প্ল্যাটফর্ম
Nov 22, 2021
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
সেলিম মুস্তাফা
তৈমুর খান
ইক্ষুক্ষেতের পাশে
ইক্ষুক্ষেতের পাশে আমাদের সোনালি বৈরাগ্য
উদ্বাহু দাঁড়িয়ে আছে
কী কথা শুনতে চায় এত?
উদ্গত কথাদের বিরামহীন অস্ফুট ধ্বনি
বিমূঢ় কল্লোল তুলে ভাসাতে চায়
আমাদের আলোকিত পরবশ
মেধাবী মৈথুনের দেশে
উড়ে যায় বিদগ্ধ চতুর হাঁস
কৌতুকের অভ্যাস থেকে আমরা ফিরি
আমাদের অন্ধ পিতার কাছে
যেখানে অন্ধকারে গৃহগত পাপ
আত্মসুখের বিনুনিতে লুকায় অভিশাপ
ইক্ষুক্ষেতের পাশে সবুজ নদীতে
লখিন্দর ভেসে যায়
আমরা রতির আক্ষেপ দেখে বিকেল গড়াই
অপাংশু দেবনাথ
সৌমিত বসু
তমা বর্মণ
কুশল ভৌমিক
শান্তনু ভট্টাচার্য
হারাধন বৈরাগী
মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ
তমালশেখর দে
বিজয়া দেব
কমল সরকার
সো ওম্
সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী
জহর দেবনাথ
জীবন বড়ো বিচিত্র হে
জীবন বড় বিচিত্র হে,জীবন বড় বিচিত্র
ভূ মন্ডলে এমন কিছু নেই
যা এই জীবনে নেই
জীবনের আদী আছে
আদী যখন আছে অন্ত ও আছে নিশ্চয়ই
লড়াই আছে সংঘাত আছে দুঃখ সুখ ও আছে
হিংসা প্রতিহিংসা,উত্তান পতন
লড়াই সমঝোতা মান অভিমান
সব কিছু নিয়ে এ এক বিচিত্র কারখানা
জীবন বড়ো বিচিত্র হে জীবন বড়ো বিচিত্র
জীবনের অনিবার্য অন্ত জেনে ও
মানুষ আরো বেশি বিচিত্র
রূপ যৌবন অর্থ ক্ষমতা জৌলুস
সব কিছুর ই অন্ত আছে জেনেও
মানুষ কেমন হিংস্র লোভী আর প্রতিহিংসা
পরায়ণ---
ভাবো হে মানুষ একটি বার ভেবে দেখো
সবকিছুই বিলীন হবে হে
তুমি অমর কিংবা অজেয় নও
এই গর্বের দেহ মন দম্ভ হুংকার
সব কিছু ছাই হয়ে বিলীন হবে
এই পঞ্চভূতে
জীবন বড়ো বিচিত্র হে জীবন বড়ো বিচিত্র।
পঙ্কজ কান্তি মালাকার
সময় ও অঙ্ক
সবাই ভাবে ও কেমন ছেলে
রাতকে করে দিন,
দিনটা যেন রাত তার কাছে;
সবার অনেক অভিযোগ
ঘড়ির কাঁটায় চালাতে পারে না পা-
ওঁরা জানে না
বড় অঙ্ক কষছি
যা ওই বারো ঘন্টার ঘড়িতে কুলোয় না।
আমার কাছে অনেক পাওনা
অনেক দেনা
শূণ্য থেকে শুরু নয় বলে
অথচ শূণ্যের বুকের উপরে সংখ্যার খেলা,
পিঠে সংখ্যার বোঝা নিয়ে
ঋণাত্মক থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা করছি।
ঘড়িকে বশে আনার প্রচেষ্টা করছি।
Nov 21, 2021
স্বপন দেবনাথ
ওরাই আপনজন
এসেছে নতুন ফসল
কত আনন্দ সকলের মুখে,
কত কষ্ট, কত শ্রম দিয়ে
ফলায় এই সোনালী ফসল।
নেই কো তাদের বিরাম
দিনরাত করছে পরিশ্রম,
রৌদ্র আর বৃষ্টি মাথায় করে
কাটাচ্ছে অবিরাম।
তাদের মানুষ করছে উৎপীড়ন
বলছে ওরা নাকি ছোটলোক,
কিন্তু তাদের দয়ায় আমরা
করছি ক্ষুদা নিবারন।
ওদের গুনাগুন গাইছে কজন
সমাজে ওরা আছে সর্ব নিম্নে,
ওদের এই পরিশ্রমে বলো সবে
ওরাই আমাদের বন্ধু, ওরাই আপনজন।
Nov 20, 2021
জগন্নাথ বনিক
আমার বন্ধু কৃষক
সোনালী রঙের সোনালী ফসল,
রঙ ছড়াচ্ছে আজ।
আনন্দে আজ আত্মহারা কৃষক ভাইয়েরা,
মাঠে ঘাটে করছে বুঝি অনেক কাজ।।
লাল ঠোঁটের ঐ টিয়া পাখি,
দল বেঁধে আজ ছুটছে মাঠে ঘাটে।
কৃষকের জমির সোনার ফসল খেতে,
ঐ টিয়া পাখিটি কিচিরমিচির শুধু ডাকে।।
মাঠের কৃষক আজ পরিশ্রান্ত,
সোনার ফসল ঘরে তুলি বারে।
ধানের আঁট কাঁধে নিয়ে কৃষক ভাইয়েরা,
আনছে দেখো বাড়ি ঘরে।।
শীত এসেছে ধান পেকেছে,
উৎসব হবে পুলি পিঠার।
তাই তো কৃষক মনের আনন্দে,
সোনার ফসল ঘরে আনছে বুঝি বারবার।।
দেশের বন্ধু কৃষক আমার,
সোনার ফসল ফলায়।
অন্ন দিয়ে খাদ্য দিয়ে,
দেশের মানুষের প্রাণ বাঁচায়।।
অভ্রজিৎ দেবনাথ
সময়
একদিন এমন সময় আসবে
সবকিছুর বিরতি দিয়ে ভেঙে দেব
মুষ্টিমেয় শব্দের বেড়াজাল।
বন্ধ হবে তোমার আমার প্রতিদিনের
অবাস্তব লেনদেন।
বেপরোয়া মন, অশান্ত
পাথরের গায়ে করে প্রতিঘাত।
এমনও হতে পারে
একদিন সব ভুলে
মুষ্টিবদ্ধ হবে হাত।
অতনু রায় চৌধুরী
এক হাজিরা
দেনা পাওনা হিসেবের ভিড়ে
এক হাজিরার মাঝেই একটি সংসার টিকে থাকে।
লুকিয়ে একটি জীবনের গল্প
মানুষ বড় অসহায় যখন হারিয়ে যায় তার পছন্দ।
তবুও জীবনযুদ্ধে মানুষ হেঁটে চলে
কোনোদিনের সেই সুখের আশায়।
বেলা শেষে মানুষ ভালো থাকতে চায়
কাছের মানুষদের ভালোবাসায়।
বিধর্না মজুমদার
অনিবার্য প্রতিফলন
আমি দিবস রজনী প্রতিফলিত হই
কখনো সূর্যের মতো তেজদিপ্ত হয়ে,
কখনো আবার চাঁদের মতো শান্ত-স্নিগ্ধ ভাবে।
আমার প্রতিফলন অনিবার্য!
আমি বাঁধা প্রাপ্ত হই বারংবার,
বাঁধা এড়িয়ে আমি আবার
অন্যদিকে রাস্তা বদলে নি।
আমি অনবরত চেয়ে থাকি
সময়ে সময়ে আমার শক্তি বাড়ে কমে,
আমি দিনের আকাশে বিলুপ্ত হয়ে,
রাতের আকাশে পাড়ি দিতে থাকি।
অর্ধেন্দু ভৌমিক
শুকনো অঞ্জলী হাতে
বুকে ড্রয়ায় খোলা
শীতল হাওয়ায় উড়ে
পাখি, অনন্ত আকাশে
প্রেম আসবে বলে...
মানুষগুলো মানুষের মাঝে
হারায়, একাকী বাসা খুঁজে
গলি থেকে গলি ।
আমি ফিরি শুকনো অঞ্জলী হাতে---
ছন্দা দাম
প্রদীপের নীচে আঁধার
আমার মাত্র একটি ছেলেই,আমার অনেক সম্পত্তি,
আমার ছেলেকে ফোর্সে দিয়ে করব কেন বিপত্তি?
ঐ বাড়ির দু তিনটে ছেলে,বাবা ছাপোষা কেরানী,
ওদের ছেলে সীমান্তে যাক,টানবে সংসারের ঘানি।
বেপাড়ার ছেলেটা শহীদ হলো দেশমাতৃকার জন্য,
আমার ছেলে বুকে ধরে রাখব,আমার ঘরটাই অগ্রগণ্য।
শহীদের মা কেঁদে বলে"আজ আমার গর্বের দিন,"
আমি বলি ছেলে বার্ধক্যের লাঠি শুধবে মা বাপের ঋণ।
আমি স্বাধীন দেশবাসী,দেশের উন্নতির ভাগিদার,
আমার কর্তব্যের কথা তোলা থাক,চলবে দেশ বিনা আমার!!
আমার মহলটার সামনেই...ঝুপড়ি ভরা এদোপাড়া,
কাজের লোক,রিক্সাওয়ালা,মুটে, ফেরিওয়ালা সব
যোগান দেয় ওরা।
এদের কখনো স্ট্রাইক হয়না আমাদের দয়ায় এদের জীবন,
এঁটো খাবার,রঙচটা কাপড়, আমাদের বদান্যতায় জীবন যাপন।
আমার ছেলে অফিসথেকে,তেলেভাজা নিয়ে ফেরে
মোড়ের মাথায় মেয়ে দেখে একটু বাড়াবাড়ি করে।
এসবতো বয়সের ধর্ম,তবু জীবনে নেই অনিশ্চয়তা
রাতে আমার ভালো ঘুম হয়...মনে করে এসব কথা
মাতৃভূমিকে মা ভেবে যারা প্রাণের বলি দেয় হেলায়
তাদের মা বাপের অশ্রু ঝরে...শান্তির ঘুম পালায়।।
আব্দুল গফফার
নূতন বছর কাটবে ভালো
এত বড় আকাশে,
খুঁজি ছোট পৃথিবীটাকে-
ঊষা থেকে গোধূলি,
ভাসমান মানব জীবন।
প্রকৃতির অপার সংসারে,
রাঙিয়েছি রামধনুর রঙে- হারিয়েছে একাগ্র চিত্ত,
একাত্ম হয়েছে মনন।
প্রত্যুষের নিত্য আবাহনে,
উন্মোচিত হয় জীবন-
মধ্যগগনে ক্লান্ত কায়ায়,
ক্ষুধার জ্বালা করি সহন।
সাঁঝবেলার কলতানে,
পাখপাখালির ডাকে-
শান্ত হয় কোলাহল,
শুভনিশির অপেক্ষায়।
নিত্য খেলায় দিবস কাটে,
অতিক্রান্তে নিশির দেখা-
অতিক্রান্ত বর্ষসূচি,
নববর্ষের আগমনে।
তিথি,কাল,পর্ব, পার্বণে,
উৎসবের আহবানে মত্ত-
নির্ঘণ্টে আঁচড় পড়ে,
হালখাতার উন্মোচনে।
নববর্ষ শুভ হোক,
শুভ নববর্ষ-
নূতন বছর কাটবে ভালো,
চিত্তে সবার হর্ষ।
সানী ভট্টাচার্য
এলো বর্ষা
আজ আকাশের নীল আঙ্গিনায়
মেঘ সাজছে,
দেখো আবারও বর্ষার আগমনে
প্রকৃতি হবে শষ্যা- শ্যামলা।
বৃষ্টির স্পর্শে কচিকাঁচারা নাচে
ময়ূরের মতো।
বর্ষায় বাগানে ফুল ফুটে আনন্দে,
নতুন- নতুন রং এ নতুন সাজে।
শীতল হাওয়া বইছে.......
