পায়ের মাপে কারাগার
চোখ খুললেই দৃষ্টি হোঁচট খায় আঁধারে
অথচ চোখ বুঝলে ভিড় করে আলোর কাফেলা
তারা নানা গল্প করে পোষ মানা আজব ব্যাথার
কতোখানি রোদের হাঁপরে গলাতে হয় নিশ্চুপ কথা
কতোটা টোকায় ঝরে পড়ে বুক ভরা ভয়ের পাপড়ি
কতো জোছনায় খানখান হয় আপসের কাচ।
বলো কী করবে তুমি,কতো শুনবে সেসব গল্প ?
দাঁড়াবে না কি অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে?
দূষণের ঠোঁট জপছে নিঃশ্বাসের প্রাচীন রোজনামচা
সেন্সরবোর্ড রোজ কাটছে মূল্যবোধের খরচা
এখানে ওখানে প্রদর্শিত হচ্ছে বিদ্বেষের চলচ্চিত্র
প্রেমের বাজার পড়ে গেছে, এখানে ঘৃণাই কিংবদন্তি
পাপের পাতালে প্রিয়জন পেতেছে পুণ্যের হাটঘর
ঋণ করা চোখে এক প্রস্থ কাজলের বাঁধ দিয়ে
প্রচেষ্টা চলছে থামানোর পাড়-ভাঙা চোখের নোনতাজল
শিল্পীর কণ্ঠে শুয়ে সঙ্গীত ধুঁকছে অথর্ব রোগে
গীতিকার-সুরকার গান নিয়ে প্রানান্ত ছুটছে
মরণোন্মুখ গানের শুশ্রূষার জন্য পুঁজির প্রাসাদে।
মুঠো মুঠো স্বপ্ন কুড়ানোর দু'হাত কি বাকি আছে কারো?
মুঠো খুললেই গড়িয়ে পড়ে কৃতদাসের অজস্র কান্না
সাদা-কালো তাড়িত দূরত্ব — ঘাম ও অপরিণত ক্রোধ।
বলো কোথায় যাবে এখন? পা বাড়ালে কারাগার
চলছে সর্বত্র শরীরের মাপে শোষণের সমবণ্টন
নিজের মতো একটা জীবন কোথায় পাবে তুমি!