তাল বেতাল
আজন্ম আমি এক তালকানা লোক।
শৈশবে মামাবাড়িতে দাদাদিদিরা গানের আসর পেতে বসতো যখন
আর উপস্থিত সকলে তালে তালে জুড়ে দিতে করতালি,
আমি নিজেকে সকলের কাছে শ্রবণীয় করে তুলতে
তালি বাজাতাম ওদের হাততালির মাঝখানে।
ফলতঃ পরবর্তী জলসাগুলোতে
আমার প্রবেশ হলো নিষিদ্ধ।
কৈশোরে বন্ধুদের আনন্দনৃত্যে,
এমনকি বিসর্জনের বেলাগাম নাচেও
আমার বেঢপ শরীর ওদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
ওরাও আমাকে ব্রাত্য করে রেখে দিল
যাবতীয় নাচের অনুষ্ঠানে৷
এখন আমার কর্মক্ষেত্রেও আমি বেমানান৷
এ কথা কে না জানে
ভারতবর্ষের সমস্ত সরকারি দপ্তরে
কী এক চোরাসঙ্গীত চিরকাল বাজে!
তার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে নিতে পেরেছে
আমার সহকর্মীরা —
হাওয়ার গতিতে তাদের বাড়ি হলো
গাড়ি হলো
একান্তে উপনারী...
আমি রয়ে গেলাম বোকা, বেতালা, বেখাপ্পা।
বিকেলের খরতাপ ক্ষীণ হয়ে এলে
গোধূলির আলোটুকু আমি
মেখে নিই
ঘামে-ভেজা-জামা আর
বিষণ্ণ বাষ্পে ঝাপসা হয়ে আসা
চশমার কাচে।
ফিরে আসি দু-কামরার ভাড়াঘরে৷
আমার সন্তান ছুটে আসে।
আমাকে ঘোড়া বানিয়ে সে পেরিয়ে যায়
নদী, অরণ্য, দূর তেপান্তর ।
আমি অবাক হয়ে দেখি
টগবগ টগবগ ছুটে যাওয়া ঘোড়াটির হাতে পায়ের ছন্দে
কিংবা খিলখিল হেসে ওঠা সন্তানের হাসিতে
তাল মেলাতে
আমার
কোত্থাও