May 30, 2024

অপাংশু দেবনাথ

জলসত্রলিপি

সুতরাং এমন ভাবনাবসত তুমি যেতে পারো প্রান্তর ছাড়িয়ে,
স্বপ্নপ্রণয়ে কেউ এভাবে স্বজনের মাঝে স্বজন খুঁজে মরে! 
আমি প্রতিস্রোতে ছুটে যাওয়া এক বৈকালিক বৈভব।
হাওয়া ফুরোলে দমবন্ধ হয়ে আসে নীল ঘুর্ণমান ধোঁয়াভোরে।

অনাবৃষ্টিতে বিজয়সিঁড়ি কতোটা মোহময় ছিলো স্নায়ুসমর জানে,
কবে ঘরে সাজিয়েছো পাথর এখনো সমান উজ্জ্বল।
রাত্রি এক অপার মায়ারূপে জড়িয়ে ধরে, সাজো তুমি,
দিন থেকে দিনে গলে গলে পড়ে ঘৃণা, যাবতীয় প্রসাধনসামগ্রি।
প্রণয় তো একফসলা বৃষ্টি নয়, বন্ধ্যানগরীর পথধুলো ভাবো, 
ইচ্ছে-হাতে ঝাড়ু নিয়ে পৌর নর্দমা সাফাইকর্মী হবে?

পথে পথে আমার স্বজনের প্রশ্বাস লেগে আছে , ঘর্ম, তিয়াসও।
ইচ্ছেমায়া ছড়াই, সে পথে যাই , ছুঁয়ে ছুঁয়ে লিখি সমর্পিত জলসত্রলিপি।

সনজিৎ বণিক

অধিকার 

সময়টা ভালো নেই 

ভারতবর্ষের মানুষ দিন দিন হারিয়ে ফেলছে তার ঐতিহ্য ও অঙ্গীকারের ভাষা ,

সাধ আর সাধ্যের সীমারেখায় কেউ সহজ থাকতে চায় না,এক আজব ও মিথ্যে দুনিয়ার সাধ আর ষড়যন্ত্রের ভেতর মানুষ তার পারিপার্শ্বিক মানুষকেই  মিথ্যে দুনিয়ার পরিভাষায় লালন করতে চায় আর ভয়ঙ্কর সুন্দর স্বপ্নের ভেতর হারিয়ে ফেলছে এ সময়ের সুন্দর পরিবেশ।

অধিকার তো মনজুড়ে প্রাণ জুড়ে জেগে থাকতে চায় সকলেই , এই দেশ ভারতবর্ষ আমার তোমার ও এই দুনিয়ার, এখানে রোজ ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পশু পাখিদের আনাগোনা, বাতাসের নীরব ঠান্ডা পরশ সব স্বপ্নের মায়াজালে জড়িয়ে রেখেছে আমাদের, এই সনাতন সুন্দর ভারতবর্ষ জেগে উঠুক মানুষের জন্যে আবার।

মিঠুন রায়

প্রবন্ধ 

শতবর্ষে গল্পকার বিমল চৌধুরী 

বাংলা সাহিত্য চর্চার ইতিহাসে অরণ্যদুহিতা ত্রিপুরা একটা বিশেষ স্থান করে নিয়েছে । স্বাধীনতার উত্তরকাল থেকেই কাব্যচর্চার পাশাপাশি ছোটগল্প রচনায়ও রাজ্যের লেখকদের অবদান নেহাত কম নয় । রাজ্যের প্রথিতযশা গল্পকার বিমল চৌধুরী এমনই একজন , যার অনবদ্য রচনায় শিল্প- সুষমার ছাপ বরাবরই পরিলক্ষিত হয় । এ বছর সাহিত্যিক বিমল চৌধুরীর জন্মবর্ষ। বাংলা গল্পের ভগীরথ বিমল চৌধুরীর লেখালেখি শুরু বলতে গেলে চল্লিশের দশকে । পাঠকের দরবারে তিনি রেখে গেছেন বাংলা গল্পের অপূর্ব সৃষ্টি সাম্ভার । গল্পকার বিমল চৌধুরীর জন্ম ১৯২৩ সালের ২৭ জুলাই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া গ্রামে । পিতা কামিনী ভূষণ চৌধুরী ও মাতা কিরণ শশী দেবী । ঢাকার জুবিলি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হবার পর কলকাতার আয়ুবেদ সারস্বত মহাবিদ্যালয় থেকে শিক্ষাপর্ব শেষ করেন । তাঁর কৈশোর সময়ে ঢাকার অন্যতম সাপ্তাহিক সোনার বাংলা ' যে কাগজে বুদ্ধদেব বসু লিখতেন , সেই কাগজে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় । ১৯৪০ সালে তিনি আগরতলায় বসবাস শুরু করেন । ঐ সময় তিনি রাজ্যের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বেশ কিছু কবিতা লেখেন । একসময় নবজাগরণ পত্রিকায় প্রথম তাঁর লেখা গল্প প্রকাশিত হয় । আসলে চারের দশক থেকে নয়ের দশক মধ্যবর্তী প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে তিনি প্রচুর গল্প লিখেছেন , অনেক কবিতাও লিখেছেন । একসময় “ তোরে নাহি করি ভয় ” গল্পের জন্য তাকে রাজরোষে পড়তে হয়েছিল । তাঁর লেখা “ জাগরণ ” অন্যতম সেরা গল্প । “ হিজল খালের কান্না ” , “ ভগীরথের তালা ' অথবা ' সোয়াদ ' গল্পগুলি আজকের দিনেও পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখায় । ১৯৪৬ সালে নবজাগরণ পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ' একটি কাহিনি' প্রকাশ পায়।১৯৪৯ সালে চিনিহা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়  তার প্রথম প্রবন্ধ চাকলা জমিদারি । বিমল চৌধুরী লেখক জীবনের শুরু থেকে যতগুলি গল্প

