Jan 30, 2023

অপাংশু দেবনাথ

পুরুষ হরিণটি

ভেবে দেখো রোদ ডুবে গেলে মাসিমাদের গল্প সমাপ্ত 
হয়, তার রেশ সকলের সাথে ফিরে যায় সব ঘরে।

এসব উনুনে জ্বলে আলো। রন্ধনশাস্ত্র নিয়ে কথা নেই 
কোনো,রকমারি রান্না শেষে ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে গন্ধ।

ভুলে যাও পথের নির্মাণ শেষে তুমিও এসেছো ফেলে
এমন কস্তুরী নাভীঘ্রাণ।
পুরুষ হরিণটি অরণ্যমুখী হয়,
যেখানে কোনোদিন রেখে এসেছে চৈল-হৃদয়।

তৈমুর খান

ঘরে ঘরে দূত আসে 

আরোগ্যের পথে আজ আত্মসন্ধানের পরিধি      
মগ্ন হয়ে উঠুক অনাবিল আনন্দে          
চোখ ছল ছল মেঘভাষার প্রস্তাবে রাজি হই 
দ্যাখো সমূহ ব্যাকরণে কিছুটা                              
অন্ধ সেতার বাজে কিনা 
     
               
ঘরে ঘরে দূত আসে আমাদের         
যদিও চিনি না দূতের মুখ                 
শুধু উৎসুক হয়ে উঠি                                            
খণ্ড খণ্ড বিপন্ন উৎসুক

সৌমিত বসু

আমার মেয়েটি

ভাতের হাঁড়ির ভেতর বসে আছে মেয়ে।এইতো আকাশে ছিলো।কখন সে নেমে এলো ঢাকনা সরিয়ে?প্রতিটি গ্রাসের সাথে কিভাবে যে তোকে মুখে তুলি?মেয়ে ফ্যালফ্যাল।বাবার মুখের ভেতর দিব্যদর্শন।

মেয়ের মা মুখের ভেতর ছুড়ে দিচ্ছে টুকরো টাকরা মেঘ।যাতে দমবন্ধ করে লোকটা মরে যেতে পারে।ইতিহাস বই থেকে পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মুখে।যাতে কেউ খোঁজ না পায় স্বপ্নের তলদেশ।মোটকথা মেয়ের সাথে সে পুড়িয়ে ফেলতে চাইছে তার কয়েকমাসের ভুল।

একটা খারাপ লোক একটা ভালো বাবা হতে চেয়ে মুখ তুললো ওপরে।একটা মেয়ের মা ভালো হতে চেয়ে তাকালো ঘাসের দিকে।দুটো জীবন পালকের মতো ভেসে গেলো কোনদিকে,মেয়েটা জানেনা।

সন্তোষ রায়

ভোজন ২

সবাই ফিরে গেলে চুলা পড়ে থাকে নিবু নিবু প্রায়, থাকে স্মৃতির ধোঁয়া আর পরিত্যক্ত ওয়ানটাইম বাসন-কোসন। গাছের ছায়ারা চুলায় পোহায় তাপ, শ্বাপদেরা চাটে টকঝালমিষ্টির স্বাদ। এ বাগান ও বাগান শেষ হলে সন্ধান করতে করতে ফেরে সবাই অন্য গ্রহের বন। তুমি আমি আদম আর ঈভ তখন।

কৃষ্ণকুসুম পাল

অন্তঃকলন

আকাশ তোমার-
আশ্চর্য প্রতিভা সূর্যআলো,
অপূর্ব মায়া চাঁদের পূর্ণিমা-লো,
বিরাট হৃদয় মহাশূন্যতা,
অসীম প্রেম মধুর মৌনতা,
সিঁথিতে সততা অনন্ত পথছায়া,
অনাবিল আদর দূরন্ত হাওয়া।
এক বুক গর্বে মানুষ উড়ন্ত উন্মাদ!!
ঐ ঈশ্বরের ভয়ে সবার ঘূর্ণি প্রমাদ!!
আকাশ তোমার-
এতো রুপ রঙ আকুল ভালোবাসা,
হায়,ক্ষুদ্র বীজেও স্বপ্নময় সমুদ্র প্রত্যাশা।

সন্দীপ সাহু

তেইশে জানুয়ারি

নেতাজী রক্ত চেয়ে ছিলেন।
দিয়েছেন স্বাধীনতা।
স্বাধীন দেশে কাটমানি চাওয়া হয়।
পাওয়া যায় চাকরি আবাস ...!

নেতাজী নিশ্চিৎ জানতেন না,
বোধকরি ভাবেনওনি কখনো
উত্তরপুরুষ অথবা নারীরা আজ
তার গলায় মালা দিয়ে, স্বাধীনতা-গান গেয়ে,

টাকার পাহাড়ে চড়ে কালো ইংরেজ হবে।
আমজনতা পিলসুজের মতো প্রদীপ মাথায়,
সমস্ত অধিকারহীনতার তেল মাখে আজও।
আপনার দিকে অশ্রু নিয়ে মূক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

তথাকথিত কমিউনিস্টরা আপনাকে কী বলেছিল
তা না হয় স্মরণ নাই বা করলাম। অভ্যাস বশে
তারাও হাত মুঠি করে আজ লাল সেলাম জানাচ্ছে।
মূক মুখে ভাষা যোগানোর আর কেউ আছে নাকি!

নেতাজী আপনার গলায় মালা দেবো না।
মূক মানুষগুলো ঘৃণায় তাকাবে নতুবা ভয়ে!

