুন। বলেই 
স্মিত সঞ্চালিকা হাওয়া। 
তারপর বিরতিহীন বিজ্ঞাপিত 
বিকিনি সাঁতার, নেবুগন্ধে ডানা মেলে 
প্রজাপতি ব্রা, ঝরঝর মুখর 
          আমার বসার ঘর থই থই। 
তিনি হাসলেই স্ট্রবেরিমুন । তিনি 
কথা বললে পিছলে পড়া । 
তিনি ফুটলেই দিতে এসেছি 
                   প্রথম কদমফুল । 

সঙ্গে তো আছিই । কোথায় আমার 
জলবন্টনের তিস্তা ! খুব কাছে অসময়ের 
অনাবৃষ্টি জমে জমে খরা পিরিয়ড।
ফ্রেন্ডস জোন থেকে উড়ছিল আগুনের 
অম্লপতাকা, এরই মধ্যে 
          সভ্যতাবরাদ্দ শেডিং ! 

অন্ধকারের ভিতর অন্ধকার 
একেবারে মৌনের সোলমেট তুমি ? 

গুমোটের অনুর্বর ঘড়ি সহসা 
ককিয়ে ওঠার আগে 
ঘর ভিজে যায় আলোয় আলোয়, 
চ্যানেলে চ্যানেলে তখন 
                          কৃষিপরামর্শ।

সৌমিত বসু

যে একা সে একা নয় 

দুটো লোক একসাথে হেঁটে যাওয়া মানেই কিন্তু শুয়ে পড়া নয়।
শুয়ে পড়ার জন্য পেরোতে হয় 
বেশ কয়েকটা অচেনা খাদ। 

গাছে গাছে ফুল আর চারিদিকে পাখি ডাকছে, 
মানেই কিন্তু বসন্ত এসে গেছে নয়।
বসন্ত আসতে গেলে পেরিয়ে আসতে হয় যোজন যোজন ঋতু।

তুমি আকাশ ভালোবাসো ,আমি নদী। 
তার মানে এই নয় যে আমরা কখনো হাত ধরে হাঁটতে পারবো না। 
এইসব পায়ে চলা পথ দেখে 
কতো বিদ্রুপ সাজিয়ে দেয় মানুষ 
কতো মুখোশ পাল্টে পাল্টে মানুষকে দেখানো 
তার মানে এই নয় যে মূল্যায়ন সঠিক হয়ে গেল।
 
যারা একসাথে হাঁটছে তাদের জন্য আমার লাল কার্পেট।
যারা একসাথে গাইছে ,তাদের জন্য আমার তুলে আনা বোগেনভেলিয়া। 
যারা একসাথে কবিতার কথা বলছে তাদের জন্য আমার হৃদয়। 

হাঁটো বন্ধু হাঁটো ।
মহাকালে টিকে থাকার জন্য 
হেঁটে চলো যুধিষ্ঠিরের আদলে 
সামনে চোখ রেখে হাঁটো ,সঙ্গে যতক্ষণ দ্রৌপদী হাঁটবে 
সঙ্গে যতক্ষণ থাকবে অর্জুন ততক্ষণ হাঁটতে থাকো তাদেরই সঙ্গে 

আর সঙ্গে কেউ না থাকলে 
কুকুর ধর্মরাজকে সম্বল করে 
উঠে পড়ো রথের চূড়ায়।

নিবারণ নাথ

খবর
                   
প্রতিদিন খবর একটা না একটা থাকে
এই গ্ৰামের কেউ খবর পড়ে না
বা শুনারও তেমন আগ্রহ নেই

তবুও খবর হয়
খবর যে তৈরী করে
সেই শিরোনাম 
সেই পাঠক।

সবাই চুপচাপ 
নিজস্ব প্রতিনিধির
নিজস্ব খবর।

Nov 29, 2025

উমাশংকর রায়

পাণ্ডুলিপি ও তার দ্বিতীয় অধ্যায় 
    
যতই ভাবছি সিঁড়ি ভেঙে উঠছি উপরে 

পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা খসে পড়ছে নিচে
চিলেকোঠা থেকে।

দুঃখগুলো পাপোশের পাশে গুটিয়ে রেখে 
পতিত পৃষ্ঠাগুলো কুড়িয়ে নেব ভেবে 
তাকালাম নিচে।

আশ্চর্য ! শুরুর সংলাপগুলো 
সুতো ছিঁড়ে উড়ছে আকাশে

ভাবছ দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনামটি হবে নিশ্চয়ই -
ভোকাট্টার উড্ডয়ন দৃশ্য কিংবা ছেঁড়া-পাতা।

আপাতত থাক সে-পর্ব

এই বিরতির সময় 
বরং 
ভেবে বলো তুমি -

সিঁড়ি ভেঙে আদৌ উপরে যাব কি না।

কুশল ভৌমিক

বাবা ও ফনিক্স সাইকেল 

শূন্যস্থান বেশিদিন শূন্য থাকে না 
অথচ একটা ফনিক্স সাইকেল 
সেই যে আটকে আছে মরচেপড়া আকাশে 
অনবরত তার টুংটাং বেলের আওয়াজ
ভেঙে দিচ্ছে সুনসান নীরবতা। 

সাইকেল; শূন্য থেকে নেমে এসো
আমাকে পেছনে নিয়ে পাড়ি দাও ধলেশ্বরী 
পিসীর দোকানে  চল গরম সিঙ্গাড়া পুরী
স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখি হুলুস্থুল মানুষের ভিড় 
খালি পায়ে ভোর বেলা প্রভাত ফেরিতে চল
রাতভর হুল্লোড় ক্রিকেট ক্রিকেট 
প্রাণভরে দেখ ক্রিজে এখনো শচীন। 

ক্রিং ক্রিং বেল বাজেয়
সিট থেকে একবার নেমে এসো বাবা
চেয়ে দেখ শূন্যস্থান এখনো শূন্য আছে 
এত এত শূন্য নিয়ে মৃত্যুকে মেরে ফেলি চল...

আব্দুল গফফার

ডাটা চাই আরও ডাটা চাই

হাতের মুঠোয় সারাক্ষণ স্মার্টফোন,
সুরেলা রিংটোনে মেতে উঠেছে,
আট থেকে আশি, শিশু থেকে বৃদ্ধ।
এরই মাঝে ব্যালেন্স শেষ,নেট চলছে ধীরে,
ডাটা চাই, ডাটা চাই,আরও ডাটা চাই।
ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে চড়ে,
ইউটিউবের আঁতুড় ঘরে পৌঁছানো চাই-
লাল নীল ইশারা, দেখো কি বার্তা এসেছে!
এক আঙুলেই বাজিমাত, টাইপের ঝড় উঠেছে-
প্রেম আলাপে উদব্যস্ত প্রেমিক যুগল,
টিক টিক টিক, জিমেইলের খাম হাজির-
ফোন ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ইউটিউব জিমেইল,
ওহ! জীবন কি দুর্বিষহ- কোনটা যে সামলাই,
শ্যাম ও কূল দুইই রাখতে হবে।
এবার হাই-হ্যালো হ্যালো হ্যালো, 
ঠিক আছে, হাই.....ঠিক আছে বাই।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

মাঝে মাঝেই প্রশ্ন জাগে
পুরুষ, তুমি কার ?
যে পায় ভরসা, প্রাণের অঙ্গীকার
পুরুষ শুধুই তার।

যুগ যুগ ধরে হলাহল পানে
পুরুষ তুমি শৈব শক্তিধারী
সব কলঙ্ক মাথায় নিয়ে 
শিখেছো দুনিয়াদারি।

অভিযোগ আর দায়ভার নিয়ে
উদোর পিণ্ডি যেখানে আছে যত
নিতে হবে সব মাথা পেতে আজ
বুধোর ঘাড়ের মতো।

নীচ অধমের অসৎ কাজে
যখন যেথায় হাহাকার, 
বিশ্ব পুরুষ, তোমার ভাগে 
জুটবে শুধুই তিরস্কার।

আজ পুরুষের দশটি হাত
দশদিক সামলায়, 
যা ছিল - তার অনেক কিছুই 
আজ শুধু কাঠগড়ায়।

ভাইফোঁটা শেষ, বোনফোঁটা শুরু
নব্য যুগের হাল ফ্যাশন, 
সামলে যত বদনাম তুমি
ঘুচাও তোমার সব প্যাশন।

পুরুষ তুমি নিছক কল্পতরু 
ভাসাও জলে পুরুষকার, 
আজকে পুরুষ তোমার জন্য 
থাকছে শুধুই তিরস্কার।

পুরুষ, তোমায় হাজার নমস্কার।

নবীনকিশোর রায়

নৈঃশব্দ্য দ্রোহকাল

আমাদের যা কিছু আরোগ্য, আরোহণ যোগ্য নিরাপদ বসবাসের চাতাল জুড়ে ছিল বিস্তারিত ফসলের আভূমি—
ছিলো মুক্ত চাষাবাদের মৃগয়া ক্ষেত্রের সামাহার!

