Oct 24, 2021

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

কালো দলিল

সময়ের চাকার সাথে সাথে বদলে যাবার কথা 

আদিম ধারনা, পুরোনো পোষাক । 
আধুনিকতা আসবে
কলাপাতার নবীন রঙে ।

লোকায়ত সব তহবিলের থাকেনা 
কোনো চাবি কিংবা আলতারা
অথচ সেইসব পুরোনো গোষ্ঠীযুদ্ধ 
জিনগত পাপের মতো 
মননে গেঁথে থাকে ।

সেইসব ঘুমন্ত কীটকুল  চাড়া দিয়ে ওঠে
অজানা গুজবের অন্ধ আবেগে ।
মধ‍্যযুগের পাতা ছিঁড়ে খুঁড়ে 
ওড়ে কালের বাতাসে ।
মানুষের বিবেক তখন আবার অমানুষ হয় । 
আর এক কালো দলিল সংখ‍্যায় বাড়ে ।

দিলীপ বসু

আমান আলির স্বর্গযাত্রা   

আমান আলি স্বর্গে যাচ্ছে। 
মিছিলের মুখথেকে সাবাস সাবাস
এগিয়ে যাও আমান আলি,আরো এগিয়ে যাও
সামনেই  স্বর্গের সিংহদুয়ার কল্পিত সোপান
আপেল আঙুর নাসপতির খেত
দুধে ধোওয়া ঈশ্বরের সোনালি বাগান।

তিনদিন কিছুই জোটেনি স্বর্গযাত্রী আমান আলির
বেলফুলের পাঁপড়ির মতো কাঁপছে লতানোশরীর
পেটের ভেতর ঘড়িয়াল-হাঙরের ডুব সাঁতার
মিছিলের মুখথেকে সাবাস সাবাস
এগিয়েযাও আমান আলি,আরো এগিয় যাও,
ভেতরে ভেতরে যাও,ডানে বাঁয়ে কোথাও দেখোনা
শক্ত করে ধরো আকাশ আড়ালকরা মুলিবাঁশেবাঁধা
রাজনীতির ধ্বজা।

দাঁতেদাঁতচেপে আমান আলি বজ্রার গুনটানে
কপালের তরলনুন শুষেখায় রোদেপোড়াআলজিভ 
ধ্বনি প্রতিধ্বনিতে চাপাপড়ে যায় কষ্টের গমক

মনুনদীর ধার ধরে মিছিলের মাথা ছুঁয়ে ফেলেছে
কৈলাশহরের নাভিমূল
সাহাবাবুর হোটেলথেকে তামাল রোদে গন্ধছড়াচ্ছে ধোঁয়াওঠা ভাতের লোবান
 আর কতদূর আর কতদূর রজত তবকে মোড়া
স্বর্গের কপাট?

স্বর্গ কীগো আমান আলি,?ঝুলে থাকে
কঠিন জিজ্ঞাসা
আমান আলি হি হি করে হাসে
দিনমজুর ভবঘুরে এই বেত্তমিজ
স্বর্গ-নরকের তফাৎ বোঝেনা
তার কাছে স্বর্গ মানে নুনলঙ্কা শিউলিধবল ভাত 

আমান আলির বুকে হঠাৎ ছলকে ওঠে রাবনের চিতার মতো  গনগনে আগুনের ফুল

অকস্মাৎ চেঁচিয়ে ওঠে আজন্মনিরিহ আদমপুত্র
আমি তোমার স্বর্গ নরক চাইনা
একটু ভাতের ফ্যান....একটু নুন
এই আমার জন্মের দক্ষিণা,আমার ঝাঁপান।

আমান আলি অবশেষে জেনে গেছে
ওদের পিঠে চড়ে ধড়িবাজ ধোপদুরস্ত দাদারাই
স্বর্গের আপেল খাবে
ওরা কেবল চঙ্গা হয়ে থাকবে স্বর্গের দাওয়ায়।

অপাংশু দেবনাথ

সান্ধ্যভ্রমণ-২      

আপনি হাঁটছেন। সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছে সময়।
সে দৃশ্যত নয়, ছুঁতেও পারছেন না তাকে।

শুধু ছায়া ঢলে পড়ছে বৃক্ষের আড়ালে, 
ক্রমাগত স্থির হয়ে আসছে পা।
সংরক্ষিত এলাকা এড়িয়ে আপনি হাঁটছেন।
মন্ত্রীবাড়িগুলো শরীরে রঙ মেখে দাঁড়িয়ে আছে,
নিরাপত্তা বলয়ের ভেতর।
ওখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ জেনেও 
নিজেকে সুরক্ষিত ভেবে হাঁটতে থাকবেন।

বুঝতেই পারছেন না 
পায়ের তলায় উৎ পেতে আছে ম্যানহোল।

তৈমুর খান

কর্তব্যের জন্য   
কর্তব্যকে প্রথম চিনেছি
নতুন আবেগ এলে আমি রোজ সারি সারি
তালগাছঘেরা পথ চেয়ে থাকি
অর্ধাস্ত সূর্যের আলো মেখে এই পথে পাড়ি দেয় সে
মনোহর ধূপছায়া শাড়ি
কপালের এলোমেলো চূর্ণ চুলে এখনও গোধূলি
চেতনায় স্পন্দন ওঠে কলস ভরা জলে

কর্তব্যের কথা ভাবি
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নামে
পাখিদের গানে শুরু হয় গ্রাম্য ছায়াছবি

উঠোনে মাধবী কাঞ্চনের ঘ্রাণ পাই
কর্তব্য লন্ঠন জ্বেলে দিলে
বই খুলি
আমার আরতি শুরু হয়:
ফাগুনে আগুন তুমি, জ্যোৎস্নার খই
আমার বাঁচার স্বর্গে পৌঁছাবার মই…

শব্দগুলি খেলে বেড়ায়
কর্তব্যকে দেখি: পাতলা গড়ন, নাকছাবি দোলে
কথা নেই ওর, তবুও নীরবকথা চোখে চোখে বলে

ঘুমের ভিতর রোজ কে ডাকে এত?
সারি সারি তালগাছ, আমি নায়কের মতো

আবার ঘুম ভেঙে যায়, দরজা খুলি
বাতাসের কাছে ঘ্রাণ পাই ফুটেছে তার কলি

ঝকঝকে কলসটির মতো সেও হয়ে গেছে
সমস্ত রাত্তির জুড়ে তার চিকন লুকিয়ে আছে!

কামরুন নাহার সিদ্দীকা

জটিল উপপাদ্য    

আশ্বিনের এই শুক্লপক্ষে

 ভাদ্রের ঘুমোট ভাব কেটে

 হিমলাগা বাতাস যায় বয়ে,

মাধবীলতারা ওঠে কেঁপে 

সে কাঁপনের ছোঁয়াচ লাগে

কবেকার সেই কথা মনে পড়ে..

সম্পর্ক এক জটিল উপপাদ্য

মিলাতে পারলে আমোদিত 

না পারলে  মুখ থুবড়ে পড়ে

সুতোছেঁড়া ঘুড়ির মতন উড়ে

নাটাই ফেলে কোথায় যায় হারিয়ে

 না- মন না- আকাশ তা জানে।

তখন জ্যোৎস্না মিলায় সুদূরে 

 কবিতার শব্দমালা  সহচরী হয়ে

 আমাকে ছুঁয়ে দেয়, হাত ধরে

বসায় জীবনবোধের পাঠে।

বিজয়া দেব

আমার জানালা     

রক্তাক্ত ভোরে নিশ্চুপ জানালা
আজ। 
নাহলে আমার জানালা
কথা বলে,
মুক্তির বার্তা দিয়ে যায়।
আজ যেন চুপিচুপি বার্তা দিল
শিকলবাঁধা এ জীবন
শিকলেই বাঁধা পড়ে রবে।
সূর্যও পোড়াতে পারবে না
মানুষের দুর্ভাগা যাপনের
অন্ধকার।
এমনি বার্তা এলো ভিনদেশ থেকে।
এল আর্তস্বর।
ভিটে হারানোর যন্ত্রণা। 
শতবর্ষের জমে থাকা
পাপকর্মের
প্রতিক্রিয়া।
আমি জানালায় তবু দাঁড়িয়ে
রইলাম
পুড়ে পুড়ে খাক হয়ে যাবার অপেক্ষায়।

সৌমিত বসু

আমার মেয়েটি 

ভাতের হাঁড়ির ভেতর বসে আছে মেয়ে।এইতো আকাশে ছিলো।কখন সে নেমে এলো ঢাকনা সরিয়ে?প্রতিটি গ্রাসের সাথে কিভাবে যে তোকে মুখে তুলি?মেয়ে ফ্যালফ্যাল।বাবার মুখের ভেতর দিব্যদর্শন।

মেয়ের মা মুখের ভেতর ছুড়ে দিচ্ছে টুকরো টাকরা মেঘ।যাতে দমবন্ধ করে লোকটা মরে যেতে পারে।ইতিহাস বই থেকে পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মুখে।যাতে কেউ খোঁজ না পায় স্বপ্নের তলদেশ।মোটকথা মেয়ের সাথে সে পুড়িয়ে ফেলতে চাইছে তার কয়েকমাসের ভুল।

একটা খারাপ লোক একটা ভালো বাবা হতে চেয়ে মুখ তুললো ওপরে।একটা মেয়ের মা ভালো হতে চেয়ে তাকালো ঘাসের দিকে।দুটো জীবন পালকের মতো ভেসে গেলো কোনদিকে,মেয়েটা জানেনা।

আমার মেয়েটি
===========

মায়ের কোল ঘেঁষে শুয়ে আছে মেয়ে,মুখে রক্তজবা।যতবার দুধ টানে বিছানা রক্তে ভেসে যায়।যতবার ভয় পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে,মাও কেমন যেন সরে সরে যায়।

কোনো কোনো রাতে সে উড়ে বসে বুকের ওপর।শুড় দিয়ে অল্প আদর মেখে মা বাবার চোখে ঘুম আনে।টুপ করে ঢুকে পড়ে হাসিমুখে ভরে দেয় মাঝের ফাঁকটুকু। 

বাতাস বইছে।মেয়ে আমার পাতা হয়ে ঝরে পড়ছে নিচে।সন্ধ্যা হয়ে এলো।পাতাটুকু কুড়োনো হলোনা।

কুশল ভৌমিক

আমাদের মৃত্যুর পর           

আমাদের হত্যা করার পর 
উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটির গোপন ফাইলে 
দীর্ঘদিন চাপা থাকবে আমাদের দীর্ঘতম দীর্ঘশ্বাস 
গঠিত হবে দুঃখ বিষয়ক মন্ত্রণালয় 
সেমিনার সিম্পোজিয়ামে উড়তে থাকবে
আরোপিত আর্তনাদের রঙিন নিশান। 

মৃত্যুর পর
স্বর্গ নরকের মধ্যবর্তী 
কোনো এক নয়নাভিরাম হৃদের পাশে 
আমরা তখন মিলিত হয়েছি গোপন বৈঠকে
আমার ডান পাশে প্রিয়তম ভাই তাবরেজ 
'জয় শ্রী রাম' না বলার অপরাধে 
প্রকাশ্য রাজপথে যাকে হত্যা করা হয়েছিল কিছুদিন পূর্বেই
বামপাশে ছোটন সাহা 
'নারায়ে তকদির' ধ্বনি যার শ্মশানে জ্বালিয়েছিল শান্তির আগুন 
আমার সামনে চিত্তানন্দ মহাথারো 
নির্বাণ নির্বাণ বলতে বলতে যার মৃত শরীর 
গড়িয়ে পড়েছিল চিম্বুক পাহাড় থেকে 
টেবিলে হেলান দিয়ে আমাদের প্রিয়বন্ধু ফাদার বেঞ্জামিন 
বোমার আঘাতে যার বুক থেকে বুলবুলি 
উড়ে গিয়েছিল অসীম শূন্যতায়।

মৃত্যুর পর আমাদের মুখে নির্ভেজাল হাসি
মৃত্যুর পর আমরা ফিরে পেয়েছি মানুষ পরিচয় 
মৃত্যুর পর মরে গেছে বিভেদের শক্ত দেয়াল
মৃত্যুর পর আমরা জেনে গেছি 
ধর্ম নয় আমাদের হত্যা করেছে রাজনীতি। 

আমাদের সামনে একটা সবুজ বেঞ্চিতে লজ্জাবনত 
মরিয়ম পুত্র যিশু
আমেনা পুত্র মুহাম্মদ 
কৌশল্যা পুত্র শ্রীরাম
মায়া পুত্র গৌতম 

