কালো দলিল
Oct 24, 2021
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
দিলীপ বসু
অপাংশু দেবনাথ
তৈমুর খান
কামরুন নাহার সিদ্দীকা
জটিল উপপাদ্য
আশ্বিনের এই শুক্লপক্ষে
ভাদ্রের ঘুমোট ভাব কেটে
হিমলাগা বাতাস যায় বয়ে,
মাধবীলতারা ওঠে কেঁপে
সে কাঁপনের ছোঁয়াচ লাগে
কবেকার সেই কথা মনে পড়ে..
সম্পর্ক এক জটিল উপপাদ্য
মিলাতে পারলে আমোদিত
না পারলে মুখ থুবড়ে পড়ে
সুতোছেঁড়া ঘুড়ির মতন উড়ে
নাটাই ফেলে কোথায় যায় হারিয়ে
না- মন না- আকাশ তা জানে।
তখন জ্যোৎস্না মিলায় সুদূরে
কবিতার শব্দমালা সহচরী হয়ে
আমাকে ছুঁয়ে দেয়, হাত ধরে
বসায় জীবনবোধের পাঠে।
বিজয়া দেব
সৌমিত বসু
আমার মেয়েটি
কুশল ভৌমিক
মৌসুমী কর
সুশান্ত নন্দী
আব্দুল গফফার
চন্দন পাল
সুমনা রায়
মালজিপাড়া হাইওয়ে ক্যাফে
নির্ঘুম হাইওয়ের ক্লান্তি মুছিয়ে স্পিডোমিটারকে জাগিয়ে রাখাতেই ভেসে ওঠে হাইওয়ে ক্যাফের নিজস্বতা। কফির গরম ধোঁয়ার সাথে মিশে থাকে ভ্রমণের সুখটান। স্বচ্ছ জানালা দিয়ে বিনা অনুমতিতেই ভেতরে ঢুকে পড়ে চিলতে আকাশ। প্রতিটি চুমুকে মিশে যায় পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সবুজের ভালোবাসার ম্যাজিক যা আমাদের জীবনবোধের জটিলতাকে ভাঙতে থাকে আর বেজে ওঠে সরল পথের গান। চেনা অচেনা পথিকের সমবেত যাত্রাবিরতি বাড়িয়ে দেয় ব্রুড বাতাসের ক্ষেত্রফল। কোন পেয়ালায় ঢেউ তোলে অজানা দূরত্ব ছুঁয়ে দেখবার উচ্ছলতা আবার কোথাও উপচে পড়ে ঘরে ফেরার নরম প্রশান্তি। ঘরোয়া উষ্ণতার সাথে বাইরের সীমাহীন উদারতা এক সরলরেখায় মিলে আমাদের রোস্টেড জীবনে এনে দেয় এক অনন্য গন্ধ। এই গন্ধে আলাদা করা যায় না অ্যারাবিকা থেকে রুবাস্টা, এক্সপ্রেসো থেকে লাটে বা কইতাডো। মালজিপাড়ার সেলফি ক্যামেরায় আজ ভেসে ওঠে শুধু নার্সিসাস সময়ের মুগ্ধতা ۔۔۔
জহর দেবনাথ
রুদ্র মোস্তফা
সো ওম্
সহিদুল ইসলাম
মনটা চায়
মনটা চায়,
স্বপ্না রেস্টুরেন্টের শিশু কর্মীটাকে জিজ্ঞাসি,
‘তোর কী পড়ালেখা নেই?’ সকালে মিউনিসিপ্যালিটির সাফাইকর্মীদের ঠেলাতে
নিজ হাতে কিছু ময়লা কুড়িয়ে দেই।
মনটা চায়,
মাদ্রাসায় সকালে গিয়ে কচিকাচাদের সাথে দোলে দোলে কোড়ান পড়ি,
প্রোডাক্টের সেক্সুয়াল বিজ্ঞাপনের পোস্টার গুলি ঢিল মেরে ছিদ্র করি।
মনটা চায়,
ব্যাগ কাঁধে মর্নিং স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের মুখ ভ্যাঙচিয়ে ভয় দেখাই।
পথের মোড়ের মন্দিরে ঢুকে শির নেড়ে চোখ বুঝে ভজনের গীত গাই।
মনটা চায়,
অস্তযামী সূর্যের রাঙা ছবিটা নদীর জলে দেখে
“ওফ!কী লাগছে” বলে চিৎকার মারি,
টাউন হলের মঞ্চে উঠে মাইকটা হাতে
‘উই সেল ওভারকাম’ গান ধরি।
জানি না,
মন কী এসব মন থেকে চায়, নাকি শুধু বাহানা?
তবুও মনকে ধন্যবাদ, কারোন ‘মন’ তো চাইল না।
মোঃরুবেল
দীলিপ দেবনাথ
রুপালী রায়
প্রতিশোধ
প্রতিশোধ মানে
কারো মৃত্যু কামনা নয়।
বেঁচে থাকতে হলে
জীবনের সাথে লড়তেই হবে ।
নচেৎ জীবনও যে সুযোগ পেলে
প্রতারণা করবে না তার কি মানে ।
আমার মধ্যেও যে অসীম শক্তি বিরাজিত
যুদ্ধে না নামলে তো
এই অপরিসীম শক্তির সন্ধান
পেতাম না কোনোদিনই ।
তুমি কিংবা আমি ,
আমারা সকলেই অনন্যা,
অপ্রতুল শক্তির অধিকারিনী ।
শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা ।
কবি হয়েছি বলে কি
অস্ত্র তুলতে জানি না !
নাকি রমণীরা শুধু ভালোবাসতে জানে?
