আকাশকুসুম
Dec 27, 2021
জ্যোতির্ময় রায়
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
খোঁজ
সৌমিত বসু
ফাঁকি
গুটিয়ে ফেলেছি তাবু এ তল্লাটে কখনোই নয়। অনেক দিয়েছে এই মেঘ, ছাদের ওপর থেকে স্তব্ধ প্যাগোডা , প্রতিটি এটিএম থেকে রাস্তা কিভাবে যে মিলে গেছে মিশনারি স্কুলে। খলখল দিদিমণি। দু -পায়ে নুপুর। অনেক দিয়েছে , তবু ভল্লের কথাই আজ মনে পড়ে যায়। বুক ফুঁড়ে রক্ত ঝরে পথের ওপর ।প্রবঞ্চনা ঘিরে এসে বাঁশবন কালো করে তোলে।মনে হয় এ কোন শহর নয়, মৃতের শহর।দূরে দূরে আলো জ্বলে। ঘাড় গুঁজে ঘুমায় নগরী।পদচিহ্ন মুছে নিয়ে ফিরে যাই আপন ডেরায়,যেখানে এমন কোনো মেঘ নেই যার ফাঁকে আঁকা আছে বিদেশির করুন সমাধি। প্রবঞ্চনা, আজ তুমি আলোর অধিক। গুটিয়ে ফেলেছি তাবু পিছুডাক আর কি মানায়। হিংসার বাইরে রয়েছি। তুমি তো জেনেই গেছো আমার নিজস্ব কোন ক্রোধ নেই।
অপাংশু দেবনাথ
তৈমুর খান
Dec 26, 2021
তমা বর্মণ
কুশল ভৌমিক
কমল সরকার
খোকন সাহা
রুদ্র মোস্তফা
নাহার আহমেদ
নিলুফা ইসলাম
রোকেয়া ইসলাম
নিয়তি রায়বর্মন
বিজন বোস
চন্দন পাল
সুমনা রায়
গোপালচন্দ্র দাস
তুষারকান্তি রায়
সুশান্ত নন্দী
শান্তনু ভট্টাচার্য
দিলীপ বসু
দিপ্সী দে
ক্ষত
একটি বিষন্ন সন্ধ্যায়পাখির ঝাঁক রাতের আকাশ।
উঠানের গাছের সবুজ পাতায় কালোফড়িং আলপনা এঁকে দিয়ে চলে গেছে প্রেমিকার কাছে।
আলপথে নেমে গেছে ঝর্ণা। অন্ধকার শেষে একটি মেঠোপথ প্রেমিক ফড়িং টির চোখে তৃষ্ণা।
এ শহর ভীষণ তৃষ্ণার্ত।
নদী বেয়ে নেমে যায় লাবণ্য। প্রেম শৃঙ্খলা হারায়।
চাকচিক্য শেষে একটি অন্ধকার। স্টেশনচত্বরে লেগে থাকা ধুলো।
কবিতা আর প্রেম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিশ্ব।
পঙ্কজ কান্তি মালাকার
সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী
শ্রীমান দাস
সপ্তশ্রী কর্মকার
ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
আর কোনো ট্রেন নাই
সমরেন্দ্র বিশ্বাস
ভুল ডেথ-সার্টিফিকেট
আমার শবদেহের মধ্যেই আমি জেগে আছি।
আমার রক্তে যে গান বেজেছিলো, তাকে মাচানে চাপিয়ে শ্মশানে চলেছে যারা তারা সবাই আমার প্রতিবেশী, আত্মীয় পরিজন।আমার প্রিয় গান আজ স্পন্দনহীন!
মাচানে কাঁধ দিয়ে যে লোকটা সামনে সামনে চলেছে, সে আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা – নির্বোধ স্বপ্নের মতো একটা নীল স্যুট আর সাদা টাই তার পরণে।
কুঁকড়ে গেছে আমার গানের প্রিয় শরীর! এই শবযাত্রায় কাঁধ লাগিয়েছে যে দ্বিতীয় লোকটা, সেও আমার প্রতিবেশী, দারুণ ছটফটে – তার নাম প্রতিযোগিতা, ছুটন্ত অস্থিরতার মধ্যে ধ্যানহীন তার চোখের থেকে বেরিয়ে আসছে ব্রেক ফেল করা ট্রেনের শব্দ!
আমার প্রিয় সংগীত এখন মাচানে, শক্ত হয়ে আছে ওর নরম শরীর - অন্তিম যাত্রায় যাবে বলে যে প্রতিবেশীটা এতোদিন তক্কে তক্কে ছিলো, তাকে তো আমি চিনি – তার নাম বিদ্রূপ। জীবনভর আমার পেছনে লাগতো এই যে পড়শিটা, কেন তাকে ঘেঁষতে দিলাম আমার শবযাত্রায়? তাকে আটকানোর জন্যে মনটাকে কেন আমি ঢাকি নি ইস্পাতের বর্মে?
যে গান জীবন থেকে চলে যাচ্ছে, সে কি এম্নিই যাবে? তাকে মাচানে বয়ে নিয়ে চলেছে যে চতুর্থ লোকটা, সেও তো আমার ঘরেই বসত করে। ফ্যাকাসে রঙ্গের সেই মানুষটা, তার নাম বিশ্বাসহীনতা।
মাচানে এখন লয়-তালহীন শরীরের শবদেহ। সামনে ধূপের ধোয়ায় জ্বলছে আমার সময়। আমার গান, যাকে আমি গাইতে চেয়েছিলাম, পারিপার্শিকতার হাসপাতাল থেকে শ্রশ্রূষাবিহীন সে নিয়ে এসেছে ভুল ডেথ-সার্টিফিকেট!
আমার গান এখনো মরে নি! আমি খোলা চাকু নিয়ে ছুটে যাই সেই সব শববাহীদের দিকে, যারা জবরদস্তি খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার জীবনকে! এই আমার হাতের ছুরি, দেখো, গড়িয়ে পড়ছে টাটকা রক্ত! আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
দুলাল চক্রবর্তী
সুজন দেবনাথ
নমিতা সরকার
লিপি ভৌমিক
বিপ্লব উরাং
রাহুল শীল
লিটন শব্দকর
ঝিমলি আচার্য
রঞ্জিত চক্রবর্তী
সুস্মিতা এস. দেবনাথ
মোঃ রুবেল
প্রজ্ঞা ভট্টাচার্য
স্বত্তা
লোকে বলে লক্ষীবন্ত মেয়ে হও
বাপের বাড়িতে আমি লক্ষ্মী;
স্বামীর ঘরে অন্নপূর্ণা
অফিস বাড়ির সামলে আমি দশোভূজা দুর্গা।
কথায় বলে রুপী লক্ষী গুণে সরস্বতী
আমার মত দু সংসারে সেতু কি কেউ বাঁধতে পারে??
আমি পরকে করে আপন সারা জীবন বাঁচি,
শত সম্পর্কের ভিড়ে হারাই নিজের নাম
গোত্র থেকে গোত্রান্তর
যদিও আমি হই,
তবুও সারদা রূপে ঘুড়ি দ্বারে দ্বারে;
আমি জগদেশ্বরি।
এত রূপ হয়েও আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে হারাই নিজের পরিচয়,
জেনো পুরুষ আমার গর্ভে তোমার জন্ম আমিই তোমার মহাকাল।।
Dec 25, 2021
রূপালী মান্না
রমা চন্দ্র
ফিরে আসা
পূর্ণিমা জোছনালোকে...
নিশীথ রাতের তারা-
যে গান শোনায় গ্রহ শশীরে,
সেই গানের টানে দূর গগনে
নিহারিকা পথ ধরে-
মেঘ বালিকা হয়ে
আকাশ ভ্রমি আমি,
আসি ফিরে বাঁশির সুরে-
উষাকালে এই ধরণী কোলে,
জীবন কোলাহলে...
কাটে আমার সারা বেলা-
ফুলবনে করে খেলা...,
বেলা শেষে অস্তাচলের পথে-
সাঁঝের প্রদীপ নিয়ে হাতে
অন্তহীন অপেক্ষাতে...