তাদের প্রত্যেকের চোখে টলমল করছে শিশিরের মতো পবিত্র কান্না।

মৌসুমী কর

গোধূলি     

একদিন গোধূলির সাথে 
আড্ডা মারছিলাম......
সে জানায় রাতের
নির্মমতার কথা....
প্রতিদিন রাত 
তার অন্ধকারের চাদর মেলে
একটু একটু করে 
গ্রাস করে গোধূলিকে....
সেই নৃসংসতার কথা....
অথচ গোধূলি চায় আলো..
বুক এফোঁড় ওফোঁড় করা
এক অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে 
গোধূলি অপেক্ষায় থাকে
নতুন সূর্য্যের।

সুশান্ত নন্দী

কুয়াশা মহল      

কত বসন্ত চলে গেছে আলগোছে কত ফাগুন 
আমিও চেয়েছি রং ছড়ানো অপূর্ব কোলাহল 
শুধু হাত ধরো মিঠি নিভৃতে কাছে ডেকে নাও 
মৃত্যুর ওপারে বিছাবো অলীক কুয়াশা মহল

আব্দুল গফফার

ফিরে এসো ছোট্ট পোস্ট কার্ড       

হারিয়ে গেছে আজ,সেই ছোট্ট পোস্ট কার্ড-
হাঁক নেই আর সেই পিয়ন বাবুর।
মনি অর্ডার-এর জন্য ছুটে যায় না বুড়িমা,
খাঁকি পোশাক তাই আজ ধূসর।
কত সুখ দুঃখের কথার অপেক্ষায় দিন কাটতো,
শুধুমাত্র একটি পোস্টকার্ডের আশায়।
মায়ের কত আকুতি-
খোকা তুই কবে বাড়ি আসবি,
ঐদিন তোমরা এসো, 
মুখে ভাতের নেমন্তন্ন-
তোমরা আসবে তো ? রাধার বিয়ে লেগেছে-
ফাঁকি দিও না, আমাদের বিবাহ বার্ষিকী, তোমাদের আসা চাইই।
জানিস, ওকে আর বাঁচাতে পারলাম না, খুব কষ্ট পাচ্ছিল-
ইন্টারভিউটা চলে গেল, হতাশ আমার বেকার ছেলেটা-
কত কথোপকথন।
ভরসা সেই ছোট্ট পোস্ট কার্ড।
মনি অর্ডার-এর টাকাটা,
এখন আর হাতে পায় না বুড়িমা।
সু-প্রভাত, সন্ধ্যা,  রাত্রি, শুভ জন্মদিন-
শুভ অমুকদিন শুভ তমুকদিন, কত শুভেচ্ছা,
এসকল পোস্টারের ছবি এখন রোজনামচা।
শুধু একটা ছোট্ট পোস্টকার্ড কে ঘিরে কি অমোঘ আকর্ষণ।
এখন নেট দুনিয়ার জালে হারিয়ে গেছে সেই হলুদ রঙের ছোট্ট পোস্ট কার্ড।
এই বিবর্তনে যোগাযোগ হয়েছে সরল, বেড়েছেও ছল।
তাই হারিয়ে গেছে আমাদের সেই রঙিন দিনগুলো। 
পোস্টকার্ড তাই তুমি ফিরে এসো আবার।
তুমি আমাদের সোনালী অতীত ফিরিয়ে দাও।

চন্দন পাল

নবমী       

তোমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে, 
ভাগ করি উৎসবের মেজাজ। 
একে একে পেরিয়ে যায় মহালয়া বোধন দশমী।

তোমাকে পাশে নিয়ে বসে থাকি দুয়ারে।
দলে দলে লোক যায়, গন্ধ বিলায়  । 
একদল মিলে যেতেই অন্যদলের কলরব এগিয়ে  আসে। 
উপভোগ করি দুজনে, হেসে উঠে পথবাতি।

খিলখিল বেশভূষায় পূজো পরিক্রমার খবর ।
রাস্তায় নূপুর বাজে, কাপড়ের ঝিলিক ছুটে, চিকচিক করে উঠে  হার, কুন্তল, ওড়না।
কেউবা খুড়িয়ে, লোক বুঝে লজ্জা লুকায়। 

ফিরে যাই অতীতে, 
হাতরে মিলাই নিজেকে, বেমানান দুপুরে সাজ দৌড়।
পায়ে ফোসকা পড়তেই, নতুন জুতো উঠে আসে হাতে।
চোখের গগলসটা পকেটে লুকায়।
যেখানে প্রেম আর ঘুগনির নগদ সুরক্ষিত।

কত শরৎ আসে যায়, সবকি আর ধরা যায়!
একদিন ধরলে তুমি হাত, অজ্ঞাত ভবিষ্যৎ,,,, 
সুদিনে দুর্দিনে চার হাতে সুরে জাগি আর সুরে হারাই।

তবু, 
দৈনালীর প্রকাশ ছিল বলে, নবমী হারিয়ে যায়নি।
ভালবাসার মুখগুলোকে, দেখেছি খুব কাছে থেকে।
ঘিরে ধরেছিল নবীন প্রবীণ অচেনা মরমী সুধা। 
জেগে উঠেছিল সুর-স্বর, কামরাঙ্গা সাজ ।
বোধে গম্য হয় শ্রেষ্ঠ উৎসবের কিয়ৎ তাৎপর্য। 

সুমনা রায়

মালজিপাড়া হাইওয়ে ক্যাফে

নির্ঘুম হাইওয়ের ক্লান্তি মুছিয়ে স্পিডোমিটারকে জাগিয়ে রাখাতেই ভেসে ওঠে হাইওয়ে ক্যাফের নিজস্বতা। কফির গরম ধোঁয়ার সাথে মিশে থাকে ভ্রমণের সুখটান। স্বচ্ছ জানালা দিয়ে বিনা অনুমতিতেই ভেতরে ঢুকে পড়ে চিলতে আকাশ। প্রতিটি চুমুকে মিশে যায় পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সবুজের ভালোবাসার  ম্যাজিক যা  আমাদের জীবনবোধের জটিলতাকে ভাঙতে থাকে আর বেজে ওঠে সরল পথের গান। চেনা অচেনা পথিকের সমবেত যাত্রাবিরতি বাড়িয়ে দেয় ব্রুড বাতাসের ক্ষেত্রফল। কোন পেয়ালায় ঢেউ তোলে অজানা দূরত্ব ছুঁয়ে দেখবার উচ্ছলতা আবার কোথাও উপচে পড়ে ঘরে ফেরার নরম প্রশান্তি। ঘরোয়া উষ্ণতার সাথে বাইরের সীমাহীন উদারতা এক সরলরেখায় মিলে আমাদের রোস্টেড জীবনে এনে দেয় এক অনন্য গন্ধ। এই গন্ধে আলাদা করা যায় না অ্যারাবিকা থেকে রুবাস্টা, এক্সপ্রেসো থেকে লাটে বা কইতাডো। মালজিপাড়ার সেলফি ক্যামেরায় আজ ভেসে ওঠে শুধু নার্সিসাস সময়ের মুগ্ধতা ۔۔۔

জহর দেবনাথ

আমার চাই 

আকাশের তারা কোন দিন চাইনি
চাইনি কখনো নবাব বা বাদশা হতে
রাজ্য কিংবা রাজকন্যা ও চাই না
ঈশ্বর কিংবা ভগবানের দূত ও
হতে চাই না

একটা স্বপ্ন চাই একটি নীল আকাশ চাই
দূষণ মুক্ত নীল আকাশে সাদা মেঘের
ভেলা চাই
দুধ সাদা দুটো ডানা চাই যাতে ভর করে
অচীন দেশে উড়ে যেতে চাই
ধবধবে সাদা মনের একটি রাজ হংসী চাই
রাজ হংসীর কাছ থেকে আমি ভালো থাকার
প্রেম ভালোবাসা আর স্নেহ ভরা
দিশা চাই।

রুদ্র মোস্তফা

কখনো শত্রুর চোখে ঈর্ষা দেখিনি    

একজন পিছোয় খুব ধীরে 
তারপর দুইজন, 
এক এক করে অনেকেই...
অথচ তাদের ঈর্ষার চোখ এগোতে থাকে
ভীষণ উচ্ছ্বাসে —
বন্ধুর পাশ ঘেঁষে পিছোয় 
সব চেয়ে কাছের কলিগ 
কলিগের পাশ ঘেঁষে প্রতিবেশি 
তারপর আত্মীয় 
অভিনন্দনের ধোঁয়া তুলে
 ক্রমশ ফুঁ দেয় ফাঁকফোঁকরে ।
অথচ যারা পিছিয়ে যায় 
তাদের চোখ ঠিকই এগোয় সতর্কভাবে।
বন্ধু,পরিচিতজন এবং প্রতিবেশির
শরীর এবং চোখের মাঝখানে
এইসব মৃত্যুর অর্থ খুঁজে পাই না কখনো।
অথচ শত্রুর শরীর এবং চোখ
 সমান তালে এগোয়—
শত্রু ঠিকই বেঁচে থাকে ভণিতাহীন সারল্যে। 

সো ওম্

শুঁয়োপোকা

মধ্যরাত,ঘুমের লেশমাত্র নেই চোখে,
আধো আলো ছায়ায় কড়িকাঠ গুনছি সেই তখন থেকে,
একরাশ বিমর্ষতার রঙের প্যালেট হাতে অদৃশ্য চিত্রকর,
চওড়া চ্যাপ্টা ব্রাশের টানে, রাঙ্গিয়ে চলেছে একমনে,
পুরনো রঙের আস্তরে আবার একবার রঙ দিয়ে যায় আঁকিয়ে,
ফিকে হওয়ার আগেই বিমর্ষতার রঙ‌ দেয় রাঙিয়ে-
এ রঙেই বেশি মানায় আমায়-
একটু একটু করে আমিও যেন মানিয়ে গেছি,
অভিযোজিত হয়েছি,
পাল্টে নিয়েছি নিজেকে চিত্রকরের চাহিদায়।

শেষ প্রহর-
ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে,
টিনের চালা কাঁপে বৃষ্টির গানে,
সুখানুভূতির স্মৃতি শুয়োপোকা হয়ে বেরিয়ে আসে,
বালিশের তলা থেকে,
ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে, মনে, মস্তিষ্কের কোষে কোষে,
শিমুল তুলার কোমলতায়,
হিন্দোল জাগাতে চায় পাখির পালকের পেলবতায়,
অভিযোজনের বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে চায় মন,
কাঁচা রঙের প্রলেপ নষ্ট করে দিতে যায় শুয়োপোকারা,
ইচ্ছে করেনা আমারও বাধা দিতে,
এ মন সায় দিয়ে যায় আমার ইচ্ছেতে,
যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠে শুঁয়োপোকার দল,
ঈষৎ হাসির রেখা ঠোঁটের কোণে দেয় দেখা,
ভালবাসতে ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে জেগে ওঠা শুঁয়োপোকা দের,
ভালবাসতে ইচ্ছে করে আকাশ বাতাস সবকিছুকে,
আচমকা ঝলসে ওঠে তীব্র আলো-
বিকট শব্দে পড়ে বাজ, আঁধার ছেয়ে যায় দিক-দিগন্তে,
সকল শুঁয়োপোকা মিলায় অনন্তে,
আবছা আলোয় আমি দেখি  
কড়িকাঠ, আমার ঘর, আর সেই চিত্রকর।।

সহিদুল ইসলাম

মনটা চায়   

মনটা চায়,

স্বপ্না রেস্টুরেন্টের শিশু কর্মীটাকে জিজ্ঞাসি, 

‘তোর কী পড়ালেখা নেই?’ সকালে মিউনিসিপ্যালিটির সাফাইকর্মীদের ঠেলাতে

নিজ হাতে কিছু ময়লা কুড়িয়ে দেই।


মনটা চায়,

মাদ্রাসায় সকালে গিয়ে কচিকাচাদের সাথে দোলে দোলে কোড়ান পড়ি, 

প্রোডাক্টের সেক্সুয়াল বিজ্ঞাপনের পোস্টার গুলি ঢিল মেরে ছিদ্র করি।


মনটা চায়,

ব্যাগ কাঁধে মর্নিং স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের মুখ ভ্যাঙচিয়ে ভয় দেখাই। 

পথের মোড়ের মন্দিরে ঢুকে শির নেড়ে চোখ বুঝে ভজনের গীত গাই।


মনটা চায়,

অস্তযামী সূর্যের রাঙা ছবিটা নদীর জলে দেখে 

“ওফ!কী লাগছে” বলে চিৎকার মারি, 

টাউন হলের মঞ্চে উঠে মাইকটা হাতে

‘উই সেল ওভারকাম’ গান ধরি।


জানি না, 

মন কী এসব মন থেকে চায়, নাকি শুধু বাহানা?

