Sep 30, 2023

তৈমুর খান

ট্রেনের মজা 

ঝিকঝিক ছাড়ে ট্রেন কুককুক বাঁশিতে 
মন তাই মেতে ওঠে ফিকফিক হাসিতে। 

ঘরবাড়ি ছাড়িয়ে ট্রেন ছোটে ভোঁ ভোঁ 
দুইকানে হাত দিলে বাতাস বাজে সোঁ সোঁ। 

জানালার ধারে বসে মন তাই উড়ছে 
সারা মাঠ অস্থির সব দেখি ঘুরছে। 

সূর্যটা সাথে সাথে সেও দেখি ছুটছে 
সকালের মিঠে রোদে কাশফুল ফুটছে। 

ট্রেনে চড়া ভারি মজা দুলছে তো দুলছেই
ঘুম ঘুম চোখগুলি খুলছে তো খুলছেই!

কুশল ভৌমিক

বন্ধু

বন্ধু কী আর সংজ্ঞাতে হয় কিংবা পুথি-কাব্যতে
হৈ-হৈ-হুল্লোড় গল্পগুজব জমাট কোনো আড্ডাতে
বন্ধু কী হয় শ্রাবণ মেঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে
দারুণ কোনো উপন্যাসের অবাক করা সৃষ্টিতে।

বন্ধু কেবল বন্ধনে হয় জীবন কিংবা মরণটানে 
বন্ধু হলো দুইটি দেহে এক আত্মা গানের সুরে
বন্ধু মানেই সুরে সুরে গিটারের তার
চেতনায় মূল্যবোধে মিলে একাকার।

দুই হৃদয়ের এক কবিতা বন্ধু তারে কয়
চোখের আড়াল হলেও যেজন মনের আড়াল নয়।

কমল সরকার

বদ বদল

প্রধানমন্ত্রী নোট বদলেছেন
কং-সিপিএম জোট বদলেছেন 
আমজনতা ভোট বদলেছেন
গণতন্ত্রের বুকের চোট 
বদলায়নি৷ 

টলিনাইকা বর বদলায়
অর্থমন্ত্রী কর বদলায়
ভাড়াটেরা ঘর বদলায়
মধ্যবিত্তের গলার জোর 
বদলায় না। 

মুকুল রায় দল বদলান
দুর্নীতিবাজ ছল বদলান
কলমিস্ত্রী কল বদলান
অভাগিনীর চোখের জল
বদলায় না৷ 

যেসব লোকে  বদলা নয়
বদল চেয়ে পথ হেঁটেছে
ঊর্ধ্বে  ছুড়ে নিজের থুতু 
নিজের মুখেই খুব চেটেছে,
বিবেক খুয়ে নিজেই তারা 
আপাদশির বদলে গেছে;
বাদবাকি যা হওয়ার কথা
সেসব কিছুই বদলায়নি।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

যাবে, তোতন?  

একটা দিন, অন্ততঃ একটা দিন! আমার কথায় রাজী হবে? 
সঙ্গে যাবে? তুমি আমার সঙ্গে যাবে? অন্ততঃ একটা দিন!  
খুঁজতে খুঁজতে কোথায় যাই? 
সাধ হয়েছে তোমায় নিয়ে ছোট্টবেলা খুঁজতে চাই!

এই আমার যা কিছু ছিল ভরিয়ে দেবো তোমার হাত 
সকাল বেলার সূয্যিপ্রণাম
হাঁটার পথে বেড়া-ভাঙ্গা স্কুল, কঞ্চি হাতে রমেশ মাষ্টার
দুপুর একতারা বোষ্টুমী
মায়ের হাতে ভাতের থালা, কাঁঠালপিড়ি
সজনেগাছের শুয়াপোকা, ফড়িং ওড়া, বেড়ার ধারে ছাগল-ডাক
বিকেলবেলা ফুটবলের মাঠ, জামা প্যান্টে চোরের-কাঁটা
নেবে তুমি?

এই আমার যা কিছু ছিল তুলে দেবো তোমার হাতে
বরফ কাঠির আইসক্রিম, ফেরিয়ালার সুরেলা ডাক
রেশনদোকান, চালের লাইন
বাঁদরনাচ ডুগডুগির খেল, কাঠের বাক্সে বায়োস্কোপের গান
হাডুডু খেলা, ডান্ডা-গুলি, নাকি দারিয়াবান্ধা?
বিকেলবেলা পাগল-পিসির আকুল-ডাক, সূর্যডোবা ঝিলের ধার
কেরোসিন ল্যাম্প, তুমি কি নেবে?

তোমার থেকে ফিরিয়ে নিলাম ভিডিইয়ো গেম
তোমার থেকে ছিনিয়ে নিলাম অন-লাইন ক্লাস
তোমার থেকে খুলে নিলাম টিভির চোখ
তোমার থেকে ফেরত নিলাম টিফিন বাক্সে পেস্ট্রি-কেক
তোমায় দিলাম পকেটভর্তি টসটসে কুল, ডাসা পেয়ারা, ঝালের নুন
তোমায় দিলাম ছেলেবেলা আমার, হারানো দিন
পীচরাস্তার ভ্যাঁপু নয়, তার বদলে তোমায় দিলাম হারিয়ে যাওয়া মাটির পথ!
একটা দিন, অন্ততঃ একটা দিন! আমার কথায় রাজী হবে? 
সঙ্গে যাবে? অন্ততঃ একটা দিন!

রুদ্র মোস্তফা

যেখানে রাসেল থাকে 

জোছনা মেখে তারা হয়ে 
শৈশব ধরে কে জিরুচ্ছে? 
শিশুর স্বপ্ন — স্বপ্ন চুইয়ে 
পাখায় কারা রং মাখাচ্ছে!

সবুজ ঘাসে শিশুর পায়ে 
লেগে থাকা শিশির কণা 
মেঠো পথে ডানে বায়ে 
ভিজিয়ে দেয় চোখের কোণা। 

বাইসাইকেলে ছোটোবেলা 
ডাক নাম ভুলে স্বপ্নে বোনা 
কে বা ডাকে এই অবেলা 
রাসেল সোনা রাসেল সোনা! 

সব সৌন্দর্যে রাসেলের বাস 
আনন্দ-চোখ তাকে আঁকে।
মানুষের মন শিশুর নিবাস 
শৈশবে তাই রাসেল থাকে।

তুষারকান্তি রায়

ভুল মাশুল

আদার ব্যাপারী টেকো জাহাজের খোঁজে তে
বেলতলা গেলে এক পেটো এলো গুঁতোতে
একলাফে বেলডালে টেকো ঝোলে গাছেতে
কাঁচা বেল ফেটে কষ ঝুলে পড়ে মুখেতে
আঠা দিয়ে আটা মুখ বলবার চেষ্টায়
ঠাস করে প্রাণ ফেটে মরবে কী শেষটায়?
পেট ফুলে তানপুরা মাথা করে ঝা ঝা
সিমপ্যাথি কাছে এলে পায়ে বলে যা যা
তা বলে কী ছাড়া যায় ? ঝুলে ভুগে মরলে! 
বলবে কি পাঁচজন ? ছুঁতো-নাতা করলে!
একে একে কবিরাজ এলোপ্যাথি বদ্যি 
চোখে - নাকে - কানে ঢালে নানা রস পথ্যি 
ঝরঝর কলকল কিড়মিড় কাঁপুনি 
বাঁচবার আশা জাগে মুমূর্ষু চাহনি । 
সকলের হা মুখ , কোত্থেকে কে জানে 
দলবদলুর এক সখা এলো সেখানে
দেহটা রোদেতে রেখে ঘোল ঢেলে মাথাতে
মগজ ধোলাই করে জিলিপির ছাঁচেতে
সোজা হয়ে বসে টেকো , আহ্লাদে মশগুল 
আর কোনো দিন তার হবে না এমন ভুল 

সন্দীপক মল্লিক

মনন এখন

মনন এখন নষ্ট খুঁজে হৃদয়-পূঁজের ব্যবসা করে !
সবুজ এখন সঞ্জীবনী শপথ খোঁজে না ! !
ফাগুন এখন আগুন-পাখির পাখনা ধরে ;
সৃজন-আদর অঙ্গ-সুবাস সত্যিই বোঝে না !