আপন বাটির দুয়ারেতে।
সম্পা বৈদ্য
জন্ম মৃত্যু
আমাদের জন্ম হয় নীরবে, অন্ধকারে, অবহেলায়।
আমাদের জন্ম হয় অপেক্ষায়!
আজন্মকাল অপেক্ষায় থাকি
একটু ভালবাসার।
কিন্তু আমাদের জন্মে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রিয়জনদের।
ভালোবাসাময় এক নুতন পৃথিবী আমাদের আজন্ম স্বপ্ন দেখায়!
আমাদের নীরবে জন্ম হয় !
মৃত্যু ও হয় নীরবে!
মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুচার দিন সখের আর সাধের ভালোবাসা খুঁজে বেড়াই।
অঙ্কুর সাহা
বন্ধুত্ব
ঈশ্বর যাকে দিয়েছে বানিয়ে
আসল হীরের দর্পণ ছানিয়ে,
যার কাছে সকল ব্যথা হার মানায়
হৃদের পাখি যেথায় উড়তে চায়,
যার শব্দে টেনশন দূরে ভাগে
যে আপদে থাকে সবার আগে
মন ভোলনো কথা যার
সে আর কেউ নই বন্ধু আমার
সোনার খুশি ভরেছে ঝুলিতে
বন্ধুত্বের সে স্মৃতির বুলিতে
আদর আবদার সে দুষ্টু হাসি
শেষে সে খেলা রাশি রাশি
স্কুলের গল্প মুখের কথা সেই
যেখানের সম্পর্কে বাঁধ কোনো নেই
যা কৃষ্ণ সুদামার মতো কাহিনী
যা বন্ধুত্বের ভালোবাসার বাহিনী
সবার প্রিয় সে মানুষখানি
বন্ধু নয় ভাই বলে তাকে আমি চিনি।
স্বরূপা দত্ত
আব্দুল হান্নান
আমার জন্ম ভূমি
খড়ের চালে প্লাস্টিক দেওয়া ঐযে দেখো ভাই
ওটাই আমার বসত বাড়ী জন্ম ভূমি ওটাই
উত্তরে তার বিশাল পুকুর দখিনে কাকা জ্যাঠা
পশ্চিমে সব জ্ঞাতির ঘর,পূবে মসজিদ ওঠা।
এটাই আমার দাদুর পিতার পৈতৃক ভিটা ভূমি
মাটির দেয়াল খড়ের চাল শীত-গ্রীস্মে -দামী
আম্ফান আসার আগে ভাঙে সে তো নেই আর
স্মৃতি স্বরূপ ধরা ওপর দিকে তার....।
এখন আমি সেখানেতে নতুন ভাবে করি বাস
দারীদ্রের হাত পেতে কোথাও ফেলেনি যে দীর্ঘ শ্বাস
যা আছি এই ভালো ই আছি আনলে রোজ খাই
চাওয়ার জায়গায় চাইতে গেলে সমস্যার শেষ নাই।।
সেখ আব্দুল মান্নান
কল্যানী ভট্টাচার্য্য
অ-কবি
আমি তো নই কবি
আমি যে গো অ-কবি।
আমার কলমে যদি না থাকে বল
কি করে পালাবে হায়নার দল।
কবির কলম যে হবে ক্ষুরধার
সততা থাকবে মনে।
কবির কলমে থাকবে প্রতিবাদের সুর
থাকবে কবির পবিত্র বাণী।
আমি যে গো কি করি
মনেতে প্রবল ইচ্ছা ধরি।
কবি হবার স্বপ্ন দেখি
অন্যের লেখা দেখে শিখি।
পারি না করতে সঠিক বর্ননা
ঘটে যেতে পারে কোন দূর্ঘটনা।
মনের ইচ্ছা মনেই রাখি
অ-কবির তকমা বাকি।
কবির কলম যে হবে
ন্যায় নীতি সততায় ভরা।
কবির কলম বিদ্রোহ হতে হবে
চলমে কলম সুখ শান্তিতে ভরা।
কবির গর্জনে কাঁপবে দেশ
ছিন্ন হবে দেশদ্রোহীর বেশ।
নতুন প্রজন্মের সুশিক্ষায় করবে কবিকে ঈঙ্গিত
সমাজের কাছে ফুটিয়ে তুলবে সুখ দুঃখের ঈঙ্গিত।
Dec 24, 2021
কুশল রায়
ভূল
এতোদিন টাকার উপরে ভালোবাসা
করে চলে গেল,
কিন্তু যতক্ষণে বুঝতে পারল ভূল টা
ততক্ষণে আর কি কিছু রইল ৷
কেন এমন করে মানুষ
নিজের জন্য অন্যের ক্ষতি করে
উড়ায় কথার ফানূষ ,
এবার সবাই বলবে এতো স্বাভাবিক ধর্ম
এই বলেই কত জনে করে যে কত কূ-কম্ম ৷
আরে কিছু বুঝবে না
কেউ বলবে না,
একদিন একলা হয়ে চলে যাবি
এই জগত ছেড়ে তখন কেউ কিছু কি পাবি ?
ছাড় মায়া ,কর দয়া
জীবে প্রেম করলে তুই হবি না কখনো
ঈশ্বরের নির্দয়া ,
তাই মানুষই ঈশ্বর,
ঈশ্বরই মানুষ ৷
এটাই হোক সকলের উরানো
কথার ফানূষ ৷
প্রসেনজীৎ সাহা
মা
কোথায় গেলে পাবো বলো।
মায়ের মতন আদর যতন।
কেইবা করে বলো।
মায়ের হাসি চাঁদের আলো।
শত কষ্টে ও সন্তানকে বাসে ভালো।
মাগো তোমার ঋণ কে শোধিতে পারে।
কন্যা বিদায়ে দু'মুঠো চালে।
তোমার ছোঁয়ায় শান্তি মেলে।
তোমার মতন কেইবা ভালোবাসে।
দশমাস গর্ভে ধরে দেখালে আলো।
তোমার তুলনা যে হয় না কারোর সঙ্গে মাগো।
তুমি আমার পথের দিশারী।
তোমায় ছাড়া আমি যে অসহায় নারী।
তুমি তৈরী করলে আমায় এক প্রকৃত নারীমূর্তি।
সর্বকাজে শিখিয়ে পাঠালে পরের বাড়ি।
সেইখানে যে নেই মা তোমার ছোঁয়া।
তোমায় ছাড়া আমি যে দিশেহারা।
আমি তোমায় বড্ড ভালোবাসি মা।
তোমার স্থানে আর কাউকে যে বসাতে পারবো না।
অশ্বিনী কুমার মন্ডল
শহর
গ্রামের থেকে শহরগুলো
গড়ছে অনেক দূরে,
অট্টালিকার লাইন দেখে
মাথা যায় ঘুরে।
হাজার হাজার মানুষ সেথা
হাজার রকম পেশা,
কাজের মাঝেই সূর্য ডুবে
কাজেই তাদের নেশা।
গ্রামে গঞ্জে আছে এখনও
প্রীতি ভালোবাসা,
শহরেতে বড়ই অভাব
মনে শুধুই হতাশা।
গ্রাম গুলোকে শহর যখন
করছে শুধু গ্রাস,
নগর জীবনে মানবতার
হচ্ছে শুধু হ্রাস।
সবুজ ঘেরা গ্রামটি আমার
বাউল বাতাস রাখী,
শহুরে জীবন যেন
খাঁচায় বন্দী পাখি।
গোপী নাথ ঘোষ
মেঘ পাহাড়ের প্রেম
মেঘ পাহাড়ে প্রেম হয়েছে
আকাশ করেছে আড়ি,
তোমার সাথে মিলে আমি
অসীম রেখায় চলি।
স্বপ্নবুনি নিপুন হাতে
জীবন করি পান,
এটাই ব্রত এক জীবনে
বুঝতে তব তান।
প্রেমজিত সিংহ
সুধীর রায়
এই ত্রিপুরায়
মাঝে মাঝে সমতল, মাঝে মাঝে টিলা,
পার্বতী এই ত্রিপুরায়-আছে আটটি জেলা।
বন বনানী পাহাড় নদী, সুজলা সুফলা,
সবুজ শ্যামল ধানের শীষে-উজ্জ্বলা! উজ্জ্বলা!