তবুও মনকে ধন্যবাদ, কারোন ‘মন’ তো চাইল না।

মোঃরুবেল

উষ্ণ পাহাড়

পাহাড় একটু একটু করে বুকে প্রেম জমিয়ে বড়ো করে নিজেকে।
ঋতুর পর ঋতু।
কত পাহাড়ি ফুল ফুটায় তার পুরো শরীর জুড়ে,
প্রেমিকাকে প্রেম নিবেদন করবে বলে।
প্রেমিকার পদরেণুর অপেক্ষা প্রহর গুনে পাহাড়।
পাহাড় চায় তার বুক চিড়ে রাস্তা করুক কেউ,
তার প্রেমিকার জন‍্য।
পাহাড় চায় তার প্রেমিকা আলতো করে ছুঁয়ে যাক তাকে।
তার নিতান্তই যত্ন করা ফুল গুলির শোভা বাড়ুক।
অথচ প্রেমিকা আসে না।
কত ঋতুর পর ঋতু চলে যায়।
ফুল আজন্মা দুঃখ নিয়ে ঝরে যায় পাহাড়ের গা ছেড়ে।
পাহাড়ের চোখ জুড়ে অশ্রু-ধস নামে তার গা বেয়ে।

দীলিপ দেবনাথ

পর্দার অন্তরালে

অব্যক্ত যন্ত্রণা হৃদয়ে বয়ে,
ধুকেধুকে তিলেতিলে ক্ষয় হচ্ছি-
তোমার স্মৃতিতে,
তোমার দেওয়া প্রতিটি আঘাত-
বুকে ক্ষত সৃষ্টি করেছে, 
প্রতি রাতে তীব্র ব্যথা হয়-
বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদি,
সেই কান্নার শব্দ তুমি শুনবে না।

মনে আছে সেই দিনের কথা,
বেরিয়েছিলাম দুজনে বেড়াতে-
তুমি ছিলে বাইকে,
আমার পেছনে বসা, একটু তফাতে!
পাহাড়ি জনপথ, ইচ্ছে করেই ব্রেক কষতাম,
জড়িয়ে ধরতে আমায়-
তুমি চিৎকার দিতে,
আমি খিলখিলিয়ে হাসতাম।

হঠাৎ খুব বৃষ্টি এলো,
দাঁড়াতে চেয়েছি আমি বড় গাছতলায়-
তুমি চাইছো ভিজতে,
লম্বা সফর, অনেক ভিজলাম-
দুজনে আশ্রয় নিলাম এক পান্থশালায়,
পাশাপাশি কাছাকাছি বসলাম দুজনে-
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমক,
মনের অজান্তে আমার বুকে মাথা গুজলে।

অনেক অব্যক্ত কথা বলেছিলে,
যা আজ চোখে জল ঝরায়-
বলেছিলে সেদিন কাঁদোকাঁদো ভাবে,
চিরকাল তুমি থাকবে আমার-
মৃত্যুতেই হবে আলাদা, 
ভাবতাম, এমন দুর্দিন যেন দেখতে না হয়-
কোথায় তোমার সেই প্রতিশ্রুতি,
কোথায় তোমার গভীর ভালোবাসা?

রুপালী রায়

প্রতিশোধ 

প্রতিশোধ মানে

কারো মৃত্যু কামনা নয়।

বেঁচে থাকতে হলে 

জীবনের সাথে লড়তেই হবে ।

নচেৎ জীবনও যে সুযোগ পেলে 

প্রতারণা করবে না তার কি মানে ।

আমার মধ্যেও যে  অসীম শক্তি বিরাজিত 

যুদ্ধে না নামলে তো 

এই অপরিসীম শক্তির সন্ধান 

পেতাম না কোনোদিনই ।

তুমি কিংবা আমি ,

আমারা সকলেই অনন্যা, 

অপ্রতুল শক্তির অধিকারিনী  ।

শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা ।

কবি হয়েছি বলে কি 

অস্ত্র তুলতে জানি না !

নাকি রমণীরা  শুধু ভালোবাসতে জানে?

প্রেমিক , অপ্রেমিক দুটোতেই যেমন 

পুরুষের অধিকার আছে ,

রমণীরাও শত্রুকে ঘৃণা করতে জানে ।

রমণীরাও জানে,

তার অপ্রেমিক কিংবা শত্রুর

মৃত্যু কামনা না করেই 

প্রতিশোধ নিতে ।

প্রতিশোধ মানে কারো মৃত্যু কামনা নয় ,

বরং বাঁচিয়ে রেখে নিজের সফলতার প্রত্যক্ষদর্শী করা ।

রাজীব পাল

তুমি শান্ত হও     

বসে আছি এক মাটির স্তূপের উপর
বাঁশ বনের ফাঁকে দূরে প্রবাহিত নদী
যেখানে জল আর পানি মিলে মিশে একাকার।

সমুদ্র মোহনায় এ মাটিও মিশে যাবে একদিন
ধুয়ে যাবে জীবনানন্দের সোনার গাঁ।
শুধু তুমি আর আমি মিশতে পারবনা সেদিনও।

আমার দু'চোখ জুড়ে জল 
আর নদীর কোলাহল,
তবুও চেয়ে আছি কাঁটাতারের ওপারে।
আগুনে আগুনে ঝলসে যাওয়া তোমার দেশ
আর আমার দেশ পাশাপাশি, 
কত যুগ কত বছর রাশি রাশি।

আজও হাত বাড়িয়েই আছে 
অজস্র গঙ্গার ধারায় অমিয় জল পাঠিয়ে 
তোমায় শান্ত করতে করতে 
এ দেশ এখন ক্লান্ত, খোঁড়া
তুমি শান্ত হও, হে সবুজ তুমি ঝলসে যেও না।

Oct 23, 2021

মনীষা দেবনাথ

আর্শীবাদ

বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালে,

ডাকছি বলে খোকা।

শুনেও শুনিস না তুই,

আমার একমাত্র খোকা ।


বৃদ্ধ বলে দিলি বৃদ্ধাশ্রমে,

শুনলি না কোনো বারন।

আমি তোর উপর বোঝা ছিলাম,

সেটাই তার কারন।


সুখে থাক সন্তান নিয়ে,

তোর এই বড় ঘরে।

আমি না হয় কেঁদে মরে,

এই ছোট্ট চার দেওয়ালের মাঝে।


ছেলে যে তোর বড় হবে,

হয় না যেন তোর মতন।

এই আর্শীবাদ করে যায়,

আমি সদা সর্বক্ষন।

রণজিৎ রায়

ঘুম ভাঙার কাহিনি

অসময়ে ঘুম ভেঙে এক হুলুস্থুল কাণ্ডকারখানা

বিরক্তির প্রতিধ্বনি, প্রত্যাশার অনুরণন

জবরদখলের হুংকার---

স্বর্গের দিকে যারা কুম্ভকর্ণের মতো নিস্পৃহ

অপরদিকে কাঁচা ঘুমের চোখে প্রত্যাশা

মাঝখানে কর্দমাক্ত নরকের প্রবাহ

নতুন পক্ষ নরক না ডিঙিয়ে স্বর্গের দিকে শিকড়

গেড়ে বসতে চাইছে, এক দক্ষ যজ্ঞের প্রস্তুতি ।


লোহা আগুনে পুড়ে তেজ হারিয়ে নমনীয় হলে

দুর্বলের আঘাতেই আত্মসমর্পণ

ইশারায় নাচে, গায়

স্বাভাবিক হলে ভীমেরও অসাধ্য ।


এক ব্যতিক্রমী যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রকে হার মানাবে

ধরে রাখা প্রায় দুঃসাধ্য

ফিরে আসা দূরূহ

উড়ে এসে জুড়ে বসা দুর্বোধ্য

চাক্ষুষ দেখার জন্যে দিব্যচক্ষু নিয়ে লঙ্কাকান্ড ।

শঙ্খশুভ্র পাত্র

জলের শিয়রে

মণ্ডলাকার এই গৃহে এসে যে সুবিধা হল বিলক্ষণ বুঝি ৷ নির্বাচিত গুচ্ছ নিয়ে বসে আছি ৷ প্রস্ফুটিত

মুখের দিকে তাকিয়ে আছে পাঠক ৷

একটা ধরাশায়ী রঙের আলোর দিকে ছুটে বেড়াচ্ছে মন ৷ শ্বেতাভ কন্যার কাছে রূপার্থ বেদনা লুকিয়ে রেখে কী প্রাণান্ত মণীন্দ্রসাধন !

কালীকৃষ্ণ-আলোকে পূর্ণ নিশীথিনী...

শেষাবধি মহারানা, জলের শিয়রে দেখি : খণ্ড চাঁদ,

বিজনরঙের ঢেউয়ে দোল খায় আদিগন্ত কবিতাশরীর...

সৈকত ভৌমিক

ধার্মান্ধ

ধর্মের নামে আজও মানুষ করছে হানাহানি!

ধর্মের নামে আজও হচ্ছে একে অপরের খুনি!

ধর্মের নামে নিরীহ মানুষের দিতে হচ্ছে প্রাণ!

ধর্মের নামে গ্রামের পর গ্রাম আজ হচ্ছে স্মশান!

বেদ,কোরান সবই যে শুধু শান্তির কথা কয়!

তাইতো সকল ধর্ম কে যেন সন্মান করা হয়!

ধর্ম মানুষকে প্রেম শেখায় না তো শেখায় যুদ্ধ !

ধর্মের নামে অত্যাচার অপীড়ন যেন হয় বন্ধ !

এত সুন্দর পৃথিবী শুধু একজনেরই দান!

কেউ বলে আল্লা আবার কেউ বলে ভগবান!

সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেহ যে নাই!

শান্তি সম্প্রীতি আবার সকলে ফিরে যেন পাই!

হিন্দু মুসলিমদের ভাতৃত্বে যারা ফাটল ধরাতে চায়!

উপরওয়ালার দরবারে যেন কঠিন সাজা পায়!

তাই চলো ধরি এবার সম্প্রীতির গান!

একই দেহের দুটি আঁখি মোরা হিন্দু মুসুলমান!

তপনকান্তি মুখার্জি

আভাস

টানতে টানতে শরীরটাকে নিয়ে এলাম ব্যালকনিতে । 
নিঃসঙ্গ চারদিক । 
দুহাতে নিঃসঙ্গতা ঠেলে বসি আরামকেদারায় । 
বাতাস আছড়ে পড়ছে খোলা দরজায় । 
শক্ত করে ধরি আঁধারকে । পিছলে যায় সময় । 
পায়ে পায়ে চোরাপথে হাজির অতীত । 
দূরে আল ভেঙে ভেঙে কারা যেন আসছে । 
হৃদয় - প্রকোষ্ঠে হাহাকার , ঘোড়ার খুরের ধুলো ঝড় , 
টুকরো টুকরো আশা । 
নাচতে নাচতে পার করা দুরন্ত বিকেল এখন ওষুধ - ভরসায় । 
কপালে হাত রেখে শুয়ে আছি নির্ঘুম । 
বালিশের তলায় কী যেন রাখা । 
কি - স্বপ্ন ? 

অতনু রায় চৌধুরী

যুদ্ধ নয়      

ঘুমিয়ে থাকি আবদার ভুলে 
তোমার চরন তলে।
রোদের আকাশ মেঘলা হয় 
সবকিছু ভিজে যায় অসময়ে।

আমি তবুও তোমার কাছেই 
ক্ষান্তি খুঁজি, খুঁজি বেঁচে থাকার হাজারো কারন।
তোমার পাশেই থাকে তারা,
সীমানার ওপারে করছে জীবনযাপন।

দুঃসময় আজ তাদের, লেগেছে হৃদয়ে আঘাত
তারা আমার মতই মানুষ, তাদের জন্য হচ্ছে হোক হাজারো প্রতিবাদ।
তবে যুদ্ধ নয় শান্তি আসুক, থাকুক মনুষ্যত্ব,
ধর্মের রাজনীতি মুছে ফিরুক ভাতৃত্ব।

মোঃ নুরুল হক

সাম্য

মোরা সকলেই গাই সাম্যের গান।
সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা রাখে কি তার মান?
এপারেতে ভাংগে মসজিদ,ওপারেতে মন্দির।
সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা আছে কি সুস্থির?
'সাম্য' তা তো সবার 'শান'।
সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা কেন তাতে ফাটল ধরান ?
ভেঙো নাকো মন্দির আর মসজিদ
তাতে নষ্ট হয় যে সাম্যের রীত।
মোরা সকলেই গাই সাম্যের গান
আসো সকলে মিলে বজায় রাখি তার 'শান'।

দিপ্সি দে

১. বেলাশেষে

ভালোবাসি বলেই দহনের পোড়ামাটিতে লুকিয়ে,

আমার কৃতিত্ত্ব।

২.তবুও প্রেম

প্রতিমুহূর্তে প্রেমিকার হৃদয় রক্তাক্ত করে অকৃতজ্ঞ প্রেমিক।

অশ্বিনী কুমার মন্ডল

কালপুরুষ

তুমি ভেবে দেখেছো কি 
সহস্র আলোকবর্ষ দূরে
কিভাবে আলোকবর্তিকা
রুপে আজ ও তারারা
মহাবিশ্বের ঘূর্ণিপাকে ঘুরে? 

