Jul 20, 2021

সম্পাদকীয়

একটা মরশুম শুধু আকাশের বুকে মেঘেরা ভেসে বেড়ায় কিন্তু বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে না। বর্ষার মরশুমে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ার সময় যখন সূর্য কিরনের স্পর্শ পায় তখন আকাশের বুকে রঙধনু এঁকে দেয়।কবির মন আর কবির মননশীল চিন্তা ঠিক বৃষ্টি আর সূর্য কিরনের মতো।

এবারের সংখ্যায় প্রত্যেক কলমধারী কবি ও সাহিত্য অনুরাগীরা তাদের কলমের কালি তে মন ও মননের আন্তরিক বাঁধনে ত্রিধারার আকাশে একটা রঙধনু এঁকে দিয়েছেন।সমাজ ও মানবতার প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন আপনারা এবারের সংখ্যা ইন্দ্রধনু তে।আপনাদের কলমে সমৃদ্ধ হোক সাহিত্য, সমৃদ্ধ হোক সভ্যতা ও মানব সমাজ।আগামী প্রজন্মের জন্যে এই অবদান রেখে যাবে আপনাদের কলম ত্রিধারার মাধ্যমে। সকলের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

ধন্যবাদজ্ঞাপনে

চয়ন সাহা (সম্পাদক)

ত্রিধারা সাহিত্য পত্রিকা 

আলমগীর মাসুদ

কবর জিয়ারতে কবিতা পাঠ 

(অণুগল্প)

সেদিন কবি সাদেক শামীম বলছিলেন, পাগলের বাণী কিন্তু এখন মহাশ্রমের দেয়ালে লেখা হয়। আমি বরাবরই তাকিয়ে থাকি কবির ঠোঁটে। দেখি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতোই সত্য উচ্চারণ করছেন কবি। তারপর যখন পকেটের ভেতর স্যামসাং গ্যালাক্সিটা শব্দ করলো―ওটার স্ক্রিনে তাকাতেই বউয়ের কথা মনে পড়লো। সে রাতেই বউয়ের মেসেজ, একটা তাবিজ আনিও নূর হুজুর থেকে। বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা হয়তো জায়েজ অথবা না। তবু ইদানিং স্নান করার সময় লুঙ্গিটা খুলে রাখি। কারণ বউ পোয়াতি হওয়ার পর থেকে ডাক্তারবাবু কলেমা পড়ার মতোই মুখস্থ করে দিয়েছে―বউ সামনের ক’মাস কাজ করতে পারবে না। বিষয় বউয়ের গর্ভে আমার পোলা।

কবি সাদেক শামীমের ঠোঁটের কথা আবার মনে পড়ে গেলো। তার কবিতা আওড়ানোর ভঙ্গিমা কল্পনা করতে করতে দ্রুত সঞ্জীব ঠাকুরের পায়ের সামনে পড়ি। ঠাকুরকে বললাম, একটা বাণী দিন লিখে আপনার অপ্রকাশিত। ঠাকুর জানতে চাইলেন, অপ্রকাশিত দিয়ে কী করবি? বললাম, আপনার আগের রচনাসমগ্র তো সবাই গিলে ফেলছে তাই নতুন ছাড়া অসুখ ছাড়বো না বউয়ের। পেগের গ্লাসটা ধুতির পাশে রেখে ঠাকুর পষ্টস্বরে চেঁচিয়ে শব্দ করলেন, ওই ফাজলামো করিস আমার লগে।

ঠাকুরের খানকায় কতো চেহারার নারী পুরুষ। সেদিক না তাকিয়ে দ্রুত কবির পরিচয় দিলে, মুখে এক পেগ দিয়েই জানতে চাইলেন, বলতো তোর মূল কথাটা কী? খানকায় উপস্থিত নারী পুরুষগুলো মূলত বিভিন্ন জাতের। এক পুরোহিতের দিকে তাকিয়েই বললাম ঠাকুরকে, কবি সাদেক শামীম সেদিন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া ও সূরাহর জায়গায় জীবনানন্দের একটা কবিতা পড়েছেন। মূলত সে ভরসায় আমার পোয়াতি বউটার ভয় কাটাতে―আপনার একটা বাণী নিতে আসছি ঠাকুর।

নিয়তি রায় বর্মন


নীরব ক্রন্দসী
 
ক্লান্তিহীন সমুদ্রের ফেনিল ঢেউ
হৃদয় দিয়ে দেখে নীরব ক্রন্দসী
খানিক বাদেই মিলে যায়।

জীবনদায়ী বাতাসের বয়ে যাওয়া 
কখনো মারণ ঝঞ্ঝারূপে
কেড়ে নেয় জীবন জীবিকা।

স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে ওঠে 
বংশের ধারা রক্ষায়-
হোক সে প্রাণী আর উদ্ভিদ।

নীরব ক্রন্দসীর অবিরত ক্রন্দন
সংসার সীমান্তে হাবুডুবু
বাঁচার আকুতি নিয়ে।

বাঁচিয়ে রাখার প্রবল তোড়ে 
বেঁধে রাখে সকলকে
অব্যক্ত বেদনাকে জয় করে।

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

মনসার গান

শ্রাবণের কান্নরাতে কাঁপানো মোমউঠোন

যুবতী দুলে দুলে সাপিনীসুরে গেয়ে যায়

মনসার বিলাপীগান। আলোপিদিমে

উজ্জ্বল হয় তার নাকফুল

বেয়ে গড়ানো অশ্রুপ্রপাত।

ধুয়ার সুরে গলে যায় পদ্মাপুরাণের 

তুলট পাতার শরীর।


গ্রামশিল্প অবিরাম হৃদয়ের চিঠি ওড়ায়

প্রাচীন ডাকবাক্সের কুঠুরি থেকে।

এ গানেও কালসন্ধ‍্যার তীব্র দাগ থেকে

মুক্তির জন‍্যে আসরের দোহারেরা 

একসুরে গায়, ওমা বিষহরি–

করতলে এঁকে দাও করোনাবিহীন সকাল‌।

সোলিম মুস্তাফা


কত মধু কাঁটাতারে

কী লিখছিস রে কবি ? মেয়েটা
কথা দিয়ে যে এলো না, সেটা ?

বুঝেছি. এসব নয়, আরও গম্ভীর বিষয়—
খুবই গভীর, যেন পাকিস্তানের 
ড্রোন হামলাটিও খেলনা মনে হয় !

রোম উদ্গমের পয়লা তারিখ 
জানা যায় না, আগুনের পরশমণি
রবি ঠাকুরের আঙুল থেকে সকল
বালিকার বুকে
ছ্যাঁৎ করে জ্বলে উঠেছিল—
আগুনে ভেজা সে গল্প 
আলতার মতো এখনো নামে— 
যেন জল !

সব রক্ত কি আর যুদ্ধের হয়
কত মধু কাঁটাতারে, জানিস পাগল !

