বন্দিদশা
বন্দিগৃহে ভাবছি আমি চারপায়াতে শুয়ে,
ছাদটা আমায় রেখেছে ঢেকে চার দেয়ালকে নিয়ে।
আমি আপনমনে গান ধরলাম একাকীত্বের তরে,
সুর-তাল- লয় লাগছে না আজ না জানি কিসের তরে।
যে দিকেতেই নয়ন ফিরাই কেন যে অকারণে,
সবকিছু আজ তাকিয়ে আছে শুধুই আমার পানে।
সবাই তারা আপন কাজে নিজস্বতায় সুখী,
আমিই বুঝি তাদের মাঝে আজকে বড়ো দুঃখী।
পেয়েছে তারা আজ একাকী আমায় বন্দিগৃহে,
সব অভিমান দিচ্ছে ঝেড়ে তারা এক এক করে।
ছাদ বলছে , শোনো মশাই আমিই তোমার মাথা,
যত বড়াই ছিল তোমার সব যে আজকে বৃথা।
চারপাশের ঐ দেয়ালগুলো বললো গলা হাঁকে,
আমরা ছাড়া আজকে পাশে বন্ধু ক'জন আছে?
জানালা-দরজা ভেন্টিলেটর বিদ্যুৎ বাতি মেঝে,
মান- অভিমান দিচ্ছে ঝেড়ে আপন আপন তেজে।
পাখা বলছে হাত নাড়িয়ে ওহে সাহেব বাবু,
সাহেবি আনায় বলছি তোমায় হাউ ডু ইউ ডু?
বলতে নারি কিছুই তাদেরে বন্দি গৃহের মাঝে,
মাথা নত করি আজকে আমি তাদের কাছে লাজে
প্রাণখুলে আজ হাসছে তারা সবাই আমার তরে,
বাবু এবার হলেন কাবু চার দেয়ালের ঘরে।