মাঝে মাঝে শহরতলী, মাঝে মাঝে গ্রাম,
রূপের রাজা এ দেশ আমার,-ত্রিপুরা তার নাম।
পাখপাখালির কলতানে,গান জাগে বাউল মনে,
পার্বতী ত্রিপুরার সাজ স্বপ্ন আঁকে কবির দু'নয়নে।
এই ত্রিপুরায় ভরপুর-
ছন, বাঁশ, গাছগাছালি,হরেক রকম ফলে,
ঝাঁকে ঝাঁকে পশু পাখি,বানর থাকে দলে!
ঝর্ণা-নদী যৌবনা হয়, বৃষ্টি ঝরা জলে।
লাউ, কোমড়, ঝিঙে, পটল, মাঠ ভরা ধান,
দোয়েল, কোয়েল, ফিঙে নাচে,কোকিলে গায় গান।
শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া,কদম ফুলের গন্ধে ভরা,
শরৎ এলে মৌ মৌ করে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ।
হরিণ চড়ে বনে বনে,শিয়াল ডাকে আপন মনে!
বনের মোরগ পেখম তুলে নাচিয়া বেড়ায়!
মনমাতানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা ছবি,
তুমি দেখতে পাবে এসো যদি, এই ত্রিপুরায়।
উঁচু নীচু টিলা ভূমি, যেন অনন্য এক ভূস্বামী!
এমন তাঁহার রূপের ছোঁয়া, হীরার চেয়ে ও দামী।
নানান জাতির বসবাস, নানান সংস্কৃতি,
বিবিধের মাঝে আছে বৈচিত্রের গীতি।
রুনা নন্দী
মেঘমায়া
মেঘের ভিতর বাস
গন্ধ ছিল ভ্যাপসা পোড়া
বজ্র পোড়া ঘাস।
রাতের পর রাত কাটতো
স্বপ্ন মলাট ছেঁড়া
তৃষ্ণা ছিল বৃষ্টি আসুক
নীল সবুজে ভরা।
রাত ফুরিয়ে সকাল এল
চোখ খুঁজেছে চোখ
কেউ মাপেনি জ্বর কতোটা
রোদ যেমন ই হোক।
কেউ দেয়নি জানালা খুলে
আকাশ হওয়া দূরে
গাছ হয়নি তেমন আপন
পাখির গানের সুরে।
ভালোবাসার সঙ্গে ছিলো
আপোষ অভিনয়
আলোর মধ্যে কালোর যাপন
হারিয়ে যাওয়ার ভয়
নন্দিতা দাস চৌধুরী
আলোড়ন সৃষ্টি করে
নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি প্রেমের মৃত্যু নেই,
মরে শুধু প্রেমের সাক্ষী প্রেমিক প্রেমিকারা,
মেঘের আড়ালে ঘাসের অন্তরালে,
প্রেম থেকে যায় অনন্তকাল হৃদপিন্ডের তরঙ্গে ,
ভালোবাসার বর্ণমালায় লিখে যায় তার জাজ্জল্য কাহিনী,
তবে হ্যাঁ শরীরের সবচাইতে সুন্দর অংশ হলো হৃদয় যেখানে প্রেমর নিরলস বাস সেই হৃদয় যদি নড়বড়ে দুর্বল হয় তাহলেই প্রেম সরে যায় অমাবস্যার নিঃসীম আঁধারে,
যা নিশ্চিত অবধারিত তা কখনো বদলায় না,
প্রেমের দ্বার অবারিত শুধু বয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের কাজ,
জীবনভর বহন করে সন্ধ্যায় পানকৌড়ি সাদা বক হয়ে ফিরে যাব আপন আস্তানায়,
যে শ্রাবণের আকাঙ্ক্ষায় আমি কবিতা লিখি সেই শ্রবণের প্লাবন হয়ে তুমি শুধু আমার হৃদয় ছুঁয়ে যেও,
বৃষ্টির ভিতরেও কিন্তু একটা অভিমান আছে সেও জ্বলে পুড়ে চেতনার অগ্নিময় স্পর্ধার স্পর্ধিত আলোড়ন সৃষ্টি করে।
নীতা কবি মুখার্জী
ছোটবেলাকার শীত
ছোট্টবেলার শীতের কথা মনে পড়ে বার বার
কতো মজা আর কতো খুনসুটি করে এসেছি পার।
পৌষ আর মাঘ আসে শীত নিয়ে, মিষ্টি আমেজ নিয়ে
সকাল বেলার রোদ পোহানো চাদরটি গায়ে দিয়ে।
বাড়ীর চাষীরা ধান নিয়ে আসে গোরুর গাড়ী বোঝাই
খামার নিকোনো গোবর দিয়ে চলতো সাফ-সাফাই।
নবান্ন হতো আলপনা দিয়ে,কতো যেন পরিপাটী
নতুন চাল আর নতুন গুড়ের পায়েস ভর্তি বাটি।
ছোটাছুটি খেলা, লুকোচুরি খেলা ধানের গাদার পিছনে
কতো মজা ছিলো, আনন্দ ছিলো, বার বার পড়ে মনে।
পৌষালার রান্না করা চাল-ডাল দিয়ে খিঁচুড়ী
তুতো-ভাইবোন একসাথে মিলে বানাতাম ডিমের কারী।
মকর-সিনান, পিঠে পুলি খাওয়া, রোদে বসে ভাত খাওয়া
কচিকাঁচাদের হৈচৈ হতো, ভরতো বাড়ীর দাওয়া।
বাবা-কাকাদের হাত ধরে ধরে মেলা দেখবার ধূম
কেন্দুলী-মেলার ভেঁপু কিনে এনে উড়তো চোখের ঘুম।
দিনরাত্রির বাজাতাম বাঁশী, খেতাম বকুনী যতো
আদরে-শাসনে মিষ্টি-মধুর ভালোবাসা ছিলো কতো!
আজও শীত আসে, পিকনিক হয়, সব ঠিকঠাক হয়
সব কিছু যেন হয়ে গেছে মেকি, শৈশবের মতো নয়।
শ্রীলিম
মাটির মানুষ আমরা চাষি,
ক্ষুদ্র আমরা তবু তুচ্ছ নই,
আসুক না যতই ঝড়বৃষ্টি,
কাউকে আমরা করি না ভয়।
পেটে পড়লে টান, পাঞ্জা
কষে, দাঁতে দাঁত চেপে,
সমানে লড়ে যাই এগিয়ে
আবহাওয়া যাই হোক না।
অন্নদাতা বলো আমাদের,
বলো কৃষক ভাই, বলো বন্ধু,
ওসব ফাঁকা বুলি আমরাও বুঝি,
তবুও করি না কর্মে অবহেলা।
খালি পেটে আমরা তবু ফসল ফলাই,
তোমাদের ভরা পেটে তাই আসে গান আর
ভাই বলে মঞ্চ থেকে করো চিৎকার,
মিথ্যা আশ্বাসে পেষো রাজচক্রের যাতায়।
উপর চালাকি আমরা সব বুঝি,
তবুও আমাদের কর্মের দায় বয়ে চলি।
প্রস্তুতি নিই ঋণের বোঝা বইবার,
বহুবার ঠকার পরও ঠকতে আরও একবার!
x
সহিদুল ইসলাম
টিটু বনিক
এক মুঠো ধুলো
সেইদিন অভ্যন্তরীন কিছু একটা হলো
হঠাৎ করে থমকে গেলো
চারিপ্রান্তে যেন সব ভেঙ্গে গেলো
বন্যা হলো, ঝড়বৃষ্টি আর তুফান।
সেইদিন সেতুর বাঁধন ছিড়ে গেলো,
সমতলে পাহাড়ের আগমন হলো
সুপ্ত অাগ্নেয়গিরিরা জেগে গেলো
মহাদেশগুলি আবার বিভক্ত হলো।
সেইদিন জলে আবার পাথর দেখা দিলো,
সরলতা ছেড়ে আঁকাবাঁকা নিলো,
নদীর বুক আগুনে দহন হলো,
আর মোহনার বুকে চিরতরে মিশে গেলো,
সেদিন কিছু একটা হলো।
শৈলেন দাস
খারাপ সময়
দিন রাত শুধু অস্থিরতা করছি।কখন এই দুঃসময় থেকে মুক্তি পাব,এখন আর কিছুই ভালো লাগে না।সমস্ত পৃথিবীটা যেন অন্ধকারছন্ন হয়ে পড়েছে।
এখন সরিলেও আর আনন্দের বাতাস লাগে না।গ্রাম, শহর দুটোই এখন নির্জীব,নিরানন্দ লাগে।
করোনার ভয়ে এখন চার দিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।যে দিকেই যাচ্ছি শুধু নিবিড় অন্ধকার অনুভব করছি।
শৈলেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী
দা মশাই ও দা মশাই
দা ' মশাই ও দা ' মশাই , জেগে আছো ?