মহাকাশের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক
নাম তার কালপুরুষ 
কোমর বন্ধনী কটি দেশে
ঢাল-তলোয়ার হাতে 
দাঁড়িয়ে আছে শিকারীর বেশে। 

কালপুরুষ আজ ও আকাশে
নিদ্রাহীন প্রহরীর মতো, 
যেন সমগ্র মহাবিশ্বকে
বহিঃশত্রুর হাত থেকে 
রক্ষা করে চলেছে অবিরত। 

তুমার আকাশ জুড়ে 
আমি ও হব কালপুরুষ 
পাহারা দেব অষ্ট প্রহর 
তারপর কোনো একদিন 
পঞ্চভূতে হইব বিলীন। 

যেভাবে মহাশূন্যে লক্ষ লক্ষ 
জ্যোতিষ্কের মৃত্যু ঘটে 
কোনো কৃষ্ণগহ্বরের মাঝে
আমিও মরতে চাই তোমারি কাছে
কোনো এক সকাল-দুপুর বা সাঁঝে।

অঞ্জনা বসু

উৎসব শেষে 

সব রঙ ফিকে হয়ে আসে

তার রেশটুকু লেগে থাকে নির্বাক চোখে,

আলো আঁধারিতে ডুবে যায় ক্ষণ

দূরে ঢাকের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসে ,

এত আয়োজন কত আড়ম্বর আলো মুখরিত ঝলমলে শহর দু'দিনের তরে ......

উমা ফিরে গেছে কৈলাসে বাপের ঘর ছেড়ে নিজবাসে ৷

সহাস্য আননে এসেছিল উমা ফিরেছে মলিন বেশে ,

আজো নারীদেহ হয় ছিন্নভিন্ন

প্রভেদ থাকেনা মানুষ দেবতায় 

হাত উঠে অক্লেশে ,

নিষ্ঠুরতার সীমা হয়েছে লঙ্ঘন

ক্ষত বিক্ষত উমা প্রতি ঘরে রেখে গেছে তার নিদর্শন ৷

উদ্বেলিত মন কেবলই জিজ্ঞাসে,

কেন আস মা , ধর্মের পরাকাষ্ঠে ভরা এই দেশে ? 

এদেশে দেবতা বলে তুমি ও পাবে না ছাড় ,এরা ধর্মভীরু ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের করে বিচার৷


আসছে বছর আবার এস মা ...

ক্ষমা ক'রে দিও এই নির্বোধ অর্বাচীনে ৷

উৎসব শেষে আলোহীন শহর জেগে থাকে নিদারুণ অপমানে ৷

প্রসন্ন দাস

রাজ্যের মান রাজার জ্ঞান

রাজ্য চালাইতে হইলে রাজার মতন ।

রাজনীতি শাস্ত্র জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান অর্থবিজ্ঞান জ্ঞান চন্দ্রকলা।

দর্শন শাস্ত্রে জ্ঞানী রাজার দিব্য চক্ষু খোলা।।

লজিকের ম্যাজিক বিদ্যা বিচারের কালে।

মিথ্যাবাদী অপরাধী ধরা পড়ে জালে।।

হেন গুণের অধিকারী যে রাজা হয়।

রাম রাজ্য গড়ে ওঠে পূর্ণিমার আলোয়।।

ফুটে উঠে সবার মুখে হাসির জোয়ার।

রাজা প্রজা থাকে সুখে আনন্দে অপার।।

রাজার সুখে প্রজা সুখী প্রজার সুখে রাজা।

রাজাকে দেবতা জ্ঞানে করে সবে পূজা।।

ধনধান্যে পরিপূর্ণ থাকে রাজপাট।

চুরি হিংসা যায় দূরে বসে চাঁদের হাট।।

শান্তির বাতাস বহে সর্ব রাজ্যময়।

সেই রাজা যথা যাবে সর্বত্র বিজয়।।

ঈশ্বরের কৃপা থাকে তাহার উপর।

হিংসায় জ্বলিয়া মরে পাপী বর্বর।।

প্রসন্ন বলে হেন রাজা যেই দেশে হয়।

কলির কালে সত্যযুগের আবির্ভাব হয়।।

প্রসেনজীৎ সাহা

 আর কত হবো উমা 

 এবার সাজবো শ‍্যামা

কেঁদে কেঁদে স্বামীর ঘরে ফিরলো উমা।

এবার অশুভ ধ্বংস করতে আসছে আমার শ‍্যামা।

রূপে তুই কৃষ্ণ বর্ণা।

তোর চোখে যেন ধ্বংস লীলা।

মারে তুই কোথায় পাস এত শক্তি।

অশুভ বিনাশে ধারণ করিস ধ্বংসের মূর্তি।

মারে তোর হাতের খর্গ টা একবার দিবি।

নিজের জন‍্য করবো এবার লড়াই।

নারীদের উপর অত‍্যাচার যে আর হয় না সহ‍্য।

এবার শাস্তি দেবো মারে তোর মতো।

আর থাকতে চাইনা হয়ে উমা।

এবার সাজবো যে আমি শ‍্যামা।

অভ্রজিৎ দেবনাথ

জেগে উঠো

চুপ করে থাকার দিন শেষ

মিছিমিছি এতদিন নীরবতার মিছিলে

এসে প্রেমিকা হারিয়েছি।

সন্ধ্যা নামলে ভয়ে ফুটপাতে জমে

রাত বিরাতের সাধনা।

এ সভ্যতার গলিতে পেয়েছি পবিত্র মধুশালা

আর অযাচিত তৃষ্ণা,

অভাব জলকামানের।


প্রচলিত পথে রক্তের সমুদ্র

নিখোঁজ হয়েছে প্রতিবাদ,

এক শতাব্দী পর ভেঙেছে ঘুম

বিফল স্বপ্নে আবৃত মন নিয়ে

ছটফট করে খুঁজি,

একটু অন্ধকার।

যেখানে লুকিয়ে কাপুরুষেরা

নিজেকে ভাবে ক্ষুদিরাম।

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ

পাখিবিদ্যা

কবির ইচ্ছে হয় কবিতাদের উড়িয়ে দিতে আকাশে
বাতাসের মতো পাখি হয়ে উড়ুক তারা ঘুরে ঘুরে। 
তিনি যখন কোনও অনুষ্ঠানে জিজ্ঞেস করেন 
তোমরা কি পাখিদের উড়তে দেখেছো কখনও? 
আমাদের সারিবদ্ধ দাঁতেরা বিদ্রুপ- মিছিল করে। 
কবি যখন রাষ্ট্রবিরোধী  কথা লেখেন কবিতার শরীরে, 
নির্বাসিত গরাদের অন্ধকারে  নিঃশব্দে বসে
চিতাবাঘের মতো জ্বলে ওঠে তাঁর চোখের আগুন ...
গলার নীল শিরা ফুলিয়ে চিৎকার করেন নন্দন চত্বরে 
কবিতা একটি ভীষণ চেনাজানা পাখির সহজ উড়ান।
পৃথিবীর সমস্ত শান্তিকামী ভোরের সঙ্গে দেখা হয় তাদের...
আমরা ভীষণ ভীড়ের পথেও কেউবা কবিকে চিনে নিই...
যদিও মানুষেরা জানে না শরীরেরই অব্যক্ত নাম মৃত্তিকা, 
মাটির মতোই শরীর খুঁড়লেও হুশহুশ রঙিন জল বেরোয়...
পাখিরা এইসব বিদ্যা-জলে স্নান করতে জানে, 
ভেজা পালকে ঠোঁটে সোনার রঙ মাখে...
কবি কাঁদতে কাঁদতে লিখতে থাকেন মোবাইল স্ক্রিনে...
মানুষ এসব নির্ঝর স্নানজল নিঃসৃত রঙের কথা জানলো না, 
হায়,তাই মানুষ কখনও পাখি হতেও পারলো না ...

বিক্রমজিৎ সাহা

ক্ষয়িষ্ণু

'সময়ের সাথে মানুষ পরিবর্তন হয়।'

ঠিক বলেছ কিন্তু বন্ধুত্ব

শুনেছি 'বন্ধুত্ব'পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক।

তেমন কিছু তো চাইনি

দরকারে একটু সময় দেওয়া।

এতটাই ব্যস্ত তুমি বন্ধু

দ্বারে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।

কথা দিয়ে ভুলে যাও

কাউকে কথা দিয়ে ছিলে।

সময়ের সাথে কেউ পরিবর্তিত

হয় না বন্ধু

তোমার কাছে হারিয়েছি গুরুত্ব।

তুমি কর্মচঞ্চল 'ব্যস্ত' বন্ধু

অনেক এগিয়ে যাও-অনেক বড় হও

এ বন্ধু কর্মহীন কবি

কবিতা নিয়ে বেশ;

ভেবো না সময়ে বদলে যাবো,

দুহাত মেলে রেখেছি বন্ধুত্ব।

প্রেমজিৎ সিংহ

বাংলা আমার মা

পৃথিবীতে আছে কত খন্ডিত পর্ব,

তাহার মাঝে বাংলা মোদের গর্ব।


হোক সে ভাষা, হোক তব জাতি,

থাকে অবশ্য বিশেষ খ্যাতি।


ভাষাতে আছে চলিত ও সাধু,

মনে হয় শুনিলে খাইতেছি মধু।


বাংলা ভাষা আমাদের অতি মূল্যবান,

মায়ের ভালোবাসায় হইলাম আমি পুণ্যবান।


বাংলা মায়ের চরণে রাখি হে সন্মান,

বাংলায় মুগ্ধিত আমি চির - প্রবাহমান।


একবার পাঠ করিও বাংলায় একটি ছন্দ,

বাক্য হারালে করিও সমানে দ্বন্দ।


মায়ের পুষ্পের গন্ধ মুগ্ধ করে কানন,

মায়ের বিপদে হয়ে যায় আমরাও দশানন।


বাংলা আমার মা আমার ভালোবাসা,

এই ভাষায় কোলাহল কত মানুষের আশা।


মায়ের বুকেতে শহীদ কত জীবন্ত প্রাণ,

তাদেরকেই বলে বীর ও মহান।


শ্রদ্ধা জানাই সেই বীর পুরুষদের,

তাহারাই দিয়েছে স্বাধীনতা আমাদের,


ছড়িয়ে দিয়েছে তারা বাংলাকে চারিদিক ,

সেটিই মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

Oct 22, 2021

শান্তনু মজুমদার

প্রেম পত্র

আমি হাত বাড়াই, কত রঙিন স্বপ্ন দেখি,
তোমায় নিয়ে একটা সুখ সংসার ভাবি।
আমি আয়নায় নিজেকে পাই তোমার পাশে,
তোমায় নিয়ে জীবন পথ চলার কথা ভাবি।
আমি কবিতা লিখি শুধু তোমায় নিয়ে;
তোমার প্রতিটি স্পর্শে শুধু নিজেকে ভাবি।
আমি আমার প্রেমাকাশে শুধু তোমায় খুঁজি;
তোমার হাতটা চাই, দেবে, সুখ সংসার ভাবি।