শিরদাঁড়া সোজা রেখে হালে, দাঁড়াতে গেলে 
মাথার উপর চেপে বসে ভারি পাথরের মতো কর্মনাশা শূন্যতা, বিধিনিষেধ আর বিভেধের  বেড়াজাল ! 

শাষণদণ্ড ব্যাপী থাকে 
অর্ধসত্য অপলাপ ! ধর্মভেদি প্রাচীর ঘিরে নৈঃশব্দ্যে পাতাকা উড়ায় একচ্ছত্র দ্রোহকাল ! 

রুদ্র মোস্তফা

মনেরও মন্বন্তর থাকে

কে যেন  কাগজে আঁকে পর্দা টানানো জানালা
কাগজে ভাসায় নদী 
কে যেন জল ঘেঁটে কাগজ ভেজায় একলা নিরবধি!
কাগজ ছিঁড়তে গিয়ে কে যেন মন ছিঁড়ে রোজ 
রক্তভেজা সে মনের কতজন রাখে খোঁজ! 
কিছু কিছু প্রেম শস্যহীন সৌন্দর্য ছড়ায় পুষ্পনীড়ে 
কারো কারো ডাক নাম পচে যায় 
ঢেকে দেওয়া মৌলিক নামের ভিড়ে। 
কারো কারো চোখে পড়ে ঈর্ষার আবছায়া আলো 
অভ্যাসের চোট নিয়ে  কেউ কেউ সম্পর্কে ছড়ায় কালো।
কে ফিরে পেতে চায় নির্জন রাত 
আবেগে ঠাসা কৈশোর? 
কে ফিরে পেতে চায় দুপুর 
সিঁধকাটা ভোর 
কার গেছে স্বপ্ন ভেসে 
জেগে আছে কার ব্যথানীল ভীষণ ভাংচুর চোখ
কে সে ফিরে পেতে চায়
বিষাদের ভাঁজে ঝুলে থাকা প্রিয় প্রিয় মুখ?
কার যেনো কণ্ঠ খসে পিছলে যায় কৌশলী সতর্ক শব্দ 
গল্পের হট্টগোলে কে যেনো ঠিকানা হারিয়ে হয় জব্দ!
কেউ বোঝে না মনেরও মন্বন্তর থাকে 
বহু মন মরে যায় দেহের গোপন বাঁকে।

সুমনা রায়

 ব্যথা

যে সঙ্কটের কোন উপশম জানা নেই
তাকেই জড়িয়ে নিয়ে হাঁটি পথ 
পতন দৃশ্য আঁকতে আঁকতে
নিভে যাচ্ছে নাট্যমঞ্চের আলো   
সীমাবদ্ধ জীবন থেকে ফিরে যেতে যেতে 
একটিবার চলে আসি নিজের কাছে
বাকি সব সরে যায় অনেক দূরে
সমপর্ণের ধারা বিবরণী বাজে বাতাসে 
ঝরে যায় আলগা সোহাগ
শান্ত হয় ধস্তাধস্তি আর দাপাদাপি 
মধুময় হয় অর্জিত সব ব্যথা

অনুরাগ ভৌমিক

অন্তহীন 

বেদুইন বাক্য যখন কলম থেকে ছুটে যায় —
বন্যা চোখে তাদের অপলক দেখি।
অনেক পরে তোমার নামে একটা চারা পুঁতি টবে,
তার সাথে কথালাপ করি;
জাপটে ধরতে ইচ্ছে হয় তার অনন্ত ভবিষ্যত।
রোদ ছুঁই ছুঁই একটা সকাল
আসে,
পাকা লেবুর মতো একটা সকাল আসে—
যাই রবীন্দ্র সঙ্গমে,যেখানে ত্রিকাল এসে মিশে আছে।
অকূল প্রেম, আশ্রয় আর নবান্ন ঘ্রাণ নিই,
সকল আবরণ ক্রমে খসে পড়ে...

সোমেন চক্রবর্তী

দলছুট এক হৃদয় 

এই বাচালতায় অনর্গল হেরে যাচ্ছি নিজের কাছে 
সম্মোহনবিদ্যার বিফল এক ছাত্র আমি। তবুও
কাকে যেন বোঝাই অর্ধেক গ্লাস জলের বাকিটুকু শূন্য। 

যেটুকু সত্য জানা থাকলে পার করা যায় সকল বন্ধন
তার খুব অল্পই জেনেছি এযাবৎ। তবে কেন 
পড়ে আছি নিজের ভেতর।
উত্তরাধিকারে কাকে দিতে চাই জীবনের স্বরূপ 

আরো কিছুক্ষণ থাকতে দাও এভাবে, জানালার পর্দা; যেন
লুকিয়ে থাকা সহজ হয়। বেঁচে থাকাও।
দেখো এক কস্তুরি মৃগ বিভোর হয়ে ধরে রেখেছে হাত

দলছুট পাখিটি জেনে গেছে পালানোর পথ শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে থাকায়

পিয়ালী সেনগুপ্ত

লোকে বলে  

লোকে বলে, আকাশটা ভারী একগুঁয়ে, 
সেই থেকে যে গুম খেয়েছে, বৃষ্টি কোথায় গেলে?
এইতো বলে লোকে, 
আজকাল নাকি বৃষ্টি হবে, কোথায় কে তা জানে! 
লোকের কথা শুনে, বৃষ্টি এবার নামে,
ঝমঝমিয়ে প্রবল স্রোতে, বুক ফাটিয়ে কাঁদে। 
তখন আবার বলে লোকে, 
ঢের হয়েছে রাখতো বাপু,
যা ফিরে যা চলে, সূর্যের আলোই তো ছিল ভালো, 
সূর্য কোথায় গেলে?
লোকের এ কথা শুনে, 
সূর্য তার তেজ দেখিয়ে যখন আসল রূপে আসে, 
সেই লোকেই এখন ওঠে বলে, 
বৃষ্টি কোথায় গেলে?

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

নাকের ডগায়

পথের কাঁটা ঝেঁটিয়ে দিয়েছ
চশমা হয়ে বসলে কেন নাকের ডগায়!
না দেখার ভান বেশ করেছি, 
অন্ধকার দেখেনি কেউ
তুষের আগুন ও তার ধোঁয়া।
তুমি তো জানতে হৃদপিণ্ডে তোলপাড় হয়ে যাবে
তবুও মানতে হবে, দু জনার'ই বুকের পাটা আছে
বা পাথর হয়ে আছে।
কতটুকু পাষাণ হলে মৃত্যু নিয়ে খেলা যায়!

জগন্নাথ বনিক

ভাবনা  

মনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা,
শব্দ গুলো আজ বাঁচতে চায়।
কখনো পদ‍্য কবিতায়,
কখনো বা গদ্য গল্পে।
ছন্দের তালে কবিতা যখন নৃত্য করে,
জীবনের বাস্তবতা,
ফুটে উঠে, গল্পের শব্দে।।
যে শব্দ মানুষকে কখনো হাসায়, 
আবার কখনো কাঁদায়।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবিরা যখন,
গল্প কিংবা কবিতা পড়ে,।
পাঠকের আসনে বসে,
আমি মনে মনে ভাবি,
কবিরা কীভাবে গল্প কিংবা কবিতা লিখে ।।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

অগ্রদূত

হেমন্তিকার আঁচলে বিকেলের প্রলেপ
ম্লান সূর্য অস্তাচলে। 
মেঠো সুর তোলা রাখাল ছেলে বাঁশি সামলে গোধূলি বেলা হাঁটে আলপথে। 
গৃহস্থ উঠোনে ধানী রঙের আভা 
ভাতের গন্ধে ঘরে ফেরে চই চই হাঁস  
তখন ঘর কন্নার পাঠে নিমগ্ন কিশোরী 
সন্ধ্যা নামে দিন-রাতের মিলনবাসরে
তুলসী তলার প্রদীপ আলোয় 
গৃহবধূটির উজ্জ্বল মায়াবী মুখ 
সূচনা করে নিভৃত গৃহকোণ, নন্দনকানন সুখ। 
রাসের মেলায় আলোর আভাস  
নাচবে মেলা রাইকিশোরী
বাঁশবাগানে লঘুচালে কলঙ্কিনী চাঁদ হাঁটে।
  
বিরহকাতর ধূসর হেমন্ত  
ঘাসের সংসার কুয়াশাসিক্ত
তবু হেমন্ত আসুক, বসন্তের অগ্রদূত হয়ে    
আসুক তীব্র ভাবে।।