কেউ তো মরে না—
অপচয় হয়।

তৈমুর খান

 

বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায় 

যন্ত্রণার কার্নিশে জ্যোৎস্না গড়ায় চাঁদ 
আমি কল্পনাদের উহ্য রাখি 
না বাজুক আজ তাদের হাতের চুড়ি 

ক্ষুধার্ত আত্মা জ্যোৎস্নার আমানি চেয়ে চেয়ে 
মধ্যযুগের কোনো অস্পষ্ট কাঠবেড়ালি 
যার শব্দে কোনো শস্য নেই 
নিষ্ফল মন্বন্তরে নিরুচ্চার কাতরানি 

কোন্ আলো আর কোন্ ধর্মোৎসবে যাবে সে? 
সবই নষ্ট ঈশ্বরের পদাবলী, ঘৃণিত আবেগ 
ঝড়ের দাপট সহ্য করে ঘনঘোর বর্ষণ ক্লেশে 
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে অটুট সংবেদনায় 

ভিখিরি যুগের সংকটে আবিল ছায়ার দহন পাক খায় 
নিষিক্ত জ্বরের ঘামে ক্লান্ত উল্লাস 
কোথাও পৌরুষ নেই শুধু বিহ্বলতা কাঁপে 

মানুষের কাছে চূর্ণ মানব, ক্ষয়িষ্ণু বীর্য 
অযোগ্য আদিম প্রশ্রয় পড়ে আছে—
এক তস্তরি উত্তরণ অথবা চুমুকে চুমুকে নিগূঢ় আত্মজোশ 
আজ বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায় যদি নামে ! 

অপাংশু দেবনাথ

সাবমেরিন বন্দরে

একা হতে হতে পথে,নদীমুখী হবো,

এ ছিলো সপথ। 


বালি খুঁড়ি,সাদা সাদা ঝরঝরে মিহিবালি সব,

ওঠে আসে মুঠো মুঠো ।

মরমি এ বালুকা ছড়াই,

কোনো এক প্রত্নপাঠে চলো ভাস্কর হই ।


মায়াবীক্ষণে আতপ ধুলো উড়ে,

প্রতিদিন সিলিকায় ভাগ করি দেহতাপ।


তোমার সাথেই মনে মনে,একা হই কোনো সাবমেরিন বন্দরে।

সৌমিত বসু

মায়া বৌ - ১২২

জলের নিচে তলিয়ে গেছো তুমি

হাত বাড়ালে রক্ত উঠে আসে

কন্যাহারা মায়ের দু-চোখ জুড়ে

এখন কেন তোমার ছবি ভাসে?


চিনতো তোমায় নরম ঘাসের আলো

চিনতো তোমায় আগুনরঙা তারা

'বলছে চিনি' কতো মানুষ আজ

তোমায় আমার চেনাই হলো না।

রুদ্র মোস্তফা

রোপন করা ঋণ 

ওরা কারা, শস্যের জমিনে রোপন করছে ঋণ—

শাসনের আলে কাত করে রাখে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য?

কেন শুধু ওদের বসন্ত সংগ্রামের এক রঙে রাঙা, 

কেন ভাতের বসন্ত ছাড়া কোন ঋতু ছোঁয় না হৃদয়? 

কত শত ঋতু আসে-যায় সৌখিন বাতাসের শাঁখায়

ওদের নারীদের শরীর নিরালম্ব সরল রেখায়  —

কত রমণী আঁকে খোয়াব ভাঙে খোঁয়ারি চোখের খাঁচা—

ডানা ঝাপটানোর জীবন—ওদের কাছে খাঁচাই বাঁচা।

অথচ দুই পক্ষের নদী একই পাহাড় ঘেঁষে বয় —

তবু অপর পক্ষের ক্ষুধা একটু বেশি বৈচিত্র্যময়। 

দুই পক্ষের একই চাঁদ অথচ জোছনায় তফাত

দুই পক্ষের এক সূর্যাস্ত—উদয়ের দারুণ সকাল

সব কিছুর মধ্যে এমন বেড়িবাঁধ কারা বেঁধে দিল? 

সব রাষ্ট্রের পিঠে চেপেছে— নিজের মনে হাঁটছে দেশ

তবু যে দেশে-রাষ্ট্রে পার্থক্য,হাঁটায় এমন রকমফের 

কে দূর করবে ভেদাভেদ,সারিয়ে তুলবে দারুণ ঘা? 

রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে যারা ছোটাছুটি করে রথে চেপে যেতে যেতে কতোটা দেখবে কৃষকের কান্না দৃষ্টি মেপে! 

কতোটা আর মাপবে তারা নিভু নিভু দিনের ওজন

শাসনের নামে সমতায় সুশাসন ভালোবেসে?

তবু স্বপ্ন বুকে উঠে শিস মানুষ দাঁড়াবে সমতায়—

কাতারে কাতারে কান্না ভুলে এক সফল সম্ভাবনায়।

ডঃ শৌভিক বাগচী

 

ঝড় 

দরজাটা তুমি 

বন্ধ রেখেছো 

এমনটা কি ভালো?

বাইরে যে ঝড় 

 নীড় ভাঙা কেউ 

বলছে ,দরজা খোলো।


তোমার সোহাগে 

রাত্রিযাপন 

বিনিদ্র মধুমাস 

পুড়িয়ে দিচ্ছে 

কালের আখর 

তপ্ত প্রাণের শ্বাস।


দরজাটা তুমি 

বন্ধ রেখো না 

একটু খুলে রাখো 

গভীর রাতের 

উষ্ণ আঁধার 

একটু হলেও মাখো।

বিজন বোস

 

কল্পতরু

তুমি আসবে বলেই

দিয়েছি ঘুঙুরে তাল

অন্তরে তান,

বাগানে বাড়ায়েছি কল্পতরু 

চোখে ধরেছি নীল মেঘ,

শার্টের বোতামে বেঁধেছি 

ঝলমলে  রাত।


গোলাপ হাতে নেমেছি

 নিষ্কাম প্রেমের পেশায়।

তৃণভূমিতে  নেমে এসো আজ

চিরসবুজ বৃক্ষ তোমার অপেক্ষায়,

তোমার কোমল স্পর্শ,

 বিষ্ময়কর মায়াবী আলোয়

আমার চোখ সূর্য হয়ে উঠবে।

আর সেই পূণ্য আলোয়

দুষ্ট প্রেমিকের ব্যাঘ্র দৃষ্টির কাছে

শিকারি হরিণে পরিণত হওয়া 

নিষ্পাপ প্রেম

পারিজাত হয়ে ফুটবে।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

 

জন্ম-মৃত্যু

'জন্ম' কী বুঝার  আগেই জন্ম হয়েছিল--

শুক্র আর ডিম্বকোশ মিলে

ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা মাতৃ-জঠর সারে 

হামাগুড়ি থেকে শব্দ শেখা...


আঁধার হলে পাখিদের ঘরে ফেরা

সকালের একবুক আশা ... 


আশার প্রহর গুনে গুনে

হঠাৎ থমকে যায় ...

কমল সরকার

 

মফস্সলগাথা

দিলদরিয়ায় ডুইবা দেখছি 
থই নাই। 

তার মনটা নাকি খুবই সরল —
ভাও নাই। 

অথচ তার কত কথা!  গোঁসাইদাদুর কথকতা 
যদুর লগে, মধুর লগে;
গলির মাথায় বাদামওলা,
মটরদানা কাবলিছোলা
কিনবো না তাও গপ্প কইরা
সময় কাটায় খুব অযথা। 
আমার চোখে চোখ মিললেই —

রাও নাই। 

আমার নাহয় হ্যাংলা  শইল —
বল নাই। 

কিন্তু আমার আর যা আছে, একমাত্তর আমার কাছে
সেইগুলা তো আর কারো নাই
বুকের মইধ্যে আকাশ নাই
সেই আকাশে বিষ্টি নাই
বিষ্টি হইলে একটামাত্র 
ছাতায় ভিজার আশ নাই। 
এইলা আমার হাছা কথা — 

ছল নাই। 

আমার একটা ভাঙা সাইকেল। সাইকেল তো না —
পাখির মতন উইড়া বেড়ায়
ঘোড়ার মতন চইড়া বেড়ায়
শাসন বারণ ভুইলা গিয়া
দুইন্যা দিঘাইল ঘুইরা বেড়ায়৷ 
তারে কত বইতে কইলাম

বয় নাই। 

তারে নাকি বাপ দেখবো, দাদা দেখবো
দেখলে পরে পিঠের মইধ্যে
কাঁচা কঞ্চির ঝাড় ভাঙবো। 
বুক চিতায়া কইতে চাই—
আমি তো তোর লগেই থাকবো। 
ওই ছ্যামড়ি! ভয় পাস ক্যা?