নদী প্রবাহিত হয় আপন মনে,
পাহাড়,সমতল বা কোনো নির্জনে।
দলবাঁধা পাখিরা ফিরছে নতুন
আস্তানার খুঁজে,
এলো বর্ষা নতুন সাজে।
অভিজিৎ পাল
আমি নারী
আমি নারী -
নিত্যযাত্রায় আমার অনাবৃত শরীর ঘেঁষে
ট্রামে বাসে লম্পট পুরুষত্ব হেসে ,
কখনও বা ভোরের খবরের কাগজে
প্রতিবাদী সমবেদনা , নারীত্ব হরণ শেষে ।
আমি নারী -
আমি ঋতুশ্রবা , রক্তসমুদ্র আমার মাঝে
প্রজন্মের ধারক আমি , শ্লীলতাহানী কী সাজে ?
অধমের মেটে পশুপ্রবৃত্তি , আমাতেই ;
সমাজে পতিতা , বাঁচা এই লাঞ্চনার সাথেই !
আমি নারী -
আমি দশভূজা , আমিই কাত্যায়নী
আগমনীর সুরে সিংহবাহনে মহিষাসুরমর্দিনী ,
পিতার রাজদুলারী কন্যা , পতিগৃহে গৃহিনী ;
আমি অনন্যা , আমিই ভগ্নিরূপিনী ।
আমি নারী -
আমি দেবদাসী , আমিই শঙ্করী
আমিই পুরুষের কল্পসুখের স্বপ্নপরী ,
জন্ম জন্মান্তরে আসবো ফিরে বারে বারে
মানুষ তোমায় ধারণ করবো , আবারও জঠরে ।
Nov 19, 2021
অলকা গোস্বামী
ডাঃ তারক মজুমদার
জীবন অভিব্যক্তি
জীবন অভিব্যক্তি
নেশায় মশগুল মহল
আলোক রোশনাই
উদ্ধত যৌবন রোশনী বেগম
কঙ্কণ শব্দ
নিঝুম রাত্রি ভেদ করে যায়
খাকি উর্দি র দল-----।
অন্দর মহল চিরনিদ্রাচ্ছন্ন প্রায়
শুধু রোশনী বেগম আর এল পি
ঝুন ঝুন ওয়ালা প্রেমের শেষ
সিড়ির প্রতীক্ষা
অতি সংগোপনে --।
নমিতা সরকার
সুপ্রতিম ভৌমিক
মানুষ কি মানুষের জন্য ?
যদি "মানুষ মানুষের জন্য ",
তবে কেন মানুষ আজ বিপন্ন ?
মানুষের প্রতি আজ মানুষের
প্রীতি, ভালোবাসা কোথায়, হায় !
বিশ্বব্যাপী কী অসহায় !
মানুষ কত ,
ক্ষুধার্ত, নির্ব্বস্ত্র, নিরন্ন ।
অর্ধাহার, অনাহারে ,ব্যাপীত
যাদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবন,
ছিন্নবস্ত্রে অর্দ্ধ আচ্ছাদিত,
অনাচ্ছাদিত কলেবর যখন,
তখন কেহ বা আড়ম্বরে মত্ত,
রাজকীয় ভোগ-বিলাসে মগন ;
আপন স্বার্থ সিদ্ধিতে সচেষ্ট নিয়ত,
হাসি-খুশী, অধিকার করিয়া শোষন তাপিত,
বেদনাতুরের , নিঃস্বেরে পদদলিত
করে কেড়ে নিল মান, সর্বস্ব ধন ;
এহেন হীন মানবতার দিয়ে পরিচয়,
বিশ্বের মানবজাতি আজ হয়েছে অক্ষয়,
আপন সুযশ গাঁথা বরণমাল্য করিয়া ধারণ,
গাহিয়া বেড়ায় আপন কীর্তি, কর্তৃত্বাভিমান ,
মুখরিত বৃথা, ধিক্ আত্ম গুণগানে,
"আমি মানবশ্রেষ্ঠ, কীর্তি মম মহান "।।
প্রেমজিৎ সিংহ
পৃথিবী
একটি পৃথিবী ,
বুকে লক্ষ্য লক্ষ্য প্রাণ -
বাহির জগতে ক্ষুদ্র ;
অন্তরে বিশাল ও মহান ।
আকারে বিশাল ,
অংশে তার বেশির ভাগ জল -
সাথে বর্তমান বনবৃক্ষ ;
যার আছে নিজস্ব সুস্বাদু ফল ।
সে ধরিত্রী ,
আছে তার জলবায়ু -
যার ফলে বেড়ে উঠেছে ;
সহস্র লোকের জীবন আয়ু ।
সে পৃথিবী ,
নেই তার অন্ত -
চারিদিকে সরিয়ে আছে ;
তারই অন্তহীন সীমান্ত ।।
প্রিয়া দেবনাথ
অপরাহ্ন
জগৎ জুড়ে কোলাহলে,
গোটা দিন যায় চলে;
সূর্যও যায় চলে,
দিগন্ত রেখার ওপারে।
পাখিরাও আসে ফিরে,
যে যার নিজ ঘরে।
কিন্তু,,,,,,,,,,,
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে,
যখন বাড়ি আসি ফিরে;
বিকেলের ডুবন্ত সূর্য,
আমাকে বলে চুপিসারে
কি করলে গোটা দিন জুড়ে?
মনে তখন প্রশ্ন জাগে,
কি করলাম আজ,
গোটা দিন জুড়ে?
তাহের আহমেদ লস্কর
সময় অথবা সন্ত্রাস
আগের মতো আর আগুনকে ভয় করিনা-
যতোটা করি 'মানুষ'কে ভয় !
আগুন আর কতটুকু পোড়ে ?
'মানুষ' আগুনের চেয়েও নির্দয় ।
আগুন পোড়ালে মানুষ দেখতে পায়
'মানুষ' পোড়ালে কেউ দেখেনা,
আগুন আর কতক্ষণ পোড়ে ?
'মানুষ' পোড়ালে আর নিভেনা ।
আগুন আমাকে আজো করেনি নিষপ্রান
'মানুষের' লেলিহান শিখায় মানুষের কলিজা বিরান ।
কল্যাণ দাস
শব্দ কুহক
শব্দ তুমি আজ ছলনায়
দিয়েছ পাড়ি কোন মোহনায়
রচিব গল্প খুঁজি গো তোমায়
দেবে কি ধরা মোর রচনায় ?
পেয়েছি তোমায় কত কৌশলে,
হারালে তুমি আমায় ছলে !
তুমি কখনো হাসাও কখনো কাঁদাও,
কখনো সোনার তরীতে ভাসাও,
বুঝিনা তোমার বুঝিনা মহিমা,
শব্দ তুমি হও কি ছলনা !
তোমাতে রূপক তোমাতে উপমা,
তোমাতে যমক তোমাতে গরিমা,
তুমিই বল গো তুমি বিহনে,
রচিব গল্প আজিকে কেমনে ?
তুমি কি শুধুই কবির মননে,
মনের গহিনে শয়নে স্বপনে,
না কি উড়ে গেলে দক্ষিণা পবনে,
মধ্যগগনে বিহগ সনে।
কবির কলমে দাও গো ধরা,
ছন্দ রূপেতে সোনায় ঝড়া,
সাংবাদিকদের কলমে আবার,
কখনো ঝড়াও মুক্তো ধারা।
পাইনা শুধুই আমার বেলায়,
তোমাকে আমার শূন্য হিয়ায়,
দ্বন্দ্ব বুঝি আমার সনেই,
লুকিয়ে থাক বইয়ের পাতায়।
আজিকে হয়তো নাইবা এলে,
ছন্দ সেজে এ শূন্য হিয়ায়,
ধরা যে তোমায় দিতেই হবে,
একদিন এসে মোর রচনায়।
রূপশ্রী চক্রবর্তী
পেটুকরাম
পিঠে পুলি নিয়ে এলো
খুশির পৌষ পার্বন ,
সকাল থেকে খেয়ে খেয়ে
পেটুকরামের যায় বুঝি বা দম l
পাশের বাড়ির পেটুকরাম
ঘরে ঘরে আমন্ত্রণ ,
খেতে বড্ড ভালোবাসে
লুচি,পুলি ক্ষীরকদম l
রসগোল্লার হাড়ি পেলে
গফাগফ গিলে ফেলে ,
নলেন গুড়ের সন্দেশে তার
জিব থেকে জল পড়ে l
জিলিপি ওর ভীষণ প্রিয়
কড়াপাকে ঘিয়ে ভাজা ,
কাজুর বরফি,মিহিদানা
বারোমজা আর ফুচকা l
পাঁচ কিলো চাল চার হালি ডিম্
উজাড় করে এক নিমেষে ,
মাছের কথা আর বলি কী
রুই,কাতলা,চিতল,বোয়াল
মৌরালা ও পুটি ,
একসাথে সব খেয়ে বলে
আর কী আছে বাকী !