হায় রে আমার কষ্ট-কাঁকন রাঙা হাতের পরশ পেলি না !
ব্যথার বেহাগ নিঃশেষিত ; ভালোবাসার আদর দিলি না !

অঙ্গ এখন অর্থনৈতিক পাপের সংসার গড়ে !
মতবাদের তৃষ্ণা এখন সবুজ বোঝে না !
আলো এবং জ্যোতির দিশা দূরত্বেরই নেশায় !
পেশায় এখন অবক্ষয়ের তিক্ত বিভূষণা !

বিপ্লব উরাং

টাক ডুমা ডুম

টাক ডুমা ডুম ঢোলক বাজে
রবি ঋষির বাড়িতে।
আসছে পুজা বাজছে ঢোলক
ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়াজে।
পুজোর চাইতেও খিদে বেশি
পেটের দানা মেটাতে।
হরদিনেই রবি ভাবে-
বায়না এবার পাবেতো?

স্টীরিওতে ঢোলক বাজে-
টাক ডুমা ডুম ডুম।
কম খরচে ঢোলক পেলে
নেবে কি,রবিকে?
ভাবতে ভাবতে রবি মামা।
ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। 
স্টীরিওতে বাজছে ঢোলক-
টাক ডুমা ডুম ডুম।

নবীনকিশোর রায়

ছুটি

ছোট্ট সোনামণিরা 
এসো নাচগান শিখি
এসো শিখি ছড়া
আর কবিতা আবৃত্তি। 

পড়তে হবে অনেক বই
ভারি হয়ে গেলে মন
ঘরের কোণে কেন বসে রই? 

চলো এবার ধরি বায়না
ঘরে বসে আর রব না
বেরিয়ে পড়বো ছুটির দিনে 
চলো  সবাই আপন মনে। 

প্রজাপতি যেথায় উড়ে বেড়ায়
পাখিরা যেথায় গান গায়, 
পুকুরে ভাসে শাপলা পদ্ম
সাঁতার কাটে হাঁসের দল
চলো দেখে আসি
চলো সবাই  যাই। 

ছোখ জুড়াবে মন জুড়াবে
তোমার আমার ছুটির দিন 
আনন্দ আর হাসি খেলায় 
কাটবে সারাদিন 

টিংকুরঞ্জন দাস

নিজেকেই দেখি না

সকাল বেলার সূর্য যখন
 উঠে হেসে খেলে
মিষ্টি মধুর মনটা তখন
আনন্দে যায় নেচে।
শিউলি ফুলের সুবাস কুড়াই
ভোরের নির্জন পথে
জুঁই চাঁপা কেতকি জবা
বলে তাদেরও নিতে।

নাম না জানা আরও কত
ফুল যে গাছে আছে
তাদেরও যদি না দেখি তবে
সবকিছুই মিছে।

সব ফুলেতেই গন্ধ আছে
তীব্র কিংবা মৃদু
ভ্রমর ঠিকই বুঝতে পারে
কোন ফুলে কি মধু।

আমরা মানুষ বাহির দেখেই
করি গুণের বিচার
ভেতরেও যে কিছু থাকতে পারে
ভাবি না একটিবার।

প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে সবই
আমরাই বুঝিনা
দোষ চাপাই অন্যের ঘাড়ে
নিজেকে দেখি না।

আব্দুল গফফার

এবার পূজোয়

এবার পূজোয় নতুন জামা
আনন্দেতে হাসি,
ঝড় বৃষ্টির ভ্রুকুটি তে
জলকাদাতে ফাঁসি।

সকাল থেকে বিকেল গড়ায়
পাড়ায় পাড়ায় গোল,
ছেলেবুড়োর নেই যে ভেদ
বল দুগ্গা মাইকির বোল।

এবার পূজোয় জমিয়ে খাওয়া
বায়না ধরে হুলো,
বাপের এবার পকেট ফাঁকা
এড়িয়ে তাকে চলো।

এবার পূজোয় নাচ আর গান
ফুর্তি হই হুল্লোড়,
কেউবা ভালো, কেউবা খারাপ
হাসপাতালেতে দোড়।

এই কটাদিন থাকতে ভালো
ডাকি দুগ্গা মা'কে,
মাগো তুমি ভালো রেখো
সবার রাখো সুখে।।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

পূজোর ধুম্ 

আহা, লাগল  পূজোর ধুম্ 
কুমোর  ঠাকুর মূর্তি গড়ে
নেইকো চোখে ঘুম,

শিশির ভেজা ভোর
তাকতাধিনা তাকতাধিনা 
ঢাকের মধুর সুর,

মন লাগে না কাজে
ঘন্টা কাঁসর বাজে
ঐ বুঝি রে ত্রিশূল  হাতে
দুর্গা মা সাজে,
             
সিংহ ঘাপটি মেরে
অসুর পানে ফিরে
অসি হাতে অসুর আসে
মোষের পেটটি  ফুঁড়ে,

শিউলী ফুলের মালা
সাজিয়ে পূজোর ডালা
আকাশ জুড়ে আলোর ছটা
মন হল উতলা,

নতুন রঙে সাজি ,
ঢেং কুড়াকুড় ঢেং কুড়াকুড় 
বাদ্যি ওঠে বাজি,
             
কাশের বনের রাজি
ধরণী উঠলো সাজি,
নদীর বুকে গান গেয়ে যায়
শ্যামলা গাঁয়ের মাঝি।

শুভ্রা দেব

দুরন্ত কৈশোর
            
একঘেঁয়ে নিয়মের ছক ভুলে
রঙতুলি ফেলে এবার
আকাশের বুকে আঁকো...
ছন্নছাড়া স্বপ্নরাশি।

তুমি আজ 
বোকা ঐ বাক্সে বন্দী!
ছিঁড়বে কবে ঐ 
যান্ত্রিক বেড়াজাল?

মুঠোফোনের দেওয়াল ঠেলে
ভেঙে দাও খেলার মাঠে...
লুকোচুরি ,গোল্লা, 
পকেট ভরা মার্বেলের শীতঘুমে।
 
ক‍্যারিয়ারের খাঁচা খুলে
মেতে উঠো আজ 
মন মাতানো ছন্দতালে
উন্মাদ উড্ডীন দুরন্ত কৈশোর।

সুজন দেবনাথ

শিশুর আগামী

নিতাই দাদার একটি ছেলে 
নাম রেখেছে খোকা,
কথায় কাজে খুবই চালাক 
হয়নিতো সে বোকা।

খোকা থাকতো পরম যত্নে 
ছিলোনা তার ত্রুটি,
সাড়া বাড়ি নাচাতো খোকা 
হতোনা কারো ছুটি।

হই হুল্লোর সব আনন্দগান 
শুধুই খোকার তরে,
নিত্য চাঁদের হাট যেন তাই 
নিতাই দাদার ঘরে।

হঠাৎ একদিন থেমে গেল 
সেই চাঁদেরই হাসি,
খোকন সোনার হাতে আর 
বাজে না তার বাঁশি।

যেদিন থেকে খোকার হাতে 
মোবাইল উঠে এলো,
সেদিন থেকেই ছোট্ট খোকা 
হাসতে ভুলে গেলো।

খোকা এখন দেয়না সাড়া 
কেউবা যদি ডাকে,
এখন যে তার দু-দুটি চোখ 
মোবাইল স্ক্রিনে থাকে।

খিদে পেলেও বলেনা খোকা 
দাওনা একটু খাবো,
ছুটির দিনেও আর বলেনা
মামার বাড়ি যাবো।

খোকার এমন আচার দেখে
চিন্তা বাড়লো সবার,
তাড়াতাড়ি দেখালো তারে
মনোবিদ ডাক্তার।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শেষে
ডাক্তার দিল আভাস,
এক জায়গায় থেমে গেছে 
তার মানষিক বিকাশ।