ভয় নাই। 

চাইলে আমি কইতে পারতাম —

কই নাই।

ডঃ রঞ্জিত দে

ফেনী

নিরেট ব্যাথার দামগুলি গুনতে গুনতে,
বুঝিলাম আমার চেতনার গোধূলি বেলায়।
ভেসে যায় মন মোর ফেনীর স্রোতে,
অনুভূতি মিলে যায় বিচিত্র বেদনার সাথে।
ভেসে যায় আমার সার্থকতা, ব্যর্থতা,
ফেনির ফেনার ছায়া-নিবিড় স্রোতে।
ফেনীই আমার গঙ্গা, ফেনীই আমার কৃষ্ণা,
ফেনীই আমার মধুমতী, ফেনীই মিটায় তৃষ্ণা।

ডঃ সন্দিপক মল্লিক

 

জীবনের জ্যোতি 

জীবনের জ্যোতিই হলো মূল !

জ্যোতিই তো নির্ভুল !

স্বপ্নশ্রীমান উৎসারণার পরাগ খুঁজে নেবো,

প্রাণসবুজের আলপনাকে আপন করে নেবো !

দুর্বিপাকের কষ্ট ভুলে প্রেরণাদীপ্ত হবো !

নষ্টামী সব ধ্বংস করে আলোর মানুষ হবো !

মিথ্যেকে আজ ধুয়েমুছে অগ্রণী তো হবোই !

পুণ্যদিনের ঐশ্বর্যকে আত্মায় ভরে নেবোই !

বিজয়া দেব


সেই পথিক

সুদৃশ্য নমস্কারান্তে লোকটি বলে
ছোট্ট দেখেছি তোমাকে।
যদি তাই হয়ে থাকে তবে প্রণম্য তুমি হে পথিক।
চেনা অচেনার ধোঁয়াশা কাটিয়ে
যে শৈশব আমার অঙ্গে জড়িয়ে
আছে, 
তুমি তাকে চেনো, 
তার চেনা গন্ধ তোমার অনাবিল
হাসিতে। 
তোমার সস্নেহ দৃষ্টির প্রশ্রয়ে
দু'দন্ড বিশ্রাম মাগে
এই যুযুধান সময়। 
যেমন যুদ্ধশেষে সৈনিক ছাউনিতে জিরোতে আসে।

সাচীরাম মানিক



লাভ জেহাদের বলি 

২০১৭ সাল,রাজস্থানের উদয়পুরে

গাঁইথি,হাসুয়া দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে

কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আফরাজুলকে।

অবশেষে কেরোসিন ঢেলে পোঁড়া মাংসের গন্ধ 

                                                      শুঁকে

তালিবান বাহিনীর নায়ক---শম্বুলাল রেগর।

স্বদর্পে ঘোষণা-----হিন্দু মেয়ের প্রতি

যে মুসলমান চোখ তুলে তাকাবে

তাদের পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হবে।

নিজের হাতে স্যোসাল মিডিয়ায়

ভাইরালের পর ভাইরাল,

এ যেন যুদ্ধজয়ের জয়োল্ল্যাস।

কিন্তু,এই সেই নজরুলের হিন্দু মুসলীম

যে একটি বোঁটায় দু'টি কুসুম ?

এই সেই ভারতবর্ষের প্রশাসন

যেখানে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাবার সাহস পায় ?

শুধু,একটা হিন্দু মেয়েকে ভালোবাসার জন্যে

পশ্চিমবঙ্গের মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা

মহম্মদ  আফরাজুল  খান

লাভ  জেহাদের  বলি।

সঞ্জীব দে

অন্ধত্ব 

কেউ আর এখন ঈশ্বরের বানী প্রচার করে না ;

 ঈশ্বর প্রচার করে, অন্ধ ভক্ত বাড়ে, প্রণামী বাড়ে,   যেখানে নিগূঢ অন্ধকার! 

এইসব অন্ধকারে সাঁতরে সাঁতরে মানুষগুলো 

অন্ধ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন! টের পাই। 

এই যে পাষাণ মন, নিষ্ঠুর হৃদয় -- দম্ভ, অহঙ্কার 

দয়ামায়াহীন ভালোবাসাহীন ক্রমে রোবটিক যন্ত্রে 

ভরে  যাচ্ছে পুরো সংসার। 

সর্বত্র শোষক আর শোষণ 

অপ্রতিরোধ্য! অনাদির পথে যেন একটা পাগলা ঘোড়া! 

 এই ঘোড়া মুখ থুবড়ে পড়বে  সেদিন 

যেদিন সব কোদালিয়া আগলে ধরবে পথ! 

কুশল ভৌমিক

তোমাকে পড়তে পারি না

তোমাকে কবিতা ভেবে 

ছলছল ভিজে উঠেছে ক্রীয়াপদ

শব্দ অলংকারের প্যাটার্ন বদলাতে 

গুলিয়ে গেছে পাসওয়ার্ড 

হরপ্পার ডালে এক টুকরো চাঁদ

রুপকথার গল্প শোনায়

বল,আমাকে পোড়াতে এসে

আগুন কি একটুও পোড়ে না কখনো? 

সত্য উলঙ্গ বলে 

মিথ্যার দখলে যাবতীয় বিউটি পার্লার। 


তুমি কবিতা হয়ে ফুটে আছো

দেয়ালে মেঝেতে বারান্দায় 

পাপড়ি খসাচ্ছো বিছানায় 

মান্দারিন অক্ষরের মতো 

কী ভীষণ চিত্রকল্পময় তুমি! 


তোমাকে পড়তে পারি না।

জহর দেবনাথ

দূর্গতি 

তোমরা যে যাই কও না কেরে

আসলে আমডার কথা কেউ চিন্তা করে না


নেতা কও মন্ত্রী কও অথবা আল্লাহ ভগবান

সবাই যে যার লোডা কম্বল লইয়া ব্যস্ত


টুফি পড়ানের সময় অগল বেডা অই ওস্তাদ

আর আমডা আ এমন অগা---


মাগন গ্যাস পাইয়া বৌ কী খুশি---

অখন গ্যাস কিননের হাডান অ আমার নাই


মাগনা চাল দিব কইয়া জিনিসের দাম অত বাড়াইসে--

অখন ওদা চাল চিবাইয়া খাওন লাগব


যে যাই কইন না কেরে অখন অ

নিজেরার ভালাডা না বুজলে কপাল অ

আর দূর্গতি আছে।

সোমেন চক্রবর্তী

স্নান 

রাত শেষের দিকে, 

তবুও তোমার কাছে অন্ধকার মানেই ভয়,

দিন আসার আগে সব অপকর্ম ধুতে চাইছ নদীর জলে

শ্বাপদসংকুল রাস্তা পেরিয়ে হেঁটে চলেছ 

ভাবছ কারো সঙ্গ পেলে কেটে যাবে বুকের কম্পন 


রাতের চৌর্যবৃত্তি সেরে তুমি ভোরের আলোয় এবার স্নান করবে,

জলে নেমে দেখলে ওপারে অন্য কেউ আছে 

ডুব দিয়েছে নদীতে


সে-লোকটি কোনো সন্ন্যাসী নাও হতে পারে;

হয়তো সে তোমার আজীবন সঞ্চয়ে সিঁদ কেটেছে গত রাতে


তোমার অনুপস্থিতি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছিল, 

এখন যেভাবে তোমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে তার উপস্থিতি 


এই সব লেনদেন সেরে নিয়ে তুমি কি শুদ্ধ হতে পারবে?

