Jul 20, 2021

আদিমা মজুমদার



আতঙ্ক

লকডাউন, জনতা কার্ফু

আমায় ছুঁয়ে দেখেনি কমরেডস,

 22 মার্চ 2020

তোমরা যখন ঘরে বসে -

কাঁসর ঘণ্টা বাজাচ্ছিলে,

গরম করছিলে হোয়াটসঅ্যাপ ফেইসবুক 

আমি তখন হাসপাতলে। 

জলের কল, লাইট, বাথরুম, অক্সিজেন ভেন্টিলেটর ঠিক করছিলাম

শুধু তোমার জন্য বন্ধু।

আমার পিপি ই কীটের অন্তরে

নয় কুঠুরি দশ দরজা,তুমি জানোনা

ভ্যাপসা গরম ঝাপসা চোখ 

অসমাপ্ত গল্প নাইবা বললাম,

তোমাকে ছুঁতে  না পারার যন্ত্রণা

আমাকে আহত করে। 

হাসপাতালের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে

ডেটল সেনিটাইজার আর ব্লিচিং এর গন্ধে হারিয়ে যাই কোন এক স্বর্গরাজ্যে, 

যেখানে মানুষের হাহাকার আত্মচিৎকার,

বাঁচাও! বাঁচতে চাই।

হেলিকপ্টার যেদিন আমাদের উপর

ফুল বর্ষায় -

আমি অবাক হয়ে খুঁজছিলাম

ফ্যাসিষ্ট শব্দের অর্থ!

কোয়ারাইন্টাইনে বাসি রুটির কথা মনে পড়ে।

মনে পড়ে,

চৈত্রের দুপুর -

সামনের বাগানে গ্রীষ্মের সতেজ স্পর্শ

নানা প্রজাতির ফুল -

লাল নীল গেরুয়া, 

শালিক দম্পতি, কোবিড পজেটিব ওয়ার্ডে, ব্যালকনিতে বসে খুনসুটি করে। 

এক ঝাঁক সাদা বক উড়ে যায়

 কোন সুদূর পানে

 আমার মত তাদেরও নেই লকডাউন।

 ভয় আতঙ্ক শংকা।