পাপিয়া দাস

গর্ভবতী 

আমি মাছ কেটে সবেমাত্র সারলাম , ধুয়ার জন্য চৌবাচ্চার কাছে গেলাম,মিমি আজ‌ও এসে বসে রইল আতা গাছের গোড়ায়।আমাকে ডাকছে প্রতিদিনের মতো ।আমি ওর দিকে তাকিয়ে তাড়ানোর জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু ও কোনো বাঁধা না মেনে মিঞ মিঞ  করেই যাচ্ছে মাছের কাঁটা গুলি খাওয়ার জন্য। অন্য সময় তাড়ানোর চেষ্টা করলে না গেলেও পিছনে সরে যেতো ,পরে আসতো। কিন্তু আজ কিছুতেই একদম তাড়ানোই যাচ্ছে না,বুঝলাম গর্ভবতী তাই সন্তানের খাবারের জন্য সে কোনো বাঁধাই মানবে না। একজন  মা সন্তানের খুশির জন্য সকল বাঁধা অতিক্রম করতে পারে তা আজ মিমি দেখেই সেই অনুভূতিটা হলো।

রাজীব আচার্য্য

মানব জীবন

অহংকার পতনের মুল কারন
কেন করো অহংকার, 
মানুষ যদি নাই বাসে ভালো 
এইসবের কোন মূল্য নাই। 

মানব জীবন পেতে ভাই 
হয়েছে অনেক কষ্ট, 
বৃথায় তার অহংকার 
হয় যেন তার নষ্ট। 

ভালোবাসা হওক আমার 
মানুষের জীবন তরে, 
অন্ধকারের কালো দিন 
মুছবো আলোর পানে। 

টাকা পয়সা ধনসম্পদ 
থাকবে তাহা পরে, 
উপর থেকে ডাক আসলে 
সবই থাকবে পড়ে। 

সুন্দর আর মাধুর্য তো 
অল্প ক্ষনিকের জন্য, 
বয়স হলে সবই যাবে 
দেবে না কেউ সঙ্গ। 

অহংকারে উর্ধে উঠে 
মানবতার দেও মন, 
সময় আসলে যাবো চলে 
একা যাবো ঐ ভুবন। 

অহংকারী দম্ভের কারন 
কেউ বাসবে না ভালো, 
সমাজ তোমায় পিছিয়ে দেবে 
পাবে না কোন আনন্দ।

তাই ভেবে অহংকারটাকে 
চূর্ণ করো সবে, 
ভালোবাসার বীজ লাগাও 
যত্ন করো মিলে।

টিটুরাম চক্রবর্তী

ভাষাহীন 

জানিনা আমার কথা সব যাচ্ছে কী তোমার কানে।
জানিনা এই লেখা গুলোর আছে কী কোন মানে।
তবুও আমি খোঁজে খোঁজে সব শব্দ বের করি। 
সেই শব্দ দিয়ে না জানি কত বাক্য তৈরী করি।
এত অবহেলা জেনেও আর একটু ধৈর্য ধরি।
পুরোনো পাতা ছিড়ে নুতন খাতা তৈরি করি।
বলবো না সব গোপন কথা এই আমার অঙ্গীকার।
একাই একাই কাটিয়ে দেবো জীবন যৌবন পার।
জানি আমার লেখাগুলো সব যাবে ডাস্টবিনে।
জেনেও ছাড়ছিনা লেখা বিধুক তোমার মনে।
বালুচরে জমিয়ে বালু বোকারা পাহাড় বানায়।
এক নিমিষেই প্রবল স্রোতে ভেসে যায় মোহনায়।

শিপ্রা সূত্রধর রায়

ক্ষমা 

ক্ষমা,
       ক্ষীণ এক দুর্বলতা নয় ,
         বিনয়ের উৎস হতে উৎসারিত ...
সম্ভ্রমে, সম্মানে। 

ক্ষমা, 
      এক নদী। 
বালি চরা বুকে নিয়েও 
সয়ে সয়ে বয়ে যেতে জানে। 

ক্ষমা,
      এক ক্ষমতার ক্ষরণ 
  দৃঢ়তার দীপ্ত তেজে 
পুড়ে পুড়ে মনে রাখা অশ্র সংবরণ। 

ক্ষমা,
       শান্তির স্নিগ্ধ ব্যাকরণ। 
     ফিসফিস, ফুসফাস যত আচরণ 
নিমেষহারা স্রোতে ভাসায়ে সহাস্য বরণ।

Oct 13, 2025

নিবারণ নাথ

বৈশ্বানর

আগুন গন্ধে বৈদ্যুতিক তারে
ঝুলে আছে হৃদয়

কার হৃদয়?

যাকেই প্রশ্ন করি 
উত্তর আসে
আমার---
আমার-----
  
আমি এখন বৈশ্বানর
হাত মিলাই হাতে।

আব্দুল গফফার

পেটের জ্বালা বড় জালা

তোমরা দুয়োরাণী সুয়োরাণীর গল্প শুনেছ!
ওদের সকাল হয় তীব্র ক্ষুধা নিয়ে,
রাত্রের নিদ্রায় ওরা স্বপ্ন দেখে-
এই বুঝি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেল।
আসলে পাওয়া না পাওয়ার গল্পে,
ওরা নিত্য মশগুল থাকে,
জীবনানন্দের কাব্য কবিতায়।
যদিও কাব্য কবিতার শব্দ লাইনগুলি
ওদের কাছে তৃপ্তি করে চেঁটেপুটে খাওয়ার মত।
ওরা জানেনা লবণ ঝাল তেতো মিষ্টির ফারাক। 
এইভাবে এক পেট ক্ষুধা নিয়ে দুয়ো সুয়োরা-
জলভরা সন্দেশের মত জীবন কাটায়।
দ্রুত শেষ হয়ে গেলে পেটের জ্বালা তখন-
বড় জালা হয়ে দাঁড়ায়।

দেবাশ্রিতা চৌধুরী

একগুচ্ছ আমি (৪)

এক

অন্ধকার বড়ো মোহময় 
রাতের শেষে যেমন সূর্যোদয়

দুই

অপার জলরাশির ঢেউয়ের বুকে 
ফসফরাসের মত ভেসে যাচ্ছে জীবন 

তিন

সাদা উঠোনে গন্ধরাজ কামিনী পারিজাত 
সুগন্ধি ফুলের খিলখিল হাসি 
আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাপিনী ফনা আছড়ায়

চার

এক চোখে থাকে যদি অথৈ বিষাদ 
অন্য চোখে ভরা থাক জীবনের স্বাদ 

পাঁচ 

মৃত্যুকে ঘৃণা করতে করতে একদিন 
তার কালো হাতে তুলে দিতে হয় জীবন।

কুশল ভৌমিক

একলা বাহানা

মনে কর  কুনুহানে কেউ নাই
তুমি হাঁটতাছো অচেনা দ্যাশের অপরিচিত রাস্তায় 
তহনও তোমার পকেটে ধলেশ্বরী নদী
বুকের ভেতর চুম্বনের লাল দাগ
পিঠে বাপজানের মাইর
মায়ের আওলাঝাওলা বকাঝকা 

মন খারাপের বৃষ্টি মোচড়ানো বিকালে
তুমি বইয়া থাকো যমুনায়
তোমারে রবীন্দ্রনাথ ছাড়ে? 
উস্টাখাওয়া ঢেউগুলা তুমারে ডাকে না? 
ফুইটা থাকা কাশফুল তুমারে জিগায় না

কেমুন আছো মিয়া? 

মাইনষের ভিতরে সাইটা থাকলে
যেমুন তুমার একলা হওয়নের ছটফটানি 
তেমুন দূরে গেলে 
চেনা মাইনষের গন্ধও তুমারে ছাড়ে না
স্মৃতিগুলা কিলবিল কইরা দংশন করে। 

একলা হওয়ন সোজা না।

বহুর ভিতর মানুষের একলা হওয়নের বাহানা
একলা হইলেই মানুষ বহু হইয়া যায়।

অনুরাগ ভৌমিক

শব্দ ও ছন্দের রেসিপি 

তোমার পাকা ধানের মতো মন,
যেন এক সঙ্গীত ডেকে নিয়ে যায়-
প্রাণে প্রাণে খেলা করবে তাই।

আমি একা মানুষ, দূর থেকে ঝর্ণার গান—হরিণ চঞ্চল রৌদ্র- ছায়া দেখি।

তোমার মুখ জ্যোৎস্না দর্পণ,কুল কলঙ্ক ভুলে সজাগ ঘাস পেরিয়ে 
এক অপ্রাপ্তির খুঁজে ছুটে যাওয়া।

আমি পরাস্ত গোমতীর পারে বসি,
দেখি উচাটন ঢেউ;
কখনো দেখি বৃষ্টির পর উঠানে 
শালিখ পাখির পিকনিক।

ধীরে ধীরে আমার বিকেল ভারী হয়, তখন ও চর্চা করি শব্দ ও ছন্দের রেসিপি...

নবীনকিশোর রায়

দীর্ঘ কালোছায়া 

বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে  কালোছায়া দীর্ঘ হয়। 
অবিশ্বাস জন্ম নেয় মানুষের ভিতরঘরে... 

