বর্ণমালা,আমার বর্ণমালা
বর্ণমালা,আমার দু:খ জাগানিয়া পাখি
আমার সুখ-সৌরভ আর অমরত্বের সহচরি
তোমাকে আমার অভিবাদন।
তুমি আমার আবেগের ক্রোধের সংগ্রামের জ্বলন্ত দীপাবলি,মায়ের জরায়ুর অন্ধকার ফুঁড়ে
তোমাতেই দেখেছি প্রথম আলোর প্লাবন।
সেই শৈশবে আমি যখন পাখির ভাষায় কথা বলি
উপল-চর্চিত নদীরমতো হাসি
তোমাকে নিয়ে কত খিস্তি খেউর কত নোংরামি
তোমার মৃত্যুর পরোয়ানা দিয়েছিল পরকীয়া সাপ।
তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ গর্জে উঠেছিল উত্তালসাগর
লাঠি-সড়কি-বল্লম গনগনে আগুনের ফুল
কারফিউর কলঙ্ক এখনও লেগে আছে
তোমার শরীরে।
মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা পড়তে পড়তে
আমি যখন তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি
একদিন খবর এলো তোমার রক্তে ভেসে গিয়েছে
আদিগন্ত সবুজ জমিন।
সালাম-জব্বার-রফিক-বরকত গুচ্ছগুচ্ছ ফুল শুয়ে আছে রাজপথে
পলাশে পারুলে শোকে কান্নায় গগনবিদীর্ণ শপথ।
অবশেষে তুমি বৈরীমুক্ত নিজস্ব ভূগোলে...
স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ
তোমার সৌরভে
ত্রিশলক্ষ হৃদয়ের রক্তস্নাত এমন বর্ণমালা
ইতিহাস দেখেছে কোথায়?
তোমাকে বুকেনিয়ে বাঙালির বরপুত্র শেখ মুজিবর
ঈশ্বরের নীচের আসনে বসে লিখেছিলেন
অমিতবিজয় কাব্য
রক্তের আখরে লেখা সেইসব তমসুক
আজও বেঁচে আছে আমাদের বিশ্বাসে বৈভবে।
এখনও তোমার নামে হে অমর বর্ণমালা
ধ্বনি ওঠে নগরে-বন্দরে
একুশের প্রভাতে পিলপিল হেটেযায় লক্ষলক্ষ নগ্নপদ উত্তর -পদাতিক
ফুলে পল্লবে আল্পনায় ভরেযায় শহিদমিনার
বরকত সালামের নামে জয়ধ্বনি উড়ে যায়
পিন্ডির ভাগারে
এখনও ধর্মের শকুন কেঁপে ওঠে তোমার সঙ্গীনে
বিশ্বজয়ী এমন সৌভিক কে কবে দেখেছে কোথায়
হে বর্ণমালা,অমর বর্ণমালা
একবিংশের এই বৃষ্টিহীন বৃক্ষহীন অসূয়া সকালে
তুমি আমার জলের দেশ, সাঁওতালি পাহাড়
তোমাকে সালাম।