Aug 2, 2021

সুজান মিঠি

স্বাধীনতার ইচ্ছে!

স্বাধীনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো মাইক্রোফোন

বলা হলো, 

...বড় হয়েছো যথেষ্ট, এবার বলো তো

জন্মের পর থেকে তুমি কেমন কাটালে এ দেশে?

বলা হলো, 

...ঠিকঠাক বলতে পারলে বিরাট পতাকায়

মুড়ে ফেলা হবে তোমায়।

কুচকাওয়াজ করতে করতে তোমায় এগিয়ে নিয়ে

যাওয়া হবে মানচিত্রের ছায়ায়।


স্বাধীনতা মাইক্রোফোন হাতে খানিক চুপ রইল।

তারপর বললো, 

আমার মৃত্যুর পরে আবার যদি ফিরে আসে 

শৃঙ্খলিত মনুষ্যত্ব,

তবে আমার মৃত্যু ভালো।


মুহূর্তে স্তব্ধ চারিদিক। এ কী বললো স্বাধীনতা!

তাকে এমন সম্মান জানিয়ে মঞ্চে তোলা হলো

অথচ সে খুলে বলে দিলো তার দগদগে ঘা!

সমবেত অনুষ্ঠানের আয়োজকগণ স্থির করলেন

ওর শাস্তি চাই। 


অন্ধকার গুহায় স্বাধীনতার বুকের উপর চেপে বসলো

একজন। 

অন্যজন পা টিপে হাত টিপে থাকলো।

ছুরি দিয়ে ফালাফালা করতে লাগলো আর একজন।


ছুটতে ছুটতে কতকগুলো আলো এগিয়ে আসতে লাগলো।

কান্না আর উৎকণ্ঠার আওয়াজ এগিয়ে আসতে লাগলো।

তাড়াতাড়ি চলো। স্বাধীনতা নইলে মরে যাবে!


পালিয়ে গেল অত্যাচারীরা। 

আলোগুলো এসে জড়িয়ে ধরলো স্বাধীনতা।

ফালাফালা শরীরটাকে তুলে ধরলো আকাশের দিকে

বললো, বন্দেমাতরম!

বললো, এখনো প্রাণ আছে!

স্বাধীনতার প্রাণ আছে!


স্বাধীনতার রক্তাক্ত শরীরটা পতাকায় উড়তে লাগলো

পতপত করে।

মাইকে বাজলো গান। দেশপ্রেমের গান।

কেউ তার ক্ষত দেখতে পেলো না।


কেবল মানচিত্র আঁকা বইয়ের গণতন্ত্রের অধ্যায়ে

কালশিটে বেড়ে চললো সবার অগোচরে!


বাতাসের কানে কানে স্বাধীনতা তার পতাকার

পোশাক থেকে মুখ বাড়িয়ে বললো,

আমার মৃত্যুর পর যদি মানুষের এই কর্কট সারে...

তবে আমার মৃত্যু ভালো!

তবে আমার মৃত্যু ভালো!