Nov 16, 2021

সৌরভ দাস

নিরাশ্রয়

"শৈশব থেকে চার পয়সার দরদ পেয়ে একটাকার ভালোবাসার কাছে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, 

ছোট বেলায় একটাও জেলি লজেন্স খেতে পারি নি বন্ধু, 

বাবা বলতেন বড় হলে পকেটে হাজার টাকা আসলেই লজেন্সের আসল ঝাল মিষ্টি টক টেস্ট বোঝা যাবে, 

দিদিমা আশীর্বাদ করে বলেছিলেন একদিন আমিই দাদুর মতো বংশের মান রাখবো, 

দাদুর হাতে লেখা পুরাতন পান্ডুলিপির সব কাহিনী মুছে গেছে, 

দিদিমাও দাদুর সাথে এক ফটো ফ্রেমে বাঁধানো ছবি হয়ে গেছে, 

ধূসর রঙ পরেছে বিদ্যালয়ের পুরাতন পাঁচিল ঘেরা লেখকদের বানিতে, 

আগের মতো সেই পথ দিয়ে হেটে গেলে লেখা পড়ে আর মনের তৃষ্ণা মেটেনা,

সেখানে এখন বিরাট বিজ্ঞাপন ঘেরা রঙিন ছবির বাহার দেখা যায়, 

মৃত মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে চেনাই দুর্লভ হয়ে পড়েছে,

যারা আমার উপর বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন

তারাও হারিয়ে গেছে বহু দূরে, 

কীর্তনিয়ার মৃদঙ্গ একদিন আমার মন কেড়েছিলো,

রাধা বিরহ শুনে মনে হয়েছিলো বৃন্দাবন নিকটেই আছে, 

পরিশেষে চেয়ে দেখি জীবনের পথে ঘন অন্ধকার হঠাৎ এসে মিশে গেছে, 

তারপর কেউ হাত বারিয়ে উপরে তুলে আনেন নি,

মনেও সাহস দেননি"।।