প্রেমিক , অপ্রেমিক দুটোতেই যেমন
পুরুষের অধিকার আছে ,
রমণীরাও শত্রুকে ঘৃণা করতে জানে ।
রমণীরাও জানে,
তার অপ্রেমিক কিংবা শত্রুর
মৃত্যু কামনা না করেই
প্রতিশোধ নিতে ।
প্রতিশোধ মানে কারো মৃত্যু কামনা নয় ,
বরং বাঁচিয়ে রেখে নিজের সফলতার প্রত্যক্ষদর্শী করা ।
রাজীব পাল
Oct 23, 2021
মনীষা দেবনাথ
আর্শীবাদ
বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালে,
ডাকছি বলে খোকা।
শুনেও শুনিস না তুই,
আমার একমাত্র খোকা ।
বৃদ্ধ বলে দিলি বৃদ্ধাশ্রমে,
শুনলি না কোনো বারন।
আমি তোর উপর বোঝা ছিলাম,
সেটাই তার কারন।
সুখে থাক সন্তান নিয়ে,
তোর এই বড় ঘরে।
আমি না হয় কেঁদে মরে,
এই ছোট্ট চার দেওয়ালের মাঝে।
ছেলে যে তোর বড় হবে,
হয় না যেন তোর মতন।
এই আর্শীবাদ করে যায়,
আমি সদা সর্বক্ষন।
রণজিৎ রায়
ঘুম ভাঙার কাহিনি
অসময়ে ঘুম ভেঙে এক হুলুস্থুল কাণ্ডকারখানা
বিরক্তির প্রতিধ্বনি, প্রত্যাশার অনুরণন
জবরদখলের হুংকার---
স্বর্গের দিকে যারা কুম্ভকর্ণের মতো নিস্পৃহ
অপরদিকে কাঁচা ঘুমের চোখে প্রত্যাশা
মাঝখানে কর্দমাক্ত নরকের প্রবাহ
নতুন পক্ষ নরক না ডিঙিয়ে স্বর্গের দিকে শিকড়
গেড়ে বসতে চাইছে, এক দক্ষ যজ্ঞের প্রস্তুতি ।
লোহা আগুনে পুড়ে তেজ হারিয়ে নমনীয় হলে
দুর্বলের আঘাতেই আত্মসমর্পণ
ইশারায় নাচে, গায়
স্বাভাবিক হলে ভীমেরও অসাধ্য ।
এক ব্যতিক্রমী যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রকে হার মানাবে
ধরে রাখা প্রায় দুঃসাধ্য
ফিরে আসা দূরূহ
উড়ে এসে জুড়ে বসা দুর্বোধ্য
চাক্ষুষ দেখার জন্যে দিব্যচক্ষু নিয়ে লঙ্কাকান্ড ।
শঙ্খশুভ্র পাত্র
জলের শিয়রে
মণ্ডলাকার এই গৃহে এসে যে সুবিধা হল বিলক্ষণ বুঝি ৷ নির্বাচিত গুচ্ছ নিয়ে বসে আছি ৷ প্রস্ফুটিত
মুখের দিকে তাকিয়ে আছে পাঠক ৷
একটা ধরাশায়ী রঙের আলোর দিকে ছুটে বেড়াচ্ছে মন ৷ শ্বেতাভ কন্যার কাছে রূপার্থ বেদনা লুকিয়ে রেখে কী প্রাণান্ত মণীন্দ্রসাধন !
কালীকৃষ্ণ-আলোকে পূর্ণ নিশীথিনী...
শেষাবধি মহারানা, জলের শিয়রে দেখি : খণ্ড চাঁদ,
বিজনরঙের ঢেউয়ে দোল খায় আদিগন্ত কবিতাশরীর...
সৈকত ভৌমিক
ধার্মান্ধ
ধর্মের নামে আজও মানুষ করছে হানাহানি!
ধর্মের নামে আজও হচ্ছে একে অপরের খুনি!
ধর্মের নামে নিরীহ মানুষের দিতে হচ্ছে প্রাণ!
ধর্মের নামে গ্রামের পর গ্রাম আজ হচ্ছে স্মশান!
বেদ,কোরান সবই যে শুধু শান্তির কথা কয়!
তাইতো সকল ধর্ম কে যেন সন্মান করা হয়!
ধর্ম মানুষকে প্রেম শেখায় না তো শেখায় যুদ্ধ !
ধর্মের নামে অত্যাচার অপীড়ন যেন হয় বন্ধ !
এত সুন্দর পৃথিবী শুধু একজনেরই দান!
কেউ বলে আল্লা আবার কেউ বলে ভগবান!
সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেহ যে নাই!
শান্তি সম্প্রীতি আবার সকলে ফিরে যেন পাই!
হিন্দু মুসলিমদের ভাতৃত্বে যারা ফাটল ধরাতে চায়!
উপরওয়ালার দরবারে যেন কঠিন সাজা পায়!
তাই চলো ধরি এবার সম্প্রীতির গান!
একই দেহের দুটি আঁখি মোরা হিন্দু মুসুলমান!
তপনকান্তি মুখার্জি
আভাস
অতনু রায় চৌধুরী
যুদ্ধ নয়
মোঃ নুরুল হক
দিপ্সি দে
১. বেলাশেষে
ভালোবাসি বলেই দহনের পোড়ামাটিতে লুকিয়ে,
আমার কৃতিত্ত্ব।
২.তবুও প্রেম
প্রতিমুহূর্তে প্রেমিকার হৃদয় রক্তাক্ত করে অকৃতজ্ঞ প্রেমিক।
অশ্বিনী কুমার মন্ডল
অঞ্জনা বসু
উৎসব শেষে
সব রঙ ফিকে হয়ে আসে
তার রেশটুকু লেগে থাকে নির্বাক চোখে,
আলো আঁধারিতে ডুবে যায় ক্ষণ
দূরে ঢাকের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসে ,
এত আয়োজন কত আড়ম্বর আলো মুখরিত ঝলমলে শহর দু'দিনের তরে ......
উমা ফিরে গেছে কৈলাসে বাপের ঘর ছেড়ে নিজবাসে ৷
সহাস্য আননে এসেছিল উমা ফিরেছে মলিন বেশে ,
আজো নারীদেহ হয় ছিন্নভিন্ন
প্রভেদ থাকেনা মানুষ দেবতায়
হাত উঠে অক্লেশে ,
নিষ্ঠুরতার সীমা হয়েছে লঙ্ঘন
ক্ষত বিক্ষত উমা প্রতি ঘরে রেখে গেছে তার নিদর্শন ৷
উদ্বেলিত মন কেবলই জিজ্ঞাসে,
কেন আস মা , ধর্মের পরাকাষ্ঠে ভরা এই দেশে ?
এদেশে দেবতা বলে তুমি ও পাবে না ছাড় ,এরা ধর্মভীরু ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের করে বিচার৷
আসছে বছর আবার এস মা ...
