Jun 30, 2022

জ্যোতির্ময় রায়

কবিতা 

একটি কবিতা একটি সূর্য
কৃতকণ্ঠে কোমল-গান্ধার
কখনো রণতূর্য !

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

 বর্ষা

এসময়ে আকাশ কালো করলেই ঘোর বাদল
বর্ষা নামলেই কবিতার খাতা জেগে ওঠে ।
বর্ষা নামলেই নামলেই বুকের উঠোনে জল হয়
একটা মেয়ে তর তর করে নেমে যায় জলাশয়ে
কবিতার খাতার তাতে বড়ো অভিমান হয়
 পাতা থেকে শব্দগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে জলে ছুড়ে মারে
ঢিলের পর ঢিলে কাবু হয়ে মেয়েটি জল থেকে উঠে আসে 
জানতে চায় কেন ছোঁড়া হচ্ছে তার উপর ঢিল ।
মেয়েটি জল ছিটিয়ে জবাব দেয় তার মতো করে ।
কবিতার খাতাও তার পাতগুলো নাচাতে নাচাতে গলা বাড়ায় 
ঝমঝম বর্ষা তখন ঝুমুরকীর্তনে মেতে থাকে আপনমনে ।

পাড়ের ওপর কবিতার খাতা সশব্দে জবাব দেয়
তার খবরদারিতে মুগ্ধ হয়ে মেয়েটি নিজেই
নগ্নদেহে খাতায় মিশে যায় কবিতা হবার জন‍্যে ।

সৌমিত বসু

মাঝদরিয়া

এই যে নামছে বৃষ্টি তাকে আমি কতদিন
দেখেও দেখিনি।পথের পাশেই দেখি 
পড়ে আছে বালিশ ভেজানো মুখ।
খুব ভোরে উঠে কে কে দেখেছিলে
রক্তজবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে,
"আমিও দেখিনি"বলে ঘুরপথে যে মেয়েটি
বিছানায় আলগোছে শুলো
সেও জানে তার ভাই কিভাবে আকাশে,
সেও জানে হলুদ শাপলা থেকে কতটুকু
আলো ঝরে পড়ে, অবিন্যস্ত কথাগুলো
কেন ডুবজলে এখনো দাঁড়িয়ে।

পায়ের ফাঁকের মাঝে জেগে থাকা চেনা সর্বনাশ,
একে তুমি বৃষ্টি বলে চিনেছো নবীন?
পাতার ভেতর দিয়ে রোদ এসে সহসা ছুঁয়েছে বুক,
বুক না গাছের মায়া কে জানে?
তুমি এসে একদিন ভিজিয়ে দিয়েছো পথ,
অস্পষ্ট করেছ দুপুর ,তবু মায়া যেন
লেগে আছে চতুর্দিকে এই ভেবে বিছানায় ডাকা।

রাত্রি এখনো তত পরিষ্কার নয়,
দাঁড়ানো রয়েছে রাত্রি ঠিক সহোদর।

তৈমুর খান

তৈমুর খান

বিষাদের দেশে সন্ধ্যা এল 
ভাঙা তোরঙ্গগুলি থেকে 
আমাদের নিঃশেষ মূলধন 
অবলুপ্ত হবে। 
সাংসারিক ক্রিয়ার আলো 
গৃহে গৃহে জ্বলে 
গৃহিণীরা হৃদয় আগলে রাখে । 
বস্তু পৃথিবীর চাঁদ উদিত হলে 
কী নামে তাকে ডাকা হবে ? 
ভাঙা তোরঙ্গগুলি নিঃস্ব ইতিহাস...

অপাংশু দেবনাথ

 ফেরা

আর ফেরা যাবেনা তো ঘরে,
গৃহহীন ঘর, প্রণামরূপী চাল
বিশ্বাসী দেয়াল।

বিশ্বাস  ভাঙলে আসে বেনামী বিপ্লব।

তবু আজ আর ফেরা যাবেনা তো বাড়ি,
সবুজ উড়না যতো তুমি উড়াও আকাশে।

নিয়তি রায় বর্মন

আজকের কৃষ্ণকলি

গগন চুম্বী অট্টালিকা ঠাটেবাটে বেশ
এতো অহংকার নেই যে তার শেষ। 
উঠানামায় লিফটের মজা ভারি
ভাঙতে হয়না অগুনতি সি৺ড়ির ঝকমারি। 

ফটকে দারোয়ান, দরজায় ভারি তালা
পারতপক্ষে কারোর সঙ্গে নেই দেখার পালা। 
আশপাশের লোকজন থেকে গেল অচিন
সুখ দুঃখের খবর সে তো নেয় অর্বাচীন। 

কয়েক প্রজন্ম থেকে যায় হরেক কিছুতে অজ্ঞ
সান্নিধ্য লাভে বঞ্চিত তারা, যারা সাংসারিক বিজ্ঞ। 
নানা পরিবারের নানা ঐতিহ্য, নানা খুটিনাটি
অবজ্ঞায় হারিয়ে যাচ্ছে করে ভুল ত্রুটি। 

ভিন্ন রঙের, ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান
হারিয়ে গিয়ে দখল নিয়েছে বোকা বাক্সের প্রতিষ্ঠান। 
টিভি, ফেইসবুক, ইউটিউবে মজে আছে শিশু থেকে বৃদ্ধ
শিক্ষা থেকে খাদ্য সংস্কৃতি ঝোঁকের বশে ব্রাত্য। 

বাজার থেকে নারু মোয়া, আসে পিঠাপুলি
উৎসমুখ দেখতে পায় না আজকের কৃষ্ণকলি। 
মাটির তলায় কোন সবজি, উপরেই বা কি
গ্রামে গেলেই বুঝতে পারবে যত খোকা খুকি। 

খোকন সাহা

কথা

প্রতিটি নিরবতার জবাব দিতে পারি না ব'লে,
নিতে পারি-না শব্দের ভার।
দিতে পারি কি
লক্ষ্যহীন অর্থহীন শব্দের  কোলাহলে
ভাষার অত্যাচার?
শব্দের আলোড়নে .... 
যদি জ্বলে ওঠে প্রতিটি শব্দ ;
অথবা  নিঃশব্দের মাঝে
ব্যাঞ্জনারা... দ্যোতনারা...  কথা কয়, 
জাগিয়ে তোলে পবিত্র দর্শন .....  ; 
তারে কি কয় কবিতার কথা,
মর্মছেঁড়া  মননের শেষ বিন্দুতে ফোটা
কোন অজানা ফুলের নিরবতা!
নাকি,  এলোমেলো   নিরাশ্রয় শব্দের কঙ্কাল --
আমার মৃত্যুর পরোয়ানা ! 
                    

মাহমুদ কামাল

আগুন! আগুন

জেনে শুনে আগুনের কাছে গেলে
আগুন কি ফিরিয়ে দেবে সুডৌল  শরীর
যতই ছাইচাপা ক্রোধে কাঁপুক আঙ্গিক
তীব্র ঘৃণাসহ বিস্ফারিত চোখ
জ্বলে ওঠে মেঘের বাড়িতে গিয়ে
করুক বর্ষণ 
আগুনের কোনও দ্বিধা নেই 
জেনে শুনে আগুনের কাছে গিয়ে 
নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে
সন্দীপন করে
কী লাভ সহজ শর্তে পতঙ্গ- মানুষ
তার চেয়ে বারুদের মতো
নিজেকে ধারণ করে জ্বলে ওঠো
আগুন! আগুন!

নমিতা সরকার

চড়ুই ভাতির বিকেল

বেশ তো ছিলো সেই বিকেলের আয়োজন স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় সম্ভারে রমরমা মনোমুগ্ধকর.... 

কেন যে বিকেলটা দীর্ঘ হলো না....
সন্ধ্যার আকাশটা মগজ ছুঁয়ে দিলো,
আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধ্যার ধ্রুবতারা 
আমার দিকে ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে
আবিষ্কার করছে বিকেল সন্ধ্যার ভাষা।

হাত বাড়িয়ে দেখি আমার থেকে অনেকটা দূরে.....
তবুও যেনো কিছু বলে গেলো কানে কানে।

চোখের তারায় সে যেনো এক আশ্চর্য নক্ষত্র!

সত্যজিৎ সেন

চোখ মেলতেই 

শিরদাঁড়া বেয়ে এক উল্কার আগুন নেমে যায়। 
তুমি চোখ মেলতেই মুহূর্তে ঠান্ডাবরফ। 
বুকের ভেতর ঝড় - বাদল। বিদ্যুতের হাসি,- 
হাততালি। 
তুমি চোখ মেলতেই বন্ধ তুমুল বৃষ্টি। 
আকাশে মেঘের স্টিমার।
মাথার মধ্যে ব্ল্যাক-আউট।  কার্বন পেপার- 
আকাশ। 
তুমি চোখ মেলতেই সবুজ তারার আলো।
হ্যালোজেন চাঁদ। 
তুমি চোখ  মেলতেই আমার ন্যুডলসচুলে কে- 
যেন চিরুনি চালায়।
সঙ্গে সঙ্গে একমাথা সুন্দর দেবদারু চুলের- 
ঝংকার। 
তুমি চোখ মেলতেই ধমনীতে রক্তের কূলভাঙ্গা- 
স্রোত। 
ব্যালকনি দোল খায়। গুলাম আলির গানে হেসে- 
ওঠে সমুদ্রের ঢেউ। 
অতল ঘুমের মধ্যে আছো তুমি, এইবার ওঠো। 
তোমার চোখের পাতা আস্তে আস্তে খুলে যাক-
সকালবেলার মতন।

শান্তনু ভট্টাচার্য

 সম্পর্ক 

অব্যবহৃত সম্পর্কগুলো থেকে পার্থেনিয়াম কুড়িয়ে আনি চোখের জলে চলে গেছে যে দিন-
 তাকে দিয়ে ধুয়ে ফেলি বুকের ভেতরের 
রক্ত জমাট পাথর গুলো 
আসলে কোনটা রাখবো আর কোনটা  যাবে 
সময়ের  পিটিউটারি বলে দেয়,নাকি --
নিজেই নিজের অজান্তেই ঠিক করে রাখে ভবিতব্য।

সমস্ত প্রেমের মুখে সেলোটেপ মেরে দিয়েছি 
তারা সবাই নির্বাক হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে চোখের সামনে  বুঝতে পারছি আমার জীবন 
ঘড়ির কাঁটার চলার মত নড়ছে সর্বদা 
গা থেকে ভেসে আসছে ফরমালিনের গন্ধ...