রঞ্জিৎ কুমার পড়িয়া

কলমের অনুভূতি 

কবিতা আমার উদাস দুপুর 

শান্ত বিকেল বেলা,

কবিতা আমার কল্পনার মাঝে

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

কবিতা আমার সহে যাতনা

বিরহের বোঝা বয়,

সুখের সোহাগ ভরিয়ে দিলেই

শ্রুতি মধুর হয়।

কবিতা আমার প্রতিবাদ জানে

বিদ্রোহ করে প্রায়,

ওই জ্বলামুখির নিভলে আগুন -

অগাধ আনন্দ বিলায়।

কবিতা আমার বাস্তববাদী -

কখনো আপোষমুখি,

কবিতা জানে শ্রদ্ধা সহিষ্ণুতা

সহেনা সে বুজরুকি।

কবিতা আমার সুদূর গগনে

ইচ্ছেতে মেলে ডানা,

কলম পেয়েছে বাক স্বাধীনতা 

শোনেনা কারুর মানা।।

সুচিত্রা দাস

পিছুটান

হেমন্তের পরে শীত 

হিসাব  করা রোদ্দুর।

মিষ্টি  খেজুরের রস

পিঠে পুলি পায়েস।

স্বপ্ন  জোড়া মন

গ্লিসারিন মাখা পা।


জেব্রা  ক্রশিং ধরে রাস্তা পারাবার 

ট্যাক্সি থামে ক্র্যাচ্ করে

প্রায়শই ঘটে।


মাটির টানে মাটির ভালোবাসা 

নীড়ে ফেরা পাখির গুঞ্জরণ

গোধূলির আমন্ত্রণে

হোক্ না কলেবর 

শিকড়ের টানে ঘরে ফেরা।।

সৌরভ দাস

মানবতা 

"আমরা একবিংশ শতকের অদ্ভুত মানবজাতী ভাই,

এখানে মধু খাওয়া ভুলে সবাই গিলতে চান ছাই, 

সকলে মানব জীবনের সম্ভাসন পেয়েছি ঠিকই

তবু মনে হয় জীবন অতৃপ্ততার এক বিরাট অভিজ্ঞতা নিয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো, 

যাদের পেটে একবেলা ভাত জোটে না, 

সে ধর্ম রক্ষক হয়ে দাউ ধরেছে দুই হাতে, 

যে ছেলেটা বেকার হয়ে দিকভ্রান্ত

অথচ তার মস্তিষ্কেই ধর্ম রক্ষার প্রস্তাব এসেছে, 

মন্দির কিংবা মসজিদ একটা ঘর মাত্র

কিন্তু ধর্ম রক্ষক কখনো দূষিত হলে

ঈশ্বর রবেন কোন ঘরে? 

তোমার ধর্ম যাই হোক বন্ধু

মানবতা রেখো সবার উপরে"।।

কল্যাণ দাস

স্বপ্নে দেখা চাঁদ

এটা শুধুই স্বপ্ন ছিল,

গল্প অনেক অল্প ছিল,

স্বপ্নে ছিল একটি সুখের নীড়,

বাইরে ছিল তারা ভরা রাত,

আর জোনাকির ভিড়।

আমি জলছবিতে রং মেশাতে

    ব্যস্ত আপন মনে,

পূর্ণিমা চাঁদ দিচ্ছে উঁকি

খোলা জানালার পানে

অদূরে ছিল জল ভরা দিঘি

চাঁদের জোছনা মাখা,

সেই জোছনায় সহসা যে পাই

আরেক চাঁদের দেখা।

তার কল্কা পাড়ের নীল শাড়ি

আর আলতা রাঙানো পায়,

সে যে কলস কাঁখে জল ভরিতে

ঐ দিঘিতে যায়।

মেঘ রঙ চুল বাঁধা ছিল তার

রঙিন জরির ফিতায়,

হাতের কাঁকন পায়ের নূপুর

বাড়ায় শোভা তায়।

তার রূপের ঝলক লাগায় চমক

      আমার হৃদয় টায়,

তাই কল্পনার ঐ জলছবিটা

পূর্ণতা যে পায়।

বিধান সাহা

স্বপ্ন বিচরণ 

জানতাম না মোটে
জানার কথাও নয়

তাই তো এগিয়ে
গিয়েছিলাম একাই
আগু পিছু না ভেবে
নিজের মতো করে
পথ খুঁজে নিয়েছিলাম

তারপর একে একে
পরিচিত গণ্ডী ছাড়িয়ে
চলেছিলাম আমি
দূর অজানার পথে
আকাশ মাটির
নিপুণ নিশানা ধরে

অভিজ্ঞতার পরিধি
তেমন ছিল না
আমার জানার সাপেক্ষে
জীবন যাপনের
স্বপ্ন বিচরণে .....

পিঙ্কু চন্দ

জল রেখা

বুকের ভেতর ছটফট করে মানুষ
আকাশে মেঘের বিষাদ মুখ
নির্জন পথ হাঁটে উদ্ভ্রান্ত সময়
 মন্ত্রণা কক্ষে জ্বলে কুটিল আলো

লিখি তবু অনুর্বর মাটির কথা
ঘাসের বুকে শিশিরের মগ্নতা
লিখি নির্মম মরুময়তার ভেতর
সময়ের এক ক্ষীণ জলধারা

পাহাড় থেকে নেমে আসে নদী
চপল যৌবন বালার কটাক্ষে
এক অলীক সুখের কাব্য কথা
রাতের জ্যোৎস্নায় ঝরে মুগ্ধ স্বর

মেঘের ডানায়  শোকের সন্তাপ
বৃষ্টিতে ঝরে হৃদয়ের অনুতাপ
মানুষের ব্যস্ততাই বলে দিচ্ছে
কতটা সুখী আমাদের সংসার।

শুকনো শিরিষ পাতার মতো স্বপ্ন
বেলা বয়ে কেবল কালবেলায়
 মরুর বুকে , ক্যাকটাস খুঁজে
 মাটির গভীরে জল রেখা।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)

হৃদয় ক্ষরণ শেষে

কত শত বছর সাধনা শেষে 

সম্প্রীতির সেতু হয়েছে নির্মাণ,  

সেতু ভেঙে টুকরো করেছে 

দুপারে তার অবস্থান।।

ক্ষত বেয়ে রক্ত ঝরে কত

চোরা ভালোবাসা আজও অম্লান,

একস্থানে তার বসবাস আর 

অন‍্যখানে অধিষ্ঠান।।

গগনচুম্বী সীমানা পাহারায় 

দেয়াল তুলে দেয় শুধু,

হৃদয় ভাঙা মিছিল এগোয়

থামাতে পারে না তবু।।

ওই মিছিলে পদচারীদের

হৃদয় থাকে সীমানার পারে,

অনুভবে আর যাপন বেলায় 

ভালোবাসা বয় ফল্গু হয়ে।।

অস্ত্র পারে নি স্তব্ধ করতে

ক্ষমতার বড়াই শক্ত করে ভিত,

যত চেপে ধরে, ততই উদ্গীরণ

একতার সুর জোরে গায় গীত।।

সেই গীত ছড়িয়ে পড়েছে 

জলে স্থলে অন্তরীক্ষে,

বিবেক আবেগ একসাথে আজ

ক্ষত হৃদয়ের বিজয়া দেখেছে।।

পংকজ কান্তি মালাকার

পঁচাত্তর বছর আগের মতো

পঁচাত্তর বছর আগের মতোই-

শিশু বালিকাটির ফেটে যাওয়া

অনর্গল রক্তধারায় ও দশবীরের বীর্যের রসায়নে

নিথর যোনিতে সভ্যতা হাবুডুবু,


পঁচাত্তর বছর আগেও একইরকম কোজাগরীতে 

বসতপুড়া গ্রামপুড়া আলোয় দেখেছিল-

জীবন ছিল ধানের ক্ষেতের গভীরে আশ্রিত

আর এক পাও এগোয়নি সভ্যতা,


পঁচাত্তর বছর আগের মতোই-

একটা বার্তা দেওয়া গেল ভারতকে

সভ্যতা অসভ্যতার সংঘর্ষ রুখে দাও

নইলে জিম্মিদের কুচলে দেওয়া হবে,

সভ্যতা এখনো মধ্যযুগ ফুঁড়ে উঠতে পারেনি।

সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী

গদ্য

মেঘের কান্না দেখে বিভ্রান্ত 

কী করে মৃত্যুর ইমেইল বহন করে,

কান্নার স্বরলিপি নেই

গাম্ভীর্য মুখোশ পরে নাগরিক কোলাহলে জীবন চলে।


খুচরো রোদ জানে আহত স্বপ্ন হ‍্যাঙারে ঝুলিয়ে দিলে মেঘলা দিন ভিড় করে

চেনা অক্ষরগুলো নিরুদ্দেশের শব্দে রূপান্তরিত হয়

আমি আর জীবন যত সামনে এগিয়ে যাই মাঝে দাঁড়িয়ে যায় গভীর জলপ্রপাত।

অন‍্যের চোখে বুনো ভোরে নিজেকে অবহেলিত দেখি

 পাহাড় থেকে ঈশ্বর বেরিয়ে এসে ইঙ্গিত দেয়

প্রতিটি মৃত্যু গদ্যের জলছবি।।

তাপস দত্ত

বোকা বাক্স

নীল বোকা বাক্সে খামটা

হয়েছে বন্দী 

যত ততপরতায় খোলা চোখে দেখে নিয়েছি

সমবেদনার বাজারে হাজারো ভাষা

তবু অন্তরালে করেছি সন্ধি

সময়ের কল্যানে ব্যতিব্যস্ত

জীবন....

আগুনের ছোঁয়ায় রক্তের শিহরণ

মধ্যাহ্নের হেলানিতে সন্দিপন ছড়ায়

বিষন্নতার আবেশে বোকা বাক্সে মৃত্যু খুঁজে বেড়ায়।

বিধর্না মজুমদার

মৃত চিঠি    

মনের দুয়ারে হাজারটা চিঠি আনাগোনা করে, 

তবুও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না! 

প্রত্যেকটি চিঠি কিছু বলে যেতে আসে। 

কিন্তু শোনার লোকের অনেক অভাব, 

অপেক্ষারত চিঠিগুলো অবিকল মায়ের মতো। 

যে মাকে বছর কয়েক আগে তাড়িয়ে দেওয়া হয়

চিঠিগুলো সন্তানদের ডাক পাঠায়, 

আমি মৃত সজ্জায় লুটিয়ে পরে আছি! 

পিওনরা বারবার মায়ের সন্তানদের খোঁজ করে। 

কেউ সাড়া দেয় না বলে, 

চিঠিগুলি পুনরায় পোস্ট অফিসে ফিরে যায়। 

অবশেষে বৃদ্ধ মা কাতরাতে কাতরাতে প্রাণ হারায়।। 

কল্যানী ভট্টাচার্য্য

দেশমাতা কাঁদছে কেবল

দেশমাতা কাঁদছে কেবল

থেমে গেছে তাঁর জীবনের গতি, 

দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। 

জীবন আজ স্তব্ধ

আমি দেখতে পাচ্ছি, 

বড়লোক শুধু হচ্ছে বড়লোক

আর মরছে ভাতে গরীব লোক। 

নীতির বদলে নীতি চলছে

জনগন তো তাই বলছে। 

আমি দেখতে পাচ্ছি

দেশের সম্পদ বিদেশ পাচার, 

জনগনের উপর অত্যাচার। 

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি

মানবতার আড়াআড়ি। 

আমি বন্য পশুদের তান্ডব দেখেনি, 

আমি নরপশুদের হিংস্রতা দেখেছি। 

আমি অস্তিত্বের ক্রন্দন দেখেনি, 

আমি বাঁচার আকুতি দেখেছি। 

ভারত মায়ের সন্তান মোরা

সর্বহারা আজও আমরা। 

দেশমাতা কাঁদছে কেবল

আমরা হবো কবে সবল।

প্রীতম দাশ

কেন?

অন্যায় বেড়েই চলেছে,
নেই কোন প্রতিবাদ।
মানুষ আজ কেন নীরবে রয়েছে?
পাপীরা  করছে পাপাবাদ।

সম্মানহানি হচ্ছে নারী জাতির,
হচ্ছে গণধর্ষণ।
পবিত্র সে গঙ্গা নদীর,
পানিতে আজ দূষণ।

ন্যায়ের পথে হাটতে গিয়ে,
মিলছে অন্ধকার।
অন্যায়কারীদের অন্যায়ে,
পাচ্ছে লাভের দ্বার।

মহামানবদের বাণী আজ,
তুচ্ছ করতে ব্রতী।
বেড়ে যাচ্ছে পাপ কাজ,
নেই যে প্রতিবাদী।

লুপ্ত হচ্ছে আজ ন্যায়,
কেউ কি তোমরা জানো?
মনুষত্ব হচ্ছে-ব্যয়,
আওয়াজ নেই কেন?

