একুশের যাপন
যারা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্যে
তীব্র বুলেটগুলোকে বিদ্রুপ করে মৃত্যুকে আপন করে নিলো,
এবং যারা এই খন্ডযুদ্ধের বাইরেও যুদ্ধ করে গেলো শুধু মাতৃভাষার জন্যে...
আহা! তোমরা কি জানো
ভাষাও কি করে পণ্য হয়?
পণ্য হয় আকাশ রাঙানো পলাশের কুঁড়ি,
পণ্য হয় ধনেখালি শাড়ির মেয়েটি,
ভিটেমাটির ঘ্রাণ,
কাঁঠচাঁপার গাছ,
পদ্মদীঘির ধীরে বহো ঢেউটি...
পণ্য হই আমি।
আমার মাছরাঙার রঙ মাখা কবিতা,
হায়! বসন্ত প্রান্তরও!
পণ্য হয় সেই কষ্টে দুমড়ে যাওয়া
শিশুটির যৌন নিগ্রহ,
ডি.জে-র সাউন্ডবক্সে হু লা লা লা স্বরলিপির তলায় চাপা পড়া
ধর্ষিতা মেয়ের বেগুনি মুখ।
যারা মেঘ ছোঁবে বলে ভালোবেসেছিল...
কিংবা সূর্যকে পুড়িয়ে লিখেছে
বৃষ্টির পদাবলি,
বানিয়েছে মস্ক, মন্দির ও চার্চের কঠিন পাথুরে নক্সা,
অথবা এবং অথবা,
ও অথবা ...
অজস্র সামুদ্রিক ঢেউ, মাছেদের নিজস্ব সাঁতার, অন্তরীক্ষ, লুইসপাসের দর্শন,
মেডুসার তীব্র কান্না...
আমরা এই সমস্ত কিছুকেই করেছি পণ্য।
আচ্ছা...
ঠিক এইরকম স্বদেশই কী চেয়েছিলাম আমরা অথবা ওরা,
ওরা মানে সেই বিপ্লবী মানুষের দল,
ব্যথায় ব্যথায় গাঢ় নীল হয়ে যাওয়া নীলচাষীদের ঝুঁকে যাওয়া শরীর??
এই দেশেই বিক্রি হয়ে যায়
গানওয়ালা লালনও ...
হায়!
আজ একুশে ফেব্রুয়ারি।
ইচ্ছে হয় একটা দীর্ঘ ধূসর কালো মেঘে
ঢেকে দিই শহীদ মিনার...
শুধু একটা দিনের যাপনই কি
মিটিয়ে দেয় অসংখ্য অনাকাঙ্খিত অংক??
তোমরা কত সহজেই গেয়ে ফেলো আমাকে,
অথচ ভেঙে দিচ্ছ আমার অনুচ্চারিত গীতবিতান ...
আমার গলার কাছে জমছে বিপ্লবের শেকড়,
আজ আবার আমারও শহীদ হওয়ার ইচ্ছা জাগে নতুন করে...