আমার প্রপিতামহ ছায়াগ্রামে যে বসতবাটি তৈরি করেছিলেন,
তার শান্তিছায়ায় আমি আজও নিজেকে বহন করে নিয়ে যাই।
আমার কী যে ভালো লাগে, মনে হয় এ যেন মাতৃগর্ভে ফেরা।
প্রকৃতির কোল মাতৃকোলের চেয়ে স্থায়ী সুখে আমাকে জড়ায়।
আমার পিতামহের খনন করা দীঘির স্ফটিকজলে স্নান করে
আমি জুড়াই আমার গ্রীষ্মের তাপদগ্ধদেহ।
আম জাম কাঁঠালের রসে যখন তৃপ্ত হয় আমার তৃষিত রসনা,
আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি আমার পিতাকে, যিনি প্রায়
সমমর্যাদায় সন্তানদের পাশাপাশি পরিচর্যা করতেন বৃক্ষের।
যখন আমি আমার জীবনের প্রিয় অনুভূতিগুলিকে লিখি,
আমি স্মরণ করি আমার অগ্রজ শহিদ বরকতকে,
শত্রুর আক্রমণ থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার জন্য
যিনি উৎসর্গ করে গেছেন তাঁর অমূল্য জীবন।
আমি প্রপিতামহ, পিতামহ এবং আমার প্রিয় পিতার চেয়েও
অধিক কৃতজ্ঞ বোধ করি আমার অগ্রজ ভাষাশহিদের প্রতি।
কেননা এতোদিনে আমি বুঝে গেছি, আমি নিশ্চিত হয়েছি,
আমার ভাইয়ের রক্তে বাংলাভাষা যদি সেদিন মুক্ত না হতো,
তবে আমার শৃঙ্খলিত মাতৃভূমিও কোনোদিন মুক্ত হতো না।
যদি আমার ভাইয়ের রক্তে বাংলাভাষা সেদিন মুক্ত না হতো,
আমি আমার প্রেমের কবিতাগুলি লিখতে পারতাম না।
শৃঙ্খলিত ভাষায় আমি কি আমার প্রিয়তমার রূপের ঐশ্বর্য,
আমার আনন্দবেদনা আজকের মতো বর্ণনা করতে পারতাম?
আমি বুঝতেও পারতাম না যে ভাষাই সুন্দরের শ্রেষ্ঠ ভূষণ।