May 30, 2023

তৈমুর খান

কবিতা
বৃক্ষমানুষ   

আমার প্রহরী ওরা, সভ্যতার প্রহরী 
রোজ কাঁদে, রোজ ডাকে 
বাঁচার আশ্বাস চায় আমারই কাছে 
প্রত্ন-তপোবন থেকে বাণপ্রস্থের পথে  
রোজ হেঁটে যাই আমি 
আদি-অন্তহীন এই সনাতনভূমি জুড়ে 
বৃক্ষের সংলাপ শুধু সবুজ সংকেতে 
শরীর বল্কল খুলে সঙ্গম প্রত্যাশী হয় 
এক একটি নবজন্মের পুষ্প হতে 
আমিই বৃক্ষ, আমিই বৃক্ষমানুষ সর্বংসহ 
আমাকেই স্পর্শ করো 
আমার আত্মার ধ্বনি বাজে অহরহ

চন্দন পাল

বিশেষ নিবন্ধ
প্রণাম পালনকর্তাঃ 

"পিতা সর্গ পিতা ধর্ম, প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা"
  "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী"

মা বাবা জন্ম দিয়েছেন।  সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী লালন-পালন করেছেন।  আত্মীয় স্বজন ভাইবোন জীবনস্বাদে আগলে রেখেছেন। ভুল শুদ্ধ দিশা দেখিয়েছেন। স্কুলে, শিখতে পাঠিয়েছেন। ফলাফল রূপায়ণ ব্যাক্তিগত সৌন্দর্য । 

  মা-বাবা ছাড়াও প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, আলো, বায়ূ(অক্সিজেন), জল, ফল, আচ্ছাদন মাগনা দান দিয়ে। 

   ফুল, ভেষজ, জঙ্গল, পাহাড়, নদী, আকাশ, তারা, জোছনা, শিশির, পাখি, জীব সমাজের নয়ানাভিরাম অবদানও কম নয়। তারাও আমাদের মাতা-পিতা ভাইবোন আত্মীয় স্বজন, দেবতা।

  এঁরা না থাকলে জীবনটা কেমন হত! এখানে  হয়ত বলা যেতে পারে, 'তোমার যা - আমারও তা'। তাই বলে নিসর্গ বা প্রকৃতিকে অপাঙ্তেয় করা যায় না ! চিন্তার দরকার নাই বলা যায় না !

   বলা যায় না বলেই, সুচিন্তক অবিভাবকরা অনুভব করেছেন একে রক্ষা করা প্রয়োজন। এই রক্ষার তাগিদেই যত নিয়ম-কানুন, আইন- আদালত, রীতি-নীতি, কৃষ্টি-সংস্কার, পূজা পার্বণ, পরিদর্শক ও সেবক।

   অতিরঞ্জিত সংস্কার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ পরোক্ষভাবে প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে, এর ফল আমাদেরই ভোগ করতে হবে । "প্রকৃতি তাড়াহুড়ো করে না সবকাজই সময়ে শেষ করে"।

   পরবর্তী সন্তান ও তার সন্তানকে সুখ সৌন্দ্যর্য দিতে, সুশীল প্রকৃতি ভোগ করতে অবিভাবক হিসাবে আমাদের কী কাজ, তা আমাদেরই হাতে,

মো: বিল্লাল হোসেন

কবিতা
সভ্যতা আজ অন্ধকারে

নিস্তব্ধতা আমাকে নিয়ে গেছে মরু প্রান্তে।
আমি ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো,
ডিঙ্গিয়ে যাচ্ছি বহু দূরে সমুদ্র সফেন এর দিকে।
আমি পৌঁছেছি একবিংশ শতাব্দীতে।
যেখানে যুবক দের পড়িয়েছে শিকল।
আর নারী দের বানিয়েছে বিলাসিতার পণ্য।
চারিদিকে আলোর একফোঁটা রশ্মি নেই।
বিশাল সূর্য টা ও যেনো আজ আলো দিতে ভুলে গেছে।
এই সুযোগে নরপিশাচ গুলি কুকুরের মতো,
 কামড়ে খাচ্ছে নারী শক্তি কে।
কোথাও নারী, নারী কে ধ্বংস করছে।
আবার কোথাও ভ্রূণ হত্যা চলছে।
তাদের কি দোষ বলো,
এই সৃষ্টি দেখার আগে শেষ করে দিচ্ছে 
প্রজন্মের হাতিয়ার গুলি কে।
নারী আজ তুমি লাঞ্ছিত  পুরুষ শাসিত সমাজে ।
সমাজ আজ বর্বরতায় বিষাক্ত।
কালো পর্দার আড়ালে ঢেকে গেছে এই সংস্কৃতি।
সভ্যতা আজ পড়ে আছে কোনো এক লেখকের,
বইয়ের পাতায়।
আবার কোথাও বা পরে আছে রাস্তার পাশে মূর্তির আকারে।
তুমি হুংকার দাও,
দাও গর্জন, জেগে উঠো নতুন করে নতুন সভ্যতার আলো নিয়ে ।

নবীনকিশোর রায়

কবিতা
দহন

ফসলের মুখ পুড়ে গ্রীষ্মের দহনে - মাঠে মাঠে
আগুন ঝরা রোদ, 
ফাটা মাটি তাকিয়ে থাকে 
শূন্য দৃষ্টি নিয়ে আকাশের দিকে... 

শরীর পুড়ে, বুক ভাসে ঘামে--
এই কৃষক জীবনে দুঃখ ঘুঁচে না।

বছরান্তে  গোলা ঘরে 
হাহাকার এসে ঘর বাঁধে
আজীবন পিছু ছাড়ে না!

কৃষ্ণকুসুম পাল

কবিতা
কুসভ্যতা

হে সূর্য,তোমাকে স্পর্শ করবো,
আর নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে যাবো।
            
পৃথিবীর বুক শুকিয়ে গেছে,
জলের জন্য মানুষ রক্ত পান করছে,
পৃথিবীর আকাশে বিষাক্ত বাতাস,
বোমশিল্পীরা বিশ্বযুদ্ধে মেতেছে,
সব বিলুপ্ত- মানুষ মানুষের মাংস খায়,
দায়িত্বহীন,কর্তব্যহীন কুসভ্য কুকুরেরা কামড়ায়,
মানুষের অস্রবৃষ্টির ভয়ে স্রষ্টা ভীত,
আল্লা,গড,ঈশ্বর সকলে কম্পিত।
                  
 হে সূর্য,তোমার উত্তাপে পৃথিবী পোড়াপিন্ড হলে,
বিলীন কুসভ্যতা,ধর্ম,অর্থ, কাম,মোক্ষ,-শূন্য ধরাতলে।
এখানে আর কখনো গজাবে না তৃণ,
আমরা ক্ষমার অযোগ্য, জঘন্য, ঘৃণ্য, ঘৃণ্য।
হে সূর্য,আমাকে আলিঙ্গন করো,
আমাকে ছাই করে প্রায়শ্চিত্তে ভরো।

আব্দুল গফফার

কবিতা
ঊনিশ-একুশের সহাবস্থান

পৃথিবীর যত ভাষা প্রিয় ভাষা বাংলা ভাষা,
সংগ্রামের ভাষা যখন বাংলা ভাষা, মাতৃভাষা-
ভাষা কখনো জাত মানেনি, মানেনি ধর্ম, স্থান।
আন্দোলনের মুখ যখন রফিক সালাম সুনীল সত্যেন্দ্র'রা।

সময়ের ইতিহাস সুদীর্ঘ, আজও বঞ্চনার শিকার মাতৃভাষা,
কেউ ভুলেছি, স্মৃতি রোমন্থিত হয় কত মানব মনে-
বাংলাদেশকে মনে রাখলেও চর্চার আড়ালে অসম,শিলচর।
ব্যবধান বাহান্ন আর একষট্টি ও ঊনিশ আর একুশের,

জ্বলজ্বল করছে, রক্তক্ষয়ী এই দুই লড়াই ভাষা সংগ্রাম,
মাতৃভাষার জীবন্ত আবেগ, প্রেম, সম্মান ও বলিদান-
সমাধির অন্তরালে চিরঘুমে সাহিত্য বরকত জব্বার ভাইয়েরা,
জীতেশ কমলার ছায়া প্রদক্ষিণরত আকাশে বাতাসে।

ভাষার লড়াইয়ে নিভে ছিল কত তাজা প্রাণ,
ফেব্রুয়ারির মতই উত্তাল হয়েছিল মে মাসের বরাক-
চিন্তা চেতনার মানদন্ডে ঊনিশ একুশের সহাবস্থান,
এগারো থেকে কতশত শহীদ এ এক কলঙ্কিত ইতিহাস।

রক্তে রাঙানো মাতৃভাষা পরিপূর্ণতা পেল না আজও,
স্তিমিত হয়নি লড়াই, চলছে বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতা,
নাগরিক পঞ্জির নবায়নের জন্য ক্ষুন্ন হচ্ছে মৈত্রিত্ব-
ঊনিশ একুশের পবিত্রতা রুখবই, বাঙালি জাতি সদা সজাগ।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ছোটগল্প
মাছ ও মানুষ

হেমন্তের আদ্রতা- যদিও মধ্যগগনে সূর্য তবুও তাপ ম্লান, কুয়াশা মেটানো আলো পাহাড় দেখায়, বর্ষার উজ্জ্বল সবুজ ম্লান হয়ে এল,আবছা ধূসরতায় আচ্ছন্ন তবু চিরহরিৎ বনের প্রাণ সবুজের তাগিদ ধূসর হতে দেয় না -হেমন্তে শুকিয়ে পাথর বুকে ক্ষীণাঙ্গী স্ফটিকসলিলা জাটিঙ্গা বয়ে চলেছে,তার উপরে সেতু পার হতে হতে উত্তরের দিকে দেখছি।দেখছি- পাথর কুড়োতে আসা আদিবাসী শ্রমিকেরা কোমড়ের গামছা, গায়ের শার্ট দিয়ে মাছ কুড়োতে ব্যস্ত, গেঞ্জির মুখে গিঁট বেঁধে খলুই করে এধার ওধার থেকে থেকে ছুটোছুটি করে মাছগুলোকে জমাচ্ছে। এমন তো রোজ হয়না,তারা আসে পাথর কুড়োয় - পাথর জমায় - একের পর এক - এক দুই তিন ট্রিপ ট্র্যাক্টর লোড করে। নদীর পাড়ে বসে শুটকি পুড়া বেগুন ভর্তা দিয়ে পুঁটলিবাঁধা ভাত খায় চোলাই খায়,ধুম শ্রম করে শ্রমের আনন্দে, ফুল সাউন্ড দিয়ে ধুপধুপ বেসওয়ালা ভোজপুরি গান লাগায় ট্রাক্টরের,এমন তো মাছ ধরে না। ইউটিউবে যেসব মাছ বৃষ্টির ফেক ভিডিও দেখা যায় তেমনি কোন মাছ বৃষ্টি হয়ে গেল না তো!