তমালশেখর দে

ভালোবাসা 

একগুচ্ছ ভোরের ঘাস নিয়ে এসেছি আপনার জন্য!আপনি তাতে মাথা রাখুন। শিশিরের জল দিয়ে ভিজিয়ে দিই আপনার এলোচুল।এক ফোঁটা জলকে গড়িয়ে যেতে দিন, তার আপন গতিতে। আল পথের মতো কপালে বিছিয়ে দিই কুয়াশাভেজা পথ। চোখের পাতায় বিছিয়ে দিই ঘুম। তারপর সব চুপচাপ। আপনি ঘুমান।আমি  ঘুমন্ত আঁখির পলক থেকে  ঝেড়ে দেবো  অশ্রু। বুক থেকে তাড়িয়ে দেবো  দুঃস্বপ্ন। 

আপনি ঘুমান । আপনার পাশে জমা রইল আমার বিনিদ্র চুম্বন ।

বিপ্লব উরাং

এক টুকুন ফরসা

অতীত ছিল-

বর্তমান ভাঙ্গাচোরা-

আসছে দিনগিলান কেমন যাবে কে জানে?


একশ বছরের গাছগিলানও যায় যায় করছে।

নতুন চা-গাছ আর নাই লাগাছে মালিক।

বড় বড় শিরীষ গাছগিলানও ক‍্যামন জানি হয়েসগেছে-

চা-গাছের ছায়া দিবেক কে?


হামদের জীবনেও ছায়া দিয়নের কেউ নাইখে--

আনধার--আনধার--সারা জীনটাত-

আনধার লিয়ে হাটছি।

কেউ কি নাইখে-একটুকুন ফরসা দেখাবেক।


কে জানি বাপ?

শেষ জীবনে আসে ছটপটায় -রামলাল।

ক‍্যামন জানি ঝাপসা হয়ে যায়-

দুই চখ!


ঝাপসা চখের মতন

ঝাপসা জীবন হামদের।


হাতড়ায় একটুকুন ফরসার লাগি-


বুড়াহা বটগাছের নিচে বসে

লম্বা শ্বাস লেয় রামলাল।

ল‍্যাংটা ছানাপোনারা খেলছে।


আসছে দিলগিলানে কি

অরা ফরসা দেখতে পারবেক?

চন্দন পাল

সম 'কোণ 

হঠাৎ, 

কোন একদিন,  

কেন জানি মনে হয় তোমাকে খুব, কাছে চাই।

একান্তে, সুস্পষ্ট আলোতে, তোমায় ভাল করে  দেখি। 

তখন, বদ্ধচোখে তুমি আমার মগজের প্রতিটি চলন পড়বে,

আর আমি তোমার নিরাভরণ হৃদয়ে(!) ঝড় তুলবো।

দেখবো, বিব্রতবোধে জানালায় পা রেখেই, উড়ে যায় অপ্রস্তুত দোয়েল।

অসাবধানে ছুঁয়ে যায় সন্ধামালতিরে, বদনলতায় সলজ্জপুলক সঞ্চারী।

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ

বৃষ্টি

দুপুরের রোদের দিকে লেলিয়ে দিলাম

একটুকরো কালো মেঘ,

উতল বাতাস

আর

গ্রীষ্মের ছুটিতে

পাহাড় দেখতে চাওয়া মন...


আমার ভীষণ ইচ্ছে

তোমার সঙ্গে ভাগ করবো

মধু মাখা বিকেল,

ইছামতীর ভীষণ ঢেউ

আর মে 'মাসের একটা রু রু রাস্তা


জুনের এক সন্ধেয়

আমি হবো বৃষ্টি গান, 

তুমি রকস্টার...

আর

আমাদের প্রিয় সন্তানেরা

মন দিয়ে পড়বে

আন্তনিও গ্রামসির প্রিজন নোট। 


আমরা আজীবন প্রিয় জুতো খুঁজছি

হয়তো খুঁজবে আমাদের সন্তানও

জিরাফের দেশ...


পুরো জুলাই মাস ধ'রে

বৃষ্টি ঝরছে ঝরছে

আর আমরা রক্ত ধুয়ে নেয়ার জন্যে

বর্ষাকাল খুঁজেই পেলাম না...


কলকাতায় তখন ঘরে-বাইরে 

কী ভীষণ গ্রীষ্ম, 

জ্বলছে রাইটার্স বিল্ডিং,

পার্কস্ট্রিটের রেস্তরাঁরা।

জ্বলতে জ্বলতে গড়িয়াহাটের

ফুটপাতে গলার নীল শিরা ফুলিয়ে

ডাকছে হকার, তিনটে কুড়ি, 

চারটে দশ...


গলছে রাজপথের পীচ।

অথচ আর তিরিশটি দিন পার হতেই

বৃষ্টির এক রাতে আমরা জন্ম দিচ্ছি

দীর্ঘ শীতকালের...

সুমনা রায়

নস্টালজিক

প্রেসক্রিপশনের আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকা


চারপাশের নিভে যাওয়া জীবনগুলো

মাঝরাতে এসে পিলসুজ হয়ে দাঁড়ায় 

জানালাহীন ঘরের মতো অসহায় ভায়োলিন 

বৃত্ত আর কেন্দ্রের টানে খেলতে খেলতে 

ঝিমোনো ইচ্ছেগুলো 

জীবনকে করে তোলে 

তুমুল নস্টালজিক

আদিমা মজুমদার



আতঙ্ক

লকডাউন, জনতা কার্ফু

আমায় ছুঁয়ে দেখেনি কমরেডস,

 22 মার্চ 2020

তোমরা যখন ঘরে বসে -

কাঁসর ঘণ্টা বাজাচ্ছিলে,

গরম করছিলে হোয়াটসঅ্যাপ ফেইসবুক 

আমি তখন হাসপাতলে। 

জলের কল, লাইট, বাথরুম, অক্সিজেন ভেন্টিলেটর ঠিক করছিলাম

শুধু তোমার জন্য বন্ধু।

আমার পিপি ই কীটের অন্তরে

নয় কুঠুরি দশ দরজা,তুমি জানোনা

ভ্যাপসা গরম ঝাপসা চোখ 

অসমাপ্ত গল্প নাইবা বললাম,

তোমাকে ছুঁতে  না পারার যন্ত্রণা

আমাকে আহত করে। 

হাসপাতালের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে

ডেটল সেনিটাইজার আর ব্লিচিং এর গন্ধে হারিয়ে যাই কোন এক স্বর্গরাজ্যে, 

যেখানে মানুষের হাহাকার আত্মচিৎকার,

বাঁচাও! বাঁচতে চাই।

হেলিকপ্টার যেদিন আমাদের উপর

ফুল বর্ষায় -

আমি অবাক হয়ে খুঁজছিলাম

ফ্যাসিষ্ট শব্দের অর্থ!