কুশল ভৌমিক

জল ও সমুদ্র 

চোখের জলের কোনো রঙ নেই 
একটা গন্ধ আছে
গন্ধের কোনো নাম থাকতে নেই।

উপাস ও উপাসনার তফাৎ 
আমাদের মা কোনোদিন টের পায়নি
এইসব অমীমাংসিত ব্যাকরণের ভেতর 
মৃত্যুর ইশতেহার নিয়ে 
আমাদের জন্ম হচ্ছে প্রতিদিন। 

সাদা কাগজে দুটো দাগ দিয়ে নদী আঁকতেন মা
নদীর ভেতর চুপচাপ শুয়ে থাকতেন বাবা 
বাবারা নদী না সমুদ্র  সে প্রশ্ন দু'হাতে সরিয়ে 
কেবল দাগগুলো অনিবার্য ঢেউ। 

মায়ের থেকে পাওয়া জলের গন্ধ
বাবার সমুদ্র হয়ে শুয়ে থাকা
স্রেফ এটুকু সম্বল নিয়েই 
বাঁধানো আমার কলম
অন্য কোনো কৌশল জানা নাই।

শান্তনু ভট্টাচার্য

নব জন্মের ডাক
                      
মঞ্চে নাটক সফল হলে 
অডিটোরিয়ামে কেঁদে বেড়ায় সংলাপ 
পরজন্মের প্রতিশ্রুতি দেয় হ্যালুসিনেশন 

ডানার গন্ধ মুছতে মুছতে ভীন গ্রহে পাড়ি দেওয়া 
জারজ ইচ্ছে গুলো মাটিতে রেখে যায় 
পায়ের দাগ, ব্যবহারের নখের আঁচড়

এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত জুড়ে থাকা শীর্ণ নদী 
রাতে স্নান সেড়ে জোছনায় গচ্ছিত রাখে
অভিসারের গহনা

তখন অন্য কোথাও মঞ্চস্থ হবে বলে-
মেকআপ না তুলে আবছা আলোয়
ধানখেত ভেঙে আলপথে হেটে যায় কুশীলব...

যেন খবর এসেছে
অশরীরী জন্ম এবার -সফল হবেই হবে।

রুদ্র মোস্তফা

অহমপুরুবিকা

সময়কে বদলাবো বলে দুজনেই হাতে নিয়ে ছিলাম চাবুক। 
বদলায়নি সময়— ক্ষত- বিক্ষত হয়েছে দুজনার মন ;
তীর্যক অবহেলায় নষ্ট হয়েছে জীবন : বেওয়ারিশ
হয়েছে স্পর্শ করার মত অসংখ্য রজনী; কামনার ফুল
ফলে উঠেনি দীর্ঘঃশ্বাসের ডালে, হতাশার কীট  কুরে কুরে
খেয়েছে কুসুম; আপসের দূষণে দূষিত হয়েছে দুজনার বিধৌত
পরশ্রীকাতর চোখ ; যৌথ একাকী জীবনে ব্যক্তি সত্ত্বা
বেয়ে অবিরত ঝরে যাচ্ছে রক্ত
গলিত স্বপ্ন—গহীন ক্ষণ;
দুঃসময়ের মসৃণ থান কেটে কেটে নিয়তির সুতো দিয়ে ছিদ্র
আকাশ সেলাই করে আমাদের অপেক্ষা সুন্দর সময়ের।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

ভাটিয়ালি

ভোর রাতে দূর থেকে
কোন সুর ভেসে আসে রোজ ?
কান পেতে শুনি রোজ প্রান্তে। 
দিনভর তাই বাজে কানে - মরমিয়া সুর
আমি আনমনে খুঁজি সেই রাখালিয়া ধুন
কে গায়, কে বাজায় ?
কোন সে সুদামা সখা এই পোড়া গাঁয় ?

এখানে ঝিলের জলে বলাকার দল
এখানে পাতার ফাঁকে শিশির সজল।

এক শীতে চলে গেল পরান মাঝি
চিতার উত্তাপে জাগে কিশোর তনয়
দূরে হিজলের ছায়ে
দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল এক মা আর 
এক কিশোরী অপরাজিতা।
 
দিন দিন উড়ে যায় নিষ্ফলা শিমূলের তুলো
কত শীত শেষে আসে উর্বরা বসন্ত 
খসে যায়, জেগে ওঠে সংসার অনন্ত।

পরান মাঝির ছেলে ভাটিয়ালি গায়
পাশে অপরাজিতা সুর ধরে যায়
বুঝি সেই সুর রোজ আমারে জাগায়।

সত্যজিত সেন

মেসেজ

রাতের বুকের মধ্যে পৃথিবী ঘুমায় ক্লান্ত শিশুর মতন।
মেঘের পাঁজর ফুঁড়ে বেজে ওঠে বেঠোভেন 
তাঁর নাইনথ সিম্ফনি
গ্রহান্তরে ভেসে যায়।থরথর করে কাঁপে সাঁকোর মধ্যে নীল জল।
চাঁদের শরীর ভালো নেই। গলায় মেঘের মাফলার।
এপসিলন তারা থেকে ভেসে আসে অস্পষ্ট,অচেনা মেসেজ
চাঁদ কানে হেডফোন দেয়। আকাশের চোখ থেকে রাত্রির শিশির। 
অণু-পরমাণু হয়ে অকস্মাৎ ভেঙে যায় সমস্ত কোলাজ।
নাইনথ সিম্ফনি যেন ইরেজারে ধুয়েমুছে যায়। বিবস্ত্র আগুন বাতাস 
মেট্রো ট্রেনের মত মহাকাশে ছুটে চলে যায়।
এপসিলন তারা থেকে ভেসে আসা অচেনা মেসেজ ক্রমে বোবা।
চাঁদের চোখের জল মুক্তোবিন্দু, মাফলারে চোখ মুছে নেয়।

রাহুল সিনহা

জীবন

কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে
যখন আমার শহর ঘুমোচ্ছে
আমি একা জানালা খুলে
আসতে দিচ্ছি হিমেল হাওয়া।
কেউ আমাকে হাত ধরে 
থাকতে বলেনি, তবু এই বেহায়াসিন্থ
ভেসে যাচ্ছে হাওড়া নদীর বুকে
আর কিছু নেই এই রাতে, সোনালি 
তরল স্বপ্ন আর ফুসফুস ভর্তি নিকোটিন ধোঁয়া, আমাকে এই 
চিরবিষাদ থেকে উত্তরণ দেবে না।
আমি জানি এই নৌকা কোনো ঘাটেই ভিড়ছে না,তবু আচমকা
কোনো লাইটহাউস, মোহনা আর সমুদ্রের ইশারা দিলে ভেসে যাওয়ার
যে লোভ সামলাতে পারি না, তাকে
জীবন ছাড়া আর কী বলা যায়?