সত্যি করে বলো জেগে আছো তো ?
এই অনাথ অনাথাদের দিকে
তাকিয়ে দেখেছো কি? একটিবার শুধু
একটিবার তাকাও না, দ্যাখো না
ওরা বেঁচে আছে কিনা, বেঁচে থাকার মুরোদ
এখনও ওদের আছে কিনা।
আমাদের কি মা- বাবা আছে ?
না ছিল কোনো দিন ?
যদি থেকেই থাকে আমরা মানুষ নই কেন?
মানুষ হয়েও মানুষ না হলাম কেন?
অন্যায় করে আর তারও বেশি সয়ে
পাপের পাহাড় গড়ি।
আবার তারই আবডালে সুখের বসত করি।
ভুল, বেঁচে বর্তে থাকি।
দা' মশাই তুমি তো আমাদের গুরু ছিলে ।
হাতে ধরে শিখিয়েছো মানুষের মতো
মানুষ হতে। সৎ , স্বচ্ছ হবার শিক্ষা।
যে শিক্ষায় আধ-পেটা খেয়ে , কিছু না খেয়ে
অপরের পাশে দাঁড়ানো যায়।
মরতে মরতেও প্রতিবাদ ?
আলবৎ তাও করা যায়।
শুনছো দা' মশাই নিপীড়ন থেকে নিষ্কৃতি নয় ,
পলায়নপরতা নয় ,
তোমার শিক্ষায় শপথ নিয়ে বলতে চাই
যুদ্ধ দিয়ে যুদ্ধের ঘটাবো পরাজয় ।
একদিন জয় হবে নিশ্চয়।
বললেই হয় তাই বলতেই হয়।
সীমা সোম বিশ্বাস
বিধর্না মজুমদার
সম্রাট শীল
নীলকণ্ঠ সাহা
প্রিয়তম
দিন ফুরলো প্রহর শেষে -
প্রিয়তম!
অথচ- বলা হলনা কিছু আজও...
ভালোবাসি ভালোবাসি ভীষণ রকম
বলতে চেয়েছি তোমায় সেদিন।
অথচ- দেখ প্রিয়, সময় গুলো কেমন করে চলে গেল -
কেমন করে যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল!
কত ফাগুন বসন্তে পথ হেঁটেছি পাশাপাশি...
ডুয়ার্সের স্নিগ্ধ সবুজে তোমাকে দেখেছি -
বেলাশেষের ওই আলোয়।
তোমার অপলক চোখে হাজার স্বপ্নরেখা -
আর, নিষ্পাপ ঠোঁটের কোনে লাজুক হাসি ..
আমার মন গহীনে আজও ঝড় তোলে।
অথচ- সেদিন এত কাছে থেকেও বলতে পারিনি তোমায়!
সময় চক্রের ব্যবধানে, তুমি-আমি হাজার দূরে আজ ...
তবু- আজও তোমাকেই মনে পড়ে বারেবারে প্রিয়তম ..।
সুমন্ত রবিদাস
নিঃসঙ্গ পাখি
সবকিছু হারিয়ে নিসঃঙ্গ পাখি
মেলেছে ডানা পুনরায় আকাশে,
নতুন করে আবার নতুন উদ্যম নিয়ে
নতুন করে বাঁচার আশায় মেলেছে ডানা।
নতুন ভোরে নতুন দিনের আলোয়।
বুকে তার অসংখ্য বেদনা,
তবু থেমে নেই তার
ডানার রঙিন সঞ্চালনা।
নতুন করে বাঁচার আশায়
দিয়েছে পাড়ি নতুন দিগন্তে।
ধূসর দিনের ছায়া অতিক্রম করে
মেলেছে ডানা নতুন আকাশে।
নিঃসঙ্গ পাখি হারিয়েছে সঙ্গী।
তবু নেই থেমে বেদনা নিয়ে বুকে।
আবার নতুন করে বাঁচার আশায়,
উড়েছে আকাশে বুক ভরা আশায়।
কবে আসবে সেই দিন?
যেদিন ভরে উঠবে তার বুক ভরা আশা,
খুঁজে পাবে বুকভরা হৃদয়ের ভাষা,
রয়েছে চেয়ে নিঃসঙ্গ পাখি তার আশায়।
সানী ভট্টাচার্য
প্রেমের প্রকৃতি
টুপুর- টুপুর বৃষ্টি পড়ছে
হৃদয়ে প্রেমের বাতি জ্বলছে
কেউ একবার দেখে
যায়না আয়।
আজ সন্ধে - সকাল
প্রেমে আছে মিষ্টি মায়াজাল
কেউ একবার এসে
হারিয়ে যায়না আয়।
ভালবাসার ছায়ায় না জানি
তকে কেনো খুঁজি
কেউ একবার
ধরা দেয়না আয়।
আজ এই নীল আকাশ
হৃদয়ে আছে প্রেমেরই আভাস
কেউ একবার
হাত - ধর ঘুরে বেড়াই।
দিপেশ দাস
নিরাশায় আজ বাঁচি
একফালি তৃপ্তির টানে শতাধিক মাইল মরুর পথ
অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়েছি আমি ঠিক,
নোনা জলের ঢেউয়ে ভেসে পাড়ি দিয়েছিলাম
এক বক্ষ আশার সহিত বহুকাল পূর্বেই ,
বাসনা পূরণ করতে পারেনি আমার নেওয়া সেই
অবাঞ্ছিত পদক্ষেপগুলো, তাই আমি শীর্ণ কুটিরে ব্যাথাময় সুরে নিরাশায় আজ বাঁচি।
নিদ্রাহীন রাত কাঁদে , কাঁদে আঁধার মাখা ঐ অচিন প্রান্তর, আমার পাওয়া এক একটি কষ্টের সাক্ষী হয়ে কেঁদে চলে গহীন অরণ্য , সমবেদনা জানায় নিশাচর বহু প্রানী।
আজ আমি ব্যর্থ এক ক্ষীণতর জীব......
যার নেই কোনো আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, নেই কোনো সাধ-আহ্লাদ , নেই কোনো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ, আশা-ভরসা আজ লালিত্যহীন, তাই বক্ষ পাঁজরে শুধু ব্যাথার সঞ্চার ঘটে, জীর্ণ মনে নিরাশায় আজ বাঁচি।
সুতপা দে
ভালবাসা
তুমি আমার ভোরের ফুল
তুমি জীবন সাথি।
আমার চোখে হাজার তারা
তোমায় নিয়ে আমি জীবন -স্বপ্ন আঁকি।
তোমার হাসি সরলতার প্রতীক,
তুমি আলোকিত করে থেকো আমার জীবনের চারদিক।
তোমার ভাবনায় ফুলের সুগন্ধি ছড়ায় মনে,
তোমার ছবি আঁকা আছে হৃদয়ের এক কোনে।
তুমি যেখানেই থাকবে সাথি,
তোমায় পাই যেনো এই জীবন পথে।
ছন্দা দাম
চাবি
একদিন যখন সব যুদ্ধ শেষ হবে...