ক্ষমা ক'রে দিও এই নির্বোধ অর্বাচীনে ৷
উৎসব শেষে আলোহীন শহর জেগে থাকে নিদারুণ অপমানে ৷
প্রসন্ন দাস
রাজ্যের মান রাজার জ্ঞান
রাজ্য চালাইতে হইলে রাজার মতন ।
রাজনীতি শাস্ত্র জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান অর্থবিজ্ঞান জ্ঞান চন্দ্রকলা।
দর্শন শাস্ত্রে জ্ঞানী রাজার দিব্য চক্ষু খোলা।।
লজিকের ম্যাজিক বিদ্যা বিচারের কালে।
মিথ্যাবাদী অপরাধী ধরা পড়ে জালে।।
হেন গুণের অধিকারী যে রাজা হয়।
রাম রাজ্য গড়ে ওঠে পূর্ণিমার আলোয়।।
ফুটে উঠে সবার মুখে হাসির জোয়ার।
রাজা প্রজা থাকে সুখে আনন্দে অপার।।
রাজার সুখে প্রজা সুখী প্রজার সুখে রাজা।
রাজাকে দেবতা জ্ঞানে করে সবে পূজা।।
ধনধান্যে পরিপূর্ণ থাকে রাজপাট।
চুরি হিংসা যায় দূরে বসে চাঁদের হাট।।
শান্তির বাতাস বহে সর্ব রাজ্যময়।
সেই রাজা যথা যাবে সর্বত্র বিজয়।।
ঈশ্বরের কৃপা থাকে তাহার উপর।
হিংসায় জ্বলিয়া মরে পাপী বর্বর।।
প্রসন্ন বলে হেন রাজা যেই দেশে হয়।
কলির কালে সত্যযুগের আবির্ভাব হয়।।
প্রসেনজীৎ সাহা
আর কত হবো উমা
এবার সাজবো শ্যামা
কেঁদে কেঁদে স্বামীর ঘরে ফিরলো উমা।
এবার অশুভ ধ্বংস করতে আসছে আমার শ্যামা।
রূপে তুই কৃষ্ণ বর্ণা।
তোর চোখে যেন ধ্বংস লীলা।
মারে তুই কোথায় পাস এত শক্তি।
অশুভ বিনাশে ধারণ করিস ধ্বংসের মূর্তি।
মারে তোর হাতের খর্গ টা একবার দিবি।
নিজের জন্য করবো এবার লড়াই।
নারীদের উপর অত্যাচার যে আর হয় না সহ্য।
এবার শাস্তি দেবো মারে তোর মতো।
আর থাকতে চাইনা হয়ে উমা।
এবার সাজবো যে আমি শ্যামা।
অভ্রজিৎ দেবনাথ
জেগে উঠো
চুপ করে থাকার দিন শেষ
মিছিমিছি এতদিন নীরবতার মিছিলে
এসে প্রেমিকা হারিয়েছি।
সন্ধ্যা নামলে ভয়ে ফুটপাতে জমে
রাত বিরাতের সাধনা।
এ সভ্যতার গলিতে পেয়েছি পবিত্র মধুশালা
আর অযাচিত তৃষ্ণা,
অভাব জলকামানের।
প্রচলিত পথে রক্তের সমুদ্র
নিখোঁজ হয়েছে প্রতিবাদ,
এক শতাব্দী পর ভেঙেছে ঘুম
বিফল স্বপ্নে আবৃত মন নিয়ে
ছটফট করে খুঁজি,
একটু অন্ধকার।
যেখানে লুকিয়ে কাপুরুষেরা
নিজেকে ভাবে ক্ষুদিরাম।
মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ
বিক্রমজিৎ সাহা
ক্ষয়িষ্ণু
'সময়ের সাথে মানুষ পরিবর্তন হয়।'
ঠিক বলেছ কিন্তু বন্ধুত্ব
শুনেছি 'বন্ধুত্ব'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক।
তেমন কিছু তো চাইনি
দরকারে একটু সময় দেওয়া।
এতটাই ব্যস্ত তুমি বন্ধু
দ্বারে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।
কথা দিয়ে ভুলে যাও
কাউকে কথা দিয়ে ছিলে।
সময়ের সাথে কেউ পরিবর্তিত
হয় না বন্ধু
তোমার কাছে হারিয়েছি গুরুত্ব।
তুমি কর্মচঞ্চল 'ব্যস্ত' বন্ধু
অনেক এগিয়ে যাও-অনেক বড় হও
এ বন্ধু কর্মহীন কবি
কবিতা নিয়ে বেশ;
ভেবো না সময়ে বদলে যাবো,
দুহাত মেলে রেখেছি বন্ধুত্ব।
প্রেমজিৎ সিংহ
বাংলা আমার মা
পৃথিবীতে আছে কত খন্ডিত পর্ব,
তাহার মাঝে বাংলা মোদের গর্ব।
হোক সে ভাষা, হোক তব জাতি,
থাকে অবশ্য বিশেষ খ্যাতি।
ভাষাতে আছে চলিত ও সাধু,
মনে হয় শুনিলে খাইতেছি মধু।
বাংলা ভাষা আমাদের অতি মূল্যবান,
মায়ের ভালোবাসায় হইলাম আমি পুণ্যবান।
বাংলা মায়ের চরণে রাখি হে সন্মান,
বাংলায় মুগ্ধিত আমি চির - প্রবাহমান।
একবার পাঠ করিও বাংলায় একটি ছন্দ,
বাক্য হারালে করিও সমানে দ্বন্দ।
মায়ের পুষ্পের গন্ধ মুগ্ধ করে কানন,
মায়ের বিপদে হয়ে যায় আমরাও দশানন।
বাংলা আমার মা আমার ভালোবাসা,
এই ভাষায় কোলাহল কত মানুষের আশা।
মায়ের বুকেতে শহীদ কত জীবন্ত প্রাণ,
তাদেরকেই বলে বীর ও মহান।
শ্রদ্ধা জানাই সেই বীর পুরুষদের,
তাহারাই দিয়েছে স্বাধীনতা আমাদের,
ছড়িয়ে দিয়েছে তারা বাংলাকে চারিদিক ,
সেটিই মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।
Oct 22, 2021
শান্তনু মজুমদার
রঞ্জিৎ কুমার পড়িয়া
কলমের অনুভূতি
কবিতা আমার উদাস দুপুর
শান্ত বিকেল বেলা,
কবিতা আমার কল্পনার মাঝে
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।
কবিতা আমার সহে যাতনা
বিরহের বোঝা বয়,
সুখের সোহাগ ভরিয়ে দিলেই
শ্রুতি মধুর হয়।
কবিতা আমার প্রতিবাদ জানে
বিদ্রোহ করে প্রায়,
ওই জ্বলামুখির নিভলে আগুন -
অগাধ আনন্দ বিলায়।
কবিতা আমার বাস্তববাদী -
কখনো আপোষমুখি,
কবিতা জানে শ্রদ্ধা সহিষ্ণুতা
সহেনা সে বুজরুকি।
কবিতা আমার সুদূর গগনে
ইচ্ছেতে মেলে ডানা,
কলম পেয়েছে বাক স্বাধীনতা
শোনেনা কারুর মানা।।
সুচিত্রা দাস
পিছুটান
হেমন্তের পরে শীত
হিসাব করা রোদ্দুর।
মিষ্টি খেজুরের রস
পিঠে পুলি পায়েস।
স্বপ্ন জোড়া মন
গ্লিসারিন মাখা পা।
জেব্রা ক্রশিং ধরে রাস্তা পারাবার
ট্যাক্সি থামে ক্র্যাচ্ করে
প্রায়শই ঘটে।
মাটির টানে মাটির ভালোবাসা
নীড়ে ফেরা পাখির গুঞ্জরণ
গোধূলির আমন্ত্রণে
হোক্ না কলেবর
শিকড়ের টানে ঘরে ফেরা।।
সৌরভ দাস
মানবতা
"আমরা একবিংশ শতকের অদ্ভুত মানবজাতী ভাই,
এখানে মধু খাওয়া ভুলে সবাই গিলতে চান ছাই,
সকলে মানব জীবনের সম্ভাসন পেয়েছি ঠিকই
তবু মনে হয় জীবন অতৃপ্ততার এক বিরাট অভিজ্ঞতা নিয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো,
যাদের পেটে একবেলা ভাত জোটে না,
সে ধর্ম রক্ষক হয়ে দাউ ধরেছে দুই হাতে,
যে ছেলেটা বেকার হয়ে দিকভ্রান্ত
অথচ তার মস্তিষ্কেই ধর্ম রক্ষার প্রস্তাব এসেছে,
মন্দির কিংবা মসজিদ একটা ঘর মাত্র
কিন্তু ধর্ম রক্ষক কখনো দূষিত হলে
ঈশ্বর রবেন কোন ঘরে?
