বৃষ্টিপথ
অথচ আজ অন্য কোথাও
তার বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তার শহরের সব মন্থর জলবিকেলগুলো শুকিয়ে গেছে।
পৃথিবীর সব গিরিশিরা হারিয়ে ফেলেছে সুরভি কালো মেঘ।
গনগনে আকাশে উড়ছে নামগোত্রহীন লাস্যময়ী সাদা মেঘের দল।
এক মধ্যমবর্ষীয়া গ্রীষ্মমেয়ে মেঘমুলুকে হারিয়ে ফেলেছে জিরাফ দেখার ডায়েরিখানা।
কিন্তু সেই অরণ্যের বহু বহু বিস্তৃত মাইল জুড়েও ছিল না একটুকরো কালবৈশাখীর স্থিরচিত্র
অথবা আকাশের অন্ধকার আদিখ্যেতা...
কারা যেন এইমাত্র আলফা, বিটা,গামা রশ্মি
ভেদ করে গন্ধসলিলের পোশাকে
মহাকাশ অভিযান সেরে ফিরলো।
তাদের দিকে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো
বাংলার গফুর চাষার নিঃস্ব মেয়ে আমিনা,
বৃষ্টির হদিশ পেয়েছো কি তোমরা গ্রহান্তরের উপত্যকায় ?
দু আঁজলা জল কোথায় পাবো?
কিন্তু বর্ষার তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য মাপতে জানে শুধু
এই চাষীর বিরহী মেয়ে।
বর্ষার কাছে জান কবুল করে সে চালতার পাতায় পাতায় খোঁপা খুলে অন্ধকার চুল বিছিয়ে রাখে।
বিষণ্ন চোখে তাকিয়ে দেখে খাঁ খাঁ রোদ্দুরে পুড়ছে কবিতা...
সে আজানু মস্তকে স্থির হয়ে থাকে
সেইসব ধুলোবালির পাঠের কাছে।
প্রলাপ বকে প্রখর জ্বরের তাপে,
এইসব কঠোর ধূলোপথ জুড়ে একসময় বৃষ্টি চলেই আসে।
বৃষ্টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে একটি ভোরের তীর থেকে আরেকটি ভোরের আলোয় জাগতে থাকে এক আনন্দবৃক্ষ...