কুশল ভৌমিক

 সুড়ঙ্গ 

বুকের ভেতর এক ভগ্ন ট্রেন দাঁড়িয়ে 
আমি তার প্রথম ও একমাত্র যাত্রী
সঙ্গীহীন ভ্রমণে অভ্যস্ত নই 
অনিচ্ছায় টিকিট কাটি 
কোথাও যাচ্ছি না ফিরছি জানা নেই
জানা নেই গন্তব্য। 
মনে মনে ভাবি--
এ ভ্রমণ কেবল নিজের কাছে ফেরা
নিজের কাছে ফেরা সহজ নয় 
আমি চাই ব্যক্তিগত ট্রেনে চেপে 
ব্যক্তিগত স্টেশনে পৌঁছুতে
ভুল স্টেশনে নেমে পড়ার ভুল পিছু ছাড়ে না।  

ঠিকানাটা ভুলে গেছি -লেখা ছিল,
প্যান্টের পকেটেই  রেখেছিলাম!
নিজের ঠিকানা জানি না?লোকে হাসবে।
হাসুক। আমি ঠিক নিজেকে খুঁজে নেবো
নিজেকে খোঁজার একটা আনন্দ আছে।

ট্রেনে উঠে অভ্যাসমতো জানালার পাশে বসি
হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন ছুটে যায়
কু ঝিক ঝিক কু ঝিক ঝিক
গাছগুলো দৌড়াচ্ছে ; 
দৌড়াচ্ছে মাঠ-প্রান্তর
দৌড়াচ্ছে পুরানো দো-চালা টিনের ঘর 
একটা প্রশস্থ উঠান
 ফাঁটল ধরা পুকুরঘাট
একটা চওড়া কাঁধ,
উঠোনময় দাপিয়ে বেড়ানো 
এক মায়াবতী নারীবৃক্ষ
সদুল্যাপুর গ্রাম
বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় 
ধলেশ্বরী নদী 
আর জামরুল তলায় দাঁড়িয়ে থাকা
শাড়ি পরা বালিকার ঘামের মানচিত্র। 

ট্রেনের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে
একের পর এক দৃশ্যপট
সবুজ থেকে হলুদ
হলুদ থেকে ধূসর... 

হঠাৎ তোমার মুখের আদলে বদলে গেল ট্রেন। 

মানুষ আসলে কোথাও যায় না
কোথাও ফেরেনা
কেবল ভালোবাসার সুড়ঙ্গ খোঁড়ে
গোপনে অন্ধকারে।

তৌফিক জহুর

 মালতীনগর-১৬

চাঁনমারী ঘাট থেকে এস্তেমাল করি 
ভালোবাসা ও মমতার ধারাপাত
অন্তরের আঙিনায় একদা 
পুঁতেছি প্রেমবৃক্ষ
আশেকের হৃদয় কফিনে পেরেক ঠুকে 
কচুরিপানার কার্পেটে করতোয়ার শীতনিদ্রা 

মানুষ জানেনা, নদী মরে গেলে 
সভ্যতার কন্কাল ঝুলে থাকে
ইতিহাসের পাতায়।

নবীনকিশোর রায়

বিসর্জনের ঘাট

খরাদীর্ণ কাল, 
গ্রীষ্মের দাবদাহে পাতা ঝরা বৃক্ষ 
দাঁড়িয়ে ঠায় কঙ্কালসার - - - 

ভুবনেশ্বরীর সিঁড়ি ধুয়ে বয়ে চলে 
আজও রিক্ত গোমতী 
ধর্ষণ ঘোর এক সন্ধ্যায় 
কোথাও  নীরবে কাঁদে কবিতা! 

দক্ষিণে এসে কবিতার শহরে দেখি
সঙ্ঘমিত্রারা অপেক্ষায়
এক বৈশাখের সন্ধ্যায় 
গোলাপী চাঁদের নিচে চিরকূট হাতে--- পৌঁছে যাবে  প্রতিটি জনপদে। 

মোমের শিখা হাতে দীপন্বিতারা 
ঘর থেকে বেরিয়ে আসে, 
জ্বলন্ত চোখে নিভন্ত আলোর শিখায়
পরস্পর মুখ দেখে, ছুঁড়ে ফেলে দেয়  গোমতী নদীর বিসর্জনের ঘাটে... 

রাহুল সিনহা

বৃন্দগান 

নিছকই সময় খেলা, নিছক একাকী পরবাস,
নার্সিসাস আয়নায় প্রতিবিম্ব  গোপন মনের,
এসব পুরনো কায়দা, বহু ব্যবহারে ক্লিশে হলো
এবার নিজের ছায়া ছেড়ে দিয়ে, ঘরের কোণের
মায়াও ভাসিয়ে জলে হয়ে যাই পর্যটক হাওয়া।
যে হাওয়া ছুটেছে,ফেলে পথের যা আছে পিছুটান 
ছুঁয়ে গেছে ট্র্যাক্টরের গান আর ফসলের ঘ্রাণ,
অনাগত বসন্তের না গাওয়া যা কিছু বৃন্দগান।


রুদ্র মোস্তফা

ফেলে যাওয়া ব্যথা  
 
সুখ দেখতে এসে আমার বললে তুমি অনেক কথা 
যাওয়ার সময় ভুল করে ফেলে গেলে কিছু গোপন ব্যথা
খনন করে সুখের ভেতর পুঁতে রেখেছি তোমার সে কথা 
কেউ জানে না বুকের ভেতর হচ্ছে কেমন সূক্ষ্ম ব্যথা 
কেউ জানে না, কতো যতনে লুকিয়ে রেখেছি  সর্বনাশ
কেউ জানে না ভেতরে ভেতরে কতো হচ্ছে বিনাশ 
ফের আবার সুখ দেখতে এসো,জমেছে অনেক কথা
যাওয়ার সময় নিয়ে যেও তোমার ফেলে যাওয়া ব্যথা।

সুমিতা বর্ধন

ওড়ে শুধুই ছাই

আমি বলি আমার সংসার
তুমি বলো তোমার সংসার
আসলে সব স্বপ্নে ওড়ে শুধু ছাই
তারপরেও বলি সোনার সংসার।
ওই যে মস্ত বড় মাঠ
তারপর আম জাম কাঁঠালের গাছ
শাল সেগুন আর আমলকি গাছ
কিংবা স্ফটিকের মতো সচ্ছ জলের
মাছ গুলো মধ্য দুপুরে ভেসে থাকে পুকুরের জলে
সব কিছুই যে মায়া
হয়তো কখনো ছিলো
কিন্তু আজ আর নেই
চারদিকে ওড়ে শুধু শূন্যতার ছাই।
বড় মায়াময় জীবন সংসার
কিন্তু ,আমি দেখি জলভরা চোখ গুলো-
স্বজন হারানো বিয়োগ ব্যাথায় কাতর,
যেখানে রৌদ্র তপ্ত দুপুরের মতো
ঝা চকচকে সংসারেও পরে থাকে
রাশি রাশি বেদনার ছাই।
পুঁথি পুস্তক বা কাব্যে পড়েছি
মহানতা আর মানবতার ধারাপাত
কিন্তু সেই সব জানা  ছিল ভুল 
সেখানেও ওড়ে শুধু মানবতার ছাই। 
ছিলো তো ভালোই রসে আর বশে
কিন্তু মানুষ একটা সময় শুধুই 
অংক কষে লাভ ক্ষতির
একদিন ছিলো সবই
কিন্তু আজ আর নেই
যেখানে জীবনের রঙ হয় বর্ণহীন
সেখানেই ওড়ে শুধুই ধূলি ধূসর ছাই।

মাধুরী লোধ

শান্তির দূত

আমার দু'চোখ সারাক্ষণ খোঁজে তোমাকে,মোমের আলো বা হ্যাজাক না হলেও মনের আলোয় খোঁজে অহর্নিশি ।
তুমি কেমন আছো, কোথায় আছো আছো কতো সুখে ।এই অন্তহীন খোঁজার মাঝে ঝিলিক মেরে উঠে শিরায় শিরায় তুমি যে গেঁথে আছো হৃদয় বীণার তার এ ।
সে বীণা অহর্নিশি গুঞ্জন করে অন্তরাত্মায় তুমি আমি আমি তুমি একটা সুখের স্বপ্নীল নীড় ।
আমার আঙ্গুল গুলো অহনিশি  আঁকে প্রেম কলি 
অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে স্রোতস্বিনী এসে বসে নানা রঙে নানা রূপে আমি তাতে মিশাই ভালবাসার ঝিলমিল ।
যে বিরহ বিচ্ছেদ শোক আমাকে দগ্ধ করতো সেখানে বসাই শান্তির বাতায়ন।সেই ফুল্ল কুসুমিত মনোবৃত্ত থেকে  এনে বসাই একটি পদ্ম বাগান , রাজহাঁস করবে খেলা , ঝাঁক ঝাঁক ভ্রমর নেচে নেচে চূর্ণ বিচূর্ণ করবে মানসিক অশান্তি আর সে ফাঁকে আমি লিখে ফেলবো প্রেম কাব্যের কলি ,
তুমি চেঁচিয়ে বলবে রসো আমি এখানে বসাবো স্বপ্নের প্রেম ফাঁদ ,
আমি আর তুমি তখন বদ্ধ কপাট খুলে গুনতে ছুটবো ঝোঁপের জোনাকি, ঝিঁঝিঁ ঝিঁঝিঁ ঝাঁঝা  ঝাঁঝা , ঠিক তখনই কাঙ্ক্ষিত চাঁদের আলো আছড়ে পড়বে দুজনের অবয়বে খিলখিলিয়ে হেসে উঠবে আমার কোলের চাঁদ ।
ভাবনার অক্টোপাস ছেড়ে আমরা দুজনে হয়ে যাবো মস্ত বিশাল আকাশ ।
ছুটে যাবো স্বচ্ছ জীবনবোধ এ,, অনেকেই হয়তো ভাববেন দৈব শক্তি  বাঁধা পড়েছি তার ই নিয়মে  ।
না বন্ধু  যে যাই বলুক বা ভাবুক আমরা কান দেবো না ,ঐ নিয়মের বেড়ি ভেঙ্গে আমরা হবো শান্তির দূত ।
                    

বিপ্লব উরাং

ভুলন নাই যায়

ভুলন কি যায় মিতিন?
গাঙপার,হরিয়ালী চা বাগান,
উলুছন,স্বরসতী পুজা মন্ডবের জনে
বাঁশ কাটার কথা।
রাত জাগে ঝুমুর নাচের কথা।
ভুলন নাই যায়।

তবে ভুলতে হয়-
ধীরে ধীরে ভুলে যাতে হয়।
লতুন গেরাম,লতুন মানুষের ভীড়ে হারায় যায়।
বদল হয়ে যায়,ক‍্যামনে ক‍্যামনে জানি।

মন নাই খোঁজলেও হারায় যায়।
কষ্ট লাগে,বুকটা টন টন করে-দুখায়।
ভুলব ক‍্যামনে,
ভুলন নাই যায় মিতিন।

মিতিন মানে -সই/বান্ধবী

সুতপা রায়

বৃষ্টি নামলে

মেঘদূতের হাতছানিতে
মন ফিরে যায় ছেলেবেলায়
ঘাসের ওপর মাটির ওপর বৃষ্টি-শব্দে আমাদেরও হৃদয় নাচে 
মাঠ ভরা জমা জলে 
নেমে পড়ার ইচ্ছে তাজা

মাঝখানে কিছু গোপন বিষাদ
মেঘ-আঁচলে লুকোনো চাঁদ
ব্যক্তিগত বৃষ্টিস্নাত দিন
ঝিলিক দেওয়া আলোর কাছে ঋণ

বৃষ্টি এলে
বদ্ধ ঘরে স্বেচ্ছাবন্দী আমার এ দিন
বাইরে যেতে ছাতা নিতে
ভুল করি না 
ছাতার দিকে হাত চলে যায়

যে ছাতারা বৃক্ষসম
যারা করেন দুঃখ আড়াল
আজন্ম ঋণ তাদের কাছে
ছত্রহীনের মনের মধ্যে বৃষ্টি ঝরে

সুমনা রায়

আমার দূরত্ব

রাত গভীর হলে সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় 
জেগে থাকা চোখের ভ্রমণভূগোল 
গাছেদের চোখ মুখ বেয়ে ঝরে  
ঘুমপাড়ানি কুয়াশা টুপটাপ 

