May 30, 2024

কল্যাণী ভট্টাচার্য

 অনুগল্প

একটি সুন্দর মন

রমানাথ বাড়িতে একাই থাকতেন স্ত্রী মারা গেছে বছর দুয়েক হল। রমানাথ ছিলেন খুবই শান্ত স্বভাবের এবং পরোপকারী। সন্ধ্যা হলেই রমানাথের নাট মন্দিরে ছোট ছোট কচিকাঁচারা সহ সকলে এসে ভীড় জমাত। তারা রমানাথ কে খুব ভালোবাসত। রমানাথ ও একদিন তাদের না দেখে থাকতে পারতেন না। রমানাথ প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাচ্চাদের খোঁজ নিয়ে আসতেন তারা ভালো আছে কিনা। পাড়া টা ছিল খুবই গরীব সকলেই কাজ করে সংসার চালাতো। রমানাথ সবসময় তাদের অবস্থান অনুযায়ী কিছু না কিছু দিয়ে সাহায্য করে আসতেন। রমানাথের দুটি গরু ছিল। প্রতিদিন দুধ নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসতেন গ্রামেরই মুন্ডা পরিবারের দুটি বাচ্চা কে। ওরাও তাকিয়ে থাকত রমানাথের দিকে। রমানাথ শিশুদেরকে ঈশ্বর রূপে দেখতেন। একদিন রমানাথ রাতে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লে শেষ রাতের দিকে শরীরটা বেশ খারাপ অনুভব করছেন। ভেবেছিলেন দরজা খুলে বেরিয়ে কাউকে ডাক বেন কিন্তু দরজা খুলে বাইরে যেতেই নাট মন্দিরের সামনে পড়ে যান। সকাল হলে রমানাথের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পাড়ার লোকেরা বাড়ীর ভিতর ঢুকে দেখে রমানাথ নাট মন্দিরের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সবাই মিলে রমানাথ কে তুলে খাটের উপর শুইয়ে দেয়। খবর পেয়ে বাচ্চারা সব এসে রমানাথের পাশে দাঁড়ায়। সকলে মিলে দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তারের কথামত রমানাথের মিনি স্ট্রোক হয়েছে। সেদিন থেকে পাড়ার সকলে মিলে রাতদিন রমানাথের পাশে থেকে রমানাথ কে সুস্থ করে তুলে। আর সব শিশুরা মিলে রমানাথ কে ঘিরে থাকতো। রমানাথ বলেন আমি কখনো ঈশ্বর দেখিনি তোমরাই আমার ঈশ্বর। তখন পাড়ার সকলে রমানাথ বাবুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বলে আপনি আমাদের মুখের অন্ন যোগান আপনিই আমাদের ঈশ্বর।