পরিবেশ ও আগামী প্রজন্ম
আজ থেকে 30 বছর আগেও আমাদের প্রতিটি মানুষ এর মধ্যে একটা সম্প্রীতি রক্ষা র মনোভাব প্রকাশ পেতো সেটা এখন খুঁজে পাওয়া ভীষণ দুর্লভ।মানুষ মানুষকেই শোষণ করে চলেছে প্রতিনিয়ত, শোষণের ধরনটা আলাদা আলাদা,কেউ শোষণ করে শারীরিক দিক থেকে আবার কেউ শোষণ করে মানুষিক দিক থেকে,এই শোষণ করাটা এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে জঙ্গলের পশুর উদাহরণ আসবে প্রথমেই,পশুও অনেক সময় অন্য পশুকে নিস্তার দেয় কিন্তু মানুষ পশুর থেকেও অধম অথচ পৃথিবীর সব থেকে উন্নত জীব এই মানুষই।জীববৈচিত্রের সৃষ্টির কাল থেকে মানুষ এই পর্যন্ত তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তার বিকাশ করে চলেছে, পার করেছে হাজার হাজার বছর, ধিরে ধিরে সৃষ্টি করেছে আধুনিক সভ্যতা।সভ্যতার ইতিহাস কে দিয়েছে অতি আধুনিকতার উপহার,এমন ভাবনার ফসল মানুষের আত্মঅহঙ্কার।আর এই অহঙ্কার বোধ থেকে লালসা লোভ।মানুষ নিজের লোভ লালসার শিকার হিসাবে এই প্রকৃতির সম্পদকেও ছাড়েনি।প্রতি নিয়ত চলছে পরিবেশের ধংস লীলা,এর ফলে একটি শিশু হারাচ্ছে খেলার মাঠ কৃষক হারাচ্ছে সোনার ফসল উৎপাদনের খেত জলের প্রাণীরা হারাচ্ছে জলাশয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং র অধিক তাপ প্রবাহে গলছে হিম আরো এমন অনেক উদাহরণ আছে।মানুষ নিজেকে এতটাই শক্তিশালী মনে করে যে তারা ভুলে যায় তাদের থেকেও বড় শক্তিশালী হয় প্রকৃতি,সেই প্রমাণ দিতেই চোখে আঙুল দিয়ে প্রকৃতি বুঝিয়ে দিল করোনা ভাইরাস নামক একটি মারণ রোগ, এরকম পূর্বেও বেশ কিছু মারণ ব্যাধি এসেছে পৃথিবীতে তবুও মানুষ তার ক্রিয়া কলাপে কোনো পরিবর্তন আনেনি।এখনও চলছে প্রকৃতির ধংস লীলা।একটু গ্রাম ছাড়িয়ে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় শুধু ইমারত নির্মাণ,কোথাও অরণ্যের দর্শন তাও ছিটেফোঁটা যেদিকে চোখ যাবে শুধু ইমারত আর ইমারত।আমরা স্কুল জীবনে সকলেই জেনে থাকি নিউটনের তৃতীয় সূত্র,প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে,ঠিক তেমনি যদি তুমি প্রকৃতির সম্পদ সবুজ কে ধংস করো তাহলে প্রকৃতিও তার প্রতিশোধ নিতে তার দৃষ্টান্ত রাখবে,এই মারণ রোগ গুলি তারই ইঙ্গিত দেয়।গ্রাম গুলি আছে বলেই এখনও পরিবেশ কিছুটা হলেও রক্ষা পায় আর না হলে আরো কত কী দেখার ছিলো সেটা অনুমান করা যায়।প্রকৃতি কে ধংস করে আবার প্রকৃতি কেই বছরের একটি বিশেষ দিনে ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করা এটা একটা উপহাস সমতুল্য।আমরা উন্নত হচ্ছি ভাষায় ব্যবহারে আচরণে কিন্তু মনুষত্বের বিচারে শূন্য।আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে তাই আমাদের মনুষত্বের বিবেক কে জাগ্রত করতে হবে,শুধু বছরের একটি বিশেষ দিনে বৃক্ষরোপণ নয় অন্য সকল দিন গুলিতেও সমান ভাবে পরিবেশ বন্ধুর কর্তব্য পালন করতে হবে,তাহলেই সম্ভব এই পৃথিবীর ভারসাম্য জীববৈচিত্রের।বিশ্ব পরিবেশ দিবস হোক প্রতিটি প্রাণের প্রকৃতি প্রেমীর নামে,এমন ভাবনায় বদলাতে পারে আগামীর অশনি সংকেত কে।