Oct 18, 2024

চন্দন পাল

ডালাক

অমরপুর ছুঁয়ে দু'ক্রোশ দক্ষিণে গোমতী ডিঙে ডালাক বাজার,
জাতি উপজাতি কাউমারা ঘিরে মালবাসা থালছড়া  সবুজ বাহার।

নদী চর মাটি,  সবুজ পাহাড়,  অন্ন যোগায় প্রতিদিন, 
সহজ সরল জীবন কাটে পড়াশোনা চাষবাস ক্লান্তি হীন।

জেলে তাঁতী ডাক্তার মাস্টার সকালব হলেই কাজে জুটে।
ধান পাট আখ রাবার    সোনার ফসল জুড়ে হাটে।

ডালাক ছুঁয়ে তীর্থমুখ গণ্ডাছড়া চণ্ডীবাড়ি ছবিমুড়ায় ছুটে গাড়ি,
দেখবে এসো পৌষ সংক্রান্তি,  স্বজন ভরা ডালাক বাড়ি। 

নবীনকিশোর রায়

ফেকাশে ছবি 

মোড়ে এখানে সেখানে
বড় রাস্তায় ছবি থেকে রঙ
চুইয়ে পড়ছিল একসময়! 

উপর উপর মিশে যাচ্ছিল
জোয়ারে নরম গরম ভীড়
ওয়ার্ড ভিত্তিক দালালি মারফত... 

বেশ কিছু বছর যাবত 
ঘরে ঘরে  চুল্লির ভিতর 
জমাট বাঁধা ছাই স্তূপে 
চাপা পড়ে থাকে---
কয়লার বুকে আগুনের অবশেষ... 

মাথায় ভূত চেপে বসলে, 
ফেকাশে ফাটা ছবি লক্ষ্য করে
সুখ তলদেশ খয়ে যাওয়া চটি, এসে আঘাত করে---
জুড়ে যায় রাগী যুবকের নাম! 

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

ইচ্ছে করে খুব

আমার মাটির কাছাকাছি আসতে ইচ্ছে করে খুব,
কাঁদা মাখা পথ ; খোলা আকাশ 
নিঝুম মধ‍্যাহ্নে দূরের পারে ক্লান্ত পাখীর গান,
সুখ ঘুমের মায়াবী আহ্বান,
হারাতে  চায় মন বারে বারে শতবার।

সবুজের ভাঁজে বিছানো আবেগ,
মিষ্টি স্মৃতির হাতছানি,
আলপথে বিছানো ক্লান্ত আঁচল,
একা দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটির নীরব চাহনী,
তাঁতী পাখীদের অনন‍্য  বুনন, ভীষণ কাছে ডাকে।

আমার জন্মভূমির সেই চেনা গন্ধ,
পুকুর পারের রসালো আমের স্বাদ,
নদীর বুকে বয়ে চলা রোদেলা দুপুর, সোনালী ধানের মোহিনী রূপ, নকশা কাটা ধানের ক্ষেত,
কাছে ডাকে নকশী কাঁথার মাঠের মতন।

আবেগের বেচাকেনা করতে করতে
আমি ক্লান্ত পথিক এক, সময়ের হাতে 
বিকিয়ে যাওয়া শহরতলীর ঝলমলে আলোয় আর কংক্রিটের চার দেওয়ালের আবদ্ধতায় ক্লান্ত আমি।
মাটির কাছাকাছি আসতেই ইচ্ছে করে খুব।।

বিপ্লব উরাং

মানুষগিলান বদলে যাছে

মানুষগিলান ক্যামন জানি।
দিনকে দিন বদলে যাছে।
আপন মানুষ সটকে যাছে। 
ভালবাসার ভরা কলস 
দিনকে দিন শূন্য হছে। 

ছোট্ট কন আঘাত হলেই 
ক্যামন জানি হয়ে যাছে।
সব কিছুতেই লাভালাভের হিসাব খোঁজছে। 

ভুলায় যাছে।-
কত কষ্ট করে গড়ে ছিল দুইটা শব্দ ---ভালবাসা। 
ছোট্ট থরা আঘাত হলেই 
সটকে যাছে। 