লিখেছেন , তাদের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য প্রচুর । এমনকি একই সময়ের দুটি লেখা তাঁর আলাদা মেজাজ , আলাদা ধর্ম আলাদা প্রকৃতি , ফলে পাঠকের কাছে লেখক চরিত্র অনেকটা অস্পষ্ট মনে হয় । একসময় মানুষ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা সম্পাদনা করেন । একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে চার দশকের মাঝামাঝি সময়ে সমগ্র বাংলা গল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিষয় আঙ্গিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল । গল্পের পটভূমি , চরিত্র সংলাপের খেত্রেও লেখকগণ প্রচলিত পথ থেকে অনেকটা ভিন্ন পথে সরে এসেছিলেন । বিমল চৌধুরী মূলত ঐ সময়ের লেখক । রাজন্য শাসিত পার্বতী ত্রিপুরায় তিনি মূলত স্থানীয় মানুষের সুখ - দুঃখ , প্রেম ভালোবাসা , মানুষের প্রতিবাদকে ভাষায় রূপ দিয়েছেন । ১৯৭৩ ইং সালে আগরতলা পৌণমী প্রকাশনী থেকে বিমল চৌধুরীর প্রথম গল্পগ্রন্থ “ মানুষের চন্দ্রবিজয় ও তার নাম " প্রকাশিত হয় । এ গ্রন্থে জাগরণ , অনুভব , বনস্পতির মৃত্যু , আলোর পরে দেয়াল , অন্যস্বাদ সহ বেশকিছু গল্প স্হান পেয়েছে । 

 এ গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেছেন- গল্প মূলত প্রতীতির সমগ্রতা ও লেখকের ব্যক্তিমানসের তাৎপর্যময় দিক বলেই জীবনের চলস্রোতে একই প্রসঙ্গ নানাভাবে প্রতীকীগত হয়ে চলেছে । শুধুমাত্র পরিবর্তনশীল সমাজ জীবনের কথা ও বৃত্তান্তই শেষ কথা নয় , গল্প সাহিত্য লেখকের অন্তর্নিহিত কল্পনামিশ্রিত মানসিকতার ও শিল্পবিন্যাস । এই বিন্যাসকে কোনো সংজ্ঞা দিয়ে বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয় বলে গল্পের রসাস্বাদন পাঠকের রুচির উপর নির্ভরশীল । 

  চারপাশের প্রকৃতি , মানুষ ও তার অন্তর বহি : সংঘাত বহমান জীবনের খণ্ডচিত্র সমূহ গল্পের উপকরণ । সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের ব্যক্তি জীবনের অর্থনৈতিক সমস্যাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন “ মানুষের চন্দ্রবিজয় ও তার নাম "গল্পে । গল্পটি ১৯৬৯ সালে লেখা । আবার দেশভাগের যন্ত্রণা , হিন্দু - মুসলমানের সংঘাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে দৃষ্টান্ত , পিপীলিকা উপখ্যান , হিজলখালের কান্না ইত্যাদি গল্পে । ১৯৯৭ সালে প্রকাশ হয় তাঁর লেখা অন্যতম গল্প সংকলন ভগীরথের তালা । মূলত ১৯৬১ ১৯৯৪ সালে পর্যন্ত লেখা ১৮ টি গল্প স্থান পেয়েছে এই সংকলনে । এই সংকলনে সদর উত্তরের চা বাগানের পটভূমি নিয়ে তৈরি গল্প সোয়াদ স্থান পেয়েছে । ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় গল্প সংকলন “ নায়কের জন্ম ” । প্রকাশক প্রত্যাশা পাবলিকেশন । এ সংকলনে ২৪ টি গল্প স্থান পেয়েছে । ভূমিকা লিখেছেন অধ্যাপক ড.শিশির কুমার সিংহ । এ সংকলনে রয়েছে “ ত্রিপুরা ৮০ ” , “ আর এক সমুদ্র ” , “ অন্য ক্ষুধা " , " বৃষ্টির স্বাদ " " এক চিতল হরিণ " । গল্পগুলোর মধ্যে অনেকটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন লেখক ।   অন্য ক্ষুধা গল্পে লেখক তুলে ধরেছেন সমাজে অবহেলিত এক ব্যক্তির দিনলিপি । সারাদিন পান বিক্রি করে কাটে যার জীবন । এ মানুষটির মনে আছে অনর্থ ক্ষুধা । একসময়ের সহপাঠী সুব্রত এসে হাজির হয় আচমকা তার জীবনে ।নানা প্রান্তের মানুষের কাহিনী শুনে উধাও হয়ে যায় সে।তারপর ঐ অবহেলিত মানুষটির জীবনে আসে নানা পরিবর্তন । সবমিলিয়ে গল্পটিতে এসেছে অন্য অনুভূতি । লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ত্রিপুরা রাজ্যে প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কার । আসলে বিমল চৌধুরীর গল্পে কখনো রোমান্টিকতা , কখনোবা বাস্তব সামাজিক অব্যবস্থার প্রতিবাদের বিষয় স্থান পেয়েছে । মানুষ ও মনুষ্যত্বের সর্বাপেক্ষা তিনি আজীবন কলম চালিয়েছেন। 