মনুষ্যত্ব ক্রমে শূন্যে এসে ঠেকে,পশুশক্তির উত্থানে রক্তস্রোত বয় প্রকাশ্য রাজপথে, শান্তির মিছিল ভেঙে যায় মাঝপথে।

একতরফা রাষ্ট্রদলন, 
পাথর আর লঠির জোরে, 
প্রতিরোধের মাথা থ্যাঁতলে দেয়, 
মেরুদণ্ড হারায় মাথা, 

সর্বত্র গ্রাস করে রাজদণ্ড, অসহায় বিচারের বাণী
কেঁদে  ফিরে যায়... 

সোমেন চক্রবর্তী

 রঙ

এসো হলুদ হই
দিন যেমন গড়ায় 
কাঁচা রঙ জ্বলে যেভাবে বাদামী হয় শেষে

নয়তো নীল
একটা দু:খ, কাতরতা,
দুজনকে ঘিরে আর্তি;

লাল হবে?
লাবণ্য, ঠোঁট, গোলাপ, সিঁদুর।

অন্ধকার অপ্রিয় নয় ঠিকই,
শুধু রঙ হারিয়ে ফেলি। 
ভয় হয়, যদি আবার ফিরে আসতে হয় কোনো এক হাতের কাছে!
থাকুক অভাব , 
একাকীত্ব পা ছড়িয়ে বসুক দুয়ারে
 আজীবন

পিছুটান রাখা রঙ আর চাই না

লিটন আচার্য

একটা খোঁজ (অনুগল্প)

এখন রাত গভীর। প্রতিবিম্বে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখি। একফালি গামছা। জানান দেয় উলঙ্গ ন‌ই। অথচ জানি, কী ভীষণ রকম আবরণ হীনতায় ছেয়ে আছে দেহমন। বুকের প্রতিটি রোমকূপের উৎসস্থলে লুকানো আছে সুপ্ত অহংকার যত। আমিত্বের নাগপাশ ঘেরা প্রতিটি শিরা উপশিরা। ভাসানের ভেলায় চেপে অক্ষম সৃষ্টির আস্ফালন আমার। কী আশ্চর্যরকম পদলোভি। লেহন পরাঙ্গম। চামচা পরিবেষ্টিত। 

এই শহর গভীর অতলান্ত খাদে। আমাদের অসুখে পা*ক নিমজ্জিত। যেন তেন প্রকারেন স্বীয় মত স্থাপনারথায়, বাগদেবী বন্দনায় মাতি। চাতুর্য আহরন সিদ্ধি অস্টোত্তর শতনাম শ্রবণে। পাপীকে ঘৃণায় পারদর্শী আমার স্বীয় পাপের গড়ায় তা দেই তাকিয়ায়। অন্যের মুখে ঝাল খাওয়া আমি, কেবল ঘটনা দেখি। ঘটনার অন্তরালে লুকানো ঘটনা আপন ফরিয়াদ শোনাতে মাথা খুঁড়ে মরে। আমরা চোখ মুদে র‌ই। ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো উল্লাসে নাচি। পর নিন্দার পান চিবোই মহানন্দে। পিক্ ছুড়ি ঈষৎ সাদা দেয়ালে। কাক চরিত্রে আপন চক্ষু মুদি। প্রতিবার পার পেয়ে গঙ্গাস্নানে শুদ্ধ আমার অন্গূলি আস্ফালন করে, অপরের বিচ্যুতির পান খসা-তে। 'ইয়ার মেরি বাত শুনো/এইসা এক ইন্সান চুনো/ জিসনে পাপ না কিয়া হো/জো পাপী না হো।' কী অবলীলায় ভুলে যাই।

পরিত্রাণায় অসুরাং, বিনাশায় চ সাধুনাং স্ত্রোতরে দীক্ষিত। এতটুকু বাঁধেনা কুটকচালিতে, ব্যক্তিগত হুক্কাহুয়ায়। কী নিষ্ঠুর নির্মমতা। অর্জিত না সহজাত বোঝা ভার।

-- এই যে মশাই শুনছেন, ও মশাই আপনাকে বলছি।

-- বলুন। 

-- আপনি দেখেছেন কোথাও? 

-- কি বলুন তো?

-- মন। অপুর মতো আমারও একটা মন ছিল জানেন, কোথায় যে হারিয়ে ফেললাম,

পিয়ালী সেনগুপ্ত

ঠাঁই নাই

দিন বদলে যায়, সময় বদলে যায়,
দ্রুত বদলাতে থাকে ক্ষণ।
বদল নাকি বদলানো,তুচ্ছাতি তুচ্ছ হতে থাকে মন।

কাল যে ছিল চোখের মনি,রুপোর জবা কালীর পায়ে,
ক্ষণের বদলে হঠাৎ করেই,কালির ছিটে তাঁরই গায়ে।

বদল, বদলা, বদলানো,ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায়,
"ভালো ছেলে"র তকমা সাঁটা,হঠাৎই, 
"পরিবেশ শত্রু" হয়ে যায়। 

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক লেখা,অনেক কাদা ছোড়াছুঁড়ি, 
ক্ষণের বদলে আমেদুধে মিশ খেয়ে নেয়, 
আঁটির শুধুই গড়াগড়ি। 

শিরদাঁড়াটা ভাঙ্গা যাদের,তাঁদের আবার বদল কিসের? 
বদল, বদলা বড্ড নেশা, বাতাস এখন বদলার বিষের। 

ভাবছি বসে তাই, বদলের দলে
ভিড়বো? নাকি? বদল হয়ে যাই? 

শিরদাঁড়া যে বড্ড শক্ত,কেমনে বদলে যাই? 
বড্ড জ্বালা! শান্তি চুলায়, বদল, বদলায় তাই আর।

Oct 12, 2025

অনুরুপা বনিক

আনমনা শুধু 
 
কেন জানি এত আনমনা শুধু সে,
ভুলে যায় দেওয়া কথা আর হারানো  সুর,
মনে কি যেন ভয়ে নীরবে ‍থাকে সারাদিন,
কোন কাজে বসে না মন 
মন যে বড় চঞ্চল,
এ কোন ধারা  বয় ঘরে রয় না  মন,
শোনে না যে কোন বারন 
যখন খুশি রাঁধে যায় সে আবার চুল বাঁধতে ,
শুধু আনমনে রয়ে রয়ে গোপনে কারে যে ভালো বাসে,,
সে যদি জানতো কারে যে ভালো বেসে মন হারিয়েছে,,
শুধু আনমনে বসে রয়ে যেত না ঘরে,
হয়তো সে ভালো বাসে মোরে 
দেখেছি সেদিন রাস্তার মোড়ে,
পারি নি বুঝতে তার চোখের ভাষাতে ,
সে যে আনমনে শুধু বসে থাকে

অমিত সরকার।

এসো সাজিয়ে দি 

কতদিন হলো তোমাকে সাজাই নি,
কেমন যেন এলোকেশী হয়ে আছ তুমি,
চোখের ঘুম উধাও করে কর্তব্যে ব্যস্ত,
কত দিন তোমার দিকে ফিরে তাকাই নি।
শ্রান্ত ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে চুপ হয়ে একাকী বসে,
মন বলছে  কেন তোমার খবর নিই নি?
এসো আজ তোমাকে সাজিয়ে দি।

বিনয় শীল

অনন্ত প্রবাহী

নিরন্তর গতি মোর
বলছি আমি তাই,
কোনো কালে কারো তরে
কভু থামি নাই ।।

জীবন আমার জেনো
আদি-অন্ত হীন,
মোর অঙ্গে দাগ কাটে
বৎসর মাস দিন ।।

অনন্ত প্রবাহী আমি
তবু নিমেষকাল,
অতিব মহত্ত্বপূর্ণ
মহিমা বিশাল ।।

জীবন যাপিছো যারা
এই ধরাতলে,
অবজ্ঞা করো না মোর
প্রতি অনুপলে ।।
     

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ছায়া-ভার

অফিসপাড়ার গাছের ছায়া 
                   ঝাঁকি জালের মতো ঝেঁকে ধরে
শহর শিলচরের ফুটপাত চোরাবালি হয়ে আছে,
শহরের প্রতিটি পথ 
                   মহাকালের দরবারে সাক্ষ্য দিচ্ছে অহরহ,
                   -শালিক-জোড়ার চলচ্চিত্র।
সেই সঙ্গের ও বিচ্ছেদের ছায়াছবি কাঁধে ভর করে আছে,
এগোতে পারি না যে!

