সত্যের লোক (গল্প)
সত্য জানলার দিকে তাকিয়ে বসে আছে, কখন বৃষ্টি আসবে জানে না। মনে হয় তার বাঁ দিকে কেউ রয়েছে চেয়ে, দিগন্তবিস্তৃত চোখ দুটো তাকে খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে। সত্য ভাবলু হল আজ, তার নাম দিয়েছি সাথী। সত্য আপন খেয়ালে চলে প্রতিবার।
তার ঠোঁটের কোণে মিষ্টি সুবাস এলো। সত্য চেয়ে আছে ফুলের গন্ধের দিকে। তার মা এলো কাছে, বলল চল আমার সাথে স্বর্গে। সত্য কেমন যেন মূর্ছা গেল। সত্যর অদ্ভুত লাগত ঐ চোখ দুটো। যেন সে কাম্য না ঐ চোখের দিকে তাকাতে। সত্য অদ্ভুত বিচরণ করত খাটে, এর প্রান্ত থেকে অপ্রান্তে। সত্য চিন্তামনিকে ডাকলো কাছে। চিন্তামণি হঠাৎ উড়ে গেল পাখার সাথে শুয়ে। সত্য জেগে আছে তখন। সত্যর ভেতরে ভেতরে দুচিন্তা হত। সত্য যেন মহাজাগতিক রূপে আসবে বনগাঁ এ। সত্য ছিল এক সাঁঝবাতির প্রলেপ। সত্যর বয়স তখন এক। সত্যর মা খেলতে খেলতে মারতো সত্যকে। সত্য যখন বড় হলো তখন দুধ কলা দিয়ে পুষত তাকে। সত্যর বয়স যখন আঠেরো তখন প্রেমে পরল একটা মেয়ের। মেয়েটির নাম রুপা, বয়স তার তেরো বছর। সত্যর মা কিছুতেই তার দেবে না বিয়ে। সত্য ভাবল রুপা চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু রুপা বেশ অবলীলায় বলত আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। সত্যর মা এখন অস্তাচলে। সত্য তখন জড়িয়ে ধরত মাকে। সত্য বুঝল মা নিরুদ্দেশ এর পথে গেছে। সত্য একটু একটু করে তাপ দিত গায়ে। সত্য শেষ হবার ঝুকি নিল আজ যেন সে চৌকাঠ পেরিয়েই স্বর্গ খোঁজে।