এসো, বুঝিয়ে দেবো কতো কি হারিয়েছ...
যখন ছিলে লিপ্ত...দ্বেষ,হিংসায়...
ফুটেছে ফুল, হেসেছে চাঁদ, ঝরেছে শ্রাবণ , তাকাওনি তুমি শুধু কাঠখড় পুড়ে জ্বেলছো আগুন।
একদিন যখন সব দ্বন্দ্ব শেষ হবে....
এসো, বুঝিয়ে দেবো,কত কি কমে গেল....
ছিলে যুক্তি তর্কের জাল বিস্তারে....
কতদিন,কতপল,কত অনুপল ব্যর্থ গেল,
অনুভবের গভীরের আদিগন্ত সবুজ গ্রাম,
শুধুমাত্র তোমারই অন্তর্দহনে পুড়ালো।।
একদিন যখন সব ঘৃণা ফুরাবে....
এসো, বুঝিয়ে দেব,ভালোবেসে কত কি পেতে...
ঘৃণার কাদায় ডুবে শুধুই করেছ কাদা ছোড়াছুড়ি,
ভালোবাসায় কি অপার শান্তি....
ঘৃণার মহলে হীরা জহরতে শুধু কষ্টের ছড়াছড়ি।।
একদিন যখন সব দরজা হবে বন্ধ...
আপনেদের মিছিল চলে যাবে দূর বহুদূর...
চাওয়া পাওয়ার ইস্তেহারে ভরে যাবে হৃদয় দেয়াল,
ফিরে দেখো.. এখনো কিছু সুতো আছে....
যারা বাঁধে স্বার্থহীন বন্ধন চিরটা কাল।।
একদিন যখন সব ধর্মে হারাবে বিশ্বাস....
এসো,দেখাবো ধর্ম লুকিয়ে থাকেনা কোন পুঁথিতেই,
মন মন্দিরে থাকে না কোন পাথুরে ঈশ্বর....
ঈশ্বর লুকিয়ে থাকেন শুধুমাত্র
নির্ভেজাল ভালোবাসাতেই।।
সুস্মিতা পাল
চন্দ্র সূর্যের মতো মা বাবা
চন্দ্রের দ্বারা যেমন রাতের গগন আলোরিত হয়
তেমনি রামধনুর রঙে রাঙানো এই পৃথিবীর,
ভোরের গগনও যেন আলোরিত হয়,
সূর্যের উঁকি দ্বারা।
তবেই যে ঠিক রয় পৃথিবীর গতি সঞ্চালন,
পরস্পরের এই মধুর মেলবন্ধনের দ্বারা।
তেমনি রামধনুর রঙে রাঙানো এই পৃথিবীতে,
মা বাবার একসাথে হাসি মুখখানি
আমার কাছে দেখতে যেনো লাগে,
চন্দ্র-সূর্যের মতো দুজন দুজনার প্রতিছায়া।
পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ কষ্টও যেনো বিলীন হয়ে যায়,
মা বাবার এক সাথের হাসি মুখ ও স্নেহের ছায়া তলায়।
স্বচক্ষে আমি ভগবানকে দেখিনি,
তবে হে, হৃদয়ে অনুভব করেছি অবশ্যই।
তৎসঙ্গে,ভগবান সরূপে রক্ত মাংসে গড়া বাবা মাকেও,
ভগবান রূপে পেয়েছি তাও কিন্তু বটে।
হয়তো কেউ থাকতে বুঝে ,কেউ বা হারিয়ে
এই পৃথিবীতে চন্দ্র সূর্যের আলোর মতো,
মা বাবার এক সাথের স্নেহ ছায়া তলায়,
থাকাটাও যে কতটা সৌভাগ্যের।
গৌতম ভৌমিক
সুদেবী চক্রবর্তী
যা মনে আসে
আমার বর আমায় বিরক্ত করে
ঘুম কেড়ে নেয় , শান্তিটাও।
কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর
" লেখো কবিতা লেখো "।
আমি কবিতার 'ক ' ও জানি না।
সেই ছেলেবেলায় স্কুলে বলেছি।
শুধু বলার জন্য বলা। ব্যস এইটুকুই।
জম্মেও লিখিনি , লিখতে পারি না যে।
ও বলে , মনে যা আসে লেখো
যেমন খুশি লেখো।
সারাদিনের কাজ সামলে টিভি দেখা ।
কবিতা লেখার সময় কোথা? আরে বাবা,
কবিতা লেখা কি অতো সোজা?
চাপ বেড়ে যায়। ভালো লাগে না।
লিখলে ও খুশি হয়। আমিও।
তাহের আহমেদ লস্কর
ঝরে যাওয়া পাতা
শুকিয়ে গেলে
ঝরে পড়ে পাতা,
স্বপ্নের মৃত্যু হলে
জন্মে কবিতা ।
যত আশা
তত কষ্ট,
দুরাশায়
সময় নষ্ট ।
কষ্টের সমুদ্রে ভাসে
জীবনের স্বাদ ,
দূর থেকে সুখ হাসে
গড়ে নিজ ফাঁদ ।
এ জীবন ভাঙাগড়া
হতাশাই সার ,
বাজার ভেঙ্গে গেলে
কে আছে কার ??
গঙ্গা সাহা
ইচ্ছে করে
যদি আমিও হতে পারতাম,
কারোর ভালোবাসার মানুষ।
তাহলে সেও হয়তো আমাকে নিয়ে,
রোজ হাজারো স্বপ্ন বুনতো।
রোজ আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতো।
আর কোনো নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
আমার হাতে হাত রাখতো।
আর কানে কানে বলতো,
এই হাতটা আর ছাড়ছিনা কখনও।
আর রাস্তায় ফুচকার দৌকান গুলোতে-
ভীড় করা যুগলদের মতো,
সেও হয়তো আমাকে নিয়ে ফুচকা খেতো।
আর একটু ঝাল লাগলেই,
আমায় আইসক্রিম কিনে দিতো।
অভিজিৎ দত্ত
মুখোশ
অসৎ, নীতিবর্জিত মানুষজন
আজও আছে সমাজে
আমাদের চারপাশে মুখোশ পরে
যখনই মুখোশ যায় সরে
আসল মুখগুলো বেরিয়ে পড়ে।
চারিদিকে শোষণ,বঞ্চনা,দূর্নীতি
প্রকৃত মানুষের খুবই অভাব
প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি।
গোড়াতেই গলদ আমাদের দেশে
শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি লেগেই আছে।
আমরা যদি হতাম আন্তরিক
শিশুদের প্রকৃত মানুষ করতে
পাঠ্যপুস্তকগুলি সব তৈরী করতাম
নীত আর আদর্শ দিয়ে।
মহাপুরুষ,স্বাধীনতাসংগ্রামী
কে না জন্মেছে আমাদের দেশে
এদের জীবনকথা কেন
জানবেনা আমাদের শিক্ষাথী'রা
দেশ যাদের সংগ্রামে উজ্জ্বল হয়েছে।
আমরা যদি স্বাধীন হয়ে
নিজের দেশকে ভালো না করি
তবে মিথ্যে এই স্বাধীনতা
এ নিয়ে ভাবতে
সকলকে অনুরোধ করি।
প্রিতম দাশ
অর্ধ নারীর আর্তনাদ
এ কেমন জীবন দিলে,
না মেয়ে না ছেলে।
সবাই মোরে ঘৃন্না করে,
অর্ধনারী হয়েছি বলে।
হে ঈশ্বর,,
তোমার সেই অর্ধনারী রূপকে,
জগত সংসারের সবাই পূজে।
তাহলে আমায় কেন অবহেলা?
আজও কি তোমার চলছে নীরবতা?
