প্রেয়সী কল্লোলিনী
যৌবনের সিঁড়ি চড়ে আমি অন্ধ তোমার প্রেমে
বিনিদ্র রজনী কত স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে নিয়ে,
কাছে যাব দুচোখ ভরে দেখব তোমার লাবণ্য,
তোমাকে ছুঁয়ে রাঙিয়ে নেব আমার পিয়াসী মন
বছরের পর বছর গুণে চলেছে প্রতি ক্ষণ অনুক্ষণ।
আহাম্মক মন জানেনা তোমার স্পর্শ পেতে
যে দক্ষতা প্রয়োজন তা আমার নেই,
তবুও সে করেছে পণ যে কোন মূল্যে
পৌঁছেবেই তোমার কাছে, তুমি মরিচিকা জেনেও
বেবশ মন অকারণ হন্যে তোমার জন্যে।
হবে নাই বা কেন, বিশ্বজাহান তো মুখিয়ে রয়েছে
তোমার প্রেদরিয়ায় একটিবার ডুব দেবে বলে,
সেই ডুবে তোমার গহিন দরিয়া থেকে হয়ত
কাঙ্খিত উজ্জ্বল মুকুতার পরিবর্তে
তুলে নেবে একমুঠো অমসৃণ কাঁকড়।
সমগ্র অবয়বজুড়ে তুমি বিছিয়ে রেখেছ
তোমার মোহময়ী ইন্দ্রজাল প্রতিক্ষণে,
সেই মায়াজালে দুনিয়ার কোটি প্রেমিক
ধরা দিলেও লাজরাঙা দ্রৌপদীর মত
তুমি মেলে ধর মদির আঁচল অফুরান।
তুমি রাজসুয়ো যজ্ঞ করে চলেছ প্রতিদিন
আমার মত বেয়াক্কেলে প্রেমিকদের নিয়ে
পরীক্ষা নিরীক্ষায় নিখুঁত বুদ্ধিমত্তায়,
যাতে তোমার মহিমা চুম্বনে বুঁদ হয়ে
মাতাল হয় মন্ত্রমুগ্ধ মৌপিয়াসির মতো ।
আজ তোমার লাবণ্য লতার জৌলুসে
নিয়েছে ঠাঁই অত্যাধুনিক মটর যানের ঢল,
প্রসস্থ মেট্রো-বাইপাশ গগনচুম্বী অট্টালিকা,
যাদুঘর চিড়িয়াখানা কৃত্রিম সৌরমন্ডল,
প্রমোদতরী যৌনালয় অগনন প্রেমালয়।
তোমার সর্বাঙ্গ জুরে আজ আলোর ফিনকি
একফলা দ্বিফলা ত্রিফলায় ছয়লাপ চারদিক
আলোয় আলোকার নানান মায়াবী রশ্মিতে,
রূপের ভিসুভিয়াস গ্রাস করে আজ তুমি
লন্ডন নগরীর মাহাত্ম্যও ছুঁই ছুঁই।
সৃষ্টির আদিকাল থেকে তিলে তিলে
তিলোত্তমা হয়ে আজ তুমি কল্লোলিনী
রঙ্গিনী সঙ্গিনী শঙ্কিনী কিনিকিনি সুরে,
তোমার অনুরাগের বেহাগ শুনে আমার
বামাক্ষ্যাপা মন বলে চিনি ওগো নন্দিনী।