তুমি আসবে বলে
এই যে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে আমার দীর্ঘ যাত্রা
চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা সুবাতাস
একবুক বসন্তের মধ্যে কালো ডানায় ভর করে
আমায় এইযে দিকচিহ্নহীন প্রান্তরে উড়ে চলা
এও কি থামানো যাবেনা এই তুচ্ছ মানবজীবনে?
চারিদিকে সমুদ্র আর সমুদ্র
জল থৈ থৈ থৈ পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কোনো মাস্তুল নেই
যেখানে বসে দু'দণ্ড বিশ্রাম নেবো
যেখানে বসে পার করে দেবো বয়সের গাছপাথর
আর আমার এই রাতভোর উড়ে চলা রঙ
গলে গলে পড়বে সমুদ্রের জলে, তোমার সমুদ্রের জলে।
এসমস্ত দেখা সম্ভব হলো শুধু তোমার জন্য
শুধু তোমার জন্য আকুল হয়ে থাকা যাত্রাপথ
দূষে চলেছে দু'পাশের নুড়িপাথরকে
গাছে গাছে বেঁধে চলা বর্ণনার গান
অবশ করে দিচ্ছে দু-পায়ের পাতা, শরীরের যাবতীয় ফাঁকফোকর।
শুধু তোমার জন্য রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে
বসে থাকা সমস্ত দিন
দপদপ হ্যারিকেন হাতের মুঠোয় নিয়ে
বাঁধের ওপরকার তীক্ষ্ণ সরলরেখা বারবার ছুটে চলেছে যারা উম্মাদের মতো
শুধু তোমায় নিয়ে পালিয়ে যাব ভাবতেই
পিঠে রূকস্যাক, সম্পর্কের থলির ভেতর গোপন পাথর
আর তোমার হারিয়ে যাওয়া, গ্রামের ঠিকানা।
তুমি আসবে বলে সেই সন্ধ্যে থেকে বসে আছি এই বর্ণহীন মাঠে
এখন পূর্বদিকে ভোরের লিপস্টিক
সারারাত চাঁদকে যে কতবার উঠতে দেখলাম
কতবার ডুবে যেতে। দীর্ঘঝযাত্রাপথে সে তোমায় হাত নাড়িয়ে আশ্বাস দেয়
কালো গাছপাতার ভেতর দিয়ে গলা বাড়িয়ে দেওয়া শ্বাপদের
ঘন জলের ঘরের ভেতর থেকে বাতাসে মুখ তোলা নানান জলজ প্রাণীরা
অদ্ভুত শব্দ করে আকাশে চিরে ভেসে যাওয়া বিচিত্র পাখিশব্দ
আমাকে সাহস জুগিয়ে যায় সারাটারাত।
তুমি আসবে বলে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছি মৌন মিছিল।
আষাঢ়ের সব রঙ যেদিন জীবন থেকে মুছে যাবে
মুছে যাবে রাত্রে থেকে ঝরে-পড়া ক্ষোভ
কুয়াশা মাখানো সন্ধ্যার কানে সেদিন কেউ না কেউ ঠিক দিলে দিয়ে যাবে
অচেনা আহিরভৈরব।
তুমি আসবে বলে স্বাধীনতা
সকাল দাঁড়িয়ে রয়েছে অচেনা রাস্তার মোড়ে
যে মেয়েটির হাতে হাতে বদল হয়েছে এতোকাল
যে ছেলেটি রুগ্ন মাকে রাস্তায় বের করে
জমি বাড়ি সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছে
যে প্রৌঢ় শুধুমাত্র পয়সার ক্ষমতায়
কন্যাসম মেয়ের স্তন চুষে চুষে ক্লান্ত
তারাও তড়িঘড়ি এসেছে আজ তোমায় দেখবে বলে
তারাও সমস্ত উপকথা গাছ থেকে নামিয়ে জড়ো করে
তার শুকনো পাতায় লাগিয়ে দিয়েছে আগুন
সেই ধোঁয়া কিভাবে যেন গ্রাস করে ফেলেছে
গ্রামের পর গ্রাম। ঐতিহ্যের বাসকোশন।
তুমি আসবে বলে এই প্রথম লাগিয়ে নিচ্ছি
কালারের বোতাম, গা থেকে খসিয়ে দিচ্ছি সমস্ত উপমা