Jan 25, 2022

সায়েম সাদাত

হিন্দু কলেজের ছাত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত(১৮২৪-১৮৭৩) ডিরোজিও কিংবা আর্চ ডিকন ডিয়ালটির প্ররোচনায় ক্রিশ্চান ধর্মে ধর্মান্তরীত হন নাই।পণ্ডিতগণ এ মর্মে দুটো কারণকে  উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেছেন: 


১.রেভারেণ্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুন্দরী কন্যা দেবকীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা।

২.ক্রিশ্চান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ড গমন করে কবি খ্যাতি লাভ করা।

দুটো কারণই ছিলো মধুসূদনের জীবনের সজীব স্বপ্ন।কিন্তু পূরণ হয়নি একটিও।নিজের আমিত্ববোধ কিংবা নিজ সিদ্ধান্তে অটল মনোভাবের কারণে পূরণ হয়নি প্রথম স্বপ্ন।কারণ পাওয়া না পাওয়ার হিসেবের চাইতে ব্যক্তি মধুসূদনের কাছে বড় ছিলো তার স্বকীয়তা।

মধুসূদন-দেবকী একজন অপরজনকে ভালোবাসতেন।ভালোবাসা তাঁদের কমতি ছিলো না।কৃষ্ণমোহনকে জানানো হলো।তিনি সম্মত হলেন।বিপত্তি অন্যত্র।মধুসূদন তখন মদ পান করতেন।কৃষ্ণমোহন তাঁকে মদ পান ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।মধুসূদন ছাড়েননি।বিয়েও হয়নি।

দ্বিতীয় কারণের মূলে আছে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের দমন-পীড়ন।মধুসূদনের প্রতিভার কমতি ছিলো না(সে কথা সবশেষে বলবো)।মূলত তিনি উপযুক্ত সুযোগ বা সহযোগিতার অভাবে ইংরেজি কাব্য সাহিত্যে সে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেননি।

ইংরেজরা বাঙালিদের প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়েছেন কিন্তু প্রতিভা অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা দিতে বরাবরই কুণ্ঠা বোধ করেছেন।দৃষ্টান্তস্বরূপ:কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুজন স্নাতকের অন্যতম একজন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।ব্রিটিশরা তাঁকে চাকুরী দিয়েছিলেন ঠিক কিন্তু পদন্নোতি দেন নাই।তার পূর্বে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেলাও তাই।

সকলে যা ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না মধুসূদন সেটিই ধারণ করেছেন।১৮৪৯ সালের ১৮ই অগাস্ট ইস্কুল জীবনের প্রিয় বন্ধু গৌরদাস বসাককে এক চিঠিতে তাঁর অধ্যয়নের নির্ঘণ্ট সম্পর্কে লেখেন,"সকাল ছটা থেকে আটটা পর্যন্ত হিব্রু,আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত স্কুল,বারোটা থেকে দুটো পর্যন্ত গ্রিক,দুটো থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তেলুগু,তারপর সংস্কৃত,সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত লাতিন,সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত ইংরেজি।"অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে,এই গভীর অধ্যয়নের কারণেই তিনি মহাকবি,বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি,সফল নাট্যকার,সফল সনেট রচয়িতা,গীতিকবিতার পথিকৃৎ।তিনি নবজাগরণের অগ্রদূত।তিনি কবি মানুষের কবি।কারণ তিনিই শিকল ভাঙলেন,দৃষ্টি ফেরালেন,দেবতা থেকে মানুষের অভিমুখে। 

তাঁকে নিয়ে সমালোচনা ঢ়ের।তারমধ্যে  ড.শ্রী সুকুমার সেনের বলেছেন,"দৃষ্টি যদি অন্তরের দিকে পড়িত,তাহা হইলে বোধ করি কাব্যকলায় তাঁহার সৃষ্টি আরও অবন্ধ্য হইত।তবুও তিনি যাহা করিয়াছেন তাহা যথেষ্ট।"

সত্যিই তো,তবুও তিনি যাহা করিয়াছেন তাহা যথেষ্ট!

মহাকবির জন্মদিন আজ।শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাঁকে


Jan 22, 2022

জ্যোতির্ময় রায়

মন হয়ে যাই

আলোকে পড়তে পার বলেই    
কোকিলকে শুনতে চাওয়া
শিমূলরঙিন বাতাসে 
উড়ে যায় তুলোটমন
বর্ষার আকাশে শরৎ সাদার খোঁজ
কিংবা নদীর শাড়িতে শ্যাওলাআঁচল দেখা

বিলাপের দেওয়াল ঘেঁষে রয়েছে
কত অনাশ্রয়ী প্রতিভাস 

নিরঞ্জন নিতান্তই কাগুজে ভালোবাসার ভাসান
খসে পড়া শৈশবপ্রেমে
জল পড়িল আর পাতা নড়িল 
যার উৎসে -
তার নাগাল মাথার উপরে 
আরো উচ্চে টগবগ 

সূর্য অস্ত যায় রোজ
তবু ধবধবে দিন  ঔদ্ধত্যের যোগান দেয়
ভোরপাখিকে ।
কালোকাক আর কালোপাখির 
বসন্ত ডাক
প্রশ্রয়ে রাখে জীবনের মসনদ 

বাউল চায় মন হয়ে যাই

অশোকানন্দ রায়বর্ধনক

বিপ্লবী        

গড়পড়তামানুষের স্বভাব নুয়ে চলা
একপাশে কাত বা হেলে থাকার দস্তুর বলে
খুব একটা কেউ ঝামেলায় যেতে চায়না
তাই পাশবালিশ নিয়েই ঘুমোতে পছন্দ করে মানুষ
কুকুরও কুন্ডলি পাকিয়ে ঘুমাতে অভ‍্যস্ত
তবে তাদের কোনো অবলম্বন লাগেনা বলে
তারা তেড়ে উঠতে ভয় পায়না । মানুষ শুধু
পাশবালিশের দিকেই ঘেঁষে আসতে জানে ।

তবু মাঝে মাঝে কেউ ফোঁস করে ওঠে ।
মানুষ বিদ্রোহী হলে মানুষেরাই সম্মান করে।
দেশের মাটিও তাকে ভালোবেসে বুকে টেনে নেয় ।
আবহমানকাল তারাই গান গায় আর শেকল ছেঁড়ে ।

তৈমুর খান

একটি নিজস্ব কবিতা 

তোমার কাজের মধ্যে আছি
তোমার আলোর মধ্যে আছি
আমার ক্ষতগুলি শুধু উপশম খোঁজে
বাইরের ভিড়ে যেতে চায় না কেউ আর
অনেক নষ্টের পর যেটুকু বেঁচে আছি
হৃদয় তাতেই বাঁধে ঘর

হয়তো বসন্ত নেই তবুতো কোথাও ঘ্রাণ আছে
স্মৃতির আয়নার পাশে হলুদ ডানার প্রজাপতি
শব্দে শব্দে গুঞ্জন ওঠে
চাক গড়ে উপলব্ধির মৌমাছি

মুখ দেখে নিই একান্ত নিজস্ব মুখখানি
হেসে ওঠো,যে হাসি ভোরের।  দৃশ্যে মিশে যায়
শরতের নিভৃত উল্লাসে নীলাকাশ হয়
তোমাকেই খুঁজে খুঁজে পাই কাকলি-কূজনে

সৌমিত বসু

স্বাধীনতা কোনো অসুখ নয়  

আজ স্বাধীনতার দিনে 
প্রতিক্রিয়াশীলদের মতো একবারও বলতে চাইনা আমার দেশ আজও স্বাধীন হয়নি।

একবারও বলতে পারবো না আমার দেশে বিরোধীদের মুখ সেলাই করে রাখা হয় গুনসূচ দিয়ে।
দেশজুড়ে নারীধর্ষনের কোনো বিচার হয়না ,বিচার হয়না টাকা নিয়ে বিদেশে উড়ে যাওয়া ভারতীয়র।

চেষ্টা করেও বলতে পারবোনা 
এখানে সমস্ত চাকরিই হয় উৎকোচের বিনিময়ে,কিংবা
সব সময় মেধার মূল্যায়ন হয় না।
শুধু আমি নই ,কেউই বলতে পারবে না এদেশের সমস্ত মানুষের গাড়ি বাড়ি সাম্রাজ্য এসেছে শুধুমাত্র রাজনীতি বেচে,
কিংবা বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎসের মাথায় হাতুড়ির বাড়ি মেরে ভবিতব্যের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়েছে সুবিধাবাদ একথাও কিন্তু বলা যাবে না।

বলা যাবেনা দেশের কোনো প্রান্তে রয়েছে কোনো ধর্মীয় অশান্তি ,মানুষের সৃষ্ট বন্যা কিংবা হাড়হিম করা অন্যকে পুড়িয়ে মারার মন্ত্র।

বিরোধীরা তো বলবেই তাই বলে
তাদের আঘাত না করে দরদাম করে
বুকে টেনে নেওয়াই তো মানবতা 
নদের নিমাই ,সন্ন্যাসী রাজাদের পথ,
দেশ তো সে পথে ই এগিয়ে চলেছে আজো।

মরে গেলেও কোনোদিন বলবো না 
হঠাৎ হঠাৎ করে ছেলেমেয়েদের হাত ধ'রে ফেলছে অন্ধকার 
ঘাড় ফিরিয়েও দেখতে পাচ্ছিনা নিরন্ন মানুষের পিছিয়ে পড়ার ছবি। 
আতিপাতি করেও খুঁজে পাচ্ছি না 
কারা কারা পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বাঁচে, সমুদ্রযাত্রার পরে ফিরে এসে কারা কারা হারিয়ে ফেলে নিজেদের বউ।

একবারও বলতে চাইনা আমাদের কোনো অসুখ রয়েছে, চাপা অসুখ ।
এমনকি আমরা ভুল করে কখনো কখনো শহীদদের কথা মনে করে চোখের জল ফেলি।একথাও বলতে পারবোনা কোনোদিন।

একটা কথাই বলতে চাই
এই যে কথা বলছি চিৎকার করে, নির্ভয়ে
তা শুধু তোমার জন্যই সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতা।

অপাংশু দেবনাথ

ভ্রমণ

যতদূর হেঁটে যাও ধানের গোছায় ভরে উঠে ক্ষেত,
যতদূর তাকিয়েছো হরিৎ হয়ে উঠেছে এই চরাচর।

বিহঙ্গ ডানা মেলে ওড়ে শুধু ছুঁতে পারেনা সময়ের মুখ।

হারাধন বৈরাগী

উজানমাছমারা রিজার্ভ ফরেস্ট-২২

উজানমাছমারা রিজার্ভ ফরেস্টের
গালিচায়
শুয়ে আছে একটি নিঃসঙ্গ বোতল
ধুনি জ্বলছে
মাক্ত‌ই পুড়ছে
আকাশ ঝুলে পড়েছে মাথার উপর!

অমলকান্তি চন্দ

বিষাদ

কথাগুলো বলতে বলতে
তুমি ঘুমিয়ে গেলে
এভাবে ঘুমানোর মধ্যে
তোমার শ্বাস যখন চলছিল
বিশ্বস্ত ইশারায়
আমি আগুন স্পর্শ করলাম।

আগুন স্পর্শ করলে
শুদ্ধ হয় দেহ
দীর্ঘ জরার ভেতর কাটানো সময়
আমার ক্ষণপ্রভা মগজ
পুড়তে থাকে নিরিবিলি।

তুমি তখনও জেগে উঠনি
কিছু অবয়ব ফিসফিস করে উঠল
চারিদিকে 
চুপসানো বিষাদ
পায়চারি করতে থাকল সারা ঘরময়।

এত অচেতন হলে
ঘুলই সংসার, বাঁকা চাঁদ
আর
তোমার নাকফুল
মলিন আঁচলের গিঁটে আটকা পরে 
কতকাল।

Jan 21, 2022

সঞ্জীব দে

আত্মক্ষরণের পঙক্তিমালা ( ৪০)

এক আকাশ রাত্রি ডেকে যারা ছাতা 
বানিয়েছিল একবুক ভরসা আর বিশ্বাসে 
জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে এতো নিগূঢ় 
অন্ধকারে সাঁতরে কেমন আছো? স্বজনেরা। 

বাইরের মোহিত সৌন্দর্যে মাকাল ফল 
দুই আঙ্গুলে ধরে কিনে এনেছিল যারা,
 তারা কি জেনেছে এবার 
ভিতরের বিষ! নাকি বুঝার আগেই মৃতপ্রায় 
কিংবা মাস্কের ভিতর মূর্ছনায় আবিষ্ট শোকে! 

গগনচুম্বী আশা গিলিয়ে, ভরসা ছিটিয়েছিল যারা 
উত্তর -দক্ষিণ -পুর্ব -পশ্চিমে  আঠারো থেকে আশি! 

লাফিয়ে লাফিয়ে স্বপ্ন ধরে যারা স্বপ্নে বিভোর 
অন্ধ বিশ্বাসে উজার করে ঢেলে দিয়েছিল সব বীর্য 

আজ আবার খুব ইচ্ছে করে জানতে 
কেমন আছো আমার ক্লান্ত স্বজনেরা! 

ক্ষুধা- বিরহ -ক্লান্তির শেষে মোহভঙ্গ হলে 
এসো আরেকবার মৃত্যুর ফটকে লাথি মেরে 
জীবনের পথ রচনা করি ---
যেখানে আর ক্ষুধা নিয়ে তামাশা নয় 
 অন্তত মেরুদণ্ড সোজা করে বাঁচা যায়......

Jan 20, 2022

খোকন সাহা

দিল্লী চলো

কী কাজ জীবনে
জীবনে জীবন ঢালি।
তবু রুদ্ধ কপাট খোলে ---
প্রাণের আগ্নেয় ঊষা, অসংখ্য বুকের মাঝে।
যেখানে প্রেমের মুক্তিসূর্য, জঠরের আগুনে পুড়তে পুড়তে
আসমুদ্র হিমাচলের ধমনীতে     ছুটে যায় ---
আর্তমুক, আর্তউন্মুখ, বজ্রমানুষের অন্তর্ঘ্রানে।

সেখানে,  এই পাখীতীর্থদিনে, বালক বালিকার হাত
রক্তাক্ত শিলালিপি, কাঁটাবধির পান্ডুলিপি খোলে।
খোলেঃ    অমৃতের প্লাবনে বিষের রেখা,
রক্তমাংসের শরীরকে কেটে    দু-ভাগ.. 
আমাদের প্রাণ-পরিচিতি (!), মায়ের চোখের জলের ধারা! 
যদিও  মাটির ঘ্রাণে পুড়ে আমাদের শরীর,
তোমাদের শুভেচ্ছা, আর নিষেধের বেড়াঘরি -- , তবু,' শকুনিরা খামচে ধরেছে 'স্বাধীনতার পতাকা।
নষ্ট ভ্রুণের মতো চিৎকার করে
দ্রোণাচার্যের নিমগ্ন পাঠ, নিষাদের নিসর্গসভায়।
ফিন্ কি   দিয়ে ওঠে   মানুষের কবিতা,
ক্ষমাহীন ক্ষমাসুন্দর  শব্দ শরবিদ্যা।

তবুও  মৌনমূর্তি গড়া যদি হয়
প্রতিবাদের দ্বিগুন ভাষা,
তবে নীলকন্ঠ ভারতের প্রাণ ---
প্রাণের পরাগ পাপড়িতে জ্বলে ওঠে --
গিরগিটি দুনিয়া ভেঙ্গে ফেলার
' দিল্লী চলো '  , ' দিল্লী চলো' র
রক্ত রৌদ্রের স্নান। 

তাপীব

তেঁতুল তলায় যাওয়া বারণ 

তেঁতুল তলায় যাওয়া বারণ,
ভরদুপুরে সন্ধ্যাবেলা।
ঠাম্মা বলত, ‘ওই প্রেত-কালাটা,
খল-স্বভাবে করবে খেলা’।

তবু কেন শেষ দুপুরে,
মাতাল নেশায় তেঁতুল খোঁজা;
একটা না হয় দিতেম তোকে,
বাকি বেবাক বাড়তি বোঝা।

ছিপ ফেলে সে পুকুর ধারে,
মাছের সাথে করতেম খেলা।
বিদ্ধ হুলে আদ্র-আবেগ,
বরাতজোরে নজর মেলা।।

ঘুম ভাঙ্গা সে সকালবেলা,
কাঁচা হাতে হলুদ উঠা;
চটক-চড়ুই সাক্ষী ছিল,
মনচিহ্নে বিয়োগ সাঁটা।

মাইরি, সে সবুজ শাড়ি-
তোর চোখেতেই জরিপ করা,
প্রথম প্রণয় হবে বোধহয়;
কিংবা খানিক সোহাগ ভরা।

দীর্ঘশ্বাসে জাজী-দ্রুম’র-
কেতুর চোখে পলক মেলা।
তেঁতুল তলায় যাওয়া বারণ,
ভরদুপুরে সন্ধ্যাবেলা।।

চন্দন পাল

মণীষা

জানি, 
তোমার আবির্ভাব 'আকাশ কুসুম'। 
নীলাম্বরে তারা হয়েছো অনেকদিন ।
তোমার কীর্তি  আর ভাল থাকার উপায়গুলি যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছিল, 
যাঁরা বিবেকের বাণী বয়ে ছিল, 
তাঁরা ছেড়ে গেছে একে একে।   

নগন্য যাঁরা আছে, 
তাঁরাও সবার কাছে যেতে পারেনা বলে,
বারবার মগজের কড়া নড়েনা বলে,
আমরাও এখন সব ভুলতে বসেছি। 

আবার শিখতেও পারিনা সব কিছু !
প্রাকৃতিক অপাকৃতিক অনটনের সাথে আছে অতিমারি-বিধি আর পাশ-ফেল নীতি ।
পরিকাঠামো, প্রতিযোগিতার কথা বাদই দিলাম।
'বড় যে হালে, ছোটও সে হালে'ই বাড়ছি।

তুমি যদিওবা আসো !
মনে রেখো, তোমার সামনে আমরা ইতিবাচক, 
আর পিছ্ দিলেই নেতিবাচক !
এ নিষ্ঠুর সত্যে তুমি চমকিত হইও না।

প্রতি বছর তোমার জন্মদিন আসে, আসে মৃত্যুদিনও। 
মঞ্চে মঞ্চে দৃঢ়তাহীন ভাষণ শুনি। 
কীর্তি যশ আর অনুসরণের গান শুনে শুনে, 
চকলেট হাতে গদগদ, বাড়ি ফিরে আসি।
ক্ষমা করো মণীষা, সশ্রদ্ধ প্রণাম নিও।

গোপাল চন্দ্র দাস

চাষী

আমি চাষী।

শরীরকে ক্ষেত বানিয়ে চাষ করি
ফসল ফলিয়ে দিন-কানাদের বিলাই--- হাতে-নাতে অর্জণ করে
তুমিও ধৃতরাষ্ট্রদের ‌যোগান দাও
কখন জানি চলে যাবে মহেন্দ্রক্ষণ!