মাটন,চিকেন দারুণ প্রিয়
বলে,রসিয়ে রান্না করো ,
শেষ পাতে লাগে যে তার
চাটনি ও পরমান্ন l
সাদা মাটা পেটুকরামের
হলো একবার ভীষণ ব্যামো ,
বললো যত ডাক্তার বদ্যি
অধিক খেয়ে ওবেসিটি
ডায়েট কন্ট্রল করতে হবে
নইলে অশেষ দুর্গতি l
পেটুকরাম বলে কি না
কম খেলে তো মরেই যাবো
খেয়ে মরা ভালো ,
ডাক্তার বদ্যি এবার এসো
আমার খাবার সময় হলো l
সুস্মিতা পাল
পুরুষত্ব দেখিয়ে নয় মনুষ্যত্বে পুরুষ হও
পুরুষ তুমি আমার ঘৃণারও কারণ, আবার তুমি আমার কবিতা লেখারও কারণ।
তুমি আমার মন খারাপের কারণ, আবার তুমি আমার মন ভালোরও কারণ।
তুমি আমার নত মস্তকেরও কারণ, আবার তুমি আমার অহংকারেরও কারণ।
তবে আজ বলতে চাই,লিখতেও যে চাই,
পুরুষ মানেই ধর্ষক,অত্যাচারী,অমানুষ,নরপিশাচ
এ নয়কো ঠিক মনোভাব,
সকল পুরুষ হয়না যে সমান।
আমি এমন পুরুষও দেখেছি
ধর্ষণের লালসায় লালসিত নয়ন নয়,
সৎ কর্ম পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত নয়ন।
এমনকি,বীর্য উচ্ছ্বাসের আগুনে উত্তপ্ত নয়,
সূর্যের উষ্ণতায় তপ্ত খাঁটি সোনার মানুষ।
আমি এমন পুরুষও দেখেছি
পুরুষত্বের অহংকারে নয়,
মনুষ্যত্বের অহংকারে আলোরিত হয়।
এমনকি,নারীকে অত্যাচার দিয়ে সুখী নয়,
নারীকে শ্রদ্ধা, সন্মান দিয়ে সুখী হয়।
তাই আজ পুরুষ দিবসের এই শুভ দিনে
বার বার বলতে যে চাই,
পুরুষত্ব দেখিয়ে নয়, মনুষ্যত্বে পুরুষ হও সকল পুরুষ।
ভালো থেকো পুরুষ তুমি।
কোথাও বাবা রূপেতে,তো কোথাও ভাই রূপেতে।
কোথাও স্বামী রূপেতে,তো কোথাও বন্ধু রূপেতে।
সঞ্জিত বণিক
বাতাস জুড়ে সফর
তাদের কথা আলাদা
ভিন্ন রূপে রঙ রসে খেলছে খেলা দিনভর
আকাশ কেবল চোখ মেলেছে
সূর্য রশ্মির মেলা,
হাওয়ারা শুধু মেলেছে ডানা
জাপটে ধরে শরীর, বুকের পাঁজর কাঁপছে ভয়ে
দুলছে মুহুরমুহু, বেলা শেষের গান নিয়ে যে ব্যাস্ত চিরকাল তাঁর হৃদয়ে ঘুমিয়ে রবে ভালোবাসার রঙ।
তাঁদের দলে যে রয়েছে চুপচাপ নির্জন
তাঁকে নিয়েই দুনিয়াদারী ভাবনা জালে মত্ত
আলোয় তখন উদ্ভাসিত জগৎ জননী,
বুকের পাঁজর যতই কাঁপুক
মনের পাজর খোলা, ভালোবাসার গল্প গুলো
ছড়িয়ে দিয়েছে ডানা।
জগৎ জুড়ে ঘুরছে হাওয়া শব্দ চঞ্চল,
স্বপ্ন ছবি মায়ায় ভরা
হৃদয় জুড়ে সফর।
পদ্মশ্রী দাস
জয়শ্রী ভট্টাচার্য
সবকিছুই মরিচীকা
গোপাল চক্রবর্ত্তী
মাঝারি
এমন একটা কবিতা লেখ
যার কোন শেষ নাই,
যার কোন শুরু নাই,
মাঝামাঝি সমতলে এসে দাঁড়াও তুমি।
প্ল্যাটফর্ম হারিয়ে তুমি আমি সমকালীন হই।
দূরপাল্লা হুইসেল দেয়-
আমাদের হাহাকার বাজে,
বেজে চলে
এর শেষ নাই, শুরু নাই।
এমন কবিতা লেখ মধ্যে নেমে আমরা দুজন কেঁদে কেঁদে বাস্তুহারা, শৈশব হারা, হাসির আঙ্গিকে!
Nov 18, 2021
কাজী নিনারা বেগম
নীলাঞ্জনা
নীলাভ আকাশে শতাব্দীর লক্ষ কোটি মানুষের ভিড়ে নীলাঞ্জনাকে আজীবন পেতে চাই,,
নীলাঞ্জনা তুমি ভালো বাসা ও বন্ধুত্ব সংঙা।।
কবিতা শব্দ তুমি মুষ্টিবদ্ধ স্বপ্নের ইচ্ছে তুমি নীলাঞ্জনা,,
ঝলমলিয়ে উঠা সুর্যার্ঘ্য তুমি নীলাঞ্জনা।।
তোমার চোখে ময়ুরাক্ষি মন ভোলানো সুখে ,,
শ্বাস প্রশ্বাসের সচিবালয় তুমি নীলাঞ্জনা।।
তারাদের ভিড়ে আলোর রোশনায় ,,
এক নতুন অধ্যায়ে বর্ণিত হবে নীলাঞ্জনা তোমার প্রেমের কাহিনী।।
সম্রাট শীল
ভ্রমের পৃথিবীতে
ভ্রমের পৃথিবীর বুকে,
আমরা বোকা বাক্সের জীব।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ভ্রমের কণা,
সজোরে গায়ে মাখছি আপন ভেবে।
পান করছি ভ্রম রস।
ভ্রমের দুনিয়ার ভালোবাসা,
তৈরী করায় কতো আশা।
আপন ভেবে নেওয়া এই জগৎ,
ব্রহ্মের কাছে মিথ্যা।
রজ্জু দেখে সাপের ভ্রম,
আমি তুমি মিথ্যা পৃথিবীর লোক।
পৃথিবীর বুকে তুমি কারো নও।
শুধু আপন ভেবে,
ভ্রমের বোঝা বয়ে যাও।
এম.এ.রশ্মি
কবি
কবি,আমি তোমার প্রণয়ের-কাব্যের নিয়মিত পাঠক বলছি।
তোমার আদুরে স্পর্শে কলমের কালিতে যে প্রেম লেখো,
তা কি তোমার প্রেমিকারূপে জন্ম নেয়া সত্যিকারের অনুভূতি?
যদি তাই হয়,তবে প্রেমের নামে তোমার অসংখ্য পাঠক নিজেকে অন্ধকারে হারিয়ে ফেলে কেন?
আমি তো জানি,পৃথিবীতে সব সুখের অন্তরালে প্রেম থাকেনা!
কিন্তু দেখবে, সব অন্যায়ের অন্তরালে থাকে গোপন চাহিদা।
তুমি শুধু প্রেম লিখবে!তবে অন্যায় লেখার দায় কার?
পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘনিয়ে আসলেও তোমাকেই তো শেষ অবধি লিখতে হবে পৃথিবীর শেষ পরিণাম।
কারণ তুমি কবি।
তোমার টেবিলে রাখা চশমার ফ্রেমে ধূলো জমুক,
লণ্ডভণ্ড হয়ে যাক তোমার সাজানো প্রেমের প্রতীক্ষিত সংসার।
তোমার দায় শুধু প্রণয়ের জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে বিশ্বপ্রেমিক প্রমাণ করা নয়।
কখনো কখনো প্রেমিকার ভারী নিঃশ্বাস উপেক্ষা করে তোমাকেই লিখতে হবে বদ্ধঘরে অচেনা বালিকার চিৎকারের মর্মব্যথা।
তোমাকেই চিহ্নিত করতে হবে প্রেমিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হায়েনাদের ঈগল চোখ।
তোমাকেই প্রমাণ করতে হবে নিজেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা তার পরিণতির কাছে কতোটা অসহায়।
তোমাকেই লিখতে হবে সব,সমস্ত কিছু।
প্রেমের নামে কত অসংখ্য প্রেমিক প্রেমিকা রচনা করে জীবনের সমাপ্তি।
কত অসংখ্য পুরুষ প্রেমিক হবার আগেই হয়ে উঠে অন্যায়কারী,
তা লেখার জন্য বুড়ো আঙুলের চাপে একটা কালি ভর্তি কলম আগলে রাখতে হবে।
তোমাকে একবার প্রেমিক ভাবার আগে অসংখ্যবার ভাবতে হবে তুমি কবি।
পৃথিবীর সমস্ত অন্যায়কে প্রতিরোধ করার দায় তোমার।
পুরুষকে প্রেমিক বানানোর দায়টাও একান্তই তোমার।
সহিদুল ইসলাম
আমি চাই না
যে পৃথিবীতে সূত্রগুলো সব অলীক অলীক,
আর বাস্তবতা অস্পষ্ট,
সেই পৃথিবীতে আমি পারফেক্ট হতে চাই না।
আমি চাই না,
যেখানে, রূপসৌন্দর্য্যের অভাবে জীবনের একটু মূল্য
খোঁজে পায় না হাজার মানুষ,
সেখানে, আমি ‘রুপ বড় নয়, গুন বড়’
এই ডায়লগ দিতে চাই না।
আমি চাই না,
যে পৃথিবীতে, শক্তিশালীর পক্ষে সত্যও মাথা নত করে,
যদিও শক্তিটা জালিমের হোক।
সেই পৃথিবীতে আমি,
সমাজসংস্কারক হতে চাই না।
আমি চাই না,
যেখানে কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা থাকে,
কিন্তু, ফুটপাতে ঘুমায় হাজার শিশু।
সেখানে আমি,
মানবতাবাদী হতে চাই না।
আমি চাই না,
শিক্ষার মত সম্পদ শুধু টাকা দিয়ে কিনে পাওয়া যায়,
সেখানে আমি,
অপরের জন্য শিক্ষিত হতে চাই না।
আমি চাই না,
যেই পৃথিবীতে বন্ধুত্ব, আত্বীয়তা, প্রেম, সম্পর্ক
এগুলো সব অর্থের সূচকে মাপামাপি হয়,
সেই পৃথিবীতে আমি দানবীর হতে চাই না।
আমি চাই না,
আরো কিছু চাই না,
যা আমার পূর্বে শুধুমাত্র সমাজের মানুষের উপর
নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বানানো হয়েছে
হাজারো সংস্কার, নিয়মন কানুন।
সেগুলো মেনে আমি সুশীল আর ভদ্র হতে চাই না।
আমি অকাট্য হব।
নিষ্ঠুর হব।
কৃপণ হবো।
দূর্বার হবো।
অস্বাভাবিক হবো।
অসভ্য হবো।
বর্বর হবো।
যার যার প্রয়োজনে আমার পরিচয়।
আমার কাছে আমি বাস্তব।
প্রসেনজীৎ সাহা
বাল্য বধূর আর্তনাদ
আমিই সেই বাল্যবধূ।
আমার পিতা বছর দশ না পেরোতেই করলো আমায় বিয়েবিদে।
আমিই সেই হতভাগী কন্যা।
আমার বাবা আমায় তুলে দিলো এক বয়স্কের হাতে।
আমিই সেই বাল্যবধূ।
আমার থেকে কেড়ে নিলো ছেলেবেলা।
আমার হাতে উঠলো সত্যিকারের রান্নাবান্নার খেলা।
যখন আমার ছিলো খেলার বয়স।
তখন আমার কাঁধে উঠলো সংসারের দায়িত্ব।
আমিই সেই বাল্যবধূ।
আমার মতো সকল শিশুকন্যাকে দিতে হয়েছে স্বপ্ন বিসর্জন।
সহ্য করতে হয়েছে অনেক কষ্ট।
আজ কত বাল্যবধূ করছে হাহাকার।
মুক্তি চাই আমরা মুক্তি চাই।
আবার পুনরায় রামমোহনের আগমন চাই।
আলমগীর কবীর
রুপালী রায়
স্বপ্নসবুজ
দস্যুর ন্যায় অদমনীয়
উত্তপ্ত রোদালোকে,
একটা সরু মেঠো রাস্তায়
রাখাল বালকের দল ।
স্তব্ধ নিবির তরু ছায়ে
কার্তিকের দুপুর ,
ক্ষুধার্ত জীবন যুদ্ধে
কৃষকের ঘর্মাক্ত দেহখানি ।
সোনালী আভায় ঝিকিমিকি
এক ঝাঁক বিহঙ্গ,
কিচিমিচি সুরে
উড়ে চলছে বহুদূর
আহারের সন্ধানে ।
বহু দূর মরু পথ
তৃষিত হৃদয়, দুচোখে শুধু বালুচর ।
উত্তপ্ত বালুকা রাশি শুষে নেয়
সমস্ত তৃষ্ণার জল ।
নিমেষে বিলিন হয়
দুচোখের অশ্রু বারি ।
বহুকাল যাবৎ খুঁজে পাই না
স্বপ্ন সবুজ ,
নীলাভ আকাশ ,
এক ঝাঁক ঝিঝি পোকা
তল পড়ে গেছে অনন্ত কালের জন্য ।
দুলাল চক্রবর্তী
মনের আবেগে
তোমার অভিসারের বেলায়
হবো না গো সাথী,
দিনগুলি সব হারিয়ে গেছে
অন্ধকারের রাতি।
স্বার্থ যেদিন দূরে যাবে
চলে যাবো পার,
পরাজয়ের রথে চড়ে
গলা কাঁটার হার ।
ঊষার আলো ফুটবে যখন
আঁধার দূরে ফেলে,
ভোরের পাখির কিচির মিচির
উড়ে ডানা মেলে।
মনের যত গ্লানি আছে
ঝেড়ে ফেলে দাও,
মন জোছনার আঁধার মাঝে
প্রদীপ জ্বেলে নাও।
ফাগুন হাওয়ায় ডাকবে কোকিল
বড়ই মধুর লাগে,
ভালোবাসার জাল বুনি সব
দুঃখ পাবার আগে।
মনটা যে আর আগের মতো
দিশেহারা নয়,
শেষ জীবনের স্মৃতি টুকু
মধুর যেন হয়।
রাহুল শীল
বাতিঘর
ধরো একটা সন্ধ্যা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে আসছে
উজাড় করে দিয়েছো তোমার আপনজন,
ধরো একটা রাত ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে আসছে
উজাড় করে দিয়েছো একমাত্র বাতিঘর।
কথা অনেক কথা! কথার পেছনের দেওয়ালে ইট নেই,
কুয়াশা খুব কুয়াশা ঘরের বারান্দায় দাঁড়ালে যুদ্ধের সামনেই!