পৃথ্বীরাজ দেবনাথ

অগস্ত্যযাত্রা

আমার ঘরদোর বেয়ে ওরা ক্রমশ উঠে গেছে শূন্যতার অভিমুখে, 
আমার সকল বেলা জুড়ে 
তোমার চোখ দুটো হাসছে।
আমার দৃষ্টিপথ জুড়ে রয়েছে ওদের দেহবল্লরীর আলো। 
আমার রমণসুখে ক্রমশ বিমূর্ত হয় এই ঘরদোর,  ভাঙা ঘরের দেয়াল জুড়ে থাকা শতাব্দীর লতাগুল্ম, 
আর সময় ঝরে পড়ে অদৃশ্য এক অন্ধকার কোণে যা প্রকৃত প্রস্তাবে আমার অশ্রুবারি ছাড়া কিছু নয়।
আমি জানি যে ওরা ফিরবে না। 
ওরা চলে গিয়ে ডুবেছে সময়ের আশ্চর্য হ্রদে। যাবার সময় শুধু রেখে গেছে ইতিহাস বিকিরণের বিচিত্র গাণিতিক সূত্র।
আমি জানি যে ওদের মধ্যে তুমিই একমাত্র বাস্তবতা ছিলে, 
যা নিয়ে তুমি ডুবেছ অন্তহীন সময়ের স্থির হ্রদে ।

আব্দুল গফফার

মৃত্যুর ঠিকানায়


হাসপাতালের দশ নম্বর বেডে-
শুয়ে আছে নিথর দেহটা,
বাড়ির লোক, পরশি ডোম- কেউ নিতে আসেনি।
কাটাছেঁড়া হবে, তদন্ত হবে,
ঘটনা না দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক!
আইন সমাজ নিয়ম বেঁধে দিয়েছে,
ময়না তদন্ত পারলৌকিক ক্রিয়া করতে হবে।
তবুও যে শরীরের ঘনত্ব মাপতে হয়,
মাপতে হয় ওজনও  শবদেহখানির-
অস্থি মজ্জা মাংসপেশির দশাসয় দেহটা,
কিছু পরে বিলীন হয়ে যাবে চারদেওয়ালের নিচে,
কিংবা বিজলি চ্যানেলে-
হালকা ভারী, ছোট বড়! দাঁড়িপাল্লার কাঠি তখন-
স্থির হবে প্রাণহীন দেহটির মত।
তবে এত পরিমাপ কেন-
ধনী দরিদ্র, ইতর ভদ্রলোক জাতপাত,
পৃথিবীর এই দুইদিনের মায়া কাটিয়ে-
সবার গন্তব্য ও শেষ ঠিকানা যে একটাই!
তবে আমরা অপেক্ষা করি, 
চলো যাই, একই সাথে মৃত্যুর ঠিকানায়।

বোধিসত্ত্ব

যদি স্বজন হতে চাও.....

তোমার এই মেঠো বাউল একতারা হাতে সচন্দনে সকাল সাজায়।

কনকচাঁপা বাতাসের সাথে একমুঠো নির্বাণ মেখে সে খোঁজে নিটোল এক সন্ন্যাসী সন্ধ্যা।

যার কোনো দেশ নেই, কাল নেই, সে তো সপ্তর্ষি পরিব্রাজক।

যাপনের ভাঁজে ভাঁজে গুচ্ছ গুচ্ছ রজনীগন্ধা গুঁজে দিলে তার নাম হয় সবান্ধব যাত্রা।

যদি স্বজন হতে চাও তবে বিজন পথ ছেড়ে চলে এসো ময়ূরপুচ্ছ ছলাৎ ছল নদীটার কাছে।

নিবিড় এক পাঠ শেষে তোমার তিলোত্তমা হয়ে ওঠার
গল্পটাই হোক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

জতুগৃহ, যুদ্ধদিন - ধ্বংস হোক

শেষতম জতুগৃহ ধ্বংস হোক
ধ্বংস হোক বোমারু বিমান, তীক্ষ্ণ হাতিয়ার,
এসো প্রাইম-মিনিস্টার, এসো মহারাণী, এসো রাষ্ট্রপতি
নিয়ে এসো মোম, গালা, দাহ্য রসায়ণ 
এসো, কে লাগাবে আগুন, এ সময়ের এই আত্মঘাতী জন্মদিনে।
কে লাগাবে আগুন মোমের পালকে,
কেই বা খাবে রক্তছুড়ি, কাটা কেক?
তোমাদের দেয়া যাবতীয় অর্ঘ্য উপহার
ওই দ্যাখো রাখা আছে গঙ্গা যমুনার পাড়ে,
জলের দূষণে ও বহমান খুনে -
ওখানেই রোজ রোজ চুরি যায় বোধ ও বিধান;
হাতিয়ার নিয়ে তেড়ে আসে ষড়যন্ত্রী নেতা, ভাতৃঘাতী ভাই!
প্রণিপাত করি, আর নয়!
শত্রুদের মুখোমুখি শেষ-জতুগৃহে মানুষেরা শুদ্ধ হতে চায়।
তাই বলি, ধংস হোক যাবতীয় জতুগৃহ, যত কিছু বোমারু বিমান!
ধংস হোক জড়ো করা দাহ্য রসায়ণ! মোম-গালা, পেট্রোলের ট্যাঙ্ক!
শেষতম জতুগৃহে শুদ্ধ হোক বোধিসত্ত্ব মানুষের দিন
আগুনে আগুনে শুদ্ধ হোক রক্তঝরা মানুষের আত্মঘাতী দিন।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

আমি কেন বেঁধে নেই

নির্দিষ্ট  এক ছন্দে পাখি ডেকে যায় আমার জানালার পাশে বসে , কে শেখালো তাকে?
অদ্ভুত এক  ছন্দে সাগরের ঢেউয়ের  মন্ত্রপাঠ ব্রহ্মান্ডে ধ্বনিত,  কে শেখালো তাকে? 

নদী তো এক'ই ছন্দে বয়ে চলে মোহনায় কে এনে দিলো তার গতি?

শিশির ভেজা পদ্ম ফোটা ভোরে প্রতিনিয়ত সূর্যের আছড়ে পড়া আলোর সুরে জেগে ওঠে বসুন্ধরা, এতো যত্ন  করে সেই  সুর কে সেঁধে গেলো?

অচ্ছেদ্য ছন্দে মৌমাছির গুঞ্জনে  ফুল জেগে ওঠে বাগানে, এই গুনগুনানি'ই বা কোন পাঠশালার পাঠ?

রাত্রির  খোঁপায় চন্দ্রমল্লিকা সেজে ওঠে নক্ষত্রের  প্রেমে সেই ছড়িয়ে পড়া আঁধারের গায়ে প্রেমের বিশ্বমোহন রূপ কে দিল?