ঘরে গিয়ে গামছা কাঁধে স্নানের জন্য নদীতে নামলাম, শীতের দিন রোদ থাকতে থাকতে স্নান সেরে নিলে বাঁচি।ঘাটে নেমে দেখি পাশের গ্রামের আদিবাসী শিশু-মহিলারা সদলবলে পা-পাতাজল জাটিঙ্গাকে দলে দিচ্ছে,জাটিঙ্গার বুকের হীরক-মানিক অসহায় হয়ে ভেসে রয়েছে, ছোট ছোট পুঁটি পোনা - পোনা পেরি - পাথরছাটি জীবনযুদ্ধে হেরে কাতর হয়ে পড়েছে, মহিলারা শিশুরা টপটপ করে তুলে নিচ্ছে সে রসনারত্নগুলো। কিছু আছে অজেয়বীর যারা হার মানতে চায় না, নদীতে দাঁড়িয়ে দেখছি পায়ের আশেপাশে দলে দলে কণা কণা পাথরছাটি হট্টগোল করছে, কোথায় গিয়ে বুঝি বেঁচে যায় এই নারকীয় মৃত্যু জ্বালা থেকে।এরা সবই পাথরের নিচের আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, নতুবা এখন তো এদের দেখা মেলে কদা কৎ্চিতে, নদীতে দাঁড়িয়ে সাবান মাখাতে মাখাতে যখন পা চাটে তখন সেই কালো কালো নদর নদর কণা কণা পাথরছাটি নজর কাড়ে। কিন্তু এই সহ্যকারী বীরেরা অজেয় কিভাবে থাকে বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের কাছ থেকে? এই যে কালো কালো কিশোরীগুলো নাকফুলে ঝিকিমিকি মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে কোমড়ের গামছা দিয়ে সেই কালো পাথরছাটিদের খলুইভর্তি করছে।এই তিড়িংবিড়িং করে বাঁচতে চাওয়া মাছগুলো ধরে কি সেই আনন্দ আছে,যে আনন্দ ছিল যখন শিশুকালে আমরা বন্ধুদল মিলে গামছা দিয়ে দৌড়ে পালানো দৌড়বাজদের দৌড়ে হারিয়ে খলুই ভর্তি করতাম। বাল্যকালে নদীতে মাছের প্রাচুর্য দেখেছি, ফাঁসজাল দিয়ে বিঘে মাপের পেরি ধরেছি,হাত লম্বা বাইং ধরেছি এখন সব চুনোপুটি মাপের। হেমন্তের বিকেলে নদীকে বাঁধ দিয়ে বেঁধে নদীতে চুন দিয়ে গাঁয়ের যুবকেরা দলেবলে নেমে মাছগুলোকে তুলে নিত বালতি বালতি ভরে।চুনের জ্বালা থেকে মুক্তি পেত না কোন বড়ো শিশু মাছ, যতটুকু চুনজল প্রভাবিত করত ততটুকু প্রাণহীন করে দিত, এভাবেই জাটিঙ্গায় চঞ্চলমানিক কমে গেল। পায়ের কাছে ভেসে থাকা দুটো পুঁটি একটা পোনা পেরি তুলে রাখলাম পাশের পাথরে,দেখছি আদিবাসীদের অকালে দুপুরে মাছ কুঁড়ানো। জাটিঙ্গার মাছের স্বাদটাই মনোলোভা, জিহ্বায় স্বাদ লেগে থাকে।অল্প মাছ যদি কেউ নিয়ে বাজারে উঠে তবে একপোয়া মাছের দামে এক কেজি রুই কেনা যাবে,এত চড়া দাম ধরে।কিশোরকালে প্রায় জাটিঙ্গার মাছ খেতাম, খাওয়ায় পর জিহ্বায় স্বাদ আর হাতে তেল লেগে থাকতো।


পাঁ-পাতা শাদা জলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি, স্নান আর হবে কই!একটি ঘনকালো নবীনকিশোরী মাছরাঙার মতো তিড়িং বিড়িং করে দৌড়াচ্ছিল মাছ লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে ধরছিল। এভাবেই সে আমার সামনে এসে লক্ষ্য করে করে ছোট ছোট পুঁটি পাথরছাটি খুঁজছিল।কিছু সামনে আসতে তাকে বললাম "এই মুন্নি এই পেরিটো লে লেও", পুঁটি থেকে একটু বড় পেরি দেখে সে লুফে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ধন্যবাদসূচক হাসি দিয়ে আবার মাছ কুড়োতে মন দিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম "কোন চুনা দিয়ারে মুন্নি?" সে "মালুম নহী" বলে মাছ কুড়োতে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে আমার সামনে দিয়েই একপাল আদিবাসী মহিলা যুবতী মাছ ধরতে ধরতে আসলো, তাদেরকেও জিজ্ঞেস করে "নহী মালুম","মাচ্ছি মিলতা তো পকড়নে আয়া" শুনলাম। প্রতিবছর বনবিভাগ নিষেধ নির্দেশ প্রচার করে তবু কেন যে নদীতে চুন দেয়।অনেকক্ষণ ধরে দেখেছি তারপর বিনাস্নানেই ঘরে ফিরছি। ঘরে ফিরতে বুঝছি পায়ের পাতায় জ্বালা করছে। চুন জলে ভিজলে এমন করে জানি তবে আজ কিছু বেশিই করছে। ছোট থাকতে একবার স্নান করার পর খুব গা জ্বালা চোখ জ্বালা করেছিল তারপর মা ঘরে স্নান করিয়েছিলেন বাবা চোখের ড্রপ এনে দিয়েছিলেন, সেদিন হয়তো নদীর উপরভাগে এমনি চুন দিয়ে মাছ ধরেছিল।ঘরে গিয়ে ভালো জল দিয়ে পা ধুলাম।অল্প জল দিয়ে গা ধুলাম।


গ্রামের দক্ষিণে খেলার মাঠ। খাওয়া দাওয়া সেরে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে ফুটবল ম্যাচ দেখতে গেলাম। হাফেনআওয়ারে কিছু ঠান্ডা পানীয় কিনতে মাঠের বাইরে গিয়েছিলাম তখন দেখি দক্ষিনের আদিবাসী গাঁয়ের দুতিনটি জোয়ান ছেলে দুএকজন মহিলা একটি ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছে সম্ভবত হসপিটালের দিকে। দেখে খারাপ লাগলো। খেলা দেখতে গেলাম। আধো কালো আধো আলো বেলা,খেলা শেষ হলে যখন বেরিয়ে এলাম তখন রাস্তায় দর্শকের ভিড় চিড়ে দক্ষিনের দিক থেকে পাগলের মত অটো একটা তেড়ে আসছে আর কি হর্ন, ভিড় থেকে আওয়াজ এলো "বিমারী কা গাড়ি, রাস্তা ছোড়"। তারপর দেখি আরো একদল লোক একটা বালককে নিয়ে তেড়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে। কিছু রাস্তা এগোতে এগোতে দক্ষিণের দিক থেকে কয়েকটি বিমারী কা গাড়ি আর হাসপাতালগামী রোগী দেখে একটা হৈ হট্টগোল পড়ে গেল। খেলা দেখা ভিড় ঢুকলো হাসপাতালের অঙ্গনে। বুড়ো বাচ্চা শিশু বিশ পঁচিশজন রোগীতে বেড ভর্তি, রোগীর পরিজনে হাসপাতাল গিজগিজ। ডাক্তার নার্সেরা ব্যস্ত পরিচর্যায়। বেশিরভাগের শরীর জ্বালা চোখ জ্বালা করছে, কেউ কেউ খুব বমি করছে। এরইমধ্যে ভিড়ে রটে গেল স্নানের পর সবাই এমন করছে,কেউ নদীর জল খাওয়ার পর বমি করছে, নদীতে কেউ বিষ ঢেলেছে ইত্যাদি। যাদের অতিরিক্ত হয়ে গেছে তাদের সদর হাসপাতালে রেফার করছে, তাদের পরিবার এম্বুলেন্স গাড়ি খুঁজছে।পাথরছাটি যেমন ছটপট করে বাঁচতে চেয়েছিলে রোগীদের পরিজনেরা তেমনি রোগীদের সুস্থ করার জন্য ছটপট করছে। ইতিমধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ছুটে এসেছে, আঞ্চলিক প্রশাসনের টনক নড়েছে, ছুটে এসেছে থানা ও ব্লকের অফিসার,সদর থেকে আসছে চিকিৎসকদল।কারা যে অতিরিক্ত লোভ করলো, নদীর বাসিন্দা মাছ ও নদীপাড়ের বাসিন্দা মানুষকে বিপদী করলো। রোগী নিয়ে আসা আমার পরিচিত একটা উত্তরের আদিবাসী ছেলে গ্রামে ফোন করে বলছে,"সবাই মাছ ফেলে দাও, কিছু বিষ খেয়ে মাছ মরেছে, এগুলো খেলে অসুখ হবে, দক্ষিণের গ্রামগুলোতে হাহাকার পড়ে গেছে।"