ধরো একটা কাঁচের চুড়ি পড়েছো, তোমার আরেকটা হাত নেই,
ধরো আমাদের ভালোবাসার প্রতি এই দেশের কোনো ঈর্ষা নেই।
ধরো হঠাৎ সবুজ হয়ে গেছি- ক্লান্তহীন এক ঝাঁক পাখির চোখ,
ধরো একটা সন্ধ্যা কাটালাম, ভিন্ন দলের আমরা রাজনৈতিক লোক।।
পাপিয়া দাস
তুমি আগামীর ভবিষ্যৎ
আজ তুমি ফুলের কুঁড়ি
সুভাষ ছড়াবে ক'দিন বাদে।
তুমি আজ ছোট্ট শিশু
এই সংসার থাকবে তোমার কাঁধে।
আজ ছোট চারা তুমি
একদিন তো বিশাল বৃক্ষ হবে।
সাধ্য মতো সবাইকে তুমি
আশ্রয় দিতে বাধ্য হবে।
মায়ের হাতের মুঠোয় ধরে
আজ চলছো তুমি ভরসা করে।
বড় হলে বৃদ্ধ বাবা মাকে
আগলে রাখবে যতন করে।
রণজিৎ রায়
একই নৃত্যগীত
বৈচিত্র্যময় পদ্মপাতার বুকে টলটলে মানচিত্র
দিন ও রাত পালা করে দোল খায়
ক্ষণিকের রঙ্গমঞ্চে যারা দুর্দান্ত কুশীলব
যবনিকা এলে নীলাভ ঐশ্বর্য বিগত
সংগোপনে এঁকে যাই জীবনের বৈশিষ্ট্য
মাথা নুইয়ে কুর্নিশ জানিয়ে
কয়েক মুহূর্ত পর আবার যে-কে-সেই !
কর্মক্ষেত্র থেকে অবসরে নিবিড় আত্মবিশ্বাস
সময়ের ব্যবধানে সেই একই নৃত্যগীত
খোঁজ নিয়ে এক উড়ু উড়ু আত্মাকে দেখতে গেলাম
কয়েক প্রহর পর নিশ্চিত গঙ্গাপ্রাপ্তি জেনেও
শূন্য ঘরে আলোপাখার অপচয়ে বিচলিত
অদ্ভুত দর্শনে সীতার মতো পাতালে নেমে গেলাম !
রূপালী মান্না
বিবর্ণ ফুলের কাব্যমালা
ঈশ্বর তুমি কৃপণ কেন
এসব তোমার কেমন লীলা ?
ওদের বেলায় মন্ডা-মিঠাই
আমার বেলায় অবহেলা ?
ফুলের খদ্দের পাবো কোথায় ?
পাইনা খেতে লকডাউনে
শৌখিন মানুষ, প্রেমিকারা
বন্দী ঘরের চারিকোণে।
মেয়ে-ফুলটা শুকাচ্ছে যে
হারিয়ে তার সকল সুবাস,
সইতে হবে এ সমাজের
অবহেলা আর দীর্ঘশ্বাস।
দানের নামে ডেকে যারা
আঁচড় দিয়ে কাটলো রেখা,
যমদুয়ারে টেনে দিল
বাঁচার কঠিন সীমারেখা।
অল্পতেই খুব খুশি যারা
তাদের বেলায় তুমি কৃপণ ,
কেমন করে করবো ঈশ্বর
তোমার নামের গুনকীর্তন ?
Nov 17, 2021
নীলকণ্ঠ সাহা
মরীচিকা
চলে যায় অগোছালো দিন প্রিয়তম-
সে-ভাবেই আজও ...!
নৈবেদ্য সাজিয়ে কখনো তোমায় বলতে পারিনি কিছু ..।
শিশিরে, শিশিরে আরও কেটে যায় বেলা -
দিনান্তে কিছু স্বপ্ন ফেরি করে ফিরি ঘরে ।
তোমাকে নিয়ে এক কলম লেখাও
হল না তাই কিছু ..!
শুধু, শুধু স্বপ্নের পিছু ছুটে গেছি বারেবারে ..
প্রিয়তম, না! কিছুই হল না তবু... !
শুধু- ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি অবয়বে ওঠে বেড়ে ক্রমশ ...!
আর একরাশ মরীচিকা আষ্টেপৃষ্ঠে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তখন আমার খুব কাছাকাছি ...।
সুষমা দেবনাথ
মনের যতন
মনের সবেতেই সায় দিওনা
তবে যে রইবে না দুঃখের সীমানা।
মন তাহার কথা বলিতে থাকুক
তাতে তুমি হইও না ভাবুক।
আবেগের বশে করিও না আপন
শেষবেলাতে পাইবে না ক্ষতবিক্ষত মনে লেপন।
ভাঙিলে মন-
করিবে জ্বালাতন
কেমনে সহিবে সেই ব্যাথা?
তাইতো বলিতেছি শুনিওনা মনের সকল কথা।
মনকে গড়িও শক্ত মতন
কারণ সকলে জানে না যে মনের যতন।
অনামিকা দও (অনু)
অভিযোগ
ভালো রাখতে চেয়েছিলাম তাকে
সকল বিপদের আড়ালে
কিন্তু সে ভালো থাকতে চাইল কই?
বহুদিনের জানাকে খুব অজানা মনে হয়
জানতে তো চেয়েছিলাম বহুবার জানতে সে দিল কই? আজও একলা রাতে স্মৃতিগুলো আকড়ে কাঁদি
সে আর কাঁদল কই?
বোঝাতে তো চেয়েছিলাম বহুবার, বহুপ্রকারে
জেদের বশে সে আর বুঝলো কই?
জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলাম,ভালোবাসতে চেয়েছিলাম
সে আর ভালোবাসতে দিল কই?
সৈকত ভৌমিক
তুমি
তোমার একটু ছোঁয়া পেতে মন যে আমার আকুল!
তোমার একটু ছোঁয়া পেতে হোক যতখুশি ভুল!
জানিনা কি আছে তোমায় তবু মন যে তোমাকে চায়!
তোমার কথা ভাবলে শরীরের ক্লান্তি অবস্বাদ নেয় যে বিদায়!
মনের ডায়েরিতে রোজ শুধু তোমাকে নিয়ে লিখি!
হদয়ের মাঝে নাম টি তোমার যতন করে রাখি!
তুমি যেন আমার কাছে বাঁশির সুর কিবা গন্ধ ছাড়ানো ফুল!
তোমার মাঝে ডুব দিয়ে যেন আমি ফিরে না পাই কুল!
তুমি আমার গল্পের শার,তুমি আমার ছন্দময়ী কবিতা!
তুমি আমার সাহস জোগানো মনের অস্মিতা!
তুমি যেন আমার সেই পূর্ণিমার ধবধবে চাঁদ!
তুমি যেন আমার হাজারো কণ্ঠের দীপ্ত প্রতিবাদ!
মৌমিতা ঘোষ (সেনগুপ্ত)
স্বপ্ন নয়
নিদ্রালু স্বপনে জাগরিত হয়ে ওঠে অতৃপ্ত আত্মারা;
গম্ভীর শব্দ সারি ধীর পদে গাঢ় হয়
রক্তিম হয়ে ওঠে, চূর্ণ চূর্ণ হয়ে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে নিশিবাস-
আমার অন্তরে ক্রীড়ারত থাকে যে প্রতিদিন,
তটিনী রূপে, পাখি হয়ে ,ফুল হয়ে বেদুইন হয়ে-
আবার কখনো নিশ্চল নীরব সন্ন্যাসী রূপে
তখন শব্দ পাই না, কথা পাইনা, নীরব থাকে;
এত নিশ্চল, নীরব যে সম্পূর্ণ জীবন পট দুমড়ে-মুচড়ে যায়-
ছিন্ন-ভিন্ন লন্ড-ভন্ড হয় ভূমির উপর,
ক্রমাগত বিষাক্ত নখ আঁচড় কাটতে থাকে।
নিজের অদৃষ্ট খেয়ালে, স্বপ্নজাল ছিড়ে যায়;
দেহ সিক্ত হয়েছে চাপ-চাপ ঘামে
অন্তরও আকুলতায় ছপ্ ছপ্ করছে...
চারপাশ নিস্তব্ধ, বিপদ- কালো ছায়া!
উড়ো বাজ মুখো ছোবলের প্রতীক্ষায়।
কিন্তু ,থালা ভর্তি মানুষের মধ্যে
কোন ব্যাঞ্জপদ নিয়ে প্রতীক্ষায় আমি।
প্রীতম চক্রবর্তী
অগ্নিদগ্ধা
ঝলসানো অস্তিত্বহীন মুখাবয়ব,
অক্ষিকোটর থেকে নির্গত চোখগুলো
ভয়ানক রূপ নিয়েছে।
কতোটা নির্মম মৃত্যু ছিল মেয়েটির!