স্মৃতির সাথে বৈরিতা হলে
চারপাশে দাবানল জ্বলে ওঠে
অথচ প্রহ্লাদের মত সে বেঁচে যায়, ......।
কেন যে যায় না ধ্রুবতারার মতো আলোকবর্ষ দূরে!
মাথা নত করে বয়ে যেতাম এই জীবনভার।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

ক্ষুধার গ্রহণ

ছোট্ট খোকন দাঁড়িয়ে গঙ্গার পাড়ে
হঠাৎ দূ-র হতে শোনে 
"ধর খোকন ঐটা ধর"।
অমনি করে লাফিয়ে গঙ্গার উত্তাল স্রোতে।
যেন পুরো ভারতবর্ষটাকে ধরার ইচ্ছে।।

খোকনের জোড় ঝাঁপ ক্ষুধার আরেক নাম,
স্রোতের বিপরীতে ওর গতি
নিদারুণ জীবন ঝুঁকি।।
শঙ্কিত জনতার কোলাহল,ছোট্ট খোকনের অদম‍্য ক্ষুধা 
নিভৃতে  কাঁদে পরিবর্তিত সমাজ।

আধুনিক ভারতবর্ষের চকচকে সূর্যে
ক্ষুধার গ্রহণ  স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও।
ছোট্ট খোকার এক জোড় ঝাঁপেই 
অঙ্কিত সকল সমীকরণ।।

সপ্তশ্রী কর্মকার

ঋতুমতী

বাউন্ডুলে দুপুরে যখন বসে 
দেখি বেগুনি কালেম পাখি
শ্যাওলামাখা বাগানে পায়ের 
ছাপে আলপনা এঁকে দেয়

নষ্টা অনুভূতিগুলি বারবার
বাধ্য করে 
সুড়কি হাতে ঢিল ছুঁড়তে,

কিন্তু জ্বরে পুড়ে যাওয়া ভেজা মাটিতে,
ভুল রাতের সঙ্গমে জন্মানো 
ফলগুলি বিছিয়ে রাখি সযত্নে -
প্রশয়ে যেন ওরা ঋতুমতী হয়ে আসে

ভবানী বিশ্বাস

আশ্বাস 

ভালবেসেছি বলে
যাব না কোথাও।
কাছেই বসে থাকি
গান শুনাও, কবিতা পড়ো
আমিও গাই 
সুরে সুরে মেলাই তাল।

হঠাৎ চুপ হয়ে যাও।
হাতটি চেপে
তাকিয়ে থাকো।
কী ভাবো তখন?

ভয় নেই, 
থাকব বলেই ঘর বেঁধেছি।

অদিতি তুলি

যাপিত জীবন

‎কোজাগরী জ্যোৎস্নায় শুদ্ধ স্নান সেরে উঠেছে প্রিয় সপ্তপর্ণী! 
‎রাত্রি দ্বিপ্রহর -
‎আনন্দময়ীর উঠোন জুড়ে কি সুতীব্র ঘ্রাণ 
‎নাম না জানা ভিনদেশী পাখির ডাক মিলিয়ে যায় উত্তরে 
‎এইসব নির্বাণের রাতে নিদ্রাদেবী পলাতক
‎অনির্দিষ্টকালের প্রহর গুনছে একটা অলস মস্তিষ্ক 
‎বিরামহীন পথে উড়ে যায় -
‎দাহ না করা সেইসব স্বপ্নের শুকনো পাতা
‎রাত বাড়ে, বাড়ে জীবনবোধ 
‎প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খেরোখাতা! 
‎প্রাচুর্যের এই নাগরিক কোলাহলে আমি নির্বাক হয়ে যাই
‎এ কেমন বিড়ম্বনা 
‎আমি তো কেবলই মায়া-দীঘির এক বিন্দু স্বচ্ছ  জলের মত জীবন চেয়েছিলাম
‎সরল আটপৌরে নির্লিপ্ত! 
‎হে অদৃষ্ট আমায় মৃত্যুদন্ড দাও নয়ত নবজন্ম দাও!
‎সপ্তমবর্ষী বালিকার জীবন 
‎স্নিগ্ধ আচঁলতলে বিষ্ময়ে যে গায়ে মাখে কোজাগরী আলো!

পাপিয়া দাস

বার্ধক্য 

আমার দিদিমা সাংসারিক বাজার সাজিয়েছেন,
বাজারের পরসায়  ছেলে, মেয়ে ,নাতি নাতনি ,নাত বৌ, নাতিন জামাই, নাত ছেলে মেয়ে ,আরও কত কি!

সব  সাজিয়ে বসেছে বলেই
আজ আনন্দ মনে,
কিন্তু বার্ধক্য এসে  বাধা দেয় ঐ সাংসারিক দোকানীকে, আজ আনন্দের দিন হলেও 
আর পরসা সাজিয়ে নিজে বসে থাকতে পারছেনা,
শুধু অন্তিমধামে চলে যেতে চায়,
বার্ধক্য প্রতিদিন একটু একটু ঠুকরে ঠুকরে খায়  কাঠঠোকরা পাখির মতো,
মনে আনন্দ নিয়ে আনন্দবাজারে থাকতে চাইলেও 
দেহ আর দেয় না,
বার্ধক্য জনিত দূর্বলতা বাঁধা দেয় প্রতি মূহুর্তে।

সহিদুল ইসলাম দেবযান

সারেং

বিভূঁই শহরে চড়ছি ভেড়ার মতো
নদীর চড় ডাকে ঘন রাইতে।
ধানের ক্ষেতের তাজা গন্ধ নিয়া
ঘুমাইতে চাই একটা ধুরুম কাইতে।

যন্ত্র আমার অন্ত্র কাঁপায়
শহর যেন আস্ত রোবটখানা। 
নোঙর ফেলে বন্দরেতে থাকি
শহর কন্যা আর আমি বেগানা।

কিত্তাম যাবো পাড়ার কোলে হায়
আমার তো নাই রে সারেং-বউ।
অপেক্ষাতে নাই তো কেও সেথায়
এই বিদেশে কই পাই ঘর কও?

দুলাল চক্রবর্তী

বাস্তবতা মেনে নিয়ে 

জীবনটা স্বপ্নের সিঁড়ি তো নয় যে 
তরতর করে উঠে যাবো!
চরাই-উৎরাই আছে পায়ে পায়ে 
দুর্নিবার আশার তাড়না আছে শত
অমলিন স্মৃতিরা প্রকট যেন নিরবধি।
মরুতৃষ্ণার কাছে এক গণ্ডুস জলে কি হবে?
চলমান জীবনটা থেমে নেই --
অস্থির চিত্তে বেদনার ভিক্ষাভাণ্ড
কত বইবো আর?

প্রশ্ন করেছিলাম --পাইনি উত্তর।
অতলান্তিক সাগরের বুকে চোরাস্রোত 
সজাগ থাকা যে বড় দায়।
ক্ষুধার্ত পথশিশুটি পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে 
প্রচণ্ড তাপদাহে অস্থির সবাই 
মাঝপথে যাবেনা থামা।
রাতে গাঢ় কালো মেঘের স্তর ভেদ করে 
রূপালী চাঁদের আলোর ছটা দেখি।
বিবর্তনের মূর্ত প্রতীক।
জীবন -নদীতে খেয়া বাইবো কত আর!

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

শালুকপাতায় কথার মালা

দিনগুলো সব এমনি কাটে অনাদরে অবহেলায়
অগোছালো প্রহর কাটে নির্জনে নিরালায়।
স্মৃতির সমাধি তলে হাজারো স্বপ্ন অধরা 
অসময়ে খসে পালক নীড়হারা
তোমার সাথে বলার মত সযতনে সাজানো কথা
নিরজনে বসার আশায় মেঘমন্দ্র গোপন ব‍্যথা
সঙ্গোপনে 
জীবন কাটে তোমায় ভেবে, অদরকারে।
শ্লেটপেন্সিল মোছার মত কবিতা লিখি
মনঃপুত হয়নি বলে ভুলের ঘরে তুলে রাখি
তোমার জন‍্য শালুকপাতায় কথার মালা
গেঁথেছিলাম কবিতা করে
রয়ে গেল খাতার বুকে, চিরঘুমে তেমনি করে। 
দিনগুলো সব চলেই গেল 
অগোছালো কথার ফাঁকে।
জীবনতরী বৈঠা বেয়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে
পিছন পানে চেয়ে দেখি কেউ নেই আজ আশেপাশে 
ভিড়ে ঠাসা ভুল শহরে  
কেউ জানেনা আমার কথা
ঠিকানাবিহীন নৌকা আমার পাল তুলেছে অচিনপুরে।।

লিকা দেবনাথ

কলমের ক্ষমতা

একটা কলম শুধু কলম নয়, সে এক আগুন,
যার কালি দিয়ে লেখা যায় ভাগ্য, সৃষ্টির সংগুন।
হাতের মুঠোয় ধরা সে ক্ষুদ্র এক অস্ত্র,
তবু তার ছোঁয়ায় বদলে যায় রাজ্য, নীতি, শাস্ত্র।

কারো জীবনে আনে আলো, কারো বুকে শোক,
এক লাইনেই গড়ে তোলে ভালোবাসার লোক।
সে লেখে শান্তির গান, আবার যুদ্ধের ডাকে,
কলমের খোঁচায়ই সাম্রাজ্য কাঁপে চোখে চোখে।