তোমার ধর্ম যাই হোক বন্ধু
মানবতা রেখো সবার উপরে"।।
কল্যাণ দাস
স্বপ্নে দেখা চাঁদ
এটা শুধুই স্বপ্ন ছিল,
গল্প অনেক অল্প ছিল,
স্বপ্নে ছিল একটি সুখের নীড়,
বাইরে ছিল তারা ভরা রাত,
আর জোনাকির ভিড়।
আমি জলছবিতে রং মেশাতে
ব্যস্ত আপন মনে,
পূর্ণিমা চাঁদ দিচ্ছে উঁকি
খোলা জানালার পানে
অদূরে ছিল জল ভরা দিঘি
চাঁদের জোছনা মাখা,
সেই জোছনায় সহসা যে পাই
আরেক চাঁদের দেখা।
তার কল্কা পাড়ের নীল শাড়ি
আর আলতা রাঙানো পায়,
সে যে কলস কাঁখে জল ভরিতে
ঐ দিঘিতে যায়।
মেঘ রঙ চুল বাঁধা ছিল তার
রঙিন জরির ফিতায়,
হাতের কাঁকন পায়ের নূপুর
বাড়ায় শোভা তায়।
তার রূপের ঝলক লাগায় চমক
আমার হৃদয় টায়,
তাই কল্পনার ঐ জলছবিটা
পূর্ণতা যে পায়।
বিধান সাহা
স্বপ্ন বিচরণ
পিঙ্কু চন্দ
জল রেখা
মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)
হৃদয় ক্ষরণ শেষে
কত শত বছর সাধনা শেষে
সম্প্রীতির সেতু হয়েছে নির্মাণ,
সেতু ভেঙে টুকরো করেছে
দুপারে তার অবস্থান।।
ক্ষত বেয়ে রক্ত ঝরে কত
চোরা ভালোবাসা আজও অম্লান,
একস্থানে তার বসবাস আর
অন্যখানে অধিষ্ঠান।।
গগনচুম্বী সীমানা পাহারায়
দেয়াল তুলে দেয় শুধু,
হৃদয় ভাঙা মিছিল এগোয়
থামাতে পারে না তবু।।
ওই মিছিলে পদচারীদের
হৃদয় থাকে সীমানার পারে,
অনুভবে আর যাপন বেলায়
ভালোবাসা বয় ফল্গু হয়ে।।
অস্ত্র পারে নি স্তব্ধ করতে
ক্ষমতার বড়াই শক্ত করে ভিত,
যত চেপে ধরে, ততই উদ্গীরণ
একতার সুর জোরে গায় গীত।।
সেই গীত ছড়িয়ে পড়েছে
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে,
বিবেক আবেগ একসাথে আজ
ক্ষত হৃদয়ের বিজয়া দেখেছে।।
পংকজ কান্তি মালাকার
পঁচাত্তর বছর আগের মতো
পঁচাত্তর বছর আগের মতোই-
শিশু বালিকাটির ফেটে যাওয়া
অনর্গল রক্তধারায় ও দশবীরের বীর্যের রসায়নে
নিথর যোনিতে সভ্যতা হাবুডুবু,
পঁচাত্তর বছর আগেও একইরকম কোজাগরীতে
বসতপুড়া গ্রামপুড়া আলোয় দেখেছিল-
জীবন ছিল ধানের ক্ষেতের গভীরে আশ্রিত
আর এক পাও এগোয়নি সভ্যতা,
পঁচাত্তর বছর আগের মতোই-
একটা বার্তা দেওয়া গেল ভারতকে
সভ্যতা অসভ্যতার সংঘর্ষ রুখে দাও
নইলে জিম্মিদের কুচলে দেওয়া হবে,
সভ্যতা এখনো মধ্যযুগ ফুঁড়ে উঠতে পারেনি।
সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী
গদ্য
মেঘের কান্না দেখে বিভ্রান্ত
কী করে মৃত্যুর ইমেইল বহন করে,
কান্নার স্বরলিপি নেই
গাম্ভীর্য মুখোশ পরে নাগরিক কোলাহলে জীবন চলে।
খুচরো রোদ জানে আহত স্বপ্ন হ্যাঙারে ঝুলিয়ে দিলে মেঘলা দিন ভিড় করে
চেনা অক্ষরগুলো নিরুদ্দেশের শব্দে রূপান্তরিত হয়
আমি আর জীবন যত সামনে এগিয়ে যাই মাঝে দাঁড়িয়ে যায় গভীর জলপ্রপাত।
অন্যের চোখে বুনো ভোরে নিজেকে অবহেলিত দেখি
পাহাড় থেকে ঈশ্বর বেরিয়ে এসে ইঙ্গিত দেয়
প্রতিটি মৃত্যু গদ্যের জলছবি।।
তাপস দত্ত
বোকা বাক্স
নীল বোকা বাক্সে খামটা
হয়েছে বন্দী
যত ততপরতায় খোলা চোখে দেখে নিয়েছি
সমবেদনার বাজারে হাজারো ভাষা
তবু অন্তরালে করেছি সন্ধি
সময়ের কল্যানে ব্যতিব্যস্ত
জীবন....
আগুনের ছোঁয়ায় রক্তের শিহরণ
মধ্যাহ্নের হেলানিতে সন্দিপন ছড়ায়
বিষন্নতার আবেশে বোকা বাক্সে মৃত্যু খুঁজে বেড়ায়।
বিধর্না মজুমদার
মৃত চিঠি
মনের দুয়ারে হাজারটা চিঠি আনাগোনা করে,
তবুও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না!
প্রত্যেকটি চিঠি কিছু বলে যেতে আসে।
কিন্তু শোনার লোকের অনেক অভাব,
অপেক্ষারত চিঠিগুলো অবিকল মায়ের মতো।
যে মাকে বছর কয়েক আগে তাড়িয়ে দেওয়া হয়
চিঠিগুলো সন্তানদের ডাক পাঠায়,
আমি মৃত সজ্জায় লুটিয়ে পরে আছি!