 ২০০১ সালের ৬ অক্টোবর ৭৯ বছর বয়সে বিমল চৌধুরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিশেষে বলা যায় , কথাসাহিত্যিক বিমল চৌধুরী তার গল্পের আঁটোসাঁটো গাঁথুনিতে বাংলা ছোটগল্পকে শক্তিশালী করেছেন । রোমান্টিক মানসিকতার পাশাপাশি মানবিক আবেদন ফুটে উঠেছে তার লেখা গল্পগুলিতে । তাইতো তিনি একজন ব্যতিক্রমী গল্পকার । জন্মশতবর্ষে তাঁর রচনাবলী পুনঃপাঠ জরুরি ।

দেবারতি গুহ সামন্ত

শোপিসটা

শোপিসটা ভেঙ্গে গেল অসাবধানতায়,
উঁচু তাকে পড়ে ছিল অবহেলায়,
পরতে পরতে ধুলো জমেছিল,
চকচকে কাঁচে আবছা আঁচড়।

টুকরো কুড়োতে গিয়ে,
হাতে গেঁথে গেল কাঁচ,
রক্তক্ষরণ হলো,
হাতে এবং হৃদয়ে।

মনে পড়ে গেল,
উপহার প্রদানকারীর কথা,
এতোদিন যত্নে লুকিয়ে ছিল মনের সিন্দুকে,
আজ বেড়িয়ে এলো,নির্লজ্জ ভাবে!

অলকা গোস্বামী

ভালো থাকা সহজ 


গভীর কষ্টে যখন
বুকের পাঁজর গুলো কেঁপে উঠে ,
ইচ্ছে করে রাশ খুলে 
মনের সব কথা খুলে বলি তোকে।
তোর হরিণ চোখ আর 
ছেলেমানুষী ভরা মুখটি দেখে
ভরসা পাইনা।
চাইনা তোর চোখ ভরে উঠুক
আমার কষ্টগুলো মেপে।

দৃষ্টি ঝাপসা হচ্ছে ক্রমশ
ওই দূরের নীল আকাশ 
ছুঁয়ে যায় 
লাল কৃষ্ণচূড়া।
মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায়
ক্লান্ত পাখি সব।
 ভালো থাকা সহজ,
যতক্ষন আলো ছড়িয়ে থাকে।
শুধু ভয়
অন্ধকার হবার আগে যেন 
ঘরে ফিরতে পারি।

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

বৃষ্টি

বৃষ্টি আমার বুক থেকে
স্বপ্ন কেড়ে নেয়।
কেড়ে নেয় শান্তির ঘুম।

বিনিদ্র রাত পোহায়,
রাত জুড়ে ডেকে যায় সাইরেন
চারপাশ নিশ্চুপ, নিঝুম।

ভারী হয়ে উঠে বাবার
তপ্ত বুকের বাঁ পাশ।
বৃষ্টি তাকে শীতল করতে পারেনা।

প্রতি বর্ষায় বেড়ে যায়
মায়ের চোখে উৎকণ্ঠা।
আমার ব্যর্থ দুচোখ দেখেও দেখেনা।

বৃষ্টি আমায় রোমাঞ্চিত করেনা।
হারিয়ে যাই একরাশ শূন্যতায়,
বৃষ্টি আর আলোর ঝলকানি তে।

রিপন সিংহ

তোমার রহস্য

পৃথিবী আজ কতদূর এগিয়ে! আমি সেই পুরোনো পথে,
অর্থহীন, ব্যর্থ এক নাবিকের মতো
অপরিচিত এক নতুন জগৎ, লোকালয় থেকে দূরে
অনেকটা দূরে---
আমি এক ভুল শূন্যতার মধ্যে
সমস্ত কিছু,
শিশুকাল হয়ে, জন্ম থেকেই অনাথ;
আজও! হয়তো আজীবন
জীবন প্রায় থমকে গেছে
তবু তোমার রহস্য আজও শূন্য আমার কাছে।

সূত্রা সরকার সাহা

দিগন্ত রেখায় 
 
উদাসী মন ধেয়ে যায় দিগন্ত রেখায়,
শূন্যাঙ্কের বৃথা সমাধান খোঁজে নীল নীলিমায়,
মন ধায় ঘন কালো মেঘের ঘনঘটায়,
অশান্ত হৃদয়ের উথাল পাথাল ঢেউ নিঃসঙ্গতায়।