শব্দের ভিতর লুকিয়ে তার অগণিত গল্প,
যে গল্পে জন্ম মেলে, আবার হয় শেষ ফলক।
কখনো সে বিচারক, কখনো কবির প্রাণ,
তাকে নিয়ে বদলে যায় সভ্যতার সব গান।

জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে সে এক দিশারী,
একটা কলমেই লুকিয়ে থাকে হাজার শক্তির ভারী।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

একটা আকাশ

একটা আকাশ থমকে থাকুক
চোখের পলক ঘিরে
খুঁজবো না প্রেম এই পৃথিবীর
লক্ষ লোকের ভীড়ে। 
একটা আকাশ ডাকলে আমায়
স্নেহ প্রীতির সুরে
হাজার তারায় বাঁধবো বাসা
রইবো না আর দূরে। 
একটা আকাশ মাথায় থাকুক
ধরবে মাথায় ছাতা
উদাস হাওয়া বইবে যখন
রক্ষা করবে মাথা। 
একটা আকাশ সাঁঝের বেলায়
আসুক আমার কাছে
চন্দ্র তারার আলোক মালায়
মাতবে ভূবন পাছে। 
একটা আকাশ পাগলামি তার ছড়াক হৃদয় জুড়ে
কল্পনাতেই আঘাত হানুক মিষ্টি মধুর সুরে।

অর্পিতা বৈদ্য

তুমি এবং ভালোবাসা 

তোমার চোখে যে নীল সকাল, সেখানে সূর্য ওঠে ধীরে,
আমার হৃদয় জাগে শুধু তোমার নামের নীরব নীড়ে।
বাতাসে ভাসে তোমার গন্ধ, মেঘে তোমার ছায়া,
তোমায় ছাড়া এই পৃথিবী কেমন যেন মলিন, মলয়া।

চাঁদের আলোয় দেখি তোমার মুখ, ঘুম ভাঙে প্রেমে,
তোমার স্মৃতি বাজে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের হেমে।
যদি দূরেও থাকো, হৃদয় জানে পথ,
ভালোবাসা মানে তুমি, বাকিটা সব রথ।

পূজা মজুমদার

অকুতোভয়
   
আমি ভয়ার্ত কোনো যোদ্ধা নই যে, 
সব মাথা পেতে মেনে নেবো।
আমি হেরে যাওয়া কোনো সৈনিক নই যে,
অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবো।

আমি উদ্যম,  আমি আগুয়ান, 
আমি সাহসী মায়ের সন্তান।
সমাজের সব অনিয়মকে ভেঙে
দিতে পারি করে খান খান।

আমি দিতে পারি করে দুর সব যত
অন্ধকারের তিমির রাত।
গুড়িয়ে দিতে পারি আমি সব 
সমাজের যত কালো হাত। 

আমি উদ্যম,  আমি আগুয়ান, 
আমি সাহসী মায়ের সন্তান।
সমাজের যত জঞ্জাল মুছে,
মানুষকে দিতে চাই পরিত্রাণ।

অন্যায় যদি দেখি হতে তবে,
দিই না কখনও প্রশ্রয়।
আমি চাই নি নিতে কখনও কভু, 
অনিয়মের কাছে আশ্রয়। 

মৃত্যকে নিয়ে পথ চলি আমি, 
করি না কখনও মরণের ভয়।
অবিচারের কাছে তবুও আমি কখনও,
স্বীকার করিব না পরাজয়। 

আমি উদ্যম,  আমি আগুয়ান, 
আমি চাই হতে সমাজের সেই
শহীদ মায়ের সন্তান।
অন্যায়কে ভেঙে দিয়ে যারা,
হয়ে আছেন গরিয়ান। 

বেঁচে যদি থাকি আমি তবে 
করে যেতে চাই এই সংগ্রাম, 
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার আমি
করেছি মুক্তি পণ।

সঞ্জয় দত্ত

শরৎ

পথের কাছে একা রেখে গেলাম সুখ,
ফিরতে দেরি হল বলে
অভিমানে যে ছায়াটুকু এসেছিল মেঘের
তার কাছে প্রশ্ন,
প্রিয় শরৎ
সুতা কাটা ঘুড়ির মতো উড়ে গেলে কেন?

বিবেকানন্দ রায় বর্ধন

দিগন্ত

'দিগন্ত' ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখার ওই পাড়ে।
কল্পনা আর বাস্তবের যাঁতাকলে
কেউ উড়ায় নি শান্তির পতাকা!
চিরহরিৎ বৃক্ষের পাতা ঝরে জীবন জুড়ে।
চৈতন্যের বেলাভূমি সিক্ত হয় 
অনর্গল রক্ত ক্ষরণে,
সবুজে সবুজ পাতা ঘেরা জীবনে ও
চৈত্র আসে,ঝড়ো বাতাস
এলোমেলো করে দিয়ে যায় 
কল্পনা আর বাস্তবের নরম মাটি!
চির সবুজ বৃক্ষের ও বেদনা থাকে
পাশের পর্ণমোচী বৃক্ষ তা বোঝে না,
চৈত্রের খরতাপ ঋতু পরিবর্তনে
বেআব্রু হয়ে তাকায় ঈশ্বরের দিকে!

আশাহত 'দিগন্তর' জীবনে তাকে
বোঝার মতো কেউ নেই,
নদীর স্রোতে বয়ে চলে
ময়লা আবর্জনা,হিংসা ঘৃণা
মান অপমান,অব্যক্ত কথা নিয়ে ওই সুদুরে-------

রাহুল শীল

শূন্য 

প্রতিটি বিষাদ ভরা রাতে 
আমরা আঁকি নিজ প্রতিমা,
গাঢ় বর্ণ অথচ আত্মশোকের আভা !

এই শোকগ্রস্ত শহরের আলো
প্রতি ঘরে নিভে গেলে 
জ্বলে ওঠে স্বনির্মিত শূন্যতার রেণু।

মনচলি চক্রবর্তী

অহল্যাবাই 

অহল্যা বাই ছিলেন এক সাহসিনী, পূণ্যতীর্থে দীপ্তি,
অশান্ত যুগে আনলেন শান্তি, ধর্মে রাখলেন নীতি।
কাশীর ঘাটে গড়লেন মন্দির, সেবায় জীবন দিলেন,
রাজার বেশে নয়, মানুষের মেয়ে হয়ে হৃদয়ে জায়গা নিলেন।

বন্দনা নয়, সম্মান হোক তাঁর কর্ম ও উদারতায়,
শক্ত হাতে নিলেন ভার, ইতিহাসে রইলেন পাতায়।
নারীর যে গৌরব গাঁথা, অহল্যার জীবন সেই প্রেরণা,
জ্ঞান ও সেবার পথে হেঁটে আনলেন নবজ্যোতির সজীব সঞ্চারনা।
সংস্কৃতির কণ্ঠে বাজে আজও তাঁর কীর্তির রাগ,
অহল্যা বাই—নারীশক্তির এক অনন্য উদাহরণ, চির অম্লান ভাগ।

পূর্ণাল মজুমদার

আমি ও মেঘ

একলা মেঘ ক্লান্তি নিয়ে ডাকছে আমায় কাছে।
বলছে আমায় আলতো করে জড়িয়ে রাখ ভালোবেসে।
মেঘের দেখি বায়না অনেক কত শখের বাহার।
আমার বাপু অনেক কাজ আগলে রাখার স্বপ্ন এবার ছাড়।
ভালোবাসি বললেই কি ভালোবাসা যায়?
ভালোবাসার উপযুক্ত কারণ যে চাই।
মেঘ বলছে, হীরে চাইনি মানিক চাইনি চেয়েছি ভালোবাসা।
তাতেও নাকি আমি করছি ভিত্তির প্রত্যাশা।
এখন মেঘকে আমি বোঝাই কি করে, দুনিয়াটাই এমন।
বিশ্বাস এখন তলানিতে,তাই সর্বক্ষেত্রেই স্বার্থরক্ষা প্রয়োজন।

রাজীব আচার্য্য

পাহাড়

পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে 
আকাশটা যতই কাছের মনে হয়। 
সে তো ততটা কাছের নয়, 
পরিশ্রম করলেই তার সফলতা হয়। 

ঘরে বসে না থেকে কর্ম করতে  চলো
অলসতা বেশি দিন ঠিকে না কাহারও
বিশাল বড় বাড়ী, টাকা অনেক বেশি,
তাই তো তোমার চোখে লাগে না।

অসহায় মানুষের কান্না আর হাসি,
গুজব ছড়িয়ে আছেন বড়ো ভাল, 
মনে রেখো সবার মনে আছে তার পবিত্রতার আলো। 
অন্যের কর্ম দেখে তুমার কেন হিংসা হয় ? 