তার পিতা আজ কাঁদেনি।
শেষ অশ্রুবিন্দুটিও শুকিয়ে গেছে চোখে।
যে হাত ফুলের মতো মেয়েটিকে বড়ো করেছে,
সে হাত মেয়েটিকে নরপিশাচের কাছে দেবে,
ভাবতে পারেনি সে।
ঠিক যেন পাঠাকে বড়ো করে কসাইখানায় দেবার মতো।
সংসার বোঝার আগেই ষোড়শবর্ষিয়া মেয়েটি,
হার মেনেছে নির্মম মৃত্যুর কাছে।
তোয়াক্কা করেনি সেদিন তার পিতা,
নাবালিকা মেয়েটির ইচ্ছের।
উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে বিয়ে দিয়েছিল।
আজ সন্তান ধারণের অক্ষমতার অপরাধ
মৃত্যু পুরস্কার দিয়েছে তাকে।
হ্যাঁ সে একা নয়!
প্রতিদিন শহীদ হচ্ছে সহস্র অগ্নিদগ্ধা।
আমার মতে ওরাও শহীদ।
কিন্তু কেউ মানেনা.......
কেউ ওদের শোনে না.......
গৌতম ভৌমিক
প্রেমের শিশির
আমি তোমার শরীরে শিশির বিন্দু হয়ে
তোমার দেহের রূপ রস লাবণ্য অনুভব করবো,
অনুভব করবো তোমার সৌন্দর্য
লালিত্য ভরা মুখ আর ভাজ পরা ঠোঁট;
যে ঠোঁটের সাথে সখ্যতা করে
শিশির বিন্দু হয়ে তোমার ভেতরে প্রবেশ করবো তোমার দেহের প্রতিটি অংশ
যেখানে আমি স্পর্শ করবো,
আর জড়িয়ে নেবো তোমার ভালোবাসাকে
যেখানে থাকবে পরিপূর্ণতার তৃপ্তি
আর তোমার অবয়ব গুলোর ক্লান্তি দূর করে
আমি ঘামের সাথে বের হবো
যেখানে থাকবে ব্যর্থতার সুখ।
হৃদয় শীল
গোপী নাথ ঘোষ
চাতক
তুমি পাখি নাকি অমরাত্মা-
হে মহাত্মা?
তোমার গানে মুগ্ধ হয়ে অথৈ জলে ডুবি
তোমার গানে সপ্তজমিন ঘুরে ঘুরে ফিরি।
তোমার গান উদাস করে
উদাস হাওয়ার বনে,
উদাস হয়ে থাকি আমি
উদাস তোমার পানে।
জানি, এ প্রাণ নশ্বর।
তবুও কি অবিনশ্বরতা দান করে যাও তুমি!
তোমার গানেই চাতক হয়ে
পূব আকাশে উড়ি।
অতীত যত কষ্ট আছে
কষ্ট হয়েছে ম্লান ।
তোমার কাছে ফিরে আসি
ভালবাসার টান।
তোমার গানে পাতা দোলে
দোলে আঁখির পাতা,
হৃদয় আমার দোলে তোমায়
স্বপন মধুয় ঘেরা।
জানি,এ সময়ের খেলা
দুঃখ কষ্টের বেলা
ম্লান হয়ে যাবে সব।
তোমার কোন ম্লান হবেনা
হে পূব আকাশের গান।
পাখির কন্ঠে উদিত হয়েছো
তাইতো হানো বাণ।
বর্শার ফলায় বিদ্ধ করো
নয়তো ডুবাও সাগরে,
ডুবাও আমায় তোমার প্রেমে
উষ্ণ ধারার প্লাবনে।
আমার যত কষ্ট,যত ব্যাথার গান,
ম্লান হয়েছে সব,
হে পূব আকাশের প্রাণ।
রাজদ্বীপ দাস
অতীতে-বিজ্ঞানে
ঘুম আমাদের যাচ্ছে ভেঙে ট্রাফিক ঝাম মুঠোফোনে,
সেই ঘুমই ভাঙত আগে
পাখির রব আর কলতানে।
গণকযন্ত্র দিয়ে যেমন করছি শত মুশকিলাসান
হচ্ছে তেমন শ্রমলাঘব,
সেই যন্ত্রই কেড়ে নিচ্ছে কর্মচারীর আসন।
বিজ্ঞানের ওই অ্যামনিওসেনটেসিস করছে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারন,
কন্যা ভ্রুণেই দেখা যাচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অস্ত্রচারন।
অতীতে-বিজ্ঞানে বাস্তব আজ হ-য-ব-র-ল,
অতীত ছাপানো বিজ্ঞানের আলোয়
বুঝতে পারিনা অতীত মন্দ না বিজ্ঞান ভাল।
Nov 16, 2021
পূজা মজুমদার
আমি নারী
আমি নারী, আমি ওভাবেই তাকাই
যেভাবে নারী তাকায় তার প্রিয় পুরুষের দিকে ।
যেভাবে একজন সম্পুর্ন নারী চোখ রাখে কোন পুরুষের চোখে, সেভাবে।
কিন্তু নারী যখন হয়ে ওঠে প্রেমিকা
দৃষ্টি তখন লজ্জায় আনত, ভালোলাগা লুকোবার চেষ্টা ব্যার্থ বার বার
যে ব্যার্থতা নিমিষেই বুঝে নেয় পুরুষের দক্ষ্য চোখ আবার।
নিষেধের কথা বলছো ?
নিয়মের বেড়ী পরে চলেছে হৃদয় কবে বলো?
নারী কখন প্রেমিকা হয় তা সে নিজেও জানে না।
নাজুক চোখ তার ফিরিয়ে নিতে চায় বার বার
নারীর ভেতর থেকে প্রেমিকা গুমরে উঠে এক অজানা আকুলতায়।
প্রতিজ্ঞা তো অনেকের কাছেই -
কাছের মানুষের কাছে ।
জীবনের হিসেব বুঝিয়ে দিতে হয় সমাজের কাছেও।
তারচেয়েও বড় হিসেব নিজের কাছে ।
নিজের শেকলে বাঁধা জীবন বড্ড বেশি অসহায়।
আমার যত্নে সাজানো বাগান
সে তো আমারই ছোঁয়ায় নিত্য ফোঁটায় ফুল।
যা আমার সাজানো
তা এলোমেলো করি এমন শক্তি কোথায় ?
প্রেমিকা যদি হয়ে যায় নারী
শত বন্ধন জড়িয়ে ধরে তারে আস্টেপৃষ্ঠে
এও হৃদয়েরই এক নিষ্ঠুর পরিহাস ।
তোমার চোখের দংশনে ক্ষত বিক্ষত এ হৃদয়
নিঙরে নিতে চায় সবটুকু শক্তি আমার
তোমার দৃষ্টির আগ্নেয়গিরির লেলিহানে পুড়ে যেতে চায় এ উত্তপ্ত হৃদয় ।
আমি যখন নিতান্তই নারী
তোমার কামুক চোখের ভাষা অর্থহীন বলে মনে হয় ।
প্রেমিকা শুধু জানে অর্থ খুঁজে নিতে তার।
যদিও সে হেরে যায়
নারীর সুকঠিন অন্তরশাসনে বার বার।
কোন পুরুষ চোখ ভালোবাসার কথা বলে
কামুক চাহনির আড়ালে তার?
কিসের ভরসায় চোখ রাখবো তোমার চোখে
তুমিও কি বাধবে না কোন বাঁধনে আমায় ?
প্রেমিক তুমি, বেড়িয়ে আসো তবে পুরুষের খোলস থেকে এবার ।
বীর দর্পে প্রেমিক হয়ে দাঁড়াও দেখি একবার
আমি হবো তখন বন্ধনহীন প্রেমিকা তোমার ।
পুড়িয়ে দাও তোমার কামুক চোখের লেলিহানে আমায়।
লিটন শব্দকর
ভাঙচুর
কোন দূরগামী নৌকোর একফালি চকচকে পাল
বলে গেছে দেখো শেষবার আমি কেটেছি জাল।
গুল্ম শরীর গুছোয় কার্ত্তিকের রোদ মেখে নেয়ে,
ভালোটুকু করবে জ্বলজ্বল দেখতে পাবে রোজ
তটদুয়ারে দাঁড়িয়ো, কবিতার সহজাত সাম্রাজ্য!
আমিও রাখিনি কখনও আমার শহরের খোঁজ।
ভাঙচুর শুধু কাচের গেলাস ছাদের সিঁড়ি বেয়ে।
সুব্রত ভৌমিক
পথের সাথী
আগেও দেখেছি বারকয়েক
ঐ গলির পথে।
যেখানে ধরেছে মানবিকতার পচন।
ফুটো নৌকার বিলাসে
ফুল সমাধির আলিঙ্গন।
হলুদ রঙের চাপে ভ্রান্ত চাতক।
বাঁধ ভাঙ্গা ব্যথার জ্বালায় চিঁহি।
মনে মনে মরি, হে সমব্যথী,
কপাট হীন দরজার প্রাণে।
টুকরো কাঁচে দেখা আশার ছবি,
অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির ঝাঁকে, আবার শুরু
লুকোচুরি কুয়াশা দৃষ্টির।
চাঁদহীন মিত্রতায় শুধু আঁধার।
আমিও সেই কাকের লাশ,
অকৃত পথের সাথী।
মনচলি চক্রবর্তী
সবুজ যাচ্ছে হারিয়ে
সবুজ সুন্দর শস্য শ্যামল ধরনীর বুকে
নির্মল বাতাস যায় বয়ে,
মন হারিয়ে যায় নদীর নীল জলের ঢেউয়ে।
বনে গাছে গাছে রঙ্গিন ফুল ফোটে
আনন্দে বনের পশুদের মন ভরে উঠে।
সবুজ ধানের ক্ষেত মিলেমিশে যায়
দূরের আকাশের শেষে ঐ নীলিমায়।
সবুজ বনানীতে পাখিরা গান গায়
রাতের অন্ধকারে ঝিঁঝিঁরা ডেকে যায়।
নীল সবুজের আঁচলের নীড়ে সন্ধ্যা সময়
চাঁদ তারারা উজ্জ্বল আলোর মালা সাজায়।
গভীর রাতে দূর গ্রামে জোনাকিরা দেয় আলো,
বনের পশুদের ডাকে রাত হয়ে উঠে আরো কালো।
আজ উন্নত সভ্যতায় আধুনিকতার সাজ
সবুজ গাছেরা,বনানীরা কাটা পড়ে রোজ আজ।
সবুজ প্রকৃতির জায়গায় সেজেছে কলকারখানা
বন্য প্রাণীরা আজ বনে থাকার জায়গা পায়না।
সবুজ অরন্য ছাড়া পাখিরা আজ অসহায়
আজ বাসা বাঁধবে ওরা কোথায়?