জ্যোৎস্নার মিঠি আলোয় পূর্ণতার আশা জাগায়,
অমানিশার ঘোর অন্ধকারে জোছন বেলা হারায়,
কালচক্রের গতি সময়ে নিত্য ঘুরপাক খায়,
শূন্যতার সমাধান খোঁজে জীবন লিপির বর্ণমালায়।

ছবি আঁকে কল্পনায় দূর গগন ছায়,
নক্ষত্রখোচিত জ্বলজ্বল তারকারাজির মিটিমিটি আলোক দীপমালায়,
অনন্ত অসীম মাঝে সুন্দরের কল্পনায়,
রামধনুর সাতরঙে মিশে স্নিগ্ধতার পরশ পায়।

শান্তির বারতা আশা জাগায় বৃষ্টিস্নাত ধরায়,
আলো ছায়ার লুকোচুরি খেলা নেশার মাদকতায়,
বিদ্যুতের ঝিলিক মাঝে বৃষ্টিকে খুঁজে পায়,
প্রেমের কবিতা ভালোলাগার গান গায়।

নৃপেশ আনন্দ দাস

যাত্রী

অ চন্দ্রবিন্দুতে এলে শেষযাত্রার চন্দন কাঠ জমা হয় ; অনেক যোজন-বিয়োজন শব্দের পরে একটা সমবায়-কাহিনী পাঠ করা হয় ।

একটা নির্ধারিত সময় ---

এ সময় তুমি তুলনায় না মেপে, চলো অপু-দুর্গার মতো প্রথমবারের রেল দেখি ; যে অবচেতন রূপ প্রতিদিন প্রতিবেশী হয়, তাকে চেতনার রূপে আখ্যায়িত করি । তখন সরস কাহিনী রচিত হলে, ঈশ্বর হাততালি দেয় ।

এরপর,

লোহর নদীর বুকে বইঠাহীন সব নৌকো একমুখী হলে, আমিও যাত্রী হই ।

ছন্দা দাম

দুই মহল

আমার আমি আঁধার হাতড়ে কুড়াই নিশিপদ্ম...
তোমার তুমি তখন ব্যস্ত কংক্রিট মাখা বুকটাতে সিমেন্ট লেপে দিতে,
আমার আমি ক্ষতদের ভালোবেসে কবিতা ফোটাই...
তোমার তুমিটা তৃপ্ত তখন  ইটের পাঁজা আর চুণ সুরকিতে।

আমার আমিটা বইয়ের পৃষ্টার জগতটাকে হাতে সাজাই
চড়ুই পাখির খড়কুটোতে স্বপ্ন বুনি,
তোমার তুমি গগনচুম্বীর বাতায়নে আকাশ খোঁজো...
হৃদয়টাকে গচ্ছিত রেখে কোথায় জানি!!

আমার আমিটা বেজায় বেয়ারা ঢেউয়ের তালে হৃদয়ের বোল কাহারবা,
মহুয়া নেশায় মাতাল বনের ফড়িং হবো,
তোমার তুমিটা মাসকাবারির হিসেবী ফর্দের ক্যালকুলেটার..
বুক পকেটের হৃদয়টাকেও হিসেবে ছোঁবো।

আমার আমিটা ভোকাট্টা ঘুড়ি, শূণ্য চিলেকোঠা,বেদুইন মাস্তুল...
বিজন বেলায় নোঙর ফেলা একলা জাহাজ,
তোমার তুমিটা বদ্ধ ঘরের চৌকা আকাশ জমিয়ে রাখা...
জেনে রেখো,উড়তে হলে হৃদয়টা চাই নিয়মবিহীন বিন্দাস ।

জয়িতা ভট্টাচার্য

রবীন্দ্রনাথ 

গর্ভের অপমান কাঁধে করে ছেলেটি 
আলোয় বসে পড়ে ফেলছে 
বালক বীরের কথা।
বাতাস বাউল ডাকে ঘোর
অন্ধকার পথে 
একা একা গান হয় ফাগুনের রাতে।

খালের জলে ভাসছে লাশ
ফসল খেয়ে গেছে কোন পঙ্গপাল 
এবড়ো-খেবড়ো চাঁদের মাটি তবু জ্যোৎস্না
ছড়ায় পাড়ায় পাড়ায়।
যে ছেলেটি মিড ডে মিল খাবে বলে
ইস্কুল এসেছিল তালগাছ সামনে রেখে
আকাশ ছোঁবার স্বপ্ন দেখে সেও এখন।
ওই ছেলেটির নাম ভানু।

সমস্ত স্বপ্ন হারিয়ে
হাসি দিদিমণি মরা বিকেলে এখনও 
গীতবিতান আঁকড়ে আছে স্তনবৃন্তে ।
একা।খুব একা একা।কাঁদছে না আর।

ওরা এসে গেছে,
দলকে দল সন্দেশখালির রাত উৎসবে।
রাংচিতার বেড়া আটকে
ভানু মুখস্থ বলছে,
'আমি আছি,ভয় কেন,মা করো।