পিওনরা বারবার মায়ের সন্তানদের খোঁজ করে।
কেউ সাড়া দেয় না বলে,
চিঠিগুলি পুনরায় পোস্ট অফিসে ফিরে যায়।
অবশেষে বৃদ্ধ মা কাতরাতে কাতরাতে প্রাণ হারায়।।
কল্যানী ভট্টাচার্য্য
দেশমাতা কাঁদছে কেবল
দেশমাতা কাঁদছে কেবল
থেমে গেছে তাঁর জীবনের গতি,
দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
জীবন আজ স্তব্ধ
আমি দেখতে পাচ্ছি,
বড়লোক শুধু হচ্ছে বড়লোক
আর মরছে ভাতে গরীব লোক।
নীতির বদলে নীতি চলছে
জনগন তো তাই বলছে।
আমি দেখতে পাচ্ছি
দেশের সম্পদ বিদেশ পাচার,
জনগনের উপর অত্যাচার।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি
মানবতার আড়াআড়ি।
আমি বন্য পশুদের তান্ডব দেখেনি,
আমি নরপশুদের হিংস্রতা দেখেছি।
আমি অস্তিত্বের ক্রন্দন দেখেনি,
আমি বাঁচার আকুতি দেখেছি।
ভারত মায়ের সন্তান মোরা
সর্বহারা আজও আমরা।
দেশমাতা কাঁদছে কেবল
আমরা হবো কবে সবল।
প্রীতম দাশ
Oct 21, 2021
সন্দীপ কুমার পণ্ডা
সকালে উঠে যখন যাই বই পড়তে
তক্ষুনি অবুঝ মনখানি চলে যায় খেলা করতে।
চলে যায় ঘরের ছোট্টো গণ্ডি ছাড়িয়ে,
চলে যায় সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে।
পৌছে যাব আমি রূপকথার দেশে,
খেলা করব আমি রাজকুমারের বেশে।
রূপকথার দেশে আমি করব খেলা,
খেলা করতে করতে কেটে যাবে সারাবেলা।
পড়তে হবে না কঠিন পড়া,
আমার কাজ হবে শুধু খেলা করা।
হঠাৎ, শুনতে পাই মায়ের বকুনি,
আর বাবা আসেন লাঠি হাতে তক্ষুনি।
যখন মা খুলেন অঙ্কের খাতা,
দেখতে পান পড়ে আছে সাদা পাতা।
তার দেখেই মা হন রেগেই আগুন,
দুম,দাম করে মারেন যতক্ষনা আমি হই পড়া বেগুন।
হায় রে! আমার অবুঝ মন,
গৌতম ভৌমিক
না পাওয়া ভালোবাসা
কোন এক দূর দূরান্ত অগোছালো পথের ধারে আমি আজ তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। দেখছি, সময় কি এখনো দাঁড়িয়ে আছে নাকি তার নিজস্ব গতিপথ ধরে কলম্বাস হতে গ্যালিলিওর যুগে বিচরণ করছে। আমি এখনও দেখছি কত লোক সেই পথের ধারে এসে দেখছে,
হয়তো আমার দু একটি চুল পাকা ধরেছে
হয়তো আমার গায়ের রং তামাটে হয়েছে
হয়তো আমার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়েছে
একজন অবাক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে
হয়তো সে ভাবছে আমি পথের ধারে এখনও আছি!
হয়তো সে ভাবছে
কী! দুঃখ আমি জীবনে পেয়েছি
কী! ব্যথা আমি জীবনে পেয়েছি
কিন্তু একজন ও আমার কাছে এসে
দু একবার কথা বলেনি
এতটি বসন্ত কেন আমি এখানে বসে আছি
আমার চিৎকার তখনও কেউ শুনতে চায়নি।
স্বপন দেবনাথ
আবার আসছিস তো মা?
আবার আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,
যেখানে তোর মমতাময়ী রূপকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
আবার আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,
যেখানে মানুষরূপী নর পিশাচ গুলো তোর মূর্তি ভেঙেছে।
আবার আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,
রুদ্র চন্ডী রূপে, ভয়ংকরী কালরাত্রি রূপে,
সেই নরপিশাচগুলোকে বধ করতে।
আবার আসছিস তো মা ? সেই দেশে ,
যে দেশে নারীদের কোনো সন্মান নেই।
আবার আসছিস তো মা ? সেই দেশে ,
যে দেশে হিন্দু জাতির কোনো অধিকার নেই।
আবার আসছিস তো মা ? সেই দেশে ,
তান্ডব লীলা দেখিয়ে পাপের বিনাশ করতে।
মা, এই বছর তোকে আর আনন্দ করে বিদায় দিতে পারলাম না।
বুকে গেঁথে আছে এক রাশ বুক ভরা বেদনা।।
Oct 20, 2021
সম্রাট শীল
প্রশমক
প্রতিশোধে জন্ম নেয়
এক নতুন প্রতিশোধের বীজ,
রক্ত বীজের স্বরূপ।
আঘাতে আঘাত সৃষ্টি।
শুধু শুধু গোলক ধাঁধায়,
জন্ম নেবে এক নতুন অনাসৃষ্টি।।
শেষ হবেনা তার শাখা-প্রশাখা,
দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পরবে নিমিষেই।
উত্তপ্ত হবে চারিপাশ,
বিশ্বের ঘরে ঘরে বইবে,
শুধু প্রতিশোধের লাভা।
থামবে না তার হুংকার,
গন্ধ ছড়াবে এক নতুন আঘাতের।
হিংস্রতার প্রতিশোধের ঢিল,
পৃথিবীর বুকে সজোরে আঘাত করে,
ছড়াবে তরঙ্গের ভাষা।
সংক্রমিত করবে এক এক হৃদয়।
যে হৃদয়ে শুধু জ্বলবে প্রতিহিংসার আগুন।
আর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,
সুষ্ঠু পরিকল্পনায়।
সুজন দেবনাথ
মান হুঁস নিয়েই আমরা মানুষ,
কিন্তু সেই অদৃশ্য মুখ্য বিষয়টা
কতটা আমাদের মধ্যে বিদ্যমান
ঠিক সেই জায়গায় আজ প্রশ্নচিহ্ন!
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন
স্বযত্নে উনার মতো করে,
কিন্তু সবকিছু হাতে পেয়ে আমরা
আজ জগৎ চালাই নিজের মতো করে।
যার হাতে এই মহান সৃষ্টি--
যিনি এই গোটা বিশ্বের পরিচালক,
তাকে আজও দেখিনি কখনো
সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমতার বড়াই দেখাতে।
অথচ তুচ্ছ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও
আমরা আজ হুংকারে বিশ্ব কাঁপাই।
মানুষের তরেই মানুষ আমরা
আজ ভুলে গেছি সকলে।
স্বার্থ লোভে আজ মগ্ন আমরা
আমাদের মনুষত্ব জলাঞ্জলী!