এত আপন,তবু ক্যানে জানি
দুর দুর মনে হছে।
মানুষগিলান বদলে যাছে।

চয়ন,ভুইল্যা গেসলাম।
দেরি হইয়া গেসে।

নন্দিতা ভট্টাচার্য্য

শুধু নিজের জন্য 
         
তোমার মঙ্গল কামনায় 
অনেক পূজা অর্চনা করেছি,
    রেখেছি কত ব্রত 
      কত উপবাস
    কত নিয়ম নিষ্ঠা,
নানা রঙের সুতো মাদুলি বেঁধে
     ধরে রাখতে চেয়েছি
           ভালোবাসা -
সে তো ছিল না মোটেই 
    উপোসী দেহে মনে 
ছিল শুধু উপেক্ষা আর অপমান-
হিমবাহ অবশেষে নেমেআসে
অকেজো বাঁধন সব ছিঁড়ে যায়

এখন আর উপোস করিনা,
ধর্মের, সমাজের কোনো দায়ভারও 
    ‌‌  আর নেই।
এখন আমি বাঁচি 
শুধু নিজের জন্য-

সপ্তশ্রী কর্মকার

সম্পর্ক 

সম্পর্ক একটি ধান,
বছরের পর বছর পরিচর্যায় 
তা প্রস্ফুটিত হয়ে চারা জন্মালে
চারদিকে বিস্তীর্ণ হয় লতাপাতায়
 
সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়ায় অজস্র 
পাপ পুণ্যের পাঁচমেশালি জীবনে 
কে কখন সংসারী ফোড়ার আঘাতে
বাইসনের দেহে ফিরে যায় 
তা অজানা!
অথচ যার কাছে এত ঋণী
কেউ যেতে চায় না সেই শিকারি জীবনে

রাহুল শীল

 তবুও 
     
আমাকে ঘৃণা করে ঘুরেছো
        দেশের পর দেশ,
        শহরের পর শহর,
        গ্রামের পর গ্রাম
আমাকে ঘৃণা করে পেয়েছো
তোমার মনের মতোই শূন্যতা।।

সঞ্জয় দত্ত

 স্পর্শ

তুমি আমার সামনে বসলে
মন শান্ত নদী হয়ে যায়,,
তার উপর সেতু বাঁধি বাষ্প দিয়ে।
আর সেই সেতুর নাম হয় হৃৎপিণ্ড,
সেখানে যাতায়াত করে একটা সংসার, জীবন, পৃথিবী।
যেদিন স্পর্শ করেছিলে বুক 
নাভিমুল ছিড়ে সেদিন জন্ম নিয়েছিল একটি গোলাপ।
পাপড়িতে লেখা ছিল অনেক গুলো লেখা,
আমি আলাদা আলাদা করে এক একটির নাম দিয়েছি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ!

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

হারানো শৈশব

অলস বিকেলে সেদিন একা ছিলাম দাঁড়িয়ে
আজন্ম লালিত নদীমাতৃকার চরে।
পাথুরে আঘাতে আহত নদীটি এখন শান্ত
তীরে ধানখেত নিয়ে ঘোর সংসারী, সংযত।
সূর্যডোবার আগে অস্তরাগ ছড়িয়ে 
মায়াময় রঙ হানে হৃদয়ের গভীরে।
নিস্তরঙ্গ নদীর বুকে শব্দহীন শান্ত অভিমান 
কানে কানে বলে গেল হারানো শৈশবের গান।
স্থিরবিন্দু হয়ে দূরে দাঁড়ানো অটল গাছটিতে  
খুঁজে ফিরি হারানো সময় ঝাপসা দৃষ্টিতে।
দুধ সাদা বকের দল ধ‍্যানমগ্ন তপস্বী 
দূরত্ব মাপে শিকারের জলে রাখে স্থিরদৃষ্টি  
অবচেতনে নদীর চরে দাঁড়ায় ছোট মেয়েটি।
জলকেলি করা এক শৈশব আমি তখন দেখছি, 
নিখাদ ভালোবাসায়, মমতায় জড়ানো কৈশোর
জলের গভীরে ডুবসাঁতারে তালাশ চলে রঙের ।
হারিয়ে যাবার খেলা খেলে বিনিময় করি শৈশব
আগে যদি জানতাম অনাবিল শৈশবের বৈভব!

