সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি
দিনটি ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি
সে এক অলৌকিক ভোর,
চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল।
মা খোকাকে চিঠি লিখেছিলো,
বাবা তুই কবে আসবি?
জানিস বাবা! তোর জন্য আমি
কুলের আচার করে রেখেছি।
কবে ছুটি পাবি তুই?
চিঠিটা তার পকেটেই ছিলো
দুপুরে প্রচন্ড রোদে হঠাৎ বৃষ্টি নামলো
সেতো বৃষ্টি নয় রে ; বরকতের রক্ত!
চিঠিটা রক্তে রাঙিয়ে গেলো।
সে যে শুধু বরকতের রক্ত নয়
সোনার মানুষ রফিক উদ্দীন সহ
আরো অনেক শহীদ ভাইয়ের রক্ত।
তাদের রক্ত যেনো রাঙিয়ে দিল
কৃষ্ণচূড়া গাছটির প্রতিটি ডাল।
আর গাছটাও যেনো বলছিলো
- হে বীর আমি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত।
তবে কি এখন সব মিছে,
মিছে সব বোনদের সিঁথির সিঁদুরের দান।
এতো প্রাণ ঝরা, এতো কষ্ট
সবকিছু কি মিথ্যে এখন?
যে ভাষা ইতিহাস গড়ে
সেই ভাষা কি পড়ে থাকবে অনাদরে?
কত মা তার সন্তান কে হারিয়েছেন,
কত স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়েছেন
তা আমরা কি করে ভুলবো?
না তা আমরা কিছুতেই ভুলতে পারি না।
তাইতো আমরা উচ্চস্বরে বলি-
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?"