চন্দ্রা বিশ্বাস

শুচিতা 

কাঁটা তারের বেড়ায় বাঁধি মনের 
ভূষণ আমার 
মেঘ-রোদ্দুর হেসে বলে, আয় খেলব লুকোচুরি, 
অবাক চোখে চেয়ে বলি, সময় এখন খেলার? 
শান্ত হয়ে বোসো এখন বন্ধ হুড়োহুড়ি। 
রাশি রাশি অক্ষরেরা চোখের সামনে পাহাড় ,
তা দিয়েই তো গাঁথব এখন বিনি সুতোর মালা। 
কবিতা ফুলের সেই মালাতে ঝুলবে লকেট বাহার ।
সেই মালাতেই সাজিয়ে দেব আমার পূজার থালা।
উপাসনায় বসার আগে শুদ্ধ হব স্নানে ,
নদীতে ডুব দিয়ে এসে বসব তাঁরই ধ্যানে। 
আত্মপ্রদীপ জ্বেলে হবে মন্ত্র উচ্চারণ 
সেই কাঁটা তারের আড়ালেই  হোক আত্ম নিবেদন।

শিপ্রা দাশ

অনুগল্প 

খোলস

সেদিন একটা ভিডিও দেখার পর, মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায় সুতপার ভিডিওটা ছিল ঝিনুকের খোলস ভেঙ্গে নৃশংসভাবে মুক্তাকে বের করার দৃশ্য কোনভাবেই মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেনা সুতপা ছোটবেলার বা কিছুদিন আগেও পছন্দের ছিল মুক্তার মালা কানের দুল, নানা ধরনের ডিজাইন করা গহনা

        ঝিনুক আর মুক্তার জীবন নিয়ে টানাহেঁচড়া অবাক করে দিয়েছিল সুতপাকে কিভাবে নিষ্ঠুর নির্মম ভাবে ছুরি দিয়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, আবার কখনো ঝিনুকের দেহ থেকে টিপে মুক্তাকে বের করা হচ্ছে  এতো মারাত্মক জীবন যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে ঝিনুক কে আদরে লালিত মুক্তাকে  তার বুকের পাঁজর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে অসহায় ঝিনুক সব মুখ বুজে সহ্য করছে ঝিনুক কি জানতো তার বুক আলো করে যার জন্ম তাকে হরণ করে নেবে, আর ঝিনুককে এভাবে নিরস্ত্র, নিঃসহায় ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে এই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সুতপার দুই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।

প্রতীক হালদার

চাওয়া পাওয়ার হিসাব 

কোনো এক অচেনা ঠিকানায় হারিয়ে যাব !
কাউকে কিছু না বলেই ,
অভিযোগ রাখবো না কারোর প্রতি !
অভিমানের কারণ খুঁজতে গিয়ে,
নিজেকে নিজের কাছে ছোট করব না।
মেনে নেব নিজের ভবিতব্য কে!
দু:খ গুলোকে পুষব না মনের মধ্যে।
স্মৃতির ভিড়ে নিজেকে বন্দী করে রাখব !
ব্যস্ত করব নিজের কোনো এক
অন্য ইচ্ছেতে।
মনকে ব্যাকুল হতে দেব না!
পৃথিবীকে চিৎকার করে বলব না,
কি পেলাম এ জীবনে?
আর কি হারিয়ে ফেললাম?
মন কে শান্ত করব, 
আমি যা পেয়েছি,
এ তো আমার পাওয়ার কথা ছিল না!
না চাইতেই অনেক বেশি কিছু পেয়ে গেছি।
আসলে আমরা কি চাই আর কি পাই তার হিসাব যে বেমানান!
তবুও চাওয়া - পাওয়ার হিসাব খুঁজতে রোজ ব্যস্ত হতে হয়।

আমিনুল ইসলাম

বেকারত্ব

বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যায়,
স্বপ্ন ভাঙে আবার গড়ার চেষ্টা।        
বেকারত্ব এ যেন এক যন্ত্রণা,
চোখের কোনে নোনাজল
বাবা মা র চোখে হতাশার ছাপ।
সফলতার গল্প শুনার জন্য অপেক্ষা,
নিজেকে খুব ছোট মনে হয়
তারপরেও আমার দু চোখ স্বপ্নবুনে
সফলতা দেখতে চায় আমার দু চোখ
পা বাড়াতে চায় নতুন কিছুর দিকে।
থমকে যায় তবু চলতে চাই, সফলতার সেই শিখরে।

রমা চন্দ্র

দ্যুলোক প্রেম 

আমি রোদ্দুর প্রত্যাশী
তাই সূর্যমুখীর মত‌ রোদ্দুর ভালবাসি...
রৌদ্র স্নানে হাসি
উর্দ্ধমুখী আকাশ দেখি...।

গোধূলি দিগন্ত রেখায় না হেঁটে
সূর্যাস্তের রক্তিম রাগে-
সুনীল গগনে ফিরি ঈগল ডানায় 
এক মায়াময় আত্মমগ্নতায়...!

আমি প্রজ্জ্বলিত সন্ধ্যা দীপালোক হতে
'শুকতারা' ভালবাসি...
উন্মুক্ত প্রান্তরে সান্ধ্য গগনে-
হারায় তৃপ্ত নয়নে...!

চাঁদের কাঙাল আমি 
জ্যোৎস্না ভালবাসি
পূর্ণ পূর্ণিমা রাতে-
চাঁদনী প্লাবনে ভাসি...!