নেই আজ ঝিঁঝি পোকাদের ডাক
নেই জোনাকিদের মিষ্টি আলোক।
সবুজ সুন্দর প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে অপার
অর্থ প্রাচুর্যের মোহ যে আরো দুর্বার।
আজ আর নেই সবুজ গাছ, সবুজ বনানী, সবুজ প্রান্তর
চারিদিকে শুধু আজ প্রাণ বায়ুর হাহাকার।
সৌরভ দাস
নিরাশ্রয়
"শৈশব থেকে চার পয়সার দরদ পেয়ে একটাকার ভালোবাসার কাছে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক,
ছোট বেলায় একটাও জেলি লজেন্স খেতে পারি নি বন্ধু,
বাবা বলতেন বড় হলে পকেটে হাজার টাকা আসলেই লজেন্সের আসল ঝাল মিষ্টি টক টেস্ট বোঝা যাবে,
দিদিমা আশীর্বাদ করে বলেছিলেন একদিন আমিই দাদুর মতো বংশের মান রাখবো,
দাদুর হাতে লেখা পুরাতন পান্ডুলিপির সব কাহিনী মুছে গেছে,
দিদিমাও দাদুর সাথে এক ফটো ফ্রেমে বাঁধানো ছবি হয়ে গেছে,
ধূসর রঙ পরেছে বিদ্যালয়ের পুরাতন পাঁচিল ঘেরা লেখকদের বানিতে,
আগের মতো সেই পথ দিয়ে হেটে গেলে লেখা পড়ে আর মনের তৃষ্ণা মেটেনা,
সেখানে এখন বিরাট বিজ্ঞাপন ঘেরা রঙিন ছবির বাহার দেখা যায়,
মৃত মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে চেনাই দুর্লভ হয়ে পড়েছে,
যারা আমার উপর বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন
তারাও হারিয়ে গেছে বহু দূরে,
কীর্তনিয়ার মৃদঙ্গ একদিন আমার মন কেড়েছিলো,
রাধা বিরহ শুনে মনে হয়েছিলো বৃন্দাবন নিকটেই আছে,
পরিশেষে চেয়ে দেখি জীবনের পথে ঘন অন্ধকার হঠাৎ এসে মিশে গেছে,
তারপর কেউ হাত বারিয়ে উপরে তুলে আনেন নি,
মনেও সাহস দেননি"।।
কৌশিক আচার্য
প্রথম আলো
যেদিন হতে দেখিয়েছিলে মোদের প্রথম আলো
সেদিন ও বুঝিনি মাগো তোমার থেকে নেই যে কেউ ভালো,
তুমিই আসল দুর্গা,তুমিই জগতের ধাত্রী..
তোমার তুলনা তুমি মাগো তুমিই জগদ্ধাত্রী।
তোমার অপার মহিমা দিয়ে দেখালে জগতকে নবপথ
কত অসীম ধৈর্য দিয়ে ঘুচালে আঁধারের পথ,
সন্তানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত থাকো বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে...
পরম স্নেহ,ভালোবাসা দিয়ে দাও যে ভরিয়ে।
মা গো তোমার বিকল্প তুমি মাগো
তবুও কেন সন্তানরা বড় হয়ে তব বুঝলো নাগো?
কত নিদারুন কষ্টে সন্তানকে মানুষ করলে...
মানুষ হয়ে মান হুঁশটা তারা কেন হারিয়ে ফেলে।
ভগবতী ভৌমিক
মানুষ
মানুষেতে বুদ্ধি,মানুষেতে ভরসা,
রয়েছে আজীবন
মানুষই আমার সহকর্মী
রহ তুমি অমর।
আহা বিজ্ঞানের যুগ এখন,
স্মরণে রয়েছে মানুষজন।
মানুষই পাড়ে বদল করতে
রূপের এই সচল।
দিলীপ দাশ
অস্পষ্ট প্রত্যয়
আমার চেনা রাস্তাঘাট গুলো
কেমন যেন ঝাপসা মনে হয়।
প্রতিটি গলির বোবা কান্নার
প্রতিধ্বনি শুনি আমি।
রাজপথ গুলো যেন শতাব্দীর ঘুমে আচ্ছ্ন্ন।
কাছের মানুষগুলো ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছে।
তেমাথার মোড়ে তেলেভাজার দোকানটাও উধাও।
ভরা বর্ষায় আমার চেনা নদী
বরাকের সমস্ত জল এখন
মানুষের অশ্রুধারার প্লাবনের আয়োজনে ব্যস্ত।
প্রাতঃভ্রমণে আজকাল অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা।
দুরত্বের পরিমাপের সমীক্ষার
বিশ্লেষণ বড়ইজঠিল।
ভালোবাসার সংজ্ঞা ও আজকাল
বদলে গেছে আধুনিক কবিতার মত।
আমি প্রত্যয়ের চোখে অপলকে চেয়ে থাকি
চেনা আকাশটার দিকে।
হয়তো কাল প্রত্যাশার সূর্য উঠবে পূর্বাকাশে।
আমার চেনা শহর আবার উঠবে জেগে
একফালি রোদের উষ্ণতার পরশে।
গৌতম মুখার্জী (পাহাড়)
চোখ
মাতৃ জঠরের অন্তর্নিহিত চক্ষু বলয়ে -
ফুটে উঠেছিল মাতার আনন্দাশ্রু।
পিতার অস্থিরতা।
যে চোখ দেখেছিল এক সবুজ পৃথিবী।
যে চোখে মায়ের কোল,
বাবার আঙুল অনুভব হতো।
যে চোখের চাউনি তে ছিল স্বপ্ন এক আকাশ।
এক সুন্দর হাসির ছটায় বড় হয়েছিল যে চোখ।
এঁকে ছিল এক সমুদ্র নীল টলমল ঢেউ।
যার এক একটা পলকে ছিল বেঁচে থাকার লড়াই
অবাক চোখে দেখেছিল সম্পর্কের বিভাজন।
যে চোখ চেয়েছিল আনন্দের অশ্রু সিক্ত মুখ।
যে চোখ চেয়েছিল -
কঠিন লড়াই এর রক্ত চক্ষুর অবসান।
যে চোখ আদোল গায়ে ঘুরে ঘুরে খুঁজেছিল -
এক থালা গরম ভাত।
চেয়েছিল এক সুন্দর সুপুরুষ অথবা
সুন্দর নারী মনের চোখের মনি হতে।
পায়নি সে।
কে বা কারা দানব চোখের দৃষ্টিপাতে-
জর্জরিত করেছিল দু চোখ ভরা স্বপ্ন কে।
যে চোখ চেয়েছিল শৃঙ্খল মুক্ত স্বাধীনতা।
অবাক চোখে চেয়ে থাকা আকাশ পানে।
যে চোখ আজও এঁকে চলে -
আঁকি বুকি জীবনের স্বপ্ন।
যে চোখ অন্তিম শয্যায় শায়িত হয় চোখের পলকে।
অংকিতা বর্মণ ঘোষ
শিশু
শিশু নিষ্পাপ শিশু জগতের প্রাণ
তবুও!আজও জন্মে শিশু শ্রমিক?
কিছু স্বার্থবাদী, প্রেমহীন,হৃদঋৃণ
মানব পাপে আজও জন্মে শিশু শ্রমিক!
কিছু প্রেমহীন হৃদঋৃণ কণ্যভ্রুণ
হত্যাকারী নিকৃষ্ট পাপী
আবার কন্ঠে বাঁধে ১৪ নভেম্বর
শিশু দিবস না কি?
কিছু নিকৃষ্ট দুষ্কৃতি পাপী তাপী
শিশু কন্যা ধর্ষণ কারী
তবে কিসের? শিশুদিবস কন্ঠে বাঁধি!
ভারতমাতার রক্তবর্ণ চোখে তুফানি কন্ঠে
কন্ঠে নয় চিত্তে চাই জয়
মঞ্চে নয় বাস্তবে চাই জয়
শিশু নবীন শিশু সবুজ
তারা জগতের শ্রেষ্ঠ অবুঝ
কন্ঠে নয় চিত্তে চাই জয়
ধনী-দরীদ্র নয় কেবলই শিশুর জয়
তবেল নবীনে সবুজে সাজবে
ভারতমাতার শীর্ষে জয়
ভারতমাতার কন্ঠে বাঁধবে
শিশু নিষ্পাপ শিশু জগতের প্রাণ
আজ শিশুদিবসের জয়গান।
দীপু রায়
যখন সন্ধ্যা নামে
যখন সন্ধ্যা নামে, মায়ের কপালের রাঙা টিপটির মতো টুক করে খসে পড়ে বেলাশেষের সূর্যটা...
হিসেবের খাতায় জমা-খরচ মেলাতে বসি সবাই...
সরলতার আড়ালেও কিছু জটিল সমীকরণ আর চক্রবৃদ্ধি হারে বর্ধিত চাহিদার লিষ্টিটা বারতেই থাকে অবিরাম...
পকেটের জোর, মগজের জোর, শরীরের জোর, পলিটিক্যাল খুঁটির জোর কোনোটাই কোনো কাজে লাগে না...
তখন অন্ধকারে হাতরানোর মত করে, মনগলিতে মনের জোর হাতরিয়ে চলি হামেশাই...
শাশ্বতী দেব
মিঠুন রায়
পথের সন্ধান
সকল গাড়ি ছুটছে গন্তব্যস্হলের উদ্দেশ্য,
তারা,পৃথিবী,গ্রহ ও ছুটছে নিজের মতো।
অবিরাম চাকা ঘুরছে
ফুরিয়ে যাচ্ছে যাত্রাপথ
আমিতো পাইনি পথের সন্ধান।
মেঘমুক্ত আকাশে
উড়োজাহাজের অপেক্ষায় আছি।
জানিনা গন্তব্যস্হলের পথ আছে কিনা।
পূনম দাস
অভুক্তের শীতঘুম
শরতের পর শীতের পরশ
লাগলো সবার গাঁয়ে।
অভুক্ত শিশুরা চলে সড়কে
গুটি গুটি পায়ে।।
ক্ষিদের পেটে মায়ের কোলে
ঘুমিয়ে পরে রাতে।
ক্ষুধার তারনায় ঘুরে ফেরে
অন্যের দারে দারে।।
কিসের কাঁথা, কিসের লেপ
কিসের নতুন কম্বল?
ছেঁড়া শাড়ি গাঁয়ে জড়িয়ে
এটাই তাদের সম্বল।
সুখের ঘুম ওদের কপালে
জুটে না কোনোদিন।
ক্ষুধা মিটিয়ে তৃপ্তির ঘুম
ফিরবে একদিন।।
শিপ্রা দে
উনিশে মে
১.
উনিশে ফুটে ছিল কৃষ্ণ চূড়ার কলি ।
উনিশে মে আমার ভাইদের সঙ্গে খেলেছিল রক্তের হোলি।
(উনিশশো এলেই কেঁপে ওঠে বরাকের প্রান
উনিশ এলেই মনে পড়ে শহীদের গান।
২.
আমার বোনের শালি পড়ে
কৃষ্ণ চূড়া লাল হয়েছে
আমার ভাইদের পরিচ্ছদে
মায়ের মাথায় নিশানওড়ে
৩.
দ্যাখ মা এবার দু, চোখ ভরে
বীরের মতো যুদ্ধ করে।
শহীদ হলো তোমার কোলে।
(তারা) ভীরু নয় মা কোনকালে।
ওঠ মা এবা্রশয্যা ছেড়ে
বঙ্গ ভূমি মা।
আমার দুঃখিনী বরণমালা
আর কত কাল স ইব এমন জ্বালা।
মোঃ নুরুল হক
জলন্ত চিতা
বসুমতীর এই শান্তিময় পরিবেশে,
আমার স্বহস্তে সাজানো স্বপ্নগুলো জ্বলছে আজ চিতা হয়ে।
নিশাকর এই রাতে, পাশে তোমার স্বামীর সাথে, আছ না হয় রানি হয়ে।
তবে কথা দিচ্ছি, চিতা থেকে উৎকলিত সমীরণ টুকুও পৌঁছাবেনা তোমার নাসিকা গৃহে।
তবে জ্বলোক চিতা ফিরবো না আর ,থাকবো তোমার নবকুমার হয়ে।
শৈলেন দাস.