চন্দ্রা বিশ্বাস

 দায় 
                
সবটুকূ আবেগ, সবটুকু অনুভূতি ধুয়ে মুছে 
মোম জ্বালিয়ে আঁধার কাটাই, 
কালো বৃত্তের পরিধি দীর্ঘ হলো আরও খানিক। 
মনেও  লোডশেডিং? জানতে চাইলে তুমি।
শীত নেমে এল পলাশে-কিংশুকে 
ব্যথা লুকোই আপোষের পশমের ওমে ।
স্মৃতিকে সময়ের গর্ভে পুনর্রোপিত করে ,
প্রসব যণ্ত্রণা গিলে ফেলি। 
কালো মেঘ আর নীল আকাশ 
তখন মিলেমিশে একাকার।
 কৃর্ত্রিমতার দাউদাউ দাবানল,  এক ফুঁ এ নিভিয়ে,
মন তখন মেঘদূতের ভূমিকায়। 
ব্যথা-যন্ত্রণায় নুয়ে পড়া, আবেগ অনুভূতিহীন একটা মন, 
মোমের আলোয় সে মলিনতা মুছবে তো?
ঈষৎ মাথা হেলিয়েছি, 
বোঝা -পড়ার দায় এখন তোমার। 
           

রীতা চক্রবর্তী ( লিপি )

 পারিজাত সঞ্চয়

মাঝে মাঝেই মনের ভিতরে 
অনেক শব্দেরা এসে ডানা ঝাপটায় 
প্রকাশের ভাষা খুঁজে ফেরে....
তারপর নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাসে
কথাগুলো হারিয়ে যায় 
পারিনা তাদের ভাষা রূপ দিতে 
তছনছ হয়ে যায়।

হঠাৎ ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে ওঠে
ওপারে দাঁড়িয়ে আছ আবছা 
চেহারা নিয়ে 
কুয়াশার মাঝে দেখা 
সূর্যের মত।
আপাত আলোয় তোমায় দেখি 
নিঃশব্দের ঘোর কাটে বাতাসের শব্দে।

আফশোস, একবার শুধু একবার 
যদি ফের দেখা হতো 
না বলা কথাগুলো উগরে দিতাম 
জ্যোৎস্নাস্নাত স্বপ্নময় রাত
একাকিত্ব মুছে দিত আমার,
মনে হয় বুকের ভিতরে জমে থাকা 
কথাগুলো সব পারিজাত সঞ্চয়।

রিপন সিংহ

 নাবিক (৩)

হে নাবিক
যেয়ো নাকো আর
পাবে না হৃদয় তার
যেয়ো না
যে'য়ো না
সন্ধ্যার সাগরে
যামিনীর তারাদলে
যেয়ো না তুমি 
তার মনের গভীরে।
থেমে যা 
থেমে যা
এ'বার একটু থেমে যা
তারপর আবার যা।

নৃপেশ আনন্দ দাস

দেয়াল ঘড়ি

মানুষের মনে যখন রাজনৈতিক ভয় জন্ম নেয়,
তখন দেয়ালের কান জন্মায় ।
অথচ এই দেয়াল ধরেই হাঁটতে শিখেছি, এই দেয়াল ধরেই হেঁটে যাই ক্রমাগত,  --- ''এখানে আমার নিজস্ব বলে কিছু নেই" এই শব্দগুচ্ছকে বিশ্বস্ত ধরে নিয়ে হেঁটেও যাবো ক্রমাগত ।

সুজন দেবনাথ

ক্ষত

নদীর বুকের উথাল পাথাল 
ঢেউ দেখেছি কতো,
দুকুল ভাঙার কাঁদন শুনেছি 
সয়েছি অজস্র ক্ষত।

দুচোখ মেলে দেখেছি কেবল 
সাধ্য ছিলোনা রোধ,
নিজের করে রাখতে পারিনি 
কেড়েছে সকল বোধ।

জীবনের ভুল ছাপিয়ে দুকুল 
বিলীন অথই জলে,
পথ ফুরালেই ফুরাবে যাতনা 
ডুবে যাবো অতলে।

ঝিমলি আচার্য্য

বর্ষা সাজে 

বর্ষা এলো বর্ষা এলো 
ও মাঝি ভাই নৌকা খুলো ।
দূর আকাশে মেঘ করেছে 
যাবে যদি জলদি চলো ।
ও পারেতে দুর্গা দিদি
তুলছে খাঁচায় সবজিগুলো ।
মা এর মুখে খাবার দিতে
ঠায় দাঁড়িয়ে ছেলে ভূলো ।
সূর্য্যি মামা বলছে ডেকে 
ঘরে ফিরো ঘরে ফিরো ——
মেঘেদের রক্ত চক্ষু 
                আমায় বিধলো ।
উৎসবে দেখো মেতেছে মেঘেরা
চারিদিকে কোলাহল ।
চাষিরা সব ঘরে ফিরছে 
কাঁধে নিয়ে লাঙল ।
মাঠে বসে দুর্গা দিদি করছে 
প্রার্থনা ,ঢেলোনা বেশি জল 
শান্তনা দিয়ে চলে যেও তুমি ,
চরণে রাখবো শতদল ।
বিদ্যুৎ চমক মেঘের গর্জন 
বর্ষার আকাশ আজ রণাঙ্গন ।
মাঝি কাকা তুমি মাকে নিয়ে 
এসো হাওয়ায় খেলছে জল ।
আম বাগানে গড়াগড়ি যায় 
কতশত আম্রফল ---
দেখতে ভীষণ লাগছে ভালো 
কুড়াতে চাইছি বৃষ্টি এলো ।
জেলেরা সব খালে বিলে 
জাল পেতে অপেক্ষায় রইল ।
বর্ষা মোদের এমনি হাঁসায় এমনি 
কাঁদায়, জল ঢেলে প্লাবন ঘটায় ।
 কিনারার খোঁজে হাবুডুবু
 খায় অসহায় জীবের দল ।
বর্ষা মাঝে সুখ দুঃখ চলতে 
                     থাকে অবিরল ।
কিন্তু প্রকৃতিই মোদের শেষ সম্বল ।

খুকুরানী দে

দেহ কষ্ট 

শরীর স্বাস্থ থাকে না নিজের অনুগত
কেমন করে বল জীবন করি গত?
যাপিত জীবনে তো থাকে আর ও কত
বেদনা, হতাশা, দুশ্চিন্তা অবিরত।

ইচ্ছে করে আনন্দ উল্লাস করে
থাকতে বাঁচতে জগত মাঝে,
ভয়ানক ব্যধি জটিলতা রোগের
অভিশাপ যে বড় বাজে।

বিষাদ পুর্ন জীবন হয়ে যায়
ধূসরময় মোটেও নয় সুখকর,
আছে এক ভয়ানক মানসিক 
স্বাস্থ সমস্যা অতি ভয়ংকর।

মোরগ ডাকা শেষ প্রহরে
ঘুম যে ভেঙ্গে যায় ওরে ,
রোগ ভোগ দুশ্চিন্তার সব শত্রু 
সৈন্য মোরে ধরেছে ঘিরে।

সংসারের রণক্ষেত্রে আমি
এক পরাজিত সৈনিক,
পালাবার ও উপায় নেই
অবরুদ্ধ সব দিক।

বিষন্নতায় জাগে প্রাণে
আত্ম দহনের প্রবণতা,
পরাজিত জীবন যাপনে কভু কভু
এসে যেতে চায় পরাভবতা।

বিষক্রিয়া পেয়ে বসেছে দেহে
যেতে চায় নাকো ছেড়ে,
তবুও বাঁচতে চাই আমি
সন্মানের মৃত্যু কামনা করে।।

রমা চন্দ্র

অরূপজ্যোতি

আমরা হারিয়ে যাচ্ছি দ্রুত লয়ে 
অপেক্ষারত কাল প্রলয়ে...,
ছন্দহীন দিশাবিহীন পার হচ্ছি...
সকাল দুপুর সাঁঝ নির্ঘুম রাত...!

গতিহীন অনাহারী প্রাণের
দুখের হাহাকার... 
শব্দহীন করে-
বিত্তশালীর সুখ-চিৎকার!

অবাধ্য বাতাস শুষে নেয়-
নগ্ন দেহের দীর্ঘশ্বাস...,
তীব্র দহনে ঝরা পাতায় লাগে আগুন...
দাবানল রূপে পোড়ায় অযাচিত ফাগুন!

হর্ম্য প্রাসাদ পাষাণ অন্তর
লীন হয় মহাকাল স্রোতে...
প্রান্তে অপেক্ষায় 'অরূপজ্যোতি'
হাতে অমল পরশ বাতি!

শৈলেন দাস

মিলি

তুমি হয়তো ভুলেই গেছো
আমার দেওয়া প্রীতি তবুও
আমি কলম ধরে লেখি
তোমার সাথে জড়িয়ে 
থাকা শত সহস্র স্মৃতি

তুমি হয়তো ভালোই
আছো আমায় ছাড়া বেশ
বিচ্ছেদের এই যন্ত্রনায় 
আমার জীবনে শুধুই এখন ক্লেশ

দীপান্বিতা পান্ডে

হিসাব

আমরা সকলেই বলতে চাই
কিন্তু শোনার ইচ্ছা করোর নেই ৷ একটু শুনতে শিখি
বলুক না সে
যা বলতে চাই কম কিম্বা বেশী। 
তাহলে আমার টাও তো বলা হয়ে যায় অনায়াসে
আকারে প্রকারে দৃষ্টির
 ভাবাবেগে। 
বলার পরে একটু থামা তাহলে তো প্রসঙ্গ টা গুরুত্ব পাই অনেক বেশী। 
কিন্তু না অভ্যাসটার বড্ড মেজাজ
শোনেনা কোনো শাসন বারণ
বলেই চলে নিজের মতন করে। 
অন্যের যে বলার থাকে 
সেই কথাটি আসেনা কখনও মনে। 
শোনা আর বলা দুটোই বড্ড হিসাব মেনে চলে। 

শর্মি দে*

বিলম্বিত আক্ষেপ

প্রতিবারই আসে সে ঋতু সে মাস সে ক্ষণ
আর সেই পলে জেগে ওঠে উপবাসি মন
খানিক অপেক্ষা আর অনেকখানি উপেক্ষা মিলে
উদযাপনের হিড়িক!
একাধারে সুখের বৈশাখী পথ...
মাঝধারে পলাশের গায়ে রক্তের ছোপ 
শেষটায় বিদ্রোহীর !
তবুও আলপথ বেয়ে কৃষ্ণচূড়ার মিছিল--
কিছু পাপড়ি উড়ে যায়! কিছু, আরো লাল হয়!
ঝড় দাপট ঘুর্ণি---
খোঁপায় কৃষ্ণচূড়া, প্রেম ফুটে ওঠে!
উনিশ চলে গেছে তবুও রয়ে গেছে আক্ষেপ--

সাগর শর্মা

চুম্বন

আমার সামনে যখনই মেমসাহেব হয়ে বসেছ
বাঁ হাতে ঘড়ি দেখে
ডান হাতের স্মার্টফোনে রেখেছ চোখ
ইচ্ছে ছিল
তোমার হাতে ধরে চুম্বন করার

সুমিত রঞ্জন আচার্য

এক দোয়াত রক্ত পেলে

এক দোয়াত রক্ত পেলে-
এবং কিছু সাদা কাগজ,
লিখা যেত বিমূর্ত সব বিপ্লবের কথা!
অরাজনৈতিক আখ্যান,
বৃষ্টিহীন কৃষি জমিতে-
উদোম গায়ের কৃষকের কবিতা!
এক দোয়াত রক্ত পেলে-
শহরের অলিতে গলিতে আলপনা আঁকত সেই বখাটে প্রেমিক তার প্রেমিকার ফুলশয্যার রাতে!
লেখা হতো জীবনি শতক 
সমস্ত রুগ্ন যৌনকর্মীর
যারা অন্ধকারে দাঁড়ায়
সাদা ভাতের গন্ধ নিতে,
 
এক দোয়াত রক্ত পেলে-
বিষণ্ণ প্রেমিকা চিঠি লিখত
শহরের সমস্ত দৃশ্য দূষন বিজ্ঞাপণের ব্যানার জুড়ে,
তার সেই অসমাপ্ত চিঠিরা
কবিতা হয়ে ঝরে পরতো..
প্রতিটি বাড়ির দরজায়
প্রভাতী পত্রিকার ভাঁজে ভঁজে!
এক দোয়াত তাজা রক্ত পেলে
আমিও এঁকে নিতাম ভোরের সূর্যকে 
এক অদ্ভুত লাল রং-এ!