আসলেই আমি আকাশ ভালবাসি,
আঁখিতে আকাশ রেখে
মহানন্দ সাগরে-
শূন্য হতে মহাশূন্যে ভাসি...!

দীপান্বিতা পাণ্ডে

প্রমাণ

মৃত্যুর ওপারে কি আছে জানা নেই
মহাশুন্য পরজন্ম নাকি কিছু নেই।
এর উত্তর আজপর্যন্ত কেউ দেয়নি কখনো
যত সব শাস্ত্র কথা কল্পনার আশ্রয়ে
বিজ্ঞান প্রমাণ খোঁজে সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

আমার আছে উনিশ-একুশ

সংখ্যা নিয়ে খেলছিলাম বেশ
থেমে গেলাম উনিশে
কেন, থামলে কেন, জানতে চাইল সবাই।
উত্থানের সমীকরণে আত্মার স্পন্দন শুনে 
হাত আমার মুঠো হয়ে দৃঢ় হল
উর্ধে উঠে গেল অজান্তেই।
বললাম নির্ভয় হৃদয় দিয়ে 
"উনিশ নয়, এখানে লিখব মাতৃভাষার জয়"।
একুশ নিয়ে মেতেছ সবাই, উনিশ কেন নিরুচ্চার!
উনিশ বুঝি ছিন্নমূলের, এগারোর নেই কোন পুরস্কার ?
গভীর ক্ষত করেছে পিশাচ মানচিত্র কেটে ছিঁড়ে 
তাই বলে মায়ের অংশ মাতৃভাষা ভুলি কি করে!
আমার আছে 'উনিশ-একুশ' আগামীর সঞ্চয় 
গর্ব ভরে বলতে শিখব, "জয়, বাংলাভাষার জয়"।।

পাপিয়া দাস

তুমি নজরুল

আমি তোমাকে ভালোবাসি-
সেই প্রভাতী কবিতা পড়ে।
আজ‌ও রোজ ভোরবেলা 
তোমার সেই কবিতাটি মনে পরে।

আমার সাহস তুমি-
কারন তোমার সেই "কান্ডারী হুশিয়ার"
জাগিয়ে তুলে আমার মনে
সাহসের এক বিশাল সাগর।

তুমি সাম্যের গান গেয়েছিলে
সকলকে ভালোবেসে,
দুঃখে ভরা ছিল জীবন তোমার 
তবুও সব সহ্য করে নিয়েছিলে হেসে হেসে।

রীতা চক্রবর্তী (লিপি)

আগ জ্বলা রদ্দুর

গ্রীষ্মের খরতাপে দগ্ধ দুপুর
ছাদের কার্নিশে শ্রান্ত ঘুঘুর সুর,
তৃষ্ণায় ছাতি ফাটা ক্লান্ত হকার
ছায়াহীন প্রান্তর পথ চলা দুর্বার।
আগ জ্বলা রদ্দুর,উদার আকাশ 
নীল খাম খবর পুরে বৃষ্টি নামার।
ভাবনায় বৃষ্টি ফোঁটা মিষ্টি মধুর 
চাঁদ ডুববে মেঘের আড়ে আকাশ মেদুর।
একদিন বৃষ্টিমুখর মেঘলা আকাশ
উঠোন জুড়ে একমুঠো সুখ শীতল বাতাস।
তারপর বাতাসের খুনসুটি , চাতক হাসে
ঝড় জল বৃষ্টিতে পাথুরে ফুটিফাটা জমি উঠবে ভরে,মখমলি সবুজ ঘাসে।

মিতা রায়

অনুভব 

মন আমার একলা নদী
বয়ে যায়।
চৈত-বোশেখের পাতারা...
ঝরতে ঝরতে,
কালবৈশাখী 'র জলে
ভেসে বেড়ায়..... 
কিন্তু ঠিক এক'দু মাস পর,
তুই আমার কাছে এসে বললি,
'বিকেলে একবার মাঠে দেখা করবি?'
কথা ছিলো.....
ভাবলাম,সেদিন তোকে যে আমি বলেছিলাম..... 
শুনে তুই বললি,হোয়াট?
আমি তো ভয়ে পিছু হটেছিলাম! 
আজ আমি অবাক!
কী বলবে রে বাবা!
কিন্তু বিকেলে তুই বললি শুধু....... 
কী যেন বললি?

শুভ্ৰা সাহা

রবীন্দ্ৰনাথের প্ৰতি

নতুন বছরের আড্ডাটা এখন তোমাকে ঘিরেই শুরু। 
নববর্ষ আর কবি পক্ষ দুটোই যেন একই সুতোয় গাঁথা ঘুড়ি।
বৈশাখী আড্ডায় তাল গোল পাকানো--
একটা অবস্থানে,হঠাৎ সুঠাম একটি-
ব্যবস্থাপনা সরলরেখায় বহুদূর চলে যায়। 
চারিদিকে যে অমৃত বাণী ছড়ায়
তার একটু নির্যাস আজও ছুঁয়ে আছে
২৫শে বৈশাখে।
এক অনন্ত আভা, তোমাকে ঘিরে চারিদিকে।
এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন দিকে দিকে ।
তবুও আজ তোমার সমৃদ্ধ বাণী --
শুধুই যেন চোখের তৃষ্ণা মেটায়,
ধরণী  প্ৰানে বাঁধে কম ।
শুধু প্রচারে আকৃষ্ট মানব মণ।
একবার এই বাণীর বাণী প্রচারে - 
কলম এগিয়ে আসুক -
একটি কলম।
প্রকৃষ্ট কলম -সমৃদ্ধ কলম ,
তোমার কলমকে মুগ্ধ বাতাবরণে মেলে ধরতে, বিশুদ্ধ মানবতা সৃষ্টি করতে ।
সেই কলম একবার পাঠাও তুমি --
যে রবীন্দ্র বাণীকে ধরাধামে  -
হৃদয় বাহি মানবিক -
আবেদনে জাগিয়ে তুলবে।

