একটা খোঁজ (অনুগল্প)
এখন রাত গভীর। প্রতিবিম্বে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখি। একফালি গামছা। জানান দেয় উলঙ্গ নই। অথচ জানি, কী ভীষণ রকম আবরণ হীনতায় ছেয়ে আছে দেহমন। বুকের প্রতিটি রোমকূপের উৎসস্থলে লুকানো আছে সুপ্ত অহংকার যত। আমিত্বের নাগপাশ ঘেরা প্রতিটি শিরা উপশিরা। ভাসানের ভেলায় চেপে অক্ষম সৃষ্টির আস্ফালন আমার। কী আশ্চর্যরকম পদলোভি। লেহন পরাঙ্গম। চামচা পরিবেষ্টিত।
এই শহর গভীর অতলান্ত খাদে। আমাদের অসুখে পা*ক নিমজ্জিত। যেন তেন প্রকারেন স্বীয় মত স্থাপনারথায়, বাগদেবী বন্দনায় মাতি। চাতুর্য আহরন সিদ্ধি অস্টোত্তর শতনাম শ্রবণে। পাপীকে ঘৃণায় পারদর্শী আমার স্বীয় পাপের গড়ায় তা দেই তাকিয়ায়। অন্যের মুখে ঝাল খাওয়া আমি, কেবল ঘটনা দেখি। ঘটনার অন্তরালে লুকানো ঘটনা আপন ফরিয়াদ শোনাতে মাথা খুঁড়ে মরে। আমরা চোখ মুদে রই। ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো উল্লাসে নাচি। পর নিন্দার পান চিবোই মহানন্দে। পিক্ ছুড়ি ঈষৎ সাদা দেয়ালে। কাক চরিত্রে আপন চক্ষু মুদি। প্রতিবার পার পেয়ে গঙ্গাস্নানে শুদ্ধ আমার অন্গূলি আস্ফালন করে, অপরের বিচ্যুতির পান খসা-তে। 'ইয়ার মেরি বাত শুনো/এইসা এক ইন্সান চুনো/ জিসনে পাপ না কিয়া হো/জো পাপী না হো।' কী অবলীলায় ভুলে যাই।
পরিত্রাণায় অসুরাং, বিনাশায় চ সাধুনাং স্ত্রোতরে দীক্ষিত। এতটুকু বাঁধেনা কুটকচালিতে, ব্যক্তিগত হুক্কাহুয়ায়। কী নিষ্ঠুর নির্মমতা। অর্জিত না সহজাত বোঝা ভার।
-- এই যে মশাই শুনছেন, ও মশাই আপনাকে বলছি।
-- বলুন।
-- আপনি দেখেছেন কোথাও?
-- কি বলুন তো?
-- মন। অপুর মতো আমারও একটা মন ছিল জানেন, কোথায় যে হারিয়ে ফেললাম,