ঝুলন্ত ব্যালকনিটা হয়ে ওঠে 
থেমে থাকা একটা জাহাজের ডেক 
যেখানে নিজেরই মুখোমুখি 
গভীর আলোচনা হয় মৌন মুখর 
চারদিকে অন্ধকারের ছলাৎ ছলাৎ 
নোঙ্গর খুলে এগিয়ে যায় জাহাজ 
আমি থেমেই থাকি একটি বিন্দুতে 
অন্ধকারে মিশে যেতে যেতে 
কারা যেন উচ্চারণ করে যায় 
আমার প্রাণের বর্ণমালা
ডেকে যায় আমার নাম 
বেড়ে যায় আমার নাম থেকে 
আমার দূরত্ব

সন্তোষ রায়

মিলনগান

প্রান্তরে মাঝরাতের হাওয়া
হাওয়া বইছে অন্ধকারে
হাওয়ায় দূরের শীৎকারধ্বনি
শীৎকার এক মিলনগান—
ক্রমশ তৃপ্ত হতে হতে,হতে হতে
তারসপ্তক থেকে নামতে নামতে
মন্দ্রসপ্তকের শেষে শিথিল হয়ে যায়

তারপর আর কোনো স্বপ্ন থাকে না---

সুজান মিঠি

মিনির বর্ষা

প্রত্যেক জুন মাসে বর্ষা আসে।
সকাল থেকে ঘোর লেগে থাকে মেঘের।
তারপর ঝমঝম করে নামে বৃষ্টি।
বছরের প্রথমদিনের বর্ষায় গাছে গাছে
সে কী আনন্দ!
পাতায় পাতায় জলের আল্পনা আঁকে,
শাখায় শাখায় একেবারে শিকড়ে পৌঁছে দেয় খুশি।
বিষাদগ্রস্থ যে পাতা ঝিমিয়ে শুকিয়ে ছিল
সেও ঝরে পড়ার আগে চনমনে খুশি নিয়ে যায়।
কোনো শোক আর ছুঁতে পারেনা গাছকে।
পুকুর ডোবা বুক ভরে শ্বাস নেয়।
ব্যাঙের ঘর ভর্তি আনন্দ ভেসে আসে একটানা ডাকে।
কদম তলায় এলোচুল ভিজিয়ে অপেক্ষা করে মিনি।
তার বাবার যে সারাবছরের এই বর্ষা মাসেই ফেরার কথা।
মিনির বাবা দূরদেশ থেকে কত স্বপ্ন আনে।
ঝিরঝির বৃষ্টিতে মায়ের গরম খিচুড়ির থালার পাশে
বাবা কপালে চুমু রাখে, নানারকম গল্প খুলে খুলে 
পরিয়ে দেয় মিনির হৃদয়ে।
বাবার গলা জড়িয়ে মিনি দূর থেকে ভেসে আসা
জুঁই ফুলের সুবাস পায়।
বকুল গাছের নীচ দিয়ে জল কেটে এগিয়ে আসে ঘুম
তার চোখে।
মিনির স্কুলে রেনিডে হয় দু একদিন।
তখন সারাদিন বাবা তাকে রবীন্দ্রনাথ শোনায়।
সেবার কাবুলিওয়ালা শুনে মিনি বাবার ব্যাগ টেনে
বলে, কাবুলিওয়ালা ও কাবুলিওয়ালা তোমার ও 
ঝুলির ভিতর কী?
মিনির বাবা তার চিবুক ছুঁয়ে বলে, হাঁতি আছে খোঁকি।

রায়দিঘিতে শালুক ফোটে খুব।
ডুবু বৃন্তের উপর ভেসে থাকে লাল টুকটুকে ফুল।
হাবুলদের সঙ্গে মিনি আর ওর বাবা ছপাত ছপাত
জল কেটে তুলে আনে শালুক।
মিনির দোকান সেজে ওঠে কদম শালুক আর খুশিতে।
কাদা ক্ষেতে ধান রুইতে রুইতে হারুনচাচা বলে,
মিনি দিদিমণি, বাপ পেয়ে বড্ড খুশি দেখি তো!

আর কদিন পরে যখন
হারুনচাচার জমিতে ধান গাছে সোনা ধরবে,
তখন ছুটি শেষ করে ফিরে যাবে বাবা।
মিনি-গাছে মনখারাপ ফুটে উঠবে।
শরৎ মেঘ শিউলির মুখে খবর পাঠাবে
ফের বর্ষায় হারুন চাচার জমিতে
মিনির সঙ্গে ধান রুইবে বাবা।
মিনির মনখারাপের গায়ে মা এসে পরিয়ে দেবে
দুগ্গাপুজোর গন্ধ।

সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী

 আলোর যৌবন

অন্ধকার এখন আমার নয়
রাতেই তোমার ধৃষ্টতার মিছিল
এত স্পর্ধা মৃত্যুরও নেই। 

ঘুমের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি
এত ভুলের মাঝে তোমায় 
শহর চিনিয়ে দিই, 
তোমার ফ্যালফ্যাল চোখে বর্ষা নামে
এদিকে  আলোর যৌবন আমায় ঘিরে রেখেছে।।

আব্দুল গফফার

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

কোলঘেঁষা পোষ্য মার্জার,
শুধু পেতে চায় সান্নিধ্য।
দুগ্ধপানরত সন্তান,
সে চায় মমতা আর স্নেহ।

খাঁচাবন্দি খেচর সে কি পায়? 
শুধু বন্দী জীবন, গাধার দাসত্ব।
উড়ন্ত বাজ, শিকার ধরাই তার কাজ,
বিচিত্র সুত্রে বাঁধা এক সংগ্রাম।

পশুপাখির জীবন যাপন ছন্নছাড়া,
কেউ পোষ্য, বন্দী, কেউবা দস্যু।
কেউ হিংস্র, কেউ ভক্ষক,
বাস্তুতন্ত্র, জীবনমৃত্যুর এ কি খেলা।

মানবজীবনও ভারী জটিল,
দ্বেষ, হিংসা, লড়াই, টেক্কা।
প্রতিযোগিতা,প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
যৌনলালসার শিকার কত নারী।

পরিকল্পিত খুন, জোরপূর্বক ধর্ষণ,
দুর্বল করে দেয় মানবজাতির শৃঙ্খলা।
কালো কাপড়ের ওজনের ভারে বন্ধাত্ব,
বিচারের বাণী তাই নিভৃতে কাঁদে আজও।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

তোতাপ্রাণ

আমার একটা নিজস্ব ভাষা আছে
যে ভাষায় বাঁচি, নিজেকে গড়ি,
সাজাই ও প্রকাশ করি -সেই তোতাপ্রাণকে
আঁকড়ে থাকতে চাই যত জলপ্রলয়ে;
যদিও পায়ের নিচে ভরসার ভিত্তি নেই
তবুও সুনামি কিংবা ভূমিধসের তাড়নায়
ছেড়ে যেতে চাই না ভাষাদেশ।

উদ্ধাস্তু হলে নির্বাসনে যাই ভিক্টোরিয়া মরুতে,
একবার গিয়েছি প্রবাসে সেন্টিনেল দ্বীপে-
ভিনভাষীরা বুঝেনা আমার ভাষা - আমার প্রকাশ -
নির্বাক কারাগারে ছিলাম - জন্মদাত্রী আমার ঘরেই
অতিথির মতো - সে আমার দেশবলয় ছিল না,
-এই মশাগান আমাকে তাতিয়ে মাতিয়ে রাখে অহরাত।

মৌমিতা দাস

তরী খানা

কোথায় ছিলাম কেন এলাম, 
ভাবছি আমি তাই। 
আসা মানে যেতেই হবে, 
ফুরালে হেথায় ঠাই।। 
এর পরে যাত্রা কোথায়, 
নাইবা হলো যানা। 
এতদিন চলার পথে যা পেয়েছি, 
তাই নিয়েই বাইবো তরী খানা।। 
ভাগ্য দেবীর মৃদু হাসি, 
হাসছে শিরো পরে।
তুলে পাল ধরবো হাল, 
মৃত্যু উপেক্ষা করে।।

দীপান্বিতা পান্ডে  দীক্ষিৎ

সৃষ্টি সুখের উল্লাস

কৌতূহলের স্বর্গরাজ্য রচনা করেছে মানুষ নামেই উন্নত জীব,
যারা এই পৃথিবীর গ্রহের বাসিন্দা৷
সমস্ত অবিনশ্বর উৎসের সন্ধানে, 
বিচরণ করে আকাশে বাতাসে পাতালে দুঃসাধ্য হৃদয়ের গহ্বরে ৷
নম্বর মানুষই বারে বারে ছুটে চলে অবিনশ্বর প্রকৃতির দুর্নিবার আকর্ষনে ৷
চাঁদ কে দেখতে কি অদম্য কৌতূহল,
সূর্য সে নিজের রাজ্যে অবিচল ৷
পাহাড় সাগর আজও ডাকে সেই সৌন্দয্যের আকর্ষনে '
যেখানে মানুষ ছুটে অদ্ভুত এক নূতনের সন্ধানে ৷
উত্তপ্ত ভূমন্ডলে ঘটে চলেছে নিত্যনূতন সৃষ্টির উল্লাস,
জুনোকে পাঠানো হয়েছে হলুদ রং এর দৈত্য গ্রহের সন্ধানে ৷
এমনি এক এক নূতন গ্রহ উপগ্রহ সৌরজগতের আবিস্কার করেই চলেছে মানুষ, 
দেখার অপেক্ষায় চোখ শেষটায় কি হয় ধংস্ব না সৃষ্টির  উল্লাস |

অভিজিৎ দত্ত 

সুখ

সবাই সুখের  পেছনে ছোটে 
বলতে পারো সুখ কোথায় আছে?
বিভিন্ন ভোগ্যবস্তুর মাঝে ?
সত্যিই যদি ভোগ্যবস্তুর মাধ্যমে 
সুখের চাহিদা মিটতো 
তবে মানুষ অনেক আগেই 
সুখী হতে পারতো।

ভোগের মাধ্যমে হয় না
সুখের চাহিদা পূরণ। 
বরং ভোগ ,সুখের চাহিদাকে
বাড়ায় সর্বক্ষণ । 

প্রকৃত সুখ 
ভোগে নয়,ত্যাগে
জীবনের এই সত্যকে 
মানুষ বুঝবে কবে?

কবিরুল (রঞ্জিত মল্লিক)

ভালবাসা

একটু তোমার সাহায্য চাই
চাই তোমার
অকৃপণ ভালবাসা, 
ভালবাসায় নিপুণ সুতোতে
তোমায় বাঁধব
বাঁধব সারা জীবন ধরে; 
ধরে রাখব 
বুকের গভীরে
গভীরে প্রেমের পানকৌরী 
ডুব সাঁতার দেবে একটু।

Jun 29, 2022

সহিদুল ইসলাম

হিসাব

বিচ্ছিরি লাগে আমার সামনে আমাকে দাড় করালে,
কর্ম দূরে, ভাবনারাও যে কেন অন্যের দখলে!
ঘোলা নদীর স্পর্শ চাই না, বৃষ্টির অপেক্ষায় বাগান পুড়ে,
ভাড়া নেবো গাছতলা,বাগান করব না, নুয়ে গেছি পয়সার জুগাড়ে।
হিসাবটা সহজ, পর্যায় সারনীর আঠারোতে যেতে চাই,
কার্বনের বাড়ন্ত দেখে হিংসায় মরি হায়।
তরঙ্গ ধর্মের খোঁজ পেলাম আজ আমার মন কণার,
সমীকরণ মেলাতে তাঁর, ব্যর্থ স্রোয়েডিঙ্গার।
ধ্যাৎ সালা, সব দোষ সেই কারখানার,
যার পরিত্যক্ত কক্ষ উৎস আমার।
উপজাত আমি, সমবয়সীরা কত মুখ্য পেকেটজাত,
শ্রমীকদের লাথিতেই বাজারে সোজা, পাই না মালিক-হাত।
এ কেমন হিসাব করছি? এই কী প্রাণের তত্ত্ব?
উত্তরটাও আমিই দেবো, মঞ্চের অপেক্ষরত।। 

সৈকত মজুমদার

প্রেমালাপ 

আমি তো আজও তোমার 
প্রেমিক হয়ে উঠতে পারিনি!