তাকে দিতে হবে খুব আনন্দ
রাখতে হবে খুশি,
বন্ধুদের সাথেও মেলামেশা  
আগের চাইতে বেশি।

দূরে রাখুন মোবাইল থেকে
আপনার সন্তানকে,
সুস্থ ও সুন্দরে গড়তে দিন
শিশুর আগামীকে।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

কাক আর ধূর্ত শিয়াল

ধূর্ত শিয়াল পণ করেছে ধোঁকা দেবে কাককে ,
উপায় খোঁজে কিভাবে মে কাত করবে তাকে ৷
গাছের ডালে বসে আছে ভোলা ভালা কাকটি '
মুখে নিয়ে মাংসের টুকরো খাবে সুখে সেটি ৷
শিয়ালের তাই ভারী লোভ কি করে পাই ওটি,
বুদ্ধি মাথায় খেললো তখন নিতেই হবে সেটি ৷
মিষ্টি মিষ্টি কথার জালে ফেললো বেঁধে তাকে,
তখন সে গলে গেলো জলের মতো ভালবাসার চোটে ৷
যেই না মুখে এনেছে কথা ওমনি গেলো পড়ে,
শিয়াল তখন খপ করে সেটি মুখে নিল ভরে ৷
বোকা কাকা রইলো চেয়ে বিস্ময়ের চোখে,
 ধূর্তশিয়াল খাচ্ছে মাংস আপন মনের সুখে ৷
আসল কথা হল যেটা সবাই নয় সত্যি,
মিষ্টি কথার প্রলোভন যতই হোক মিষ্টি৷

খুকু রানী দে

সুখের ঠিকানা 

সুখ নামের ঐ পাখিটা
যায় যে কোথা উড়ে,
যায় যে পাখি দিয়ে ফাঁকি 
সোনার শিকল ছিঁড়ে।

সুখ পাখিটা যায় যে উড়ে
কোন সুদূরে অচিনপুরে
সপ্তসাগর পাতাল পুরে
কোন মেরুর ঐ অন্ধকারে।

পাইনা চাওয়া উল্টা হাওয়া
পল্টি  দিয়ে ধায় ,
ধরতে নারি বুঝতে পারি
কোন ঠিকানায় !

দেয় না ধরা দিশে হারা
খুঁজে খুঁজে পাগলপারা 
মূল ঠিকানা জানলে পরে
নিতাম তারে ঝাপটে ধরে।

ধরতে পারি মনোবেড়ী
দিতাম তারি পায়, 
রাখতাম তারে বন্দী করে
হৃদপিঞ্জিরায়।।।

গোপী নাথ ঘোষ

ঝরা বকুল

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

চৈত্র মাসে ভরা তাপে
শীতল হাওয়ায় দোল।
তুমি আমার সকাল সাজে
পাওয়া না পাওয়ার বোল।

ইচ্ছে ছিল পাবো কতক
পাইনি কতক তার।
পেয়েছি আবার চাইনি যতক
আনন্দতো তায়।

স্বপ্নগুলো এলোমেলো 
শুকিয়া যাওয়া ফুল।
ভোরের পথে কুড়িয়ে ছিলাম
ঝরা বকুল।

রমা চন্দ্র

খুশির পরশ

এসেছে শরৎ
খুশির পরশ...
ঝরা শিউলির ঘ্রাণে
ফুল কুড়ানোর আনন্দ...
শিশুদের মনে,
মাঠে হাসে কাশফুল-
শুভ্র নরম তুলতুল
নীলাকাশে ভেসে আসে
শ্বেতবরণ মেঘকন্যা
বয়ে আনে-
শারদ উৎসব বন্যা...,
বিদ্যালয় দেয় ছুটি
বাঁধা রুটিন টুটি
আনন্দে লুটোপুটি... 
বুকে নিয়ে মিলনের সুর-
শৈশব আনন্দে হয় ভরপুর,
দিন গোনে বিস্ময়ে
কেমনে দূর্গা মা বধ করবে অসূর!

জয়িতা ভট্টাচার্য

উৎসব 

রং-বেরঙের ঘুড়ির মাঝে
নীল আকাশে বৃষ্টি সাজে
ভাসছে মেঘের ভেলা।
ঢাক বেজেছে,ঢোল বেজেছে
কাশফুল ওই নদীর ধারে,দুুলছে।
ছুটছে যত বাচ্চা-বুড়ো
গাইছে সবাই গান,
উৎসব হোক সবার মাঝে,
ঐক্যের কলতান।

মনচলি চক্রবর্তী

মুঠোফোনে ছবি

ভাই বোনে খুনসুটি আর মিষ্টি ভালোবাসা
আজকাল আধুনিক প্রযুক্তিতে বাধা
নিজস্বিতে ব্যস্ত আজ  ক্ষুদে শিশুরা
হাসি আনন্দে ভাইবোনের মুখখানা ভরা
আয় আয় কাছে আয় আমার ছোট্ট বোন
বয়ে যায় বেহিসেবী আনন্দের এই ক্ষন
ভাই বোন একসাথে হাসি হাসি মুখে
মুঠোফোনে মোরা ছবি তুলি মহাসুখে।

নীলোৎপল গোস্বামী

বলে দিতে হয়না

ছোট ছোট রবিবার
আসে দেখো বারবার
সব্বার জীবনে,

ছিপ ফেলে পুকুরেতে
বসে থেকে সারা রেতে
মাছ ধরে ক'জনে?

গাছের যে ফল ঝুলে
রসেভরা দুলে দুলে
সবগুলি পায় কি সব্বাই?

খাটুনিটা না হলে
লেখাপড়া যায় জলে
এ যেন ব্যয়হীন অব্যয়।

ফেললেই ছিপ জলে
বুঝিয়েছি বলে বলে
মাছ ধরা যায়না,

বুঝেসুঝে হাত দিলে
কার্যতে ফল মেলে
এ আর বলে দিতে হয়না।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

দুগ্গা ঠাকুর

আনন্দময় শরৎকালে 
গাছে গাছে শিউলি ফুটে ।
সকাল বেলায় শিশির পড়ে
ঘাসগুলো সব সেজে ওঠে ।।

কুমোর গড়ে দুগ্গা ঠাকুর 
বাদ্যি বাজে ঢ‍্যাম কুড়কুড় ।
মনের ভেতর খুশির লহর 
স্বপ্নে ভেসে যাই বহুদুর ।।

বেলুন কিনব, মুখোশ কিনব 
কিনব ভেপু বাঁশী ।
খেলনা গাড়ি কিনব অনেক
থাকব হাসি খুশি ।। 

বাহনগুলো বাড়ল কত
ভীষণ ইচ্ছে দেখার ।
হাঁস বেচারা উড়েই চলে 
সময় পায় না বসার ।।

সেবার পুজোয় ফুলের তলায় 
ইঁদুর চাপা ছিল ।
দেখতে পাইনি চোখ জুড়িয়ে 
মনে দুঃখ হল ।।

পেঁচার চোখটি তেরছা ছিল
ময়ূর ছিল ছোট ।
যতই বলি কেউ শোনেনা
সেলফিতে তুলে ফটো ।।

সিংহ দেখে ভয় করে
অসুর ভীষণ রাগী ।
সামনে যাওয়া বারন
তাই মায়ের হাত ধরে থাকি ।। 

এত অস্ত্র দুর্গার হাতে 
বন্দুক কেন নেই ।
জানতে চাইলে পাড়ার দাদারা
জবাব দিল হেসেই ।।

এই সময়ে পড়তে হয় না
আসল কথা এইটি ।
বকাঝকা শুনতে হয়না
ভীষণ মজায় থাকি ।।

মাধুরী লোধ

বর্ষা

বর্ষা এলো ব্যঙ ডাকলো
ঝি ঝি র ঘুম নেই
জোনাক জ্বলে মিটিমিটি
খুশির সীমা নেই।
মাঠ ঘাটের সবুজ বরণ
হাঁসের ডুব সাঁতার
ঝিরিঝিরি জলের ফোঁটা
দোকান খোলো ছাতার ।
কৃষাণ ভাই বেজায় খুশি
হবে আমন ধানের চাষ
খাই খোরাকি আসবে এতে
 বেচবে বারোমাস ।
মেছুনি দিদি বড়শি হাতে
ধরেন টেংরা পুটি শোল
বর্ষা এলেন জল নিয়ে
খেতে দেবেন দ ই খ ই ।
খোকা খুশি খুকু খুশি
আজকে ইস্কুল বন্ধ 
উঠানে ভাসবে কাগজের নৌকা
আহা আহা কি আনন্দ !!!