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কবিতা
সমাপন

পড়ন্ত বিকেল,অস্তরাগের ক্ষণ
হাঁটছিলাম চেনা শহরের এক অচেনা মেঠোপথে
গা ঘেঁষে বয়ে গেছে জীবনদায়িনী মুহুরী।

যার সোহাগ দুঃখী জীবনে হাসির রসদ, পোড়া বুকে মুঠোভরা শান্তি। ভালোবাসায় সোনালী রঙে ভরতো মাঠ,চোখে জাগতো স্বপ্ন,কৃষক মনে  আনন্দ বান
সেই পথেই শুনতে পেলুম এক অস্ফুট কান্নার স্বণ
তীব্র হাহাকার, দেখতে পেলুম লালিত স্বপ্নের মৃত‍্যু।

আমি নির্বাক,একাকিনী খোঁজে ফিরি 
পোড়া দেশের বুক জোড়ে ঐ একই স্বণ,
যতই এগিয়ে চলি আরো গভীর হয়,একবার
থমকে দাঁড়াই আনমনে, এবার শুনতে পেলুম
বাঁচানোর প্রবল আকুতি।চঞ্চল মনে সহস্র প্রশ্ন
এই আকুতি তবে কার?

এমনি সময়  শীর্ণ কায়ায় সমুখে দাঁড়ালো একটি ছায়া
ম্লান মুখে তার গম্ভীর জিজ্ঞাসা,
তবে তুমি কি শুনছো আমার কান্না? বেঁচে থাকার আর্জি নিয়ে দাঁড়ালাম সমুখে, ,সহ‍্যের সীমানা ছাড়িয়ে আমি বেদিশার দিশা।

দিনে দিনে ছিনিয়ে নিচ্ছ সবুজায়ন,বাড়ছে উষ্ণায়ন,
জলের হাহাকার, নদী হারাচ্ছে প্লবতা বাড়ছে দুর্ভোগ
প্রকৃতির বুকে দগদগে ক্ষত,গভীর হতে হতে আজ
সংক্রমিত,তাইতো আর্তনাদ,তোমাদের হাতেই আমার
সত্তা,বর্তমানতা।  আমি পৃথিবী করছি অনুনয় 
আমার কান্নার করো সমাপন।

শর্মি দে

কবিতা
নিসর্গ নিঃস্বতার মূককথা

নিঃশব্দ অভিমানের ভার একটু বেশিই হয়ে গেছে
সে কিন্তু পুরোটাই ভরে দিয়েছিলো 
সবুজের স্তব্ধতায়!
নীলাভ আকাশ হরিতাভ পাহাড়
তার মাঝে ছোট্ট বসতি আমার
কী সুখের নীড়! কী সমৃদ্ধির ভিড়!
ধীরে ধীরে নিসর্গ দগ্ধ পথিক অহঙ্কারের মিছিলে
যাচ্ছে হারিয়ে!
আর আমরা, আদিমতা ছেড়ে সভ্যতার দোহাই দিয়ে 
নিরাভরণের পাঠ শিখছি!
এক এক করে আমরা তার সমস্ত অলঙ্কার খুলে
নগ্ন করেছি তার আলিঙ্গন 
আবার সেই নস্টালজিক আমরাই বিশ্বক্ষিধের আগুন জ্যোৎস্নায় তাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছি!
যে নদী মরে গেছে, যে ঘুঘুর ঘর গেছে ভেঙে 
তার মুখে গান শুনবে কী করে!
শুনবে শুধু "ওয়ে" নদীতে বয়ে চলা কান্নার ধ্বনি 
শুনবে সভ্যতার আকাশে বাতাসে ধ্বনিত কবির আকুতি
""দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,..""

May 29, 2023

সুচরিতা পাটারী

কবিতা
বিরাম

নিশ্চিন্তে উপরে দিলাম
মূল-শেকড়ের মতো।
আঁকড়ে যখন ধরলো না সে
আমার দারুণ ক্ষত।।
যাক তবে সে যেথায় যাবে
যেদিক পানে শান্তি পাবে।
আমি আছি আমার পথে 
চুকিয়ে সকল ঋণ।
সে যদি হয় পশ্চিমগামী
 আমি তবে দক্ষিণ।।

সুজন দেবনাথ

কবিতা
পথিবীও আজ লাঞ্ছিত

হে আমার পৃথিবী--
তুমি তো দিয়েছো সর্বস্ব…………বুক চিরে,
উজাড় করে নিজেকে সঁপলে সভ্যতার হাতে।
আমরাই সেই মহান সভ্যতার শ্রেষ্ঠ জীব
পিশাচের মতো সৃষ্টি কে দুহাতে মুখে পুরছি!
ক্ষয়ের তান্ডব চালাচ্ছি তোমার সঞ্চিত গর্ভে 
আমরা যতো পাই ততোই চাই,তৃপ্তি কোথায়?
তোমার এই চির সবুজের সমারোহ আজ
রুক্ষ শুষ্ক জীর্ণশীর্ণ,ক্রমে মরুদ্যানে উন্নিত!
স্বার্থান্বেষনে আমরাই তো ধ্বংস করছি 
তোমারই যত্নে গড়া সুন্দর সাজানো উদ্যান।
দ্রুতহারে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণতা
নষ্ট হচ্ছে ঋতু বৈচিত্র্য,কি নিদারুণ অসময়;
ধীরে ধীরে বৃষ্টি হীনতায় ভূপৃষ্ঠে আসছে খড়া,
বৃক্ষছেদনে ভূগর্ভস্থ জলস্তর যাচ্ছে তলিয়ে!
বুঝি, সভ্যতার হাতে পৃথিবীও আজ লাঞ্ছিত?
ভুলে গেছি,অবহেলা নিজেরই ধ্বংসের কারণ,
জাগো সভ্যতা,চোখ খুলে দেখো সুন্দর। 
যার উপর দাঁড়িয়ে আছি তারে শক্ত রাখা চাই 
সুস্থ রাখতে পৃথিবী সবুজের বিকল্প নাই।
হে সভ্যতা,এই পৃথিবীর প্রাণ সবুজ উদ্যান
তাইতো লাগাতেই হবে গাছ বাঁচাতে এই প্রাণ।

চন্দ্রা বিশ্বাস

কবিতা
বাঁচতে চাই 
      
নিত্যিকার দিনরাত গঙ্গাজলে ধুয়ে 
আবর্তিত অতীতের পুণ্যপাপ ছুঁয়ে 
জীবন মৌন আজ আত্মনিরীক্ষায়। 
উন্মুক্ত জীবনখাতা হাট করে খোলা 
চিত্রগুপ্তের দপ্তরে রেখে তদন্তের দাবি ।
ধন  নয়, রাজ্য নয়, নয় জুড়িগাড়ি, নয় পরমান্ন, 
শুধু দুই মুঠো অন্ন, অন্ন আর জল 
হোক সম্বল আর বিষহীন বায়ু ,
বাঁচাতে জীবনখাতে মাপা পরমায়ু। 
বেশি হল চাওয়া? তুচ্ছ নয়,অতি তুচ্ছ নয়,এই দাবিদাওয়া? 
দাও উত্তর ঈশ্বর,দাও দিতে যে হবেই,
জীবন শায়িত দেখ কফিনে নীরবে। 
উন্মোচিত ওষ্ঠ তার খোঁজে সিঞ্চন ,
জল দাও জল,জলই যে জীবন। 
এক ফোঁটা জল আর একমুঠো বায়ু ,
জীবন পাবেই ফিরে হারানো পরমায়ু। 
প্রকৃতি উঠবে জেগে সবুজ বিপ্লবে ,
ভালবাসা আঁকা হবে জীবন উৎসবে। 

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

কবিতা
উনিশের পতাকা

উনিশ এখন সর্বজনীন উঠোনে
ছক কেটে খেলে এক্কা দোক্কা 
খেলা সাঙ্গ হলে হাইবারনেসন কাটিয়ে 
নেকটাই পরে দেয় ছুট সোজা।
ভোকাট্টা হয়েছে রঙিন ঘুড়ি দূর দিগন্তে
খালি পায়ে দৌড়ে যায় উনিশ,
বাতানুকুল রুমে ডানা মেলে আকাশে
আধুনিক উনিশের দীর্ঘশ্বাস।
ফুল ফেষ্টুন হাতে পদযাত্রায় চলে
উনিশ আদর্শে বিশ্বাসীরা।
আমি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি
উনিশের পতাকা।
আশায় বুক বেঁধেছি,  
ওরাই উড়াবে মাতৃভাষার ধ্বজা ।।

নিলীমা বেগম

কবিতা
দহন

আমার একটা প্রেম হতেই পারতো_
কত ভেবেছি, তোমায় নিয়ে কৃষ্ণচূড়ার তলায় বসব, 
তুমি, একটা ফুলের ডাল ভাঙার জন্য লাফাবে, 
আমি খিল খিল করে হাসবো_