জেনে বুঝেই বলছি
না হেঁটে,হাটে যাওয়া যায় না
না হাটলে পথের শুরু হয় না
যুগ যাবে না,সময় জলচল---।

বিয়োগে আবার শোক থাকে, সুখ নেই
বিয়োগ আমাকে স্বপ্ন-অপরাধী করে
ছন্দ অপরাধী করে
বরং যোগ এক গতির সঞ্চয়
যোগ ‌‌ব্যবসা নয়
জোড়া দেওয়া জনের সাথে মনের।

গুণ আমাকে অনেক সংখ্যায় ভয়মুক্ত করে
গুণ এক মুক্ত রক্তবীজ---
গুণ না জানলে জাগবে না গুন 
জাগবে না মাটি, ক্ষেত
গুনী কুশলী না হলে
ফসলের হিসেবের খাতায়---সব কুশক্ষেত।

মাটিতে কুশ হলে
বেঁচে থাকা দুঃসহ বিপন্ন।
ভাগ হয়ে যাবো
তুমি আমি সবাই

সুমনা রায়

ড্রিমক্যাচার

ড্রিমক্যাচার রেখেছি মাথার ওপর, ভয় নেই আর দুঃস্বপ্নের এবার শুধু ঘুমের অপেক্ষা।
নিশ্চিন্ত একটা ঘুম দিয়ে 
পেরিয়ে যেতে চাই ক্ষত- বিক্ষত রাতের অন্ধ গলি। 
প্রোটোকল আমি জানি না,
জানি না কতটা দূরত্বে গেলে  নিরাপদ হওয়া যায়। 
ট্রাক ড্রাইভাররা চলে যাবার পর ঘরে ফেরার পথে যে মেয়েটি পথে ছিটিয়ে যায় ভালোবাসা আর ঘৃণার এক অদ্ভুত মিশ্রণ - আমি কখনো পড়তে পারিনি তার 
জাদুট্র্যাঙ্কের গোটানো দলিল।

নিয়তি রায় বর্মন

সহজ মরণ

মহা সমস্যায় দেশ বিদেশ আলোড়িত
লিঙ্গভেদ জাতিভেদ বর্ণভেদ স্তুপাকৃত।

ভারত দেশটি নয়কো মোটেই শৃঙ্খলায় পূর্ণ
শাসক গোষ্ঠীর অহংকার আসতে যেতে চূর্ণ। 

মহাপুরুষের আবির্ভাবে সমাজ কম্পমান
বেথুন রামমোহন ঈশ্বরচন্দ্র রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মহান। 

সমাজ সংস্কারক রানি রাসমণি, তেজোদীপ্ত কাদম্বিনী
সমাজ শাসনে ধ্রুবতারা দেশ মাতার কন্যা গর্বিনী।

সারদা মায়ের  'খুকি' নিবেদিতা করেন জীবন পণ
জঞ্জাল সাফাই, স্ত্রী শিক্ষায় করলেন দৃষ্টান্ত স্থাপন।

দেশে তবু 'অনার কিলিং' সতীদাহ, দলিত দলন
সকল গরিবের বা৺চার চেয়ে যেন সহজ মরণ।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

আমি মানুষ, যেন নিষ্প্রভ তারা  

নিজের ভেতর কেন্নো-গুটি 
মগজে সার আর
কলম হাতে পথ চলা... 
এলোথেলো কথামালা  উঁকি দেয়
মাঝরাতে,  ফুলের সুভাস 
উবে যায় সকালের আলোয়--

মানুষের কবিতা  খোলা আকাশ জুড়ে---
আমি মানুষ, যেন নিষ্প্রভ তারা  !

সুজন দেবনাথ

হে বীর বীরেশ্বর সন্ন্যাসী

হে বীর বীরেশ্বর সন্ন্যাসী,
হে যুব শক্তির পথপ্রদর্শক,
হে যৌগর্ষী মহামানব,
হে মহাভারতের মহাজাগরণের অগ্রদূত,
বিশ্ব যুবনায়ক শ্রী শ্রী স্বামী বিবেকানন্দ।
তুমি পৃথিবীর বুকে যতদিন বেঁচেছিলে
শুধু উজার করে বিশ্বকে দিয়ে গেলে,
ইহজগতে অর্জিত তোমার সমস্ত জ্ঞান,
সমস্ত আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনা।

তুমি শুধু জীবে দয়া নয়-
শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের অন্যতম শির্ষ্য হয়ে
তুমি শিবজ্ঞানেই জীব সেবা করেছিলে।
সন্ন্যাসী হয়ে গোটা ভারতবর্ষ ভ্রমণ করে
তুমি জয় করেছিলে শিক্ষিত-অশিক্ষিত,
ধনী-দরিদ্র, রাজা-মহারাজা, ব্রাহ্মণ-চন্ডাল,
সমাজের সকল স্তরের মানুষের মন।
তুমিই লক্ষ্য করেছিলে অশিক্ষা-কুশিক্ষায়
কোথাও লোক ঠকানোর করুন দৃশ্য!
কোথাও বিস্মিত হয়েছিলে-
নারী নির্যাতনের প্রকৃত দৃশ্য দেখে!

তোমার সন্ন্যাস পথের স্বপথই
জ্ঞানের আলো দেখিয়ে-
মানুষের দুঃখ মোচন করেছিল।
সব ধর্মের প্রতি তোমার উদারপূর্ণ মনোভাবে
তুমিই ভারতকে বিশ্বের দ্বারে শ্রেষ্ঠত্বে বসিয়েছিলে।
হে যুগ নায়ক, হে পরমেশ্বর
তুমি অমর ছিলে,অমর আছো,অমর রবে-
এই জগতে মনুষ্য যতদিন রবে।
প্রার্থনা একটাই শুধু চিন্তা চেতনায় নয়
স্বশরীরেই বারংবার চাই তোমাকে।

শান্তনু ভট্টাচার্য

ধর্ষিতা মা 

সারা শরীরে খড়ি ফোটার মতো 
সুতীক্ষ্ণ নখের আঁচর 
স্তনে, যোনিতে, নাভিকুন্ড জুড়ে 
ক্ষুধার্ত দাঁতের হিংস্রতা 

তবু
ভোরের সূর্যরঙা করুনার আভা 
তোমার দুচোখ জুড়ে 
মা, 
আমার ধর্ষিতা...মা

মাথায় ঠেকিয়েছি বারবার- 
তোমার মাটি 
পুণ্য অবগাহনে হয়েছি সিক্ত 

মা--- মানে 
মাটি -ভাষা 
মা -মানে 
আমার দেশ।

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ

মৃত যে দেশ

সন্ধের কুয়াশাময় পৃথিবীর আকাশে একখানা পূর্ণিমাগামী চাঁদকে ঘিরে দু 'খন্ড মেঘ উড়ে যাচ্ছে। মেঘেদের মতো স্বাধীনতায় খোলা রাস্তায় যেতে নেই। এখনও হায়েনারা তেষ্টা মেটানোর জন্যে নক্ষত্রের জঙ্গলের তলায় ওৎ পেতে আছে। মৃত জোছনায় ওরা যোনিটিকে ঘিরে ঘিরে প্রেতোৎসবের নাচে উদ্দাম হবে। তবু এ 'দেশ আমার ক্যারোলের গানে, মাগরিবের আজানে খুঁজে বেড়ায় শুধু নাগরিক অধিকার ! এসবের মাঝখানে বুকের খাঁচায় তুমি চিতার আগুন আঁকো ফুলছাপ সালোয়ার পরা মেয়ে। প্রাণহীন একদল নাগরিক মোমবাতি মিছিলে গলার নীল শিরা ফুলিয়ে স্লোগান দিয়ে দিয়ে এগিয়ে যায় নরকের রাজদরবারে। এ'দেশের জঙ্গলে তৈরি হয় নকল মেঘে ঢাকা পিরামিড শ্রেণী। জং ধরা তারে সেতার বেঁধেছে ওরা বেসুরো স্বরগমে। প্রজাপতি মমির স্তুপে নাগরিক অধিকারের শেষতম পেরেকটি পুঁতে ফেলা হয় একসময়। এ সময় বিস্মরণের ... এ সময় দেশের মাটিকে ভুলে যাওয়ার... যেমন ক'রে একদিন জাতীয় পতাকায় অশোকচক্র এঁকেছিল এক মুসলমানি মেয়ে। আমরা মনে রাখি শুধু অধর্মের কথা। ভুলে যাই সুরাইয়া বদরুদ্দিন তায়াবজীর নাম। আসলে এবং নকলে আমরা একটি শুকিয়ে যাওয়া নদীপথ। আমাদের নাম আছে। সৌধ আছে। আছে চকমকি পাথরের নুড়ি। শুধু নেই প্রাণের ধারাটি...

সন্দীপক মল্লিক

বিবেকের বিন্যাসে 

বিবেকের বিন্যাসে ভুল, অন্যায় আর অবিচারের প্রসূন !
পল্লবিত পাপও  অবলীলায় চিত্তাকর্ষক !
সত্য, কল্যাণ  আর সুন্দর নিঃশেষণের বেদনায় !

বস্তু আর ইন্দ্রিয়ের সম্মিলনে  মানবিক সত্তার পতন। 
নূপুরপরা মাতৃচরণও  কষ্টের আলপনায় !
বেঁচে থাকার বেদনায় আড়ষ্ঠ পল্লবিত সবুজের সুধা !

ব্যথাতুর মননের শিল্পে  নিস্পন্দ প্রগতির শোভা।
আলো আর জ্যোতিহারা  দর্শনের আয়ু। 
বিনষ্টির বিপণিতে সজ্জিত পুণ্যহারা সারথি-সকাল !

প্রজ্ঞা ভট্টাচার্য্য

অভিমান

সেদিন ছিল এক অন্য বসন্ত----
তুমি আসবে এই আশায় কাটছিল প্রহর,
তুমি আসবে তাই গাছে ফুটে ছিল লাল গোলাপ
তোমার জন্য লিখেছিলাম অনেক গল্প গান কবিতা;
তুমি এলেনা দিলেনা ভালোবাসা ,
অপেক্ষায় তোমার বছর ঘুরলো আজ।
এখনো আশায় বেঁধে আছি ঘর;
তুমি এসো একদিন শ্রাবণের ঝড়ের মতো।।

রণদীপ সিংহ

জন্তু

এই সংসারে মিলে শান্তি 
এই সংসারে সুখ  ,
এই সংসারে দহন জ্বালা 
অনন্ত অসুখ  !

এখানেই  নায়ক  দেখি -
এখানে খলনায়ক,
এই সংসারে ভবঘুরে
ভিক্ষে করে গায়ক !

এখানে দেখি ঝলসে উঠে
শাসকের এাস,
ক্ষমতার ঝলকানি হেথায়
ব্যাথিতে র বিনাশ !
এই সংসার অনন্ত সুখের
দুস্তর পারাবার,
এই সংসারে মর্মরধ্বনি 
যন্ত্রনার হাহাকার!

এই পৃথিবী সুখের ফাগুন 
পূর্নিমার চাঁদ ,
এখানেই তো দুঃখ আগুন
ভীষণ আর্তনাদ !

এই সংসারে ভালোবাসা
বুকে জড়ানো মমতা ,
এই ভূবনে খুনীর কৃপান
নিত্য ঝলসায় ক্ষমতা!

এই মাটিতে শাজাহানের
হৃদ কাঁপানো প্রেম,
গোরস্তানে হাজারো মমতাজ
শায়িত রইলেন!

এই দুনিয়া সুখের সাগর
সুখের নাই অন্ত ,
মানুষ রুপী - মানুষেরা আজ
হয়েছে এখানে জন্তু !!

সাচীরাম মানিক

নির্ভীক বীর বিবেকানন্দ

নিপীড়িত মানবাত্মার মূর্ত প্রতীক
জাগ্রত যৌবনের ধ্বজাধারী হে বিবেকানন্দ,
ভারতের সঙ্কটময় তমসাচ্ছন্ন যুগসন্ধিক্ষণে
জীবন্মৃত জাতির আত্মশক্তি যোগাতে
মুক্তিপথের সন্ধানে আবির্ভূত হলে
হে নবজাগরনের সাহসি ৠত্বিক বীর সন্ন্যাসী।
তোমার পান্ডিত্য,অসাধারন ধী শক্তি,ধর্মীয় 
                                                 বিশ্লেষণ
আমাদের প্ররণা যোগায় ,
সাহিত্যেও তুমি ৠষি ; অমর সৃষ্টি তোমার--
ভাববার কথা,পরিব্রাজক,প্রাচ্যপাশ্চাত্য,
                                           বর্তমান ভারত ;
ধর্মেও তুমি--নতূন দিশার দিশারী
সর্বধর্মের সমন্বয় সাধনকারী হে বিবেকানন্দ
তুমি শূদ্রজাগরণের মধ্যেই--ভারতের উন্নতি,
জীবকে শিব জ্ঞানে সেবা করাই--ঈশ্বর সেবা,
গীতা পাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা --শ্রেয়,
সর্বোপরি----কর্মই ধর্ম,
এই ধর্মীয় আত্মস্থ দু:সাহসিক ব্যাখ্যা
শুধু তুমিই দিতে পারো
                 হে নির্ভীক বীর সন্ন্যাসী
তোমাকে আজও খুব প্রয়োজন
পুন: আবির্ভূত হও --হে বিবেকানন্দ,
এই ধর্মান্ধনুকরণ,এই বাড়বাড়ন্ত ধর্মীয়   
                                             অনুশাসন  
এই বিভেদ বিদ্বেষ হানাহানি কাপুরুষতা
দূর করো তোমার সম্মোহিনী বাক্ বন্দে
প্রকৃত মানুষ হবার মন্ত্রে
                দীক্ষিত করো আমাদের।

নন্দিতা দাশ চৌধুরী

আলোর দিশারী

রাতভর অশ্লীলতার মাত্রাহীন নৃত্যে যখন বিশ্ব কাঁপছিল ,
মরুতৃষায় থুকা থুকা অন্ধকার  সভ্যতার কাছে জাতি ধর্মের প্রশ্নের ঝড়,
ঘাতকের অত্যাচারে শব্দের  লাস,
অমাবস্যার  নিস্তব্ধতায়  ক্লান্ত  বিশ্বে একটা দু'টো দীপ জ্বলছে ,
ধীরে  ধীরে অন্ধকারের হাতছানি বিস্তৃত,
দরজার  কপাট ফাঁক করে তুমি রণসাজে সজ্জিত  হলে,
দগ্ধ ডানায় আঁধারের  বুক চিরে এলে ভুঁইচাপার দেশে ,
 হাড়ের মালা সরিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে ছিলে পবিত্র ত্রিবেনীবারি,
এনেছিলে  শাশ্বত নতুন  দিগন্ত  ছুঁয়ে গাঙ্গেয় প্রশান্তি, 
হে আলোর দিশারী, আজও বিশ্ব রাস্তায় দৃষ্টি  বিছিয়ে,
প্রতিনিয়ত আলোর  প্রতীক্ষা চলছে ---চলবে।

রুদ্র মোস্তফা

নরক ভাঙার দায় 

আমি তো নীরব রয়েছি নিঃশ্বাস চেপে
যারা ছুটেছে শব্দের পিছু পিছু প্রতিবাদ করে
তাদের ধুলোয় কেন তবে  গড়াগড়ি খায় 
আমার নীরবতা? 
আমি স্থবির হয়ে বসে আছি স্বর্গের লোভে 
তবু কারা বারবার চোখ দুটি তুলে নিয়ে গেঁথে দেয় নরকের চৌকাঠে? 
যে মরে মরুক, যে চলে যাওয়ার চলে যাক 
যে শব্দ করার করুক, যে তালা ভাঙার ভাঙুক 
আমার তো আছে স্বর্গের টিকেট 
আমার তো আছে নীরবতা 
আমার তো নেই নরক ভাঙার দায় 
তবু কেন মন বলে নীরবতাই নরক
যারা ছুটছে শব্দ করে তারাই ভাঙবে নরকের ঘর 
তারাই বদলে দেবে স্বর্গের শাসন 
সময়ের-বাটি উলটে তারাই তোমার কণ্ঠে 
ঢেলে দেবে মৌসুমি সুধা
অনন্ত কানুন ভিজবে নীরবতার প্রতিবাদে 
অনন্ত ঐশ্বর্য পুড়বে স্থবিরতার প্রতিবাদে!