আমরা আজ ব্যস্ত যার যার শ্রেষ্ঠত্ব লাভে।
আর সেই লাভের লোভেই নিত্য চলে
জাতির মাঝে বজ্জাতি আর
অমানবিকতার যুদ্ধ।……
সুরমা আকতার
ভ্রমণ সাথী
ভ্রমণের রাস্তাটা আজ আমার সাথী।
ইচ্ছেটা আজ বেসামাল,
দূর দূরান্ত পারি দেওয়ার।
স্বপ্নটাও বিশাল,
বলতে পারি আকাশ ছোঁয়া।
এই একলা জীবনে তুই শুধু সাথী,
যেখানেই যাই তুই পিছু নিস অনবরত,
দ্রুতগতিতে তোর সাথে সারা দেয়,
সারিবদ্ধ গাছপালারাও।
আপন কেউ থাকুক আর নাইবা থাকুক,
তুই ছিলি সর্বদাই সঙ্গ।
হৃদয়ে আনন্দ জাগ্রত হয়,
যখন দ্রুত গতিতে তুই পিছু নিস আমার সাথে।
ভ্রমণ সাথী হয়ে ছুটছিস দেশ-দেশান্তরে।
চলতি গাড়ির পিছনে এতটাই ছুটছিস,
যেন আমি হারিয়ে যাচ্ছি তেপান্তরে।
আমার একলা জীবনের সাথী তুই,
সর্বদা থাকিস আমার পাশে।
ভ্রমণের সাথী হয়ে দেশান্তর পারি দিচ্ছি,
আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নগুলো তোর সাথে পারি দিচ্ছি।
রূপালী মান্না
অভিনব
ঘুমের ঘোরে , অন্ধকারে
হাতরাও তুমি শিশুটাকে ।
সতর্ক ও সাবধান হয়ে
আগলে রাখো প্রতিপদে ।।
বছর দুয়ের শিশু যখন
যমের সাথে লড়লো লড়াই ।
আই.সি.ইউর দ্বারে তখন,
ছিলে তুমি পাগলপারা ।।
স্বপ্ন তোমার হবেই পূরণ
সন্তান তোমার ডাক্তার হবে।
হাজার হাজার মা-ছেলেকে
অভিনব জীবন দেবে।।
Oct 19, 2021
মনচলি চক্রবর্তী
অন্নের সংস্থান
গরীব ঘরের এক সাধারন বধু আমি
জীবনের সব অভাবেও থাকে মুখে হাসি।
হাতে শাখা পলা সিঁদুর পরনে ছাপা শাড়ি
দিন রাত শুধু জীবন যুদ্ধই করি।
বাড়ির বাগানেতেই অনেক বাঁশের গাছ
তা দিয়েই করি আমি নানারকম কাজ।
নিমিষেই শেষ করি হাতের এসব কাজ
বাঁশ দিয়ে বানাই কত কুলা, মাদুর ফুলদানি, ঝুড়ি।
এসব জিনিসের নেইকো কোন জুড়ি
তা দিয়েই সংসারের অন্নের সংস্থান করি।
আমিনুল ইসলাম
আহ্বান
পৃথিবীতে চাইনা আমি হিংসা বিদ্বেষ,
চাই এক মুঠো ভালোবাসা।
যে ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকবে ভাতৃত্বের বন্ধন,
যেখানে থাকবে মানবতার আহরণ।
চারিদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে,
আর আর্তনাদ শুনে মন আমার কাঁদে,
কিন্তু ওই বর্বর তোরা কেন বুজিস না,
তোদের কেন থাকেনা মনে এরাও মানুষ।
নিজের ধর্মের নামে অন্য ধর্মকে ক্ষুন্ন করা
কে শিখিয়েছে তোদের, আসলে তোরা বর্বর গোষ্ঠী
এটাই তোদের আসল পরিচয়।
মনে রাখবি উপরওয়ালা ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।
কবে বুজবি তোরা তোদের বানানো হয়েছে রাজনীতির তুরুপের তাস।
তোদের নিয়ে খেলবে ওরা কাজ শেষে ফেলবে ছুঁড়ে।
এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে রক্তের নিত্য নাটের খেলা করিস না।
ভালোবাসা ভুলে আর হিংসা ছড়াবি না।
তোরা বলিস তোদের দেশ গণতন্ত্র,
আসল গণতন্ত্র কাকে বলে দেখে যা ভারতে এসে,
দেখতে পাবি শান্তি সম্প্রীতির বার্তা,
দেখবি মানুষের মনে ভালোবাসায় ভরা,
এখানে নেই কোন জাতপাত নেই কোন হিংসা,
একে বলে গণতন্ত্র, একে বলে মানবতা।
রাহুল দেবনাথ
সপ্তশ্রী কর্মকার
বারুদ
সংযম ভাবনা সব নিয়ে বসি যখন একা,
কামনা করি,
নিশিপদ্ম ঝরে পড়ুক দুজনার প্রতি বসন্তে।
যে প্রেমিকের মৌনতা বলে দেয়
পৃথিবীর গর্ভে বারুদের জন্ম দিতে চায়।
সেখানে যৌনতার নিয়মের বেড়াজালে
তারা খসে পড়ার আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন দেখে না।
বলে চাওয়া পাওয়ার,
হিসেব বাকি ব্রাত্য ভুবনে
তবে কেন অবাধ তাড়া বাঁধা হবে এই জীবনে?
ছন্ন জীবনের ছেঁড়া বেহালার তারে
সুর তুলবে স্নিগ্ধ 'অনুপম' ,
অঘোর ঝড়ে তখন লিখবো ভালোবাসার কথা।
সংগীত শীল
ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক
ধর্মের নামে রাজত্ব খাটানো মূর্খবাসী,
তোমাদের মধ্যে মানবিকতার নেই কোনো চাবিকাঠি;
হিংস্রতা বর্বরতার জন্য কলুসিত বিশ্ব
কি করে দাবি করো নিজেদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ?
ওরে বোকা মানুষকে ভালোবাসো
ভগবান মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস রাখো।
যার দোহাই দিয়ে লুটপাট করছো
এতে কি ভালো হবে মনে করছো!
এবার ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ বন্ধ করো,
মানুষ হয়ে উন্নত মানসিকতা সৃষ্টি করো।
সমরজিৎ গোস্বামী
ব্যক্ত প্রেম
চাঁদনী রাতের মুগ্ধ ছায়ায়,
ভাসছি আমি মনের হাওয়ায় l
দিচ্ছে ডাক, ভাসছে মেঘ,
মনে বড়োই উঠছে আবেগ!
রক্তে রাঙা হাঁসির ছায়া
তোর চোখেতে মধুর মায়া!
তোর হাঁসিতে হাসতে চাই,
ঐ চোখের মায়ায় ভাসতে চাই l
তোর সেই কাজল কালো চুলের ভাঁজ,
বন্ধ করে আমার কাজ!
আমার মনেতে আবেগ জাগায়,
তোকে ও কি তা স্বপ্নে দেখায়?
অন্ধকার-ও আলো বুঝি,
তোকেই শুধু স্বপ্নে খুঁজি l
মনের কথা মন-ই জানে,
কে জানে সে কি যে মানে!
একটি কথাই বলতে চাই,
তোর মনেতে ঠাই চাই!
কাজী নিনারা বেগম
গোঙানি
শেষ মধাহ্নে নিস্তব্ধ গোধূলির রক্তিম সুরুজ ,,
আজ বর্নহীন নীল দীগন্তের বুনো হাঁস গুলো ,,
আজ পথ ভ্রষ্ট!
অধরা লালিত্যে অবরূদ্ধ দুয়ার খুলিল,,
সিক্ত কাঠ গোলাপের পাপড়ির মতো খসে পড়ছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রনয়।।
এক অব্যক্ত যন্ত্রনায় তীব্র ও নিস্তেজ বোবা গোঙানি,,
উষ্ণ আদর ও পবিত্র ভালোবাসার আলিঙ্গনে ভরেছে আঙিনায়,,
সুভাষিত হাসনেহেনা!