Oct 21, 2021

সন্দীপ কুমার পণ্ডা

সকালে উঠে যখন যাই বই পড়তে

তক্ষুনি অবুঝ মনখানি চলে যায় খেলা করতে।

চলে যায় ঘরের ছোট্টো গণ্ডি ছাড়িয়ে,

চলে যায় সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে।

পৌছে যাব আমি রূপকথার দেশে,

খেলা করব আমি রাজকুমারের বেশে।

রূপকথার দেশে আমি করব খেলা,

খেলা করতে করতে কেটে যাবে সারাবেলা।

পড়তে হবে না কঠিন পড়া,

আমার কাজ হবে শুধু খেলা করা।

হঠাৎ, শুনতে পাই মায়ের বকুনি,

আর বাবা আসেন লাঠি হাতে তক্ষুনি।

যখন মা খুলেন অঙ্কের খাতা,

দেখতে পান পড়ে আছে সাদা পাতা। 

তার দেখেই মা হন রেগেই আগুন,

দুম,দাম করে মারেন যতক্ষনা আমি হই পড়া বেগুন।

হায় রে! আমার অবুঝ মন,

কেন ছুটে বেড়াস সারা বন।

গৌতম ভৌমিক

 না পাওয়া ভালোবাসা 

কোন এক দূর দূরান্ত অগোছালো পথের ধারে আমি আজ তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। দেখছি, সময় কি এখনো দাঁড়িয়ে আছে নাকি তার নিজস্ব গতিপথ ধরে কলম্বাস হতে গ্যালিলিওর যুগে বিচরণ করছে। আমি এখনও দেখছি কত লোক সেই পথের ধারে এসে দেখছে,

হয়তো আমার দু একটি চুল পাকা ধরেছে 

হয়তো আমার গায়ের রং তামাটে হয়েছে 

হয়তো আমার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়েছে 

একজন অবাক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে 

হয়তো সে ভাবছে আমি পথের ধারে এখনও আছি!

হয়তো সে ভাবছে 

কী! দুঃখ আমি জীবনে পেয়েছি

কী! ব্যথা আমি জীবনে পেয়েছি 

কিন্তু একজন ও আমার কাছে এসে 

দু একবার কথা বলেনি 

এতটি বসন্ত কেন আমি এখানে বসে আছি 

আমার চিৎকার তখনও কেউ শুনতে চায়নি।

স্বপন দেবনাথ

আবার  আসছিস তো মা?

আবার  আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,

যেখানে তোর মমতাময়ী রূপকে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। 

আবার  আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,

যেখানে মানুষরূপী নর পিশাচ গুলো তোর মূর্তি ভেঙেছে। 

আবার  আসছিস তো মা ? সেই জায়গায় ,

রুদ্র চন্ডী রূপে, ভয়ংকরী কালরাত্রি রূপে, 

সেই নরপিশাচগুলোকে বধ করতে। 

আবার  আসছিস তো মা ? সেই  দেশে ,

যে দেশে নারীদের কোনো সন্মান নেই। 

আবার  আসছিস তো মা ? সেই দেশে ,

যে দেশে হিন্দু জাতির কোনো অধিকার নেই। 

আবার  আসছিস তো মা ? সেই  দেশে ,

 তান্ডব লীলা দেখিয়ে পাপের বিনাশ করতে। 

মা, এই বছর তোকে আর আনন্দ করে বিদায় দিতে পারলাম না। 

বুকে গেঁথে আছে এক রাশ বুক ভরা বেদনা।।

Oct 20, 2021

সম্রাট শীল

প্রশমক

প্রতিশোধে জন্ম নেয়

এক নতুন প্রতিশোধের বীজ,

রক্ত বীজের স্বরূপ।

আঘাতে আঘাত সৃষ্টি।

শুধু শুধু গোলক ধাঁধায়,

জন্ম নেবে এক নতুন অনাসৃষ্টি।।

শেষ হবেনা তার শাখা-প্রশাখা,

দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পরবে নিমিষেই।

উত্তপ্ত হবে চারিপাশ,

বিশ্বের ঘরে ঘরে বইবে,

শুধু প্রতিশোধের লাভা।

থামবে না তার হুংকার,

গন্ধ ছড়াবে এক নতুন আঘাতের‌।

হিংস্রতার প্রতিশোধের ঢিল,

পৃথিবীর বুকে সজোরে আঘাত করে,

ছড়াবে তরঙ্গের ভাষা।

সংক্রমিত করবে এক এক হৃদয়।

যে হৃদয়ে শুধু জ্বলবে প্রতিহিংসার আগুন।

আর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,

সুষ্ঠু পরিকল্পনায়।

সুজন দেবনাথ

অমানবিকতার যুদ্ধ

মান হুঁস নিয়েই আমরা মানুষ,
কিন্তু সেই অদৃশ্য মুখ্য বিষয়টা
কতটা আমাদের মধ্যে বিদ্যমান
ঠিক সেই জায়গায় আজ প্রশ্নচিহ্ন!
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন
স্বযত্নে উনার মতো করে,
কিন্তু সবকিছু হাতে পেয়ে আমরা
আজ জগৎ চালাই নিজের মতো করে।
যার হাতে এই মহান সৃষ্টি--
যিনি এই গোটা বিশ্বের পরিচালক,
তাকে আজও দেখিনি কখনো
সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমতার বড়াই দেখাতে।
অথচ তুচ্ছ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও
আমরা আজ হুংকারে বিশ্ব কাঁপাই।
মানুষের তরেই মানুষ আমরা
আজ ভুলে গেছি সকলে।
স্বার্থ লোভে আজ মগ্ন আমরা
আমাদের মনুষত্ব জলাঞ্জলী!
আমরা আজ ব্যস্ত যার যার শ্রেষ্ঠত্ব লাভে।
আর সেই লাভের লোভেই নিত্য চলে
জাতির মাঝে বজ্জাতি আর
অমানবিকতার যুদ্ধ।……

সুরমা আকতার

ভ্রমণ সাথী

ভ্রমণের রাস্তাটা আজ আমার সাথী।

ইচ্ছেটা আজ বেসামাল,

দূর দূরান্ত পারি দেওয়ার।

স্বপ্নটাও বিশাল,

বলতে পারি আকাশ ছোঁয়া।

এই একলা জীবনে তুই শুধু সাথী,

যেখানেই যাই তুই পিছু নিস অনবরত,

দ্রুতগতিতে তোর সাথে সারা দেয়,

সারিবদ্ধ গাছপালারাও।

আপন কেউ থাকুক আর নাইবা থাকুক,

তুই ছিলি সর্বদাই সঙ্গ।

হৃদয়ে আনন্দ জাগ্রত হয়,

যখন দ্রুত গতিতে তুই পিছু নিস আমার সাথে।

ভ্রমণ সাথী হয়ে ছুটছিস দেশ-দেশান্তরে।

চলতি গাড়ির পিছনে এতটাই ছুটছিস,

যেন আমি হারিয়ে যাচ্ছি তেপান্তরে।

আমার একলা জীবনের সাথী তুই,

সর্বদা থাকিস আমার পাশে।

ভ্রমণের সাথী হয়ে দেশান্তর পারি দিচ্ছি,

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নগুলো তোর সাথে পারি দিচ্ছি।

রূপালী মান্না

অভিনব

ঘুমের ঘোরে , অন্ধকারে

হাতরাও তুমি শিশুটাকে ।

সতর্ক ও সাবধান হয়ে

আগলে রাখো প্রতিপদে ।।


বছর দুয়ের শিশু যখন

যমের সাথে লড়লো  লড়াই ।

আই.সি.ইউর দ্বারে তখন,

ছিলে তুমি পাগলপারা ।।


স্বপ্ন তোমার হবেই পূরণ

সন্তান তোমার ডাক্তার হবে।

হাজার হাজার মা-ছেলেকে

অভিনব জীবন দেবে।।

Oct 19, 2021

মনচলি চক্রবর্তী

অন্নের সংস্থান 

গরীব ঘরের এক সাধারন বধু আমি

জীবনের সব অভাবেও থাকে মুখে হাসি। 

হাতে শাখা পলা সিঁদুর পরনে ছাপা শাড়ি 

দিন রাত শুধু জীবন যুদ্ধই করি।

বাড়ির বাগানেতেই  অনেক  বাঁশের গাছ

তা দিয়েই করি আমি  নানারকম কাজ। 

নিমিষেই শেষ করি হাতের এসব কাজ

বাঁশ দিয়ে বানাই কত কুলা, মাদুর ফুলদানি, ঝুড়ি। 

এসব  জিনিসের নেইকো কোন জুড়ি

তা দিয়েই সংসারের অন্নের সংস্থান করি।

আমিনুল ইসলাম

আহ্বান 

পৃথিবীতে চাইনা আমি হিংসা বিদ্বেষ, 

চাই এক মুঠো ভালোবাসা।

যে ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকবে ভাতৃত্বের বন্ধন,

যেখানে থাকবে মানবতার আহরণ।

চারিদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে, 

আর আর্তনাদ শুনে মন আমার কাঁদে,

কিন্তু ওই বর্বর তোরা কেন বুজিস না, 

তোদের কেন থাকেনা মনে এরাও মানুষ।

নিজের ধর্মের নামে অন্য ধর্মকে ক্ষুন্ন করা 

কে শিখিয়েছে তোদের, আসলে তোরা বর্বর গোষ্ঠী

 এটাই তোদের আসল পরিচয়।

মনে রাখবি উপরওয়ালা ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।

কবে বুজবি তোরা তোদের বানানো হয়েছে রাজনীতির তুরুপের তাস।

তোদের নিয়ে খেলবে ওরা কাজ শেষে ফেলবে ছুঁড়ে।

এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে রক্তের নিত্য নাটের খেলা করিস না।

ভালোবাসা ভুলে আর হিংসা ছড়াবি না।

তোরা বলিস তোদের দেশ গণতন্ত্র,

আসল গণতন্ত্র কাকে বলে দেখে যা ভারতে এসে,

দেখতে পাবি শান্তি সম্প্রীতির বার্তা,

দেখবি মানুষের মনে ভালোবাসায় ভরা,

এখানে নেই কোন জাতপাত নেই কোন হিংসা,

একে বলে গণতন্ত্র, একে বলে মানবতা।

রাহুল দেবনাথ

ঝামেলাহীন ছেলেবেলা

ফেলে আসা স্মৃতিগুলো, 
কাগজের নৌকায় ভাসমান।
চল না ঘুরে আসি! 
স্বপ্নে গড়া ছেলেবেলায়।
না আছে দুঃখ না আছে চিন্তা,
শুধু মজা আর মজা।
নারিকেল পাতার ঘড়িটাও বেশ ছিল।
সময়ের কোন দৌর ছিল না।
জলভাত কবিতার মতো, 
সহজ সরল ঝামেলাহীন।
না ছিল ফেসবুক মাধ্যম,
নাইবা ছিল হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস।
রাস্তায় সাজানো ট্রামলাইন মতো
সোজা যত হিসেব নিকেষ।
ছিল না এতো জীবন নাটকের মহড়া 
পা চলতি এ মানব সমুদ্রে।
মাতলো তর‌ঙ্গে মেতে থাকতাম,
ফিরে না যাওয়া ছেলেবেলায়।

সপ্তশ্রী কর্মকার

বারুদ

সংযম ভাবনা সব নিয়ে বসি যখন একা,

কামনা করি,

নিশিপদ্ম ঝরে পড়ুক দুজনার প্রতি বসন্তে। 


যে প্রেমিকের মৌনতা বলে দেয়

পৃথিবীর গর্ভে বারুদের জন্ম দিতে চায়।


সেখানে যৌনতার নিয়মের বেড়াজালে

তারা খসে পড়ার আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন দেখে না।


বলে চাওয়া পাওয়ার,

হিসেব বাকি ব্রাত্য ভুবনে 

তবে কেন অবাধ তাড়া বাঁধা হবে এই জীবনে?


ছন্ন জীবনের ছেঁড়া বেহালার তারে 

সুর তুলবে স্নিগ্ধ 'অনুপম' , 

অঘোর ঝড়ে তখন লিখবো ভালোবাসার কথা।

সংগীত শীল

ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক

ধর্মের নামে রাজত্ব খাটানো মূর্খবাসী,

তোমাদের মধ্যে মানবিকতার নেই কোনো চাবিকাঠি;

হিংস্রতা বর্বরতার জন্য কলুসিত বিশ্ব

কি করে দাবি করো নিজেদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ? 


ওরে বোকা মানুষকে ভালোবাসো

ভগবান মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস রাখো।

যার দোহাই দিয়ে লুটপাট করছো

এতে কি ভালো হবে মনে করছো!


