Jan 25, 2022

সায়েম সাদাত

হিন্দু কলেজের ছাত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত(১৮২৪-১৮৭৩) ডিরোজিও কিংবা আর্চ ডিকন ডিয়ালটির প্ররোচনায় ক্রিশ্চান ধর্মে ধর্মান্তরীত হন নাই।পণ্ডিতগণ এ মর্মে দুটো কারণকে  উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেছেন: 


১.রেভারেণ্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুন্দরী কন্যা দেবকীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা।

২.ক্রিশ্চান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ড গমন করে কবি খ্যাতি লাভ করা।

দুটো কারণই ছিলো মধুসূদনের জীবনের সজীব স্বপ্ন।কিন্তু পূরণ হয়নি একটিও।নিজের আমিত্ববোধ কিংবা নিজ সিদ্ধান্তে অটল মনোভাবের কারণে পূরণ হয়নি প্রথম স্বপ্ন।কারণ পাওয়া না পাওয়ার হিসেবের চাইতে ব্যক্তি মধুসূদনের কাছে বড় ছিলো তার স্বকীয়তা।

মধুসূদন-দেবকী একজন অপরজনকে ভালোবাসতেন।ভালোবাসা তাঁদের কমতি ছিলো না।কৃষ্ণমোহনকে জানানো হলো।তিনি সম্মত হলেন।বিপত্তি অন্যত্র।মধুসূদন তখন মদ পান করতেন।কৃষ্ণমোহন তাঁকে মদ পান ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।মধুসূদন ছাড়েননি।বিয়েও হয়নি।

দ্বিতীয় কারণের মূলে আছে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের দমন-পীড়ন।মধুসূদনের প্রতিভার কমতি ছিলো না(সে কথা সবশেষে বলবো)।মূলত তিনি উপযুক্ত সুযোগ বা সহযোগিতার অভাবে ইংরেজি কাব্য সাহিত্যে সে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেননি।

ইংরেজরা বাঙালিদের প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়েছেন কিন্তু প্রতিভা অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা দিতে বরাবরই কুণ্ঠা বোধ করেছেন।দৃষ্টান্তস্বরূপ:কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুজন স্নাতকের অন্যতম একজন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।ব্রিটিশরা তাঁকে চাকুরী দিয়েছিলেন ঠিক কিন্তু পদন্নোতি দেন নাই।তার পূর্বে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেলাও তাই।

সকলে যা ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না মধুসূদন সেটিই ধারণ করেছেন।১৮৪৯ সালের ১৮ই অগাস্ট ইস্কুল জীবনের প্রিয় বন্ধু গৌরদাস বসাককে এক চিঠিতে তাঁর অধ্যয়নের নির্ঘণ্ট সম্পর্কে লেখেন,"সকাল ছটা থেকে আটটা পর্যন্ত হিব্রু,আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত স্কুল,বারোটা থেকে দুটো পর্যন্ত গ্রিক,দুটো থেকে পাঁচটা পর্যন্ত তেলুগু,তারপর সংস্কৃত,সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত লাতিন,সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত ইংরেজি।"অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে,এই গভীর অধ্যয়নের কারণেই তিনি মহাকবি,বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি,সফল নাট্যকার,সফল সনেট রচয়িতা,গীতিকবিতার পথিকৃৎ।তিনি নবজাগরণের অগ্রদূত।তিনি কবি মানুষের কবি।কারণ তিনিই শিকল ভাঙলেন,দৃষ্টি ফেরালেন,দেবতা থেকে মানুষের অভিমুখে। 

তাঁকে নিয়ে সমালোচনা ঢ়ের।তারমধ্যে  ড.শ্রী সুকুমার সেনের বলেছেন,"দৃষ্টি যদি অন্তরের দিকে পড়িত,তাহা হইলে বোধ করি কাব্যকলায় তাঁহার সৃষ্টি আরও অবন্ধ্য হইত।তবুও তিনি যাহা করিয়াছেন তাহা যথেষ্ট।"

সত্যিই তো,তবুও তিনি যাহা করিয়াছেন তাহা যথেষ্ট!

মহাকবির জন্মদিন আজ।শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাঁকে