গ্রীষ্মের এক তপ্তদুপুর
স্কুলের ঘন্টা বেজে উঠলো ডংডং শব্দে ।গরমের ছুটি পড়তে আর ও কিছু দিন বাকি আছে। ভরদুপুরে স্কুলে ক্লাস চলছে ।
বাইরে কাঠফাটা রোদ।আগুন ঝড়ছে সূর্য কিরণে। ক্লাসের লেইজার টাইমের ঘন্টা বেজে গেছে। প্রচন্ড গরম পড়েছে, কবে গরমের ছুটি পড়বে?
ছাত্র ছাত্রিদের মুখে মুখেএকই কথা।
লেইজারে, ক্লাস থেকে একে একে সবাই বেড়িয়ে গেলো।
ক্লাসরুমের বাইরে গিয়ে বারান্দায় জানালাটার পাশে দাড়িয়ে বাইরের আম গাছটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সবুজ সবুজ কাঁচা আম ঝুলছে গাছে।কি যে ভালো লাগছে দেখে।গাছটা মনে হলো আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কি যেনো বলতে চাইছে।
আম গাছটা আজ আবার আমার সেই ছোটবেলার স্কুলে কাটানো গরমের দুপুরের কথা,গরমের ছুটির কথা সব কিছু বলতে চাইছে মনে হয়।
সেই স্কুল জীবনের আম গাছটার কথাই মনে হয় বলতে চাইছে এই গাছটা।
গ্রীষ্মের দুপুরে অপেক্ষায় থাকতাম কখন লেইজার টাইমে ঘন্টা বেজে উঠবে।আর বাইরে গিয়ে আমরা বন্ধুরা মিলে লাল,হলুদ,সাদা আইসক্রিম খাবো।পেপসি আইসক্রিম খেতে তো ভীষণ ভালো লাগতো আমার।তা নিয়েও আমাদের মাঝে হাসাহাসি চলতো।এসবের মাঝেও আনন্দ ছিলো অন্যরকম।
গরমে আচার কিনে স্কুলের বারান্দায় বসে খেতাম সবাই মিলে। এক বন্ধু কাঁচা আম কতগুলো আর নুন নিয়ে এল স্কুলে। লেইজারের ঘন্টা পরতে না পরতেই সবাই বেড়িয়ে গাছের নিচে বসে আনন্দে আম খেতে শুরু করতাম।
কত মজাই না করেছি স্কুলে।তখন এরকম কোল্ড ড্রিংকস ছিলো না।আমরা লাল হলুদ রঙের আইসক্রিমেই খুশী থাকতাম।
গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কখনো কখনো ক্লাস না হলে গাছের ছায়ায় বসে কথা বলে আমরা সময় কাটাতাম।বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের হাতের বানানো লেবুর সরবত অমৃত লাগতো।গরমে এর চেয়ে বেশি তৃপ্তি আর কোনো সরবতে লাগতো না।
গরমের ছুটি পড়তে না পড়তেই মামার বাড়ি যাবার জন্য তৈরি থাকতাম।মামার বাড়ি গরমের ছুটি কাটাবো।কি মজা..
মামার বাড়িতে গিয়ে গরমে পুকুরে ডুবে বসে থাকতাম, সাঁতার কাটতাম। পুকুর থেকে উঠতেই চাইতাম না।
মামার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরা, জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা।গরম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার রাস্তা খুঁজে বেড়াতাম। মামার বাড়ির পেয়ারা গাছে উঠে ঝুলে থাকা। পেয়ারা পেরে খাওয়া আম কুড়িয়ে আমের টক ঝাল ভর্তা খাওয়া।সারাদিন নানা রকম দুষ্টুমি করে বেড়াতাম।
দিদা আমসি রোদে দিলে চুরি করে খেয়ে নিতাম। গাছে উঠে কাঁচা পাকা সব লিচুর ডাল ভেঙে নিয়ে আসতাম। আনারস গাছ থেকে আনারস কেটে টক রান্না করে দিতে বলতাম মাকে।গরমে ডাল দিয়ে আমের আচার, আনারসের টক দারুণ লাগতো খেতে।
এসব স্মৃতি চিরকাল মনের গভীরে বেঁচে থাকবে।
গরমের ছুটি শেষে ফিরে আসার পথে মন খারাপ করে মায়ের হাত ধরে ফিরে আসতাম।
গ্রীষ্মের এক দুপুর আমার ফেলে আসা শৈশবের, স্কুলের, গরমের ছুটির,মামার বাড়িতে কাটিয়ে আসা দিন, গরমের ছোট ছোট টুকরো স্মৃতি গুলো সতেজ করে দিলো। আম গাছটা কথাগুলো সব মনে করিয়ে দিলো। আনন্দে মনটা এত বছর পরেও আবার যেনো প্রাণবন্ত হয়ে উঠলো।
হঠাৎ চমকে উঠলাম। পিঠে কে যেন হাতটা রাখলো, তাকিয়ে দেখি রিমা।রিমা বলছে - কিরে অপু লেইজার তো শেষ।ঘন্টা পরলো শুনলি না যে, ক্লাসে যাবি না?
যাবো তো, চল বলে ওর সাথে কথা বলতে বলতে আমরা দুজন ক্লাসে ঢুকে গেলাম।