কোয়ারাইন্টাইনে বাসি রুটির কথা মনে পড়ে।

মনে পড়ে,

চৈত্রের দুপুর -

সামনের বাগানে গ্রীষ্মের সতেজ স্পর্শ

নানা প্রজাতির ফুল -

লাল নীল গেরুয়া, 

শালিক দম্পতি, কোবিড পজেটিব ওয়ার্ডে, ব্যালকনিতে বসে খুনসুটি করে। 

এক ঝাঁক সাদা বক উড়ে যায়

 কোন সুদূর পানে

 আমার মত তাদেরও নেই লকডাউন।

 ভয় আতঙ্ক শংকা।

তাপীব

মন খারাপের বৃষ্টি

আজ আবার ফিরে এলে-

‘মন খারাপের বৃষ্টি’!

‘কুটুম পাখি’-‘বেনে বৌ’-টা

গুমোট হয়ে আছে বসে,

বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা।


মগডালের ওই বসন্ত-বৌরি,

জলপাই রাঙ্গা মন- মৌটুসী,

ধনেশ দুটির জোড়া জুটি-

সব-ই যেন ছন্নছাড়া;

মোহনচূড়ার হলদে ঝুঁটি।


আজ আবার ফিরে এলে-

‘মন খারাপের বৃষ্টি’!

নীলকন্ঠ-টাও চুপসে গেছে,

ভাত শালিকের মৌন-শিসে,

গো-শালিক টাও ঘুমিয়ে আছে।


তোমার জ্বালায় কাঁপছে ভিজে-

বিশ্রব্ধ কেন দুধরাজে?

ক্ষীররাঙা ওই ‘বুলবুল-হোসনী’!

উমেদ মনে শূণ্য-তৃপ্তি,

আজ যে বড্ড কথা রাখেনি।


কেন আবার এলে ফিরে-

‘মন খারাপের বৃষ্টি’?

মৃধা আলাউদ্দিন

আমার বাবা একজন কৃষক 

আমার স্বপ্নের ভেতরে সান্দ্রমান হয়ে আছেন 

একজন পরাবাস্তব, প্রজ্ঞার কৃষক--- আমার বাবা

চোখ মেললেই দেখি, জমা হয় ইউসবির পোর্টালে

জানালার জল আর শার্শিতে দেখি বাবাকে

বাবার কাস্তে 

লাঙল

হালের গরু জোরা দেখি---

 বাবা জমি নিড়ান

ধান বুনেন

পাঠ বুনেন

ফসল ফলায়। জমা করেন তার নিজস্ব পেনড্রাইভে---

হাটে নিয়ে ফসল বিক্রি করেন

আমরা সুখের দিন গুনি--- 

‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’।

আমার বাবা কৃষক।

জমির পাশে বক, সারস, মেঠোপথ সব ডাউনলোড করেন বাবা।

সবাই আমার বাবার বন্ধু।

আল বেয়ে নিজের ইউটিউবে গান শুনতে শুনতে বাবা চলে যান দূরে

আমাদের চরে ওঠা নতুন জমিনে। মাটির সোঁদা গন্ধে ভিজে ওঠেন বাবা।

.

চতুভর্‚জের নতুন জমিতে আমার বাবার মুখে হাসি ফোটে

আমার বাবা হাসলে হেসে ওঠে বাংলাদেশ।

জমিদার লেঠেলদের আঘাতে

সঘন অন্ধকারে কখনো কখনো কাঁদেন বাবা।

.

আমার বাবা একজন কৃষক। 

একজন কৃষক যেনো একটি বাংলাদেশ---

আমার বাবাই বাংলাদেশ...

রুনা নন্দী

হলুদ বনের প্রজাপতি

চোখে চোখে দেখা ,মৃদু হাসি রেখা।

তারপর দূরত্ব  গেলো কমে

এলো কাছাকাছি।

মনের ভিতর একনদী ঢেউ,

চোখ ভরে উঠলো জলে।

 সূর্যটা সরে গেছে,

বেশ কিছুটা দূরে।

এমনসময়--

একজন শার্টের কলারটা ঠিক করে দিল,

অন্যজন   শাড়ির আঁচল।


ঝড় এলো, শুরু হোলো বৃষ্টি--

গাছের তলায় ভিজছে দুজন


যদিও একসময় বৃষ্টি  গেল থেমে

তবু আজ থামবেনা ওরা।

একসাথে হেঁটে যাবে 

ওরা হেঁটে যাবে পৃথিবীর পথে।

Jul 19, 2021

কল্যাণ দাস

মিষ্টি স্বপ্ন 

স্বপ্ন বীণার তারে , এক সুমধুর তানে 

সুর ধরেছি নাম না জানা 

প্রভাত পাখির গানে।

সে যে আপন মনে গান গেয়ে যায়

মিষ্টি সুরে হিমেল হাওয়ায়,

মোর জানালার পানে।

তার মনের কথা আমার কানে,

শোনায় সে তার সুরের টানে,

সাতটি সুরে শুনিয়ে সে গান

মন ভরিয়ে যায়।

আমি হয়ে মগন  বাজাই যখন

বহে বাতাস  জাগে তপন,

বীণার তারের ঝংকারেতে

নাচে পাখি  হাসে ভুবন।

ফুল কলিরা ডালে ডালে

নাচে সুরের তালে তালে,

মৌ পিয়াসী ঐ ভ্রমরা

আপন সুর ই যায় যে ভুলে।

সহসা সেই  বীণার তারে

রবির কিরণ  উঁকি মারে,

উষ্ণ পরশ চোখের পরে

নিল আমার ঘুমটি কেড়ে।

বন্ধ খিলে হাতটি তোলে

জানালাটা তাই দিলাম খোলে,

মিষ্টি স্বপ্ন গেল চলে

নাম না জানা  পাখির দলে ...

সো ওম্

শেষের সেদিন

ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,
ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন,

মুছে গেছে দিন মুছে গেছে রাত মুছে গেছে রাতদিন,
মুছে দিলে সব নিজ হাতে তবুও স্মৃতিটা অমলিন,
দুরন্ত দুটো পথ এসে শেষে  মিশে ছিল একবাঁকে,
সবুজে সবুজ বনানী হয়ে  এগিয়েছে এঁকেবেঁকে,

সহসা এক বালিঝড় এসে ঢেকে দিল দিকবিদিক,
ঝড়ের আড়ালে লুকিয়েছো তুমি একা পথ আমি এদিক,
তোমার পথরেখা হল যে বিলীন তোমার-ই বালিঝড়ে,
ঝড়ের এপারে দাঁড়িয়ে আজ‌ও পথ খুঁজি প্রান্তরে।

ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,
ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন-
ভুলিনি শেষের সেদিন, অস্তরাগ এর শেষ দিন,