কিছু সুখের মুহূর্ত যদিও 
আমার থেকে দূরে সরে গেছে,
তাই বলে স্বপ্ন দেখা আজও ছাড়িনি। 

পাশাপাশি আঙুল ধরে হাঁটা
কোন এক গ্রীষ্মের দুপুরে, 
অথবা কলকল নদীর কিনারে 
বটবৃক্ষের ছায়ায় বসে আমরা
প্রেমালাপ করব নির্জনে। 

তবে আজ
আমি অনেক দূরে,
ভালোবাসার মানুষের অনাদরে। 

জহরলাল দাস

প্রার্থনা

রাবনের বন্দিশালা থেকে আপহৃত সীতা
উদ্ধারিত হয়ে ফিরে এসে
দিয়েছিলেন সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা। 
তারপরও সমাজের কানাঘুষো!
লজ্জিত সীতা ধরিত্রীমায়ের বুকচিরে
পাতালপুরীতে আশ্রয় নিলেন দুঃসহ বেদনায়! 
হে ধরিত্রী! এসময়ে কাপলগুনে বেঁচে যাওয়া 
আমার ধর্ষিতা মা বোনদের একটু নিরাপদ আশ্রয় দিও
তোমার কোলে লজ্জায় মুখ ঢাকতে 
নিষ্পাপ সীতার মতো!

সপ্তশ্রী কর্মকার

 উড়ছে আকাশে

কবিতা লিখতে গেলে,
অধিকাংশ কবিতাই পূর্ণতা পায় না
সেগুলিকে ফেলে রাখি অবহেলা করে,
একদিন কবিতাটা আবার এসে জ্বালাতন করে,
অবিরাম ভাবি তাকে নিয়ে
কীভাবে নতুন শব্দবাণে তূণীর সাজাব?
যাতে কবিতা পূর্ণতা পাবে।
পঁচা অংশগুলি বাদ দিয়ে
আবার নতুন করে তাতে প্রাণ সঞ্চার করি
আর সর্বশেষ খবর 
কবিতাটা এখন উড়ছে আকাশে।

গৌতম ভৌমিক

ধারালো কাস্তে

আমার একটি কাস্তে আছে 
ধারালো কাস্তে,
যা দিয়ে নদীর জল কাটবো
যেখানে থাকবে'না কোন ব্যথা
প্রতিপদ থেকে দ্বিতীয়ার কাস্তে;
উধার নিয়ে শান দেবো পৃথিবীর
মুখের স্বরযন্ত্র কাটবো 
রাজনীতির মিথ্যা প্রতিশ্রুতির আওয়াজ!

প্রজ্ঞা ভট্টাচার্য্য

অভিমান

সেদিন ছিল এক অন্য বসন্ত----
তুমি আসবে এই আশায় কাটছিল প্রহর,
তুমি আসবে তাই গাছে ফুটে ছিল লাল গোলাপ
তোমার জন্য লিখেছিলাম অনেক গল্প গান কবিতা;
তুমি এলেনা দিলেনা ভালোবাসা 
অপেক্ষায় তোমার বছর ঘুরলো আজ।
এখনো আশায় বেঁধে আছি ঘর;
 তুমি এসো একদিন শ্রাবণের ঝড়ের মতো।।

কাজী নিনারা বেগম

পৃষ্ঠা

এক টুকরো স্বপ্নের আশায় ঘড়ির কাঁটার,,
বিপরীত দিকে অপেক্ষায়  মৃয়মান দিন গোলো।। 
পৃথিবীর কঠিন দিন গুলো দুই গুন বেশি,,
সমগ্র  বিশ্ব যেন অপক্ষার বন্দি ফ্রেমে।। 
অসিম দীগন্তে রামধনু গুলো ফিকে আজ! 
অজস্র  তারা জ্বলে ওঠেছে স্মৃতির পাতায় এক অদৃশ্য মাতাল হাওয়া ।। 
অপর্যাপ্ত দহনের বিধেঁ থাকবে হৃদয় স্পর্শে,,
একদিন উড়ে যাবে অচিন পাখি! 
যাবে উড়ে অসিম দীগন্তে।। 
বেদনার নানা স্মৃতিতে পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে বলে যাচ্ছে সবাই,, 
 প্লিজ অপর পৃষ্ঠা দেখুন!

উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্য

নসিব

যেতে যতঅ ফাপ করে
হেতে অতঅ আরামে,
হূঁজা-আলি বৈষ্ণব সেবা
মানুষ কান্দে বেরামে।

ভগবান বেডাও চোক খাইছে
ইগ্গার হল আরিগ্গারে দে
জিম খিচি চৈলছে এন্নে
সময় গণি আতের কড়ে।

বেদ্দপে সব যৈজ্ঞ জানে
ষোলো গাঙের কয়ান কূল
নসিব হালার মান্তৈবো
গোবোরেত্তে হদ্ম হুল।

একটি আঞ্চলিক (নোয়াখালী)  ভাষার কবিতা

রেশমী নাথ

সমর্পিত জনে 

ওহে কমলিশ, হেরিবে তবে একটিবারে 
গুপ্তরঞ্জন প্রভাবিত হয় তোমার রঞ্জনে আড়ে আড়ে 
শত পীড়ন, শত ক্ষণে বাঁধা রহি অন্তরের সম্মেলনে 
কহকী মম আর্তনাদ তোমার অন্বেষণে 
মম হীয়ার ডোরে রহিয়া ছিলে- 
অনর্গহণে রহঝড়ে সন্নর্থে তুমি অচলা ছিলে !
মম উঁচাতঙ্ক বিহ্বলতা প্রেয়সীর সন্ধতপনে 
গাত্রছড়া  বাঁধিবে সান্ধ্যকালীন সুতীপ্ত ক্ষণে 
না বলিতে পারিলেও কহিতে তব ভাসি 
কে কী জানে অদ্যপি হ‌ইতো ভালো বাসি 
এ ভুবনের মায়া কাটাইতে তবে -
আমিও নাই তুমিও নাই তখন‌ কি হ‌ইবে ।
তিন বছরে তুমি তিন জনের বিভবে কহকী তা  ছিল শুধু আকর্ষণের রবে 
ভালো যদি নাই বাসিতে শুরুর শেষার্ধের অনেক, 
আগেই শ্রুতির দ্বারা কহিতে পারিতে 
জানিনা তবে অমূল্য অনুভূতি তপ্ত হবে 
যা নির্ভিদ্য অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হৃদপটে গাঁথে 
তাকি সত্যিই শত প্রচেষ্টার দ্বারাও এমনভাবে ঘটে !
তাও কহি সমর্পিতের সিক্ততটে বাঁধিয়াছি তোমারে তটে ।।

মন্দিরা বিশ্বাস

তোমার ছোঁয়া 

তোমার অভিমানের দরজা দিচ্ছি পাহাড়া,
শুধু অনুভূতিগুলোকে দিও ইশারা।
অনুরাগের ছোঁয়া পেতে মুক্তি চায় মন,
তোমাকে আপন‌ করে কাটাতে চাই জীবন।।
রাধা যেমন বাঁশির সুরে খুঁজে কৃষ্ণ রে,
আমিও তেমনি তোমার মধ্যে খুঁজি নিজেরে।।
দূর হলেও আমার হৃদয় এ তোমারে রাখিব,
মনটাকে গোপনে বিরহ চক্রে বাঁধিব।।

নীরেশ দেবনাথ

টান

অথৈ জলে পানসি ভাসে, বেলাশেষে তটের টানে
ভেড়ে এসে তটে, সেখানেই যে পড়বে বাঁধা জানে।
সে-ও ঠিক তেমনি করেই পাড়ে নেমে আসে
তার চোখেও  কেমন যেন কারো কায়া ভাসে,
ঘরের কোণে মনের কোণে লুকিয়ে আছে কেউ
সেই টানেই এগিয়ে চলে যেমন পানসিকে দেয় ঢেউ।

নন্দিতা দাশ চৌধুরী

ব্রহ্ম হয়ে যাবো

নিঃশর্ত সমর্পণ  আঁধার কাটিয়ে ভোর এনে দেয় যখন রাতের ভাঁজে ভাঁজে তুমি আর আমি এক হয়ে যাই,
কোন উপত্যকায়ই সত্য পথভ্রষ্ট  হয়না,
হ্যাঁ  কখনো অজানার কাছে অসহায় হয়ে যাওয়া,
সে পথই বেছে নেবো যেপথে সময়ের আলপনা আঁকা,
অন্তরের  ঘনিষ্ঠতা এক সময় পরিচয় হয়ে ওঠে,
পূব -পশ্চিম পেছনে ফেলে রেখে সময়ের কাছে সর্বানুরাগী বাউল হয়ে যাওয়া,
আমি এই শব্দটা তোমাকে বাদ দিয়ে নয় বরং নিবিড়তম একাত্ব হয়ে,
আমার সূবর্ণবেলাটাকে জয়জয়কার ধ্বণী তুলে তোমার  মরমী মনের দিগন্তরেখায় রেখে গেলাম,
তোমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে কালিদাশের বিরহবাহী  মেঘ হয়ে গেলে ত্রিবেনী  যাত্রায়  তুমি আর আমি ব্রহ্ম  হয়ে যাবো।
18,06,2022

শ্রীলিম

 পাশবদ্ধ জীব

মুখভার করা সকাল ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে, 
তার তাড়া নেই তাড়া শুধু মানুষের,
সময়ের আগে সে ছুটতে চায়...
বোকা জানেও না যে সময়ের আগে কেউ নয়।

পথে-ঘাটে হাটে-বাজারে চিৎকারের সিম্ফোনি,
নানান কাজের অফিসের তাড়া,
সকালের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে বেকুব কিসিমের মানুষ,
শুধু তাড়া নেই সময়ের।

এর‌ই মধ্যে সূর্য ওঠে, চাঁদ সেই কখন মুখ লুকিয়েছে শুভ্র মেঘের আড়ালে,
সকালে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে,
গাছগুলো মাথার পাতার জল ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত,
গ্রামের ড্রেনগুলো সব আস্তাকুঁড়ে পর্যবসিত,
স্নান সেরে এসেও ড্রেনের জলকে পায়ে মাড়িয়ে এলেও শুচিতা কি রক্ষা হয় না?

মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে যোগ-প্রাণায়াম,
মনের অশুচি দূর হয় কীসে ?
এখনও পর্যন্ত মানুষ ছয়রিপুর করায়ত্ত,
তারাই ছুটিয়ে মারছে অনবরত...
চরৈবেতি... চরৈবেতি...
বোধিবৃক্ষের ফলে সেই কবে খেয়েছিল আদমেরা,
আজকেও হলো না তার পরিত্রাণ!