পপি মোদক

আমার রাজ্য ত্রিপুরা

উত্তরপূর্ব ভারতবর্ষের
ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরা,
পাহাড়পর্বত,নদনদী
আর সৌন্দর্যে ঘেরা।

পাখি ডাকা সকাল সন্ধ্যা
সবুজ প্রকৃতির তরুলতা,
নদী বয় কলকল নাদে
মাটিতে রয়েছে কোমলতা।

শীত,গ্রীষ্ম,শরতে ত্রিপুরা
সেজে উঠে উৎসবময়,
বর্ষা,বসন্তের রূপের বাঁধনে
হয়ে উঠে আনন্দময়।

মনু,গোমতী,হাওড়া,ফেনী
বয়ে চলে ত্রিপুরার বুকে,
জম্পুই,শাখানটাং
সবুজে ভরে ত্রিপুরাকে।

মাতাবাড়ি,চৌদ্দদেবতা বাড়ি
তীর্থ ধামে গড়া ভূমি,
পবিত্রতা কানায় কানায়
শান্তি বিরাজিত এখানকার জমি। 

উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ,ঊনকোটি
নিরমহল আর কসবার,
মনোরম দৃশ্যে তৈরি
মহান ভূমি ত্রিপুরা আমার।

নানান জাতি, নানান উপাজাতি
নানান ধর্মের মধ্য দিয়ে,
একতার এক প্রদীপ জ্বালায়
ত্রিপুরার মানুষ একত্রিত হয়ে।

সুখ শান্তিতে পরিপূর্ণা
আনন্দ যে রাশি রাশি,
আমার সুন্দরী ত্রিপুরা
আমি তোমায় ভালোবাসি।

মিঠু মল্লিক বৈদ্য

মণিকৌটার হীরক

হে অগ্রনায়ক,দেশপ্রেমের উত্তাল প্রেরণা,
দীপ্ত চোখে স্বাধীন ভারত গড়ার স্বপ্ন।
তোমার জ‍্যোতিতে প্রদীপ্ত ভারতবর্ষ
কন্ঠে জাগরণের মন্ত্র,চেতনায় পরাধীনতার গ্লানি।

মাটিকে ভালোবেসেছিলে অনলস,জাতীর রক্তে
জ্বালিয়ে দাবানল বাজিয়েছিলে রণদুন্দুভী,
গড়ে স্বশস্ত্র বাহিনী,শত্রুর বুকে করে পদাঘাত
ভারতীর সম্ভ্রমের সেজেছিলে রক্ষক।

স্বাধীনতার বিজয়কেতন তোমারি উপঠৌকন,
দেশভক্তির জ্বলন্ত নজির ;তোমার ত‍্যাগকথা।
শৃঙ্খল,দাসত্ব,বঞ্চনার প্রতিবাদে নির্ভীঘ্নে
প্রতিরোধের দৃঢ় প্রাচীর করেছিলে রচন।

তুমি প্রতিরোধের সেই আতশী বুলেট 
যার অভিঘাতে পর্যুদস্ত ধর্মীয় বিরোধ,জাতের ঘোঁট।
মণিকৌটার সেই অমলিন হীরক
যার ঔজস্বলে আলোকিত বিশ্বভুবন।

এক; তুমিই শুধু নেতাজী, যার ভয়ে ভীত 
ইংরেজ বাহিনী,পদঝঙ্কারে,বুদ্ধিপ্রমত্ততায় 
তটস্থ শত্রু,কোন গারদের ছিল না ক্ষমতা
শ্লথ করে পারে দিতে তোমার দুর্নিবার চলা।

প্রেম আকঁড়ে উচ্চারিলে তুমি সেদিন
রক্তের বিনিময়ে মিটবে পরাধীনতার গ্লানি।
স্বৈরাচারীর দূর্বৃত্তি বিনাশে অস্ত্রহাতে লড়াইয়ের শক্তি 
তোমাতেই পেয়েছিল তরুণ তরুণী।

স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত,হে মৃত‍্যুঞ্জয়ী
বাঙ্গালীর অসার দম্ভ,বঙ্গজননীর বরপুত্র
নেতাজী তুমি,ফিরে এসো আর একটি বার,
তোমার মতাদর্শে গঠন করো আজকের ভারতবর্ষ।

লিটন শব্দকর

রোদ তোমাকে

এসো রোদ, এসো একটি বার
আমার কুটিরের ভেজা মাটির মেঝেতে এসো
দুপুরে আমার বাড়িতে তোমার খাবার নেমন্তন্ন 
আমি পুরো সপ্তাহের শ্রম বিকিয়ে এনেছি কিনে
এক কিলো সোনা মুগ ডাল,দেশি পাইজাম চাল,
তুমি এলে খুব খুশি হবো আর খুশি হবে তন্দ্রাও
তন্দ্রা হল আমাদের পাড়ার সেই বিধবা মেয়েটি
যার স্বামী গতবছর ট্রেনলাইনে কাটা পড়েছিল,
ও কখনও সখনও আমাদের বাড়িতে আসে, 
আমি ওকে ভালোবাসতাম ওর বিয়ের আগেও
এখনও বাসি; শুধু লোকের সমালোচনার ভয়ে
শুধু সিঁদুর পরিয়ে বিয়েটাই করতে পারছি না-
জানো রোদ আমি সামাজিকতা বেশ শিখেছি,
আর ভীষণ মানিয়ে গুছিয়ে একা হয়ে থাকতে,
আমি জানি যে আমাকে এমন অবস্থায় দেখে
আশাহত হবে না, কারণ আমার ঘুলঘুলি দিয়ে
তোমার পাঠানো আলোর উষ্ণতার বর্গক্ষেত্রে 
অনেক পুণ্যাত্মা চড়ুই পাখিরা রৌদ্রস্নান করে,
এমনই একটি অবগাহন আত্মায় মাখবো বলে
অপেক্ষা করে বসে আছি অনেক অনেক দিন,
রোদ তুমি এসো একটিবার, তোমায় নিমন্ত্রণ।

কল্যাণ দাস

হিয়ার বাসনা

শূন্য এ হিয়া জুড়ে কত যে বাসনা,
বিহগের মত চায় মেলতে সে ডানা।
চায় শুধু উড়ে যেতে সুদূর গগনে,
আলাপনে রত হতে চায়  মেঘসনে।
          
          ফুলের মত সে চায় ফুটতে ঝরতে,
          বিহগের কূজনেতে চায় সে মিশতে। 
          তটিনীর স্রোতে সদা চায় সে হারাতে, 
          দখিনা পবনে বন দোলায় দুলতে।

কোনোদিন হতো যদি রবির কিরণ,
জ্যোৎস্না যামিনীর চাঁদের মতন,
সে যদি হতো গো ভরা ভাদরের নদী,
কুলুকুলু ধ্বনিতে ছুটত নিরবধি।

             ভ্রমর সে হতো যদি গুঞ্জন স্বরে,
             ফুলে ফুলে উড়ত সে মধু পান করে।
             পল্লব হয়ে যদি বিটপীলতায়,
             দুলত সে ক্ষণে ক্ষণে শাখায় শাখায়।

শূন্য হিয়ার এই আকুল বাসনা,
হয়তো বিধাতার ছিলনা গো জানা,
হলনা হিয়ার এই বাসনা পূরণ,
মায়ার এ ধরনীতে লভিয়া জনম।

সুচরিতা পাটারী

নিয়ত

চূর্ণ! সে তো আমিও হয়েছি বারংবার,
হারিকেন এর আলোয় পুড়িয়ে যেমন চিমনি ভাঙা হয়,
তেমনি করেই আমার হৃদয়ের নীতি লিখন।
না, চিমনির ভাঙা টুকরো ফেলে দিলেও,
আমার হৃদয়ের টুকরো ফেলা হয়নি কখনোই।
অতি যত্নে আবেগ দিয়ে তাকে আবার ভাঙা হয়েছে মসৃণ স্পর্শে।

সেদিন শুনেছিলাম আমার বুকে নাকি রথীন্দ্র স্বর্গসুখ পায়,
আমার সঙ্গ নাকি তাঁকে নতুন জন্ম দেয়,
আমার আগলে রাখা অনূভুতি তাঁকে বাঁচার আশ্বাস জোগায়।
কিন্তু সেসব এখন অতীত।।

তবে তাতে  সেও দোষী নয়,
হয়তো আমারই কোনো অপূর্ণতা ছাপিয়ে গেছে তাঁর সমস্ত পাওনা অভিপ্রায় জুড়ে।।

তবুও ভালোবাসি।
ভালোবাসাতে তো দোষের কিছু নেই,
যোগ্যতার মাপকাঠি নেই,
জোড় খাটানোও নেই,
আছে কেবল নিজের ভুল খোঁজার প্রবল আকাঙ্খা। 
তবে ভুলতে না পারা টা দোষের বটে,
তাতে কি!
সেই অপরাধেই না হয় কাদম্বিনী বন্দী থাকুক চিরকাল,
রথীন্দ্রের আদরের মোহজালে।।

শঙ্খ অধিকারী

বন্য

ঘুম ভাঙে বন পাখিদের গানে
চারদিকে ধবল পাহাড় শ্রেণি
সরু ঝর্নার মতন নদী , 
শাল বনে ঢেকে আছে লালমাটি পথ
জোছনায় উকি দেয় হরিণের মুখ 
চাঁদ এসে ছুঁয়ে যায় পাহাড়ের চূড়া 
মহুয়ার গন্ধ মেশে শীতল বাতাসে ।
নাম না জানা পথিক বাজায় তখন 

কৌশিক সরকার

বছর পাঁচেক বাদে আবার দেখা হবে

আলোকিত মঞ্চ, 
মাইক্রোফোনে ভেসে আসে আওয়াজ, 
তোমরা আমাকে ভোট দাও, 
আমি তোমাদের.....

বাকিটা ইতিহাস! 
তবে খুব বেশিদিনের নয়, 
মাত্র পাঁচ বছর! 

হ্যাঁ আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে
বছর পাঁচেক বাদে, 

শুধুমাত্র বক্তার নাম পরিবর্তন হবে , 
দল পরিবর্তন হবে, 
আর পরিবর্তন আসবে রাজনীতির সমীকরণেও। 

কিন্তু দর্শক হয়ে থাকা 
সেই অগণিত লোকগুলোর সামাজিক অবস্থার, কোনো পরিবর্তন হবে না। 

কারণ তারা যে সাধারণ লোক, 
ইতিহাসে তো নেই তাদের নাম ! 
ভোটের সময় বাদে
তাদের নেই যে কোন দাম। 

সজীব কুমার পাল

আমার শুভ্র ফুল

চলে যেতে এসেছিলে চলে গেলে , 
কতটা পথ গেলে তা আর মাপা হল না । 
কিন্তু দিয়ে গেলে অযুত অযুত দুঃখের বাগান 
আমি কি এই বাগানের যোগ্য ছিলাম? নাকি যোগ্য করেছ! 
আমার দিব্যি রাত কেটে যেতো 
স্মৃতির সংসারে, তোমার ছবির অবিকলে। 
আজ থেকে উনিশ বছর পর তোমার যৌবনে ভাটি আসবে, 
তুমি তখন কেবলই একটা শক্ত চাদরে মোড়ানো নারী 
কিন্তু আমি তখন উড়ন্ত পাখি, অথচ আমার কোনো ডানা নেই! 
এমন সংসার আমি বেঁধে নেবো আমাকে মানুষ দেখবে না, 
পাহাড়ে লুকানো মেঘ দেখবে, মৃত্যু দেখবে , আমি দেখবো আমাকে , 
তোমার মিথ্যা কথাগুলো কাঁদবে আমার স্মৃতিচারণে। 
মনে রেখো শুভ্র ফুল, আমি কেবল তোমাকেই হারালাম, 
কিন্তু তুমি হারালে বুকে জড়ানো এক দরদী নদী! 
তুমি হারালে এক জীবনের 'প্রেম যুগ'। 
আপন নদী, আপন পাহাড়, আপন মানুষ , 
এই শব্দের মোহে তোমাকে জড়ালাম, তুমি ভুলে যেয়েও আমায় , 
ভুলে যেয়েও আমার নগরীর বুক থেকে ধসে পড়া অসহায় চিৎকার! 

ডঃ রঞ্জিত দে

বিপন্ন মানবিকতা
একদিন দেখেছিলাম ক্যালকাটা কিলিং 
ভয়ানক ভয়ঙ্কর কণ্ঠ "আইয়ের আইয়ের"।
কে,কোথায়, কারা আসে কোনো প্রশ্ন নয়।
যেন ইশ্বরে বিশ্বাসী ছিলাম,
তিনি আছেন,তারা আছেন,
চলো পালাই,চলো পালাই।
কোথায়? কেন,সীমান্তের ওপারে,
কিংবা সীমান্ত ঘেঁষা আঁখ ক্ষেতে।
বা নদী কিনারায় কিংবা কাশবনে।
রাত দিন সমান হিসেব,
অথবা চলো সেনা ব্যারাকে-
কাতারে কাতারে মানুষ প্রাণ বাঁচানোর দায়,
গ্রাম উজাড় করে সবাই চলেছে।
কারণ " আইয়ের আইয়ের"।
ওরা কি মানুষ খায় নাকি লুন্ঠন করে! 
জানিনা,শুনেছি ওরা মিজো!
কেউ দেখেনি কিন্তু সবাই জানে-
ওরা ভয়ঙ্কর। শুধু --
খবর আসে সংখ্যাহীন মৃত্যুর, 
মানুষের প্রতিরোধের খবর কে রাখে!
খবর আসে সরকার ও অসহায়। 
শুধু হাটে বাজারে পথে ঘাটে ধ্বনি উঠে -
"আইয়ের আইয়ের"।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

প্রাকৃত পরিবার

মাস্ক পরে এসো,রোদচশমা পড়ে এসো না, প্লিজ।
খুইয়েছি তো অনেক,নির্মল চাওয়া'টা বেঁচে থাক।
মুখ মুখোশ হতে পারে, দৃষ্টি কিছু লুকোয় না,
অম্লান চোখাচোখি একমাত্র শেকড়সেতু হতে পারে। 
 
 কাজলকালো চোখের ধূসরতায় নীলমণি
আমার পদ্মপাতাচোখে লালিমার বুকে কালোমণি
-সূর্যের আলোয় স্পষ্ট হোক দেখাদেখি,
তবেই তো নির্ভয়ে হাতে রাখবো হাত
কিংবা কাঁধে মাথা।

রোদচশমার রঙে রাঙামাটির পথকে রাঙিওনা,
সেইদিন চলে গেল,
সূর্যালোক'ই আমাদের শ্বাশ্বত সম্বল,
সূর্যপ্রণাম করে শুরু হোক একসাথে পথচলা।

আমি হাতে আঙুলের ফাঁকে স্যানিটাইজার নেবো
তোমাকেও আঙুলের ফাঁকে স্যানিটাইজ করতে হবে
তবেই নির্ভয়ে হাত মেলাবো,
এইভাবে পাশে  বসবো গঙ্গার ধারে,এক কাপ চা'ও হবে,
অনেক স্বপ্নকথা ও গল্পকথা হবে;
আমাদের পুণ্যমিলনে শ্রীগণেশ হোক প্রাকৃত পরিবারের।

মোঃরুবেল

শিরদাঁড়া

আমি গাছকে স্বাধীনতার কথা বললে,
ওমনিতেই গাছ তার পরিধির বাইরের  ডাল-পালা দেখিয়ে দেয়।
পাখিকে স্বাধীনতার কথা বললে,
পাখি ভ্রাম‍্যমান আকাশে ডানা ঝাপটাতে শুরু করে।
নদীকে স্বাধীনতার কথা বললে,
নদী বাঁধ ভাঙা হিল্লোলে বয়তে থাকে অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে।
পাহাড়কে স্বাধীনতার কথা বললে,
পাহাড় শিরদাঁড়া সোজা করে আকাশের গালে চুমু আঁকতে চায়।
মানুষকে স্বাধীনতার কথা বললে,
মানুষ ঠোঁট চেপে বলে এমন শব্দ বলতে নেই, কেবল অন্তরে পুষে রাখতে হয়।

নমিতা সরকার

শেষ থেকে শুরু

যদি বলো তারপর কি? 

