খেলা শেষের বাঁশি
হে সৃষ্টিকর্তা, স্থল জল অগ্নি বায়ু
শূন্য মহাশূন্যের পরমপিতা,
কি নিপুণ কৌশলে প্রকৃতির মজ্জায়
তুমি রোপন কর প্রতিযোগিতার বীজ,
মানুষ পশু কীট পতঙ্গের জন্মক্ষণেই
স্ফূরণ ঘটে অস্তিত্ব রক্ষার।
প্রবল প্রতিযোগিতায় ওঠে মেতে
যমজ সন্তান মায়ের অমৃতসুধা পানে,
এক ঝাঁক শাবকের কেউ কেউ মত্ত হয়
ছিনিয়ে নিতে মাতৃসুধা সহদরাকে ফেলে,
হননেও কুন্ঠিত নয় তারা।
ঝরে পরে আকুতি আর সহানুভূতি
অপলক চাহনিতে পশু মায়ের চোখে।
প্রতিযোগিতার পাঠশালায় লালিত হয়ে
শৈশব থেকে বার্ধক্য অমৃতস্যরা পুত্রারা
শিক্ষা সংস্কৃতি খেলাধুলো চাকরি
রাজনীতি প্রতিপত্তির পিছনে
নিমগ্ন নিরন্তর প্রতিযোগিতায়,
প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতা
অন্তহীন প্রতিযোগিতায়!
হে স্রষ্টা,প্রতিযোগিতা পটু বিশ্ব মানবের
মৃত্যুতেও তুমি কি তাই দিলে ঢেলে
অপ্রতিরোধ্য প্রতিযোগিতা,
অদৃশ্য কোরোনার মৃত্যু পরোয়ানা!
দিকে দিকে উড্ডীন মৃত্যু মিছিলের
নির্মম হাহাকার!
মৃত্যুর তুমুল প্রতিযোগিতায়
দেখ কি রোমহর্ষক দৃশ্য,
তোমার রচিত মৃত্যু সমানুপাতে
শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে
লাখে লাখে কফিন বন্দি লাশ
শিখ ইসাহি খৃষ্টান হিন্দু মুসলমান!
মৃত্যু প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই কেউ।
তাই ডাক্তার বদ্যি সমাজকর্মী
হাজার বার খেলা শেষের বাঁশি বাজালেও
মৃত্যু প্রতিযোগিতার ময়দান ছাড়বার
যেন লেশমাত্র ইচ্ছা নেই কারোর।