ভুলে থাকার সহজ পাঠ, শিখিনি যে কোনদিন।।

বদরুদ্দোজা শেখু

জাতিস্মর

সবুজবরণ বসুন্ধরা ,মেঘবরণ চুল

জলভারের শ্রাবণ-মেঘে রাত করেছে ভুল

উলুঝুলু যায় উড়ে যায় দিগন্ত পাহাড়

আকাশমাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় দিব্য একাকার,

নামে যখন অঝোর ধারায় , সোঁদা মাটির গন্ধে

দিগ্বিদিকে পরব শুরু মাতোয়ারা আনন্দে

ছন্দে জাগে ঊষর মরু তরুলতা অরণ্য

ফিরে আসে বসুন্ধরার তারুণ্য লাবণ্য,

বন্য ভাষায় ভাসে মেদিনী পদ্মা ব্রহ্মপুত্র

দুঃখসুখের ভেলায় ভাসে জীবন বিচিত্র ---

মরুতীর্থে হিল্লোল উঠে , কারুকৃত্যে ভিক্ষা

কখনো ভাসান কখনো পাষাণ উদ্গ্রীব প্রতীক্ষা,

তার অবদান প্রাণের ধারা দুঃখ খরা বন্যা।

বাদলধারায় মেঘেরা হারায়, জলজন্মের কন্যা

বাষ্পজন্মে মেঘজন্মে চক্রপরস্পর

পূর্বজন্মে জেগে থাকে আদিম জাতিস্মর।।

রণদীপ সিংহ

ধুপ কাঠি   

একটি ধুপ কাঠি স্বর্গের ছোঁয়া -

এনে দেয়,----

যখন, আমার মা লাল পাড় --

শাড়ি পরে - দুর্গা-- লক্ষ্মী-- 

কিংবা জগদ্ধাত্রী মাকে অর্চনা করে।


একটি ধুপ কাঠি অমরাবতীর সুখ এনে দেয়,--

যখন, কোন প্রবীণ ব্যক্তি স্নান

সন্ধ্যা আহ্নিক সেরে,

দোকান খুলে গণপতি বাপ্পা কে

ধুপ কাঠি জ্বালিয়ে দেয়।


একটি ধুপ কাঠি তে,--

স্বর্গীয় সুখ অনুভূত হয়,

যখন , কোন মন্দিরে --

পূজারী ধুপ জ্বেলে আরতি করে।

মনে হয় মর্ত্যের যতো সুখ,

এই দেবালয়ে!

লোভ - লালসা - কাম - ক্রোধের

উপরে যার স্থান!


একটি ধুপ কাঠি অতন্দ্র প্রহরী

যখন কোন পোয়াতি নারী,

সাঁঝের বেলায় পাশের বাড়ি যায়    


একজন ড্রাইভার জানে,

একটি ধুপ কাঠি তার--

সারাদিনের শুভ সূচনার ,

একমাত্র হাতিয়ার!


আবার এই ধুপ কাঠি দুঃখ সাগর

যখন, উঠোনে শায়িত লাশ!

চারদিক ঘিরে আছে তাঁর ,--

আত্মীয় - পরিজন।

মাঝখানে শায়িত অকাল মরনে ,

চলে যাওয়া স্বজন!

শিয়রে তাঁর ক' টি ধুপ কাঠি --

আপন মনে ক্ষয়ে চলেছে ,

শবদেহের মতোই তাঁর মৃত্যুর -- শেষ প্রান্তে !


একটি ধুপ কাঠির গন্ধ তখন --

সৌরভ দেয় না,

দেয় এক বুক হতাশার,-

নিদারুণ অনুভূতি!

চলে যাওয়ার বেদনা 

ক্ষয়ে যাওয়া র যাতনা

এক ঘোর অমানিশার ,--

অসহনীয় যন্ত্রনা !!

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

প্রস্তরীভূত নবান্ন

পাঁচতারা হোটেলে বেবীদের সাথে আমরা নবান্ন নবান্ন খেলছিলাম!

তখন সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় দুলে উঠলো ধানশীষের মুখ

ডায়োড লাইটের প্রচুর জোছনা রুখে দিচ্ছিল চাঁদের মহিমা

বিশাল বাথটাবে ছায়া ফেলছিলো পূণ্যিপুকুরের দীঘি।

শ্রমজীবি মার্বেল-পাথরের দেয়ালে

উঁকি মারছিলো শতাব্দীর প্রস্তরীভূত মানুষের হাত।

কেক-কাটা, মোমবাতি আর পপ মিউজিক জ্বালাবার শব্দে শব্দে

কতগুলো মৃত আবছায়া একসাথে শুরু করলো গণসংগীত 

ব্রোঞ্জ স্ট্যাচুটার পাদানি থেকে গড়িয়ে পড়লো লাল মদ

মনে করিয়ে দিল গ্রামান্তরে জোতদারগুলোর শীতল রক্ত।

অনেকগুলো আত্মা পাঁচতারা বিল্ডিংএর ছাদে তখনো কাঁদছিলো -

কারণ নবান্নের মাসে এইসব কৃষকেরা আত্মহত্যা করেছিলো!

রঞ্জিত চক্রবর্তী

ও মানুষ তুমি কী চাও

ও মানুষ তুমি কী চাও

তোমার অস্তিত্ব হোক বিসর্জিত

তোমার স্নেহের টান থাক তোমাতেই সীমিত?

তোমার আগমন কী শুধু-

স্বপ্নমাখা বিলাসের দাঁড় টানতে

তোমার জন্ম কী শুধু-

ধন, জীবন, যৌবনের খেলা খেলতে?

তোমার গৃহস্থ জীবন শুধু কী-

আমার আমিকে ধরে রাখতে?

তুমি না মানুষ‌!

