সুড়ঙ্গ
বুকের ভেতর এক ভগ্ন ট্রেন দাঁড়িয়ে
আমি তার প্রথম ও একমাত্র যাত্রী
সঙ্গীহীন ভ্রমণে অভ্যস্ত নই
অনিচ্ছায় টিকিট কাটি
কোথাও যাচ্ছি না ফিরছি জানা নেই
জানা নেই গন্তব্য।
মনে মনে ভাবি--
এ ভ্রমণ কেবল নিজের কাছে ফেরা
নিজের কাছে ফেরা সহজ নয়
আমি চাই ব্যক্তিগত ট্রেনে চেপে
ব্যক্তিগত স্টেশনে পৌঁছুতে
ভুল স্টেশনে নেমে পড়ার ভুল পিছু ছাড়ে না।
ঠিকানাটা ভুলে গেছি -লেখা ছিল,
প্যান্টের পকেটেই রেখেছিলাম!
নিজের ঠিকানা জানি না?লোকে হাসবে।
হাসুক। আমি ঠিক নিজেকে খুঁজে নেবো
নিজেকে খোঁজার একটা আনন্দ আছে।
ট্রেনে উঠে অভ্যাসমতো জানালার পাশে বসি
হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন ছুটে যায়
কু ঝিক ঝিক কু ঝিক ঝিক
গাছগুলো দৌড়াচ্ছে ;
দৌড়াচ্ছে মাঠ-প্রান্তর
দৌড়াচ্ছে পুরানো দো-চালা টিনের ঘর
একটা প্রশস্থ উঠান
ফাঁটল ধরা পুকুরঘাট
একটা চওড়া কাঁধ,
উঠোনময় দাপিয়ে বেড়ানো
এক মায়াবতী নারীবৃক্ষ
সদুল্যাপুর গ্রাম
বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
ধলেশ্বরী নদী
আর জামরুল তলায় দাঁড়িয়ে থাকা
শাড়ি পরা বালিকার ঘামের মানচিত্র।
ট্রেনের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে
একের পর এক দৃশ্যপট
সবুজ থেকে হলুদ
হলুদ থেকে ধূসর...
হঠাৎ তোমার মুখের আদলে বদলে গেল ট্রেন।
মানুষ আসলে কোথাও যায় না
কোথাও ফেরেনা
কেবল ভালোবাসার সুড়ঙ্গ খোঁড়ে
গোপনে অন্ধকারে।