নুরুল শিপার খান

চিঠি

প্রিয় বৈশাখী

শীতের তিব্রতা কাটিয়ে চৈত্রের ক্ষরতাপ আর ঝড়ো বাতাসে যখন সারা পৃথিবীময় আচ্ছাদিত ঠিক তখনি তোমার হাস্যজ্জল মিষ্টি বদনখানী আমার আখিঁপটে ভেসে উঠলো!

কেমন আছো ,নিশ্চয়ই ভাল,কিন্তু আজ ও আমার একেলা কাটে দিন

তুমিহীন!

সঙ্গী বলতে তোমাকেই ভেবে নিয়েছিলাম মনে প্রানে!

মনে আছে তোমার প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল ,তুমি বাসন্তি রঙ এর শাড়ি আর আমি নেভি-ব্লু পান্জাবী পরেছিলাম!

দেখা হয়েছিল রমনার বটমুলে হাতে ছিল একটি গোলাপ কলি!

তুমি গোলাপ ভিষন পছন্দ করতে,আর আমি ও!

সারাদিন শুধু ঘুরে বেড়িয়েছিলাম দুজন,

মাটির বাসনে করে পানতা ইলিশ খেয়েছিলাম দুজন,তারপর টি এস সিতে বসে মরিচ তেতুলের চা!

আজ পহেলা বৈশাখ 

শুভ নববর্ষ!

খুব ভোরে বাসা থেকে বেরিয়ে রমনার গেটে দাড়িয়ে আছি,ফাঁকে ফাঁকে ঝাকে ঝাকে উঠতি বয়সী মেয়েদের আলতো রাঙা পায়ে নুপুরের ঝংকার দেখতে দেখতে কখন যে তোমার ভুবনে হারিয়ে গেছি নিজেই জানিনা!

আমার মনের লালিত যত রঙ তা যেন ফ্যাকাসে হয়ে মুদুলের দু-নয়নে ঝরে পড়ছে!

বৈশাখী তুমি আজ কত দুরে,সেই যে সুদুরে পাড়ি জমালে আর ফিরে এলেনা!

জানি যেখানে আছো ভালই আছো,কিন্তু তুমি বিহনে এই বৈশাখী আনন্দে আমার মন যে শীতের তিব্র কষ্টে ভুগছে তা তুমি জানতে ও পারলে না!

যদি তুমি ফিরে এসো তবে তোমাকে নিয়ে চলে যাব প্রেমরাজ্যের তারকা সম্ভোলনে ,যেখানে থাকবে শুধু ভালবাসা!

ফিরে এসো

Please.......

পান্থ দাস

তোমার চোখ

ভেবেছি সুযোগ পেলে তোমার নামে
পছন্দের দুটি কানের দুল কিনবো,
ভালোবাসার রঙ মাখিয়ে চিবুক ধরে
আলতো হেসে তোমার চোখে হারাবো।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

 অনুগল্প

একটি সুন্দর মন

রমানাথ বাড়িতে একাই থাকতেন স্ত্রী মারা গেছে বছর দুয়েক হল। রমানাথ ছিলেন খুবই শান্ত স্বভাবের এবং পরোপকারী। সন্ধ্যা হলেই রমানাথের নাট মন্দিরে ছোট ছোট কচিকাঁচারা সহ সকলে এসে ভীড় জমাত। তারা রমানাথ কে খুব ভালোবাসত। রমানাথ ও একদিন তাদের না দেখে থাকতে পারতেন না। রমানাথ প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাচ্চাদের খোঁজ নিয়ে আসতেন তারা ভালো আছে কিনা। পাড়া টা ছিল খুবই গরীব সকলেই কাজ করে সংসার চালাতো। রমানাথ সবসময় তাদের অবস্থান অনুযায়ী কিছু না কিছু দিয়ে সাহায্য করে আসতেন। রমানাথের দুটি গরু ছিল। প্রতিদিন দুধ নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসতেন গ্রামেরই মুন্ডা পরিবারের দুটি বাচ্চা কে। ওরাও তাকিয়ে থাকত রমানাথের দিকে। রমানাথ শিশুদেরকে ঈশ্বর রূপে দেখতেন। একদিন রমানাথ রাতে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লে শেষ রাতের দিকে শরীরটা বেশ খারাপ অনুভব করছেন। ভেবেছিলেন দরজা খুলে বেরিয়ে কাউকে ডাক বেন কিন্তু দরজা খুলে বাইরে যেতেই নাট মন্দিরের সামনে পড়ে যান। সকাল হলে রমানাথের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পাড়ার লোকেরা বাড়ীর ভিতর ঢুকে দেখে রমানাথ নাট মন্দিরের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সবাই মিলে রমানাথ কে তুলে খাটের উপর শুইয়ে দেয়। খবর পেয়ে বাচ্চারা সব এসে রমানাথের পাশে দাঁড়ায়। সকলে মিলে দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তারের কথামত রমানাথের মিনি স্ট্রোক হয়েছে। সেদিন থেকে পাড়ার সকলে মিলে রাতদিন রমানাথের পাশে থেকে রমানাথ কে সুস্থ করে তুলে। আর সব শিশুরা মিলে রমানাথ কে ঘিরে থাকতো। রমানাথ বলেন আমি কখনো ঈশ্বর দেখিনি তোমরাই আমার ঈশ্বর। তখন পাড়ার সকলে রমানাথ বাবুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বলে আপনি আমাদের মুখের অন্ন যোগান আপনিই আমাদের ঈশ্বর।