রীতা চক্রবর্তী ( লিপি )

বিল্টুর গল্প

বিল্টু এ পাড়ার এক পরিচিত নাম। দামাল ছেলে হিসেবে ওর যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু ওর দামালপনার আড়ালে যে একটি সংবেদনশীল মন আছে একথা কিন্তু অনেকেই জানে না। আজ এখানে সেসব গল্পই বলব।

                      ওই যে দূরে, এ পাড়ার একেবারে শেষ প্রান্তে বহু পুরোনো হলুদ রঙের ছাদ পেটানো একতলা একটি বাড়ি, সেটাই  বিল্টুদের বাড়ি। তিন পুরুষ আগে ওর ঠাকুরদা এই বাড়িটি বানিয়েছিলেন।  ওদের বাড়ির পেছনদিকে একটি বাগান ও তৎসংলগ্ন একটি ঘাট বাঁধানো পুকুরও আছে। এখন ওখানে আম কাঁঠাল সহ নানা বড় বড় গাছ গাছালি ও  গুল্মলতা ওদের  বাড়িটিকে প্রায় ঢেকে ফেলেছে। ওই ছায়া ঘেরা এলাকায় বিল্টু সারাদিন রাজত্ব করে বেড়ায়। শালিক চড়ুই দোয়েল সহ আরো কত নাম না জানা পাখি ওদের বাগানে এসে বাসা বেঁধে আছে! বেড়ে ওঠার সাথে সাথে  ওই পাখিগুলো, পুকুরের মাছ, বাড়ির পোষা বেড়াল সকলের সঙ্গে ওর প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে ওদের দানা খাওয়ানো, ওদের সঙ্গে সময় কাটানো ওর নিত্যদিনের কাজ।

                   বিল্টু পড়াশোনায় যেমন তুখোড় তেমনি উদার মনের। ভালো ছাত্র হওয়ার সুবাদে স্যারেরাও ওকে খুব স্নেহ করেন। প্রাথমিক স্কুল পেরিয়ে সে এবার মাত্র হাইস্কুলে পদার্পণ করেছে। তবু ক্লাশে ওর বিচক্ষণ বুদ্ধি ও দরদী মনের জন্য ওর বন্ধু মহল ওকে ক্লাশ ক্যাপটেন বানিয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের কাছে বিল্টু মানেই মুশকিল আসান।

              একদিন বিল্টু স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখল ওদের গেটের পাশের ড্রেনে একটি বেড়াল ছানা পড়ে ওই নোংরা জলে খাবি খাচ্ছে। ও একছুটে ঘরে ঢুকে পিঠের ব্যাগটি বিছানায় ছুঁড়ে ফেলেই বাইরে বেরিয়ে গেল। পেছনথেকে মা চেঁচিয়ে ডেকে দুরন্ত ছেলের পিছু নিয়ে দেখলেন, ড্রেনের জলে খাবি খাওয়া একটি বেড়াল ছানাকে বাঁচানোর জন্যই ওর এত তৎপরতা। ও কত বুদ্ধিই না এঁটে যাচ্ছে তখন। অবশেষে একটু কসরত করে একটি বড় কাঠের টুকরো নিয়ে একপাশ ধরে অপর পাশ ড্রেনের জলে ডুবিয়ে দিতেই কুঁকড়ে যাওয়া বেড়াল ছানাটি কাঠ বেয়ে ওপরে উঠে এলো। এতে বিল্টুর আনন্দ আর ধরে না। মায়ের গজগজ এড়িয়ে সেদিন ও ওর ফ্রেন্ড ফিলোসফার ও গাইড দাদুভাইর সঙ্গে জোট বেঁধে বেড়াল ছানাটিকে পরিস্কার জলে স্নান করিয়ে একটু দুধ খেতে দিল। এরপর থেকে ওই ছানাটি ওদের বাড়িতেই থেকে গেছে। বিল্টু ওর নাম রেখেছে কুটুস। কুটুস এখন বিল্টুর খুব ন্যাওটা হয়ে গেছে। যতক্ষন বিল্টু বাড়িতে থাকে ততক্ষণ ওর পায়ে পায়েই ঘুরে বেড়ায় আর ম্যাঁও ম্যাঁও করে ল্যাজ নাড়ায়। 

         বিল্টুর মায়ের হয়েছে যত জ্বালা। ওর এসব দুরন্তপনা লাগাতার চলতে থাকে আর মায়ের ধরে যেন প্রাণ থাকে না। কিন্তু যার প্রশ্রয়ে বিল্টু এমন খেয়াল খুশি ঘুরে বেড়ায়, তিনি হলেন ওর প্রাণপ্রিয় ঠাকুরদা। তাই মা বিশেষ কিছু বলতেও পারেন না। সেদিন বিল্টু স্কুল থেকে ফেরার পর প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো সঙ্গে আলোর ঝলকানি ও বজ্রপাত। এক একটি বজ্রপাতের শব্দে যেন  কানে তালা লেগে যাচ্ছে। সঙ্গে ঝড়ের দাপট। এদিকে মায়ের চোখ বাঁচিয়ে বিল্টু কখন ছুটে চলে গেছে বাগানে! আম গাছের মগ ডালে থাকা পাখির বাসাটি ভেঙে কোন পক্ষীশাবক নিচে পড়ে গেছে কিনা সেসব পরখ করতে । এরপর ওর  দাদুভাই ই সেদিন আতঙ্কিত হয়ে ছুটে গেছিলেন এই ঝড় জল থেকে নাতিকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে আনতে। এমনি করেই দিনভর বিচ্ছু ছেলেটি সকলকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।

                           এইতো গতবার পুজোর সময় বিল্টু কী কান্ডটাই না ঘটিয়েছিল। ব্যাপার খানা হলো এই, বিল্টুর অস্টমীতে পড়ার নতুন জামাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মা যখন হন্যে হয়ে খুঁজে বিল্টুকেই জিজ্ঞেস করলেন,ওর দাদুর বাড়ি থেকে পাঠানো আকাশ নীল জামাটি কোথায় আছে, তখন বিল্টু বললো "মা ওটা আমি আমার স্কুলের বন্ধু সন্তুকে দিয়ে দিয়েছি"।

—সে কী রে!! কেনো?