জীবনে সফলতা আছে কর্মেই তার পরিচয়
যতই করো গালমন্দ, পারবে না কিছু করতে
সততা আর নিষ্টা আছে, সবার কাছেতে,
বসে খেলে রাজাও ফকির হয়।

পরিশ্রম করলে গরীবও ধনী হয়, 
সম্মান দিলে সম্মান পাবে, হবে না অসম্মান
সবাইকে শ্রদ্ধা করো করবে তোমায় গুনগান
বিদ্যা আছে তোমার জানি বুদ্ধি বড়ই কম।

সততার দিকে চেয়ে আছ তাই তোমার পরিচয়
কিছু মানুষের সম্মান তুমি পাবে এ করো না আশা, 
অপদার্থতা ব্যবহার করে করবে তোমায় নিরাশা,
যে মানুষ শিক্ষক হয়ে শিক্ষকে করে না সম্মান
অযোগ্য বানিয়ে রেখে করে শুধু অসম্মান।।

আলম সাইফুল

গণবিপ্লবটি ঐক্যের ডানায় আরও স্বপ্নবাজ হয়ে উঠুক

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই সে ঘুরে আসুক কৃষকের উঠান, শ্রমিকের হাতুড়ি কাস্তে কোদালের ধার, কামারের হাপর, নাপিতের ক্ষুর, কাঠুরিয়ার করাত, যাত্রানটীর সাজঘর মোটকথা মেহনতী নাগরিকের ক্ষুধা-দাওয়াই-লেখাপড়া আর মাথার উপরের নিরাপদ ছাদ থেকে; সর্বহারার উঠান থেকে

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই পতাকার শত্রু, গণশত্রু আর ফ্যাসিস্ট শক্তিকে চিরনিষিদ্ধ করে দাও, কপাটে খিল লাগিয়ে দাও চোর আর চোরের বাচ্চাদের জন্য  

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই জ্ঞানবৃক্ষগুলো হে বেড়ে ওঠো, ছুড়ে ফেলে দাও মাকালফল মহাকালের, বন্ধ করে দাও আফিমের চাষ

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই ইতিহাসকে এগিয়ে নাও, বিপ্লবকে এগিয়ে নাও 

লোভে নয়, ন্যায়-নিষ্ঠুরতার নিরিখে 

মহাসময়ের এই বিন্দুকেই পরিধি করে ঘুরবে বৃত্ত এমন নয়, বিপ্লবও মহাকালের মহাকাব্যের অনুঘটক 

তাই শেষ বিপ্লব বলে কিছু নেই, বিপ্লব জীবনের সমান, ভুলোনা যেন

অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটি গণবিপ্লব গণকবরের দিকে পদযাত্রা করবার আগেই বিপ্লবের উদ্ভাসিত আলো ঐক্যের ডানায় আরও স্বপ্নবাজ হয়ে উঠুক।

দেবাশীষ গোস্বামী

একাকিত্ব 
     
আলো-আঁধারে যেখানেই যায় -
মাথার মধ্যে স্বপ্ন নয়,শান্তি নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে! 

এ কোনো সেন্টের ধোঁয়ার মতন নয় - নয় ধূপকাঠির গন্ধ -
যেন এক হৃদয় পুড়ানো বোধ! 
যা আষ্ঠে -পৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে আমাকে। 
যার বিকট গন্ধে ফেঁপিয়ে উঠেছে মনোপ্রান,
মন-সংসার জ্বালিয়ে তুলছে তার ঘ্রান। 

ঘরে -বাইরে যেখানেই যায় -
হৃদয় মাঝে হাসি নয়, কান্না নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে। 
ইচ্ছে করে সব কিছু উপেক্ষা করে 
নতুন করে স্বপ্ন দেখতে-
আমার আমিকে নিয়ে। 
কিন্তু সুযোগটা পাচ্ছি কই?

তন্দ্রাহীন একাকিত্ব  সকাল থেকে রাত পাহারা দিচ্ছে। 
সেই অতন্দ্র একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে, 
সবার মাঝখানে বসে উল্লাসে-আনন্দে মেতে উঠছি। 
কিন্তু উত্তরণের পথে পাচ্ছি কই!

সব কিছু অসহ্য মনে হয়,
সব স্বপ্ন তুচ্ছ মনে হয়।
বুকের মাঝে শান্তি নয়, সুখ নয়,
কোন এক একাকিত্ব কাজ করে!

অঞ্জন ব্যানার্জ্জি

অস্থির সময়

অস্থির সময় মাটি ছুঁলে
কণ্ঠ ছাড়ে সাহানা
মুছে যায় ঠোঁটের হাসি
নাভিমূলে জমে আতঙ্কের ময়লা
উদ্যম হারায় প্রাণ
সব হারিয়ে ন্যাংটো হৃদয়
মন্বন্তরের ভিখারির মতো শ্বাস নেয়
খোঁজে বাঁচার প্রেরণা
তখন শব্দরা লং মার্চে
নিবাত  বাতাসে কবিতার খাতায়
তোলে প্রতিবাদী পতাকা
জোগায় বাঁচার অস্ত্র।

সুপ্রতিম ভৌমিক

শারদ প্রকৃতি

শারদাকাশে
শুভ্র মেঘ ভাসে,
দুরু-দুরু সমীরে
বিহঙ্গের বিচরণ,
কূজন রবে নীলাকাশে ।
আগমনী সুরে সুরে,
কাননে কাশফুল,
শতদল দোলে,
শিউলি হাসে ।

বিশ্বজিৎ মানিক

অমর রূপসী বাংলা 

সবুজ ধানগাছে ঝুঁকে পড়া নিস্তব্ধতা,
ভোরে কাকের ডানায় ছিঁড়ে যাওয়া প্রথম আঁচড়,
নদী-- অদৃশ্য স্রোতের গোপন জলরঙের ক্যানভাস,
তালগাছ-- দীর্ঘ ছায়ায় জমে থাকা একাকীত্ব।

শিশির--ভাঙা কাঁচের উপর জমে থাকা ঠান্ডা অক্ষর,
জোনাকি-- অন্ধকারে ক্ষুদ্র বিদ্যুতের বিস্ফোরণ,
চাঁদ-- আকাশের বুকে টাঙানো সাদা প্রদীপ,
যার আলোয় গ্রাম ঘুমিয়ে থাকে শক্তির আঙিনায়।

পথের ধুলোয় মিশে থাকে কাক আর কোকিলের পদচিহ্ন,
কৃষকের ঘামে ভিজে ওঠে শস্যের প্রতিশ্রুতি,
বট গাছের ছায়ায় জমে থাকে শৈশবের হাসি,
ডাকে ফেরিওয়ালা-- প্রভাত হাটের সুরে।

এই বাংলাই অমর স্বপ্নের প্রতিলিপি
এখানে ছবি হয়ে থাকে কবির নীরবতা,
প্রকৃতি লিখে দেয় এক অনন্ত উপাখ্যান--
রূপসী বাংলা হৃদয়ের চিরকালীন আলোক ছায়া।

আলমগীর কবীর

ইতিহাসের পথ

যেখানে বাধা, সেখানেই জন্ম নেয় নতুন পথ।
পাথরের দেয়াল যতই উঁচু হোক,
মানুষের স্বপ্ন তার চূড়া ছুঁয়ে ফেলে।
ঝড় যতই ভয়ংকর হোক,
তার ভেতরেই জেগে ওঠে আগুন—
যা আলোকিত করে ভবিষ্যতের দিগন্ত।

ইতিহাস কখনো সহজ পথে তৈরি হয় না।
অবহেলা, দুঃখ, শোষণ, বঞ্চনা—
এসবই ইতিহাসের গর্ভধারণ।
যেখানে বাঁধা, সেখানেই মানুষ শেখে
অসীম ধৈর্যের পাঠ, সংগ্রামের মহাকাব্য।

একজন পথশ্রমিকের ঘামে,
একজন স্বাধীনতার সৈনিকের রক্তে,
একজন মায়ের অশ্রুতে—
বাধার প্রতিটি ফোঁটায় গড়ে ওঠে ইতিহাস।

কারণ ইতিহাস মানে শুধু অতীত নয়,
ইতিহাস মানে মানুষের অবিনাশী জয়গান।
যেখানে বাধা, সেখানেই ইতিহাস গড়ে—
যেন শিকল ভাঙা সুর,
যেন ছাইয়ের ভেতর থেকে ওঠা অগ্নিশিখা।

সুধীর রায়

বল্লভী 
        
হে বল্লভী! কাজলা নয়না মনোহারণী
এলোমেলো কেশ দোলে হিমেল হাওয়ায়,
কপালে সিঁদুর ফোঁটা; নূপুর পরা পা-য়!
আকাশে সূর্য হাসে, বল্লভী উঠোন কোনায়!!

