আমান আলি স্বর্গে যাচ্ছে।
মিছিলের মুখথেকে সাবাস সাবাস
এগিয়ে যাও আমান আলি,আরো এগিয়ে যাও
সামনেই স্বর্গের সিংহদুয়ার কল্পিত সোপান
আপেল আঙুর নাসপতির খেত
দুধে ধোওয়া ঈশ্বরের সোনালি বাগান।
তিনদিন কিছুই জোটেনি স্বর্গযাত্রী আমান আলির
বেলফুলের পাঁপড়ির মতো কাঁপছে লতানোশরীর
পেটের ভেতর ঘড়িয়াল-হাঙরের ডুব সাঁতার
মিছিলের মুখথেকে সাবাস সাবাস
এগিয়েযাও আমান আলি,আরো এগিয় যাও,
ভেতরে ভেতরে যাও,ডানে বাঁয়ে কোথাও দেখোনা
শক্ত করে ধরো আকাশ আড়ালকরা মুলিবাঁশেবাঁধা
রাজনীতির ধ্বজা।
দাঁতেদাঁতচেপে আমান আলি বজ্রার গুনটানে
কপালের তরলনুন শুষেখায় রোদেপোড়াআলজিভ
ধ্বনি প্রতিধ্বনিতে চাপাপড়ে যায় কষ্টের গমক
মনুনদীর ধার ধরে মিছিলের মাথা ছুঁয়ে ফেলেছে
কৈলাশহরের নাভিমূল
সাহাবাবুর হোটেলথেকে তামাল রোদে গন্ধছড়াচ্ছে ধোঁয়াওঠা ভাতের লোবান
আর কতদূর আর কতদূর রজত তবকে মোড়া
স্বর্গের কপাট?
স্বর্গ কীগো আমান আলি,?ঝুলে থাকে
কঠিন জিজ্ঞাসা
আমান আলি হি হি করে হাসে
দিনমজুর ভবঘুরে এই বেত্তমিজ
স্বর্গ-নরকের তফাৎ বোঝেনা
তার কাছে স্বর্গ মানে নুনলঙ্কা শিউলিধবল ভাত
আমান আলির বুকে হঠাৎ ছলকে ওঠে রাবনের চিতার মতো গনগনে আগুনের ফুল
অকস্মাৎ চেঁচিয়ে ওঠে আজন্মনিরিহ আদমপুত্র
আমি তোমার স্বর্গ নরক চাইনা
একটু ভাতের ফ্যান....একটু নুন
এই আমার জন্মের দক্ষিণা,আমার ঝাঁপান।
আমান আলি অবশেষে জেনে গেছে
ওদের পিঠে চড়ে ধড়িবাজ ধোপদুরস্ত দাদারাই
স্বর্গের আপেল খাবে
ওরা কেবল চঙ্গা হয়ে থাকবে স্বর্গের দাওয়ায়।