প্রত্নশহর--২
এখানে সব কলকাতার কোকিল
কাকের বাসায় ডিমপাড়ে অহরহ
সূর্যকে বলে আকাশপ্রদীপ
হলুদ আকাশ দেখে বলে ওঠে,
সর্ষেখেতে লেগেছে আগুন।
ওরা কেউ দেখেনি প্রত্নশহর,
সময়ের চোরাবালি
এখানে এককম এককোটি দেবতার বলিরেখা
থমকে গিয়েছে সূর্যের আরতি
শিবতীর্থ নন্দী-ভৃঙ্গি মধুপুঞ্জ ঝর্ণার
আদিগন্ত হাসি
রৌয়া অভয়ারণ্যে দোপায়া মানুষের সাথে
শ্বাপদের কোলাকুলি
অমাকে নিবেদিত চোদ্দদেবতার থান
সবকিছু আচ্ছন্নকরে দাঁড়িয়ে আছে
অলৌকিক অতিমানব
কল্যাণসাগরের ঢেউ টলোমল জল থেকে
ভেসে আসে কাল্লুকুমার কাল্লুকুমার।
থাম্পুই উড়ছে জলে জঙ্গলে
ককবরকে মশা
আকাশে রঙবেরঙের চুমুই
মেঘমালা ভেসে যায় বাংলায়
রাধামোহন ঠাকুর লেখে ব্যাকরণ
বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর ধ্বনিওঠে
কৈলাসহরে।
দুর্লভেন্দ্র ছোন্তাইয়ের হাতে রাজরত্নাকর
কোলমা হরফে কলমের নিব থেকে
ঝরে পড়ে আগুনের ফুল
আহা কোথায় ধর্মমানিক্য কোথায় শুক্রেশ্বর
আজ এই প্রত্নশহরে বসেছে
নৃ-বিদ্যার আসর
পান্নারাজ্যের সুন্দরী পানের বাটা নিয়ে
বসে আছে অলিন্দের খোঁপে
রাজপুতনি কাঞ্চনপ্রভাকে আজ বড়দরকার
প্রত্নশহরের সমস্ত তমসুক
তার এই চন্দন দেরাজে।।