রূপালী মান্না

আমার ক্ষমতা নেই

আমার ক্ষমতা নেই
কলমের জোরে এ আগুন নিভিয়ে দেওয়ার।

আমার ক্ষমতা নেই
একসাথে বসে ঈদের সিমুই
 বা অষ্টমীর লুচি খাওয়ার আনন্দ
পরবর্তী প্রজন্মকে শিখিয়ে যাওয়ার।

আমার ক্ষমতা নেই
এক বৃন্তে দুইটি কুসুম পুনরায় গেয়ে উঠতে বলার , 
আমার ক্ষমতা নেই
সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করার।

ধর্ম, রাজনীতি, গাড়ি বাড়ি কতটা পুড়েছে জানিনা
তবে আমি মানবতা পোড়ার গন্ধ পাই । 

মানবতা পুড়ে পুড়ে ঝলসে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত
বাতাসে মিশছে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস, 
এর প্রভাবে জন্ম নেবে পরবর্তী প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ বিকলাঙ্গ শিশু 
যা আটকাবার ক্ষমতা আমার নেই ।

দুঃখ একটাই
এ কলম  কিছুই শিখিয়ে উঠতে পারেনি ,
আসলে তো আমার ক্ষমতার নেই ।

পাপিয়া দাস

অতিথি দেবতা তুল্য

আমাদের ঋতুর মেয়ে বর্ষা 
প্রতি বছরই আমাদের  বাড়ি আসে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে।
অনেক সময় এক মাস 
আবার  অনেক সময় দু-তিন মাস ও বেড়ায়।
ও যখনই  আসে আমাদের  বাড়িতে  জল নামে,
সব রাস্তা-ঘাট জলে থৈ থৈ অবস্থা
কুমড়ো লতা আর অন‍্য  লতানো গাছ,ছোট গাছ গুলিও  ডুবে যায়।
লতানো গাছগুলো প্রতিনিয়ত
জলের তল থেকে উঠে আসতে চায়।
আর উঠতে পারে না।
পুকুর গুলো জলে ভর্ত্তি হয়ে যায়
মাছ ভেসে ভেসে নদীনালায় যায়।
ভারী অভাবের দিন কাটে মাঝে মাঝে।
বর্ষাকে বেড়ানোর কথা না করতেও  পারি না।
অতিথি বলে কথা।
অতিথি  নাকি দেবতা তুল‍্য।
এটা আমাদের  পূর্বপুরুষের কথা।

প্রিয়াঙ্কা আদক মন্ডল

ঝম ঝম বৃষ্টি


ঝমা ঝম হচ্ছে যে
যখন তখন বৃষ্টি,
ভাল্লাগে না বন্ধ ঘরে
একি অনা সৃষ্টি।

মাঝরাতের গর্জনেতে
নিদ্রা গেল সবার,
ভয়ের চোটে কেঁদে উঠি
ঘুম আসেনা আমার।

সকাল বেলা উঠে দেখি
পুকুর ঘাট ডুবে,
উঠানে ও জল উঠেছে
শুখনো হবে কবে?

বৃষ্টি তবু কমছে না যে
চলছে একই ভাবে,
এবার থামো অনেক হলো
কখন তুমি যাবে?

আব্দুল হান্নান

 ঘুরে দেখা

মানুষ কেউ.....
জন্মগত জ্ঞানী হয়ে আসে না
আসে একটা সুন্দর শৈশব নিয়ে 
যার মধ্যে থাকেনা কোনো বাঁধা বিধি 
থাকে অতীত বতর্মান ভবিষ্যৎ।

পরিস্থিতি তাকে যে পথ দেখায়
ধীরে ধীরে সে সে পথেই এগোয়
সময় কে স্বগত জানায়।

এ পৃথিবী বড়ই পরিবর্তন শীল
দ্রুততার সাথে রঙ বদলায়
বেঁচে থাকার বিরাম হীন সংগ্রাম
তার গাঁয়ে লেগে ও থাকে।

ছন্দময় জীবন.....
গদ্যময় পৃথিবীর তাপ ও চাপে ডোবা
কেবল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়
আসা যাওয়ার মাঝখান টুকু।

এই ভাবার অবকাশের ফাঁকে
নিমজ্জিত থাকে 
চাওয়া আর পাওয়ার ছায়া।
এমনি বেঁচে থাকার সংকীর্ণতার আলে
আসে না কখনো 
সহনশীল ও মননশীলতার ভাবাপন্ন
থাকে.....
সম্পর্কের রঙের চাপে রঙ বদলাতে 
নিস্করুণ গতির মত।

কিন্তু যদি একটা সচেতন  সন্তান 
এই পৃথিবীকে উপহার দিতে চাও
তাহলে চাই একটা 
পরিপাটি মাতৃ জঠর-সেই  বিশ্বস্ত এই
বিশ্বয়নের মরা গঙ্গায়
ভরা জোয়ার আনার জন্য।।

স্বপন দেবনাথ

নি‍ষ্পাপ জীবন

ধরিত্রির বক্ষ হতে 
ঝরে যায় কত ফুলের মতো নিষ্পাপ জীবন, 
শত শত আশা আকাঙ্ক্ষায় জরজরিত।  
আগামীর বটবৃক্ষ ছিল ওরা,  
সকলের সুশীতল ছায়াদাতা 
ধরিত্রির প্রাণ ভ্রমরা ওরা।
হায়! না ফোটা কত ফুল অকালেই হাড়িয়ে যায়
এই ধরিত্রির কোল হতে! 
বিষাদসিন্ধুর অতল হতে উঠে আসে  
সেই নিষ্পাপ জীবনের ছায়ারূপ প্রতিমূর্তি। 
শয়নে স্বপনে জাগরণে আজ ওদের
মলিনতা  ধরা দেয়। 
ওদের ভয়ংকর আর্তনাদ 
উঠে আসে উচ্চ রবে কর্ণকুহরে!
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে মনে হয় 
আবার ফিরে আসুক ওরা, এই ধরিত্রির বুকে!

রুনা নন্দী

ছায়া মানুষ

রোদ নেমেছে তিস্তা পাড়ে
স্রোতের ঢেউ
কার্ণিভালে মেঘের সারি
খুঁজছে কেউ।
পাতায় পাতায় স্বপ্ন সোহাগ
মিথ্যে নয়
বইছে বাতাস উল্টোদিকে
লাগছে ভয়।
কান্নাকাটি রান্নাবাটি
কথায় কথা
সময় ঘড়ি মাপছে সময়
বাড়ছে ব্যথা।
কাঁকর ঢাকা রাস্তা ধরে
ফিরছে যারা
ফিসফিসিয়ে বলছে ছায়া
শুনছে কারা!
ডাকছে নদী থাকতে যদি
বৃষ্টি দিন
চুলের ক্লিপে হলুদ টিপে
মন রঙিন।
রোদ নেমেছে তিস্তা পাড়ে
স্রোতের ঢেউ
কার্ণিভালে মেঘের সারি
খুঁজছে কেউ!

সুশীল দাস

রাইফেল ম্যান 

জেগে আছি একখানা
আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারের ভেতর
হাত রেখে মেশিনগানের উপরে
সামনে কাঁটাতারের বেড়া 
ঘন অন্ধকার
শুধু রাতজাগা পাখি আর ঝিঝি পোকার ডাক।
সামান্য আওয়াজ কিংবা
টর্চ লাইটের আলোটাও অনেক সময় 
নিজেকে শত্রুর টারগেট বানায়।
দুটি চোখের পাতা না বুঝে 
দাঁড়িয়ে থাকি এক ধ্যানে
শুধু ভোরের অপেক্ষায়
এভাবেই রাত্রি শেষ হয়ে
আবার শুরু হয় নতুন দিনের।

শব্দ শ্রমিক

ছন্দপতন

ওরা এসেছিল কাল গোপনে,
ভাঙ্গা দেওয়ালের কোণে।
রেখে গেছে কিছু কথা,
গাইছিলো কিছু গান। 

হৃদয়ের তপ্ত আবেগে মগ্ন সংগোপনে,
বহুদিনের বাসনা পূর্ণ ওষ্ঠ চুম্বনে।

হঠাৎ ছন্দপতন, লোডশেডিং,
থেমে গেছে কথা গায় না আর গান।
বাধার প্রাচীর, হৃদয়ে ধুলোর কোটিং।

মনে বিঁধেছে বিষাক্ত শলাকা,
ওরা ভালোবাসে না পৃথিবী, ভালোবাসে না গান,
ওরা চায় আগুন, কিংবা একটা পতাকা।

মৌসুমী খাতুন

বৃষ্টিবিলাস

টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
মেঘ গুর গুর ডাকে
মনটা আমার রয়না ঘরে
ছুটি বাহির পানে।
আকাশ থেকে টাপুস করে
বৃষ্টি নামে ঠোঁটে
অঙ্গে অঙ্গে শিহরণে 
প্রেম জাগে মনে।
রুন ঝুন ঝুন নুপুর পায়ে
নাচি আপন বেখেয়ালে
বজ্র ডাকে গর্জে ওঠে
লুটিয়ে পরি উঠান মাঝে।
ঘর বাহিরে উঠি নামি
ছুটি লাফায় মস্তি করে
আম কুরিয়ে ঝুড়ি ভরি
জুঁই এর বনে ফুল তুলে।
কাগজের নৌকা ভাষায় জলে
আমি হই তার মাঝি
এপাড় থেকে ওপাড় করি
বকুল ফুলের যাত্রী।
কৃষ্ণচূড়া হাওয়ায় উড়ে
পায়ের কাছে পরে
দুহাত ভরে তুলি তাকে
চুলে গুজি পাশে।
আহা কি গন্ধ ভাঁসে
শিউলি ফুলের সোহাগে
যুঁথিকা কম কিসে যায়
মাতাল তারই ঘ্রাণে।
যদি হতাম মেঘ পরি
বৃষ্টি নিতাম আঁচল ভরে
সকাল বিকাল যখন খুশি
মাত তাম বৃষ্টি প্রেমে।
কচু পাতার ছাউনী করে
বৃষ্টি কুড়ায় দূর্বা ঘাসে
চাতকের মতই বৃষ্টি লোভী
তাইতো বৃষ্টিবিলাস বলে অনেকে।

ঝিমলি আচার্য

আ:

বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি
নির্বাক অনাসৃষ্টি!
বাঁধনহারা বিচরণ 
মেঘে মেঘে আলাপন।
অকল্পিত গুণের আধার 
ধৃষ্টতার ভাবমূর্তি। 
ঋতুর মহিমা বড় মিষ্টি। 
ঠমকি ঠমকি বিজলি চমকি 
নয়ন মেলিল সেদিন। 
ভাঙিয়া পরিল অশ্রুধারা 
অজানা ব্যথার আকুলতা। 
আনমনে চলে ধ্বংস লিলা 
প্রতিশোধের ডালির এমনই খেলা ।
ঘুমিয়েছিল জাগেনি এতদিন ---
কে জানালো ? আঃ বেকুবি !

রাহুল দেবনাথ

জলছন্দ


আমার মেঘবর্ণ আষাঢ়ের গায়ে,
তোমার অকাল শ্রাবণ ঝড়ে না।
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি কনায়,
জলছবি আর ভাসে না।
পরিচয়হীন পথের ব্যস্ত মোড়ে
চার কদম আর এগোয়না।
আর,জলছন্দে কবিতায় বান দিলেও 
হৃদয় সমুদ্রে লক্ষ ভাসে না।

কল্যাণ দাস

 মনপাখি

ও পাখি তুই নেচে গেয়ে
আনন্দেতে থাকিস ডুবি,
তোর খুশির ঐ রহস্যটা
আমায় একটু শিখিয়ে দিবি?

