শুঁয়োপোকা
মধ্যরাত,ঘুমের লেশমাত্র নেই চোখে,
আধো আলো ছায়ায় কড়িকাঠ গুনছি সেই তখন থেকে,
একরাশ বিমর্ষতার রঙের প্যালেট হাতে অদৃশ্য চিত্রকর,
চওড়া চ্যাপ্টা ব্রাশের টানে, রাঙ্গিয়ে চলেছে একমনে,
পুরনো রঙের আস্তরে আবার একবার রঙ দিয়ে যায় আঁকিয়ে,
ফিকে হওয়ার আগেই বিমর্ষতার রঙ দেয় রাঙিয়ে-
এ রঙেই বেশি মানায় আমায়-
একটু একটু করে আমিও যেন মানিয়ে গেছি,
অভিযোজিত হয়েছি,
পাল্টে নিয়েছি নিজেকে চিত্রকরের চাহিদায়।
শেষ প্রহর-
ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে,
টিনের চালা কাঁপে বৃষ্টির গানে,
সুখানুভূতির স্মৃতি শুয়োপোকা হয়ে বেরিয়ে আসে,
বালিশের তলা থেকে,
ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে, মনে, মস্তিষ্কের কোষে কোষে,
শিমুল তুলার কোমলতায়,
হিন্দোল জাগাতে চায় পাখির পালকের পেলবতায়,
অভিযোজনের বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে চায় মন,
কাঁচা রঙের প্রলেপ নষ্ট করে দিতে যায় শুয়োপোকারা,
ইচ্ছে করেনা আমারও বাধা দিতে,
এ মন সায় দিয়ে যায় আমার ইচ্ছেতে,
যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠে শুঁয়োপোকার দল,
ঈষৎ হাসির রেখা ঠোঁটের কোণে দেয় দেখা,
ভালবাসতে ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে জেগে ওঠা শুঁয়োপোকা দের,
ভালবাসতে ইচ্ছে করে আকাশ বাতাস সবকিছুকে,
আচমকা ঝলসে ওঠে তীব্র আলো-
বিকট শব্দে পড়ে বাজ, আঁধার ছেয়ে যায় দিক-দিগন্তে,
সকল শুঁয়োপোকা মিলায় অনন্তে,
আবছা আলোয় আমি দেখি
কড়িকাঠ, আমার ঘর, আর সেই চিত্রকর।।