আমি আজীবন  কলে পাম্প করে গেলাম
আমার  কলসীতো আজও শূন্য পড়ে রইল কৈ জলতো ভরলোনা?
সেই  অচ্ছেদ্য ছন্দের বন্ধনে আমি কেন বেঁধে নেই ?

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

বসন্ত পঞ্চমী,১৪২৯বঙ্গাব্দ

ঠিক তিয়াত্তর বছর আগে
এমনি এক হেমন্ত প্রভাতে
ভারতবসন্ত দেখেছি স্বপ্ন-

এঁকেছি স্বপ্ন পথরেখা,
যে স্বপ্নে প্রকৃতি হবে আপ্যায়িত
যাপন হবে নিশ্চিন্ত, আনন্দিত।

এ পথ তৈরি নয় অসাধ্য,সতত সরস্বতী
প্রবাহমান ভারতহৃদয়ান্তরে,
বাগ্দেবী বাহন ছুটে দিগদিগন্তে-

আলোকে করুক জাগ্রত
পলাশরঙা ভারতসূর্য-
বিশ্ববিমোহিনী বিশ্বম্ভর।

লিটন শব্দকর

হেমন্ত 

একটি শুন্যের জন্য 
সহস্র কবিতা অপেক্ষা করে থাকে

তারপর ধু ধু হেমন্তের পোস্টবক্স
চিঠি। খবর। শুন্য! অথবা কবিতা

খোকন সাহা

ত্রিধারা

তাল নয়, তালিয়া মারো!
এ হল বেতাল ত্রিবিংশতি সমাচার।
ধামবিহীন নাম নাও,
নতুবা নদীর কূলে বয়সের আছাড় খাওয়া 
সন্তাপ চিরে,
নাও ছাড়ো এ বেলা।
নাহলে তিনকুলের কেউ না থাকলেও, 
ডুব সাঁতারে নদী পার।
ত্রিধারার নাওখানি বড়ো মাতাল!

এর দুই মাথায় দুই বৈঠা,
মাঝখানে নেই কোন আরোহী;
সকাল হতে সাঁঝ করে পারাপার।
শুধু শুকনো ধানের ছড়া
কুড়োতো কুড়োতে যদি পেয়ে যায় --
মরা মরা রাম রাম  আদিকাব্যের ধারা,
তাহলে গঙ্গা যমুনা সরস্বতীর বেণীতল
দেখিব আমরা!

সিমলী চৌধুরী

আলগোছে


একটা একটা খড়কুটো টেনে গড়েছি তোকে,
গুছিয়েছি,সাজিয়েছি নিজের মতো করে!
নিজদেহের রক্ত দিয়ে স্নান করিয়েছি,
পরিয়েছি তোকে মমতার স্নিগ্ধ আঁচল!

দিনেরাতে লালনে যতনে রেখেছি তোকে,
রেখেছি আমার বুকের ওমের সাথে জড়িয়ে!
কঠিন সময়ে হাল ধরে বিপদে দাঁড়িয়েছি সর্বাগ্রে,
সুখ-দুঃখের সারথি হয়ে রথ চালিয়েছি শক্ত হাতে।

ছুঁয়ে থেকেছি তোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ,শাখা-প্রশাখা,
সবুজাভ স্পর্শে নিজেকে ভেবেছি সৌভাগ্যবতী,
তোর গরবে গরবিনী হয়ে ছুটেছি কতো উল্লাসে,
চোখের মণি তুই আমার অস্তিত্বের সবটুকুতে!

অথচ.....

দিনশেষে কি অবলীলায় আলগোছে তুলে রাখলি আমায়,
যেন মেলায় সাজানো মুক্তো পরানো কাঠের পুতুল!

সোনালী মণ্ডল

অসুর

তুমি বলছো বারে বারে কাছে এসে মা,
পাড়ার মন্দিরে এক বেলাটি প্রতিমা দেখতে যা।
বাজার থেকে বাছাই করা এনেছো কিনে নিয়ে,
লাল রঙের এই জামা দেখে পছন্দে মন ভরে।
তোমার মনে কখনো কি একটুও মনে পড়ে,
আমি কেনো চুপটি করে থাকি ঘরের কোণে?
সন্ধ্যা রাতে দুর্গা পূজার ঢাকের শব্দ শুনে,
আঁতকে উঠি মা আমি চাইনা যেতে বাইরে।
আবার যদি অমন করে গত বারের পুরোহিত কাকু,
প্রসাদ দেওয়ার নাম করে হাতে দেয় কিছু কাজু।
আবার যদি অমন করে মন্দিরের পিছন ঘরে,
আমার গায়ে দেয় ব্যাথা আদর করার নামে।
নতুন জামা ভেজায় যদি ভেসে রক্তের জলে,
কেমন করে আসবো ফিরে ছেড়া জামা পরে।
বেড়ালের আঁচড়ে মুখ ভরেছে ভাববে পাড়ার বন্ধুদের দল,
সত্যি বলতে বারণ যতোই তারা প্রশ্ন করুক বল।
যতোই চাই ভুলতে তবু সরেনা মনের থেকে,
নানান প্রশ্নে ভয় লাগে রাস্তায় বের হতে।
আমায় দেখে বারণ করে খেলতে কারোর সঙ্গে,
বাঁকা চোখে দেখে সবাই কি ভাবে কে জানে?
বেশতো ছিলাম খেলায় মেতে অষ্টমীর সেই দিনে,
অসুর কেনো ভর করেছিল পুরোহিতের ছদ্মবেশে।
তুমি বলেছিলে দুর্গা কালী সবই নারী র এক রূপ,
অপরাধের কোনো শাস্তি হোলোনা,আমিই কেবল চুপ।।

পারমিতা মুস্তাফি

মন্থর

আমি ঢেউ হতে চাই,
সাগরে মিশে -
মিলন ক্ষেত্রে কে দিল আঘাত,
আমার না আছে বেশ,
না আছে গড়ন -
আমার আবেশ লাগে মনে,
আমি নিশ্চুপ -
আমি মন্থর গতিতে চলি,
আমার হৃদয়ে জাগে ব্যাকুল উৎস,
আমার দিকবিদিক হারা -
আমার আছে জল আর মাটি,
আমি হৃদয় ছুঁই তাতে,
আমি এক অজানা পাখি।