 —জানো ওর না একটিও নতুন জামা হয়নি এবার। ওরা ভীষণ গরীব মা। ওর বাবা একটি মুদি দোকানে কাজ করেন। এবার ওনার খুব অসুখ হয়েছিল তো তাই ওনার সব টাকা ঔষধ কিনতেই খরচ হয়ে গেছে"। ক্ষুব্ধ বিস্মিত মা একটু রাগত স্বরে বললেন " তাই বলে তুই আমায় একবার জিজ্ঞেস করবিনা ? ওটা তো তোর দাদুর দেওয়া সব থেকে সুন্দর জামা ছিল"।

—তাতে কী হয়েছে মা!! আমার তো অনেকগুলো জামা হয়েছে। ওর বুঝি একটাও হতে নেই! অগত্যা মা আর কী করেন। তিনি চুপ হয়ে গেলেন। 

                 এমনি বিল্টুকে নিয়ে যে কত গল্পগাথা আছে ,সেসব লিখতে বসলে একেবারে মহাভারত হয়ে যাবে। যাক আজ আমি বিল্টুর গতকালের ঘটনাটি লিখেই আমার গল্পের ইতি টানছি। 

              এইতো গতকাল ওরা সবাই পুজোর বাজার করতে গেছিল। বিল্টুর এসব দোকানে দোকানে ঘোরাঘুরি একদম পোষায় না। ওকে হাতছানি ‌দেয় খোলা আকাশ। কিন্তু মা তো নাছোড়, ছেলেকে নিয়েই যাবেন। হঠাৎ বিল্টুর মনে পড়ল, বাজার শেষে নিশ্চয় রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া হবে, এই লোভেই সে যেতে রাজি হয়ে গেল। এরপর সারাদিনের বাজার হাট শেষে ক্ষুধার্ত ক্লান্ত সকলে বিল্টুর তাগিদে বাজারের পাশেই একটি পর্দা ঘেরা হিমশীতল রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করলেন। বিল্টু গোল গোল চোখে দেখছে, ওখানে সবাই ওর জিভে জল আনা চিকেন চাউমিন খাচ্ছে। বিল্টুও চিকেন চাউমিন খেতে চাইল এবং ওদের টেবিলে খাবার পৌঁছতেই ও গোগ্রাসে খেতে আরম্ভ করল। খেতে খেতেই হঠাৎ কী যে হলো, প্লেটটি সরিয়ে রেখে বিল্টু কাঁচের সুইংডোর ঠেলে বাইরে বেরিয়ে গেল। অনুকম্পা নিয়ে মা পেছন থেকে বলে উঠলেন, 'কি হলো বিল্টু, কোথায় যাস'? ততক্ষণে বিল্টু বাইরে বেরিয়ে গেছে। ফিরে এলো একটি মলীন জীর্ণ জামাকাপড়ের ধূলো বালি মাখা নোংরা ছেলের হাত ধরে। ছেলেটিকে ওর পাশে বসিয়েই বলল, 'ওর জন্যও একটা ডিশ অর্ডার করো তো মা! আমি যে খাচ্ছিলাম ও বাইরে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছিল। ওর বোধকরি ক্ষিদে পেয়েছে আর চাউমিন খেতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। ছেঁড়া জামা দেখেই বুঝেছি ওরা খুব গরীব। এতো পয়সা নেই ওদের,তাই আমাদেরই তো ওদের খাওয়াতে হবে, তাইনা মা? ছেলের কথা শুনে মায়ের চোখ জলে ভরে উঠল। তিনি সারাদিন ছেলেকে কত বকাঝকা করেন! স্কুলের টিফিন বন্ধুদের বিলিয়ে দেয় বলে কত অভিমান করেন!  আর ছেলে কেমন মায়ের অজান্তেই মানবিক গুনগুলো নিয়ে বড় হয়ে উঠছে! তিনি মনে মনে দুইহাত জোড় করে ঈশ্বরকে প্রণাম করে বললেন, ' ঠাকুর তুমি ওর এই মনটি বাঁচিয়ে রেখো। বড় হয়েও জেনো এমনি করেই ওর মনে সকলের প্রতি দয়া মায়া, শ্রদ্ধা সম্মান,প্রেম ভালোবাসা অটুট থাকে। তবেই আমার বিল্টু আদর্শ মানুষ হয়ে উঠবে। তুমিই দেখো ঠাকুর"। বলেই তিনি আরো এক প্লেটের অর্ডার করতে কেশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলেন...।।

মৌসুমী গোয়ালা

খুকির সকাল 

শরৎ কালের সকাল বেলা, 
শিশির ভেজা শিউলির মেলা।
খুকির হাতে ফুলের সাজি,
চড়াই শালিক বেজায় পাজি।
চুপটি করে ফুল সরায়,
খুকিকে ওরা রোজ কাঁদায়।
আজ হয়েছে জবর রাগ,
বলল ডেকে তোরা ভাগ।
নয়ত পাবি বেতের ঘাত,
এক ঘা খেলেই কুপোকাত।

ঝিমলি আচার্য

পুজোর ছুটি 

তাক ধি নাধিন ধিন 
আসছে ছুটির দিন ।
পড়ার নেইকো চাপ
সব কিছুতেই মাপ ।
সুযোগ বুঝে বায়না ,
'দুর্গা পূজা 'তাই  
অল্পেতে কিছুই হয়না ।
শুধুই দিন গুনি আসবে 
কবে জগতদলনী ।
বুকে ভীষণ ব্যথা 
শুন 'মা 'আমার কথা ---
থাকো না চার এর বেশি 
ছুটির দিন বাড়লে 
হবো অনেক খুশি ।
দাদা ঢাক বাজা 
কি মজা কি মজা ।

গৌতম চন্দ্র

শব্দরূপ

বৃষ্টি পড়ার টুপ্ টুপ্
কোলাব্যাঙের থুপ্ থুপ্
মাছের লেজের ছুপ্ ছুপ্
বসন্ত বৌরির ঘুপ্ ঘুপ্
বানর ছানার ঝুপ্ ঝুপ্
হনুমানের হুপ্ হুপ্
হৃদয় ডাকে ডুপ্ ডুপ্
ঢোলের বাদ্যি ঢুপ্ ঢুপ্
খাবার খেয়ে গুপ্ গুপ্
খুকু শোনে চুপ্ চুপ্!

প্রতীচী ভৌমিক

সঙ্গী

কে গো  ওটা,  মিথ্যা  ঝুটা
আমার  মতো হাঁটো? 
সকাল  বিকাল  লম্বা হও যে
দুপুর বেলা  খাটো? 

ভোরের বেলায়  পূব আকাশে
সৃর্যি প্রণাম করি,  
সে ব্যাটা ও প্রণাম  সারে 
আমার  পিছন ধরি। 

দুপুর বেলা  হন্যে  হয়ে 
খুঁজে  মরি বৃথা,
আমার সাথে মিশে  থাকে 
আষ্টেপৃষ্ঠে  বাঁধা। 

বিকাল বেলা  সূর্য  ডুবে 
দেখি অন্যমনে, 
সে ও তখন  সূর্য  দেখে
লুকিয়ে সঙ্গোপনে। 

আমি  দৌড়ালে সে  ও দৌড়ায়
দাঁড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে,
হাত নাড়ালে নাড়ায় হাত
বসলে বসে থাকে। 

অন্ধকারে  হারিয়ে যায় সে
ধরতে পারি  নাকো, 
আলো জ্বাললে সটান  হাজির 
বকলে যাবে নাকো। 

নৃপেশ আনন্দ দাস

শিশুই যেন রবে


শিশুরা সব ফুলের মতো,
ফুলের মতো হাসে ।
সেই না হাসি দেখে সবাই,                                    
আগ বাড়িয়ে আসে ।।


আয় রে শিশু, আয় রে তেড়ে,
তোদের জায়গা নে রে কেড়ে,
জয়ের ধ্বনি দিয়ে দিয়ে,
আধমরাদের গা মেরে ।।


কথায় কবে গেছে রে কে, মানবতার ইতিহাসে ।
কাজের জনে সবাই মানে, সবাই ভালবাসে ।।


আজকে শিশু, কাল বিকেলে জানি বড় হবে ।
ফুলের ছোঁওয়া গায়ে মেখে, শিশুই যেন রবে ।।

পাপিয়া দাস

বুড়ো মাষ্টার

ছোটবেলায়  ছিলো
এক বুড়ো মাষ্টার আমাদের 
দুপুরবেলায় পড়াতেন ছ'দিন
শুধু রবিবারটাই ছিলো বাদের।