জয়ন্তী কর্মকার

ঘরে ফেরার খোঁজ

রোদের উষ্ণতা গায়ে মেখে দিনের শেষে  পরিশ্রান্ত
মুক্ত বিহঙ্গ  নীড়ে ফেরা।
অন্ধকার নীড়ে বসে সবাই এক সাথে তাদের ভাষায় কথা বলা--! হয়তো বলছে সবাই এসেছে তো।

তারপর একে একে নিস্তব্দ নিরবতায় রাত্রি যাপন।

নেই কোন দামি বিছানা,
নেই সৌখিনতার কোন সাজসজ্জা।
প্রতিদিনের মুহূর্ত গুলো  বাড়তি চাহিদা ছাড়াই,
নতুন সকালে দু ডানায় 
ভর করে খাদ্য অন্বেষনে ছুটে চলা।

আমরা যেন সৌখিনতার নাগপাশে বন্দি হয়ে পড়েছি। 
নিজেদের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে একাত্মবোধ, 
হারিয়ে যাচ্ছে  ঘরে ফেরার খোঁজ ।

পরিমল কর্মকার

রূপসী বৈশাখ 

শীতের শুষ্কতা আর বসন্তের ঝরা পাতায় যখন প্রকৃতির সৌন্দর্য   ম্লান হয়ে যায় --

তখন তোমার আগমন বার্তা নিয়ে আসে মৃদু বাতাসে স্নিগ্নতায় ভরা‌ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।

বৃষ্টির অমৃত সুধায় গাছের শাখা - প্রশাখায় জেগে ওঠে নবীন পাতার সৌন্দর্যের সৌরভ।

প্রকৃতি সেজে ওঠে আপন খেয়ালে, সেজে ওঠে রঙ বেরঙের ফুলের বাহারি সৌন্দর্যের সুবাসে।

আমাদের পিয়াসী মন উতলা হয়ে ওঠে মিলন উৎসবে আনন্দের হিল্লোলে---

রূপসী বৈশাখ ---!

মাঝে মাঝে তোমার কালনাগিনী রূপ আতঙ্কে শায়িত করে আমাদের আনন্দ, তোমার প্রতি ভালোবাসার মোহ।

তোমার বীভৎস রূপ কালবৈশাখী ঝড়ে যখন আকাশ বাতাস প্রকৃতির রূপ লাবণ্যকে বিভৎস করে দিয়ে  ভালোবাসার গৃহ মন্দির মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে আনন্দে মেতে উঠে ---

আমরা তখন সময়ের অপেক্ষায়‌ , কখন তুমি শান্ত হবে।

May 4, 2024

সাদ্দাত হোসেন

চাননি ঘাট

চাননি ঘাটের, চাননি রাইতের আন্ধারে গাং পাড়ে
বারবার তোমার কথা মনে পড়ে

রওশনি ভরা টুকরা চান 
উপরের কালা আসমান
থেইকা উইড়া আয়া ভুইলা সরম হায়া,
এই কোলে খেলতাছিল 
চুমতাছিল আমার জান,
ওই শ্যামের কথা মনে পড়ে।

খুসবুওআলা বাদল
করতাছিল পাগল
লেপটাইছিল এই নিকাম্মারে 
বেলা ফুলের ঘেরান
করছিল হয়রান
আহে না কেলা ফিরা! ওই জুম্মারে।

কইছিল, গাওনা একটা গান
জানমোন,
আমি না তোমার জলপড়ি
আমি কি কায়ার?
গজলের আমি সায়ার
একটার পর একটা গান ধরি
ভুইলা গেছিলাম পুরা দুনিয়াটারে।

তুমি যে গেলা ওই পাড়ে
সুনসান কইরা এই দিলটারে
চাননি ঘাটের চাননি রাইতে
আবার তোমার দেহা পাইতে
কতবার গেছি ডিসেম্বরে।
ওই পাড়ে যে যায়
আহে না কেলা ফিরা এই কলিজায়!
আর কতো সাঁতরাইবা এই দিলটারে?

চাননি ঘাটের চাননি রাইতের আন্ধারে
গাং পাড়ে
পুরা জন্দেগি, খালি তোমার কথাই মনে পড়ে।