মন থাকেনা মানুষের ভিড়ে।

তোমার কী পড়ে না চোখে 

কত দুঃখের জাগরণ

তুমি সে রূপ দেখেও চেয়ে থাকো।

ও মানুষ তোমার বুকের কপাট খোলো

মরার আগে প্রতিদিন একবার ভাবো

দেওয়া আর নেওয়া

যাওয়া আর আসা ছাড়া

কিছুই নেই তোমার

তুমি যে মরণশীল।

Jul 18, 2021

দুলাল চক্রবর্তী

ইন্দ্রধনু

গোধূলীর শেষ লগ্নে

তরী খানা তীরভূমির দিকে

ক্রমশঃ এগিয়ে চলছে।

দুটি চোখ যেন ঝিমিয়ে পড়ছে।

অবসন্ন এ দেহ, তবুনেই অবসর।

শ্রান্ত- ক্লান্ত মন

ব্যাকুল প্রত্যাশা ছিলো--

গোধূলীর রক্তরাগে মিলাবো

হিসাব,

স্মৃতিগুলি জমেছে নিরন্তর।

আকাশের নক্ষত্ররাজি

আলো জ্বেলে দিয়েছে--

তারই মাঝে খুঁজি তব

নীল আঁখিজোড়া

শুধু অনুভব আর অনুভব।

স্বপ্নের বাসরে ছিলো

তোমার নব সাজ,

উদ্বেলিত চোখে আপন খেয়ালে

স্বপ্নঘোর রচিয়াছি আমি।

সেই সোনাঝরা দিনে আমি

পাইনি উত্তর।

সম্বিত ফিরে পেতেই

বুঝিয়াছি আমি--

ভেঙে গেছে খেলাঘর,

তমসায় আচ্ছন্ন।

বেদনার ভিক্ষাভান্ডে

জ্বালায়ে আগুন ভূলুন্ঠিত সমস্ত

আবেগ--

একাকীত্ব করেছে গ্রাস

ক্রমে ক্রমে,

মনের মাধুরী সাহারার বুকে

হয়েছে গ্রাস,

বিদগ্ধ মনের গোপণ আস্তানায়

নেই কোন প্রাণের ইঙ্গিত।

সুব্রত ভৌমিক

শুভ্রতা

না তুমি ব্যথা নয়,

উৎসের নবীন পাতা।

বিষন্ন দিনে যতই কাঁদ,

শেষে হবেই হাসা।


হয়তো আজকে আঁধার রজনী

শোষণের কারাগার।

বর্ষা ঋতুতে জাগ্রত হবে

বসন্তের পারাপার।


রৌদ্র স্নাত দিনের সময়,

ক্লান্ত বিকেল আশার।

সাঁঝের বাতির শুভ্র আলোয়

ঘুচবে রাতের আঁধার।


অনুকূল নয়, ভুলে ভরা হলে

পাকের আঁধার পাবে।

প্রতিকূল চল, জোরটা তোমার

শক্তি যোগান দেবে।


পর্ণমোচী পত্র মোচনে

আশার আলোয় থাকে।

ষষ্ঠ ঋতু আসবে যখন,

উঠবে নতুন ঝাঁকে।


নাপাওয়া শোকে বিভোর হয়ে

ভুলেভরা স্রোতে নয়।

প্রতিরোধ গড়ে প্রতিকূল চল,

হবেই আলোকময়।

রাজীব পাল

জল সমাধি

অমৃত বেলায় রাধা কুন্ডে যত পদ্ম ফুটে,

কাদামাটির গর্ভে শালুকে তাদের জন্ম।


মৃণাল শালুক হতে জল পথ ভেদ করে,

উঠে আসে জল আর বায়ুর সন্ধি স্থলে।


তার শিরে বয়ে আনে পদ্ম কলি,

বায়ুর ছোঁয়ায় কলি ফুল হলে-

স্থান হয় দেবালয়ে।


পড়ে থাকে শালুক- মৃণাল অতলে অবহেলিত -

চোখে বুকে এক পুকুর জল সমাধিতে।

সৈকত মজুমদার

অনলাইন রিলেশন

তোমার সাথে আমার প্রথম আলাপ 

ইনস্টাগ্রাম থেকেই

তারপর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার 

তোমাকে আগে সেভাবে চিনতাম না। 

পরে তোমার টাইম লাইনে কিছু ছবি দেখেছি 

বেশ আকর্ষণীয় বটে,

যখন একে অপরের প্রেমে পড়ি আমরা

তখন আমাদের পরিচয়ের মাত্র এক মাস


তারপর রোজ সকাল দুপুর সন্ধ্যা

আমাদের কত কথা, 

রাত ঘুমোতে যেতেও একবার ভিডিও কল

অথবা একটা সেলফি চাই,

দুজনের পরিবারের সদস্যদের 

নানান বাধা বিপত্তির পরও

আমরা যোগাযোগ বন্ধ রাখিনি।

আমাদের ঘুম হত না

একদিন একবেলা কথা না হলে

মন কেমন করত দুজনের। 


আমাদের কত পরিকল্পনা ছিল 

এই সাময়িক অনলাইন রিলেশন 

একদিন পূর্ণতা পাবে, কিন্তু

আমাদের প্রেম অপূর্ণ রয়ে গেল আজও


তুমি হঠাৎই 

যোগাযোগ ছেড়ে দিলে গত লক ডাউনে,

তারপর আমি কত কবিতা লিখেছি

কত বিরহের স্ট্যাটাস দিয়েছি

তুমি আর দেখোনি, অথবা 

অন্যের মোবাইল থেকে দেখেছ 

আমার অজান্তে বোধহয়


আচ্ছা, কখনো ভেবে দেখেছ কি 

একটা সময় আমরা কত কথা বলতাম,

আর এখন আমাদের কথাই হয় না;

আমি ভাল নেই, অথচ 

তুমি দিব্যি আছ

ফেসবুকে নিজের ফটো আপলোড করছ;


তুমি কেমন বদলে গেছ!

সময়ের সাথে সাথে মানুষ 

এতটা বদলে যায় 

তোমার সাথে পরিচয় না হলে জানতেই পারতাম না।

একটা সময় তুমি যাকে পাগলের মতো চাইতে

আজ তাকে এমন ভাবে দূরে ঠেলে দিলে

যেন আমার সাথে কখনও কথাই হয়নি তোমার।

সম্পা বৈদ্য

জীবনের মানে

বহুবার বহু হাহাকার 

জমেছে হৃদয়ে গভীর আঘাত।

রোগ জরা মৃত্যুতে কেঁদেছি আমি

নিস্তার নেই জেনে।

এইটুকু বুঝে একদিন রাতে 

ভেবেছি পালাই স্বামী পুত্র সংসার ছেড়ে।

খুব সন্তরপনে নামছিলাম যখন বিছানা ছেড়ে। 

ছেলে বলল "মা যেও না আমায় ছেড়ে!"

শুদ্ধোধনের পুত্র

সিদ্ধার্থ তুমি।

তুমি মহামানব।

ঘুমন্ত স্ত্রী সন্তানরে  রেখে 

ঘর ছেড়ে খুঁজেছিলে জীবনের মানে।

সেই জীবনের মানেই 

খুঁজে চলেছি নিরন্তর।

 নিস্তার নেই রোগ,জরা,মৃত্যু থেকে।

 জেনেও নিরলস বেঁচে আছি।

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ


অজানা সন্ধান

দীর্ঘ বাদল গর্জে গেল মাথার উপর,
অজ্ঞানতায় কেটে যাওয়া এক পক্ষকাল।
মৌনতা আর অসারতার জীর্ণ আবরণ ছুঁড়ে ফেলে,
উঠে বসি একবুক নড়বড়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে ।
কি যেন তাড়া করে চলেছে সমস্ত অন্দরমহল জুড়ে।
অতঃপর,
উইপোকাদের অধিকৃত কাটাকুটি কাগজের ভাঁজ খুলে আবিষ্কার করি,
মেটো গন্ধ মাখা আধভেজা
টুকরো টুকরো ঝাপসা স্মৃতি।
অস্ফুট স্বরে কি যেন বলতে চাইছিল সেদিন ওরা
আমার আঙুল জড়িয়ে।
ভেবেছিলাম শুনবো সেদিন
সময় নিয়ে সব অজানা কথা।
হঠাৎ করেই শুরু হলো ঝড়ো হাওয়ার মিছিল।
মুহূর্তেই আঙুল ফসকে উড়ে গেল ওরা হাওয়া দের গায়ে ভেসে।
জানার পথে অজানারে খুঁজে বেড়াই আজও।
ক্লান্ত, আজ বড্ড ক্লান্ত প্রাণ।
তবুও যেন খান্ত হয়নি
বুক জুড়ে ধেয়ে চলা,
সেই আধভেজা স্যাঁতসেঁতে কাগজের ভাঁজে লুকোনো আমার অজানা সন্ধান।

দেবব্রত সুত্রধর

বাঁচার প্রত্যাশায়

আশা যখন ভেঙ্গে যায় নিরাশারা উঁকি মারে অন্ধকারে,

তখন একটি বিলুপ্ত তারা ঝাপসা আলোয় বেরিয়ে আসে আকাশ-বাড়ি উঠোনে,

স্থিমিত আলোয় হাত বাড়ালেই যেন খোঁজ পাই আমার মৃত দেহ,

অজগরের মত চলছি সহস্র বছর ধরে, 

পচন ধরেছে অনেক আগেই

কিছু ঔষধী বীজ রেখেছি বলে গন্ধটা সবাই পায়না,

যারা পায় তারা পাশ কেটে যায় আমার সিমান্তের ওপার দিয়ে,

তখন নাম না জানা এক সিমান্ত আরোহী আমার কানে কানে বলে যায়

'মানুষ মরে প্রতিনিয়ত মরে

এক একটি বাঁচার প্রত্যাশায়'!