তবে তারপর থেকে আরো অনেক তারপর উঠে আসে ঢেউয়ের পর ঢেউয়ে।

তারপর তোমার তীরে দাড়িয়ে তোমাকে ছুঁই অদৃশ্য ছায়ার মতো আলো অাধাঁরের মায়াপ্রেমে।

তারপর জলস্থল স্পর্শ করা তেজস্বী আলোয় তোমাকে আবিষ্কার করি অবারিত সবুজ মাঠের বুকে,
যেখানে ঘাস ফরিং পাখি লতাপাতা হৃদয় খুলে কথা বলে আপন ভাষায়।
তারপর সেখানেই আমি কান পেতে শুনি তোমার হৃদয়ের গান
যে গানের ছন্দে ঝর্ণা ঝরে পড়ে পাথরের বুকে, 
তারপর পাথরের বুকে পাথর খসে খসে পড়ে নিঝুম সন্ধ্যায় নির্জন দ্বীপে কষ্টের আগুন বুকে নিয়ে,
তারপর ঘনিয়ে আসে আঁধার রাত, 
রাতের চাঁদ থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে রূপালি ঝর্ণা নির্জন দ্বীপে, 

তারপাশেই ঘুমহীন সমুদ্রে ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে বলে ;
তারপর তারপর তারপর!!! 

মহাকাল ঘুরে ঘুরে ফিরে ফিরে আসে তারপর!

রীণা পাল দত্ত (মেখলা রাণী)

মকর-স্নান শাহী- স্নান"

লক্ষ লক্ষ পুন্যার্থীর সমাগম সাগর-চড়ে,
স্নান-দান-পূজা-পাঠে হয় পুণ্যার্জন।
নাগা-সাধু, অঘোরি সাধু, জটা-সাধুর ভীড়ে
'মিলন' হয় সকলেরই 'গঙ্গা- সাগরের তীরে'।।

'পুণ্যতিথি' আগত সকাল থেকে বিকাল
'পৌষ-সংক্রান্তির'ই 'মকর-স্নান', পুণ্য তিথিবরা।
গো-দান, বস্ত্র-দান, কড়ি-অন্ন দান ও আছে_
মহাপুণ্যের লাগি ভরাইছে সব 'দানের পুণ্যঘড়া'।।

লেগে আছে ভীড় সাধু-অসাধুর 'শাহী-স্নানের' তরে,
পাপস্খলন প্রয়াসে, মহাপুণ্য-প্রাপ্তীর বরে।
'মকর-বাহিনী গঙ্গামাতা' আসিবেন আজি ঘরে,
'কপিলমুণির আশ্রম' ধন্য, মায়ের দর্শনের তরে।।

'শাহী-স্নান' শেষে প্রার্থনা, ফুল জল গঙ্গাবক্ষে 'সূর্য প্রণাম'_
পাপ-পুণ্যের জীবন খোঁজে মূল্য অবিরাম।
চেমাগুড়ির লঞ্চঘাটের পাড়_  ধন্য ধন্য তুমি
লক্ষ-ভিড়ে করোনা বিধি দূর অন্তর্হিত জানি।।

সাগর-সঙ্গমের ঘোলা জলে ডুব, পায় 'অভীষ্ট লাভ'
যত পারো 'পুণ্য' কেনো, ঘুচাও মনের তাপ।
সংকট দূর করে সবার, মা 'মুড়িগঙ্গা শকট বাহিনী'
'গুরু-শিষ্য প্রকরণ' চলে, চলে যুগ যুগ ধরে "ভগীরথের কাহিনী"।।

মন্দিরা বিশ্বাস

জহর

কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে পাতাল, কাঁদছে পৃথিবী
চিতোরগড়ে হাজারো নারী হবে আজ সতী।
রাজা গিয়েছে যুদ্ধে বাঁচাতে রাজ্যের মান
রাণী করছে আত্মদাহ বাঁচাতে নিজের সন্মান।

কাটছে ‌ধর, কাটছে দেহ, চলছে তলোয়ার
রাক্ষসের দল ছুটে আসছে "ওই শোনো হুঙ্কার।"
যুদ্ধের মোড় ঘুরেছে হতে পারে পরাজয়
সতীত্ব রক্ষায় মরতে ওরা করে নাকো ভয়।

রাজা লিখলো শেষ পত্র মহারাণীর সনে
"দাও রাণী অন্তিম আহুতি মা ভবানীর নামে"।
আগুন জ্বালো ,ঘি ঢালো,দ্বার দাও দূর্গে
লাজ বাঁচাতে এবার ,স্থান নেব অগ্নিগর্ভে।

যে দুর্গ ভরে থাকতো উৎসব সমারোহে
সেই দুর্গের দেওয়াল ফাটছে সতীত্বের চিৎকারে।
পশ্চিমে জ্বলেছে আগুন , বীরাঙ্গনাদের হাতে
খিলজী,শাহ্,আকবর কেঁপেছে তার উত্তাপে।

সাহসীকতার প্রতীক ওই হাজারো রাজপুতানী
রাজমাতা কর্ণাবতী, রাণী ফুলকাওয়ার ,ও পদ্মিনী।
ওরাই সেই বীর নারী ওরাই বীরাঙ্গনা
জয় কেশরী, জয় ভবানী,জয় রাজপুতানা।।

সুজান মিঠি

আবাদি-ভারতবর্ষ

অন্যের জমিতে কাজ করে উপার্জন করা বাবা মায়ের একমাত্র পুত্র অনিক এখন বাবা মায়ের সঙ্গেই দেখছে মহামারী, শিখছে খিদের সঙ্গে লড়াই, জানছে মানুষের অসহায়তা।

 প্রথম থেকেই বেশ মেধাবী অনিক। মাধ্যমিকেও খুব ভালো ফল করেছিল। সকলের সাহায্যে এবং বাবা মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে বড় হতে শুরু করেছে সবে।

মহামারীর গৃহবন্দীত্ব অনিককে করে তুলেছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এখন থেকেই সে পড়াশোনা করছে ভীষণরকম, যোদ্ধা হওয়ার জন্য। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে তাকে পেতেই হবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স। তাকে হতেই হবে প্রকৃত যোদ্ধা।

অসুখ-মহামারী অনিককে শিখিয়েছে, যুদ্ধ কেবল বন্দুক-পিস্তলে নয়, স্টেথোস্কোপ নিয়েও হয়।
দিনমজুর বাবা-মায়ের অভাবী ঘরে এই মহামারীর সময়ে
তৈরি হচ্ছে এক আবাদি-ভারতবর্ষ।

মাধুরী সরকার

অদৃশ্য 

কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে প্রাচীন সংস্কৃতি,
একতার মেলবন্ধন লুন্ঠিত ....
 প্রাচীন প্রথা-নিয়ম ভেঙে আধুনিকতার পোশাক পড়েছে সভ্যতা।
ভাতৃত্বের বন্ধনে ঘুনে পোকার বাস,
উৎসব মেলাপ্রাঙ্গনে সৌহাদ্য প্রেম বিনিময়ের ছাপ নেই।

কোথায় যেন মিশে যাচ্ছে জীবন,  সকাল আসে প্রখর তেজে....
অমানিশার করাল গ্রাসে চাঁদ সুযোগ হারায় প্রতিরাতে।

মানব বন্ধন ক্ষুন্ন,
অথচ এই পৃথিবীতে তোমার আমার বাস..
দারিদ্র্য ক্ষুধা নিত্যসঙ্গী,
পোকার আক্রমণে ছেয়ে গেছে উর্বর মাটি।
দূষিত হাওয়া বয়ে বেড়ায় চারিদিকে।

ভালোবাসার মৃত্যু প্রতিদিন হয় রোজ রোজ হয়..
দয়া ক্ষমা প্রেম হাহাকার করে, মানুষের রোজনামচাতে।
জীবন ছন্দ স্তব্ধ অচেনা পথের বাঁকে।

দুলাল চক্রবর্তী

মাকে মনে পড়ে

বারে বারে মনে পড়ে
শিশুকালের দিনগুলি,
মায়ের কোলে আদর পাওয়া
ছোট্ট বেলার দিনগুলি।

মাগো দু'চোখ যখন ঘুমে ভরা
সোহাগ -যতন-আদর করা,
ঢল ঢল আঁখি নিয়ে
গল্প শুনে যেতাম।

ঘুম পরী কে দূরে ঠেলে
ধাক্কা দিয়ে দিতাম ফেলে,
যতন করে তোমার কাছে
প্রথম শিক্ষা পেতাম।

তুমি শুধু বলতে হেসে
বুক জড়িয়ে ভালোবেসে,
আমার খোকা--
কখন তুই অনেক বড় হবি?

চলে গেলে অবশেষে
আমায় ফেলে তারার দেশে,
হয়ে গেলে আমার কাছে
চিরদিনের ছবি!

আজও মাগো ঘুমের ঘোরে
তোমার কথাই মনে পড়ে,
বুকের ব্যথা সইতে নারি
দু'চোখ জলে ভরে।

অভ্রজিৎ দেবনাথ

ডাক

আমার শেষ দিনে শুনেছি তোমার ডাক
কথা হয়নি, অস্থির সন্ধ্যায় ছিল
পাখা মেলে উড়ে যাবার তাগিদ;
কতবার অলীক বিরতির পর
ভুলে যাওয়া নাবিকের অসহিষ্ণু চোখ,
শরীরের ক্ষতে লিখে রাখে ভক্তিবাদ।

আমার অসহায় মাঠে
তুমি চাও যুদ্ধক্ষেত্র,
পৃথিবী ভালো থেকো,
অতীত বর্তমান ভবিষ্যত দেখে
ঈশ্বর অনুতাপ করেন না।

সব যন্ত্রণার সমাপ্তি হবে
ত্রিপিটক নিয়ে দাড়িয়ে আছে
 নাস্তিক অনুপ্রবেশকারী।

শুভব্রত ব্যানার্জি

স্বাধীন দেশের মাটি 

স্বাধীন দেশে আজকে থাকি হাঁসি খুশি মনে,
রক্তমাখা ইতিহাস রয় অতীত কালের সনে।
অরি সকল দিল হানা আমার দেশের তরে 
কেরে নিল স্বাধীনতা ছলা কলার পরে।

বিদেশ থেকে আনল নিয়ে হাজার রকম রীতি
মোদের তরে প্রয়োগ করে দেখাল এক ভীতি।
দেশের মানুষ উঠল ক্ষেপে অরি সবের প্রতি
পণ যে করলে করবে না যে তাদের কাছে নতি।

নিজের মাটির ভাগ হবে না ধর্ম জাতি ঘিরে
সংস্কৃতি মোদের দেশের থাকবে দেশের তীরে।
ভাষা মোদের ভাগ হবে না ওদের নীতির সাথে
উঠলে কথা মরবে অরি আমাদের এই হাতে।

নেতা নেত্রী মিলে সবাই উঠল গর্জে তারা 
ভালো বিষয় শিখব মোরা আছে তাদের সারা।
অত্যাচারীর কঠোরতা কঠিন শাস্তি দিলো,
রক্ত সেদিন বিপ্লবীদের দেশের মানুষ নিলো।

হিংসা বিদ্বেষ অহিংসার পথ দেশের মানুষ ধরল
শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে অনেক ছলা করল।
বন্ধুক হাতে নিয়ে সাথে আন্দলোন যে হলো
স্বাধীনতার উঠলো ধ্বজা সেই কাহিনী বলো।

দীপু দেবনাথ

মাঝি হীন নৌকা

মাঝি হীন নৌকা আমি!
জলের ঢেউ এ চলি,
যত্র তত্র ঘুরেবেরাই 
নেই যে কোনো তরি।
সময়ের হাতে দিয়েছি ছেড়ে
জীবনের এই পাল কে!
মায়া বিহীন সংসারেতে 
           আমি অধিষ্ঠাত্রী।
মাঝি হীন নৌকা আমি,
তীরে আসার অপেক্ষা 
নিরুপায় বলে যেও না ফেলে,
পালটা যদি ধর শক্ত হাতে 
পার করিয়ে নিয়ে যাব তোমার দিগন্তে।
বৃষ্টি ভেজা কাদামাটি পথ, পেরিয়ে এলে মোর পাল ধরতে?
আজ বৃষ্টি না থামার নিয়েছে শপথ!
          বইছে ঝড়ো হাওয়া,
গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কি না 
দিচ্ছি না তাই অগ্রিম বায়না!

ঝিমলি আচার্য

ভিন্ন চেষ্টা

কর্মে নিষ্ঠা সকল তেষ্টা
মিটিবে সবাকার।
ধর্মে নিষ্ঠা লোভিন্ তেষ্টা 
ঈশ্বর বুঝিবার।
ভোজনে নিষ্ঠা মিলিবে তেষ্টা
ভালো-মন্দ খাইবার।
শিক্ষায় নিষ্ঠা ঘুচিবে চেষ্টা
জ্ঞান অর্জন করিবার।
রাজনীতিতে নিষ্ঠা হইবে
প্রতিষ্ঠা স্বীকৃতি পাইবার।
খেলাধূলায় নিষ্ঠা জাগিবে 
তেষ্টা  লক্ষে পৌঁছিবার।
চাষিগণের নিষ্ঠায় পৃথিবী     
বেঁচে যায়, 
চাষিগণের তেষ্টা নিরবে কাঁদায় । 
সত্যনিষ্ঠা তৈয়ারির তেষ্টা 
নবজাগরণের জোয়ারে ভাসা

সৈকত মজুমদার

উপমা

অচেনা অতিথি করেছি আপন
না জেনে দিয়েছি এই মন,
ক্ষণিকের সুখ দিয়ে গেল চলে
এখন ভাসি চোখের জলে।

তোমাকে ভেবেছি কবিতার উপমা
পরে দেখি অন্যের প্রিয়তমা,
তোমার মায়ার জালে আবদ্ধ আমি
পরের সুখে পরম সুখী তুমি।

অভিজিৎ পাল

ইচ্ছে

ইচ্ছে হয় , 
ফিরে যাই সেই শৈশবে ,
নিশীথস্বপ্নে মনের উঠোন পেরিয়ে ;
পিতার কনিষ্ঠা হাতের মুঠোয় নিয়ে
এক-পা দু-পা , ধূলো কাঁদায় জড়িয়ে ।

ইচ্ছে হয় ,
মার বুকে মাথা গুঁজে , 
দুচোখ বুজে জড়িয়ে ঘোরে ;
খেয়ালিপনায় কঞ্চিকেই অমূল্য ভেবে
অন্যায় আবদার , স্বপ্নভোরে ।

ইচ্ছে হয় ,
যৌবনের রঙিন দুনিয়ায় ,
নিরুদ্বেগে ফিরে যাই ;
মাতাল রস পান করে ,
স্নায়ুর চাপ বেঘোরে তাড়াই ।

ইচ্ছে হয় ,
সেই শৈশব কৈশোর যৌবনের ,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে আসা সময়ের ;
জ্যান্ত স্বপ্নছবিগুলোকে আঁকড়ে ধরি ,
উদাসী প্রলাপে ঘুম ভাঙে নিশীথের ।

অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

অশরীরী আত্মা

নিশানপুরের রাত পরীরা যাচ্ছে উড়ে দেশান্তরে। 
ইচ্ছে গুলো বালিশ চাপা, হারিয়ে গেছে ঘুমের ঘোরে।। 
শুনেছি আমি নিস্তব্ধ রাতে করুণ আর্তনাদ। 
দেখেছি আমি ঝড় হাওয়ার মাতাল করা ফাঁদ।। 
যেদিন হতে দেহ ছেড়ে গেছো অনেক দূরে। 
অতৃপ্ত সব স্বপ্ন গুলো গুমরে কেঁদে মরে।। 
অমাবস্যায় শনি মঙ্গল বার দেখা দিলে। 
উন্মাদ হয়ে উঠে যেন গোটা খাবে গিলে।। 
শুধু একটু মুক্তির লাগি ঘুরে দ্বারে দ্বারে। 
তোমার আমার দেখা হবে নদীর অপর পাড়ে।। 
কথা ছিলো দুজন মিলে বাঁধবো সুখের বাসা। 
বিষাক্ত সমাজ মোদের ভেঙ্গে দিয়েছে আশা।। 
আজ আমি তোমায় ছেড়ে ঘুরছি একা একা। 
তোমার আসার অপেক্ষাতে আমার বসে থাকা।। 
থাকবো আমি পথ চেয়ে আশার প্রদীপ জ্বেলে।
যে সমাজটা দেয়নি বাঁচতে তাঁকে খাবো গিলে।। 

