গল্প
সত্যিকারে বাণী বন্দনা
তিনটি রুটি আর জল খেয়ে মোহন আর তার বৌ অনিমা এবং ছেলে জগাই শুয়ে পড়ল। ওরা খুব গরীব। মোহন প্রতিদিন ভোরবেলা কাজে বেড়িয়ে যায় সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। যা রোজগার হয় তাতে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। কিন্তু তাদের ছেলে জগাই সারাদিন বাঁশি বাজিয়ে মাঠে মাঠে ঘুরে। বাঁশিকেই সারাজীবনের সঙ্গী করে নিয়েছে ধ্যান জ্ঞান সব। মোহন পান্তাভাত খেয়ে রাগে গজগজ করতে করতে কাজে বেড়িয়ে গেল। সেদিন ছিল সরস্বতী পূজা। জগাই ভোরবেলা উঠে স্নান সেরে বাঁশি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। মায়ের পিছু ডাক কে শুনে।
উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডী পেরুনোর পর জগাই এর আর কলেজে পড়া হয় নি। কিন্তু সে বাঁশি ছাড়ে নি। বহু কষ্টে সে গিরিধারী বাঁসুরিয়ার কাছে তালিম নেয়। জগাই আস্তে আস্তে সেরা বাঁসুরী হিসাবে পরিচিত হলো। মনে হতো তার গলায় স্বয়ং দেবী সরস্বতী নেমে এসেছেন। জগাই বেশি হৈচৈ পছন্দ করত না। তার পকেটে সবসময় সরস্বতী মায়ের ছবি থাকত। সেদিন তাদের পাড়া তে সরস্বতী পূজা হচ্ছিল। কিন্তু জগাই সেই পূজায় না গিয়ে তাদের গ্রামের মাঠের বাইরে একটি বটগাছ ছিল। সেখানে গিয়ে জগাই তার পকেট থেকে সরস্বতী মায়ের ছবিটা বের করে সেই বটগাছের নীচে বসিয়ে ধূপদীপ জ্বালিয়ে একাগ্রচিত্তে বাঁশি বাজিয়ে চলছে। বাঁশির অপরূপ সুরের টানে পাড়ার পূজার প্যান্ডেল ছেড়ে সব লোক এসে জগাইর সামনে দাঁড়ালো। জগাই কে ঘিরে ধরল। সে কি অপরূপ দৃশ্য। জগাই এর কোনদিকেই কোন খেয়াল নেই। তার চোখ দিয়ে জলের ধারা বইছে আর সে এক মনে বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আকাশ বাতাস যেন মাতাল হয়ে উঠেছে তার সুরঝঙ্কারে।