এবার ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ বন্ধ করো,

মানুষ হয়ে উন্নত মানসিকতা সৃষ্টি করো।

সমরজিৎ গোস্বামী

ব্যক্ত প্রেম

চাঁদনী রাতের মুগ্ধ ছায়ায়, 

ভাসছি আমি মনের হাওয়ায় l

দিচ্ছে ডাক, ভাসছে মেঘ, 

মনে বড়োই উঠছে আবেগ!

রক্তে রাঙা হাঁসির ছায়া 

তোর চোখেতে মধুর মায়া!

তোর হাঁসিতে হাসতে চাই, 

ঐ চোখের মায়ায় ভাসতে চাই l

তোর সেই কাজল কালো চুলের ভাঁজ, 

বন্ধ করে আমার কাজ!

আমার মনেতে আবেগ জাগায়, 

তোকে ও কি তা স্বপ্নে দেখায়? 

অন্ধকার-ও আলো বুঝি, 

তোকেই শুধু স্বপ্নে খুঁজি l

মনের কথা মন-ই জানে, 

কে জানে সে কি যে মানে!

একটি কথাই বলতে চাই, 

তোর মনেতে ঠাই চাই!

কাজী নিনারা বেগম

গোঙানি

শেষ মধাহ্নে নিস্তব্ধ গোধূলির রক্তিম সুরুজ ,,

আজ  বর্নহীন নীল দীগন্তের বুনো হাঁস গুলো ,,

আজ পথ ভ্রষ্ট! 


অধরা লালিত্যে অবরূদ্ধ দুয়ার খুলিল,,

সিক্ত কাঠ গোলাপের পাপড়ির মতো খসে পড়ছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রনয়।। 

এক  অব্যক্ত যন্ত্রনায়  তীব্র ও নিস্তেজ  বোবা  গোঙানি,,

উষ্ণ আদর ও পবিত্র ভালোবাসার  আলিঙ্গনে ভরেছে আঙিনায়,,

সুভাষিত হাসনেহেনা! 


ভালো  বাসার  হাটের আনাচে কানাচে ইচ্ছেরা আজ পন্য,,

দরদাম কষাকষিতে মগ্ন ভালোবাসার উষ্ণ বোবা চাদর,,

হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে ইচ্ছের ঘুড়ির নাটাই সূতোঁগুলো কেটে জীবনকে উপড়ে ফেলেছে মৃত্যুর যন্ত্রণায়।।

সুস্মিতা পাল

শুনছিস কি মা

শুনছিস কি মা ? ‌আজ এই বাংলার দুর্দিনে ,

কি বা বলবো রে মা দুঃখের কথা আর কি ইবা লিখবো ।

বলতে গেলে বাকরুদ্দ হয়ে যাচ্ছি বারংবার ,

আর,‌লিখতে গেলে যে থমকে যাচ্ছি বারংবার ।

এসেছিলি তো মা মর্ত ধামে ছেলে মেয়ে নিয়ে,

ভেবেছিলি তিন চারটে দিন থাকবি বড় আনন্দ উল্লাসে ।

কিন্তু মানুষ রুপি কিছু অশিক্ষিত নর পিশাচ ‌থাকতে দিলো কই?

অষ্টমীতেই হলো যে মা তোর বিসর্জন ।

ক্ষমা করিস মা ,

‌পারলো না যে তোর সন্তানরা তোকে রক্ষা করতে ।

তবুও ‌শুনতে পাচ্ছিস কি মা ?তোর সন্তানদের সেই আর্তক্রন্দন?

তোর সন্তানরা তো ‌ভেবেছিল ঠিক ই তোকে বিদায় বেলায় রাঙাবে যে মা সিঁদুর খেলায় ।

কিন্তু এর আগেই সেই সিঁদুর যে রক্তের খেলায় মেতে উঠবে,‌ কে ইবা জানে রে মা বল !

শুনতে পাচ্ছিস কি মা,

‌আমরা তো তোর উল্লাসে ব্রত হতে চেয়েছিলাম রে মা ‌কিন্তু ব্রত হতে দিলো কই ?

তুই তো মা রক্তাক্ত দেহে কষ্ট পেয়ে চলে গেছিস ঠিক ই কৈলাসে

কিন্তু তুই তো মা সব ই জানিস ,

তোর ধরা ধামের বাংলার সন্তান যে এখনো প্লাবিত হচ্ছে সেই রক্তের দাঙ্গা সাগরে ।

শুনতে কি পাচ্ছিস মা তোর সন্তানদের সেই গহন হাহাকার ?

দেখতে পাচ্ছিস কি মা তাদের অশ্রু ধারা?

আজ তোর সন্তান যে বড় অসহায়,‌মানুষ রুপি কিছু নর পিশাচ দের অত্যাচারে ।

কিন্তু তুই তো মা চলে গেছিস , 

তবে আবারও যে তোকে আসতে হবেই এই বাংলার ধরা তে তোর সন্তানদের রক্ষার্থে ।

‌তবে হে আর উমা রূপে আসিস না মা

এবার আসলে ছিন্ন মস্তা রূপে আসিস মা

তোর সন্তানরা অপেক্ষায় আছে যে ‌ওই দুয়ার পানে তে চেয়ে 

আসবে যে মা কালের দমনে রন চন্ডিকা রূপে নিজ সন্তানদের রক্ষার্থে ।

টিংকু(মামন)নন্দী।

এক পলকের কথা

বেদনাবিধুর কাব্যগাথা আমার অগোছালো কবিতা,

আলোহীন নিরবতায় জীবন বন্তির শেষ শলিতা।

আমি তুষ্ট ওতেই; তাও মানবতার রশ্মি দিকবিদিকে ছড়িয়ে যাক,

বন্ধুত্বের পিঞ্জারাই নিখুঁত সৌহার্দ্যর ভালোবাসায় থাক।

স্মৃতির পটে ভাস্কর হতে যে খোঁজে,

নীরবতার মাঝে চুপকথার গল্প সে বুঝে।

নিঃস্ব নিরব বন্ধনে সম্পর্কগুলো দিগন্ত ঘেঁষে,

বালি মাখা নদী ও একদিন স্রোতধারায় বাসে।

Oct 18, 2021

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

নিরীহ সে

সে সহে,
সে রহে।
সে অল্পতেই খুশি হয়ে যায়,
তাই সুখ তাকে ডেকে বলে আরে ভাই। 
সে ঠাকুর আছে জানে,
তাই সমস্ত ধর্মকে শ্রদ্ধার সাথে মানে।
সে অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্য করে,
তাই লোকেদের মুখে তার জন্য আশীর্বাদ ঝরে ঝরে পরে।
সে মনে কোনো লোভ, অহংকার রাখে নাই,
তাই দুঃখকে সঙ্গে নিয়েও দুর্গম পথে হাসিমুখে হেঁটে হেঁটে যায়।
সে নিরীহ, সে অসহায়,সে দরিদ্র, সে সয়েছে, 
তাই তার জীবনের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে। 
সে সমস্ত ব্যাথা-বেদনা সহ্য করে,
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে মরে।

লিটন শব্দকর

উৎসব

যে কথাগুলি শুনে তুমি ভাঙন দেখো চোখে

আমি চুপটি করেই থাকি এখন সেসব দেখে।


সাইকেলে বেড়োতে মনে করি ডারউইনকে

হাকডাক জারি রাখি এ মনে সে মনে কাগজ


আমার এবং আমাদেরও হৃদয়ে বিশ্বাস আছে

অনেক উৎসবের বাস

আছে তেরোটি পার্বণ আর বারোটি মাস।

দেবদাস কুণ্ডু

দেবীমুখ

আমি একটা মুখ খুঁজছি

খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি অনেক দূর

একটা মুখে আত্মহত্যার হাতছানি 
একটা মুখে অপমানের অগ্নিশিখা
একটা মুখে অত্যাচারের কালো মেঘ
একটা মুখে পড়ন্ত যৌবনের নিভন্ত আলো
একটা মুখে মৃত ভালবাসার শুকনো নদী
একটা মুখ শরীর বিনিময়ে শিয়ালদহ
লোকালের বিবর্ন জানালায়
একটা মুখে খিদে মরুভূমির উঢ
একটা মুখে জ্যোৎস্না মাখা কান্নার বৃষ্টি
একটা মুখে নারীভ্র্ন হ্ত্যায় অশোকের মুখ
একটা মুখে ধর্যনের নিকষ অন্ধকার।
একটা অন্য মুখ খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছি
অনেক দূর।শহর নগর গ্রাম পার করে
দাঁড়িয়ে আছি সীমান্তের শেষে
এবার কি আমাকে কাঁটাতার পার করতে হবে?

আলমগীর কবীর

জীবনের গতিপথ 

তুমি কি দেখেছো পর্বতমালা থেকে কিভাবে একটা বড় পাথর কণা ভাসতে ভাসতে ছোট নদীতে এসে পড়ে।
ভাসতে ভাসতে আবার আরেকটি বড় নদীতে।  
সে গড়াতে গড়াতে তার দেহকে ক্ষয় করে নিজেকে অনেক পরিবর্তিত করে নেয়। 
ধিরে ধিরে তার দেহের আকৃতি ক্ষয় হতে হতে একটি গোলাকার, মসৃণ, ছোট বালুকণায় পরিণত হয়।
সব শেষে ঠিক সে তার গন্তব্যে পৌঁছে যায় সমুদ্রে

লালন চাঁদ

উৎসব

ইচ্ছেগুলো উড়িয়ে দিই হাওয়ায়
পেঁজা তুলোর মতো উড়ে যায় সারি সারি মেঘ 
স্বপ্ন নেই 
মায়া নেই 
মন ময়ূরীর শাদা পালকে ভাসে সোহাগ মাখা ক্লান্ত দুপুর।।

দুঃখগুলো হাওয়া হয়ে উড়ে যায় 
দুঃখের ভেলায় ভাসে প্রতিদিন নির্বেদ অবহেলা 
আমরা অনাথ 
খেলাঘরে স্বপ্ন আঁকি
ঘুমন্ত পৃথিবীর শরীর জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বেআব্রু গন্ধের সহবাস ।।

তবু আবির রাঙা রোদে হাত বাড়াই 
জেগে ওঠে আমার আঠারোর সোনা রোদ বিদিশা
তার খোঁপায় নগ্ন হাওয়া 
ঘর্মাক্ত সুবাস
আমি আকাশের ছায়া হয়ে হারিয়ে যাই শৈশবের পুরোনো কলতলায় ।।

ফিরে আসি দুঃস্বপ্নের নষ্টনীড়ে 
পোয়াতি ধানক্ষেতে কৈশোরের শিশির মাখা কথকতা 
ছায়া ছায়া পাথর 
পাথর গলানো মরুতৃষা 
আমরা কেবল গার্ড। সারাদিন পাথর ভাঙি দুফোঁটা রক্তের বিনিময়ে ।।

ঝড় আসছে 
ভাঙছে আকাশ। ভাঙছে পৃথিবী 
গা খুলে জলে নামি। ডুবুরি হই। তুলে আনি দুঃখ 
হাতের তালুতে চাপ চাপ দুঃখ প্রতিদিন জন্মদিনের ফুল হয়ে ফোটে ।।

সিদ্ধেশ্বর হাটুই

স্বাধীনতা

কুয়োর মধ্যে ছিলো ব্যাং

ডাঙায় আনলাম তুলে,

থমকে গিয়ে তাকিয়ে দেখে

গলাটা গেল ফুলে।

কাছুটা সময় ভাবল ব্যাং

কোথায় এলাম আমি

চারিদিকে দেখে অনেক জায়গা

মনে মনে ভাবে- 'কুয়োর চেয়ে দামি।'

এই ভেবে সে লাফিয়ে চলে

এ ডোবা থেকে ঐ পুকুর,

জীবনটা তার সুন্দর হলো

আহা কি মজা ভরপুর ।

ব্যাং পেল তার মুক্তির স্বাদ

দেখল নতুন পৃথিবী,

চাইনা আমি বদ্ধ জীবন

থাকনা নিজ হাতে স্বাধীনতার চাবি।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

সম্ভ্রান্ত,তোমাকে স্যালুট

তোমার সামনে অসহায় মাথা ঝুঁকিয়ে আছে

তোমাকে অসহায় প্রণিপাত করছে -

বিষয়টা বহুৎ পুরোণো

কিছুটা শ্বাসরোধী ধোঁয়া

কিছুটা জট পাকানো অহঙ্কারের মতো


অসহায় লোকগুলো মাথা ঝুঁকিয়ে আছে

ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো একটু আধটু নড়া চড়া করছে


তোমাকে লোকগুলো প্রণিপাত করছে

ওদের সামনেই সেই স্যালুট স্যালুট রাস্তাটা ধরে

জুতোর খুরে ধূলো উড়াতে উড়াতে

তুমি নিশ্চিতই হেঁটে যাচ্ছো শিরোপাবিহীন পতনের দিকে!