ছন্দা দাম

তুমি কারো জন্যে নেই 

গন্তব্যের পথে হাঁটতে হাঁটতে বহুদূর...
দেখবে বিশ্বাসের হাতটা হচ্ছে আলগা ধীরে ধীরে
মুঠোতেই শুধু শূন্যতা,পাথর জমা নোনা জল,
জ্ঞান হারাতে হারাতে জেগে ওঠো...
ভাবো শুধু তোমার দরকার একমাত্র তোমাকেই,
পৃথিবীতে তুমি ছাড়া, তুমি কারো জন্যে নেই।

মেঘেরা স্বপ্ন দেখায়,বৃষ্টিরা ডেকে আনবে প্রেম,
বসন্ত চোখে রঙীন চশমা পড়াবে... আবার খুলবে,
একদিন সবুজ পাতার ইচ্ছেরা ধূসর হয়ে ঝরে যাবে
নিজেকে ভুলে যেতে যেতে মনে করো আবার,
শুধু তোমার দরকার একমাত্র তোমাকেই,
অনন্ত চরাচরে তুমি ছাড়া তুমি কারো জন্যে নেই।।

ধানের বুকের সবুজ আশা,শিশিরমুক্তো ভালোবাসা
শিশুর বুকের মায়া, প্রেমের মরীচিকা কায়া,
সবি একদিন হয়ে যাবে ফিকে দেখবে....
শুধু তোমার বুকের ভেতর কুঁকড়েথাকা তুমিটাকেই
শুধু তোমার দরকার একমাত্র তোমাকেই,
আকুল মন বুঝবে কখন তুমি ছাড়া তুমি কারো জন্যে নেই।।

ঘরদোর, সংসার,গুটানো হবে পসারী কারবার,
দরজা,খিড়কি,টুকরো আকাশ ছাড়া কি আছে?
কিছু বাকি, কিছু রয়ে গেল বুঝি মনের কোণে...
নীল সামিয়ানা বলে কানে কানে... একবার ভাবো 
শুধু তোমার দরকার একমাত্র তোমাকেই,
মুহুর্তের এই জীবনটায়, তুমি ছাড়া তুমি কারো জন্যে নেই।।

সুমা গোস্বামী

না পাওয়া সেই সুখের আশায় 

মনখারাপি মায়াবী রাত
কুয়াশাঘেরা উদাসী ভোর ,
চোখের পাতায় সাক্ষী রেখে
চলো ডানা মেলি ..

অরণ্যের সেই বৃক্ষমালা 
সাগরের সে গভীরতা ,
মনমাঝারে ভালোবেসে
চলো ডানা মেলি ..

শিশিরভেজা রক্তগোলাপ
সজীব সতেজ পাতাবাহার ,
আলগা খোঁপায় জড়িয়ে নিয়ে
চলো ডানা মেলি ..

পাথরের ওই মৌনতা
ঝর্ণার সেই উচ্ছলতা , 
বুকের মাঝে আগলে রেখে
চলো ডানা মেলি ..

খোলা আকাশের নীলচে ছাদে
প্রজাপতির  সুখের ডানায় ,
না পাওয়া সেই সুখের আশায়
চলো ডানা মেলি ..

বিধর্না মজুমদার

অভাব

আমাদের এই অভাবের সময়ে, 
দোকান গুলি মুখ ফিরিয়ে রাখে 
লোকজন গরীব বলে মস্করা করে। 
আমাদের এই অভাবের সময়ে, 
বাবা ভাঙাচোরা ব্যবসায়ী হয়ে যান
খড়ের বিছানায় শুয়ে থাকি। 
আমাদের এই অভাবের সময়ে, 
উপর থেকে ঘুনের টাল নেমে আসে 
ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করি। 
কেরোসিনের দাম অনেক 
তাই রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের নিচে 
বইখানা নিয়ে দৌড়ে যাই। 
আমাদের এই অভাবের সময়ে, 
কলমির শাক গুলি আনমনে চেয়ে থাকে 
মা তুলে এনে রেঁধে দেন। 
ছাতার বদলে কলাপাতাই সম্বল! 
আমাদের এই অভাবের সময়ে, 
টাকাপয়সার মুখ দেখাও বারণ 
শুধু বুকে ছাঁই পোষে রাখি। 
আমাদের এই অভাবের দিনে, 
বামুন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়া নিষেধ
চাঁদ কলঙ্কিত হলেও অনন্য। 
ভাগ্য যেন নিষ্ঠুরতার সীমানা পেরিয়ে গেছে! 
এখন চমৎকারের আশায় বসে থাকা। 
আমাদের এখন অভাবের সময়।।

জগন্নাথ বনিক

জীবনটা একটি নদীর মতো 

শিখেছি বর্ণ, গড়েছি শব্দ,
লিখেছি ছন্দের তালে তালে।
সাদা রঙের মনের খাতায়,
রঙের কালিতে হাজারো কথা কিন্তু বলে।।

সৃষ্টি থেকেই জীবন মাঝে,
কতো না হাসি আর কান্না।
হঠাৎ কোনো অজানা ঝড়ে পেয়েছি ব‍্যথা,
শুরু হয় জীবন মাঝে অশ্রু ধারার বন‍্যা।

চলছে জীবন আপন গতিতে,
আজও কিন্তু পাইনি কোনো আপনজন।
কাছে এসে কেউ আপন ভাবেনি,
হয়নি জীবনের স্বপ্ন পূরণ।।

অশ্রু ধারায় বুক ভেসে যায়,
জীবনটা হয়েছে আজ নদীর মতো।
এসেছে আঘাত সামলাতে পারিনি,
ছোটো ছোটো ঢেউয়ে নদী ভাঙ্গনের মতো।।

সুরমা আকতার

ঋতুর পরশ

প্রকৃতির সৌন্দর্যের সাজ;
ত্রিপুরায় শুধু চারটি ঋতুর বাস।
শীতের ঋতুর পরশ নামল,
আজ দেখি উদ‍্যানে উদ‍্যানে।
হাজার রঙে ভরপুর আজ,
উদ‍্যানের ময়দানে।
সৌন্দর্যের বাহার ছড়িয়ে সারা ময়দানে,
যেন রামধনুর সেই,
সাত রঙকেও হার মানিয়ে চলে।
যুদ্ধ যেন তাদের মধ্যে,
লেগেই থাকে বিদ্ধমান।
কে জিতবে কে হারবে,
তা নিয়ে ময়দান অফুরান।
শীতল পরশ আজ উদ‍্যানে উদ‍্যানে।
ঋতুটাও ভারি মধুর,
ফুলের সৌরভে পর্যটকের মন মাতোয়ারা।
ফুলের সৌরভ আজ ঋতুর ময়দানে,
আজ ঋতুর পরশ নামল উদ‍্যানে উদ‍্যানে।

উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্য

সে নাম সুভাষ

সুভাষ আস্ত একটা সূর্যের নাম।
যে সূর্যের আলো পরাধীন আকাশে
স্বাধীনতার চাঁদ এঁকেছিলো।
সুভাষ অনেক বড়মাপের এক
ম্যাজিশিয়ানের নাম,যে
ভারতের কপালের রেখা
একদম বদলে দিলো।
কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আজও দাপিয়ে বেড়ায় একটা শব্দ
সে নাম সুভাষ।

Jan 19, 2022

প্রতীক হালদার

দিব্যি কেটে 

থাকবি সাথে সারাজীবন 
নাকি যাবি চলে?
জীবনটাকে রঙিন করে 
মিথ্যা গল্প বলে ।

ভাঙবি না তো, মনটা আমার?
করবি না তো আড়ি?
তাহলে কিন্তু আমি তখন
রেগে যাব ভারি ।

শক্ত হাতে ধরবি কি হাত?
রাখবি কাছে টেনে?
দুঃখ গুলো আমার সাথে 
নিবি কি তুই মেনে?

ভাঙা ঘরে থাকবি কি তুই?
দেখবি চাঁদের আলো,
জ্যোৎস্নারাতে জাগবি কি তুই ?
বাসবি আমায় ভালো?

মন খারাপে সঙ্গী হবি?
যাবি না তো দূরে?
থাকলে থাক দিব্যি কেটে 
আমার হৃদয় জুড়ে ।

মোঃ নুরুল হক

 ডায়রি

তোমার ডায়রির পাতায় আমার নামটি আজ মলিন। 
কেমন করে হলে তুমি এত স্বার্থপর সীমাহীন?
ডায়রির পাতার ভাজে ভাজে ছিল শুধুই আমার নাম।
আর তা ভেবেই আমি রোজ  আনন্দে মেতে উঠতাম। 
ডায়রির শুরুটাই ছিল শুধুই আমার নাম। 
ডায়রির শেষটায় করে গেলে শুধুই বদনাম।
জানি তোমার ডায়রিতে নাই আমার প্রয়োজন। 
কেননা এখন যে তার মধ্যে নতুন এর আগমন। 
আমার ডায়রি  তোমার জন্য খোলা চিরকাল। 
কেননা আমার ডায়রিটা যে, তোমার দেওয়া কোটি টাকার মাল।

দেবীদাস নন্দী

বিদ্রোহী কবি

এক বুক আগুন নিয়েও ভালোবাসা যায়,
দেশকে,  অভাগা দেশের বঞ্চিত মানুষকে,
সেই লেলিহান আগুনে স্বর্ণলঙ্কা দহন হয় না,
আগুন ধরায় হৃদয়ের কোণে কোণে, 
সাহসী,নির্ভীক,সৈনিক এক কোনো বন্ধ্যা রণাঙ্গনে,

যুদ্ধ ক্ষেত্রেও তিনি লেখেন অনবদ্য কবিতা 
লেখেন যুদ্ধ বিরোধী গান সোচ্চারে,অকপটে,
কলমে আগুন ছড়িয়ে অনায়াসে যান জেলে,
তিনিও ভাবেন স্ত্রী, সন্তান,প্রিয়জনদের কথা,
তাদের হারিয়ে হয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন

তবু তিনি ভালোবাসেন মানুষকে
আজীবন,দুচোখে অসহায় শূন্য দৃষ্টি নিয়ে...

তিনিই আমাদের প্রিয় কবি নজরুল
আজীবন ভন্ডামির মুখোশ ছেঁড়া, মানুষ নজরুল...

অভিষেক অধিকারী

একমুঠো আকাশ

যদি মনে কর তুমি একমুঠো আকাশ ধরার খেলা খেলবে,
তাহলে কোন জাগতিক উদ্বাস্তু হওয়ার আশা কোরো না।
গদ‍্য বনাম পদ‍্যের দ্বন্দ্বই তোমাকে উদ্বাস্তু হওয়ার রাস্তায় নামাবে।
যদি মনে কর তুমি একমুঠো আকাশ ধরার খেলা খেলবে, 
তাহলে একটা অশরীরি সংকেত তোমাকে বলে দেবে যে  তুমি ভূত নও।
তোমার শরীরি দ্বন্দ্বই শেখাবে অশরীরির সাথে সংঘাত করতে।
যদি মনে কর তুমি একমুঠো আকাশ ধরার খেলা খেলবে,
তাহলে একটা সার্টিফিকেট নির্মাণ করবে তোমার পরিচয়।
অবশ‍্য নিজেকে যদি কোন তিব্বতী মুখোশে ঢেকে দাও।
যদি মনে কর তুমি একমুঠো আকাশ ধরার খেলা খেলবে,
তাহলে.....!
হয়তো আকাশটাই নির্মাণ করবে তোমার অদৃশ‍্য সত্তা,
যেটা তোমাকে স্থান দেবে না কোন বিজ্ঞাপনের পাতায়।

সুস্মিতা পাল

বিধাতা

মা গো আমার ভোরের আলো ফুটবে যে কখন,
আর যে পারছি না মা এতো ঠান্ডা সইতে।
ঘড়ির কাটা নড়ছে ঠিকই টিক টক করে,
তবু কেনো কাটচ্ছে না সময় তাড়াতাড়ি করে।
আচ্ছা মা,জানো কি আসবে কখন রবি মামা,
ভোরের আকাশে উষ্ণ রবি কিরণ নিয়ে।
তবেই যে একটু উষ্ণতা পাবো রবি কিরণ তলে।
মনে আছে কি মা বলেছিলে একদিন ঠিকই,
বিধাতা আনবে বয়ে আমাদের সুখের দিবা-রাত্র।
কিন্তু, সেই একদিন আসবে কি মা আর কখনো?
কারণ, প্রতিনিয়তই তো বিধাতা দিচ্ছে আমাদের এতো কষ্ট।
নেই আমাদের বাসস্থান,নেই যে ভালো বস্ত্র।
অনাহারে কাটাতেও যে হচ্ছে বহু দিবা-রাত্র।
পথের ধারে,গাছের তলে থাকছি যে অবিরত।
আজ এই স্থলে তো কাল অন্য স্থলে,
নেই যে মোদের কোনও নির্দিষ্ট স্থল-ই।
দু-হাত পাতলে কখনো মিলে খাবার,তো কখনো যে ধিক্কার।

এরপরও কি বলবে মা গো,
বিধাতা একদিন আনবে বয়ে আমাদের সুখের দিবা-রাত্র!

তাহের আহমেদ লস্কর

ময়ূরপঙ্খী

কল কল করে বয়ে চলেছে 
স্রোতসীনির জল, 
তারে কি কেউ ফিরাতে পারে 
কার আছে শক্তিবল ? 

গতিময় তটিনী আমার 
পলকেতেই চলে, 
কোন শহরে চায় যেতে  
সুধাইলে কি বলে ?
 
কতো পদ্ম গাঙে ভাসে 
ধরতে যদি চাও, 
দূরে দূরে ভাসে সদায় 
নিরঞ্জনের নাও ।

সুজন কাণ্ডারি মাঝি 
ভিন্ন বাসে হায় ! 
নীল সমুদ্রে ডুবে তরী 
কে তীরে ভীড়ায় ? 

Jan 18, 2022

আব্দুল গফফার

ক্ষিদের জ্বালায় পান্তা ফুরোয়

ভিক্ষুক ছেলেটার পাত্র খালি,
তাই জুড়ায়নি ক্ষিদের জালা -
বিষণ্ণতায় ভরেছে মনের আকাশ।

বয়স সবে আট পেরিয়েছে,
পরনে জোটেনি যে কিছু -
হার হিম করা শীতে জুবুথুবু।

সারাদিনটা এভাবেই যে কাটে,
বাবুর যে গভীর অসুখ -
মা বলেছিল,খোকা ওষুধ আনিস।

প্রশ্ন করে ছেলেটি, ডাক্তারবাবু? 
আমার বাবুর কি হয়েছে -
এই দেখোনা,ওষুধের পয়সা কতো।

সাঁঝবেলায় ছেলে বাড়ি ফিরে,
মাকে বলে বাবুর ওষুধ সবএনেছি-
আর যাবনা থালা হাতে।

মা, মা'গো ওঠোনা, কথা বলো,
রাগ করেছো,বাবুর মত তুমিও চুপ-
করলাম আড়ি তোমার সাথে।

সুভাষ ঘরে ফেরে নাই,
অভাবী তাই ভিক্ষুক ছেলেটা -
ফিরলে হয়ত মিলতো খাবার ।

তেইশের জন্মদিনে,
কত নেতাজি রাখবে ভাষণ -
থাকবে অভাব,আসবে স্বাধীনতা।

অঞ্জনা বসু

মৃত্যুর কাছাকাছি

জীর্ণ-শীর্ণ ভঙ্গুর দেহখানি
ভাবলেশহীন অবয়ব,
বয়সের প্রমাণ না থাক বলিরেখা সময়ের পরিচয় ,
দন্তবিহীন মুখখানি শিশুসুলভ,
ঘোলাটে চাহনি না জানি 
কোন্ স্মৃতির আবেশে মুহ্যমান ,
একে একে ছেড়ে গেছে প্রিয়জনেরা
মনে পড়ে না শেষ শোকগাঁথা দিনটির কথা
শূন্য দৃষ্টিতে শূন্য খাঁচা শুধুই নিরীক্ষণ ৷
আলো-আঁধারিতে হাতড়ে বেড়ায় 
ভাঙ্গা-চোরা দিন রাত,
সমব্যথী ঘরখানি দেহের সম্ভ্রমটুকু
রেখেছে ঢেকে,
প্রতিরাতে শিথিল শিয়রে অপেক্ষা যমদূতের ৷
আর কত কাল থাকবে পড়ে
মৃত্যুর কাছাকাছি ?