মনের মানুষ
চাতলা সিঙ্গারি ঠিলা...
গল্প লেখার চলিত নিয়ম নীতি আমার জানা নেই।তবুও গল্প লিখতে আমার বিষণ ভালো লাগে।বছর দুই এক আগের আমার একটি স্কুল জীবনের গল্প তুলে ধরছি।
তানিশা নিজেকে রানী লক্ষীবাই এই ভাবত কি না জানি না।সুন্দরী বলে তার নিজের প্রতি নিজের প্রশংসা ও কম ছিল না।সে তার লঘু অন্তরের প্রেম,ভালোবাসা, মানুষের নিকটে প্রকাশ করিত না।তার প্রেম তার নিজের ভিতর এই রাখত অহংকারী করে।আমার যতটুকু জানা পড়া লেখাতে সে এত ভালো না থাকলেও গান বাজনাতে পারদর্শী ছিল।তার গানের স্টেজের অভিনয় দেখলে মনে হতো সে এই পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ গায়ক,জগতে তার থেকে আরও ভালো গায়ক আছে বলে সে বিশ্বাস এই করতো না।
তার বান্দবি প্রিয়া থাকে মাঝে মাঝেই বলতো তার এমন অহংকার দূর করার জন্য কিন্তু সে প্রিয়ার কথায় মত দিত না।কিন্তু আমি মনে মনে স্থির করিলাম এমন মেয়েকেই আমি আমার মন প্রাণ দিব।কিন্তু আবার ভাবতে লাগলাম মন দেওয়া বা নেওয়াতে দুই জনের সমান চাওয়ার প্রয়োজন,সে যদি আমাকে না চায়।কথাটা মনের ভিতর এই চাপা দিয়ে রাখলাম।আর বললাম না।
কয় দিন পরে যখন স্কুলে গেলাম,আমার দিকে তার চাওয়া পাওয়া দেখে ভাবলাম আমার প্রতি তার ভালোবাসা বাড়ছে।আবার ভাবলাম এবার থাকে কথাটি বলবো।এবারও বলা হলো না। দিন রাত থেকে যেন স্বপ্নের মধ্যে দেখতাম।কুকিলের গানে মৌ পোকার চিৎকারে তার বিরহ ব্যথা অনুভব করিতাম।।
অদৃশ্য নাথ
গুরুত্ব
শিশুর জীবনের প্রথম ক্রন্দন
মায়ের ঠোঁটে হাসির প্রলয়,
আর বাবা মায়েরা বৃদ্ধ হলে
কিছু সন্তানের বোঝা মনে হয়।
দেহের হৃৎস্পন্দন থেমে গেলে
কবরে বা পুড়িয়ে দিতে হয়,
কারো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
কখনো সে আর প্রিয়জন নয়।
কারো কাছে উপকার পেলে
ভুলে যাওয়াটা স্বার্থপর নয়,
এটাই চির বাস্তব, চির সত্য
এ মানুষের জন্মগত পরিচয়।
নীরেশ দেবনাথ
দুঃখের যাতনা
জানি আমি আমার বাঁধন
জানি আমি আমার কাঁদন।
ওরে, তোকে আমায় বাঁধতে হবে না রে
আমায় বাঁধতে হবে না রে।
যারে যারে - আমায় বাঁধতে হবে না রে
বাঁধবো আমি আমার বাঁধন
খুলব আমি আমার বাঁধন
কাঁদবো আমি আমার কাঁদন।
যারে যারে - আমায় বাঁধতে হবে না রে
আমায় খুলতে হবে না রে
জানি আমি আমার বাঁধন
খুলব আমি আমার বাঁধন।
বিক্রমজিৎ সাহা
অভাগী
বাবা মা নেই
গেছে দুজনেই।
অভাগী আমি
পোড়া কপালী।
উঠেছি ভোররাতে
সংসার সামলাতে।
বাসন মাজতে হাত
ঝাড়ু দিতে কোমড়
ব্যাথা যেন অমর।
বাবা মা নেই
গেছে দুজনেই।
শুধু কি আমি
আছেন এক মহারানী ।
সেই যে কত ব্যাঞ্জন
রাঁধছি আমি গুঞ্জন।
মহারানী আর কি
ঘুম তার ভাঙেনি ।
বাবা মা নেই
গেছে দুজনেই।
ভাবছো কি সেখানে!
গেছে আত্মীয়ের বাড়িতে।।
প্রতীক হালদার
অভিমান
অভিমান জমে মনের কোনের
গোপন কুঠুরিতে,
লুকিয়ে থাকে চুপিসারে তারা
আলো আর আঁধারিতে ।
মনে টানে দাগ, সময়ের তালে
অতীত কে ভূলে যায়,
মনের ব্যাথারা অদেখার তরে
হাজার কষ্ট পায় ।
অতীত স্মৃতিরা নিশ্চুপ রয়
জাগে না ঈশারাতে,
বেহিসেবি মন,খোঁজ না নিয়ে
পাড়ি দেয় অজানাতে ।
দূরত্ব আসে দু-মনের ঘরে
বিরহ দোলায় দোলা,
ইচ্ছেরা তবু যায় আর আসে
স্বপ্নের জানালা খোলা ।
পাহাড় গড়ে অভিমানে রোজ
সুখের চাবি হারিয়ে,
মিথ্যা পাহাড় নগণ্য করে
দেয় না দু-হাত বাড়িয়ে ।
গঙ্গা সাহা
ভাই ফোঁটার উপহার
এই নে বোন তোর উপহার।
একি ভাই তুই এত কিপটে কেন রে?
কেন কি হলো?
কি হলো মানে কি?
আমি তোর ভালোর জন্য আর
তোর যেন কোনো বিপদ না হয়,
সেজন্য তোকে ফোঁটা দিলাম।
আর তুই কিনা আমায়,
এই একটা চকলেট বক্স দিলি।
আচ্ছা বাবা বুঝলাম,
আমার বোনটার রাগ হয়েছে।
ঠিক আছে তুই বল তোর কি চায়।
তুই যা চাইবি তাই দেব।
ঠিক বলছিস তো ভেবে বল!
যা চাইবো তাই কিন্তু আমার চায়।
হে রে বোন ভেবেই বলছি।
ঠিক আছে তাহলে আমায় কথা দে,
তুই কখনো কোনো মেয়েকে -
অসম্মান করবিনা।
কখনও কোনো মেয়ের দিকে,
কুদৃষ্টিতে তাকাবি না।
আর নিজেকে সেভাবে তৈরি করবি,
যেন কোনো মেয়ে অন্ধকার রাস্তায়,
তোর পাশে হাঁটতে ভয় নয় ভরসা পায়।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
কবিতার বসতবাটী
কবিতার ভূমি জুড়ে, আছে থরে থরে
ফুল পাখি আর নদীর পাট্টা ম্যাদী।
আছে প্রেমের নামে চিরস্থায়ী সত্ব
আছে সাগর নীলে মেঘের ভেলা
আছে গাছগাছালির ফাঁকফোকরে
মন খারাপের অঝোর বৃষ্টিবেলা।
আর দীর্ঘ দীর্ঘ সময় জুড়ে
ফিরে ফিরে আসা কিছু অস্থির অবয়ব
সময় সোপানে কিছু প্রোথিত জলছবি।
কবিতার উদোম শরীরে দানা বাঁধে
একের পর এক বিনিদ্র রাতকাহন
জোনাকি আলোয় উদ্ভাসিত কিছু ক্ষণ।
কিছু নিয়ন আলোর চাঁদপানা মুখ
কিছু পাশাপাশি সুখ, কিছু মুখোমুখি সুখ।
কিছু সবুজ নীলে টলোমলো বনফুল
কিছু বেলা শেষের নবীন বুনো ফুল।
কবিতার বসতবাটী স্মৃতির আস্তানা
বসুধৈব কুটুম্বকম, সাজানো মহাফেজ
এই বসতে শব্দেরা সব অবিরত দেয় হানা।
রাহুল দেবনাথ
প্রেমের বাণী
ভাবিয়া কহিবো প্রেমের বাণী।
শুনিয়া লিখিবে তুমি।।
বলতে তো আর না পারি আমি।
তোমারি প্রেমের কাহিনী।।
তবে কেমনে লিখিবে তুমি।
সেই প্রেমের বাণী।।
যদি লিখিতে চাও সে তুমি।
অরূপ প্রেমের বাণী।।
শুনহ তুমি মোর হৃদয় কথা।
না বলা আছে যত বিরহব্যাথা।।
শুনিতে কি তুমি পাইয়াছো তাহা।
যেন ঝরা পালক পরে কাহা।।
আর খুঁজেতে যদি পারহ তুমি।
চাঁদ পাহাড়ের অরূপ মনি।।
তবেই পাবে সেই অমৃত বাণী।
নিশিথ গোপনে লিখিবে তুমি।।
ঝিমলি আচার্য
বিশবিশ সাল
বিশে-বিষ কাটলোনা
বিশে-বিষ ছড়ালো
এমন বিশবিশ সাল ছিল।
আজব সাল ,আজব ঘটনা,
ছোঁয়াচে রোগের প্রবঞ্চনা
অসহ্য এই মারণ যন্ত্রণা।
প্রতিক্ষণ প্রতিমুহূর্ত বিশ্ববাসী আতঙ্কিত,
কখনো ছোঁয়া লেগে যায় বলে
তফাত থাকে সংক্রমণের ভয়ে।
ধনী-গরীব রাষ্ট্রপ্রধান
ভাইরাসের কাছে সবাই সমান।
দুর্ভাগ্য বিশেষ সৌভাগ্য ও বটে
এমন সালের দেখা মিলে।
বিশ্বকে ভাইরাস শিখিয়েছে ধৈর্য্য,যত্নশীলতা ,স্বনির্ভরতা
আরও শিখিয়েছে পরিচ্ছন্নতা -
এটাই বিশবিশ সাল এর আশ্চর্যতা ।
টাকা-কড়ি ফুরিয়ে এলো
অনাহারে শ্রমিক পথ চলল
সংক্রমণের হার আকাশ ছোঁল
মৃত্যু মিছিল লেগেই রইল _
এমন বিশবিশ সাল ছিল।
বিজ্ঞান-বিজ্ঞানী গবেষক- গবেষণা
মেতেছে দূর করতে এ বিশ্ব
যন্ত্রণা।
থমকে গেল গোটা বিশ্ব,
আসছে ফিরে চলমান দৃশ্য।
ইতিহাসের পাতায় খচিত হল,
এমন বিশবিশ সাল ছিল।
প্রীতম চক্রবর্তী
আবদার
মা,
তুমি কোথায়?
কিগো ভাত দাওনা,
এখনো কি হয়নি রান্না?