চন্দ্রা বিশ্বাস

ছদ্মনাম

গল্পটা  তুমি ভালই লেখ হে গোপীনাথ ,
পাব্লিক বেশ খাচ্ছে। কিন্ত---
কিন্ত? এই কিন্ত টা কি অজমদা?
হুম,নামডাক তুমি অচিরেই পেমে  মাবে।
আমি তো বহুদিন হলো এই লাইনে।উগ

প্রদীপ কুমার মাইতি

সেই ছেলেটা

যে ছেলেটা কলেজ ক্যাম্পাসে
ছিল সবার সেরা,
কাজ না পেয়ে ঘুরে বেড়ায় 
জীবন দিশেহারা। 

সেই ছেলেটা মিছিল করে
ঝাণ্ডা নিয়ে হাতে,
শিক্ষান্তে কাজের দাবি
অধিকার ফিরে পেতে। 

সেই ছেলেটার অপরাধ শুধু 
কাজের দাবি ছিলো, 
পুলিশ ভ্যানে বন্দী হয়ে
লালবাজারে গেলো। 

সেই ছেলেটা হসপিটালে
পাঞ্জা লড়ে একা,
সুকান্ত-নজরুলের কবিতা গুলো
বলে যায় একা-একা। 

সেই ছেলেটা কেমন আছে? 
জানতে ইচ্ছা করে,
কাজের দাবিতে শহিদ হয়েছে 
পুলিশের  অত্যাচারে।

শৈলেন দাস

পাপ 

পাপের ঘোড়ায় পরিপূর্ণ আজ মানব জাতির গ্রহ
হয়তো এবার নিঃস্ব হয়ে
নুতন সৃষ্টি হবে।সাজবে 
আবার প্রথম থেকে অপূর্ব রূপ নিয়ে।স্থাপন হবে সর্বস্ব আবার,বিনাশ প্রায়
ঘনিয়ে আসছে আতঙ্ক তাই বেড়েই চলছে.......

অনুভব ধর রায়

চিঠি দিও

চিঠি দিও,
তোমার না বলা কথাগুলো লিখে—
হলদে খামে কিংবা পাখির পায়ে বেঁধে,
পাঠিয়ে দিও; আমার মনের কোনো এক দিকে।

চিঠি দিও,
শত যান্ত্রিক বাঁধা উপেক্ষা করে,
স্মার্টফোনে কথা কিছুদিন বা নাই হোক!
তোমার হাতের স্পর্শে উজ্জ্বল হোক—সেই চিঠিখানা।

চিঠি দিও,
তোমার রোজ ভালোবাসার অভ্যাসে,
শত ব্যস্ততার ফাঁকে; আমি সেই চিঠি পড়ে নেবো,
যতই জোৎস্না ভর্তি হয়ে চাঁদনী রাত আসুক—
কিংবা বৃষ্টি হয়ে ভিজুক সেই চিঠিখানা!

চিঠি দিও,
তোমার মন খারাপের দিনে,
না কোনো আন্দোলনে,
আকাশের ঠিকানায় লিখে কিংবা মনের সকল অভিযোগ জানিয়ে দিও,
তবুও চিঠি  দিও!
তোমাকেই শুধু লিখে দিও।

চিঠি দিও 
ঐ যৌবনে ফিরে গিয়ে নয়,
মনের কথা লিখে দিও—
এই যুগ যেন স্নিগ্ধ হয়।

স্বপন দেবনাথ

দাস মহল (গল্প)

প্রথম পরিচ্ছেদ

খুব ব্যস্ত আজ দাস বাড়ি । চারদিক আলোক সজ্জায় সজ্জিত, সকলের চোখে মুখে অনাবিল আনন্দ ,আত্মীয় স্বজনদের ভিড় জমেছে আজ 'দাস মহলে'। অনেক দূর দূরান্ত থেকে গরিব দুঃখীও আজ এখানে আমন্ত্রিত, কারণ দাস মশায় হাজার হাজার জন গরিব দুঃখীদের খাদ্য-বস্ত্র বিতরণ করবে । বলতে গেলে খুব বড়ো মনের মানুষ তিনি । গ্ৰামে গ্ৰামে বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন অন্তত ছয় - সাত খানা তো হবেই , শুধুমাত্র গরিব দুঃখীদের কথা ভেবে। তাদের তো দূরের নামি দামী বিদ্যালয়ে পড়ার সামর্থ্য নেই, তাই । শুধু তাই নয়, উনার গ্ৰামে উনার মায়ের নামে অর্থাৎ 'শান্তিময়ী প্রাথমিক হাসপাতাল' নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন , সেটাও গরীবের কথা চিন্তা করে । 

         আজ হ‌ইহুল্লুর গরম হয়ে আছে মহল । যদিও বিয়ে বলে কথা। ছোট ছেলে বিনয়রাজের বিয়ে , পাশের গ্ৰামের পৃথ্বিরাম দাসের মেয়ের সাথে । দুজনেই ছিল বিরাট জমিদার, গ্ৰামে দুজনের স্থান‌ই ছিল সকলের ঊর্ধ্বে। তাদের মধ্যে খুব সুন্দর এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল । এই বন্ধুত্ব সেই ছোট বেলা থেকেই। আজ এই সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে, সেই ভেবে ভেবে দাস মশায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছেন।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

তবু ভালোবাসি

অনেক শব্দের মিলন শেষেও কবিতা হল কই!
প্রাণসঞ্চার করতে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটিয়ে তবেই 
নীরবে চেতনার গভীরে অকপটে আলোর রেণু ফোটে 
ধরতে গেলেই ফানুস হয়ে দিকশূন‍্যপুরে ছুটে।
বাক‍্যবন্ধের ছলনায় কত আঁকিবুকি শেষে 
মায়াজাল রচনায় ব‍্যর্থ আমি থাকি বসে।
কুয়াশায় ঢাকা চরাচরে, পাহাড় নদী একাকার 
ইন্দ্রজাল ছড়ায় সোনালী আভা এপার ওপার
নতুনের সূচনায় গেঁথে যাই অফুরান কথার মালা
ভালোবাসা আর মন্দবাসার পাশাপাশি বসে থাকা।
আমিও এক সহযোগী আখরযাপনে 
এই ভেবে সুখ কিনি 
ভালোবাসি ছন্দকবিতা , কেউ না জানলেও আমি জানি।।