হে ঈশ্বর,,
আজ যে মোর নয়নে,
রক্তের অশ্রু ঝরে।
কখনো কখনো নরপিশাচের হাতে পড়ে,
অসহ্য যাতনা সহ্য করতে হয় মোরে।
হে ঈশ্বর,,
আজ আর কিছুই নাই চাওয়ার,
আমি বঞ্চিত, অবহেলিত হয়েছে সব হওয়ার।
দিন রাত আমার একটাই প্রার্থনা,
আমার মতো অর্ধনারীদের সমাজে যেন হয় স্বাধীনতা।
শঙ্খ অধিকারী
প্রিয় ফুলটি
ফুলেরও বয়স বাড়ছে অনিন্দিতা
সময় এসেছে গর্ভ ধারণের
তবু কদমের বনে বনে
বাজে তরুণ কৃষ্ণের বাঁশি
যমুনার জল করে ছল্ ছল্
রাধার নূপুরের দোলায় ।
ফুলের স্তনে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে গেলে
লজ্জাবতী পাতার মতন
যেন বুজে দিওনা নয়ন !
যেহেতু বয়স বেড়ে গেছে
তোমার মতন প্রিয় ফুলটির ।
সুপ্রতিম ভৌমিক
নারী, তুমি জাগো
নারী,
তুমি অনাদিকাল হতে
দেবী প্রতিমার প্রতীক,
মাতৃস্বরূপা, সৃষ্টি স্বরূপীনি,
জগত কল্যাণকারিনী ।
তবে দিকে দিকে আজ
কেন নারী,
লাঞ্ছিতা, অপমানিতা,
খর্ব হচ্ছে নারীর শালীনতা ?
অশালীন অরাজকতা,
অমর্যাদা আর
অত্যাচারের শিকার,
সমাজে উপেক্ষিতা,
ধর্ষিতা, কলঙ্কিতা ।
তা' কি কখনো
ভেবে দেখেছো, নারী ?
কেনই বা হবে তুমি
জগতে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের,
অবমাননার পাত্রী ?
আপন স্বত্তা, সততা
আর অনিন্দ্য সুন্দর চারিত্রিক
গুণসম্পন্না তুমি,
ত্রিভুবনে যুগে যুগে
দেবী স্বরূপা,
সুর-নর বন্দিতা,
মানব কর্তৃক পূজিতা ।
আপন স্বত্তায় নিজেকে
অব্যাহত রেখে,
নারী, এবার তুমি জাগো,
অন্তরাত্মাকে জাগিয়ে তোলো,
বিশ্ববীণায় অশুভনাশিনী আগমনী সুরে ;
রুখে দাঁড়াও অসত্য নাশিতে,
শত্রুদমনের তরে,
সর্বমঙ্গলরূপীনি সজ্জায়,
মঙ্গল প্রহরণ হস্তে ।
ইন্দিরা গাঙ্গুলি
শীত সকাল
শীত সকালের সূর্য দেব
আরামদায়ক হয়ে ওঠে
সকাল বেলা চান টি করে
বারান্দায় গিয়ে রোদ পোয়াতে বসি
খুব ভালো লাগে সূর্য দেবের পরশ
গরম কালে এই পরশ ই
অসহ্য হয়ে ওঠে
শীতকালে সকালে
রোদের পরশ গায়ে
মাখতে ভালো লাগে
শীত সকালে লেপ, কম্বল
ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না মোটেই
সোয়েটার, চাদর, টুপি, মোজা
পরে মনিং ওয়াক করতে ভালো লাগে
সূর্যের রোদ গায়ে মেখে
হাটি মাইল এর পর মাইল
কোনো কষ্ট হয় না পথে
শীতের সকাল মানেই
একটা শীতল হিমেল
হাওয়ায় পরশ
শীত সকাল মানেই
এক কাপ কফি হাতে
ঝুল বারান্দায় বসা
কোথা দিয়ে যে সময়
চলে যায় বুঝতে পারি না
শীত সকাল বেলা।
Dec 23, 2021
রূপশ্রী চক্রবর্তী
স্থির লক্ষ্য
থমকে দাঁড়ায় জীবন যখন
স্তব্ধ হয় গতি ,
আশার আলো জাগাও প্রাণে
কাজে দাও মতি l
জেতা হারা, ভাঙা গড়া
এ দুনিয়ার রীতিনীতি ,
অসীম সাহসে যাও এগিয়ে
গুড়িয়ে দিয়ে রাজনীতি l
চলার পথে শতেক বাঁধা
দিতে হবে পাড়ি ,
মনের বলে সুকৌশলে
ছুটে চল তাড়াতাড়ি l
ভয়কে আমরা করবো জয়
সত্যের পথে চলে ,
একসাথে পথ চলবো মোরা
লড়বো সদল বলে l
আসে আসুক ঝড় তুফান
সুনামি কিংবা মহাপ্রলয় ,
বিনা যুদ্ধে কভু মোরা
মানবো নাকো পরাজয় l
দুষ্ট মতি লঙ্কাধিপতি
করে সীতা হরণ ,
সুবর্ণ লঙ্কা পুড়ে ছাই
নিমিত্ত রাবণ l
শকুনী মামা কংস রাজ
লোভ লালসা প্রতিহিংসা ,
কুরু বংশ ধ্বংস করলো
সর্বনাশা ঐ পাশা l
ন্যায় নিষ্ঠ পঞ্চপাণ্ডব
সত্যবাদী যুধিষ্ঠির ,
স্বয়ং কৃষ্ণ সহায় যার
ন্যায় পথে লক্ষ্য স্থির l
কাজী নিনারা বেগম
অশোক মণ্ডল
অর্থ
শব্দেরা একজোট হয়ে ভালোবাসা করে তৈরি
ভালো বাসা না পেলে ভালোবাসা শুরু করে বৈরি।
অর্থের আলো ভালোবাসাকে করে আরো ভালো
অভাবের আলিঙ্গনে হাসিমুখ হয় যেন কালো।
বড় মানুষের তকমা পাওয়া যায় এর জোরে
হাজারো মানুষের সমাগম ভালো বাসার ঘরে।
ভালোবাসা ধরা দেবে আদরে আপ্যায়নে
থাকলে অর্থ নেবে খোঁজ খবর প্রতি জনে জনে।
কল্যাণ দাস
অবুঝ মন
পথের ধূলা যায় যে উড়ে ঐ সুদূরে;
তারা কি মিলবে আবার ফিরে এসে,
পথের ধূলায় বৃষ্টি শেষে?
তরুর ঐ লাল গোলাপি ফুলেরা সব,
শুষ্ক হয়ে যখনই হয় বৃন্ত হারা;
কাঁদে কি ফুলের মায়ায় বৃন্ত খানা,
তরুর সাথে কেউ জানে না।
যে পাখি বাঁধন হারা!
উড়তে ও তার নেই যে মানা;
বোঝেও কেউ বোঝেনা,
পাখনা ছাড়া কেমন করে মেলবে ডানা?
যে হাসি ক্লান্তি ঘুচায়,
আড়াল থেকে কান্নাকে যে দেয় পাহারা;
সে হাসি হীরার চেয়েও অধিক দামী,
বুঝতে না পায় মন বেচারা।
যে চোখে দিনে রাতে,
স্বপ্নেরা যায় ভির জমিয়ে আড্ডা দিতে;
তারা কি বুঝেছিল চোখের নেশা,
কোন স্বপনের কল্পনাতে?
যে হৃদয় ক্ষণে ক্ষণে প্রহর গুনে,
মিথ্যে প্রেমের বোনে স্বপন;
সে কি হায়! মন বিনিময় পর্বে
তখন বুঝেছিল এমন প্রেমে পড়া বারণ।
যে জীবন একবার পেয়ে হারায় মানুষ,
মিথ্যে মায়ার বিরাট ভ্রমে;
রয়ে যায় স্মৃতি ও তার নিষ্প্রাণ ঐ ছবিখানা,
একটি মালায় বন্দি ফ্রেমে।
আজও হায় যখনই চাই রং সাজাতে,
নতুন করে ছিন্ন মনের ক্যানভাসেতে;
বিবাগি মনটা আমার আজও শুধু তাকেই খোঁজে,
আঁধার রাতের ব্যালকনিতে।
সায়ন পাল
অসমাপ্ত ভালোবাসা
আমার স্বপ্নগুলোকে তুমি যে প্রাণ দিয়েছিলেন,
এখনো তো মরেও মরে নি,
ডায়েরীর প্রথম পাতাটা সাজলেও
শেষের পাতা টা তো সেজেও সাজেনি।
শেষের দিন টা এখনো তো হাতছানি দেয়,
সেই হালকা কুয়াশা সিক্ত ছাতা হাতে আমি।
তোমার থেকে তো শুধু এসেছিল গুডবাই!
