Apr 29, 2024

লিজা বৈদ্য

সন্দেহ এক নিরব ঘাতক

রমেশ আর মায়াবতীর এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সুন্দর সংসার। প্রাচুর্য না থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। রমেশ একটা বড়ো সরকারি স্কুলের গ্রুপ-ডির চাকরি করে। পাশাপাশি একটা ছোট দোকানও আছে।

কয়েক দিন ধরেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। দয়ানন্দ বুঝতেই পারছে না ওর দোষটা কোথায়। মায়াবতীর সাথে কথা বলে সমাধান করতে চাইলেও কেমন যেন এড়িয়ে যাচ্ছে। ছেলে মেয়ে বড়ো হচ্ছে তাদের সামনেও কিছু বলা যায় না। যদি ও হঠাৎ কোনো কটূ আচরণ করে বসে।ওর এই অন্যমনস্কতা চোখ এড়ায় না বন্ধু বিমলের। জিজ্ঞেস করে ,"কি হয়েছে ? কিছুদিন থেকেই দেখছি তুই কেমন মনমরা হয়ে আছিস।"

রমেশ কিছু না বলে এড়িয়ে যায়। কি করে বলবে ঘরের কথা। রমেশ আর পারছে না এই সমস্ত প্রেসার নিতে। কত শত দুর্ঘটনা  ঘটে প্রতিনিয়ত এই সমস্ত সাংসারিক অশান্তির জন্য। এইতো বরুণ ওদের প্রতিবেশী কত ভালো ছেলে বিশ দিন হবে বউয়ের সাথে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করে।ও ভাবে  ওদের স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একজনেরও যদি কিছু হয় সংসারটা ভেসে যাবে। 

বাড়ি গিয়ে দেখে ছেলে মেয়ে বাড়ি নেই তাই ঠিক করে এই সুযোগে সমস্ত কিছু ঠিক করে নেওয়া যাবে। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে  স্ত্রীকে কাছে টানতে চেষ্টা করে কিন্তু উল্টো ওকে ধাক্কা দেয় আর পড়ে গিয়ে কপালে ব্যাথা পায় ।ওর স্ত্রী অন্য ঘরে গিয়ে দরজার খিল দিয়ে দেয়। ওর ভয় হতে লাগে যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে বসে। ও দরজায় করাঘাত করতে করতে বলে, " দরজা খোলো মায়া নয়তো আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।" মনে ভাবে যদি এই কথায় যদি পাহাড় টলে।

মায়াবতী দরজা খোলে, যাও সব জিনিস নিয়ে বেরিয়ে যাও। রমেশ বউকে এবার জপটে ধরে বলে ,"চলে যাবো, আগে বল কি হয়েছে।"

মায়াবতী কাঁদতে কাঁদতে বলে, "যাও আমায় ছোঁবে না ঐ নোংরা হাতে। স্কুলের সবাই এমনকি তোমার হেড মাস্টারও চলে যায় তাও তোমার বেরুতে এতো দেরি হয় কেন? কিছু বুঝিনা ভাবো ? কি করো রনিতার সাথে ?"

রমেশ বলে,"এতো বড়ো স্কুল ছুটির পর দরজা জানালা বন্ধ করে সমস্ত রুমের লাইট পাখা বন্ধ করে বেরুতে দেরি হয়।"

মায়া বলে ,"দরজা জানালা বন্ধ করার ফাঁকে কি চলে রনিতার সাথে।"

রমেশ কানে হাত চাপা দিয়ে বলে," ছি! ছি! আর বলো না ও আমার ছোট বোনের মতো। ওর সংসার আছে। বেচারির স্বামী নেই তাও কত কষ্ট করে সংসার চলায়।

ওর স্বামী মারা যাওয়ার পরও শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে যায়নি। শ্বশুর শাশুড়ি আর ছেলেটাকে নিয়ে বেঁচে আছে। ও কিন্তু চাইলেই শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি গিয়ে থাকতে পারতো। রনিতার বাপের বাড়ির অবস্থা খারাপ নয়। তাও শ্বশুর শাশুড়ির কথা ভেবে যায় নি।তোমাকে এইসব কথা কে বলল? "

মায়া বলে," তোমার স্কুলের অবিনদা ।"

রমেশ ছলছল চোখে বলে,"ওর কথায় আমাকে অবিশ্বাস করলে মায়া। তুমি জান না ওর চরিত্র কেমন? গত বছর ও রনিতাকে কুপ্রস্তাব দেয় ভেবেছল ওর স্বামী না থাকার সুযোগ নেবে। রনিতা আমাকে আর হেড সারকে জানিয়েছিল। এর জন্য ওকে কম অপদস্থ হতে হয়নি । তাও ওর পরিবারের কথা ভেবে ওকে ক্ষমা করা 

হয়েছিল । সেই থেকে সবসময় আমার পেছনে পরে থাকে কিভাবে ক্ষতি করতে পারবে। আর একটা কথা ঘরের চেয়ে যদি বাইরের লোকের   ওপর ভরসা বেশি হয় তবে সংসারে ফাটল ধরবেই। এত বছর সংসার করার পর তুমি   অবিনের কথায়  এতকিছু করলে।সন্দেহ এক নিরব ঘাতক কখন কাকে ঘায়েল করে ফেলবে টেরও পাবে না। তুমি যা বোঝ তা কর ?  আমি আর কিছু বলবো না।তুমি শুধু আমাকে নয় নিজেকেও ছোট করলে।"