রমা চন্দ্র

রূপোলী স্নেহ-ধারা

শতাব্দী প্রাচীন'ছায়ানীড়'
আমি 'বট'
মহাকালের 'অক্ষি'!
আমি 'সাক্ষী'-
সত্য-মিথ্যার,
ভাঙা-গড়ার,
ভালবাসা-হিংসার,
কত শত কীর্তির,
অসহায়ের আর্তির,
আত্মবলিদানের গরিমার,
আত্মহননের লজ্জার,
বহু ঝড় ঝঞ্ঝার!
উচ্চ শিরের দম্ভের,
ভগ্ন স্থপতি-হর্ম্যের।
তুমি পূর্ণিমা চাঁদ 'কোজাগরী প্রশান্তি'...
ফিরে ফিরে আস পক্ষে পক্ষে
সমুদ্র বক্ষে...
আমার এই ছায়াঘন কক্ষে-
শান্তির দ্যুতি ছড়িয়ে...
আমায় তোল যে ভরিয়ে-
বাঁচি একশত-দুইশত
বা আরও অধিক বছর...
মহামারী অতিমারী করি পার-
অপার স্নেহ প্রলেপ তোমার!

প্রিতম দাশ

বর্তমান

আজ স্তব্ধ এই মানব জীবন।
দিন দিন বেড়েই চলেছে মনুষ্য পতনের সংক্রমণ।।
খেটে খাওয়া মানুষ আজ অন্নের কাঙ্গাল।
অভাবের দরুনই চুরি-ডাকাতি তুমাল।।
ব্যবসায়ী শ্রেণি হচ্ছে ক্ষতির সম্মুখীন।
কৃষকরা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ সুদ করতে না পেরে ঋণ।।
পুড়ছে মানুষ আজ হিংসায়।
ডুবে মরছে লোভ লালসায়।।
পাশে দাঁড়ানোর বন্ধুত্ব আজ লুপ্ত হচ্ছে।
কালো মুখোশের আপনত্ত্ব বিশ্বাসী কে ধ্বংস করছে।।
প্রতিবাদ করা মানুষগুলো আজ নীরবতার দমনে ভুগছে।
অন্ধকারের কোপে যেন আলোর নিঃশেষ ঘটছে।।
সঠিক শিক্ষা গ্রহণে হচ্ছে নানান বাধা।
সরল সোজা দেখতে অথচ অমিল ধাঁধা।।
একের দুঃখে অন্যে হাঁসে।
ন্যায়-এর বিচার বন্যায় ভাসে।।
পরোপকারী সর্বস্ব হারাচ্ছে।
অথচ চোষাগুলো আরো অধিক ক্ষমতাবান হয়ে উঠছে।।
ভালো স্বভাবী মানুষরাও বহন করছে অপমান।
হ্যাঁ আজ এটাই বর্তমান।।

টিটু বনিক

মৃত্যু

একটা মৃত্যু দেখেনি কখনো,
তার চোখে চোখ রেখে বলতে পারিনি কখনও,
কোনো ভয় নেই কোনো ব‍্যথা নেই,
তবে তার সঙ্গে লড়তে দেখেছি 
শশ্মানে তাকে জ্বলতে দেখেছি 
কবরে বিলীন হয়ে মিশে যেতে যেতে তবুও হাড়তে দেখেনি কখনও।

তবে সে আসে নিভৃতে অজান্তেই অজানা কোনো দিবসে।
যেন সব সীমান্ত ছাড়িয়ে 
যেন সব বাধা অতিক্রান্ত করে 
তবে সে আসে একা একা কোনো অজ্ঞাত দেশে নিয়ে যেতে।
তবুও সে আসে।

শুক্লা চক্রবর্তী

নেতাজি ফিরে এসো

হে মোদের নেতাজি করি আমি, 
তোমার তরে নিমন্ত্রণ তুমি ফিরে এসো মোদের মাঝে আরও একটি বার। 
তুমি বলেছিলে মোদের, 
তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো। 
মোরা স্বাধীন তো ঠিক-ই হয়েছি ইংরেজদের শাসন থেকে, 
তবে আজও মোরা যে পরাধীন নিজেই নিজের কাছে! 
আমরা এখনও যে পরাধীন, 
বিবেক শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসের কাছে! 
তোমার তরে করি নেতাজি এই প্রার্থনা, 
দাও মোদের মুক্ত করে সমস্ত পরাধীনতার গ্লানি ও অপমান থেকে, 
তোমার মতো নেতৃত্বের দরকার সমাজে এখন যে আবার। 
তুমি-ই যে মানবতার ধর্মে উদ্ধুদ্ধ করে, 
মোদের মনুষ্যত্বকে জাগ্ৰত করতে পারো। 
যা রোজ হারিয়ে যাচ্ছে হিংসা লোভ ও স্বার্থের যাতাকলে! 
তবে-ই যে সমাজে এখন আবারও তোমার দরকার, 
তুমি ফিরে এসো মোদের নেতাজি তুমি ফিরে এসো।

Jan 17, 2022

কুশল রায়

কামভাব 

মানব কিংবা যেকোনো জীব
সৃষ্টির শুরু থেকেই এর প্রতি আকৃষ্ট,
কিন্তু এখানে কারও কিছু করার নেই
এটাই সৃষ্টির আদিকাল হইতে নিয়ম রহিয়াছে ৷
সেই মোহান্বিত বস্তু  ষড় রিপুর অন্যতম কাম 
তবে এই মায়ায় আটকে না গিয়ে বলতে হবে সেই বানি
একদা একটা কথা স্মরণে রাখিতে হইবে
যে বা যাহা ইহা জয় করিয়াছে সেই পরমহংস সত্বা  
সুতরাং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মতে 
আমারা বলতে পারি কাম ভাব হল 
মলমূত্র ত্যাগ এর মত এগুলোকে নিয়ে বেশি ভাবতে নেই যতশত ,
এগুলো হবে আবার চলেও যাবে
এই জীব দেহে অনেক কিছুই হয় 
সব মিলিয়েই জীবন ৷

রূপশ্রী চক্রবর্তী

ফিরে আয় সুভাষ

আয় ফিরে আয় আমার বুকে
ডাকছে ভারতমাতা ,
তোর অবদানেই তো খোকা  
পেয়েছিলাম স্বাধীনতা l 
দেশপ্রেমের আজ বড্ডো অভাব 
কোথায় গেলি সুভাষ ,
আমায় নিয়ে করছে খেলা
পাসনি কি তার আভাস ?
সোনার ফসল ফলায় যারা
থাকছে ভুখা পেটে ,
শয়তানেরা মারছে ছোবল 
খাচ্ছে লুটেপুটে l
চব্য, চুস্য গিলছে কেউ
করছে পুকুর চুরি ,
কেউ বা করে ফন্দি ফিকির 
বিনা দোষে বিধবে ছুরি l
ফিরে এসে দেখনা খোকা 
স্বাধীনতার চোখে জল ,
আমার কোলে আসবি ফিরে
শুধু একটিবার বল l

প্রীতম চক্রবর্তী

বন্ধুত্ব 

জীবনের বিচ্ছিন্ন সময়গুলির রহস্যের জালে, 
কেটে যায় এক - একটি গুরুভাগ সময় 
জীবনের অন্তমিল খুঁজতে খুঁজতে ।
তবু কুলহীন জীবন সমুদ্রে,
আমরা মিলিত হই ।
হাতে হাত ধরে বেঁধে যাই বন্ধুত্বের বাঁধনে ।
এ জীবনের এক একটা অধ্যায়ে লেখা ,
সুখ - দুঃখের গল্পগুলি ব্যক্ত করতে । 
শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন, 
বন্ধুত্ব আগলে রাখে সারাটা জীবন। 
না জাত, না ধর্ম মানে, না মানে জীবত্ব 
পশুর সাথেও হয় মানুষের বন্ধুত্ব । 
বন্ধুত্ব নয় শুধু মন - প্রাণের বাঁধন , 
ইষ্ট তাই মূর্তিতে আসে বিনা মন্ত্রোচ্চারণ ।
ভালোবাসা প্রাক্তন হয় বিচ্ছেদের দরুণ, 
মনোমালিন্য একটু হলেও বন্ধুত্ব থাকে তরুণ ।

বিশ্বজিৎ রায়

শীতের দিনের সকাল

ঠান্ডা ঠান্ডা ও হু কি শীত, 
কুয়াশার জন্য চোখ করছে যে মিট মিট। 
উপর থেকে পরছে বরফ, 
আর পড়ছে জল। 
জল হয়ে রয়েছে বরফ, 
আর বন্ধ হয়ে আছে কল। 
চারদিকে সাদা কুয়াশা, 
আর ঠান্ডা বায়ু। 
এই  ঠান্ডায় আমাদের, 
সকলের  কমে যাবে আয়ু। 
আগুন জ্বলাতে গেলাম, 
দেখলাম পাতাগুলো সব ভিজা। 
দাদু আমায় বলল, 
তামাক টা এনে দিয়ে যা। 
বারো মাসের মধ্যে, 
পৌষ মাঘ শীত ঋতু। 
কুয়াশায় কে যেন দাড়িয়ে আছে, 
আমি হলাম ভীতু। 
দেখলাম এইটা দাদু, 
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। 
আমি তামাক নিয়ে , 
দৌড়ে গেলাম দাদুর কাছে। 
দাদু বলল দেখ দাদু, 
সূর্য হয়ে আছে লাল। 
এভাবেই কেটে গেলো, 
শীতের দিনের সকাল

বৃষ্টি দাস

প্রতীক্ষা

মধুর এক সন্ধ্যা বেলায়
সূর্য যখন অস্তা গেছে,
আকাশেতে লক্ষ তারা
চাঁদ যে ভীষণ মিষ্টি হাসে।

এমনই এক মুহূর্তে তুমি
আসবে ও গো আমার দ্বারে,
তোমার প্রেমের চাদর খানি
আলতো করে নেব গায়ে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
অপেক্ষা করছি তোমার আশায় ,
মুক্ত মনে কখন তুমি
আপন করে নেবে আমায়।

ও গো জানি না আমি, কবে হবে
আমার প্রতীক্ষার অবসান,
প্রতীক্ষা কেবল রয়েই যাবে
দেহটা যদিও হয় পাষাণ।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

মৃত্যু বরফ

তোমার আবদারে নিঃশেষ করেছি নিজের 
অন্দরমহলের শেষতম সঞ্চিত উপার্জন,
গহবর খুঁড়ে খুঁড়ে বের করে দিয়েছি রক্ত, হাড়।
বিসর্জন দিয়েছি এককথায় মানবী পুতুলের স্বপ্ন।
তোমার আবদারের বিষ টুকু মুহূর্তে পান করে ফেলেছে আমার প্রশ্নহীন দুটি ঠোঁট।
আমি তো মহান ছিলামনা, ছিলামনা কোনো দেবী।
শুধু ভালবেসে উজাড় করেছি , তোমার নামে লিখে
দিয়েছি জীবনের প্রতিমুহূর্তের হৃদযন্ত্রের হিসেব।
কখনো পালটা কোনো আবদারে বিব্রত করে ফেলিনি তোমায়, তোমার ভ্রু জুড়ে কোনো ভাঁজ নামুক চাইনি কখনো।
তুমি তাই অভ্যস্ত হয়ে গেছ পেতে পেতে, আর আমি 
দিতে দিতে। আমিও কখনো চাইতে পারি সেই বোধ 
হারিয়ে আমি তোমার চাহিদায় ব্যস্ত রেখেছি নিজেকে । ভ্রান্তি আর আশঙ্কার দোলাচলে তোমার
বাড়ানো হাত ছুঁয়ে থাকেনি আমার অবশ শরীর।
তুমি শুধু উষ্ণতা নিয়েছ, ফিরিয়ে দিতে পেরেছ
শুধু বরফের শীতলতা, মৃত এক ব্যক্তির মত।

সানী ভট্টাচার্য

হেল্পলাইন এক চার তিন

এখন দেবদূত  হয়ে গেছে
"মেট্রো "
গোপীনাথ  বদলে " বিবাহ বাসর লক্ষীনারায়ণ "
অরিয়েন্টাল এ শুধু তাই চলে
"জংগল কী রাণী"
"জংগল কা শের"
"হ্যাম  সব অকেলা হ্যাঁয় "

হ্যাঁ, আমরাও তো একা!  
এই ভালাবাসার ভীড়ে,
তাই জীবনের স্বাদ ও প্রেম খুঁজতে
শিলচর থেকে আমড়াঘাট  ধরে
প্রতি বছর যাই " ভুবন পাহাড়ে"।

চন্দন ঘোষ

নির্বাসনে তুমি

যে ক্ষতের দাগ লেগে আছে হৃদি মাঝে,
তা কি মুছে যায় এত সহজে কখনো?
প্রদীপ শিখার মত জ্বলেছো তুমিও;
তবুও সত্যের কাছে নতি স্বীকার করো না।
স্বাধীনতার প্রদীপ জ্বলেছিলো আমার ঘরেও,
তাই বুঝি পরাধীনতার গ্লানি আজো পিছু টানে!

মৌমিতা ঘোষ সেনগুপ্ত

যুগনায়ক বিবেকানন্দ

হে যুগনায়ক বিবেকানন্দ,
হে বীর সন্ন্যাসী-
আমাদের মনে জোগালে শক্তি, আনলে আনন্দ,
আত্ম মুক্তি নয় ,দেশমাতৃকার মুক্তির পথ তোমার বাণীতে।
স্বদেশ মন্ত্রে উৎসর্গীকৃত প্রাণ, জীবে প্রেম তব হৃদয়ের ধন।
বক্ষ মধ্যে নিপীড়িত ,দরিদ্র, লাঞ্ছিত ,অসহায়ের প্রতি ভালোবাসা-
অস্পৃশ্যতায় তুমি কাতর,
তুমি চেয়েছিলে ভারতবাসীর অমানিশার হবে ভোর,
অবসান হবে অশিক্ষা-কুশিক্ষার ভাঙবে ঘুম- ঘোর।
তব উজ্জীবন মন্ত্রে সকলে পাক আলোর দিশা,
উচ্চ- নীচ ভেদাভেদ, জাতিভেদ ঘুচে যাক,
পরহিতায়ে সকলে করুক জীবনপাত।
তুমি মানুষের মাঝে দেখেছিলে প্রেমময় ঈশ্বরকে-
হে যুগনায়ক, তোমার জন্মদিনে জানাই প্রণাম, করি শপথ-
সত্য জ্ঞানের আলোকবর্তিকায় চলতে পারি পথ,
ভেদাভেদ অস্পৃশ্যতার সমাপ্তিতে রইবো রত,
এই হোক তব জন্মদিনের পুণ্য লগ্নে মোদের ব্রত।।

গোপাল চক্রবর্তী

ভগ্ন অট্টালিকা

বহুদূর বিচ্ছেদের শেষে অ্যাথেন যুবক
ভুলেছে প্রেমিকা -শেওলা ধরা মন।
নিথর যেন মরদেহ, জীর্ণ প্রসাধন।
কোষে কোষে রাহাজানি অন্ধকার
শতাব্দীর শেষে মুমূর্ষু
বাজাও বিপন্ন সেতার!
 
সেদিনের জমজমাট জলসা ডুবে গেছে,
স্মৃতি পারাপারে
থেমে গেছে আতিথ্য মুখর দিন।
থেকে গেছে নিস্পলক শুধু চেয়ে থাকা,
থেকে গেছে শুধু খসে পড়া সম্মুখে আসীন।

অস্তরাগ মহলা!
ধু-ধু অন্তপুর, মৃতের চোখ -বিরাজ বৌ।
আজ ভাঙা দরজা চোখ রাঙায়।
তবু, বিরহ প্রণেতা ভাঙা ইট -ইতিহাস,
কান পাতি -বাজে সমাধি-দীর্ণ দীর্ঘশ্বাস।
আর বালক এক ভিতরে -কান্নার শোরগোল 
অন্ধের চোখে বর্তমান মানেই ভুল!
অন্ধ থামে, অন্ধ দাঁড়ায়
অন্ধের চোখ মুখর অট্টালিকায়!
আড়াল দৃশ্যপট ফেটে পড়ে, যেন পুরুষের অভিমান
অন্ধের পৃথিবীতে জানি বেকার
সব পুরনো গান!

