Aug 12, 2021

কল্যাণ দাস

শহিদের বীর পুত্র

বাবা, তুমি বুঝি বীর শহিদ ?

মা বলে, আমাকেও এমন বীর হতে হবে।

কিন্তু, মায়ের মুখের হাসিটা  আজ নেই।

ঐদিন স্কুলে মাষ্টারমশাই,

স্বাধীনতার পাঠ পড়াতে গিয়ে বললেন,

দেখো, সামনেই স্বাধীনতা দিবস।

আসছে সেই শুভ ক্ষণ,

আবার হবে পতাকা উত্তোলন।

মাষ্টারমশাই প্রসঙ্গ সেরে,

দিলেন একটি প্রশ্ন করে,

শুনেই হৃদয় ছিন্নভিন্ন,

মনটা কেমন হল বিষন্ন।

একে একে সবার পরে,

আমার পানে দৃষ্টি করে,

মাষ্টারমশাই বললেন জোরে

ভাবছিস এত কিসের তরে?

ভয়ার্ত স্বরে দিই উত্তর

 পতাকাতে রং আছে চার।

হাসল তারা জবাব শুনে

সবাই আমার তরে,

 মাষ্টারমশাই থামিয়ে তাদের

দিলেন যে চুপ করে।

বললেন তিনি, বল তো খোকা,

বুঝিয়ে একবার,

তিন বর্ণের জাতীয় পতাকা

কোথায় পেলি চার?

বললাম আমি নুইয়ে মাথা

দিনটি বিষাদে ভরা,

যেদিন বাবাকে সাজিয়ে ছিল

দেশের বীর সেনারা।

দেখেছিলাম রাশি রাশি ভিন্ন ফুলের তোড়া,

চারটি রঙের পতাকায় ছিল,

বাবার নিথর দেহটা মোড়া।

গেরুয়া সাদা সবুজের সাথে

ছিল লাল লাল ছোপ,

সবাই মিলে মাকে আমার 

দিলেন আরেক রূপ।

মা যে আমার আর পরেনা

শঙ্খ সিঁদুর পলা,

প্রিয় লাল পেড়ে জরির শাড়িটা

বাক্সে পড়েছে তালা।

ফিরিয়ে আমি দেবো একদিন

মায়ের মুখের হাসি,

বীর শহিদের পুত্র আমি

আমি যে ভারতবাসী।

সৈনিক হয়ে লড়বো আমি 

দেশরক্ষার তরে,

নাশব আমি শত্রুদেরে 

বাবার মত করে।

মাষ্টারমশাই রুদ্ধ কণ্ঠে

অশ্রুসিক্ত নয়ন,

বললেন পিঠে হাত বুলিয়ে

ধন্য মায়ের জীবন।

বীর শহিদের পুত্র তুমি

বীরাঙ্গনার প্রাণ,

জ্বালিয়ে রেখো অগ্নিশিখা

একদিন স্বপ্ন হবে পূরণ।