বিন্দু বিন্দু শিশির ঝরে এলোমেলো কেশে,
হাতে শঙ্খ,পা-য়ে‌ আলতা; অপরূপা বেশে!
ফুলদানি হাতে, ফুল রাখে তাতে; ছিঁড়ে গাছের ফুল,
নীল শাড়ি পরে, গুন গুন করে; দোলে কানের দুল!!

নাকে নোলক, পা-য়ে আলতা; ঠোঁটে রাঙা হাঁসি!
চাপা সুরে গান করে-"প্রিয় তোমায় ভালোবাসি"....
ফুলে ফুলে প্রেম মালা গাঁথে বল্লভী!
স্বপ্নের তরী বেয়ে ছবি আঁকে.......... কবি!!

হে বল্লভী! হে বল্লভী! মনোহারিণী -
তুমি যেন আকাশের চাঁদ, 
জ্যোৎস্না ভরা জামিনী;
রূপের সাজে যেন রূপবতী কামিনী!!

শিপ্রা সূত্রধর রায়

কাটাকুটি 

মনেতে ইচ্ছা ছিলো বনেতে শকুন 
ফুলের কাটাঁর সাথে ভ্রমরের ও গুনগুন। 

ভয়ের লাগাম যদি আগাম ছিঁড়ো 
লাগবে না সঙ্গী একটা  কাউকে বড়ো। 

ঘুণটাকে খুন করে ফেলো ভাগাড়ে 
মুক্তির হাওয়া লাগে ভয়ের শিকড়ে। 

মুখরিত স্বপ্নেরা, অপহৃত মেঘ 
আকাশে নীলিমা রাশি, কেটেছে উদ্বেগ। 

আড়ালে কান্না নয় মুক্তির পান্নায় 
হামাগুঁড়ি শিরদাঁড়া সটান দেখায়। 

দীপালিকা জ্বলজ্বল পিপীলিকা সরালে 
পতপত উড়ে ঘুড়ি লাটাইটা ঘুরালে। 

যুক্তির বাটখারা অতঃপর চাপালে
দাঁড়িপাল্লার কাটাঁ বরাবর তাহলে।

চোখের জলে স্বপ্নের কাজল মুছবে না 
মাথা উঁচু করে বাঁচা খাঁচার ভেতর মরবে না। 

শম্পা ঘোষ

প্রতিবিম্ব 

পশ্চিমে ঝড় উঠলে ঈশান কোণে মেঘ ,
শিরায় শিরায় আত্মদহন আর বিশ্বাসে ভ্রম -
রং বদলে আবহাওয়া এমন বিপরীতমুখী স্রোত 
ভেসে যাওয়ার টানে আঁকড়ে ধরে বিশ্বাসের মুখ ,
জ্বলতে জ্বলতে শুধু আত্ম দহনের চিত্রকল্পনায়
ভেসে যায় মহাজাগতিক স্বপ্নরা;
কেউ সাড়া দেয় না 
শুধু দূরত্ব বেড়ে যায় 
সাথে আটকে থাকে স্বার্থ সংসার, 
মুছে যাওয়া অভিমান
 আর মাটির উনুনের খিদে 
যেন মিলেমিশে একাকার ....
এক কাপ লিকার চায়ে আসলে আমি 
প্রতিবিম্বের প্রতিচ্ছবি র ফসিল হয়েই বেঁচে থেকে যাই।


ছন্দা দাম

রূপকথার গল্প

বাদলের ডাক শুনে হাত বাড়ায় আকাশের দিকে
ছুঁতে চায় দুফোঁটা মধু জল
আঁধারের ধার ঘেঁসে যে নদী বয়ে যায় ধীর লয়ে
তার নিঃশব্দ চলন অবিচল,
বুকের চোরা গাঙে বান এলে চোখে অপ্রকাশিত যে
কেউ না রাখুক পাতা ঝরা বিকাল মনে রাখবে তাকে।

এক উঠোন শূন্যতার মাঝখানে হেঁটে চলে যায় সে
বিরহ কাকে বলে কজন বোঝাতে পারে বলো?
নিরব নিভু নিভু প্রদীপের শিখাটির বুক কেঁপে ওঠে
ধোঁয়াশার বাঁক বেয়ে মেয়েটি ইতিহাস হতে চলে গেল!

জিজ্ঞেস করেছ কি তাকে...কি গো ভালো আছো?
জানি এমন কথা জানতে নেই,
ভাত কাপড়ের শান্তির বিনিময় বেঁচে দিয়েছে স্বভূমি যে
তার অস্তিত্ব...না না কখনো মানতে নেই!!

তবু সে চলে রঙচটা আঁচলে বয়ে নিয়ে জীবনের বীজ
বুকে তার বাঁধা জীবনের অক্ষয় তাবিজ।।

বিশাল দাস

অনন্ত প্রেম তুমি

অনন্ত প্রেম তুমি, সীমাহীন স্বপ্ন,
নীরব হৃদয়ে বয়ে চলো গোপনতম।
চাঁদের আলোয় যেমন জোনাকির হাসি,
তেমনই তুমি আমার রাতের উপাসী।

নিঃশব্দ প্রহরে যে ভালোবাসা জাগে,
তুমি সেই গান, হৃদয়ে যে লাগে।
আকাশে ভাসা এক টুকরো মেঘ,
তোমার স্মৃতি শুধু সুখেরই রেখ।

তুমি যে ছায়া, রোদের পরশে,
আমার প্রতিটা মুহূর্তে ফিরে ফিরে আসে।
তোমার নাম ধরে জাগে যে বৃষ্টি,
তারই সুরে বাজে প্রেমের দৃষ্টি।

সব ঋতুতে তুমি, বসন্তের ছোঁয়া,
আমার কবিতায় তুমি অনুরাগে মোয়া।
চোখের পাতায় জমে থাকা চাওয়া,
তুমি তা পূর্ণ করো নীরবে, ভরপাওয়া।

তুমি হারাও না, ছিলে আছো সবখানে,
আমার জীবনরেখায় আঁকা প্রতিটা গানে।
অনন্ত প্রেম তুমি, নিঃশেষ নয়,
তোমার ছোঁয়াতে প্রতিটা ক্ষণ সজীব হয়ে রয়।

সঞ্জয় পাল

শুভ শারদীয়া 

বছরভর অপেক্ষার পর বাজলো আগমনীর সুর, 
দশভূজা মা ফিরে এলো করতে সবার দুঃখ দূর।
কাশফুল হাওয়ায় দোলে শিউলি ছড়ায় মিষ্টি গন্ধ,
কুয়াশাচ্ছন্ন স্নিগ্ধ সকাল আনে যে উৎসবের ছন্দ।

কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই আট হোক কিংবা আশি,
শারদোৎসব সবার মুখে ফোটায় আনন্দের হাসি।
বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসবপ্রিয় শারদীয়া দুর্গাপূজা, 
চিন্ময়ী দেবী মৃন্ময়ী রূপে সেজে উঠছেন দশভূজা।

চারিদিকে আলোর মেলা গান বাজছে ঐ প্যান্ডেলে,
পুরোহিত আরতি করছেন ধূপ ধুনো আর ক্যান্ডেলে।
দেবীর বোধন হবে এবার এলেন ঊমা তাঁর বাড়িতে, 
মাকে বরণ করতে মেয়েরা যাচ্ছে লালপেড়ে শারীতে।

শাঁখ,কাসর ও উলুধ্বনিতে পূজো মন্ডপ হলো মুখরিত,
অশুভ শক্তির বিনাশকল্পে দূর্গতিনাশিনী মা আবির্ভূত।
রাতজেগে হবে পূজো দেখা নতুন কাপড় গায়ে চাপিয়ে,
ঘোরাঘুরি করে ক্ষিদে পেলে ফুচকা স্টলে পরো ঝাঁপিয়ে।

অষ্টমীতে অঞ্জলী দিতে যাই দেবী দূর্গতিনাশিনীর সন্মুখে,
মন্ত্রোচ্চারনে আরাধনা করে তৃপ্তির আভা সকলের মুখে।
ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ নেই এই আনন্দধারা সবার জন্য,
দেবীর আরাধনায় ব্রতী হয়ে জীবনটাকে করে তোল ধন্য।

এবারের পূজো কাটুক ভালো হাত রেখে একে অন্যের হাতে,
মায়ের আশির্বাদ বর্ষিত হোক ভালো থেকো সবে একসাথে।
মা দূর্গার কাছে করি বন্দনা আসুরিক শক্তি বিনাশ হোক,
কেটে যাক সব দুঃখ ও গ্লানি মর্ত্যের দূর্গারা ভুলুক শোক।

পাঁচটা দিন সকলের জন্যই মহোৎসবের আমেজে ঘেরা,
এরপরেই মনখারাপের ক্ষণ দশমীতেই যে মায়ের ফেরা।
চোখের জলে বিদায় দেবো ঢাকে বাজে বিসর্জনের সুর, 
আবার এসো মা ফিরে তুমি করতে আমাদের দুঃখ দূর।