বললো পাখি ব্যঙ্গ করে
আনমনা তোর চঞ্চল মনে,
কেমন করে খুশির নাচন
নাচবি রে বল আমার সনে?

আকাশপারের দূর সীমানায়
        একটুখানি ভালবেসে,
ও পাখি তুই নিয়ে যাবি কি
তোর সাথে ঐ উড়ার দেশে?

বললো পাখি যাব নিয়ে,
পারিস যদি মন বোঝাতে
তোর পৃথিবীর রূপ আলাদা
পারবি কি সব ফাঁকি দিতে?

সূত্রা সরকার সাহা

গুমরে কাঁদে

ভালোবাসা ঐ গুমরে কাঁদে,
এখান ওখান সকাল সাঁঝে,
তোমার আমার কবিতার মাঝে,
পাথর প্রেমের কলঙ্ক লাজে।

ভালোবাসা ঐ গুমরে কাঁদে,
কাজল পিয়ার আঁখি মাঝে,
মায়া লোকের মায়াবী সাঁঝে,
নক্ষত্র খোচিত তারকা রাজে।

ভালোবাসা ঐ গুমরে কাঁদে,
রাজপ্রাসাদের ঝারবাতির আলোক সাজে,
রাধারাণীর বিষাদ মনে ঐ
আবেগী কায়ার হিয়া মাঝে।

ভালোবাসা ঐ গুমরে কাঁদে,
নিশুতি রাতে জোছনার সাথে,
শতাব্দী শেষে যুগবাণী হয়ে,
ইতিহাস সাক্ষী বর্ণলিপির মাঝে।

ভালোবাসা ঐ গুমরে কাঁদে,
মায়াবী রাতে নীরবে নিভৃতে,
প্রেম অভিসারে কুঞ্জ পথে,
কাজল কালো নয়ন জলে।

অর্চিতা ভট্টাচার্য্য

 হারিয়েছে অস্তিত্ব 

ঘড়ির কাঁটাগুলিও হয়েছে আনমনা,
কাঁটাগুলিকেও গ্রাস করেছে এক বেখেয়ালের চিন্তন।
আজকাল আর সঠিক দিক ঠাহর হয় না,
তাই আঁকাবাঁকা পথেই নিত্য তাদের আনাগোনা।

কখনও ধীর  গতিতে আবার কখনও  দ্রুতবেগে ধাবমান,
কখনও  বা অসীমে দিক হাতড়ে চলা।।
সময়ও  কাঁটাগুলির হাতের মুঠোতেই  হয়েছে বন্দী
ক্ষমতা এতই যে সময়কেও নিয়েছে পোষ মানিয়ে!
অস্তিত্ব তো প্রায় বিসর্জনের ই সম্মুখীন 
গভীরে তাদের কিছুটা বেঁচে ছিল অভ্যাসের দরুণ।
বিস্মৃত দিনই স্মরণ করিয়েছে পুরোনো  সেই অস্তিত্বকে
স্বাধীন  থেকে আবার পরাধীনতাতেই ফিরে যাওয়ার পালা।
সংকীর্ণতার রাস্তা ধরেই তাই ক্রমশ ছোট হয়ে আসা,
নিশ্চিহ্নের দিশাতেই আবার নতুন করে চলছে অনুসন্ধান
যে অস্তিত্ব  গ্রহণ করেছিলো এক অদৃশ্য  তকমা,
ছন্দপতনকে  সাথে নিয়েই সেই অস্তিত্বকেই খোঁজে  চলা।।

জগন্নাথ বনিক

কষ্টের জীবন

মায়ের কোল ছেড়ে হাঁটতে গিয়ে,
কত যে আছাড় খেয়েছি বারবার।
কত যে ব‍্যথা পেয়েছি শরীরে,
তবুও দুঃখ হয়নি কিন্তু আমার।।

ব‍্যথা পেয়ে মোরা কত যে কেঁদেছি,
বারবার মাকে কাছে ডেকেছি।
কাছে এসে মা জড়িয়ে ধরলেই,
শরীরের ব‍্যথা চলে যেতো কিন্তু আমার।

এই ভাবেই জীবন বড়ো হলো,
একটু একটু দেখতে চাইল,
জানতে চাইল জগৎটাকে।
অবাক চোখে দেখলো জীবন,
হাসির চেয়ে কান্না বেশী,
সুখের চেয়ে দুঃখ বেশী,
অন্ধকারের জীবনটা কে।।

ভাবেনি জীবন হবে এমন,
বলে না কথা মানুষ আপন।
শুধু লড়াই সার্থ‍ের জন্য,
চলছে এই ভাবেই মানুষের জীবন।।

অতনু রায় চৌধুরী

হাওড়ার স্রোত

দূর থেকে জলস্রোত এগিয়ে আসছে কাছে
মুগ্ধতায় আবদ্ধ মানুষ দূরত্বের মাঝেই বাঁচে।
জল জমে রাস্তায়, শহর থেকে অলিগলি
ফুটপাত ঘেঁষা দোকানে নেই কোনো বিক্রি।

মানুষ হাঁটছে মানুষের পাশে, 
বিভেদ সব ভুলে।
এক নৌকায় চলছে বহুজন
নিজেদের বাঁচার তাগিদে।

ছড়িয়ে থাকা কতশত মাছ
খেলছে নদীর বুকে।
হঠাৎ করে খবর এলো
একটি শিশু ভেসে গেছে হাওড়ার স্রোতে‌।

ভীষণ দুঃখ হল তখন
প্রকৃতির এই খেলা দেখে।
মেঘলা আকাশ চাই না আর,
চাই না জল কারোর চোখে।

সুরমা আকতার

জীবনের অধ‍্যায়

অবুঝ মন আজ সতেজ হল
যেন আজ বুঝতে শিখলো,
নতুন গল্প, নতুন অধ‍্যায়।
বুঝতে শিখলো অনেক কিছু।
কখন যে বুঝতে বুঝতে 
জীবনের একটা অধ‍্যায়
পাড় হয়ে গেল হদিশ মিললনা।
আমাদের জীবন নামা  ট্রেনে,
চড়া নামাতো চলতেই থাকে।
গন্তব্য স্থান ভুল হোক বা সঠিক।
জীবন যুদ্ধে এটাতো আরম্ভ,
অনেকটা অধ‍্যায় তো এখনো বাকি!
অনেকটা সিঁড়ি হাঁটা বাকি!
এই অধ‍্যায় গুলো 
আমাদের নতুন কিছু শেখায়।
আর পুরাতন থেকে শিক্ষা নেয়।

দীপু দেবনাথ

বোবা পাখি 

আকাশ কে জানার ইচ্ছায় 
পোষা পাখিটাকে বলেছি,
যেন আমায় আকাশ চিনিয়ে দেয়
সে কিছু বলেনি!
এক মায়াবী চোখে তাকাল আমার মুখে
পেয়েছিলাম ওকে রাস্তায় কুড়িয়ে
শিকারীর কারনে ওর একটি ডানা ভেঙে যায়।
সময় গড়িয়ে আজ দুটি মাস,
সুস্থ সে আজ।
জৈষ্ঠের রোদ্দুরে বলেছি, আকাশে দিতে পারি
সে কিছু বলেনি!
শুধু আবেগ ভরা চোখে তাকিয়ে আছে 
বোবা মুখে যেন বলছে----
আকাশ মানে শুধু ওরা নয়,
এক নীরব আতঙ্ক মনে বিরাজ!

পায়েল সূত্রধর

প্রেম যন্ত্রণা 

প্রেমে কতটা যন্ত্রণা,
রাধাকে জিজ্ঞেস কর। 
যে শত শত বছর,
কৃষ্ণনের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়েছেন ।
প্রেমে কতটা  যন্ত্রণা,
মীরাকে জিজ্ঞেস কর।
কৃষ্ণন প্রেমে যে সবকিছু,
ত্যাগ করে দিয়েছেন ।
প্রেমে  কতটা যন্ত্রণা,
রাধাকে  জিজ্ঞেস কর।
কৃষ্ণন প্রেমে যাকে শুনতে হয়েছে,
সমাজের হাজারো কঠোর কথা ।
 
প্রেমের কতটা যন্ত্রণা,
মীরাকে জিজ্ঞেস কর।
কৃষ্ণন প্রেমে যাকে যোগিনী রুপে, 
পথে পথে ঘুরে ফিরতে হয়েছে ।
 প্রেমে  কতটা যন্ত্রণা ,
রাধাকে জিজ্ঞেস কর।
কৃষ্ণন প্রেমে যাকে প্রতিনিয়ত,
অজস্র অশ্রু ঝরাতে হয়েছে ।
সবাই বলে কৃষ্ণনের রাধা হয়ে,
থাকা খুব সহজ।
কখনো রাধাকে জিজ্ঞেস করে  দেখছে। 
কৃষ্ণন প্রেমে  সেই কতটা সুখী ছিল ।

সাগর শর্মা

English Poem

The Impotents 

The pheasant is alone in the wood,
Being confined in the crate.
He sings aside to change our mood
None hears - his poor fate.

The way a blind is told to differentiate
Between the day and night.
He shakes in dark but fails to evaluate 
And believes it all right.

প্রতীক হালদার

হারিয়ে গেলে

হারিয়ে গেলে খুঁজবি যেদিন
পড়বে আমায় মনে,
তাকিয়ে থাকিস দেখতে পাবি
নীল আকাশের কোনে।
একলা হয়ে তখন আমি
ঘুরব আকাশ জুড়ে,
তোকে ছেড়ে থাকব আমি
অনেকখানি দূরে।
হাতছানিতে যতই ডাকিস
উদাস হয়ে রোজ,
ফিরব না আর তোর কাছেতে
পাবি না আর খোঁজ।
মেঘের ভিড়ে লুকিয়ে রব
কখন তারার মাঝে,
আমার কথা যাবি ভূলে
সকল কাজের মাঝে।
এমনি করেই হব যে পর
একটু একটু করে,
স্মৃতিগুলো মলিন হবে
দুটি মনের ঘরে।
ভালোবাসা ব্যর্থ হবে
আসবে আঁধার নেবে,
এটাই জীবন চলতে হবে 
থাকবে না কেউ থেমে।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

অন্ধকার জীবন

নেশায় মত্ত যুব সমাজ যাচ্ছে ডুবে অন্ধকারে। 
দিনরাত ধরে মগ্ন শুধু ঘোর নেশার কারবারে।। 
এত দিন ধরে শহর-গ্রামে নেশার ছিলো ব্যবধান। 
আজকের দিনে শহরের নেশা গ্রামে গ্রামে বিদ্যমান ।।
মদ, গাঞ্জা, ঘুটখা,বিড়ি, খনি আরও কত শত নেশা। 
নতুন করে শহর থেকে ড্রাকস এসে বাড়ালো পিপাসা।। 

মৃত্যু আজ সূচের ডগায় জীবন যৌবন অন্ধকারে । 
শিক্ষার আলো দূরে ঠেলে সোনার ছেলে নেশা করে ।।
চুপিসারে গলির মোড়ে চলছে নেশা ঘরে ঘরে। 
নেশার ডোরে বাধা পড়ে অন্যায় গেছে দ্রুত বেড়ে।। 
নেশামুক্ত সমাজ মোরা কবে পাবে ফিরে। 
ড্রাকসের নেশায় সদ্যশিশু শুধু কান্না করে।। 
শরীরের শিরায় শিরায় রক্ত বহে না আর,
 বিষাক্ত নেশার বিশাল পারাবার।
রক্তদান মহৎদান কে করবে আর,
 দূষিত রক্ত আজ ভেতরে সবার।।

রূপঙ্কর পাল

ভালোবাসার নস্টালজিয়া

মনে কালবৈশাখীর ঝড় 
উথাল পাথাল ঢেউ-
ব্যস্ত শহর, ব্যস্ত সে
অন্যমুখী জীবন;
হাসিরা আড়ালে চুপ করে হাসে
কান্না যে গায়ে মেশে
স্মৃতি শুধুই বর্তমান-ভবিষ্যত।

বইয়ের পাতায় ভাষাভাষা ছবি,
একটা গোটা অতীত
স্বপ্ন বুননের অধ্যায়;
পথ চাওয়া পথিক
তাকিয়ে পানে, 
যদি সেই অধ্যায়ে প্রবেশ...