ভালো বাসার হাটের আনাচে কানাচে ইচ্ছেরা আজ পন্য,,
দরদাম কষাকষিতে মগ্ন ভালোবাসার উষ্ণ বোবা চাদর,,
হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে ইচ্ছের ঘুড়ির নাটাই সূতোঁগুলো কেটে জীবনকে উপড়ে ফেলেছে মৃত্যুর যন্ত্রণায়।।
সুস্মিতা পাল
শুনছিস কি মা
শুনছিস কি মা ? আজ এই বাংলার দুর্দিনে ,
কি বা বলবো রে মা দুঃখের কথা আর কি ইবা লিখবো ।
বলতে গেলে বাকরুদ্দ হয়ে যাচ্ছি বারংবার ,
আর,লিখতে গেলে যে থমকে যাচ্ছি বারংবার ।
এসেছিলি তো মা মর্ত ধামে ছেলে মেয়ে নিয়ে,
ভেবেছিলি তিন চারটে দিন থাকবি বড় আনন্দ উল্লাসে ।
কিন্তু মানুষ রুপি কিছু অশিক্ষিত নর পিশাচ থাকতে দিলো কই?
অষ্টমীতেই হলো যে মা তোর বিসর্জন ।
ক্ষমা করিস মা ,
পারলো না যে তোর সন্তানরা তোকে রক্ষা করতে ।
তবুও শুনতে পাচ্ছিস কি মা ?তোর সন্তানদের সেই আর্তক্রন্দন?
তোর সন্তানরা তো ভেবেছিল ঠিক ই তোকে বিদায় বেলায় রাঙাবে যে মা সিঁদুর খেলায় ।
কিন্তু এর আগেই সেই সিঁদুর যে রক্তের খেলায় মেতে উঠবে, কে ইবা জানে রে মা বল !
শুনতে পাচ্ছিস কি মা,
আমরা তো তোর উল্লাসে ব্রত হতে চেয়েছিলাম রে মা কিন্তু ব্রত হতে দিলো কই ?
তুই তো মা রক্তাক্ত দেহে কষ্ট পেয়ে চলে গেছিস ঠিক ই কৈলাসে
কিন্তু তুই তো মা সব ই জানিস ,
তোর ধরা ধামের বাংলার সন্তান যে এখনো প্লাবিত হচ্ছে সেই রক্তের দাঙ্গা সাগরে ।
শুনতে কি পাচ্ছিস মা তোর সন্তানদের সেই গহন হাহাকার ?
দেখতে পাচ্ছিস কি মা তাদের অশ্রু ধারা?
আজ তোর সন্তান যে বড় অসহায়,মানুষ রুপি কিছু নর পিশাচ দের অত্যাচারে ।
কিন্তু তুই তো মা চলে গেছিস ,
তবে আবারও যে তোকে আসতে হবেই এই বাংলার ধরা তে তোর সন্তানদের রক্ষার্থে ।
তবে হে আর উমা রূপে আসিস না মা
এবার আসলে ছিন্ন মস্তা রূপে আসিস মা
তোর সন্তানরা অপেক্ষায় আছে যে ওই দুয়ার পানে তে চেয়ে
আসবে যে মা কালের দমনে রন চন্ডিকা রূপে নিজ সন্তানদের রক্ষার্থে ।
টিংকু(মামন)নন্দী।
এক পলকের কথা
বেদনাবিধুর কাব্যগাথা আমার অগোছালো কবিতা,
আলোহীন নিরবতায় জীবন বন্তির শেষ শলিতা।
আমি তুষ্ট ওতেই; তাও মানবতার রশ্মি দিকবিদিকে ছড়িয়ে যাক,
বন্ধুত্বের পিঞ্জারাই নিখুঁত সৌহার্দ্যর ভালোবাসায় থাক।
স্মৃতির পটে ভাস্কর হতে যে খোঁজে,
নীরবতার মাঝে চুপকথার গল্প সে বুঝে।
নিঃস্ব নিরব বন্ধনে সম্পর্কগুলো দিগন্ত ঘেঁষে,
বালি মাখা নদী ও একদিন স্রোতধারায় বাসে।
Oct 18, 2021
প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ
লিটন শব্দকর
উৎসব
যে কথাগুলি শুনে তুমি ভাঙন দেখো চোখে
আমি চুপটি করেই থাকি এখন সেসব দেখে।
সাইকেলে বেড়োতে মনে করি ডারউইনকে
হাকডাক জারি রাখি এ মনে সে মনে কাগজ
আমার এবং আমাদেরও হৃদয়ে বিশ্বাস আছে
অনেক উৎসবের বাস
আছে তেরোটি পার্বণ আর বারোটি মাস।
দেবদাস কুণ্ডু
দেবীমুখ
আমি একটা মুখ খুঁজছি
খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি অনেক দূর
আলমগীর কবীর
জীবনের গতিপথ
লালন চাঁদ
উৎসব
সিদ্ধেশ্বর হাটুই
স্বাধীনতা
কুয়োর মধ্যে ছিলো ব্যাং
ডাঙায় আনলাম তুলে,
থমকে গিয়ে তাকিয়ে দেখে
গলাটা গেল ফুলে।
কাছুটা সময় ভাবল ব্যাং
কোথায় এলাম আমি
চারিদিকে দেখে অনেক জায়গা
মনে মনে ভাবে- 'কুয়োর চেয়ে দামি।'
এই ভেবে সে লাফিয়ে চলে
এ ডোবা থেকে ঐ পুকুর,
জীবনটা তার সুন্দর হলো
আহা কি মজা ভরপুর ।
ব্যাং পেল তার মুক্তির স্বাদ
দেখল নতুন পৃথিবী,
চাইনা আমি বদ্ধ জীবন
থাকনা নিজ হাতে স্বাধীনতার চাবি।
সমরেন্দ্র বিশ্বাস
সম্ভ্রান্ত,তোমাকে স্যালুট
তোমার সামনে অসহায় মাথা ঝুঁকিয়ে আছে
তোমাকে অসহায় প্রণিপাত করছে -
বিষয়টা বহুৎ পুরোণো
কিছুটা শ্বাসরোধী ধোঁয়া
কিছুটা জট পাকানো অহঙ্কারের মতো
অসহায় লোকগুলো মাথা ঝুঁকিয়ে আছে
ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো একটু আধটু নড়া চড়া করছে।
তোমাকে লোকগুলো প্রণিপাত করছে
ওদের সামনেই সেই স্যালুট স্যালুট রাস্তাটা ধরে
জুতোর খুরে ধূলো উড়াতে উড়াতে
তুমি নিশ্চিতই হেঁটে যাচ্ছো শিরোপাবিহীন পতনের দিকে!
অভিজিৎ দত্ত
কন্যাদান
রবিন কুমার দাস
বাংলা ভাষা - আলো আশা
A, B, C, D শিখেছি মা বাংলা শেখার পরেঅ,আ,ক,খ শেখা সে তো তোমার-ই হাত ধরে ,
মুখে- মুখে শিখিয়েছিলে কবিগুরুর ছড়া
বি-এ, এম-এ পাশ করে মা সাঙ্গ করি পড়া ।
বাংলা আমায় শিখিয়ে তুমি করনিকো ভুল
প্রতিবাদের ভাষা শেখায় বিদ্রোহী নজরুল ,
সুকান্ত কে পড়তে দিলে একটু মনে কর
জন্মদিনে হাতে দিয়ে বললে তুমি পড় ।
পাতায়- পাতায় আগুন ঝরায় প্রতিবাদের ভাষা
যুদ্ধ শেষে প্রিয়তমার কাছে ফেরার আশা,
পড়তে-পড়তে হারিয়েগেছি বাংলা ভাষার কাছে
বাংলা শুধু শিখিনি মা ইংরিজিও আছে ।
বলতে লিখতে শিখেছি মা শুধুই বাংলা নয়
ইংরিজিটা বলতে এখন হয়না মোটেও ভয়,
অনেক ভাষাই বলতে পারি এখন অনায়াসে
জার্মানি ও ফ্রেঞ্চ ভাষাতো ঠোঁটের ওপর ভাসে।
ভাবছ তুমি তোমার খোকা শিখল কেমন করে
ভাগ্যি তুমি শিখিয়েছিলে বাংলাটা হাত ধরে,
বাংলা যদি না শেখাতে ধরতে পারি বাজি
প্রীতম চক্রবর্তী
সুদীপ্তা চৌধুরী
ভালো আছো তো
রাতের শুভারম্ভ!