প্রতিদিন একই ভাব
এসেই বলতো পড়া লেখো যা যা ছিলো স্বল্প
বসে বসে ঘুমিয়ে  যেতেন
আর আমরা জোড়ে দিতাম গল্প।
ভাইতো একদম দেখে দেখে
লিখে ফেলতো সব।
আমি বলতাম বলে দিলে
বেত পড়বে তোর ওপর দপ্ দপ্ দপ্।

সেকি!কান্ড 
রোজই  একই ব‍্যাপার
ভাই দেখে দেখে লিখতো সবই
আমার চোখের সামনে।

আমি বলে দেব।দেখে কেন লিখিস
বললে কি আর হবে? দোষ নয়তো আমার 
ভুল তো করছে এ বুড়ো মাষ্টার

সোনালী মণ্ডল

দীপুর দেখা 

দীপু এলো গ্রাম ঘুরতে,
পুজোর ছুটির দিন গুলিতে।
ঠাম্মা দাদু গল্প শোনায়,
বসিয়ে কোলে দুপুর বেলায়।
দাদুর সঙ্গেই হেঁটে হেঁটে,
দেখে দীপু সেই তল্লাটে।
সকাল বেলা হাটে যাওয়া,
বিকেল হলে পুজোর খাওয়া।
সন্ধ্যা কালে ঠাকুর দেখা,
দীপুর সবই নতুন শেখা।
ইচ্ছে হলেই দৌড়ে মাঠে,
খালি পায়ে রৌদ্রে হাঁটে।
শাপলা দেখে খালের জলে,
মাছ ধরার ছিপ ফেলে।
গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ে,
খেয়াল মতো বাছুর ধরে।
দাদুর চশমা চোখে নিয়ে,
ঠাম্মার পান মুখে দিয়ে।
ছড়ি ঘোরায় সবাইকে,
চোখ রাঙিয়ে ভীষণ বকে।
এমন করেই কেটে গেলো 
দীপুর ছুটির দিন গুলি,
শহরে ফেরার দিন এলো
সঙ্গে যাবে স্মৃতির ঝুলি।
চায়না দীপুর শিশু মন
অট্টালিকার খাঁচায় থাকতে,
গ্রামের এই সহজ জীবন
পাবে কি আর শহরেতে ?

দীপা সরকার

ব্যাঙের ছাতা

আচ্ছা খুড়ো, বলতে পারো;
এমন কেন হয়!
মাশরুমকেই সবাই কেন ব্যাঙের ছাতা কয়?
মাশরুম তো আমার প্রিয় খাবার মা রান্না করে দেয়,
সত্যি সত্যিই ব্যাঙ বুঝি সেটা মাথায় দেয়?

তোমার মতন তারও কি হাতে ছাতা থাকে?
ধুর! তার তো আর হাত নেই ছাতা ধরে রাখে।

কেমন যেন গোলমেলে সব,
বুঝি না বাপু কিছু,
এত প্রশ্ন কেন যে আমার পিছু পিছু।

মাশরুম নাকি ব্যাঙের ছাতা...
এটা কি করে হয়?
সবাই যে কেন মাশরুমকেই ব্যাঙের ছাতা কয়?

বলছি দাঁড়া সব উত্তর এবার থামা প্রশ্নের মেলা,
তোর এত প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার ফুরোবে এ বেলা।
ছাতার মতো দেখতে বলেই একে ছাতা কয়,
ব্যাঙ এসে বৃষ্টির দিনে এর তলেই রয়।
ব্যাঙ থাকে বলেই বোধ হয় একে ব্যাঙের ছাতা বলে।
প্রিয় খাবার খেয়ে নে এবার,
এতো কথা না বলে।
আর শুনে রাখ—
ব্যাঙের ছাতা মাশরুমও হয়,
এক জিনিসের দুটো নাম হলে।

বিশ্বজিৎ মানিক

সূর্যি মামা
              
আমি আলোর রাজা সূর্যি মামা
অন্ধকারে কেউ দেখে না ।
দিনের বেলায় আলো নিতে
সুযোগ পেলে কেউ ছাড়ে না ।
আমি যে আলোর রাজা সূর্যি মামা ।

তাপ আমার বেড়ে গেলে
লোকে আমায় মন্দ বলে।
তাপের শিখায় জ্বলবে বলে
কেউ আসে না আমার কাছে ।
আমি যে তাপের রাজা সূর্যি মামা ।

আমার শক্তিতে যারা
দিনের বেলায় মাতোয়ারা,
দিন শেষে তারাই আবার
খবর কেউ রাখে না আমার ।
আমি যে শক্তির রাজা সূর্যি মামা ।

পান্থ দাস

ঠাম্মা 
     
ঠাম্মা
ও ঠাম্মা
আমার বাড়ি কই ?

জমিয়েছি যে
এক মুঠো আবদার 
আদর দেবো কই ?

ঠাম্মা 
ও ঠাম্মা
মা তোমার কই ?

সোহাগে যে তুমি
বায়না করে
রাগটি করো কই ?

ঠাম্মা 
ও ঠাম্মা
ঘোমটা তোমার কই ?

ঘুমের দেশে
গল্পে হারিয়ে
আমিও চেয়ে রই ৷

নীতা কবি মুখার্জী

এসো ভাদু মা


ভাদর মাসে ভাদু পূজা ,ভাদু আনতে চল,
কেমন ভাদু নিবি তোরা আমার কাছে বল।

এসো ভাদু, বসো ঘরে, সাজিয়ে দেবো পান,
তোমার বিয়েতে দেবো ভাদু খাট-পালঙ্ক দান।

আমার ভাদু বাচ্চা-মেয়ে চুল বাঁধতে জানে না,
শান্ত-শিষ্ট লক্ষ্মী -মেয়ে কান্না-কাটি করে দাও না।

সোনার মত রঙ ভাদুর কুচবরণ চুল
রূপের বর্ণন করতে গিয়ে কবি করেন ভুল।

ভাদর মাসের সংক্রান্তি হবে ভাদুর জাগরণ,
তালের লুচি, তাল -ঘাঙরা করবো কতো আয়োজন।

আমার ভাদু রূপের ডালি, আলো ঝলমল করে,
সাত রাজার ধন একলা মাণিক,সবার চোখে ধরে।

এমন সুন্দর ভাদু-মাকে জলে দেবো কেমনে?
আবার এসো ভাদু তুমি পূজা করবো যতনে।

অভিষেক অধিকারী

দত‍্যি দানব

সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে
এল এক দত‍্যি 
এই হল গল্পের সত‍্যি

অচিনপুরের রাজার রাজ‍্য
করলো সে যে ছাড়খাড়
কোন প্রজাকেই রাখল না সে আস্ত।

দূরে এক ছোট্ট কুটীর 
সেখানে থাকে মা আর খোকা
খোকা বলে করব আমি ধ্বংস
দৈত‍্যের বংশ।

খোকার কাছে আসে এক মুনি
মন্ত্রপূত তরবারি দেয় সে খোকার হাতে।
মুনি বলে তরবারির তিন প্রহারে
দত‍্যি হবে কাত। 

তরবারি নিয়ে খোকা অচিনপুরে আসে
তিনপ্রহারেই করে ধ্বংস 
দৈত‍্যের বংশ।

রাজার মেয়ে নিয়ে খোকা চলে গাঁয়ের পথে।
খোকার মা ঘরের ভিতর আম সন্দেশ মাখে।
 তাই খেয়ে খোকা আর রাজকুমারী নাচে। 

সঞ্জীব কুমার রাহা

 একটা পাগল,

একটা পাগল,কবিতা লেখে
একটা পাগল প্রকৃতি দেখে
পাগলটা ঘুরে বেড়ায়,
জীবনবোধের রসদ খোঁজে

পেটে নেই ভাত,গায়ে নেই জামা
তবু পাগলটা কবিতা লেখে
ও রাত জাগে, সূর্যোদয় দেখে আগেভাগে
ওর অসীম ধর্য্য।পাগলা কবিকে প্রনাম।

