Nov 18, 2021

এম.এ.রশ্মি

কবি

কবি,আমি তোমার প্রণয়ের-কাব্যের নিয়মিত পাঠক বলছি।

তোমার আদুরে স্পর্শে কলমের কালিতে যে প্রেম লেখো,

তা কি তোমার প্রেমিকারূপে জন্ম নেয়া সত্যিকারের অনুভূতি?

যদি তাই হয়,তবে প্রেমের নামে তোমার অসংখ্য পাঠক নিজেকে অন্ধকারে হারিয়ে ফেলে কেন?

আমি তো জানি,পৃথিবীতে সব সুখের অন্তরালে প্রেম থাকেনা!

কিন্তু দেখবে, সব অন্যায়ের অন্তরালে থাকে গোপন চাহিদা।

তুমি শুধু প্রেম লিখবে!তবে অন্যায় লেখার দায় কার?

পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘনিয়ে আসলেও তোমাকেই তো শেষ অবধি লিখতে হবে পৃথিবীর শেষ পরিণাম।

কারণ তুমি কবি।


তোমার টেবিলে রাখা চশমার ফ্রেমে ধূলো জমুক,

লণ্ডভণ্ড হয়ে যাক তোমার সাজানো প্রেমের প্রতীক্ষিত সংসার।

তোমার দায় শুধু প্রণয়ের জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে বিশ্বপ্রেমিক প্রমাণ করা নয়।

কখনো কখনো প্রেমিকার ভারী নিঃশ্বাস উপেক্ষা করে তোমাকেই লিখতে হবে বদ্ধঘরে অচেনা বালিকার চিৎকারের মর্মব্যথা।

তোমাকেই চিহ্নিত করতে হবে প্রেমিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হায়েনাদের ঈগল চোখ।

তোমাকেই প্রমাণ করতে হবে নিজেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা তার পরিণতির কাছে কতোটা অসহায়।


তোমাকেই লিখতে হবে সব,সমস্ত কিছু।

প্রেমের নামে কত অসংখ্য প্রেমিক প্রেমিকা  রচনা করে জীবনের সমাপ্তি।

কত অসংখ্য পুরুষ প্রেমিক হবার আগেই হয়ে উঠে অন্যায়কারী, 

তা লেখার জন্য বুড়ো আঙুলের চাপে একটা কালি ভর্তি কলম আগলে রাখতে হবে।

তোমাকে একবার প্রেমিক ভাবার আগে অসংখ্যবার ভাবতে হবে তুমি কবি।

পৃথিবীর সমস্ত অন্যায়কে প্রতিরোধ করার দায় তোমার।

পুরুষকে প্রেমিক বানানোর দায়টাও একান্তই তোমার।