কিছু বনধ্বংসীদের জন্য হলো না।

আজীবন বুকে লালন করা রক্ত পলাশ, দাবানল জ্বালালো। 

বাইরে ঝড়ের তান্ডব, অন্তর চির সবুজ।

সোনালী মণ্ডল

প্রবন্ধ
পরিবেশ ও আগামী প্রজন্ম

আজ থেকে 30 বছর আগেও আমাদের প্রতিটি মানুষ এর মধ্যে একটা সম্প্রীতি রক্ষা র মনোভাব প্রকাশ পেতো সেটা এখন খুঁজে পাওয়া ভীষণ দুর্লভ।মানুষ মানুষকেই শোষণ করে চলেছে প্রতিনিয়ত, শোষণের  ধরনটা আলাদা আলাদা,কেউ শোষণ করে  শারীরিক দিক থেকে আবার কেউ শোষণ  করে মানুষিক দিক থেকে,এই শোষণ  করাটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে জঙ্গলের পশুর উদাহরণ আসবে প্রথমেই,পশুও অনেক সময় অন্য  পশুকে নিস্তার দেয় কিন্তু মানুষ পশুর থেকেও অধম অথচ পৃথিবীর সব থেকে উন্নত জীব এই মানুষই।জীববৈচিত্রের সৃষ্টির কাল থেকে মানুষ এই পর্যন্ত তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তার বিকাশ করে চলেছে, পার করেছে  হাজার হাজার বছর, ধিরে ধিরে  সৃষ্টি করেছে আধুনিক সভ্যতা।সভ্যতার ইতিহাস কে দিয়েছে অতি আধুনিকতার উপহার,এমন ভাবনার ফসল মানুষের আত্মঅহঙ্কার।আর এই অহঙ্কার  বোধ থেকে লালসা লোভ।মানুষ নিজের লোভ লালসার শিকার হিসাবে এই প্রকৃতির সম্পদকেও ছাড়েনি।প্রতি নিয়ত চলছে পরিবেশের ধংস লীলা,এর ফলে একটি শিশু হারাচ্ছে খেলার মাঠ  কৃষক হারাচ্ছে সোনার ফসল উৎপাদনের খেত জলের প্রাণীরা হারাচ্ছে জলাশয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং র অধিক তাপ প্রবাহে গলছে হিম আরো এমন অনেক উদাহরণ আছে।মানুষ নিজেকে এতটাই শক্তিশালী মনে করে যে তারা ভুলে যায় তাদের থেকেও বড় শক্তিশালী হয় প্রকৃতি,সেই প্রমাণ দিতেই চোখে আঙুল দিয়ে প্রকৃতি বুঝিয়ে দিল করোনা ভাইরাস নামক একটি মারণ রোগ, এরকম পূর্বেও বেশ কিছু মারণ ব্যাধি এসেছে পৃথিবীতে তবুও মানুষ তার ক্রিয়া কলাপে কোনো পরিবর্তন আনেনি।এখনও চলছে প্রকৃতির ধংস লীলা।একটু গ্রাম ছাড়িয়ে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় শুধু ইমারত নির্মাণ,কোথাও অরণ্যের দর্শন তাও ছিটেফোঁটা যেদিকে চোখ যাবে শুধু ইমারত আর ইমারত।আমরা স্কুল জীবনে সকলেই জেনে থাকি নিউটনের তৃতীয় সূত্র,প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে,ঠিক তেমনি যদি  তুমি প্রকৃতির সম্পদ সবুজ কে ধংস করো তাহলে প্রকৃতিও তার প্রতিশোধ নিতে তার দৃষ্টান্ত রাখবে,এই মারণ রোগ গুলি তারই ইঙ্গিত দেয়।গ্রাম গুলি আছে বলেই এখনও পরিবেশ কিছুটা হলেও রক্ষা পায় আর না হলে আরো কত কী দেখার ছিলো সেটা অনুমান করা যায়।প্রকৃতি কে ধংস করে আবার প্রকৃতি কেই বছরের একটি বিশেষ দিনে ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করা এটা একটা উপহাস সমতুল্য।আমরা উন্নত হচ্ছি ভাষায় ব্যবহারে আচরণে কিন্তু মনুষত্বের বিচারে শূন্য।আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে তাই আমাদের মনুষত্বের বিবেক কে জাগ্রত করতে হবে,শুধু বছরের একটি বিশেষ দিনে বৃক্ষরোপণ নয় অন্য সকল দিন গুলিতেও সমান ভাবে পরিবেশ বন্ধুর কর্তব্য পালন করতে হবে,তাহলেই সম্ভব এই পৃথিবীর ভারসাম্য জীববৈচিত্রের।বিশ্ব পরিবেশ দিবস হোক প্রতিটি প্রাণের প্রকৃতি প্রেমীর নামে,এমন ভাবনায় বদলাতে পারে আগামীর অশনি সংকেত কে।

আমিনুল ইসলাম

কবিতা
অকৃতজ্ঞ

আজকাল চারিদিকে লেলিহান শিখা
আর আগুনের মত তপ্ত রোদ,
এ যেন এক প্রকার শাস্তি।
পকৃত বন্ধু কে যেন চিনতে পারছি না
গ্রাম থেকে শহর তৈরি করি গাছ কেটে,
রোদ যেন সন্ত্রাসীর আকারে আঁকড়ে আছে
আমাদের জন জীবনে।
গাছের সাথে শত্রুতা করে নিজের পায়ে দিচ্ছি কুড়াল।
পাকৃতির সাজে সাজতে চাই,সবুজ বনানী দেখতে চাই
কিন্তু গাছ লাগাতে চাই না।
ঠান্ডা হওয়া চাই, মিষ্টি রোদ চাই কিন্তু গাছ লাগানো হচ্ছে না।
আবার নতুন করে পৃথিবী সাজাতে চাই
কিন্তু গাছ লাগানোর কথা ভুলে যাই।

রীতা চক্রবর্তী ( লিপি )

কবিতা
বাতাসের গান

সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল
মেঘমল্লারে ছিল বাতাসের গান,
শঙ্খচিল ডানা ঝাপটে খুঁজে ছিল
আকাশের নীল,
মেঘের ফাঁকে উঁকি দিয়ে যাওয়া
রোদেলা দুপুর ছিল মৃয়মাণ হয়ে।
আরো ছিল আসন্ন কালবৈশাখীর
ঘনঘোর ঘনঘটা আকাশের শরীর জুড়ে।
হঠাৎ মেঘের আড়ালে সেই প্রিয় মুখ—
আমি তার অপেক্ষায় ছিলাম
জানি তাঁর হাত ধরে জোৎস্না দেখা
কোনদিনই হবে না আমার
ইচ্ছেটা শুধু ইচ্ছেই থেকে যাবে
তবু সে ভালো থাকুক তাঁর নতুন ঠিকানায়,
নতুন করে বেঁচে উঠুক তাঁর অপ্রাপ্তির সুখ স্বপ্নগুলো
শুধু আফশোস থেকে গেল 
যখনি প্রত্যাশা থাকে এবার হয়েছে সময়
পিছু ফিরে চেয়ে দেখি,কোন ক্ষণে সন্তর্পণে
গেছে সে চলে।।

ভবানী বিশ্বাস

কবিতা
রাইখ্যা দিও

আমারে তুমি রাইখ্যা দিও, 
যেমন কইরা নদীর জল বইয়া গেলেও
রাইখ্যা যায় তার চিহ্ন! 

গাছ মরনের আগেও
ফুটাইয়া দেয় ফুল, 
থাইক্যা যায় বীজ। 

বীজ থেইক্যা আবার হইব জন্ম... 

মাঝে মাঝে মনে হয়, 
তুমি রাখলে থাইক্যা যাইতে পারুম। 

তুমি বাঁচাইলেই পামু প্রাণ... 
তুমি রাখলে মৃত্যুর কী সাহস 
যে ছিন্ন করব মন!

ছন্দা দাম

কবিতা
শিশুর আক্ষেপ

পৃথিবীটা তো গ্রাস করলে
আকাশটাও খাও,
মেঘ বালিকা বন্ধু আমার
গিলে খেয়ে শান্তি পাও!!

পাখিগুলো বড্ড প্রিয়
আমায় কবিতা শোনাতো,
গাছগুলোকে কেটে নিয়ে
বন্ধ করেছো সেই পথও।

কথা বলতাম একা ঘরে
প্রজাপতির সাথে তখন,
মনেই হয়নি বন্ধু নেই
ফড়িং ও হারিয়েছে কখন!

