মিনির বর্ষা
প্রত্যেক জুন মাসে বর্ষা আসে।
সকাল থেকে ঘোর লেগে থাকে মেঘের।
তারপর ঝমঝম করে নামে বৃষ্টি।
বছরের প্রথমদিনের বর্ষায় গাছে গাছে
সে কী আনন্দ!
পাতায় পাতায় জলের আল্পনা আঁকে,
শাখায় শাখায় একেবারে শিকড়ে পৌঁছে দেয় খুশি।
বিষাদগ্রস্থ যে পাতা ঝিমিয়ে শুকিয়ে ছিল
সেও ঝরে পড়ার আগে চনমনে খুশি নিয়ে যায়।
কোনো শোক আর ছুঁতে পারেনা গাছকে।
পুকুর ডোবা বুক ভরে শ্বাস নেয়।
ব্যাঙের ঘর ভর্তি আনন্দ ভেসে আসে একটানা ডাকে।
কদম তলায় এলোচুল ভিজিয়ে অপেক্ষা করে মিনি।
তার বাবার যে সারাবছরের এই বর্ষা মাসেই ফেরার কথা।
মিনির বাবা দূরদেশ থেকে কত স্বপ্ন আনে।
ঝিরঝির বৃষ্টিতে মায়ের গরম খিচুড়ির থালার পাশে
বাবা কপালে চুমু রাখে, নানারকম গল্প খুলে খুলে
পরিয়ে দেয় মিনির হৃদয়ে।
বাবার গলা জড়িয়ে মিনি দূর থেকে ভেসে আসা
জুঁই ফুলের সুবাস পায়।
বকুল গাছের নীচ দিয়ে জল কেটে এগিয়ে আসে ঘুম
তার চোখে।
মিনির স্কুলে রেনিডে হয় দু একদিন।
তখন সারাদিন বাবা তাকে রবীন্দ্রনাথ শোনায়।
সেবার কাবুলিওয়ালা শুনে মিনি বাবার ব্যাগ টেনে
বলে, কাবুলিওয়ালা ও কাবুলিওয়ালা তোমার ও
ঝুলির ভিতর কী?
মিনির বাবা তার চিবুক ছুঁয়ে বলে, হাঁতি আছে খোঁকি।
রায়দিঘিতে শালুক ফোটে খুব।
ডুবু বৃন্তের উপর ভেসে থাকে লাল টুকটুকে ফুল।
হাবুলদের সঙ্গে মিনি আর ওর বাবা ছপাত ছপাত
জল কেটে তুলে আনে শালুক।
মিনির দোকান সেজে ওঠে কদম শালুক আর খুশিতে।
কাদা ক্ষেতে ধান রুইতে রুইতে হারুনচাচা বলে,
মিনি দিদিমণি, বাপ পেয়ে বড্ড খুশি দেখি তো!
আর কদিন পরে যখন
হারুনচাচার জমিতে ধান গাছে সোনা ধরবে,
তখন ছুটি শেষ করে ফিরে যাবে বাবা।
মিনি-গাছে মনখারাপ ফুটে উঠবে।
শরৎ মেঘ শিউলির মুখে খবর পাঠাবে
ফের বর্ষায় হারুন চাচার জমিতে
মিনির সঙ্গে ধান রুইবে বাবা।
মিনির মনখারাপের গায়ে মা এসে পরিয়ে দেবে
দুগ্গাপুজোর গন্ধ।