অর্ধেন্দু ভৌমিক

মায়ের আঁচলে

বহুদিন হল মানুষ নিয়ে
একটা কবিতা লিখিনি ! 
মা দরজায় দাঁড়িয়ে

খোকা খেতে আয়-
আমার পেট ভাতশূন্য আকাশ
 তারারাও বুঝে মা'র সোহাগী ডাক

আমি পশু, না হই মানুষ ! 
মাথা গুঁজি মায়ের আঁচলে -

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

লজ্জা

বড্ড বেমানান, মননে যার বসত
চোখে স্বপ্ন,কন্ঠ-কলমে নিরলস প্রচেষ্টা 
সেই স্বত্ত্বায় খলতা! বড্ড বেমানান।

উর্ধমুখী চলন,প্রবল উন্মত্ততা,
মরুভূমির মরীচিকায় বিলীন প্রাণের স্বত্ত্বা,
কোণায় কোণায় আধাঁরের আধিপত‍্য।

নির্লজ্জ হাসি, অমানুষিক বিশ্লেষণ
কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি,এক অমানবিক পরিতৃপ্তি
সম্পর্কে ভাঁটা,তবুও শ্রেষ্ঠত্বের পিছু ধাওয়া।
 
শ্রীহীন মন,বোধ হীন কলম,মর্যাদা হীন সুর
দিশাহীন তুলি সমাজের নয় দিশারী,
প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে স্ফুরিত দীনতা।

এই দীনতা মনুষ্যত্বের, শৈল্পিক স্বত্ত্বার,
উদারতা পকেটে পুড়ে  শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন
এই লজ্জা মানবতার , অগ্রগামী সভ‍্যতার।

অলকা গোস্বামী

বৃষ্টি ঝরছে এখনও

বৃষ্টিতে ক্লান্ত পুরোটা দিন,
কাগজের নৌকা ভেসে যায়
গলি পথে,
অসময়ে ঋতু খেলে লুকোচুরি,
বানভাসি নাজহাল কত নগরী।
 চুপসে যায় ভালোবাসা,
স্যেত স্যেতে মাটির ঘরে।
ধারাসার বৃষ্টি,
যাবতীয় তৈজস
ছত্রভঙ্গ ভাঙনের মুখে,
শীত বোধে ফিরে যাই
আলো ও আগুনে ।
গ্রীষ্মের খরতাপ 
ভিজে যায়
বর্ষার অপ্রমেয় দানে।

নিয়ম এখন আর কেউ
মানেনা নিঃশর্ত
মুক্তির ও মাশুল চাই
সময়মত।
ধুয়ে নিক বৃষ্টি সব
চিন্তার মলিনতা,
আশ্রয় শুধুই প্রকৃতি,
বাকি সব শূন্যতা।।

রঞ্জিতা চক্রবর্তী,

 বালুর সংসার

জীবনটা যেন সমুদ্র সৈকতে গড়া বালুর সংসার - 
যেখানে একটা মাত্র ঢেউয়ের আঘাতে, 
বালুঘরেরা প্রাণ হারায়! 
খোলা হাওয়ায় পালের নৌকো ডুবে - 
গাঙচিলেরা শহর পাল্টায়, 
হুট করে উড়ে চলে অন্য ঠিকানায়.....
দিগন্ত মিশে যায় আঁধারের বুকে!

কিন্তু,ধীরে ধীরে আবার সূর্য ওঠে,
পাখিরা গান গায় - কবিরা নবীন কাব্য লিখে, 
ঠিক এমনি করেই জীবন এগিয়ে যায় জীবনের পথে..........
নতুন হাতেরা আবার বালুঘর বানায়।।।

শান্তনু ভট্টাচার্য্য

 কল্পনার সে

সেই দিনটা ছিল ত্রিশ'এ ফেব্রুয়ারি,
অজানা ক্যালেন্ডারের সেই দিন।
কল্পনার জগতে উঁকি দেয় কে!
গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল সে।
পরনে লাল শাড়ি, পায়ে নূপুর-
গায়ের রংটাও ছিল বেশ খাসা।
মনের অগোচরে মনে হচ্ছিল,
এই তো সেই প্রেয়সী আমার।
যৌবনের তাড়নায় ছুঁতে চাই তাকে,
মেঘের ভেলায় চলে যায় যে সে।
শ্রাবণ ধারাও ঝরতে থাকে,
আমার আঁখি পথ বেয়ে।
         

রমা চন্দ্র

 সভ্যতা-সঙ্কট

আমরা আধুনিক সভ্যতার দাস
শৌখিনতার রঙিন মোড়কে-
আমাদের বাস।
সদা করি বিজ্ঞানের অহংকার
তথাপি বিজ্ঞান দীপের নিচে-
অজ্ঞানতার অন্ধকার!
প্রকৃতি কে অবাধে করি অবহেলা
স‌ইতে হয় নানাবিধ কষ্ট-জ্বালা,
দেখেছি সভ্যতার হতাশা
কাটিয়েছি বন্দীদশা...,
দূষিত পরিবেশ অসুর কপট
দেখিয়েছে মহামারী অতিমারীর দাপট!
লাশের পাহাড়ে-
শকুন কুকুর শৃগালের ভুরিভোজ,
প্রতিকুলতায় থমকে গিয়েছে জীবন নদী স্রোত,
বারে বারে ধেয়ে আসা সমুদ্র ঝড়...
কেড়েছে জীবন জীবিকা ঘর-
তবু থামেনি যন্ত্র সভ্যতার আধুনিক রথ!
জীবনের প্রবাহমান ধারা অব্যাহত রাখতে
প্রকৃতি ফিরে পেতে চেয়েছে সবুজ...
আমরা আধুনিক মানুষ যে বড়ই অবুঝ!

প্রীতম চক্রবর্তী

 বুনোফুল

তোমার আদুরে রক্তগোলাপ,
আমার পাঞ্জাবীতে শোভা পাবে ঠিকই,
তবে তার কাঁটা আমার হৃদয় বিদীর্ণ করবে।
ভালোবেসে দেওয়া সুবাসে মুখরিত রজনীগন্ধা,
আমায় মাতিয়ে তুলবে, তবে 
সেই সাময়িক সুবাসের বিয়োগে
আমি আহত হব কাল। 
বহু শখে আমায় অর্কিডের গোছা দিয়েছিলে, 
তবে তা শোভা পায়নি আমার কুঁড়েঘরে ।
প্রিয়, তুমি বরং আমায় বুনোফুল দাও।
যার হয়তো অনেক সৌন্দর্য থাকবে না,
তবে তা হৃদয়ে ব্যথা দেবে না।
হয়তো তার গন্ধ নেই,
তবে সে লোভ দেখাবে না।
হয়তো সে বনে থাকে,
তবুও আমার জীবন রাঙিয়ে তুলবে।

সুপ্রদীপ দত্তরায়

ছাই চাপা

আকাশের দিকে তাকিয়ে একদৃষ্টিতে
কুলি সর্দার রামদেও বলতে পারতো -
কখন কোথায় বৃষ্টি হবে আজ,
ধূলো উড়িয়ে পরাণ মাঝি 
হাল ধরতো নৌকাতে ।
গাভিনটার দাঁত গুনে রামদরিয়া
দিব্যি বলে দেয় অবিকল বয়স আর -
মুখাগ্নি শেষে শ্মশানবন্ধুরা জানে
কতটা সময় লাগে লাশটা পুড়ে খাক হয়ে যেতে ।
নদীর বাঁক চলে জ্যামিতিক নিয়মে, জানি ।
যদিও অনেকেই জানেন না বা মানেন না
ভালবাসা আর ভালো লাগায় ফারাক বিস্তর,
চোখে চোখ রেখে কথা বলা চলে
শুধু মুখ দেখে বলতে পারি না -
কতটা বিষ লুকিয়ে আছে মনের ভিতর ।
মানুষের জীবনটা বিচিত্র রঙের ক্যানভাস
আলাদা করে এক একটি রঙ - আলাদা চরিত্র,
কারো সাথে কারো মিল নেই অথচ
একসূত্রে গাঁথা - অদ্ভুত ক্যালেইডোস্কোপ ।
শুধু যে রঙটা চাপা পড়ে গেল ছবির স্বার্থে
সে ফুরিয়ে যায় না, হারিয়ে যায় -
ছাই চাপা স্ফুলিঙ্গের মতো 
জমে থাকে, স্মৃতির গহনে
কোন এক ব্রাহ্ম মূহুর্তের অপেক্ষায় ।

অম্পিকা পাল

মায়ের প্রতি

চাই গো তোমার স্নেহ ভরা বুক  মিলুক আমার বুকে
সারাজীবন চাই আমি মা তোমায় সুখে - দুখে।
তুমিই আমার জ্যান্ত দূর্গা, দশভূজা মা ,
তবুও হবে কম যদি গো ধরি তোমার পা।
তুমি কখনো পুরুষ,কখনো নারী, কর্ম করো নিত্য-
মানুষ হয়ে ভরাই যেনো মা তোমার এই চিত্ত।
আমার ঘরের লক্ষ্মী তুমি, শয়তানের জন্য কালী -
তোমার কর্মে মুগ্ধ আমি, ভালোবাসা ঢালি।
তোমার জন্যই জ্যান্ত অসুররা পারে না করতে ক্ষতি
আমার কাছে চিরকাল তুমি আদর্শ এক সতী।
বিধবা শুনতে ভালো লাগে না,বাবাতো হৃদয়ে জ্যান্ত
লোকের কথায় কান দিও না, হও দেখি মা শান্ত।

অনামিকা দও

বর্তমান বনাম ভবিষ্যৎ

কালকে ছিল ঝরণা-নদী,
আজ সেখানে বোতলের জল।
কালকে ছিল বাঁশির সুর,
আজ সেখানে  ডি জে সুরগুল।।
কালকে ছিল গরুর গাড়ি,
আজ সেখানে হাজির মেট্রো-ট্রেন।
কালকে ছিল আকাশ ঘুড়ি,
আজ সেখানে উড়ন্ত প্লেন।।
কালকে ছিল বই-খাতা,
আজ সেখানে মোবাইল আর ট্যাব।
কালকে ছিলাম অনেক পিছু,
ঠিক ছিল তাও সব,
আজ এগিয়ে, তবুও ভেজাল
নেই কারোর কোনো রব।।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক 