দীপান্বিতা ভট্টাচার্য

অলীক ভাবনা

কল্পনার আকাশে উড়ে বেড়াই
আকাশের ওই প্রান্তে যেখানে....
আকাশের মিলন হয় ধরিত্রীর বুকে,
দিনের বেলায় রাতের তারা খুঁজে বেড়াই;
রাত্রিতে যেনো সূর্যের আভাস পাই।
দূর মাঠে যখন রাখালের বাঁশিতে
বেজে ওঠে বিরহ সুর;
তখনই আমার কণ্ঠে বেজে উঠে মিলন সুর....
সময় চলে যায় ঠিক সময়ে....
মূহুর্ত গুলোকে স্মৃতিপটে বেঁধে রাখি।
ভালো না লাগাটাকেই যে 
বড্ড ভালোবেসে ফেলি।
সময়ের স্রোত বয়ে যায় আমায় নিয়ে....
নেই কোনো পিছুটান,নেই কোনো যন্ত্রণা-
আছে শুধু আমার অলীক ভাবনা।।

সাহেব দেবনাথ

আমরা চোখে জানুয়ারি

জানুয়ারি মানে নতুনত্বের ছোঁয়া ।
সেই নীল আকাশে মুক্ত পাখির ন্যায় ,
বাঁধন ভাঙ্গা আনন্দের মিছিল।
জানুয়ারি মানে সেই তেজদীপ্ত বীর সন্তানের জন্ম দিন।
জানুয়ারি মানে জীবন লড়াইয়ে এক পা এগিয়ে যাওয়া।
জানুয়ারি মানে সেই একরাশ ছুটির পর ,অবসাদ মনে স্কুলে যাওয়া। 
যেন মনে হয় শৃঙ্খলে বন্দী এক জীবন্ত প্রাণ ।
জানুয়ারী মানে নীল আকাশে উড়ন্ত ঝান্ড।

Jan 16, 2022

সুজিত বালা

দেখা হবে

অস্থির হৃদয় তরঙ্গের ঢেউ।
চূর্ণবিচূর্ণ সুশোভন চেতনা বোধ।
অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা গ্রাস করেছে।
প্রাপ্তির আশায় ঘড়ির কাঁটা ধীর।
পৃথিবীর আবর্তন গতি গজ যাত্রা।

স্বপ্নের ঘোরে আর নয়।
দেখা হবে তুমি চাইলে।
করোনা মহামারীর মাঝে।
মরুভূমির তপ্ত বালু ভূমিতে।

স্বপ্নের ঘোরে আর নয়।
দেখা হবে কঠিন বাস্তবে।
সুনামির উগ্র ঢেউয়ের মাঝে।
আটলান্টিকার তুষার ভূমিতে।

দেখা হলো কঠোর সাধনায়।
উত্তরমেরু-দক্ষিণমেরু প্ররিক্রম করে।
আঁধার শেষে সূর্যের আভাতে।
সমস্ত আকাঙ্খার অবসান প্রাপ্তিতে।

পঞ্চদীপ দেবনাথ

প্রিয় নেতা সুভাষ

১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি
কটক শহরে, 
তুমি নিয়েছ জনম বীর হয়ে
জানকীনাথ ঘরে। 
মাতা প্রভাবতী তোমায়
করেছে লালন, 
সন্তানরূপে দেশবাসিকে তুমি
করেছ পালন। 
 শিখেছ তুমি অনেক বিদ্যা
নেই তো অবকাশ, 
ধন্য হন তোমার গুরু 
বেণীমাধব দাশ। 
অগ্রদূত হয়ে তুমি 
করিলে  শপথ, 
দেখিয়ে দিলে দেশবাসীকে  
স্বাধীনতার রথ। 
 ভয়েতে কাতর চিত্ত 
 ব্রিটিশ সরকার, 
জোর করে রাখে তোমায় 
বন্দী কারাগার। 
দেশ-দেশান্তরে স্বাধীনতার 
আলোড়ন, 
 ফরোয়ার্ড ব্লক তুমি 
করিলে গঠন। 
কবি গুরু করিল তোমায় 
দেশ গৌরব সম্মান, 
মোদের প্রিয় নেতা সুভাষ তুমি
মোদের ভগবান।

বিউটি সূত্রধর

অহংকার

ওহে , কিসের এত অহংকার তোর কিসের এত জ্বালা! 
কার জন্য মরিস তুই , এ ভুবনে একলা ।
ফুরিয়ে যাবে সকলই , যা আছে রিক্ততা , 
জলহীন মরুভূমির ন্যায় হৃদয়ে রয়ে যাবে শূন্যতা ।
যাহা আছে সবই হয়ে যাবে মনের ভ্রম ;
রহিবে শুধু মানব জীবনের অফুরন্ত কর্ম শ্রম।
শুকনো পাতার ন্যায় হারিয়ে যাবে সর্বস্বী, 
মরন কালে কেউ যাবেনা সনে রবে সবই ।
অহংকার পতনের মূল জানি সবাই ;
তবুও মোরা অহংকারের বশে সব ভুলে যাই ।
রং রূপের অহংকার কেহর থাকবে না চিরকাল ;
বয়োশেষে জানবে ;সবই ক্ষনিকাল।
যাবে সবাই সবই ছেড়ে কিসের এত অহংকার! 
রেখে দে সরিয়ে এসব অপ্রয়োজনীয় অলংকার।
ক্ষনিকের জীবন মোদের হয়ে যাবে শেষ ,
অহংকার ত্যাগ করি চলো আনন্দের দেশ।।

অসীম কুমার দেব

ভাড়াটে কুঠি

ভাড়াটে ঘরে থাকি আমি নিজের বাড়ি ছাড়ি
কর্ম জীবন সজীব করতে শহরে দেই পাড়ি।
জানি আমি মালিক নই তবুও ঘরে দেখি ফাগুন
মালিক যখন ভাড়াটিয়া বলে মনে লাগে আগুন ।
কানন নিজের নয় তথাপি সাজিয়ে নিয়েছে মালি
মালিকের আদেশ ছাড়তে তোমায়, করতে সত্তর খালি ।
ভাবনা ছিল কাটাবো কর্মজীবন তোমায় আঁকড়ে ধরে,
তারপর আমি ফিরব আমার ভাঙ্গা ঘর, দাঁড়িয়ে আমার তরে।

অঙ্কুর সাহা

মনের কথা

মনের কিছু কথা বলা ,বেশ ভার
অন্তরের খাচায় বদ্ধ হয় যা বারবার
সে স্মৃতি ভোলা যায় না কখনো
আর বলা ও যায় না কখনো
যখনই বা যাই বলতে সেই শব্দ বদ্ধ
ঠিক ধ্বনি শূন্যতা করে ফেলে স্তব্ধ
হয়তো বা বিশেষ দৃঢ়তায় পারতাম বলতে
যদি কেউ মর্ম বোঝার অর্থে কথা শুনতে
এমন মানব তো পেলাম না আর
তাই স্বর শব্দে পরিণত হল না কোনোবার
সবেশেষে মনের কথা শুধু মনে রয়
না বলার কেউ হয় , না বোঝার কেউ হয়

রাহুল দেবনাথ

ঘুমন্ত স্বপ্ন

মিথ্যে নিয়ে চলছে ধরা
সত্য যে ভাই ঘুমন্ত।
বিশ্বাস বুঝি বিলুপ্তের পথে
নিঃশ্বাস এখন ক্লান্ত।
আমরা যা ভাই দেখেছি শুনেছি
সত্যিই হবে বটে।
তবে কতটা সত্য বাস্তব
কে জানে কোন হাটে।
তিমির ভুবনে অসহায় বিশ্বাস
প্রমাণ খুঁজে দিগবিদিক।
তবুও ক্লান্ত চরণ সত্যর পথে
সত্য যে ভাই দিক বিমুখ।
জাগবে যে দিন ঘুমন্ত স্বপ্ন
নতুন রবি কিরণে।
আবাছা যত মিথ্যে আছে
মুছে যাবে সব সত্যের আবরণে।

আ‍ব্দুল রহিম

শেষ হাঁটা হাঁটবো

চৈত্রের দুপুরে শালিকের গুঞ্জন নেই 
মেঠো পথ নেই, রোদ্দুরে পোড়া দিন নেই 
মালগাড়ির মতো কয়লা বোঝাই করে
ছুটে চলেছি গন্তব্যে
যতো ছুটছি সামনে,
পিছনে ফেলে যাচ্ছি ভালোবাসা 
তারপর একাকিত্ব, একাকিত্ব
ভালোবাসা বিক্রি হল চড়া দামে ,
দুঃখগুলো রয়েই গেল ,
প্রতারক আমাদের ভাবনা,
চলো নিয়ে চল আজ আমার লাশ 
চৈত্রের রোদ মাখা মেঠো পথে 
একবার শেষ হাঁটা হাঁটবো ।

সৌরভ দেবনাথ

বিদ্রোহী 

বিদ্রোহী সেজেছি আজ আমি ক্ষুদ্র জীবন যুদ্ধে ,
কত লড়াই কত লড়াই খন্ড খন্ড প্রমান সহে ।
আমার রক্তের শিরায় শিরায় মিশে গিয়েছে আজ বদলার আগুন,
রণস্বরে ঝাঁপিয়ে পড়বো এবার দেখাবো কর্মের গুন।
লোকে যেথা ভীতু বলে আমি ভিতু নই,
আমি বিদ্রোহী আমি জীবনসংগ্রামী খুজি শুধু বেঁচে থাকার মূল ।
আমি ছিনিয়ে নেই সেই ভাগ্যরাশি, যাহা লোকেবলে তুই নগণ্য প্রাণী।
আমি আমার লেখার ছন্দে পরিবর্তন করি আধুনিক যুগের মানব জাতি ।
আমি অগ্নিরশিখা আমি দাবানল আমি অত্যাচারীদের করি ছাই।
এই নয় শেষ আমার এই নয় শেষ এইতো নিলাম আমি সংগ্রামের ভেষ ।
আমি লড়বো আমি লিড়েই যাবো যতদিন না নারীর নিরাপত্তা দিতে পারব।
আমি যোদ্ধা আমি লড়তে জানি আমি মানুষ আমি মৈএীর সেতু গড়তেও জানি।
আমার পরিচয় আমি বিদ্রোহী তার আগে আমি একজন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ।।

Jan 15, 2022

অলকা গোস্বামী

কবিতা কিছু পাথুরে মুহুর্ত

কিছু পাথুরে মুহূর্ত থাকে সারা জীবন,
সময়ের নদী পাথর বুকে বয়ে যায় আমরন।
কুয়াশার চাদর ঢাকা রাতে,
চাঁদ ওঠে নিজস্ব মতে;
শীত কাপড়ে আচ্ছাদিত
শরীরী বোধ,
 উরুকা রাত চিন্তনে 
রাত হয় ভোর...!
আবছায়া কৈশোর যেন
গত জন্মের পসরা,
এ বয়সে শুধু স্মৃতিটুকুই,
কিছু আর নেই দুসরা!

বরফ হাত গরম রুটি তে খুঁজে নেয় উষ্ণতা।
আর
হিমশীতল ঠোঁট চায়ের কাপে 
গড়ে উষ্ণ সখ্যতা।

Jan 14, 2022

অদিতি তুলি

ডার্ক নাইট

যোগাযোগহীন কি অদ্ভুত ভয়ংকর সময়! 
অভিশপ্ত অতৃপ্ত সুখস্মৃতিরা খেলা করে জানালার কার্নিশে
ভীষণ তুমিহীনতায় ধুঁকে ধুঁকে মরে যাই
আবার বেঁচে যাই,  জেগে উঠি
এলো বুঝি ডাকবাক্সে উৎসুক কিছু শব্দ 
সব ছেড়ে ছুঁড়ে তুমি চলে যাও
চলে যায় আমার সব প্রশান্তির আবাসন
উবে যায় নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে ফেলা তৃপ্ত নিশ্বাস 
বুকের নিরবিচ্ছিন্ন পালপিটিশন জানান দেয় 

আমি ভালো নেই। 

সাইলেন্ট মুডে রাখা মুঠোফোন 
অভিমান অবহেলায় অভিযোগ হয়ে ফেরে ঘরে
অযত্নে ফেলে রাখা ক্যাম্পফায়ারের আগুন
যেমন করে নিমিষেই খাক করে সবুজ বনায়ন
ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের মতই
ঠিক তেমনই দগ্ধ হয় আমার হৃদয়ভূমি। 
তোমার কোন বিকল্প সত্ত্বা নেই
যেমন থাকেনা কোন ব্লাঙ্ক করিডোর
অনির্দিষ্ট কালের জন্য পোড়ে বৃক্ষ ছায়া 
তেমনি পুড়ি আমিও। 
অপেক্ষায় থাকি, 
দগ্ধভূমিতে নামুক ঝুম বৃষ্টি 

পূর্নজন্ম হোক আমার সমস্ত সৃষ্টির। 

তুমি একবার চোখ তুলে তাকালে
নতুন ভোরের রোদ এসে উঁকি দেবে জানালায়
হেসে উঠবো আমি
হেসে উঠবে আমার স্বপ্নরা।।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

এখন নেতাজী

তোমার নামে হয় দারুণ উদযাপন,
বড় মানুষেরা ভাষণ দেন,
সেসব শুনে ছোটরা বড় হয় 
একদিন ওরা সব সত্যিটাই জেনে যায়।

তোমার শূন্যতার কারণ শতেক
ওরা দেখায় ~~ বোঝায়,
তবু কিছু কমিশন বসে
উৎসাহী প্রাণে শান্তি যোগায়।

গুমনামী বাবা তুমিই নাকি?
কোলকাতার কুটুম দেয় ফাঁকি।
আসল কথা বলতে কেন
কেউ কখনো হয় না রাজি!

তোমায় নিয়ে হাজার গল্প 
রূপকথাকে হার মানায়,
তোমার জয়ধ্বনি শুনে
দুর্মুখেরা চোখ রাঙায়।

'নেতাজী ফিরে এসো'
'আমরা তোমায় ভুলব না'
আহ্বান জানালো দেশবাসী,
অভিমানের পর্দা তবু সরল না।

জানো, আজও তুমি অমর হয়ে 
ঝর তুলে দাও হৃদয়ে,
দেশের ভীষণ দুঃসময়ে 
তোমার কথা পড়ে মনে।

বিশাখা অধিকারী

সমুদ্রস্নান 

তুমি কি কখনও সমুদ্র দেখেছো ? আমি দেখিনি ।
প্রিয় কবি আমায় বলেছে —
'যদি আকাশকে ভালোবাসো তবে সমুদ্র হও' ।
আকাশে অনেক নীল থাকে আমি জানি, 
তবে শুনেছি সমুদ্রে নাকি অনেক ঢেউ ,
একবুক গভীরতা নিয়ে সারাক্ষণ গর্জায় ! 
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত — সময় আশ্রয় খুঁজে তার বুকে ।
বলতে পারো সমুদ্র আকাশকে কোথায় জায়গা দেবে ?
আরও কতটা গভীর হলে সে আকাশকে ধারণ করতে পারে? 
এতো মেঘ , এতো উত্তাপ , এতো ঔজ্জ্বল্য !

সেই যেদিন আমার দেশে বলয়গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হলো 
আমি সেদিন সমুদ্রে স্নান করেছি ,
তরঙ্গ ছিলো , গর্জন ছিলো না , আর ছিলো নোনাজল ।
একবসন্ত পর আবারও কোনো পূর্ণিমারাতে আমি সমুদ্রস্নান করি , —
অকৃপণ আকাশের স্নিগ্ধ বারিধারায় । 

Jan 11, 2022

কাঞ্চন দেবনাথ

মৈত্রী সেতু

এপার ভারত ওপার বাংলা,
মধ‍্যে নদী ফেনী-
দুপারের অভাবখানি,
মিটিয়েছে মৈত্রী সেতুখানি।

ভারত বাংলার মেলবন্ধন,
এই মৈত্রী সেতু-
দু-দেশেরই লোক আসে,
দেখতে আত্মীয় মুখ হেতু।

দেশ বিদেশের গাড়ি চড়বে,
মৈত্রী সেতুতে-
এপার পণ্য ওপার যাবে,
আসবে ফিরে ভারতে।

অর্থনীতি চাঙা হবে,
দুঃখ হবে দুর-
রূপমালা মৈত্রী সেতু,
প্রকৃতিতে অপার মধুর

সুধীর রায়

কলম তুমি

কলম তুমি আঁচড় কাটো ডাইরির পাতা ভরে,
সুখ দুঃখের কাহিনী গুলো বিন্দু বিন্দু ঝরে!
নিরবধি আঁচড় কাটা, এই তো তোমার কাজ!
অবিরত কাটছো আঁচড়, সকাল কিংবা সাঁঝ!

আঁকছো কতো পাহাড়-নদী, রং বেরঙের ছবি,
তোমার ছোঁয়ায় পরশ পেয়ে মনটা ভরায় কবি!
মনের সুখে লিখো তুমি অনুভূতির কথা,
কেউ না জানুক কবি জানে তোমার কতো ব্যথা।

অজ্ঞানতার আঁধারে যখন কারো মন হয় কালো!
কবির হাতের স্পর্শে তুমি, ছড়াও জ্ঞানের আলো।
কলম তোমার শক্তি যে,অসির চেয়ে বেশি,
কেউ না জানুক, এই কথাটা জানে শব্দ চাষী।

নেই কো তোমার চাওয়া পাওয়া!নেই কো অভিযোগ!
আকাশ সম উদারতা!
তোমার আঁচড়ে শান্তির বার্তা।
অবিরাম বিলিয়ে যাও সৃষ্টি সুখ।

কলম তুমি যুগে যুগে চলেছ ইতিহাস লিখে!
নেই ক্লান্তি! নেই অবসাদ!
অবিরত সৃষ্টি সুখের উল্লাসে থাকো মেতে!
বিন্দু বিন্দু কালি মাখা বদন খানা কভু নাহি হয় ফিকে!