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

আবেগ

উদ্যেম আবেগে চলেছি আমি
ছেঁড়া পাতার টুকরো কাগজে। 
কে হবে গো আমার সঙ্গীনি
মন যে আজ বড়ই মাতাল। 
নিত্যদিনের শেষ কি আছে
দেখবো বলে মন প্রাণ প্রান্তদেশে। 
মহুয়ার বনে চলেছি ছুটে
নিত্যদিনের বাঁচার অধিকার নিয়ে। 
আসব নিয়ে বরন করে
ছায়াতলে বিশ্রাম ধীরে ধীরে। 
শেষের ঘরে কি আছে গো
বাসনা জাগে দেখিবার তরে। 
হিমেল বাতাস দাপিয়ে বেড়ায়
কোথায় মানুষ কোথায় যায়। 
হারিয়ে যায় বহুদূরে
ওগো তুমি কেন আজ বারে বারে চাও বাহিরে।

স্বরূপ দেব

পণ মুক্ত সমাজ গড়ি

গ্রামের এক ছোটো মেয়ে নাম ববিতা
তাকে নিয়ে লিখবো আজ আমি কবিতা,
বাবা মায়ের আদরের একমাত্র মেয়ে
কিছু দিন পরে তার হবে যে বিয়ে।।

ঘর বাড়ি জমি জমা সবই দিয়েছে বেচেঁ,
ব্যাংক ব্যালেন্স যা ছিল
সবই শেষ অবশেষে।।

এইসব দেখে মেয়ে বললো 
কেঁদে কেঁদে শেষে,
সাজিও না আমায় তোমরা 
এমন বধূ বেসে।।

বাবা মায়ের অভাগিনী এই যে মেয়ে
বাবা মায়ের কথা ভেবে কাঁদে চেয়ে চেয়ে।
আদরের ছোটো মেয়ে বাবা মায়ের জান,
অবশেষে ঠিক রাত 12.35
দিয়ে দিল তার প্রাণ।।

মানুষের মানসিকতা কবে পরিবর্তন হবে,
এভাবে সমাজের বুকে কতো 
ছোটো কলিরা আর ঝড়ে যাবে।।

আসুন সবাই আজ 
কর জোড়ে শপদ করি,
সুন্দর ,সুস্থ করে এক
পণ মুক্ত সমাজ গড়ি।।

অলকা গোস্বামী।

ফেলে আসা দিনগুলো।

মেঘলা আকাশ ছুঁয়ে আছে
সুপুরি আর নারকেল গাছের মাথা,
একান্ত আপন, মায়াময় কতকিছু,....,

ছেড়ে আসতে
আবারও মুচড়ে উঠলো বুকটা,
অব্যাক্ত কান্না দলা পাকিয়ে
উঠে আসছিল ক্রমশ।
দিনের শেষ বেলায়
ক্লান্ত ডানা ছুঁয়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছিল।
বিষাদের ছায়া পথেই 
সুখের ঠিকানা।
কত কিছু বাকি আছে এখনও।

চিবুক ছুঁয়ে বয়ে যায়
তরল ভালোবাসা।
রাত যত গভীর হয়...
আকাশ নেমে আসে,
চারপাশে গোল হয়ে বসে,
কত তারা,
বিচ্ছুরিত আলোর
জোয়ারে ভেসে যায় যাবতীয়
সুখ দুঃখের গল্প,
আঁধার ফিকে হয়,
ধীর লয়ে উঠে আসে ভোর
আরেক নূতন দিনের চেলি পরে।

শর্মি দে

বিয়োগান্তক যবনিকা?

প্রিয় সুমি,

বিয়োগান্তক যবনিকা? মেনে নেবে?
তোমার অভিধানে তো নেই!
               তাহলে মানবে কেন? 
হয়তো কালের স্রোতে ভেসে যাবে!
খেলতে হবে যে তোমার খেলা।
নয়তো সময়কে থামতে হবে.... 
কর্ম  তোমার বেজায় ফেলা।।

পরিচয়ে কী বা যায় আসে?...মনুষ্যত্ব সবটা!
তবে সফলতা? নিশ্চয়ই কিছুটা।
জীবে প্রেম সর্বজনে..সর্বকালে
জীবনের খড়কুটো?.. কুড়িয়েছ।
হওনি শুধু আত্মহারা পথভোলা।।

টাকার অঙ্ক ?.. বাড়তে পারে
লোভ নেই ,নেই যে লালসা
চাওয়া নয় পাওয়া নয় 
শুধু জীবনকে ভালোবাসা।
হারিয়ে যাওয়া উদাসী হাওয়ায়
ভেসে যাওয়া মেঘের ভেলায়
পাতার নৌকোয় ভাসছ নীরে
পেছন দিকে তাকাও না ফিরে
পৌঁছে গেছ
         যথাস্থানে..যথাকালে।

আবেগে ভরপুর.. আসক্তি হীন
ধৈর্যহীনতা...ছিল না
কোনোদিন
স্বপ্নে বিভোর, বেঁচে আছ তাই
কর্তব‍্যে অটল, এতটুকু দ্বিধা নাই
হওনি শুধু ভালোবাসায় মনভোলা।।

ঈশ্বরে বিশ্বাস ,আছে পূর্ণতায়
মন্দিরে নয় ,আছে জীবাত্মায়।
অহঙ্কার ? অনেকটা, দৃঢ় চিত্তের
মর্মস্পর্শীতা ! টইটুম্বুর, সাথী নিত‍্যদিনের।।

পার না শুধু কান্না চাপতে,
অন‍্যায় মুখ বুজে,সহ‍্য করতে
নি:স্ব, আকিঞ্চন তবু
               দিতে চায় যে মন।
স্বার্থপরতা... নেই যে বারতা
              শুধু আত্মসমর্পণ।।

বিদিতা সেন

তৃষ্ণার্ত আশা

ক্রমশ বয়ে যাওয়া ক্ষনগুলো
হারিয়ে যায় দূরদেশে, 
ক্রমশ ক্ষয় হওয়া আশাগুলো
বিলীন হয় অবশেষে। 

ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুগুলো
মরু হয় আঁখিপরে, 
ক্রমশ শান্ত হওয়া তরঙ্গগুলো
স্থির হয় চিরতরে। 

বক্ষ পাজরে রক্ত বিন্দু গুলো
বেঁধেছে জমাট আজ, 
বাষ্পে ভাসা ভাবনা গুলো
ধরেছে মেঘের সাঁজ। 

তৃষ্ণায় থাকা আকাঙ্ক্ষা গুলো
খূঁজে বেড়ায় জলধারা, 
মনখারাপের কারণ গুলো
যখন করে দিশেহারা। 

অন্ধকারে চলা রাস্তা গুলো
পাবেকি চাঁদের আলো ? 
মনে বসা মন্দ গুলো
উড়িয়ে দেওয়া ভালো। 

ভেসে যাওয়া ভাবনাগুলো
পাবে নতুন আস্তানা, 
তৃষ্ণার্ত সেই আকাঙ্খা গুলো
পাবে সাগরের ঠিকানা। 

ক্ষয় হওয়া আশা গুলো
ফিরে পাবে তার পূর্ণতা, 
চলমান সব ক্ষনগুলো
কেনইবা যাবে বৃথা ? 