এখন কানামাছি খেলবো
গাছেদের ও নেই আড়,
বড্ড শ্বাস নিতে কষ্ট
ধোঁয়া ধূলোয় জেরবার। 

দড়ির দোলনায় দুলবো
শুয়ে শুয়ে দেখবো আকাশ,
গাছগুলো কেটে ছারখার
সেই স্বপ্ন ও হারালো এবার।।

আচ্ছা বড়ো মানুষেরা
তোমাদের কেন এত লোভ,
অসহ্য গরম...কাঠফাঁটা রোদ্দুর
তোমাদের দোষেই তো এই প্রকোপ।

সুমিতা চৌধুরী

কবিতা
চলো সবুজ শহর গড়ি
      
আমরা যখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে বন্দী,
ঠিক তখনই প্রকৃতি মেলেছিল  তার ডানা,  
দূষণহীন স্বাতন্ত্রের অবসরে,  
স্বচ্ছ হচ্ছিল তার নির্বাসিত, নিজ রচিত শিল্প।
যেন পূর্ণাবয়ব চিত্র ফুটে উঠছিল নয়া ক্যানভাসে। 
তবু তার মনের অলিন্দে ক্ষত ছিল বড়োই গভীর, 
তাই সে, সেই রোষে আজও  ফেটে পড়ে মুহুর্মুহু,
প্রচন্ড তেজে, রুদ্র তাণ্ডবে আঘাত হানে মানবসভ্যতার উপর। 
আমরাই পারি তাকে শান্ত করতে, 
রাখতে অমলিন তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যকে,
করতে নবজীবন দান, প্রকৃতি তথা মানবসভ্যতাকে।
বিলাসবহুল জীবনযাত্রকে খানিক লাগাম টেনে,
আবর্জনার পাহাড় নামিয়ে,
রাসায়নিকের প্রয়োগ কমিয়ে, 
প্লাস্টিক বর্জন করে। 
চলো গাছ লাগাই, তোমার-  আমার ছাদে, বারান্দার টবে, রাস্তার ধারে, 
সবুজ হোক শহর।
বাসা বাঁধুক পাখি আপন নীড়ে, 
দিনগুলি হোক মধুর, সুন্দর, 
পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙা এক ভোরের আলিঙ্গনে। 
প্রকৃতি হোক শান্ত, নিজ বৈচিত্র্যতায় সুন্দর, চির সবুজ, 
সকল ঋতু তার নিজ রূপ মাধুরীতে দেখা দিক আবার এই ধরার 'পরে।
বুক ভরে নির্মল শ্বাস নিয়ে বাঁচি তুমি- আমি, 
তোমার- আমার হাতে গড়া সবুজ শহর যে, ভীষণরকম দামী।।

মোঃরুবেল

কবিতা
অহম আরোগ‍্য
                          
আমার পূর্বপুরুষেরা বাবাকে শূন‍্যতা এঁকে দিতেন।
বাবা এই শূন‍্যতার পথে হেঁটেছেন বহুকাল।
এটা পরম্পরাগত শূন‍্যতা।
এই শূন‍্যতায় হাঁটার কারণ জানি না।
এখন বাবাও আমাকে শূন‍্যতা এঁকে দেন।
আমি হাঁটি বাবার মতো।
ক্লান্ত হই।
ক্লান্ত চোখ আলগোছে বন্ধ হয়ে আসে।
চোখ বন্ধ হলেই ভাবি এই বুঝি সব গেলো, নিঃস্ব হলাম।
কিন্তু না সব শূন্যতা নিঃস্ব হবার নয়।
অনেক শূন‍্যতা ভালোবাসা শেখায়। অহমহীন ভালোবাসা।
পূর্ণ মানুষ শূন‍্য হলে সব অহম ছুড়ে ফেলে  চলার খোরাক হয় ভালোবাসা,

এটা বোঝার সাথে সাথে 
আমি তার নাম দিলাম অহম আরোগ‍্য।

লিটন শব্দকর

কবিতা
গাছভোরে

বছর চারেক আগে এক ভোরবেলা দেখা একটি স্বপ্ন এখনও 
স্বপ্নই রয়ে গেলো। তবু আমি তোমাদের সে স্বপ্নের কথা শোনাবো। 
              দেখলাম দলে দলে মানুষ সারিবদ্ধভাবে হেঁটে চলেছে আমাজন রেইন ফরেস্টের দিকে। আবছা কোনো এক দেবতা অথবা মানুষ হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে দিলো। তারপর কিছু বীজ ছিটিয়ে দিল শহরের দিকে। কতকটা বীজ পড়েছে রেস্তোঁরার বারান্দার পাশে। কতকটা অফিসগুলোর আনাচে কানাচে। কতকটা রেলরাস্তার আনাচে কানাচে। কতকটা ধর্মীয় চাঁতালের আশেপাশে। কতকটা নদীর ধারে। কতকটা ফেলে রাখা মাঠে। কতকটা শহরের বুক বরাবর। 
সকালের সূর্যোদয় পর্যন্ত কেটে গেছে অনেকগুলি বছর। আর গাছেরা আবার বলছে 'এসো'!
হয়তো আমিও খুব তাড়াতাড়ি মিশে যাবো হাঁটাপথের সারিতে।

অলকা গোস্বামী

কবিতা
সবুজ পাতার ইতিহাস

সূর্যটা বড্ড জ্বালায়,
সবুজ পাতায় ভরে দেয়
ছোপ ছোপ কালি;
পাথুরে রাস্তায় বসে
আনমনা বিষন্ন যুবতী,
ঝড় নাকি আসছে,
আছড়ে পড়বে দিনের শেষে।
একপশলা ভিজে বাতাস
ছুঁয়ে যায় ঠোঁট,
প্রেমিক সেও
ঝড়ের মতোই আগন্তুক।

বিষন্নতা ঝরে পড়ে
শুকনো পাতার মত।
চুলে কৃষ্ণচূড়া গুঁজে
তৈরি কালো মেয়েটি,
তার পাথুরে শরীরে
ঝড় বইবে,

আগামী কোনো এক দিনে
নগরায়নের উৎসবে
ঝক ঝকে মসৃণ রাস্তায়
ধূলো উড়িয়ে যাবে
শহরমুখী মানব শকট।

প্রদীপ কুমার মাইতি

কবিতা
বিপন্ন পরিবেশ

প্রকৃতির শোভা ধরায় ছিল সুন্দর পরিবেশে, 
পরিবেশ আজ বড় বিপন্ন
দূর্যোগ ঝড়ে ভাসে।

মুক্ত ছিলো পশু-পাখি 
বাতাসে ছিলোনা বিষ,
সবুজ বনানী পরিবেশে প্রাণ
দিয়ে গেছে অহর্নিশ।

সিক্ত হতো রুক্ষ মাটি 
আষাঢ়-শ্রাবন এলে,
সবুজ  প্রাণেরা  তুলতো মাথা
মুক্ত ডানা মেলে

কারখানার ধোঁয়ায় দুষিত বাতাসে 
ভরেছে শরীর বিষে,
পরিবেশ আজ ধংসের পথে 
থাকবে কি অবশেষে?

সবাই মিলে দূষণ রোধে
নামবো পথে মোরা,
মুক্ত বাতাসে জয়ের নিশানে
ছুটবে রথের ঘোড়া।

সোনালী গোস্বামী

কবিতা
নদী কথা

সময়ের বেড়াজালে জীবন বয়ে চলে,
নদী ও চলে তার ধারা প্রবাহে।
গ্ৰামের ঐ শুভ্রানদী কতনা স্মৃতি আঁকড়ে আছে,
তার কল-কল,ছল-ছল জলধ্বনি আজো শুনা যায় শান্ত দুপুরে।।

কত নবীন কত প্রবীনের আসন ছিল নদীতীরে,
কত কাহিনীর সাক্ষী রেখেছে নদী আপন নীরে।
শুভ্রা ঠিক যেমন ছিল তেমনই থাকতে চায়,
কিন্তু এ মানবসমাজ তাকে তেমন থাকতে দিলনা হায়।‌।

শুভ্রার শুভ্রতা করেছে নষ্ট কত গুনীজন,
শিক্ষিত এ সমাজে আছে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন।
আবর্জনায় ময়লার তার জল হয়েছে নষ্ট,
স্বচ্ছতার নির্বাচনে এরা কখনো হবেনা শ্রেষ্ঠ।।

নদীর কথা রয়ে যাবে চিরদিন নদী মননে,
শুধু শুভ্রা চায় তাকে মানব যেন রাখে যতনে।
আরো কত সবুজ প্রানের স্মৃতির পাতায়,
শুভ্রা বাঁচতে চায় স্বচ্ছতার প্রতীকের খাতায়।।

শ্বেতা ব্যানার্জী

কবিতা
সখেদ

আমি দু'হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি ….
পৃথিবী, 'তুমি আমার' ....
নিরুত্তর পৃথিবী, বাতাস বলে কবে ছিলাম তোদের!
শুধুই তো কবির কলমে ঠাঁই। 
তবে যে আমার উঠোনে জ্যোৎস্না'রা হাঁটে,
দোলনচাঁপার গন্ধ কোল জুড়ে বসে,
তাহলে তো  বলার অধিকার আছে 'এসব আমার' 
তোরা  মানুষ,  শুধুই ধ্বংস কে করে অধিকার।
প্রেয়সী রূপ কে শুধুই করেছিস্  ব্যবহার। 
পৃথিবীর এ-ই আসবাবে  নেই আমার  অধিকার!? 
ছেঁড়া মেঘের ফাঁকে যে সূর্য হাসে,
বহুদূর থেকে মেঘ ভেসে আসে,
বাউণ্ডুলে ঢেউ উঠে নীল সাগর বুকে, সে সব  তবে কা'র? 
সে-ই সব আত্মাদের সভ্যতার হাতুড়ি'তে করেছিস্ 
ঘায়েল বারবার। 
এখন বোঝ তবে, হলুদ বসন্ত   গেলে চলে 
ছাই রঙে মুখ ঢাকে  পৃথিবী আবার,
তবে; কী বলতে চাও! এ পৃথিবীতে অধিকার নেই আমার?

অধিকার দিতে পারি ; তার আগে প্রায়শ্চিত্তের দরকার।

মায়া রানী মজুমদার

কবিতা
প্রকৃতির সুরক্ষায়

প্রকৃতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের 
             ব্যাঘাতের কাতর যন্ত্রণা, 
ধৈর্য্যের চরম সীমা 
             অতিক্রান্ত চেতনা।
আতঙ্কগ্রস্ত সময়ে নেই যে 
              কোন রকম শান্তনা, 
খেসারত দিতেই তো 
              মোদের এত অবমাননা।
সবুজ বনের সবুজ মনের
              নেই তো কোন উপমা, 
স্বজ্ঞানের ভুলের 
              নেই তো কোন ক্ষমা।
স্বজ্ঞানে করো কাজ 
              হয়ো না বিগলিত, 
একটু ভুলের কারণেই 
              মানুষ হয় ধরাশায়িত।
সজ্জিত হয় ধরণী
              এক অপরূপ সাজে,
প্রকৃতির সুরক্ষার তরে
              লেগে পর কাজে।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

কবিতা
হরিৎ চাই

এত সবুজের মধ্যে থেকেও বড় বিপন্ন বোধ করি
সবুজ আজকাল তার গাঢ় রং হারিয়ে কেমন 
ধূসর রঙে সাজিয়ে ফেলছে নিজেকে।
এত অভিমান ! এত যন্ত্রণা ওর বুক জুড়ে! 