দীপু দেবনাথ

খেলার পুতুল 

চুল বেঁধেছি শাড়ি পরেছি যাব এবার সশুর বাড়ি।
হাতে চুরি পায়ে আলতা সঙ্গে যাবে আমার ছাতা।

তুমি মাগো আমার মেয়ে বিয়ে দেব বাবার সনে!
ডাকবে বাবা আমায় যখনি উত্তর দেব আমি রানি ।

মার বিয়ের কন্যা যাত্রী আমার হাতের রাঙা পুতুল টি ।।
বাজবে কাসর উলোড় ধনী বড় দেখবে ছোট্ট পুতুল টি।

মেয়ে আমার খেলার সাথী সংসার খেলায় পরিপাটি ।।
ছোট্ট পুতুলটির আজ বিয়ে হয়েছে জীবন যুদ্ধে হেরে ।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

পাজির সাজা

কি রে খুকু কি হয়েছে
কাঁদিস না রে আর
ধরতে যদি পারি তাকে
মারব ভীষণ মার। 

পাজিটাকে কোনভাবে
ধরতে যদি পারি
ভীষণ ভাবে বকব তাকে
পাবেই সাজা ভারি। 

খুকু মনি আর কাঁদিস না
বকছি কেমন তাকে
বুঝবে মজা যখন সাজা
দেব পাজিটাকে। 

চল না খুকু আমার সনে
পুকুর পাড়ে ওই
ঘ্যাংর ঘ্যাংর ডাকছে ব্যাঙ
জলেতে থই থই।

শর্মি দে

বলো না মা!

বলোনা মা, আমাদের পাড়ায়ও 
দুগ্গা মায়ের পুজো হবে নাকি?
নতুন জামা নতুন প্যান্ট
বলো না মা, পরতে পাবো নাকি!

জানো মা, সারাবছর ধরে আমি
কত স্বপ্ন দেখি
শিউলিভরা পুজোর গন্ধে 
খুশি গায়ে মাখি!

বলোনা মা বস্তিবাড়ির বন্ধুরা কি
আমার মতোই ভাবে?
ওদের যে নেই খাবার জোগাড়
কাপড় কোথায় পাবে!

এই "গরিব" টা কি কখনো 
যাবে না মোদের ছেড়ে?
কোথা থেকে উড়ে এসে 
সুখ নিলো কেড়ে!

বলোনা মা, এবার পুজোর
আর কত দিন বাকি?
মণ্ডপে বসে দুগ্গা মাকে
দেখতে পাবো নাকি!

ঢাকের তালে নাচবো মোরা
সব শিশুরা মিলে 
পেটভরে খিঁচুড়ি খাবো
ধনী গরিব মিলে!

ও দুগ্গা মা, দুগ্গা মা!
আসবে কবে বলোনা ?
দুষ্টু এই "অভাব"টাকে
তাড়িয়ে কেন দিচ্ছো না!

ওমা, অনেক তো হলো
আর যে ভালো লাগছে না,,,
চোখের জলে তোমার পুজো 
করবো না মা করবো না!

শ্বেতা_ব্যানার্জী

ভোরের ভৈরবী         

ছোটবেলায়  মোরা আছি
ছোট্ট ফুলের তোড়া, 
স্বপ্নের  পথ হেঁটেই --
নাম কিনবো বিশ্বজোড়া 

খেলবো মোরা ছুটবো মোরা
 খোলা মাঠের বুকে,
দস্যিপনায় পাগল হয়ে 
মোরা হাসবো মনের সুখে। 

বইয়ের ব্যাগ বড্ড ভারি 
নামিয়ে রাখি ওটা, 
মা'গো মুখে মুখে পড়ে 
মোরা, শিখবো এটা-সেটা।

গান টা আমি শিখছি মা'গো 
দোয়েল, ফিঙের থেকে 
বল দেখি মা, ওরা এ গান--
কোথা থেকে শেখে!!

মানুষ যদি হই আমি মা,
ফুলের মতন হ'বো
নিজেই শুধু ফুটবো না মা,
 সুগন্ধও বিলাবো..।
      
বাতাস থেকে শিখবো মা'গো
ধৈর্যেরই শিক্ষা 
প্রকৃতির থেকে নেবো আমি
মানুষ হবার দীক্ষা।

অলকা গোস্বামী

আমরাও দায়বদ্ধ

ঝকঝকে নীল আকাশ। কুয়াশা কেটে একটু একটু করে রোদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ভালোলাগা আবেশ মন ছুঁয়ে যায়।

দুবছর হয়েছে এই শহরে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে সমীর রুচিরা, আর ওদের সাত বছরের ছোট্ট ছেলে বুবাই।

বুবাই এবারে ক্লাস টু তে। শুরুর দিকে ক্লাসের অন্য বাচ্ছাদের সঙ্গে মিশতে অসুবিধা হলেও এখন অনেকেই বুবাইর বন্ধু। পাশাপাশি কোয়ার্টার তাই বিকেল হলেই পার্কে খেলতে যাওয়া, ঘুড়ি ওড়ানো এসব চলতে থাকে। শুরুতে যে মন খারাপটা ছিল , এখন সেটা অনেকটাই কমেছে। মাঝে মাঝে পুরনো বন্ধুদের কথা বুবাইয়ের মনে পড়ে বৈকি!!

রুচিরা বুবাইয়ের পড়াশোনা নিয়ে ভীষন সচেতন।প্রত্যেক ইউনিট টেস্ট এ A+ আনতে হবে, নাহলেই ঘরে অশান্তি।

সমীর বুঝিয়ে উঠতে পারে না। এত অশান্তি করে লাভ নেই। বুবাই কে বড় হতে দাও। এমনি বুঝবে পড়াশোনার গুরুত্ব। শুধু পড়াশোনা করে কী হয় বলত! জীবনে একজন ভালো মানুষ হতে গেলে সবকিছুর দরকার আছে। সবচেয়ে বেশি যা জরুরি সেটা হচ্ছে ওকে শৈশব উপভোগ করতে দাও,কেড়ে নিও না। এই দিনগুলো আর ঘুরে আসে না।

সমীরের শুধু রবিবার ছুটি। তাই ওই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে বুবাই। নানান বায়না থাকে সেদিন। বাজারে নিয়ে যাও, জু দেখাতে ,নয়ত কোথাও বেড়াতে... এসব কত কী! গাছে  কোন পাখি দেখলে সেটা কি পাখি, ওর বাড়ি কোথায় , মা সাথে আছে কিনা, কত্ত কি প্রশ্ন। সমীর বুবাইর প্রশ্নের জবাবে কখনো অধর্য হয় না। ধীরে সুস্থে হাসি মজাক করে সব উত্তর দেয়। 

অনেকদিন থেকে মামাতো দিদি আরতি ফন করে বলছে ওদের বাড়ি যেতে। অনেকটাই দূর তাই সমীর তেমন যাবার ইচ্ছে দেখায় নি। আজ রবিবার, অনেকদিন বেড়াতে যাওয়া হয় না। তাই সমীর রুচিরা আর বুবাইকে নিয়ে দিদির বাড়িতে বেড়াতে গেলো।

অনেক দিন পর সমীর কে দেখে খুব খুশি হলেন আরতি দেবী। বাড়ির অবস্থা স্বচ্ছল ছিলনা তাই ছোটবেলা মামার বাড়ীতেই কেটেছে আরতি দেবীর। তাই ছোটভাই সমীর কে খুব স্নেহ ও করেন। এখন এই বড় শহরের অভিজাত এলাকায় নিজের বাড়ী।ছেলে মেয়ে দুটোই বিদেশে থাকে। সুন্দর দোতলা বাড়ি... ছিমছাম সুন্দর করে সাজানো সবকিছু। কোনো আতিশয্য নেই। রুচিরা বুবাই কে বলল,

যাও পিশিমনি কে প্রনাম কর। আরতি দেবী জড়িয়ে ধরলেন বুবাইকে।

কী যে বল,রুচিরা! আমার ভাইপোকে আজ এতদিন পর দেখছি, কী যে ভাল লাগছে। তোমরা এতদিন হয়ে গেল এই শহরে আছ অথচ আমার বাড়িতে আজ...