ভালোবাসা অমর! তাতো জানি।
এখনো তো সন্ধ্যায় টিউশন সেরে বাড়ি আসি,
সব্বাই তো আছে! আছ কি তুমি পাশে?
স্বপ্ন দিয়ে সাজালে মন, স্বপ্ন দিয়েই ভাঙলো
বাঁশি গোলাপটা এখনো কলমের ঝুড়ি তে রয়েছে আশায়!
ভালো সেজে বাসায় বাসায় ভিক্ষা করে ভালোবাসা,
এত সুখ কেন এই ভালবাসায় !!!!
আব্দুল রহিম
বন্ধন
নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দেখছি, রক্তে-মাংসে গড়া শরীর পুড়ে ছাই হতে ,
দুঃখ নেই,
যা দুঃখ ছিল গুলে খেয়েছি জলের সাথে,
একটা ফাঁকা বারন্দা আছে আমার বুকের পাঁজরে
সেখানে আশ্রয় নিয়েছে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ
একটা ভালোবাসার ঘর বেঁধেছে তারা
আমি মৃত্যু কে ভয় পায়না
শুধু ভাবি তাদের কি হবে।।
অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
পুরুষ
পুরুষ তুমি বড়োই কঠোর পাথুরে তোমার মন।
পুরুষ তোমার কর্ম জীবনে সহিষ্ণুতার আলাপন।।
পুরুষ তুমি রাখতে গিয়ে ভালোবাসার মান।
বেয়ে চলেছ কষ্টের নদী স্রোতে প্রবাহমান।।
পুরুষ তোমায় বলছে যারা তুমি হৃদয়হীন।
তাদের বলো বিশ্ব জুড়ে রয়েছে তোমার ঋণ।।
অসাধ্যকে সাধন করা তোমার জীবন ব্রত।
কত ললনা পাগল তোমার প্রেমে অবিরত।।
গগন জুড়া স্নপ্ন তোমার সৃষ্টি রাশি রাশি ।
কত শত বীর হয়েছে মহান যুদ্ধের ভেলায় ভাসি।।
পুরুষ তোমার জীবন পথে কন্টক রাশি রাশি।
রুদ্র তান্ডব মুখে তোমার মধুমাধা হাসি ।
রঙ্গবতী ললনা সব রয়েছে তোমায় ঘিরে।
পৌরুষত্ব হারাওনি তুমি মোহ মায়ার ভীড়ে।।
জগৎজুড়ে শুনি তোমার জয় জয় গীত।
কঠোর সত্যের সম্মুখীন হয়ে হাসিল করেছ জিত।।
বিশ্বজীৎ রায়
কালবৈশাখী ঝড়
চৈত্র মাসের শেষ দিকে পশ্চিমের আকাশে,
দেখা গেলো একটি মেঘ লম্বা হয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পরেই যখন আবহাওয়া দপ্তর,
বলে দিলো আজ হবে কালবৈশাখী ঝড়।
সন্ধ্যাবেলায় কালবৈশাখী এমনভাবে এলো,
মুহূর্তেই কিছু গাছ গাছালি, মড়মড় করে ভেঙে গেলো।
চৈত্র মাসের শেষে আসে কালবৈশাখী ঝড়,
তার সাথে সাথে শুরু হলো মেঘের গড় গড়।
কি ঝড় বাতাস শুরু হলো, এই সন্ধ্যা বেলাতে,
ভেবেছিলাম যাবো আজ, চড়ক মেলাতে।
এ কেমন ঝড় এলো, এই চৈত্র মাসের শেষে,
সারা দুনিয়াটা গেলো যেনো, নদীর জলে ভেসে ।
দীপু রায়
শীত কাব্য
ঋতু চক্রের আবর্তনে আগমন ঘটে
শীত রানির,
সহচরী তার কুয়াশা আর হিমানী।
প্রকৃতি দেবীর মনটাও যেন হয় উদার,
নানা আনাজে ভরে ওঠে ক্ষেত খামার।
আনন্দে মাতোয়ারা নাগরিক জীবন,
করে আনন্দ উৎসবের আয়োজন।
পৌষ পার্বনের পিঠা হয় আরো মিঠা,
সাথে নলেন গুড়ের সন্দেশ, আহাঃ।
সবুজ প্রকৃতির কোলে চড়ুই ভাতি।
কিন্তু হায়! শীতের পরশ কারো কাছে আদর,
কিন্তু কারো কাছে যে তা শীতের ছোবল।
খোঁজ নিয়ে দেখ, একখন্ড শীত বস্ত্রের করুন আর্তি অভাবির ঘরে, ভবঘুরে পথচারির।
পারলে তুমিও তোমার আনন্দের ভাগ দিও তাকে।
জানোই তো, "দুঃখ ভাগ করলে কমে, আর সুখ ভাগ করলে বাড়ে।"
রুপালী রয়
সাজ বেলা
খোলা আকাশের নীচে
একরাশ চন্দ্রিমার আলোয় ,
মিশে গেছে আমার নিস্তব্ধ দুঃখগুলো ।
ক্লান্ত দুপুরে
মুখে দাগ কেটে যায়,
বহু যুগের অপেক্ষার
খর ধারা ।
ছন্নছাড়া কবিতার ছন্দ
দু-পশলা মেঘ, অনবরত
লুকোচুরি খেলা যায়
চোখের পাতায় ।
খানিক বিরতির পর
শেষ পাতা জুড়ে শুধুই শূন্যতা ।
রাত জেগে আগে
বালিশের গায়ে মুখ ঘেঁষে ,
আজ রজনীর পরে
জেগে উঠুক নতুন প্রভাত রবি ।
এক ঝাঁক দুরন্ত মেঘ ,
পক্ষীর মতো সুর করে
ছুঁটে ছুঁটে যায় আমার অন্তর
নিখিলের পাশ কেটে ।
আর নয় ,,,
জনশূন্য হিমবাহ পর্বত শিখর ।
বন্যার জলে ধোয়ে যাক
একরাশ মৃত্যুর আওয়াজ ।
বেঁচে থাকুক পৃথিবী ।
টানটান রোদ্দুরে , গা ভাসিয়ে দিয়ে
শুয়ে থাকুক শান্ত শিশু
মায়ের কোলে ।
স্বপন দেবনাথ
ভিন্ন জীব
দিন রাত ভর চলে ওরা
করে না কাউকে মাপ।
চোখের সামনে দেখলে বলি
কত বড় সাপ!
ঘাস, লতা - পাতা খায় ওরা
গায়ে ডোরা ডোরা।
দেখতে বেশ ভালোই লাগে
জেব্রা নামে জানি মোরা।।
কা - কা করে ডাকে ওরা
দেখতে লাগে বেশ।
বর্তমানে যায় না দেখা
হয়ে যাচ্ছে নিঃশেষ।।
মরুভূমির জাহাজ আমার
বলি থাকি যাকে।
কুঁজ বিশিষ্ট হলেও আমরা
উট বলি তাকে।।
Dec 22, 2021
ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে
মহান মৃত্যু এসে ধূসর রঙের শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বাসভঙ্গের অপমান লাঞ্ছনা। শরীরটা শূন্যে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে
স্বপ্নের জাল বুনে ছিল -----
একটা ছোট্ট সংসার সুখ-সমৃদ্ধির।
জাল বুনে ছিল নয় বুনতে শিখিয়েওছিল
বলেছিল - "উই আর মেড ফর ইচ আদার"।
আবেগে ,আবেশে নিঃশেষ করে
উজাড় করে দিয়েছিল -
ভেবেছিলো এই রাস্তার সবটাই মসৃণ
পথটুকু হেঁটে গেলেই
সেই স্বপ্নের নীড়
যেখানে কেবল পূর্ণিমার নরম আলো।
ক্রমশঃ মিথ্যে হয়ে যাওয়া
ভালোবাসার গ্যাস বেলুনটা
এত উপরে নিয়ে গেল
যেখান থেকে নামতেই পারলোনা" রেখা"
মৌমিতা ঘোষ (সেনগুপ্ত)
দণ্ডিত
ওরা আজ এসে বলে গেল অবশেষে
মৃত্যুদণ্ড পাবে তুমি আজকেই
যে অশ্রুভারে ফুলে উঠেছিল বুক
সহসা শুকালো-- কান্নাও বুঝি নেই!