পরতে পরতে আমরা মেখে দিয়েছি ধোঁয়া, কালি
পাতাগুলো ধুলো বিবর্ণ হয়ে তাকিয়ে আছে 
আমাদের দিকে সব হারানো দৃষ্টি নিয়ে, 
এই বুঝি আমরা কিছু মিরাকেল করে দেব!
আদতে , নষ্ট করা ছাড়া আমাদের কোনো গুণ নেই,
নেই সৃষ্টি করার, সৃষ্টি বাঁচানোর ক্ষমতা বা তাগিদ। 

মেঘেরা পালা করে এখনো আসে বলে , জল ঝরায়
তাই আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারি, ফুসফুসে হাওয়া ভরি।

সবুজ বিপন্ন নয়, ক্রমাগত বিপন্ন হচ্ছি আমি, আমরা
আমাদের অনাগত প্রজন্ম, আমাদের অস্থি মজ্জা ।
কুঠারের গায়ে লেগে থাকা গাছের কষ আসলে 
আমার, তোমার , আমাদের সকলের শুকিয়ে আসা রক্ত

হাঁপরের মত শ্বাস নিতে গিয়ে যখন হৃদপিন্ড ঠেলে
বেরোতে চায়, তখন ও কেন ভাবতে পারিনা 
এত সবুজ দিন দিন ধূসর হচ্ছে কেন!
হাওয়া জুড়ে শীতল মধু বুকে প্রলেপ দিচ্ছেনা কেন!

বিপন্ন মানুষের পাশে এখন হরিৎ চাই 
ঘন সবুজের হরিয়ালি চাই , পাতায় পাতায়
রোদের ঘামতেল চাই, আকাশ জুড়ে নীল চাই।

রমা চন্দ্র

কবিতা
মানবতার দীপ

প্রদীপের নীচে অন্ধকার...
বিজ্ঞান কি টর্চের আলো-
না গণ্ডিবদ্ধ বৃত্তাকার!
ল্যাম্প পোস্টের নিয়ন বাতিতে-
পথ-ঘাট কি একাকার...
না মনের কোনে নিকষ আঁধার!
উত্তরের খোঁজে নীদ্রাহীন চোখ-
চৈত্রের আকাশে..
ঝড়ের পূর্বাভাসে !
দাবদাহে রুক্ষ জীবন...
নদনদী ও শুষ্ক ভীষণ...
নাই বরষণ...!
ক্রমাগত নিধনে সবুজ...
ভগ্নপ্রায় খাদ্য শৃঙ্খলে-
মানুষ আজও অবুঝ!
চকিত বিদ্যুৎ আলোকে-
দূর নীহারিকা হতে কে যেন বলে,
'হে মানুষ অন্তরে মানবতার দীপ জ্বালো'!

রিপন সিংহ

কবিতা
নতুন চাই

আমি জন্মেছি এই পৃথিবীতে তাইতো আমি এখানে,
হয়তো ব্যাঙ নয়তো কীট হয়ে আসতে পারতাম;
তবে এসে আমি তোমাকে পেয়েছি
পেয়েছি তোমার প্রেমকে।

এই অবিশ্বাস জীবন স্বপ্নে ভরা জীবন,
যা চেয়েছি তাই পেয়েছি;
শুধু তোমাকে পেলাম না
বিস্ময়ে আনন্দে প্রেমে ভরা এই জীবন।

তবে এই পৃথিবী খুবই ক্ষুদ্র,
সারা পৃথিবীকে আমি চোখে দেখতে পাই
স্পর্শ করতে পাই
এর জন্য হতে হবে রাজেন্দ্র।

জঞ্জাল মুক্ত হও,
শুধু আমি আমি নয় সবাই মিলে আমি
হয়তো যে কাজের এসেছি তা পূরণ হয়নি।

আমি অত্যন্ত খুশি এই সমৃদ্ধ পৃথিবীকে দেখে,
হয়েছে শিল্প হয়েছে বাণিজ্য;
সবাই আজ উন্নত
তবে জাগ্রতর পেছনে ঢের অশুভ অঙ্গ রয়েছে।

হয়তো এই অশুভের কারণে থাকবে না আমার অস্তিত্ব,
তবুও আমি পেছন ফিরেনি
বৃক্ষের অঙ্গে ঢিল ছুড়লে যেমন ফিরিয়ে দেয় সুস্বাদু ফল;
জন্মে জন্মে তোমার হৃদয়ে থাকবো জীবনভর।

সুপ্রতিম ভৌমিক

প্রবন্ধ 
সবুজ উদ্ভিদমালা, প্রাণীকুলের প্রাণদাতা

চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি আমাদের জীবন স্বরূপ । প্রাকৃতিক অম্লজান সরবরাহকারী, সবুজ বৃক্ষ আমাদের প্রাণবায়ু দাতা । তথাপি বিশ্বজুড়ে মূঢ় মানব সে' চিরন্তন সত্য জানা সত্ত্বেও নির্বিচারে অবাধে বৃক্ষচ্ছেদন করে সবুজ উদ্ভিদ-বনানীর ক্রমশঃ হ্রাস ঘটিয়ে যাচ্ছে । যার দরুণ প্রকৃতির বাতাবরণ আজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে । প্রাণীজগতের নিঃশ্বাসে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে গাছেরা আমাদের প্রশ্বাসবায়ু অক্সিজেন দান করে থাকে প্রতিনিয়ত । সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে জীবজগত সতত জীবন ধারণ করে । 

       কিন্তু বৃক্ষরাজি ধ্বংসের ফলে প্রাণীজগতে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর ভারসাম্য রক্ষা দুরূহ হয়ে পড়েছে । সেহেতু অক্সিজেনের ঘাটতি ঘটছে বায়ুমণ্ডলে । বিশ্বমানব আজ প্রাকৃতিক অক্সিজেনের বদলে কৃত্রিম অক্সিজেন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে । এতদ্ব্যতীত, অতিমারী মহামারীর নিদারুণ কবলে অক্সিজেনের অভাব হেতু শত-সহস্র জীবন মৃত্যুমুখী হয়ে পড়েছে আজ । 

     সুতরাং, বিশ্বজুড়ে মানবসমাজ বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার্থে, অক্সিজেনের অভাব দূর করতে, বিশেষভাবে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষপালন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে মনোনিবেশ করা একান্ত প্রয়োজন । প্রত্যেক মানুষকে এ' ব্যাপারে সচেতন হওয়া সর্বাংশে উচিত নচেৎ ধ্বংসের করাল গ্রাসে প্রাণীজগতের নিশ্চিহ্ন হওয়া অবশ্যম্ভাবী । তাই পরিবেশ রক্ষণে আমরা বিশ্ববাসী, সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বিশ্বজুড়ে সবুজ বনানী,বৃক্ষরাজি রক্ষার্থে, বর্দ্ধনার্থে ও পালনার্থে শপথ গ্রহণ করা উচিত ।