মাগো পেটে খিদে পেয়েছে খুব
স্কুল ছুটি হলো সবেমাত্র, দৌড়েছি খুব।
জানো মা স্কুলে আজ সব পড়া লিখেছি
শিক্ষকমশাই পিঠ চাপড়ে বললো আমি নাকি ফার্স্ট হয়েছি।
দাওতো মা আঁচলটি তোমার মুখটি একটু মুছি, ঘেমেছি খুব।
স্নেহের আবেশে মায়ের চোখ বেয়ে জল নেমে এলো,
আয়রে বাবা খেতে বস, বেলা অনেক হলো।
ডাল, আলুভাজা আর কাতলা মাছের ঝোল,
আর ছিল শেষে একটু অম্বল।
খাওয়া দাওয়া শেষ হলে,
এলো খেলার ডাক।
খেলতে যাচ্ছি,
মা।
অশ্বিনী কুমার মন্ডল
তুমি আসবে বলে
তুমি আসবে বলে
ভ্রমরেরা গুন গুন করে গানে ।
তুমি আসবে বলে
এখনো আমি নিদ্রাহীন নয়নে ।
তুমি আসবে বলে
আমার নাও ছুটেছে উজানে ।
তুমি আসবে বলে
মোর প্রাণ চেয়ে রয় তোমার পানে।
তুমি আসবে বলে
কত ঘন্টা কাটিয়েছি আমি ল্যাবে।
তুমি আসবে বলে
কত কবিতা লিখেছি আমি ট্যাবে।
তুমি আসবে বলে
আশায় আশায় দিন গুনেছি কত।
তুমি আসবে বলে
বাগের গোলাপ এখনো অপেক্ষারত।
তুমি আসবে বলে
এখনো আমি নিত্য আম্র কুঞ্জে যায়।
তুমি আসবে বলে
এখনো কোকিল কুহু সুরে গান গায়।
তুমি আসবে বলে
ধরার সকল নদী সাগর পানে ধায়।
তুমি আসবে বলে
এখনো আমি কবিতা লিখে যায়।
প্রসেনজিৎ রায়
জীবনের এপারে
তুমি দুচোখে বিশ্বাস এঁকে দিলে আমি কাকভোরে স্বপ্ন দেখি,
অলীক বাস্তবের ছিঁটেফোঁটা পড়ে থাকে বিস্তৃত গেঁয়োবাড়ির উঠোন জুড়ে,
বাস্তব তার ক্যানভাস জুড়ে কিছু ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায় মুখ আঁকে,
সময় বেকার যুবকের স্বপ্নভঙ্গের নীরব কান্নার অশ্রুজল মাপে,
সীমানায় কর্তব্যরত সেনার সংসার ত্যাগের কষ্টের গাঁথা লেখে বারুদের গন্ধ,
প্রতিবন্ধীর না ছুঁতে পারা মেঘলা আকাশের দিকে চেয়ে অজোরে কাঁদে বাস্তব,
অতলে হঠাৎ তলিয়ে যায় সব প্রেম-স্বপ্ন ,
বেঁচে থাকার তাগিদে ভীষণ খিদে পায় আমারও মাঝরাতে,
তুমি ভাতের ফেন ঝেড়ে প্রেমিকা থেকে হয়ে উঠো সংসারী,
তোমার শরীরী গন্ধে খিদে পেলে তুমি হয়ে উঠো নিছক শরীর |
দিনের সব ক্লান্তি এক লহমায় ঝেড়ে ফেলতে চাই তোমার অনিচ্ছার অধরে,
বুঝতে চাই না তোমারও শরীর নয় প্রেমিকা হবার ইচ্ছে করে |
যখন শিকার শেষে বোধ ফেরে তুমি তখন নেতিয়ে থাকো ...
তখন পুরুষ ভাবতে নিজেকে ক্ষণিকের জন্য ঘৃণা হলেও আমার কিচ্ছু যায় আসেনা পরক্ষণেই |
এভাবে ফুরিয়ে যায় সব আয়ু তোমার আমার প্রেম-ক্ষুধা আর বাসনার কালচক্রে,
আবার তৈরী হই মনের ঈশানে ইচ্ছে জমিয়ে পরজন্মে ফিরে আসার জন্যে....
অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
স্বার্থপর মানুষ
মানুষ আজ আর নেই তো মানুষ।
কলির ঘোর অন্ধকারে হারায় নিজের হুশ।।
মানুষের রক্তে মানুষ গড়ে রাজপ্রাসাদ।
কেউ যদি উচ্চকন্ঠে করে প্রতিবাদ বহে রক্ত নদী, ঘটে রক্তপাত।।
সভ্যতার আদি যুগে ছিলো নাকো এমন দ্বেষ।
উন্নতির শিখরে চড়ে ধ্বংস করছে নিজের দেশ।।
নর্দমার জলে নিমজ্জিত তোদের নিচু মন।
মানবতার পথ ভুলে পেলি জ্বালাতন।।
আর কত ভুল পথে চলবি তোরা বল।
দ্বেষ-হিংসা-ঈর্ষা ভুলে সত্যের পথে চল।।
রক্তপাতে রক্তই মিলে, মিলে না রে শান্তি সুখ।
দর্পনপানে আঁখি মেলে দেখ না নিজের মুখ।।
ভিটে মাটি হীন মানুষ গুলি কাঁদে রাস্তার ধারে।
ক্ষুধার জ্বালায় অনাহারে কাঠ হয়ে তারা মরে।।
এক ঈশ্বরের সৃষ্ট মোরা দিল দরিয়ার মাঝে।
তবে কেন বিভেদের পাহাড় স্তরে স্তরে সাজে।।
স্বার্থমগ্ন জগৎ ভুলে
এসো সবে দলে দলে
বিশ্ব মানবতার সুরে গাই জয়গান।
এসো সবে বিভেদ ভুলে
একাকার হই জনঢলে
সবার উপর মানুষ সত্য করি তার প্রমাণ।।
Nov 15, 2021
আদিমা মজুমদার
সুজন দেবনাথ
লড়াইয়ের উদ্দ্যেশ্যে অজুহাত
হে সৃষ্টির কর্তা,তুমি অতি যত্নে নিপুণ হাতে
নিখুঁত ভাবেই গড়েছিলে
তোমার শ্রেষ্ঠ জাতিকে।
কিন্তু তাতে এতো বিভেদ কেন রাখলে?
বলতো কি লাভ হল তাতে?
সেইতো কিছু মনুষ্যাকৃতিকে তুমি
আজ ইঁদুর বানিয়েই ছাড়লে!
ওরা আজ বোঝেনা শাস্ত্র,
ধর্ম,বোঝেনা ঐক্য।
ওরা যে বড্ড নিষ্ঠুর,
ওরা যে পাষন্ড,
ওরা যেই ধর্ম নিয়ে বড়াই করছে--
সেই ধর্মকেই নিজের হাতে ধ্বংস করছে।
তোমারই সৃষ্টি আজ--
তোমাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে,
হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত করছে।
বিভেদ যদি তুমি না-ই চাইবে
তবে কেন সৃষ্টি করলে ধর্মের নামে
আল্লা,হরি,জৈন,বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান,
আর একাধিক ভিন্ন ধর্মগ্রন্থ?
চেয়ে দেখো, আজ একাধিক ধর্মগ্রন্থই--
তোমার মনুষ্যাকৃতি ইঁদুর জাতির কাছে
হয়ে উঠেছে লড়াইয়ের উদ্দ্যেশ্যে অজুহাত।
ওরা যে শান্তি চায় না,
কারণ যুদ্ধই যে ওদের স্বার্থ সিদ্ধি।
তপনকান্তি মুখার্জি
গন্ধবিচার
Nov 13, 2021
রামমোহন বাগচী
স্মৃতির পাতায়
তোমায় ডাকতে গিয়ে
পারিনি ডাকতে,
কন্ঠ হারিয়েছে ঐক্যের বাঁধন।
জানি ভালো নেই,
তবুও, কেমন আছো?
বিষাক্ত সুতোর টানে উঁকি দেয়
স্মৃতির অন্তরালে শায়িত ব্যথা।
স্পষ্ট চেহারাগুলি হয়েছে মলিন
তাই মেলাতে পারিনি তত্ত্ব।
নূতন সংজ্ঞায় আক্রান্ত
বিধাতার বিধান।
স্মৃতিতে শায়িত ভয়ঙ্কর অনুভূতি
বার বার উঁকি দেয় হৃদয়ের চিত্রপঠে,
পথভ্রষ্ট, ছন্দের স্রোত করে উলঙ্গ নৃত্য।
রামধনু হারিয়েছে তার উজ্জ্বলতা
বিষাক্ত বিধানের কোটাঘাতে।
তোমায় ডাকতে গিয়ে
পারিনি ডাকতে,
কন্ঠ হারিয়েছে তার ছন্দ।
জানি ভালো নেই,
তবুও কেমন আছো?
তুমি কি খুঁজে পাও
তোমার আলোকময় ছন্দের স্রোত।
সৃষ্টি হারিয়েছে তার সংজ্ঞা
পঞ্চভূতের মায়াবী চালে,
বৃষ্টি হারিয়েছে তার শীতলতা
নোনাজলে করি আচমন।
কুম্ভকর্ণ শায়িত আজ
বিধাতার বিচারালয়ে।
বিবেক-বুদ্ধির প্রখরতায়
বিভেদের মাঝে ঐকের জাদুতে
দেখা দেয় নূতন সূর্য,
হোক না এই প্রার্থনা।
মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)
ঊষ্ণতার খোঁজে
সময় পেয়েছি এই সুন্দর সন্ধ্যায়
এসো তবে বসি পাশাপাশি,
নির্জন আলোছায়া ঘেরা ব্যালকনিতে
নিঃশব্দ দ্যোতনায় চোখে চোখ রাখি।।
সময়ের যাঁতাকলে ভেসে গেছে অনুভূতিরা
আলোহীন পথে মরীচিকার খোঁজ
মাধুরী মেশানো ছিল যত কথায়
বাস্তব আগুণে পুড়ে ঝলসায় রোজ।।
একদিন সব চাওয়া-পাওয়ারা
গুণে চলে বছর দিন মাস,
সময় অধরা হয়ে রেখে যায়
কিছু স্মৃতি আর দীর্ঘশ্বাস।।
এসো বসি পাশাপাশি,
হাতে হাত রেখে উষ্ণতায় ভাসি।
মণিমুক্তার চেয়ে দামী
এতটুকু বাসা ভালোবাসায় ভরি।।
Nov 10, 2021
মায়া রানী মজুমদার
মৌমাছির অকাল মৃত্যু
পাখা মেলে উড়তে চায় ছোট্ট নতুন মৌমাছি।
দূরে পারে না যেতে, থাকে খুব কাছাকাছি।।
উড়তে গিয়ে মৌমাছি পড়ল গিয়ে জলে।
বহুচেষ্টায় ব্যর্থ,কিছুতেই উঠতে নারে স্থলে।।
পাচ্ছিল না ভেবে সে, করবে কি যে নিজে ।
উঠতে নারে মৌমাছি, পাখা গেছে ভিজে।
চেষ্টা করেছিল প্রচুর, বাঁচাতে তার প্রাণ।
চেষ্টায় বিফল হলো, করলো জীবন দান।।
অকালেই মৌমাছির মৃত্যু ঘটলো যে জলে।
মৃত্যু হলো মৌমাছির উড়তে চাওয়ার ফলে।।
এই বুঝি নিখুঁত লেখা ছিল বিধির খাতায়।
বিধি সবার কথা লিখেন পাতায় পাতায়।।
ভালো ভাবে চললে দিশা পাওয়া যায়।
ধরাতে চলে সবকিছুই বিধির ঈশারায়।।
Nov 9, 2021
রূপশ্রী চক্রবর্তী
হর্ষময় মণ্ডল
বাকি পথটুকু