সম্রাট পাল

অসুখ

এই ধুলাশরীর নিয়ে 

একাকী দাঁড়িয়ে আছি

শূন্য পৃথিবীর ক্রোড়ে


তারাভেজা রাতের ক্ষীণ আলোয়

ক্ষয়ে যায় ঘুমের রেণু


অসুখের পৃষ্ঠাঙ্ক দেখে

ক্রমে এপাশ থেকে ওপাশ ফেরে মহাকাশ

দাঁড়িয়ে দেখি 

কীভাবে জেগে থাকে মানুষ

তন্দ্রাতুর বিছানার গায়ে

সুমন পাটারী

অকালবৃদ্ধের গান

দেখো লেখার জন্য যে বিকট অন্ধকার দরকার

তা আমার কাছে নেই,

বাঁচার জন্য যে উজ্জ্বল আলো দরকার

সে পরিমান আলোও নেই আমার কাছে। 

ভালোবাসবার মতো বিরাট হৃদয় আমার নেই,

ভালোবাসার ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য

সমপরিমান কৌশল ও বুদ্ধি আমার মাথায় নেই।


উড়া তো দূর,

হাঁটার জন্য যে মাটি

তা আমার পায়ের তলায় নেই।

আঁকড়ে ধরার জন্য

যে হাত ছিলো তা রূপোর তারের মতো

ঝালাই হয়ে লেগে আছে

ফেলে আসা মানুষের ফাঁটলে ফাঁটলে,

ন্যাঁড়া মাথায় চুল গজালো বৃদ্ধলোকের

ফুল ফল হয়ে কখন বীজ পুতে দিলো,

বামন কখন লম্বা হয়ে ঘরের মুঠোয় ঢুকিয়ে নিলো চাঁদ

আমি ভাবতে ভাবতে কখন বেলা কোথায় গেলো,

ঘড়ি নেই, কম্পাস নেই,

কি করছি এখানে? বলতে পারো-- কোথায় যাবো?

ডাঃ লিয়াকত আলি লস্কর

তোমার দেওয়া গোলাপ

আজ সেই রোজ ডে।

আমার হাতে হাত রেখে,

তুমি তো বলছিলে 

"তুমি আমার সব"

আমার হাতে হাত রেখে,

তুমি তো কেঁদে ছিলে

"আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"

সেদিন একটা গোলাপ দিয়ে বলেছিলে

"আমি তোমাকে ভালোবাসি"

আমি তোমাকে ছাড়া ,

এক মূহুর্ত বাঁচবো না।

আমি তোমাকে সেদিন বোঝাতে পারিনি।

আমি বললাম , তুমি বড়লোক,

কত সুন্দর তুমি, মায়াবী,

আভিজাত্য আর অলংকারের 

মোড়া তোমার পৃথিবী,

তুমি আমার সাথে থাকতে পারবে না।


তবুও তুমি জেদ করলে।

আমার মুখটা চেপে ধরে বললে,

আমি তোমাকে ভালোবাসি

আর তোমাকেই চাই।

পৃথিবীর কোনো শক্তি 

আমাদের কে বিচ্ছিন্ন করতে

পারবে না, তুমি আমার,

আমি তোমাকে ভালোবাসি।


আমার সব সত্তা দিয়ে 

তোমাতে হারিয়ে গেলাম।

তোমাকে দেখতে পেলাম,

শরতের শিশির ভেজা ঘাসে।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

বিকালের রামধনু রঙের মেলায়।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

সন্ধ্যার হংস বলাকার দেশে।

তোমাকে দেখতে পেলাম ,

একফালি চাঁদের আলোয়।

তুমি আটকে গেলে ,

আমার হৃদয় জুড়ে,

অন্তরের গভীরে অন্তরস্থলে।


তারপর একদিন বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় ,

তোমাকে জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসালো।

তোমার কিছু করার ছিলনা।

প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেললে।

তুমি চলে গেলে,সবার অজান্তে ,

তোমার আর কোন খবর নেই।


তোমার দেওয়া  গোলাপ টা এখন 

ব‌ইয়ের ভাঁজে আমি যত্ন করে রেখেছি 

শুকিয়ে গেছে ,

আর তার সুবাস ও নেই,

এখন তার পাপড়ি গুলো 

ব‌ইয়ের পাতায় জমাট বাঁধা।


তুমি আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে

হাত ধরলে এক অভিজাত পরিবারের।

অসহায় ,আশ্রয়হীনদের ভালোবাসার

কোন দাম নেই।

কিন্তু আমি আজো ও তোমাকে ভালোবাসি 


তাই এই রোজ ডে তে,

প্রতিবার আমি 

এই গোলাপটার দিকে তাকিয়ে থাকি,

হয়তো তুমি কোনো দিন  

ফিরে আসবে।

আমার কাছে ।।

রঞ্জন ভাওয়াল

ভাবনা

তুমি আমার রাত জাগা নো পাখি

স্বপ্নে ভরিয়ে যাও-

ভোরের বেলায় কোথায় হও যে উধাও

বেদনায় ভরে উঠে আঁখি।


দিনের বেলায় ভাবাও আমায়

আসবে কি তুমি আমার রাতের পাখি?

মন লাগেনা কাজে, আকাশ পানে দেখি

ভুগবোনা তো কেবল নিরাশায়।


মুগ্ধতায় দেখি নীল আকাশ

সারা সকাল বিকাল দু'বেলা,

তোমর সাথে লুকোচুরি খেলা

মন ভরিয়ে দিলে বিপুল আশ্বাস।


সন্ধ্যা বেলায় বাতায়নে বসি

ভাবি আসবে আমার রাতের পাখি,

আমি থাকবো না একাকী

 ভরবে মন -উতল হবে হাসি খুশি।


হঠাৎ কখন ফিরে এলে ইচ্ছে ডানা মেলে

আনন্দে চিৎকারী তারস্বরে,

আমার অতিথি ফিরেছে মোর দ্বারে

মনে হয় কোন মায়ায় ছলে।


থাকবো না আর গৃহ বন্ধনে আবদ্ব

যেথায় নেই দূষন- ঘৃণা বিচ্ছিন্নতা,

আছে শুধু প্রেম, শান্তি-মানবতা।

চলবো পথে থাকবে না ধরার সীমাবদ্ধ।

মোঃ রুবেল

আমি ঈশ্বর দেখেছি

যতবার তোমাকে ভালোবেসেছি,

ঈশ্বরের মতো ভালোবেসেছি।

কারণ তোমার ভালোবাসাও অসীম।

যেমন অসীম ঈশ্বরের।

আমি ঈশ্বর দেখেনি,

দেখেছি তোমাকে।

একটি নিঃসঙ্গ সময়ে ঈশ্বর যেমন বন্ধু হয়,

তেমনি তুমিও।

ঈশ্বরের চোখে ক্রোধ,ঘৃণা,অভিমান নেই

শুধু ভালোবাসা ছাড়া।

তেমনি তুমিও ভালোবাসা বিলিয়ে দাও আমায়।।

তুমি আমার ঈশ্বর।

আমি যাকে রোজ চোখে দেখি,

এক  ঈশ্বরীয় প্রেম নিবেদনের আদলে।

লিটন শব্দকর

অথচ শ্রাবণমাস

কথা হয় রোজ নক্ষত্রের বারান্দায়

তারায় তারায় রাত গুটিগুটি পায়ে

অথবা শ্রান্ত বৃষ্টি নামে জলের ঘুমে।

যদি আসো খবরের জাহাজঘাটায় 

তুমিও সেদিনের অচেনা গল্পকথায়,

প্রতিটি বিকেলে মরমের জানালায়

ঠিক এক কাপে সাদা ধুয়ো ওঠা চা

আর এরকম ম্যাগনোলিয়া এখনো

ধরা দেয় কিনা কোথাও-খবর দিও

একশোটি বছর পর শ্রাবণের শেষে 

শাড়িতে পাগলঘ্রাণটাই মেখে নিয়ো

ডেকো আমায় বোধের বারান্দাটায়।