ছেঁটে ফেলা ডানাগুলো
আবার চায় উড়তে, 
সুপ্ত মনের ভয় গুলো
আজ বাধ্য দূর হতে।।

দুলাল চক্রবর্তী

দুলাল চক্রবর্তী

দুরন্ত শিশুরা রোদ-বৃষ্টি মানে না
জলে- কাদায় খেলছে তাই,
মনের আনন্দে প্রাণ খুলে চলুক
হাসি- আনন্দ থাকা চাই ।

শৈশবের এই দিনগুলি একদিন
স্মৃতি হয়ে থাকুক মনে,
বাধা-বিঘ্ন বিঁধে না তাদের
জীবন কাটুক সবার সনে।

আদুল গায়ে খালি পায়ে
কাটছে জীবন হাসিমুখে,
শৈশব যেন চুরি না হয়
থাকুক ওরা মহাসুখে।

সুখ-দুঃখের নেইকো বালাই
মুক্ত মনে সবাই থাক,
জীবনের কোন গ্লানি রবে না
স্পর্শ করবে না দুঃখের পাক।

ধনী-গরীব নেই ভেদাভেদ
জীবন চলুক সোজা পথে,
প্রতিষ্ঠা পাক ওদের জীবন
চলুক জীবন জয়রথে।

প্রতীক হালদার

পাল্টে দিলি জীবন খানা 

হঠাৎ করে এসে  মনে 
বাঁধলি সুখের ঘর,
জীবনটাকে পাল্টে দিলি
বইল খুশির ঝড়।

করলি আপন এক নিমেষে 
বদলে দিলি সব,
তোকে পেয়ে বোবা মনে
উঠল কলরব।

হাজার বারণ পেরিয়ে দুজন 
স্বপ্ন দেখা শুরু,
অনেক বাধা,ভাবনাতে তাই
বুক করে দুরু-দুরু।  

কি যে হল মাঝপথেতে 
করলি আমায় একা!
অভিমানের চড়ল পারদ 
দিলি না আর দেখা!

কষ্ট গুলো বুকেই জমে
তবুও দূরে তুই!
বাস্তবেতে পাই না খুঁজে 
স্বপ্নেতে তাই ছুঁই!

সুজন দেবনাথ

নেতাজি হীনা মরুভূমি 

তুমি বলেছিলে রক্ত দিতে 
বিনিময়ে দেবে স্বাধীনতা, 
সেদিন তুমি কথা রেখেছো 
কেটে শৃংখল পরাধীনতা। 

তবু ধরণী আজও কাঁদে 
আখিজল রাখে আঁচলে, 
আনন্দরা পথ ভুলে যায় 
তুমি লুকিয়ে আছো বলে।
 
মা যেন আজও সন্তানহারা 
সদাই দিশেহারা তার মন, 
তোমার মতো দামাল ছেলে
সমাজে আজও প্রয়োজন।

তোমার ত্যাগের স্বাধীনতা
দেখো লুন্ঠিত পথে-ঘাটে, 
পাষাণের মতো চুপটি করে 
তুমি রয়েছো কোন বাটে?

এই শূন্য ভূমি পুণ্য হতোনা 
সেদিন যদিনা আসতে তুমি, 
আজ স্বাধীনতাও অসম্পূর্ণ 
যেন নেতাজি হীনা মরুভূমি।

অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

বন্ধন মুক্তি

এই পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জীব মু্ক্তির আশ্বাসী। 
আর আমরা তো শ্রেষ্ঠ জীব,
 মুক্তির উল্লাসে আমরা সব চেয়ে বেশী খুশি।
বন্ধন কোনো জীবেরই সহজাত প্রবৃত্তি নয় 
সে পরাধীন ভারতের দাসত্বের বন্ধন হোক আর স্বাধীন ভারতের কাঁটা তারের বন্ধন। 
তবে বিশ্বের সব চেয়ে কঠিন বন্ধন হলো
সম্পর্কের বেড়াজালে গড়ে উঠা মোহ মায়ার বন্ধন।। 
আজ আমি সকল বন্ধন থেকেই মুক্তি চাই। 
চাই না মিথ্যে মোহ মায়ার বন্ধনে আটকে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকতে। 
এ বন্ধন চলন্ত হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় 
বাড়িয়ে দেয় শিরা উপশিরায়  প্রবল রক্তচাপ। 
হে সর্বশক্তি মান, হে পরম পিতা,  
তুমি কান পেতে শুন আরাধকের করুণ আর্তনাদ। 
আমি শুধু মুক্তি চাই, মুক্তি ; 
এ জড় জীবের বন্ধন থেকে মুক্তি। 
আমি চাই না অট্টালিকা, প্রাসাদ কিংবা রাজবাড়ী 
যারা চায় তাদের দাও ভূরি ভূরি 
আমি শুধু মুক্তির আশায় তোমার দুয়ারে করি ঘুরাঘুরি।।

ভীম ঘোষ

জীবন অর্ঘ

চোখের ইশারায় বৃষ্টি ঝরছে,
বৃক্ষের ক্ষত স্পর্শ করি
শিহরণে।
স্রোত বইছে বিনিময় হচ্ছে 
কথা ।
কথার নিজস্ব ঠিকানায়,
মহাবৃত্তে শৈশবে।
পরস্পর বিপরিত টানে 
অতি বিষাদ ।
সুন্দরের বর্ণময় প্রেরণায়
মুগ্ধ হচ্ছি ।
চাকা ঘুরছে ভেতরে 
বন বন বন,
উৎপীরণ বাড়ছে সবটাই 
খেলা ।
চুম্বন করি শিশিরের 
সবুজ পাতায়।
সবটাই তুচ্ছ নয় ,
জীবন অর্ঘ সংলাপে ।