 দহন 

দহনের অতিশয় বাৎসল্যে ঘুরেফিরে পবননন্দনের 
সুখী-সুখী মুখটাই হয়েছে উজ্জল।
লঙ্কেশরের অবশেষে পুড়বেই মুখ,
              ভাগ্যের দরজায় দাঁড়িয়ে নাস্তানাবুদ!
চরম তৃপ্তি দগ্ধতার পরে সত্যি যেন কোহিনুর,
কল্পজারিত টইটম্বুর মনে একদিন পাবেই সুদ।
ক্রমবর্ধমান উজ্জ্জ্বলতা শয়নে-স্বপনে-সুখে 
পাখনা ছড়িয়ে নিমেষে তবুও হয় স্তব্ধ মিনার ,
ছুঁতেই পারি না লঙ্কাজয়ের অপার আশ্বাস 
ছুঁই ছুঁই করে বৃথাই  জাগে নাভিশ্বাস,
দগ্ধ সরণীতে আমি-ই তখন ব্যর্থ বুদবুদ। 

ছন্দা দাম

হৃদয়ের ঋণ

রঙগুলো হঠাৎ ফিকে হয়ে যায় 
রঙগুলো হয়ে উঠে রঙিন,
কার চোখে চেয়ে এই পৃথিবী ঐ
 আকাশ কখনো ব্রাত্য কখনো স্বপ্নলীন।
চুনরীতে আবির আজো লেগে আছে...
রঙ গুলো কেন হলো উচ্ছাসহীন,
আনছোঁয়া ছোঁয়া এতো গাঢ়ো যদি.. 
ছুঁয়ে যাওয়াদের রৃষ্টি হয় কতো রিমঝিম।।
নদীর ঢেউ তন্ত্রীতে কে যে সুর তুলে যায়...
ঝড়ো মাতাল হাওয়ায় বাজে তা ধিন ধিন,
ঋণ বুঝি তার সৃষ্টি স্তিতি প্রলয়ে...
তাকে ঋণী করা নাকি নিজের বাড়ানো ঋণ!
শিউলির ঠোঁটে কুয়াশার ছোঁয়া....
বুঝি কাশবন ঢেউ তোলে বলে কিছু কথা ক্ষীণ,
পাট করে তুলে রাখা তাঁতের শাড়িটার...
স্বপ্ন ভাঁজে ভাঁজে অবসন্ন কপালের ঘাম মুছবে কোন দিন!!!

প্রেমজিৎ সিংহ

বাংলা

পৃথিবীতে আছে, কত খন্ন্ডিত পর্ব। 
তাহার মাঝে , বাংলা মোদের গরব।।

থাকে অবশ্য খ্যাতি ।।

ভাষাতে আছে চলিত ও সাধু ।
মনে হয় শুনিলে খাইতেছি মধু ।।

বাংলা ভাষা আমাদের অতি মূল্যবান ।
মায়ের ভালোবাসায় হইলাম আমি পূণ্যবান ।।

বাংলা মায়ের চরণে রাখি হে সন্মান ।
বাংলায় মুগ্ধিত আমি চির প্রবাহমান ।।

একবার পাঠ করিও বাংলায় একটি ছন্দ ।
বাক্য না হারালে করিও সমানে দ্বন্দ্ব।। 

মায়ের পুষ্পের গন্ধ মুগ্ধ করে কানন  । 
মায়ের বিপদে হয়ে যায় আমরাও দশানন ।। 

বাংলা আমার মা, আমার ভালোবাসা। 
এই ভাষায় কোলাহল, কত মানুষের আশা।। 

মায়ের বুকেতে শহীদ, কত জীবন্ত প্রাণ। 
তাদেরকেই বলে, বীর ও মহান।। 

শ্রদ্ধা জানাই, সেই বীর - পুরুষদের। 
তাহারাই দিয়েছে স্বাধীনতা আমাদের।। 

ছড়িয়ে দিয়েছে তারা, বাংলাকে চারিদিক। 
সেটিই মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।।
হোক সে ভাষা, হোক তব জাতি। 

মায়া রানী মজুমদার

দামী     

স্বল্প দামের মুকুটেরও স্থান হয় মস্তকে, 
দামী জ্ঞান,বিদ্যা সঞ্চিত থাকে পুস্তকে।
শৈশব থেকেই হয় শুরু জ্ঞান আহরণ, 
তবুও শিক্ষা অসমাপ্ত  থাকে আমরণ।
দামী শার্টপেন্ট পড়ে যায় না হওয়া বাবু, 
পড়াশুনা করেই তবে সাজতে হয় বাবু। 
ভালো আদব কায়দা ও কথার কৌশলে, 
সুখ্যাতি অর্জন করে জগতের সকলে। 
শরীরের কোন অংশের অঙ্গ, হয় যদি বিকল, 
অঙ্গের অভাব অনুভবে মন হয় অচল। 
যত দামীই হোক না কেন জুতো পদতলে, 
বড় ছোট সকলেই পায়ে নিয়েই চলে। 
আসল কথা দামী কথা একটাই  ভাই, 
দামী হয় সব কিছুই, যার তুলনা নাই।
বলতে হয় গুছিয়ে কথা তবেই হয় নাম, 
ছোট্ট একটা কথারও লাখ টাকা দাম।

অংকুর রায় অনিক

তবুও তুুুুমি এলে না

আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
পৃথিবীকে বাইশ বার ঘুরতে হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে।
বাইশবার গাছে ফুটল কৃষ্ণচূড়া ফুল।
বাইশ বার কোকিলের কন্ঠে ভাষা ফিরল।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশটি ক্যালেন্ডার পরিবর্তন হলো।
বাইশটি বাজেট উত্থাপিত হলো।
বাইশ বার পরিবর্তন হলো
জীবনযাত্রার মান।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশটি নববর্ষ এলো।
বাইশ বার আম গাছে মুকুল এলো।
বাইশবার পরিবর্তন হলো
অতিথি পাখির বাসস্থান।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশ বার ডেঙ্গু আক্রমণ করলো এই শহরে।
বাইশটি প্লাবণ দেখলো নিচু অঞ্চল।
বাইশ বার পরিবর্তন হলো হিসাবের খাতা।
শুধু তুমি পরিবর্তন হলে না।
আগের মতো অধরাই থেকে গেলে।

চিন্ময় রায়

প্রশ্ন

আকাশ তুমি কাঁদছো কেন?
কে তোমায়ে কি বলেছে?
উত্তরেতে আকাশ বলল,
দেখো ধরণীতে আগুন জ্বলেছে।
পৃথিবী আজ এত ক্লান্ত,
সূর্যের জেদ যে এত বেশি,
কেউ কি তা জানতো?
সেই দেখে আজ আকাশ বলল,
আমার কান্নার ফলে,
ধরনী আজ ভরে উঠবে সবুজ ফুলে ফলে।
সঙ্গে বইবে শীতল বাতাস,
মনে নিয়ে আনন্দ।
বর্ষা বাতাস এলে পরে,
সূর্যি হবে অন্ধ।

রূপালী রায় 

বিপক্ষে 

এই নিয়ে কতবার লেখাপড়া থামিয়ে 
পড়েছি দারুণ প্রেমে ,
বসে আছি সব গিলে
 ভাবনাকে  পুড়িয়ে । 
তারপরেও কতবার সব রঙ ছাড়িয়ে 
ঠেকেছে অবাধ্য মন 
 নীল রঙের শাড়িতে ।
লাল নীল কত রঙ 
ফ্যাকাসে আর চকিতে ,
চোখ শুধু যায় মোর 
চকচকে চকিতে ।
এই পথ সেই পথ 
সব পথ ছাড়িয়ে 
চোখ খুলে দেখি যখন 
সব গেছি হারিয়ে ।
নেই পথ নেই কথা
 মাঝপথে দাঁড়িয়ে 
বসে আছি সব ভুলে 
ভাবনাকে হারিয়ে । ।

অন্যনা ভট্টাচার্য

প্রান্তিক

নিঝুম রাতের চতুর্থ প্রহরে
যখন হাল্কা সবুজ আভা
ছড়িয়ে পড়ে, সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে
আমার কাছে জন্মান্তরের
বাঁধা পড়লে- প্রান্তিক।

ভবানী বিশ্বাস

মায়া জড়ানো মৃত্যু

এই যে আমরা হাসছি
তোমার বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হচ্ছি
এ সুরে কেমন যেন একটা মাদকতা ভাব 
নেশাগ্ৰস্ত হয়ে তোমার কাঁধে ঝুলে পড়ছি বারবার
আর তুমি এসব নিরবে সহ্য করছো। 

বাতাসে কেমন একটা গন্ধকের গন্ধ
মাথা ঝিমঝিম, আদর আদর শিতলতা
পূর্ণিমার পূর্ণ আলো যেন শরীর ভেদ করছে
এই নির্জন প্রান্তে মনে হচ্ছে পেঁচাটা যেন
বিপদ সংকেত শুনে ডাকছে। 

ঠিক তখনই চাঁদের রুপোলি আলোয়
আমরা শেষ তাকিয়েছিলাম দুজনের দিকে। 
শরীর তখন একেবারে অবশ হয়ে আসছিল
তোমার বুকে শেষবারের মতো শুয়ে
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলাম দুজনেই।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

গ্রাম বাংলার পথ

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
আঁকাবাকা পথে,
চলে গেলো যে পথখানি
আল পথ সাথে। 

সেথায় তুমি দেখতে পাবে
খেঁজুর গাছের সারি,
মাছরাঙা ঐ ধরছে মাছ
জলেতে সারি সারি। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
পেরিয়ে তমাল শিমূল,
মাঝখানেতে বাঁশঝাড়
জারুল আর পারুল। 

রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
ঐ যে দূরের মাঠে,
বিকোতে জিনিস গ্রামের মানুষ
চলছে দূরের হাটে। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
লীলাবতীর পাশ দিয়ে,
সেই খানেতে কাজলা দিদি
আজকে তার বিয়ে। 

ছোট নদীর পাশ দিয়ে
বলাকা সারি সারি,
ধান পাঠ আখ তার
মনোরম ভারি। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
মেঠো পথটি বেয়ে,
কলাগাছের সারি সারি
গ্রামটি আছে ছেয়ে। 

সেথায় তুমি দেখতে পাবে
আম কাঁঠালের সারি,
তারই ফাঁকে ঐ দেখা যায়
সেই তো মোদের বাড়ি।।

মনচলি চক্রবর্তী

ইতিহাস

কালের অমোঘ নিয়মে সভ্যতা সংস্কৃতি,       আজ ইতিহাসের পাতায় তার শেষ পরিনতি।
যুগে যুগে সমৃদ্ধ শিল্প, অনেক ভাস্কর্য হয়েছে খোদিত।
কিছু আছে উজ্জ্বল অক্ষত আর সব ধ্বংস স্তুপে শায়িত।
রাজা রাজায় যুদ্ধ , ভ্রাতাদের মধ্যে  লড়াই সিংহাসনের। 
পলাশীর প্রান্তর আজও গুমরে কাঁদে, সাক্ষী বিশ্বাস ঘাতকতার।
রক্ত ঝড়েছে অনেক, মূল্য দিয়েছে প্রতারনার।
আজও আর্তনাদ জমে আছে, বুক ফাটা কান্না মানুষের ও যুদ্ধ প্রান্তরের,
যুগ যুগান্তরের ইহাই কাহিনী, ইতিহাস মানব প্রজন্মের।