প্রদীপের নীচে আঁধার
আমার মাত্র একটি ছেলেই,আমার অনেক সম্পত্তি,
আমার ছেলেকে ফোর্সে দিয়ে করব কেন বিপত্তি?
ঐ বাড়ির দু তিনটে ছেলে,বাবা ছাপোষা কেরানী,
ওদের ছেলে সীমান্তে যাক,টানবে সংসারের ঘানি।
বেপাড়ার ছেলেটা শহীদ হলো দেশমাতৃকার জন্য,
আমার ছেলে বুকে ধরে রাখব,আমার ঘরটাই অগ্রগণ্য।
শহীদের মা কেঁদে বলে"আজ আমার গর্বের দিন,"
আমি বলি ছেলে বার্ধক্যের লাঠি শুধবে মা বাপের ঋণ।
আমি স্বাধীন দেশবাসী,দেশের উন্নতির ভাগিদার,
আমার কর্তব্যের কথা তোলা থাক,চলবে দেশ বিনা আমার!!
আমার মহলটার সামনেই...ঝুপড়ি ভরা এদোপাড়া,
কাজের লোক,রিক্সাওয়ালা,মুটে, ফেরিওয়ালা সব
যোগান দেয় ওরা।
এদের কখনো স্ট্রাইক হয়না আমাদের দয়ায় এদের জীবন,
এঁটো খাবার,রঙচটা কাপড়, আমাদের বদান্যতায় জীবন যাপন।
আমার ছেলে অফিসথেকে,তেলেভাজা নিয়ে ফেরে
মোড়ের মাথায় মেয়ে দেখে একটু বাড়াবাড়ি করে।
এসবতো বয়সের ধর্ম,তবু জীবনে নেই অনিশ্চয়তা
রাতে আমার ভালো ঘুম হয়...মনে করে এসব কথা
মাতৃভূমিকে মা ভেবে যারা প্রাণের বলি দেয় হেলায়
তাদের মা বাপের অশ্রু ঝরে...শান্তির ঘুম পালায়।।