কী বলব রাঙা দি, আর বলনা, অফিসে এত কাজের চাপ। তাছাড়া নূতন এসেছি চেনা জানাও হয়নি তেমন।

কথার মাঝখানে হটাৎ করে ধাম করে দরজা ধাক্কার শব্দ শোনা গেল।

এই রে, শুভ নিশ্চয়ই। সুচরিতা এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সমীর দেখলো

লাফাতে লাফাতে একটা ছেলে ঘরে ঢুকল। বয়সে হয়ত বুবাইর চেয়ে একটু বড়ই হবে।

ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। অনবরত আঙ্গুল নাড়ছে আর মুখ দিয়ে মৌমাছিদের মত ঘু...ঘূ... শব্দ বেরুচ্ছে। পরিবেশ টা হটাৎ করে কেমন পাল্টে গেল। ছেলেটার পিছন পিছন ওর মা ও এসে ঢুকলেন। আরতি দেবী পরিচয় করিয়ে দিলেন।

এই আমার ভাই সমীর আর বউ রুচিরা, ছেলে বুবাই।

এখানেই থাকে।

আর সমীর ইনি হচ্ছেন মিসেস দত্ত আমদের প্রতিবেশী। এই যে শুভ দেখছো ও আমার বন্ধু। আমার সংগে চোখ দিয়ে কথা বলে.... বাগানে আমার ফুল গাছে জল দেয়। অনেক হেল্প করে....!

শুভ উঠে গিয়ে বাবাইর পাশে গিয়ে বসল। বাবাইর মুখের কাছে মুখ নিয়ে খুব ভালো করে দেখল। সমীর বলল,

দেখ ওর সমবয়সী তো  তাই পাশে বসে দেখছে।

হঠাৎ উঠে পড়ল শুভ। ঠিক যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। মিসেস দত্ত ও ওর পিছন পিছন বেরিয়ে গেলেন।

আরতি দেবী বললেন,

সত্যি কী যে খারাপ লাগে মিসেস দত্ত কে দেখলে। কোনো কিছুর অভাব নেই ওদের। হাসব্যান্ড এম এন সি তে বড় চাকরি, নিজেও নামী কলেজের প্রফেসর ছিল। এই ছেলের জন্মের পর ডাক্তার যখন বলল যে বাচ্চা অটিস্টিক ও এমনি নিজের ভাবেই থাকবে। ওদের ব্রেইন এর কোনো একটা পার্ট নাকি ডেভেলপ হয় না। এর স্থায়ী কোনো চিকিৎসা ও নেই। মিস্টার ও মিসেস দত্ত কত জায়গা তে গেছে শুভ কে নিয়ে ট্রিটমেন্ট এর জন্যে। কিন্তু খুব একটা ভাল ফল পাওয়া যায় নি।সেই তখন থেকে মিসেস দত্ত চাকরি ছেড়ে বাচ্চার সংগে ছায়ার মত আছে ।  ওর জীবন ছেলেকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। শুভ কথা বুঝতে পারে। কিন্তু বলে না, ওই তো চোখের ইশারা বা হাত দিয়ে বুঝিয়ে দেয় নিজের কখন কি দরকার।এরকমই নাকি হয় অটিস্টিক.... তাইতো ওরা ভগবানের বিশেষ শিশু।

রুচিরার চোখ জল ভরে এলো। শক্ত করে চেপে ধরলো বাবাইয়ের হাত।

বাড়ী ফেরার পথে সমীর বলল, জানো তো আমি ভগবানকে সবসময় ধন্যবাদ জানাই যে এমনি করেই সব ঠিকঠাক রেখো। বেশী টাকা পয়সা,সম্পত্তি এসব কোন কাজের যদি বাচ্চা এমন হয়।

রুচিরা চুপ করে সমীরের কথা শুনছিল,বলল

শুভ র চোখ দুটো কী মায়াভরা আর নিষ্পাপ। ওরাই তো ভগবান গো। আমার ছেলে ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ সবল আছে। ওকে নিয়ে কত স্বপ্ন কত উচ্চাশা। শুভর মায়ের কথা ভাবলেই আমার বুকটা মোচড়ে উঠছে।

সমীর বলল,

রুচিরা এবার থেকে ছুটির দিন গুলোতে আমরা স্পেশাল চাইল্ড দের স্কুলে যাব, ওদের সাথে সময় কাটাব। সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদেরও তো আছে।

সুপর্ণা মজুমদার রায়

স্বপ্নের ডায়েরি 

হাজার শব্দের ভীড়ে "আমি" কে জড়াতে চাইলে,
কদর্য কন্ঠে শব্দেরা জানান দেয়, 
" ফিরে যাও---,তুমি আমাদের দলে বেমানান "।
আমার পাংশুটে বিবর্ণ চেহারা দেখে কবিতারা বিদ্রূপে হেসে ওঠে, উপহাসের বন্যা বইয়ে দেয়। 
বিকেলের অস্পষ্ট নক্ষত্রের কাছে চেতনার অজ্ঞতাকে বন্দক রেখে শূন্য মনে ফিরে আসি।
কান্নাভেজা রাতের নীরবতায় অগোছালো শব্দের খড়কুটো গুলো গুছিয়ে স্বপ্নের ডায়েরিতে জমা করি।
জন্ম নেয় আরও একটি স্বপ্ন। 

মায়া রানী মজুমদার

অনাথ পথশিশু 

শিশুরা মাতৃ ক্রোড়েই মানান সই, 
মাতৃ হারা শিশুর যত্ন মিলে কই ?
সারা জীবনই দুঃখে কাটে কাল, 
পরের বাড়ি কাজ করে নাজেহাল। 
গরীব ঘরের মা বাবার সন্তানেরা,
কত অনাহারে কষ্টে হয় ঘর ছাড়া।
পথ শিশু হয়েই ঘুরে রাস্তা ঘাটে, 
নেয় না তুলে পথ-শিশু বলে খাটে।

শুভ্ৰা সাহা

খোকার রাগ

খোকন সোনার বেজায় রাগ,
ভাত খাবে না আর যে আজ।
ঘরের মধ্যে খেলা-ধুলা ,
লেখা আঁকা ছড়া -পড়া ।

ঘরে থাকতে শুধুই চাপ,
দশ যে পার হয়নি তার ।
দশের নিচে বয়স হলে ,
কোরোনা যে  আঁকড়ে ধরে।

খোকন সোনার কিপটে দাদু,
বন্দী ঘরে হাঁটে না ভোরে ।
কিপটে দাদুর  ভারি কাশি ,
বয়স যে তার পুরো আশি ।

মাক্স মুখে সব  লকডাউনে ,
বাইরে যায় খুব সাবধানে ।
খোকন আর কিপটে দাদু,
ঘরে থাকে যায়না কোথাও ।

দাদুর জ্বালায় পারছেনা যে ,
লেখাপড়া সকাল সাঁজে।
দাঁতগুলো  দাদুর ইঁদুরের গর্তে ,
খোকনকেও দেয় না চকলেট খেতে ।

তাইতো খোকন ভীষণ খ্যাপা ,
বাবা যে তার অংকে হাবা  ।
নইলে কেউ এমন গুলিয়ে ফেলে ,
কোথায় আট আর কোথায় আশি !

মিতা রায়

মজাই মজা 

শরত এলে মজাই মজা। 
কখন যাবো মামা বাড়ি।
বই খাতা সব গুটিয়ে নিয়ে,
যাবো সবাই ঘোটক দিয়ে।
চারদিন কিন্তু পড়ার খাচাঁয় দেবো আড়ি।
দশমীর পর বুক দুরুদুরু, 
আবার যে হবে পড়া শুরু। 
মা যদি থাকতো শুধুই বাপের বাড়ি..... 
কি মজাটাই না হতো.... 
তাক ধিনা ধিনের মতো.....