লিয়া শারমিন হক

গল্পপকথা
ক্রোধ

রকিব লুকিয়ে রয়েছে।সিঁড়ির নীচে অন্ধকার যেখানে ঘন সেখানটিতে।সেই সকাল দশটা থেকে এখানে।রকিবের পরনে ধূসর পান্জাবী।হাতে, মুখে আর সেই ধূসর পান্জাবীতে চাপ চাপ রক্তের দাগ শুঁকিয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে।চিমসে গন্ধ বের হচ্ছে।ঠকঠক করে কাঁপছে রকিব।”কি করবো এখন কোথায় যাবো? এ কি হয়ে গেলো? কেন করলাম? আমার হাতে খুন…আহ্! আর কিছুই যে ভাবতে পারছিনা! আল্লাহ্ বাঁচাও আমায়! তেমন কিছুই নয় কলেজ ঈদে বন্ধ।রমজান মাস স্যারকে টেবিলে খাবার দিয়েছি ঘড়ি ধরে শেষ রাত সাড়ে তিনটেই গরম ভাত, আলু ভাজা, ঘন মসুর ডাল,ডাবল ডিমের অমলেট। বিদ্যুৎ স্যার খাওয়া শেষ করে উঠে বেসিনে হাত ধুচ্ছিলেন। কাছে গিয়ে মিন মিন করে বলেছিলাম,”স্যার মন কেমন করছে বা…ড়ি যাবো?” ব্যস! শুনেই উনি ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তাকিয়ে, “কি বললি তুই? তোকে তো বলেছি এক বছরের ভেতর বাড়ি যাবার কথা মুখে আনবি না।” আমি ভয়ে একটু দূরে পিছিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।ঐ ঘরেরই পশ্চিম দিকে বইয়ের আলমারি যে দিকে তার পাশে।চিৎকার করতে করতে উনি ছুটে আমায় মারতে এলেন।হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তাই দিয়ে আমার উপর চড়াও হলেন।গ্লাস, বাটি, প্লেট ভেঙ্গে চুরমার! এক পর্যায়ে টেবিলের উপর ছুরি ছিলো ওটা উঠালেন আমার ওপর।আমি অত মার খেয়ে ভয়ে কাঁপছিলাম।উনি আমার শিক্ষক আমি কি করে উনার উপর কথা বলতাম? শুধু তো এতটুকুনই বলেছি, স্যার ঈদে ছুটি দিন।বাড়ি যাবো।মাকে ভীষন দেখতে ইচ্ছে করছে,মাকে কাল স্বপ্নে দেখেছি এতটুকুন ও বলে উঠতে পারিনি।উনি কেন কিছুতেই ছুটি দিতে চাননা? আমার মাথায় আসেনা? রাজ্যের যত কাজ আমায় দিয়ে করান।ঘরের ফায়ফরমাশ বাইরের কাজ।কলেজের পড়াশুনার পাশাপাশি সব আমায় করতে হয়।আমার দম ফেলবারও সময় থাকেনা।মাঝে মাঝে মনে হয় এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কি লাভ? বুদ্ধি হওয়া থেকে শুধুই কস্ট আর কস্ট! আমায় তো দেখবার কেউ নেই।বাবা মারা গিয়েছেন সেই আমি যখন ছোটো।বাবার চেহারা মনেও পড়ে না আমার।বাবা বেঁচে থাকলে এমন হতো না নিশ্চয়? কত কস্টে মা আমায় এত দূর পড়িয়েছেন।সে শুধু আমিই জানি।কত দিন মা আর আমি না খেয়ে থেকেছি! কেউ কোনো দিন জানবেনা সে কথা।কে খেলো কি না খেলো কার কি যায় আসে? মানুষের বাড়ি কাজ করে করে মা আমায় পড়িয়েছেন।আমি SSC তে GPA 5 পেয়েছিলাম।আমার মায়ের সে কি আনন্দ? আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন আমার দুখিনী মা।উনি আমার মাথায় চুমু খেতে খেতে আশীর্বাদ করেছিলেন,”অনেক বড় মানুষ হ্ বাবা! মানুষের মতন মানুষ হ্ !” এই অনেক বড় মানুষ হওয়া আমার? এই দিন দেখবার জন্য উনি আমায় আশীর্বাদ করেছিলেন? মা মা…ও মা..! কি ভাবে তোমার সন্মুখে দাঁড়াবো আমি? বলে দাও.. মা বলে দাও…! সেই মানিকগঞ্জের বিলাসপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় কলেজে ভর্তি হবার জন্য এসেছি। আমাদের গ্রামের বিদ্যুৎ স্যার ঢাকায় থাকেন।উনি রেজাল্ট শুনে বলেছিলেন,”ঢাকায় চলে আসিস আমি ব্যবস্থা করে দেবো।” বিদ্যুৎ স্যার আগে আমাদের গ্রামের “বিলাসপুর সরকারী উচ্চবিদ্যালয়” স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।পরবর্তীতে উনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং ঢাকায় স্থায়ী হন।বিদ্যুৎ স্যার বলেছিলেন,”আমার এখানে কিছুদিন থাক্ তারপর হোস্টেলে উঠে যাস্।” আমি ঢাকায় কোনোদিন আসিনি কিছুই চিনিনা। উনার কথায় আশ্বস্থ হয়েই এসেছি।উনি যে ভাবে আশ্বস্থ করেছিলেন মা ও আপত্তি করেননি।বললেন,”আচ্ছা বাবা তুই যাহ্।উনি যখন এত করে বলছেন। আর আমাদের মানুষের উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় কি বল্? কে আছে আমাদের? ঢাকা শহরে আপন বলতে কেউ নেই। কাউকে তেমন চিনিও না।যাহ্ বাবা আল্লাহ্ র  নাম নিয়ে তুই যাহ্।” ব্যস চলে এলাম।কলেজে ভর্তি হলাম।স্যারের বাসায় উঠেছি।স্যার বলেছেন, “যত দিন হোস্টেলে সিট না পাশ্ এখানেই থাক্!”

চন্দ্রা বিশ্বাস

হচ্ছেটা কি ইস্ 

হচ্ছেটা কি ইস্  -----
মনের মধ্যে হঠাৎ কেন জমেছে এত বিষ? 
হে ঈশ্বর, দোহাই তোমার বায়ুদূষণ রুখে,
"জল পড়ে আর পাতা নড়ে" দিন দেখাও ফিরে সুখের। 
দিব্যি ছিলাম সবাই সবুজ খুশি মেখে মুখে,
সবুজ সে সুখ কাঁটা হয়ে আজ বিঁধছে কেন বুকে? 
গাছপালা নেই, প্রকৃতি বিমুখ, নকল সুখের লোভে,
মানুষই এবার সাজবে দানব, জল না পাওয়ার ক্ষোভে।
নগরায়ণের দর্পে জীবন চেয়েছে আকাশ ছুঁতে,
বহু বাসনার বহুতলে বসে সুখকে ছিনিয়ে নিতে। 
আজ "বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই বঞ্চিত করে" ফিরিওনা মুখ,
বর্ষা এসো শপথ নেবো, ফেরাবো সবুজ, হয়োনা বিমুখ। 
প্রকৃতির পায়ে কোদাল চালিয়ে,হারিয়ে ফেলেছি অমূল্য ধনে,
জীবন সে ঋণ শুধবেই দেখো,সবুজায়নের প্রতিফলনে ।

বিদিতা সেন

কবিতা
বিবর্ণ সবুজ

প্রকৃতি যেন কাঁদছে আজ! 
দেখে সবুজের বিবর্ণ সাজ।
ধোঁয়ার আড়ালে লুকানো আকাশ, 
নেই সে  শীতল মৃদু বাতাস। 
চাঁদের হাসি হয়েছে ম্লান, 
ধরা যেন করছে অগ্নিস্নান। 
বনাঞ্চল নিয়েছে মরুর আকার, 
নগরায়ন হয়েছে ক্রমশ সাকার। 
গগনচুম্বী অট্টালিকারা দাড়ানো উচ্চশিরে, 
ভোরের রবি মুখলুকানো ঐ দিগন্তের আড়ে। 
বনের  খোঁজে সব বন্যেরা বেড়ায়, 
পাঁখিরা তাদের ঠিকানা বাড়ায়। 
স্বল্পবর্ষায় হয় ভূমিস্খলন,
কে রোধিবে অরন্য লুন্ঠন? 
ক্রমশ বাড়ছে গ্রীষ্মের উত্তাপ, 
পারি  কি? বুঝতে প্রকৃতির সন্তাপ! 
নব প্রযুক্তি আর শিল্পায়ন
পুরাতন ভূলে চাই নবায়ন, 
সবুজ হ্রাসে আজ বিশ্ব উষ্ণায়ন
তবেকি এবার ধংসেরই আয়োজন? 
এবার মিলে করি ঐ প্রতিজ্ঞা -
পরিবেশকে যেন না করি অবজ্ঞা। 
পৃথিবীকে সাজাবো সবুজের আবেশে-
বাঁচবো সবাই সুস্থ পরিবেশে।।

গীতশ্রী ভৌমিক

কবিতা
সব বিধ্বংস পথে....

সভ্যতা, সমাজ উপড়ে ফেলে দেবে উষ্ণতার বেড়াজাল। 
সবুজবীথির স্যঁতস্যতে কেটে বানিয়ে নিলি কংক্রিটের জংগল!
এবার জংগলবিহীন ওই ঝাঁ চকচক তোর শব বইবে 
তার সভ্যতা মেনে!

মনচলি চক্রবর্তী

গল্প কথা
গ্রীষ্মের এক  তপ্তদুপুর 

স্কুলের ঘন্টা বেজে উঠলো ডংডং শব্দে ।গরমের ছুটি পড়তে আর ও কিছু দিন বাকি আছে। ভরদুপুরে স্কুলে ক্লাস চলছে ।

বাইরে কাঠফাটা রোদ।আগুন ঝড়ছে সূর্য  কিরণে। ক্লাসের লেইজার টাইমের ঘন্টা বেজে গেছে। প্রচন্ড গরম পড়েছে, কবে গরমের ছুটি পড়বে? 

ছাত্র ছাত্রিদের মুখে মুখেএকই কথা। 

লেইজারে, ক্লাস থেকে একে একে সবাই বেড়িয়ে গেলো। 

ক্লাসরুমের বাইরে  গিয়ে বারান্দায় জানালাটার পাশে দাড়িয়ে বাইরের আম গাছটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

সবুজ সবুজ কাঁচা আম ঝুলছে গাছে।কি যে ভালো লাগছে দেখে।গাছটা মনে হলো আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কি যেনো বলতে চাইছে।

আম গাছটা আজ আবার আমার সেই  ছোটবেলার  স্কুলে কাটানো  গরমের দুপুরের কথা,গরমের ছুটির কথা সব  কিছু বলতে চাইছে মনে হয়। 

সেই স্কুল জীবনের আম গাছটার কথাই মনে   হয় বলতে চাইছে এই গাছটা।

 গ্রীষ্মের দুপুরে অপেক্ষায় থাকতাম কখন লেইজার টাইমে ঘন্টা  বেজে উঠবে।আর বাইরে গিয়ে আমরা বন্ধুরা মিলে লাল,হলুদ,সাদা আইসক্রিম খাবো।পেপসি আইসক্রিম খেতে তো ভীষণ ভালো লাগতো আমার।তা নিয়েও আমাদের মাঝে  হাসাহাসি চলতো।এসবের  মাঝেও আনন্দ ছিলো অন্যরকম। 

গরমে আচার কিনে স্কুলের বারান্দায় বসে  খেতাম সবাই মিলে।  এক বন্ধু কাঁচা আম কতগুলো  আর নুন নিয়ে এল স্কুলে। লেইজারের ঘন্টা পরতে না পরতেই সবাই বেড়িয়ে গাছের নিচে বসে আনন্দে আম খেতে শুরু করতাম।

কত মজাই না করেছি স্কুলে।তখন এরকম কোল্ড ড্রিংকস ছিলো না।আমরা লাল হলুদ রঙের আইসক্রিমেই খুশী থাকতাম।

গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কখনো কখনো ক্লাস  না হলে গাছের ছায়ায় বসে কথা বলে আমরা সময় কাটাতাম।বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের হাতের বানানো লেবুর সরবত অমৃত লাগতো।গরমে এর চেয়ে বেশি তৃপ্তি আর কোনো সরবতে লাগতো না।

গরমের ছুটি পড়তে না পড়তেই মামার বাড়ি যাবার জন্য তৈরি থাকতাম।মামার বাড়ি গরমের ছুটি কাটাবো।কি মজা..