অভিজিৎ দত্ত

কন‍্যাদান

যদি যোগ্য পাত্রে পিতা
কন‍্যাকে না করেন দান 
তাহলে পিতার জীবন হয়
বিষের সমান ।

কন‍্যা হলেন রত্ন 
তাকে করতে হবে যত্ন
তবেই কন‍্যার আশা হবে পূরণ
ভবিষ্যতে কন‍্যাই হবে পুত্রের সমান।

কন্যাদান বড়ো অদ্ভুত প্রথা
আজ একবিংশ শতাব্দীতে
এ কী অদ্ভুত তামাশা?
কন্যারা যোগ্যতায় পুরুষদের সমান
তবে কন্যাদের কেন করা হবে দান?

কন্যা নিজের পছন্দমতো
বেছে নেবে পাএ
অভিভাবকরাও কন্যাকে 
সাথ দেবে প্রতিনিয়ত।
কন্যারা গড়তে পারে    
নিজের ভবিষ্যৎ
যদি আমরা তাদের জোগায়
আত্মবিশ্বাস ও সাহস।

রবিন কুমার দাস

বাংলা ভাষা - আলো আশা

A, B, C, D শিখেছি মা বাংলা শেখার পরে
অ,আ,ক,খ শেখা সে তো তোমার-ই হাত ধরে ,
মুখে- মুখে শিখিয়েছিলে কবিগুরুর ছড়া
বি-এ, এম-এ পাশ করে মা সাঙ্গ করি পড়া ।


বাংলা আমায় শিখিয়ে তুমি করনিকো ভুল
প্রতিবাদের ভাষা শেখায় বিদ্রোহী নজরুল ,
সুকান্ত কে পড়তে দিলে একটু মনে কর
জন্মদিনে হাতে দিয়ে বললে তুমি পড়  ।


পাতায়- পাতায় আগুন ঝরায় প্রতিবাদের ভাষা
যুদ্ধ শেষে প্রিয়তমার কাছে ফেরার আশা,
পড়তে-পড়তে হারিয়েগেছি বাংলা ভাষার কাছে
বাংলা শুধু শিখিনি মা ইংরিজিও আছে ।


বলতে লিখতে শিখেছি মা শুধুই বাংলা নয়
ইংরিজিটা  বলতে এখন হয়না মোটেও ভয়,
অনেক ভাষাই বলতে পারি এখন অনায়াসে
জার্মানি ও ফ্রেঞ্চ ভাষাতো ঠোঁটের ওপর ভাসে।


ভাবছ তুমি তোমার খোকা শিখল কেমন করে
ভাগ্যি তুমি শিখিয়েছিলে বাংলাটা হাত ধরে,
বাংলা যদি না শেখাতে ধরতে পারি বাজি
আমার কাছে "টেগোর " হতো শুধুই ইংরাজি !

প্রীতম চক্রবর্তী

অবৈধ সন্তান

বুকের পাঁজর কাঁপানো চিৎকার,
আর ক্ষুধায় কাতর প্রাণ।
হৃদয় মাঝে হিল্লোল তুলে
নিস্পাপীর অভিমান।

কখনো পথের আস্তাকুঁড়ে,
পড়ে থাকে নব প্রাণ।
কখনো বা জঙ্গলে কাঁদে
অবৈধ সন্তান।

দেখেছো কি তুমি সভ্য সমাজ?
শিশুটির মুখখান,
উদর হতে নিস্কাশিত করে যারে,
মা পেয়েছে ত্রাণ।

পুরুষ নারীর উন্মত্ততা
রেখেছে কলঙ্কের ছাপ।
এদের পাপে নিস্পাপী শিশু,
পেয়েছে অবৈধ শিশু নাম।

সমাজ একে মানেনি কভু,
ঠেলে দিয়েছে হোমে।
বহু কষ্টে বড় হলেও
পরিচিত সে অবৈধ শিশু নামে।

নেই তার কোনো পরিচয়,
অজানা মাতা-পিতার নাম।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে
অবৈধ সন্তান।

সুদীপ্তা চৌধুরী

ভালো আছো তো

দিনের অন্তগমনে;
রাতের শুভারম্ভ!
স্নিগ্ধ আকাশে আচমকা -
মেঘের ঘনঘটা সেই সাথে বৃষ্টিধারা!
সুখের মধ্যাগমনে আচমকা;
দুঃখের কালো ছায়া!
.......
কেটেছে অনেকগুলো বছর।
আঁধার হয়েছে, করেনি ইচ্ছে আলো জ্বালাতে
তোমার মতো কেউ রাখে না আজ -
আমার খেয়াল।
বিছানার পাশের বালিশটা শূন্য।
কতো বছর তোমায় হয় না ছোঁয়া!
ফাঁকি দিয়ে একাই চলে গেলে।
ঐ পাড়ে-
ভালো আছো তো!
আমি তুমিবিহীন নেই যে ভালো।
আমার শূন্য হৃদয়,জীবনযাত্রা,
অনুভূতি, আঁখি;
খুঁজে ফিরে শুধুই তুমি!

মানস দেব

পাগলিটাও মা হবে

 পাগলিটাও মা হবে !
 ভাবলে ভীষণ অবাক লাগে ।
 সভ্য সমাজের চাঁদের আলোয়
 এ যে গ্রহণ দোষ লাগে ।

 মানব রুপী নর - খাদক গুলো
 ঘুরছে এদিক-ওদিক ধর্মের ষাঁড়ের মতো ।
 ভালো-মন্দের পরোয়া না করে
 উদগ্র বাসনা মিটাতে যে শশ ব্যস্ত !

 অবোধ নারী বোঝেনা গর্ভধারণ জ্বালা
 মানুষ দেখলেই পেতে রয় হাত দু'খানা ।
 ক্ষুধার জ্বালায় আশু সন্তান
 পেটের ভিতরে যে হানা ।

 কি দোষ ছিলো অবোধ  পাগলীর জীবনে ?
 নারীদেহের উন্মাদনা দেখায় নি তো কাউকে  !
 তবু কেন ভোগের দাসী হলো সে ?
 মুখোশধারী নর - সিংহদের শাস্তি দেবে কে  ?

চন্দন শীট

জিতেছি হারিয়ে

কেন আজ দুঃখ করো 
পড়ে থাকো স্মৃতির পিছে পিছে 
যা গেছে যাক যেতে দিও
ভুলে যেও কালের সাথে সাথে ।

যে তোমাকে মেরেছে কিল
পিছু ধরোনা তার কাজে কখনো
তোমাকে বোঝেনি সে
যোগ্য ছিলনা সে তোমার জন্য । 

যে তোমাতে অনেক ভিন্ন 
নাহয় তোমার থেকে থাকে পিছিয়ে 
তবু তাকে খুবই ভালবাসো
সদাই সাম্যের গান গেয়ে ।

কিসে তুমি এতো রাগ করো
নাহয় তোমার কিছু নিয়েছে কেড়ে
ক্ষমা করে দিও তাদের উপর 
সব বিচার বিধির উপর ছেড়ে ।

পাপিয়া দাস

ছোটবেলা 

ছোটবেলা বেশ ভালোই ছিল,

বন্ধুবান্ধবীর সঙ্গে  শুধু  মজার    মজার  খেলা।

সহ‍্য করতে হতো না কোনো রকম অশান্তি,

কোনো রকম ঝামেলা।


ছোটবেলাকে বইয়ের পৃষ্টার মতো উল্টে

পৌঁছে  গেছি যৌবনের পাতায়।

নিজের কাঁধের উপর দায়িত্বে  টলমল

ভাবি যদি একটু ভুল যেন না হয়

সংসারের এই পাতায়।


মা-বাবা,ভাই-বোন,ননদ-দেওর

কারোর প্রতি যেন না হয় অবহেলা।

দায়িত্ব  আর কর্তব‍্য‍ পালনে

যেন না হয় আমার  কোনোরকম হেলা।


ছোটো ছোটো গুটিগুটি পায়ে

 হাটতে গিয়ে যে পড়ে  যেত যে মেয়ে,

আজ সে অনেক কিছু শিখছে

সে আমার  মেয়ে।

সেও ছোট বেলাকে আস্তে আস্তে হারিয়ে  ফেলছে।

সময়ের সিঁড়ি  পেরিয়ে।


ছোটবেলার  ছোটসাথী

শুধু খেলাখেলি।

বড় হলে পরে,

থাকেনা মজার  দিনগুলি।

পূজা মজুমদার

পাবো কি পাবোনা

এই যে শুনতে পাচ্ছো আমার শহরে বৃষ্টি হচ্ছে,

বৃষ্টি হলেই তোমায় পেতে মন চায়, 

মুসলধারার স্রোতে তোমায় নিজের করে নিতে মন চায়,

বুকের গহনে তপ্ত চাওয়াকে তোমার তনুতে মিলিয়ে নিতে মন চায়, 

একবার তোমাতে হারিয়ে যেতে মন চায়, 

কাছের সুরে ডাকতে মন চায়,

ভরা বাদলে তোমার বাহুদয়ে নিজেকে লুকিয়ে নিতে মন চায়।

 বাইরের সমাজের তকমা না করে দুজন দুজনায় মিশে যেতে চাই।

একটিবার তোমায় নিজের করতে মন চায়,,,

পরশমনির স্পর্শে জ্বলতে মন চায়।

অনামিকা দও

প্রণয় প্রয়ান

চেয়েছিলে মুক্তি,

দাওনি কেন যুক্তি?

ছেড়ে যদি দেবেই হাত ,

তবে  দিলে কেন মিথ্যে অজুহাত?

থাকবো বলে জানান দিয়ে,

মিথ্যে বলে পালিয়ে গেলে?

চাইছো যখন অন্যকে,

আসছি বলে জানান দিলাম তোমাকে!

প্রয়াস আজ থমকে গেছে,

রাতের আধাঁরের কাছে!

স্মরণে আজ দিনগুলো,

পাইনি আমি স্মৃতিগুলো।।

একটু করে ক্ষত যখন মলম ছাড়াই সারে,

ওরা ভালোবাসার নামে 'মরা' মানুষ মারে।।

প্রতীক হালদার

ছাত্রজীবন 

যে জীবনটা সবচেয়ে সুখের 

শিক্ষা যে হয় শুরু,

যে জীবনের হাতেখড়ি তে 

পাই যে শিক্ষা গুরু ।


যে জীবনে আলোর পথে 

চলতে শুরু করা,

যে জীবনে শিক্ষা শুরু 

করি লেখাপড়া ।


পুঁথিগত বিদ্যা সাথেই 

জীবন গড়ার কাজ,

যে জীবনটা ফিরে পেতে 

চাই যে সবাই আজ ।


ছাত্রজীবন বড়ই মধুর 

বিবেক- চেতনা- ধ্যান,

জাগ্রত হয় একে একে 

শ্রদ্ধা -ভক্তি- জ্ঞান ।

নীতা কবি মুখার্জী

আকাশ তুমি

আকাশের কাছে শিক্ষা নাও কতো উদার হওয়া যায়

সুদূর নীলাকাশ দেখেই মানুষ কতো কিছু ভেবে পায়।


পাখিদের সুখ-বিচরণ ক্ষেত্র ওগো নীলাকাশ তুমি

মেঘ-সখাদের বুকে ধরে রাখো, তুমি আশ্রয়ভূমি।


রামধনু যেন তোমার প্রিয়া মিষ্টি আলিঙ্গনে

তাকে দেখে কতো কথা ভাবি আর জাল বুনি মনে মনে।


নতুন সূর্য বুকে ধরে যেন বলে,  ওঠো এই বার

সূয্যিমামার উদয় হয়েছে, তুমি ঘুমায়ো না আর।


মধ্য-দুপুরে আকাশ দেখলে চোখ যে ঝলসে ওঠে

এইবার খানিক বিশ্রাম নাও, বেরিও না যেন মোটে।


সমুদ্রপারে যেখানে আকাশ মিশে দিগন্তরেখায়

প্রেমিক-প্রেমিকা তাই দেখে মিলে অনন্ত-তন্দ্রায়।


জ্যোৎস্না মাখা আকাশ যেন মোহময় স্বপ্নের দেশ

আকুল হিয়া ছুটে গিয়ে বলে থাকবো এখানে বেশ।


আকাশ, মাটি, সূর্য, তারা কতো অপরূপ দান

এদের কাছেই শিক্ষা নিয়ে গাই জীবনের গান।