স্নিগ্ধ আকাশে আচমকা -
মেঘের ঘনঘটা সেই সাথে বৃষ্টিধারা!
সুখের মধ্যাগমনে আচমকা;
দুঃখের কালো ছায়া!
.......
কেটেছে অনেকগুলো বছর।
আঁধার হয়েছে, করেনি ইচ্ছে আলো জ্বালাতে
তোমার মতো কেউ রাখে না আজ -
আমার খেয়াল।
বিছানার পাশের বালিশটা শূন্য।
কতো বছর তোমায় হয় না ছোঁয়া!
ফাঁকি দিয়ে একাই চলে গেলে।
ঐ পাড়ে-
ভালো আছো তো!
আমি তুমিবিহীন নেই যে ভালো।
আমার শূন্য হৃদয়,জীবনযাত্রা,
অনুভূতি, আঁখি;
খুঁজে ফিরে শুধুই তুমি!
মানস দেব
পাগলিটাও মা হবে
চন্দন শীট
জিতেছি হারিয়ে
পাপিয়া দাস
ছোটবেলা
ছোটবেলা বেশ ভালোই ছিল,
বন্ধুবান্ধবীর সঙ্গে শুধু মজার মজার খেলা।
সহ্য করতে হতো না কোনো রকম অশান্তি,
কোনো রকম ঝামেলা।
ছোটবেলাকে বইয়ের পৃষ্টার মতো উল্টে
পৌঁছে গেছি যৌবনের পাতায়।
নিজের কাঁধের উপর দায়িত্বে টলমল
ভাবি যদি একটু ভুল যেন না হয়
সংসারের এই পাতায়।
মা-বাবা,ভাই-বোন,ননদ-দেওর
কারোর প্রতি যেন না হয় অবহেলা।
দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনে
যেন না হয় আমার কোনোরকম হেলা।
ছোটো ছোটো গুটিগুটি পায়ে
হাটতে গিয়ে যে পড়ে যেত যে মেয়ে,
আজ সে অনেক কিছু শিখছে
সে আমার মেয়ে।
সেও ছোট বেলাকে আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলছে।
সময়ের সিঁড়ি পেরিয়ে।
ছোটবেলার ছোটসাথী
শুধু খেলাখেলি।
বড় হলে পরে,
থাকেনা মজার দিনগুলি।
পূজা মজুমদার
পাবো কি পাবোনা
এই যে শুনতে পাচ্ছো আমার শহরে বৃষ্টি হচ্ছে,
বৃষ্টি হলেই তোমায় পেতে মন চায়,
মুসলধারার স্রোতে তোমায় নিজের করে নিতে মন চায়,
বুকের গহনে তপ্ত চাওয়াকে তোমার তনুতে মিলিয়ে নিতে মন চায়,
একবার তোমাতে হারিয়ে যেতে মন চায়,
কাছের সুরে ডাকতে মন চায়,
ভরা বাদলে তোমার বাহুদয়ে নিজেকে লুকিয়ে নিতে মন চায়।
বাইরের সমাজের তকমা না করে দুজন দুজনায় মিশে যেতে চাই।
একটিবার তোমায় নিজের করতে মন চায়,,,
পরশমনির স্পর্শে জ্বলতে মন চায়।
অনামিকা দও
প্রণয় প্রয়ান
চেয়েছিলে মুক্তি,
দাওনি কেন যুক্তি?
ছেড়ে যদি দেবেই হাত ,
তবে দিলে কেন মিথ্যে অজুহাত?
থাকবো বলে জানান দিয়ে,
মিথ্যে বলে পালিয়ে গেলে?
চাইছো যখন অন্যকে,
আসছি বলে জানান দিলাম তোমাকে!
প্রয়াস আজ থমকে গেছে,
রাতের আধাঁরের কাছে!
স্মরণে আজ দিনগুলো,
পাইনি আমি স্মৃতিগুলো।।
একটু করে ক্ষত যখন মলম ছাড়াই সারে,
ওরা ভালোবাসার নামে 'মরা' মানুষ মারে।।
প্রতীক হালদার
ছাত্রজীবন
যে জীবনটা সবচেয়ে সুখের
শিক্ষা যে হয় শুরু,
যে জীবনের হাতেখড়ি তে
পাই যে শিক্ষা গুরু ।
যে জীবনে আলোর পথে
চলতে শুরু করা,
যে জীবনে শিক্ষা শুরু
করি লেখাপড়া ।
পুঁথিগত বিদ্যা সাথেই
জীবন গড়ার কাজ,
যে জীবনটা ফিরে পেতে
চাই যে সবাই আজ ।
ছাত্রজীবন বড়ই মধুর
বিবেক- চেতনা- ধ্যান,
জাগ্রত হয় একে একে
শ্রদ্ধা -ভক্তি- জ্ঞান ।
নীতা কবি মুখার্জী
আকাশ তুমি
আকাশের কাছে শিক্ষা নাও কতো উদার হওয়া যায়
সুদূর নীলাকাশ দেখেই মানুষ কতো কিছু ভেবে পায়।
পাখিদের সুখ-বিচরণ ক্ষেত্র ওগো নীলাকাশ তুমি
মেঘ-সখাদের বুকে ধরে রাখো, তুমি আশ্রয়ভূমি।
রামধনু যেন তোমার প্রিয়া মিষ্টি আলিঙ্গনে
তাকে দেখে কতো কথা ভাবি আর জাল বুনি মনে মনে।
নতুন সূর্য বুকে ধরে যেন বলে, ওঠো এই বার
সূয্যিমামার উদয় হয়েছে, তুমি ঘুমায়ো না আর।
মধ্য-দুপুরে আকাশ দেখলে চোখ যে ঝলসে ওঠে
এইবার খানিক বিশ্রাম নাও, বেরিও না যেন মোটে।
সমুদ্রপারে যেখানে আকাশ মিশে দিগন্তরেখায়
প্রেমিক-প্রেমিকা তাই দেখে মিলে অনন্ত-তন্দ্রায়।
জ্যোৎস্না মাখা আকাশ যেন মোহময় স্বপ্নের দেশ
আকুল হিয়া ছুটে গিয়ে বলে থাকবো এখানে বেশ।
আকাশ, মাটি, সূর্য, তারা কতো অপরূপ দান
এদের কাছেই শিক্ষা নিয়ে গাই জীবনের গান।