মামার বাড়িতে গিয়ে গরমে পুকুরে ডুবে বসে থাকতাম, সাঁতার কাটতাম। পুকুর থেকে উঠতেই চাইতাম না।

মামার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরা, জলে পা  ডুবিয়ে বসে থাকা।গরম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার রাস্তা খুঁজে বেড়াতাম। মামার বাড়ির পেয়ারা গাছে উঠে ঝুলে থাকা। পেয়ারা পেরে খাওয়া আম কুড়িয়ে আমের টক ঝাল ভর্তা খাওয়া।সারাদিন নানা রকম দুষ্টুমি করে বেড়াতাম।

দিদা আমসি রোদে দিলে চুরি করে খেয়ে নিতাম। গাছে উঠে  কাঁচা পাকা সব লিচুর ডাল ভেঙে নিয়ে আসতাম। আনারস গাছ থেকে আনারস কেটে  টক রান্না করে দিতে বলতাম মাকে।গরমে ডাল দিয়ে আমের আচার, আনারসের টক দারুণ  লাগতো খেতে।

এসব স্মৃতি চিরকাল মনের গভীরে বেঁচে থাকবে।

 গরমের ছুটি শেষে ফিরে আসার পথে মন খারাপ করে  মায়ের  হাত ধরে ফিরে আসতাম।

গ্রীষ্মের এক দুপুর আমার ফেলে আসা  শৈশবের, স্কুলের, গরমের  ছুটির,মামার বাড়িতে কাটিয়ে আসা দিন,  গরমের  ছোট ছোট টুকরো স্মৃতি গুলো সতেজ করে দিলো।  আম গাছটা কথাগুলো  সব মনে করিয়ে দিলো।  আনন্দে  মনটা  এত বছর পরেও আবার যেনো প্রাণবন্ত  হয়ে উঠলো।

 হঠাৎ  চমকে উঠলাম। পিঠে কে  যেন হাতটা রাখলো, তাকিয়ে   দেখি  রিমা।রিমা বলছে - কিরে অপু লেইজার তো শেষ।ঘন্টা পরলো শুনলি না যে, ক্লাসে যাবি না?

যাবো তো, চল বলে ওর সাথে  কথা বলতে বলতে আমরা দুজন ক্লাসে ঢুকে গেলাম।

সপ্তমিতা নাথ

কবিতা
অস্তিত্ব 

আমার জন্ম
মায়ের মা ডাকে,
সুখ দুঃখের ভাটিয়ালি গানে,
সীমানা বিহীন বরাক পদ্মার-
মাছ ধরা ঘোলাটে জলের, 
পদচিহ্ন ধরে পূর্বপুরুষের
বাংলার ঘরে।

আমার শৈশব 
বৃষ্টির ঝিরঝিরি, নদীর কল-কল 
শালিক টিয়া চড়ুইর চিক-মিকি তে
ঘুমপাড়ানি গান, ছন্দ-ছড়া -কবিতা বলে ,
অ-আ-ক-খ বর্ণমালার হাত ধরে 
বাংলায় বলে।

আমার যৌবন 
ভাটফুলের গন্ধে ভরা
মাঠঘাট পথ ধরে কাবাডি খেলা 
পান্তা ভাত ও মায়ের আঁচলে মুখ মুছে 
তৃপ্তির দুপুর বেলা
রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রেম 
জীবনানন্দের গল্পে 
বাংলাকে ভালোবেসে।

হঠাৎ এক কালো রাতে 
দুঃস্বপ্নে পূর্বপুরুষ এসে 
আমায় বলে, "
মোদের অস্তিত্ব দিয়েছিলাম তোর কাঁধে "
অস্তিত্ব নাকি ভুলতে হবে!
না ভেবেই কথা দিলাম 
"জান দেবো তবু জবান দেব না।"
 রক্ত স্রোতে বইবে খরস্রোতা বরাক 
তবুও হবে না কখনো অচলা।

আমরা দশ ভাই কানাই 
চন্দ্র, হিতেশ, সত্যেন্দ্র,
সুনীল,তরুণী,শচীন্দ্র 
কুমুদ,কোমল বীরেন্দ্র।
হয়ে রইলাম বাংলার চিরপ্রহরী
১৬ বর্ষতেই বোন কমলা,
হয় গেল১৯ এর চিরপরী 
এবারে,চির সুরক্ষিত মোদের বাংলাপুরী।

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

কবিতা
আগামীর পৃথিবী

আজ এই বিশ্ব চরাচরে
যতো মুখোশের জঞ্জাল
পরিশ্রান্ত পৃথিবী আজ
সত্যের অগ্রগতি স্তব্ধ। 

জাগবে কি সত্যের প্রাণ
দূর আশার আলো জ্বলবে কি
প্রতি আঙিনায়
সত্যের আলোয় ভরবে কি এই অসুস্থ পৃথিবী। 

করেছি অঙ্গীকার
আগামীর পৃথিবী হোক সুন্দর নির্মল
হোক শিশুদের বাসযোগ্য
ধরণী আবার সেজে উঠুক
পাখিরা আবার গেয়ে উঠুক। 

নন্দিতা দাস চৌধুরী।

বিশেষ নিবন্ধ
অমৃতাস্তে  ভবন্তি

১ম পর্ব
শক্তির সত্য রূপ হচ্ছে  সৌন্দর্য। আকাশে মেঘের  মধ্যে বাস্পাকারে যে জলের  সঞ্চয় হয় বিশুদ্ধ জলধারা  বর্ষনেই তার প্রকাশ। গাছের  ভিতর যে রস সিঞ্চিত হতে থাকে তার প্রকাশ পাতার সাথে ফুলের সাথে মিশ্রিত হয়ে। গাছের পূর্ণ শক্তি  তার ফুল, ফুলের মধ্যে  লুকিয়ে আছে  তার বীজ ই হচ্ছে  ভবিষ্যতের অরণ্য অর্থাৎ  অমরতা। জন্ম লাভ ই অমর হয়ে যাওয়া নয়। বিরাট কে জানাই অমরত্ব লাভ।  অসীমের উপলব্ধিতে ই আমরা সৃষ্টিকর্তা। তাঁর  অভাবে বিকলাঙ্গ। সৃষ্টি  রক্ষার জন্য প্রকৃতির  আশীর্বাদ অপরিহার্য। জীবন বাঁচিয়ে রাখার জন্য  গাছপালা বন জঙ্গলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শ্বাস নিঃশ্বাস তার অবদান। প্রকৃতির কাছ থেকে আমরা প্রভাত, মধ্যাহ্ন  অপরাহ্ন, সায়াহ্ন, অর্ধরাত্রি, শেষরাত্রি, জেনেছি। এই প্রকৃতির বিভিন্ন রূপকে বিভিন্ন নাম দিয়ে ঋতুর তারতম্য বোধ হয়েছে।  প্রকৃতির খরতাপে যখন জীবের জীবন সংকটময়  হয়ে উঠে তখনই পশু পাখি গাছপালা উদগ্রীব হয়ে উঠে। ধরনীর শুষ্ক ধূলিকণা যখন বাতাসে ঝড় তুলে তখনই প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে তার পরিবর্তন আসে। আকাশে কালো মেঘের গর্জনে নেমে আসে বর্ষার জলধারা। তার রস স্পর্শনে স্নিগ্ধ করে পৃথিবীকে।

সূর্যের প্রখর তাপ থেকে  পৃথিবীকে স্নিগ্ধ করে  রাখতে শীতল ছায়ার প্রয়োজন। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বন জঙ্গলের  যেমন প্রয়োজন তেমনি  জঙ্গলে বসবাসকারী জীব জন্তুরও বিশেষ প্রয়োজন । শুধু মাত্র জেনে রাখলেই হবে না, তাতে আন্তরিক যোগদান ও বিশেষ তত্বাবধান জরুরী,বনকে সুন্দর  করে  তুলতে হলে নিয়ম মাফিক  বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছ লাগাতে হবে। জঙ্গলে যে প্রাণী বাস করে তাদের  সুরক্ষার জন্য জঙ্গলকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। কারণ এরা  আমাদের দেশের সম্পদ। জঙ্গলের জীবজন্তু  শহরের বন্দী খাঁচায় বেশি দিন বাঁচতে পারেনা।তার স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া আইনতঃ দন্ডনীয়। পশু পক্ষী জীব জন্তু আমাদের জীবন রক্ষার  অনুকূল। বন বনান্তকে সুন্দর ও সুষ্ঠ রাখা আমাদের  কর্তব্য। 

কলকারখানা অফিস আদালতে আমরা কাজ করি জীবিকা রক্ষার্থে কিন্তু জীবন রক্ষার্থে চাই  অসীমের উপলব্ধি,তা না হলে আমরা প্রয়োজন মেটাতে যে কাজ করছি তা হয়তো মিটে যাবে কিন্তু অমরত্ব লাভ হবে না।  আমরা নিজেদের জীবন যাপনের জন্য সামর্থ  অনুযায়ী নিবাস তৈরি  করি, বন্য প্রাণীদের নিশ্চিন্তে  জীবন রক্ষার জন্য  পরিকল্পিত বন তৈরী  করা প্রয়োজন।