শ্বেতা ব্যানার্জী,

ক্ষমাহীন খিদে

শব্দের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত থেকেও আজও পারলাম না জন্ম দিতে প্রকৃত সৃজন । উষ্ণ জমির বুকে 

রক্তাক্ত  শীতলপাটি আর  রয়ে গেল কিছু শীতল স্নায়ুযুদ্ধ।  

শব্দের কাছে কবিতা চেয়েছি,বিনিদ্র রাত তার সঙ্গলাভে সরিসৃপের গরল গিলে অন্তরে উষ্ণতার পাপ পুষেছি, ভেবেছিলাম আমার উচ্ছ্বলতার মাস্তুলে আর নিভু নিভু নীল কাজলে ফেনিল স্বপ্ন আঁকবে এসপ্রেসোর ধোঁয়া ঢাকা   চুমুক। 

না, আমি শুধুই সম্মোহিত হয়েছি ঘোরলাগা সময়ে

শব্দকে যখনই অনুভবে বাঁধতে চেয়েছি তখনই কাঙাল হয়েছি।

ক্ষমাহীন সময় বুঝি এইভাবেই  দৌড়ে যায়---

স্বপ্নের মিথ্যে আশ্বাসে যত জ্ঞানী হয়েছি ততই ঝুঁকতে ঝুঁকতে ক্ষইতে শুরু করেছি। 

ধিক্ আমাকে, চারপাশে এতো খিদে, এতো ক্ষোভ,শত দুঃখের মেঘ। তবুও রোদের সন্ধানে জলীয়বাষ্প হতে চেয়েছি! বন্যার সিঁড়ি বেয়ে সমুদ্র খুঁজেছি! কিন্তু শব্দের যজ্ঞে নিজেকে সঁপে যোগ্য হয়ে উঠতে আজও পারিনি।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

শীতের শহর

আমার শহর জুড়ে শীত এখন, কুয়াশার ঘুম ঘুম ,
বালির বিশাল  চড়া পড়ে আছে অজগরের মত ।
আমার প্রিয় পুরুষ মহাবাহু বিশ্রামে , রোদের উম
মেখে সটান শুয়ে আছি জনহীন কলরবে।
ধোঁয়া ধোঁয়া চায়ের কাপে হুশ হাশ , নিমেষে 
শুষে নিতে চাই উষ্ণতা। চা অথবা মানুষ
উষ্ণ হলেই উপভোগ্য, ঠান্ডা হয়ে গেলে শুধু
গিলে ফেলা । 

আমার শহর এখন রোদ খোঁজে দিনে , আর রাতে
নিজেকে সঁপে দেয় আগুনের ভাঁজে ভাঁজে।
শীত নেমেছে শীতের চাদর গায়ে  , পায়ে পায়ে
পৌঁছে গেছে আমার কাছে, তোমার কাছে ।
এসেছ যদি, থেকে যাও কিছুদিন এই শহরে
আমরা মনে মনে কোথাও খুঁজে নেই একবুক উষ্ণতা
অথবা গরম ধোঁয়া উঠা এক কাপ গরম চা।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

জীবন জমিন

সব জমি জমি নয়
জমীর উর্বরতা না মেপে বীজ রোপন,
যতই হোক সব কিছু পরিমান মতন ডাঙ্গা পতিত নিষ্ফলা
বন্ধ্যা জমিতে কখন ফলেনা ফলন৷
কত কিছু ফলের আশায় প্রয়োজন,
বীজ সার জল সূর্যালোক
 সর্বপরি দেখভালের একজন৷ আগাছার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে সমূলে উৎপাটন ,
রোগ ভাইরাস আরো কত কি৷
তারপর আসে প্রতিক্ষার ধন
তাতে অধিকার একমাত্র সেই তারই৷
চোখ এসে পড়ে চতূর্ভুজ ত্রিভুজ বর্গাকারে ,
এসে এসে জড়ো হয় অংশিদারের বন্টননামা রেখার আকারে ৷

মীরা পাল

অনিশ্চয়তার সময়টুকু!

এখন আর জ্যোৎস্নার জলে গা ভাসিয়ে দিই না
যদিও অনিশ্চয়তার মেঘ এখন সারা আকাশ জুড়ে,
বাঁধভাঙা প্রবল জলোচ্ছ্বাসে এক লহমায় জীবন ভাসিয়েছিল খরস্রোতে!
শহর জুড়ে সেদিন ছিল শুধু মন খারাপের বর্ষা,
বন্যার জলে ডুবে থাকা শহরেও জীবন খুঁজতে দেখেছি,
মানব সৃষ্ট বিপর্যয়; বুকের ভিতর অবিরাম ক্রন্দন,
বাঁচার লড়াই, সর্বস্বান্তের হাহাকার গুঞ্জরণের ঝড়..
জেগেছিল কেবল নৈশব্দ আর অব্যক্ত উৎকন্ঠা রাত একাকী...
অবচেতনের প্রতিটা রাত জানে জমানো কষ্টকথা,
তাইতো আর মায়ার বাঁধনে জড়াতে সাহস হয় না-
অথচ জ্যোৎস্না রাতের আলো ভালোবাসার মালা গেঁথে
আবারও মায়ায় জড়াতে চায়।

আভা দেব কানুনগো

আভা দেব কানুনগো

পথে স্মৃতি মন্থনের বীজ বপন
কথা ভাঙা গড়ার নীরব সাক্ষী
সাক্ষী শৈশবের দুরন্তপনা,যৌবনের সুপ্ত প্রেম
প্রথম রামধনু দেখা সেই ক্ষণস্থায়ী কাল,
সেই পথ আজও ব্যস্ত,ব্যস্ত নই আর আমি
কতো চেনা হয়ে যায় অচেনা 
অচেনার ভিড়ে সেই আমিকে খোজার বৃথা চেষ্টা
চেনা জানার ব্যাস ক্রম ক্ষীয়মান
নবরূপে নব প্রজন্ম। 
 ছায়া সঙ্গীরা যেন আজ আলোকবর্ষ দূরে
প্রতি মূহুর্তে নিজেকে চেনা নতুন করে
তাহাদের ভিড়ে মিলে যায় আপন প্রতিবিম্ব
শুকনো পাতারা জানান দিয়ে যায়
আগামী'র ধারাপাত