নির্জন কারা---রাতের আকাশ চুপ
পূর্ণিমা চাঁদ চেয়ে আছে ম্রিয়মাণ
আর শয়তান যেন অলক্ষ্যে গায়--
আজই অনাথ হবে ওর সন্তান!
প্রীতম চক্রবর্তী
মর্যাদা
পথিক জানে সেই পথের মর্ম,
যে পথে সে হেঁটেছে রোজ।
নিবিড় ছায়ায় ক্লান্তি গেছে যার,
সেই রাখে বৃক্ষতলার খোঁজ।
শীতল বরফে বেঁচে আছে যে,
সূর্য তার কাছে দেবতা সমান।
উষ্ণ মরুতে জীবন কাটে যার,
সেই তো জানে বৃষ্টির সম্মান।
অনাথ শিশুটিই বুঝতে পারে,
মাতা-পিতা কী পরম ধন।
বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েও ছেলে,
বোঝেনা সে যে হয়েছে নির্ধন।
শিক্ষার মর্ম তখন বোঝা যায়,
যখন অপমান হয় অশিক্ষার দরুন।
চোর জেলে গিয়েই বুঝতে পারে,
মানুষ হলে অবস্থা হতোনা করুন।
গগনচুম্বী পাহাড় জানে না,
গভীর সমুদ্রে আছে বড়ো খাত।
অন্ধকারে ডুবে আছে যে,
সে বোঝেনা আলোর স্বাদ।
বৃক্ষহীন শহর জানে,
বৃক্ষের আছে কতোটা গুণ।
উত্তাল সমুদ্রে নাস্তিকেও,
ঈশ্বরের নাম করে গুনগুন।
মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম)
সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক
শপথচ্যুতি
আঁটোসাঁটো রোদ্দূর ছুঁয়ে শপথের বাণ
কতবার ছুঁড়েছি নিজস্ব প্রতিভাবলে,
বিষ্মিত নাভিমূলে হাত রেখে কতকাল
কতভাবে গেয়েছি ক্যারোল,
সবকিছু ছেড়ে নাতিদীর্ঘ ছায়াপথে
কাঁদো কাঁদো সুরে খুঁজি, খুঁজে চলি
আমার মহার্ঘ ঠিকানা।
ওলট-পালট মন্দ বাথানে পাই ঠাঁইটুকু
শেষকালে অনেক কষ্টেসৃষ্টে,
এখনো জানি না কিসে ছিল ভেজাল-রমরমা
অথবা কেন পারি নি পাখীর চোখ বিঁধতে?
শাহাদত হোসেন
Dec 21, 2021
অভিষেক অধিকারী
স্মৃতি পথের খেলা বনাম একটা নোটবুক
প্রেমের কিনারা ধরে হেঁটে যাওয়া স্মৃতিগুলো বড়ই অভিমান করেছে,
ওদের টুকড়ো টুকড়ো ভাষাটা আজও পড়তে পারে না
আমার ছেলেবেলার প্রথম প্রেম।
স্কুলের ক্লাশরুমের একপাশে ওর কাফকা পড়া চাউনি
দেখে আমার মনে হত প্রেমের ভাষাটা ও হয়তো জানে।
ও জানে সভ্যতার নিষ্পেশনে কিভাবে ঢাকা পড়ে গেছে
নরনারীর আদিম প্রেম। আজ সে যেন পরাজিত জগৎ,পরাজিত জগতের কোন ভাষা হয়না, ইতিহাস হয় না।
কিন্তু ও যেন সেই অপ্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস পড়তে পারে।
ওর চেষ্টা ছিল মহৎ কিন্তু গোড়ায় ছিল বস্তুবাদী মনযোগ,
আসলে প্রেমকে ও ভাষা দিয়ে ধরতে গেল,
স্মৃতিগুলো তাই নোটবুকে তালাবন্দী হয়েই পড়ে থাকল।
আজ বহু বছর পর,
আমি ওদের মুক্তি দিয়েছি, ওরা আবার হেঁটে চলেছে, নতুন কোন প্রেমের নীরব ইতিহাসের সন্ধানে।
শিবাশীষ মিত্র
আব্দুল গফফার
সৌরভ দেবনাথ
শুক্লা চক্রবর্তী
আমি তোদের প্রভু যীশু খ্রিস্ট.....
আমি যিশু খ্রিস্ট, আমি-ই যে তোদের ইষ্ট।
তবে কেনো করিস রে এতো হানাহানি,
হিন্দু মুসলিম খ্রিস্ট বৌদ্ধ তোরা যে সব আমার হাতেই সৃষ্ট।
জল ওয়াটার পানি সব-ই তো এক,
তবে কেনো করিস রে এতো ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি।
আজ আছিস কাল যে হবি অতীত,
তার কী তোদের আছে কিছু খবর
খালি ধর্ম ধর্ম করে করিস শুধু শুধু গর্ব।
সর্ব ধর্ম-ই যে আমি,
দেখার মতো দেখরে তোরা পাবি মোরে সবকিছু তে।
আমি মাতা আমি পিতা আমি-ই ভ্রাতা,
ডাকার মতো ডাকরে আমায়
কেটে যাবে তোদের সমস্ত বাধা।
পাপিয়া দাস
জীবন রথ
পাপিয়া দাস,মেলাঘর।ত্রিপুরা।
অগভীর নীল সাগর,
অশেষ নীলাকাশ,
মলিন নির্মল অদৃশ্য বাতাস,
আর গগনচুম্বী পাহাড়।
এর মাঝেই জগৎ বিরাট
চলছে চলমান গতিতে।
বিশ্ববাসী সবাই মিলে
চালিয়ে নিচ্ছে বিশ্বরথের চাকাকে।
সবাই মিলে টানছে রথ
আপন শক্তি দিয়ে।
কেউ রথ টানতে টানতে চলে যাচ্ছে ছেড়ে,
কেউবা আবার শূন্য জায়গার হাল এসে ধরে।
রথের বোঝা বইতে সবাই পারেনা'রে চিরকাল।
ছেড়ে যেতে হয় সবাইকে একদিন
এই মহামূল্য জীবনের হাল।
কেউবা টাকার জোরে,কেউবা বলে,
টানছে রে ভাই রথ।
জীবনের সব শ্রম দিয়ে
পরিষ্কার রাখছে রথপথ।
অঙ্কুর সাহা
বন্ধুত্ব
ঈশ্বর যাকে দিয়েছে বানিয়ে
আসল হীরের দর্পণ ছানিয়ে,
যার কাছে সকল ব্যথা হার মানায়
হৃদের পাখি যেথায় উড়তে চায়,
যার শব্দে টেনশন দূরে ভাগে
যে আপদে থাকে সবার আগে
মন ভোলনো কথা যার
সে আর কেউ নই বন্ধু আমার
সোনার খুশি ভরেছে ঝুলিতে
বন্ধুত্বের সে স্মৃতির বুলিতে
আদর আবদার সে দুষ্টু হাসি
শেষে সে খেলা রাশি রাশি
স্কুলের গল্প মুখের কথা সেই
যেখানের সম্পর্কে বাঁধ কোনো নেই
যা কৃষ্ণ সুদামার মতো কাহিনী
যা বন্ধুত্বের ভালোবাসার বাহিনী
সবার প্রিয় সে মানুষখানি
বন্ধু নয় ভাই বলে তাকে আমি চিনি।