কলম তুমি আঁচড় কাটো, ডাইরির পাতা ভরে,
অক্ষরে অক্ষরে শান্তি ঝরে পড়োক বিশ্বের দরবারে।
কলম তুমি সম্মুখে দেখো যদি অন্যায়, প্রতিবাদী হয়ে আঁচড় কেটো,
যেন ন্যায় ঝরে পড়ে তোমার প্রতিটি অক্ষরের বন্যায়।

মায়া রানী মজুমদার

রাজমিস্ত্রি  

রাজমিস্ত্রি করছে কাজ
                 সুনিপুণ  হাতে, 
বাড়ীঘর রাজপ্রাসাদ তৈরী
              নিজেদের হাতে।
কত শ্রম কত কষ্ট ওদের 
             শুধু টাকার জন্য, 
একটু হাসি খুশী ভাবে 
           বেঁচে থাকার জন্য।
ঝড় বাদল রোদ বৃষ্টি 
        ওরা করছে উপেক্ষা, 
করতে হবে কাজ যেন 
         এটা একটা পরীক্ষা।
সুন্দর কারুকার্য করে ওরা
            নক্সার  ডিজাইনে, 
নিজেদের মত করে ওরা 
       কাজ করে আনমনে।
সুন্দর ওদের হাতের কাজে 
             ওরা যেমন খুশি, 
মালিকও খুশী হয় যেন
          তার দ্বিগুণ বেশী।
হারভাঙ্গা খাটুনিতে নির্মিত
        রাজপ্রাসাদ মন্দির, 
নির্মিতে ঘরবাড়ী প্রাসাদ 
             হয়ে যাই অধীর।
মজা লুটি মোরা ঐ 
            সুন্দর  প্রাসাদের, 
টাকার বিনিময়ে পাই মোরা
      এত শ্রমের আস্বাদের।
সারাদিনের খাটুনিতে 
           যা দাম দিই মোরা, 
একবারও ভাবি না 
       আছে কিভাবে ওরা ?
হাসিখুশি থাকে শ্রমিক 
         আপন ভোলা মনে, 
যা পায় তাতেই সংসার 
          চালায় খুশী মনে।

পাপিয়া দাস

রঙিন  পৌষ

পৌষের উৎসব
মাতিয়ে তুলল,
পিঠে পুলির গড়াগড়ি।

বনভোজনে যাওয়া আসা
কি আনন্দ!
নাচ আর আড্ডার  ছড়াছড়ি।

ইংরেজি  বর্ষবরণ
এখানে  নয় যে শেষ,
আছে শুভ কামনা,আলিঙ্গন ও বেশ।

পৌষের উৎসবে
আরও আছে,
বুড়িরঘর পুড়িয়ে  হবে যার শেষ।

কয়েকদিন  আগে থেকেই  
ঘর বানানো  চলতে থাকে,
শুকনো  লতাপাতা দিয়ে।

পৌষের শেষ দিনে 
শীতের অভয়ে,
স্নান সেরে সব ছেলেপুলে দেয় বুড়িরঘর পুড়িয়ে।

নানারকম পিঠেপুলি
খেজুর রসে কলসি ভরা
আরও খেজুর  গুড়।

সংক্রান্তিতে হয় পুজো
আমাদের  পূর্বপুরুষদের,
সন্ধ‍্যায় হরিরলুট আর কীর্ত্তনীয়া সুর।

আমিনুল ইসলাম

ভারতীয় বীর সেনা

ভারতের শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের বীর সেনা।
তারাই আমাদের রক্ষা করে প্রতিনিয়ত।
দেশের জন্য জীবন দেয় শত্রুর হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
রক্ষা কবছ হিসাবে কাজ করে।
ত্রিবর্ন রঞ্জিত পতাকা বুকে জড়িয়ে রাখে আজীবন।

তাদের জন্যই শান্তিপূর্ণ থাকে ভুবন।
স্বাধীন ভারতের সন্তান তাঁরা, 
দেশমাতাকে ভক্তি জানায় সর্বক্ষণ।
আত্মীয় স্বজন পিতামাতা সন্তান ছেড়ে পরে থাকে বর্ডারে।
শুধুই আমাদের রক্ষার স্বার্থে।
ভারত মাতার বীর সন্তান তোমাদের ভুলিনা কখনো,
তাই প্রতিনিয়ত রাখি হৃদয়ের সর্বোচ্চ আসনে তোমাদের স্থান।
এই দেশের প্রকৃত নায়ক তোমরা।
ভারতের বীর সেনা নিয়ে গর্ব করি আমরা।

মনচলি চক্রবর্তী

বীরসন্তান নেতাজী 

জয় হিন্দ বলে করলে পন
দেশকে করবে মুক্ত স্বাধীন 
জীবনতুচ্ছ করে প্রতিদিন 
লড়ে গেলে মাতৃভূমির জন্য  চিরদিন দেশমাতৃকার জন্য দিলে বলিদান 
তুমি  সুভাষ, ভারত মাতৃকার বীর সন্তান 
প্রনমি  নেতাজী তোমায়  চিরন্তন
বীর সেনাপতি নেতাজী 
থাকবে হৃদয়ে মোদের হয়ে অমর
স্বাধীনতার বীরগাথায় তুমি চির উজ্জ্বল। 
ইতিহাসের মাঝে তুমি সুমহান,তুমি প্রোজ্জল।

অভিজিৎ দত্ত

উন্নয়ন
ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার 
একমাত্র ছিল লক্ষ্য দেশের 
উন্নয়নই যেন হয় মুখ্য। 
হায়রে দেশের অবস্থা 
ভোট সর্বস্ব রাজনীতি 
শেষ করলো দেশটা।
ভোট যখনই আসে
মনে পড়ে উন্নয়নের কথা
ভোট চলে গেলে আবার 
সেই পূর্বেকার অবস্থা। 
জাতপাত, ধর্মের তাস খেলে
যে দেশে হয় ভোটের লড়ায় 
উন্নয়ন সেখানে থমকে দাঁড়ায়। 
কোথাও উন্নতি,কোথাও অবনতি 
এইভাবেই হয় জনগণের ক্ষতি।
উন্নয়নের জায়গায় বেশীরভাগই 
এখন আখের গোছাতে ব্যস্ত 
কে,কতো তাড়াতাড়ি বড়োলোক হবো, 
সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত। 
অর্থ আর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে
যে কোনো কাজ হয় সময়ে
তাহলে দেশের জনগণ 
কতদিন সইবে এই অনুন্নয়ন?

সুব্রত ভৌমিক

ভাঙা সোপান

আমি তোমাতে বিরক্ত নই জীবন,
আমার প্রশ্নই আমিকে হয়রানি করে।
সন্তানের সামনে খালি থালা,
আমার দুঃখ নয়, আমার প্রশ্ন!

চাঁদের কলঙ্ক ডাকা অমানিশা
ভুলে যাক তার কথা।
দিনের সূর্যে বাধা থাক সব,
আবার জাগুক স্বপ্ন হয়ে।

দুঃখ আর হাসির মাঝে
নদী থাক তার পথে।
লাঠির আঘাতে নয়
মননে থাক বাণী।

জীর্ণ বস্ত্রের দাগ
হয়ে যাক চাঁদের কলঙ্ক।
বয়ে যাক  নীরব ব্যথা,
সুখদুঃখের গদবাঁধা গদ্যে।

ছন্দহীন দুঃখ বয়ে যাবে
কালের স্রোতে।
প্রশ্ন তার মত থেকে যাবে
নিষ্পলক রাতের আকাশে।

Jan 6, 2022

সম্রাট শীল

প্রস্তাব

বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলাম,
সবুজের ভিড়ে।
ভালোবেসে আমাকে নিয়েছে,
তাদের নীড়ে।।
দিয়েছে কতো নির্মল হাওয়া।
আমার কাছে তা অনেকটা পাওয়া।।
প্রেম ছিল ভরপুর,
নিঃস্বার্থতার সাথে।
আমিও ভালোবেসে রেখেছি,
আমার জীবন তার হাতে।।
যে জীবন আজ পুরোপুরি,
তার জন্যই নিঃশ্বাস ফেলছে।
ভালো থেকো সবুজ।।

রাহুল শীল

অগ্রাধিকার
           
এই যে কতকাল ধরে হাঁটতে পারিনি
পৌরাণিক শত্রুতার জেরে,

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রতিবিম্ব দেখেছি বহুকাল
বুকে লেগে আছে শুকনো পাতার ভস্ম,
এই যে কত উপহারের ওজন‌ তালিকাবদ্ধ করিনি কেউ!
অথচ শিহরিত শালিকের মতো গায়ে লাগিয়েছি সৌরতাপ।

এখনো ঠিক আগের মতোই রক্তের বিনিময়ে এঁকেছি 
সুড়ঙ্গ তৈরির নক্সা,
জিওল মাছের মত লাফাতে লাফাতে গান শুনিয়ে দেখিয়েছি নিজস্ব স্পর্ধা,
আপ্তবাক্য শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে দর পায়নি ঠিকই
ছলনার জালে জড়িয়ে রাখা হয়েছে কত বিশুদ্ধ নদী!

মাঝরাতের কুয়াশা দিয়ে তৈরি করে গেছি দীর্ঘতম সেতু,
অথচ প্রিয়জন এসে দাবি জানায় সেতুর দৈর্ঘ্যৈ তাদেরই অগ্রাধিকার!

দীপু রায়

হৃদয় পোড়ে যখন

হৃদয় পোড়ে যখন, আমি উদ্ভ্রান্ত তাকাই দিগন্তরেখার'পর...

নববর্ষ শুধুই কী হুল্লোরের...!!!

গৈরিক বসন বীর সন্ন্যাসীর ভাবগম্ভীর উদ্বাত্ত্ব আহ্বান -
"অজ্ঞ ভারতবাসী, মূর্খ ভারতবাসী চন্ডাল ভারতবাসী, আমার রক্ত আমার ভাই। "

যদি সবাই বলার সাহস, আর পালনের সদিচ্ছা দেখাতো দেশটা বদলে যেত অ্যাদ্দিনে।

বৃটিশ সিংহের দর্প পদানত করে ইম্ফলে তেরঙা তুলল যে বীর, তার উদ্বাত্ত্ব আহ্বান
"কদম কদম বড়ায়ে চল " আজও তেমন ভাবে অনুসরণ করলাম কই...???

ঘটা করে বাগদেবীর আরাধনায় মাতি, পরিপাট করে পড়া ধুতি পাঞ্জাবি লাল পাড় সাদা বা হলুদ শাড়ি আর রাঙা পলাশ-শিমূলের রক্তিম ছটায় উদ্ভাসিত হচ্ছি...

আল্ট্রা মডার্ণ...
কিন্তু বিচূত্য হচ্ছি রোজ;
নিজস্বতা থেকে, অনাহূত ভবিষ্যত থেকে তার খেয়ালটুকু রাখছি না কেউ।

পণ্য শুধু বস্তু দ্রব্য নয়, আমরাও অজান্তে পণ্য হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে...।

অশোক মণ্ডল

আমার দেশ

শোনো শোনো দেশবাসী শোনো দিয়া মন 
দেশমাতৃকার চেয়ে নাই বড় কোনও ধন।
দেশের লাগি শত শহীদ দিয়েছে জীবন দান 
আমরা সবাই মিলিত ভাবে রাখব তাঁদের মান।
বিশ্ব মাঝে ছড়িয়ে আছে ওদের গৌরব গাঁথা
আলোয় আলো ঝলমল ইতিহাসের পাতা।
দেশ মাতৃকার শিঁকল ছিড়েছে বীর সন্তান সুভাষ
পতপত তেরঙ্গায় ঝলমল এ দেশের আকাশ।
এদেশ আমার এ দেশ তোমার এ দেশ সবার 
হাতে হাত আটকে দেব আঘাত মানবো না হার।
মোরা ভারতবাসী থাক শুধু এই পরিচয়
জাত নিয়ে ধর্ম নিয়ে কোনো লড়াই নয়।
বিশ্ব মাঝে শ্রেষ্ঠ হোক তোমার আমার এ দেশ 
বিহঙ্গেরা উড়ুক আকাশে মুছুক দারিদ্র্যতার ক্লেশ।

নীরেশ দেবনাথ

দিয়েছি বিদায়

দূর হতে আমি তোমারে দিয়েছি বিদায়
আমি দিয়েছি বিদায়!
কাছে আমি নাই বা গেলাম, 
দূরে থেকে কি যায় না বিদায় দেওয়া?
আশীর্বাদ স্নেহ প্রেম ভালোবাসা আদর
সবই কি ঘোরে ফেরে কাছে কাছে?
দূর হতে কি যায় না পাওয়া?
দূর হতে কি যায় না দেওয়া?
আমি দূর হতে দিয়েছি বিদায় 
আমি দূর হতে করেছি আশীর্বাদ 
স্নেহ প্রেম ভালোবাসা 
দূর হতে হয়েছে আদান প্রদান 
দূর হতে আমি তোমারে দিয়েছি বিদায়।

রুপালী রায়

গল্পের ফেরিওয়ালা

আমার স্কন্ধে  পা রেখে 
হেঁটে চলে একশো শত 
সরীসৃপ প্রাণী ।
আমার দুচোখে প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেউ 
এক পাড় ছাড়িয়ে অপাড়ে তুলেছে 
দুর্দান্ত লড়াই ।
তিমির রাত্রিতে মরে যাওয়া 
লক্ষাধিক মৃত্যুর আওয়াজ 
স্তব্ধ করেছে একটা ঝড়ের পূর্বাভাস ।
এই অবেলায় কারা যোগ দিয়েছে 
অসুরের সৈন্য দলে ।
মৃত্যুর পরোয়ানা নেই 
বেঁচে আছি এক শত 
মরুভূমিকে এক করে ।
মৃতের সংখ্যা গুনতে বসেছিল 
একদল জোনাকি ।
পাড়ার ছেলেরা ঘুমন্ত শরীরে 
স্বপ্ন দেখে প্রেমিকের নীল শাড়ি ।

সুপ্রতিম ভৌমিক

হে বীর বিবেকানন্দ  
    
হে বীর বিবেকানন্দ,
ভারত মানব মহান,
প্রভাত রবির ন্যায়
আজো উদীয়মান,
তব শুভ জন্ম দিবসে,
মহাপূণ্য লগনে,
করি নিবেদন শ্রদ্ধার্ঘ্য চরণে,
জানাই সহস্র প্রণাম ;

     হে সপ্তর্ষি শ্রেষ্ঠ, জ্যোতিষ্মান,
     বিশ্বলোক মানস আকাশে,
     অস্তমিত হও নি কখনো ;
     যুগ যুগান্তর ব্যাপী,
     করিবে বিরাজ,
     পূর্ণ জ্যোতিতে,
     অন্তর মধ্যাকাশে ।

অনুমন

নারী

মা তিনি, যিনি জন্ম দেন আর, স্ত্রী সে,যে তোমার জন্য জন্ম নেয়।
মা তিনি,যিনি সবকিছুর 
         সাথে পরিচিত করান;
স্ত্রী সে,যে তোমার জন্য সবকিছু ছাড়তে পারে।
মা তিনি,যিনি তোমাকে সম্পূর্ণ  করেন; 
স্ত্রী সে, যে তোমার জন্য সম্পূর্ণ হয়।
মা হৃদয়,স্ত্রী স্পন্দন ।
মা শ্বাস, স্ত্রী জীবন ।
তাই মা কে জননী বলা হয়;
আর সঙ্গীনীকে ধর্মপত্নী।
দুজনকে ছাড়াই তুমি অসম্পূর্ণ; আর দুজনের দ্বারাই তুমি পূর্ণ।

রামমোহন বাগচী

প্রনাম, হে বীর

মোদের গর্ব 
মোদের আসা
বারই জানুয়ারি , 
তেইশে জানুয়ারি। 
দেশ মায়ের কুলে 
আলোর রশ্মি 
স্বামীজী, নেতাজী। 
স্বদেশ মন্ত্রে জাগ্রত প্রাণ দেখালে নূতন পথ। 
চন্দ্র সূর্য আছে যতদিন
হে বীর, অমর রবে ততদিন। 
দেশ মায়ের অমর সন্তান
আজ ও আছে প্রয়োজন ফিরে এস ভারত মায়ের কুলে
দেখাতে সত্যের পথ  । 
স্বার্থের লোভে মত্ত হয়ে
করছে আস্ফলন। 
ভুলে গিয়ে সত্য মিথ্যা
দেশটাকে করছে কাটাছেঁড়া
ধর্মের কসাই মানবতার
গলায় পরিয়ে ফাঁস  
করছে বড়াই,ভুলে ধর্মের সার।

অনন্যা ভট্টাচার্য

প্রান্তিক

যাত্রীহীন যাত্রী যান, মেঘে ঢাকা আকাশ, 
খসে পড়া তারা, চরাচর দিশেহারা। 
তীক্ষ্ণ বরফ খণ্ডে সমুদ্রে খেলা
ভাসমান হয়েও নিমজ্জিত
জোনাকির মতো -  প্রান্তিক।